ঘরের টেলিভিশন বাক্স অন করলে এক সময় যে সুন্দর মুখের রাজমাতা আর রাজ পুত্রদের দেখা মিলত; তাদের রসগোল্লা মার্কা বয়ান বহুদিন শুনি না আমরা ! ওই মিষ্টি মিষ্টি আবর্জনাই তো ছিলো গরিবের খালি পেট ভরনের একমাত্র 'খাদ্য'। হায়,অভাগা বাঙালি জাতি-কি জটিল মালদের যে হারাইলো ঠিক (?) সময়ে নিবার্চন না কইরা! তবে কোন জিনিসের জন্য খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয় না বাঙালিকে।বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর হারানো পাকিস্থানকে আবার বাংলাদেশেই ভুমিষ্ঠ হতে দেখেছি আমরা। মুক্তিযুদ্ধের কিছু দিন পরেই বাংলাদেশের গর্ভে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করতে দেখি আইয়ুবীয় কায়দার মুজিবীয় একনায়কতন্ত্র এবং তা পুর্নতা পায় এরশাদ শাহেবের দেশপ্রেমের অমর সিনেমা উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে। নিজের গতর থেকে পাকিস্থানি পুঁজের গন্ধ যেতে না যেতেই যেমন দেশের সমস্ত দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো সাম্প্রদায়িকতাকে ; দেশ হয়ে উঠেছিলো বিসমিল্লার-পাকিস্থানের। তেমনি ওয়ান-ইলেভেনের পর বিএনপি-আওয়ামি লীগের পচেঁ যাওয়া ফলের ঝুড়ি থেকে দেশে প্রডিউস হয়েছে বহুত চাপাবাজ মাল। তারা কত সুন্দর করে কথা বলেন। কথা বলতে বলতে মুখ দিয়ে ছেবড়ি তোলেন ; অন্যদিকে আমাদের সাংবাদিক সাহেবেরা তাদের ঐ সব ছেবড়িময় সুবচনকে গোগ্রাসে গেলেন আর প্রদর্শন করেন প্রতি ঘন্টার সংবাদে(?)।
যে কেউ দুই-চার দিন টেলিভিশন দেখলে বুঝতে পারবেন-দেশে কী বড় বিপ্লব ঘটে গেছে ! এত ফেরেশতা একসাথে এই দেশে আগে আর কখনো দেখা যায় নাই। মহান আল্লাহ্ তাআলার ফেরেশতাদের থেকে এরা গুনগত ভাবে আলাদা।সুখে-দুখে স্বগীয় ফেরেশতারা কেবল আল্লাহ্-আল্লাহ্ জপেই তৃপ্ত থাকেন। আর আমাদের চৌদ্দ ইঞ্চির ফেরেশতারা সময় বুঝে বদলান তাদের জপের বিষয়বস্তু।কখনো আল্লাহ্-আল্লাহ্ , কখনো রাম-রাম,কখনো ইয়া মুজিব-ইয়া মুজিব । তোতলা মুখে কখনো শোনা যায় মুজিবীয় আদর্শের (স্ববিরোধী) কথা; কখনো গনতন্ত্রের হত্যাকারী জিয়া-হাসিনা-খালেদার সুশোভন বুলি।
রাজনীতিক জিনিয়াসরা পাবলিকের সাথে ‘গনতন্ত্র’ নামের যে গেইম খ্যালেন পাঁচ বছর অন্তর অন্তর; এইাবার তাতে একটু ঝামেলা পাকাই গ্যাছে । মহান আল্লাহ্ তাআলার অশেষ মেহেরবানী আর আমাদের বিদ্যান-পন্ডিত-দেশ সেবক শিক্ষক-রাষ্ট্রপতি জনাব ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের কার্যকর সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সাধারন পাবলিকেরা হাফ ছাইরা বাচঁছেন গনতন্ত্র-গেইমের পুতুল হবার হাত থিকা। বুক জুড়ে স্বপ্ন নিয়ে তার চোখ ফিরিয়েছে টেলিভিশনের পর্দায়। বাঙালি জাতির অহংকারের একমাত্র যে জায়গা ;তা হলো এর রাজনীতিক অঙ্গন। সভ্যতার ইতিহাসে এত বড় বেইমানী আর বিশ্বাসঘাতকতার নজির পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। জিনিয়াস মানুষেরা সাধারনত কহুমুখি প্রতিভার অধিকারী হয়। আমাদের রাজনীতিকেরা যে এত বড় মাপের এক একজন চোর তা দেখে খুশিতে গদগদ না হয়ে কি থাকতে পারা যায়। আর সাধারন পাবলিকের এই সব খুশিতে শামিল হবার জন্য প্রচার যন্ত্রে ঘন্টায় ঘন্টায় ভেসে উঠছে সুশোভিতে দূনীর্তিবাজদের তেলতেলে মুখ। আমাদের এই দেশে সমাজঘনিষ্ঠ ও মানবতাবাদী সাংবাদিকতার যুগে ক্রাইম হচ্ছে অডিয়্যান্স ধরে রাখার এলোপ্যাথিক-টাইপ ওষুধ। একবার পাবলিকরে গেলাইতে পারলেই হয়্ । কাটতি একশোর কোঠায়। জনপ্রিয়তা আকাশ ছোয়া। (
অসমাপ্ত
১৭ জুন ২০০৭।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

