যাহা কিছু ভালো তাহার সঙ্গে আমাদের প্রথম আলো। প্রচার সংখ্যায় সর্বাধিক। প্রচারপটুতায় প্রথম শ্রেনিতে প্রথম।
ইহার সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান সম্ভবত বাঙলাদেশের ধার্মিক সম্পাদকসমূহের মধ্যে প্রধানতম। তিনি এই দুনিয়ায় বসে পরজনমের সুখ-সম্ভোগ নিশ্চিত করিবার জন্যে উঠিয়া পড়িয়া লেগেছেন। চোখ বুজিলেই দেখিতে পান হুর-সরাব-অবাধ যৌনাচার। তাহার প্রথম শ্রেনিতে প্রথম ক্লাস পাওয়া চতুর্থখাম্বাটিতে প্রতি শুক্রবার ঘটা করিয়া প্রকাশ করা হয় বিশিষ্ট মৌলভির অনবদ্য সুন্দর ধার্মিক 'কলাম'। সেখানে ধর্মের নানা নন্দনতাত্ত্বিক বিশ্লেষন যেমন উপস্থিত থাকে;তেমনি থাকে ধর্মের সাথে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা। থাকে বেহেশতে প্রবেশের সবচেয়ে সহজতম পথটির কথা।
থাকে জীবন আর ইসলামের নানা সমাজতাত্ত্বিক যোগের কথা।
সপ্তাহের আর সব দিন ছাড়িয়া কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করিতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানেদের বিশেষদিন বলিয়া ?
ঢাকা শহুরটা;আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া?
মধ্যবিত্ত মুসলমানদের প্রথম প্রধান এবং শ্রেষ্ঠ খাবার হইতেছে ধর্ম। রাষ্ট্রপ্রধানেরা এই মধ্যবিত্ত শ্রেনীটাকে ধর্ম ছাড়া আর কিছু দিতে জানেন না ; সম্ভবত চান ও না। আর মধ্যবিত্তরা তাহাতেই খুশিতে গদগদ হইয়া থাকে সবসময়। একবেলা না খাইয়া থাকিলে তাহাদের চলে; অপরের দাস হইয়া জীবনযাপনে তাহাদের কোন অসুবিধা হয় না;কিন্তু একবেলাও ধর্মপালন না করিতে পারিলে তাহারা অস্থির হইয়া ওঠেন। রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাহাদের শোষনের শেকলে বাঁধেন; আর আমরা মধ্যবিত্তরা বাঁধা পড়ি।
মতিউর সাহেব রাষ্ট্রপ্রধানদের এই পলিসি ভালোই আয়ত্ব করেছেন। যেহুতু আমাদের ধার্মিক সম্পাদকটির সাথে রাষ্ট্রপ্রধানরে যোগ সবচেয়ে বেশি; সেহুতু এই কাজটি তাহার জন্য করা খুব কঠিন তো নয়; নয় নাজায়েজ ও।
যেহুতু ধর্মের শেকলে বাধা পড়া মধ্যবিত্ত মুসলবানদের কল্যানেই আমাদের আলোচ্য এই চতুর্থখাম্বাটি সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাইয়াছে;তাই এই শ্রেনিটির কথা মতিউর সাহেবের তো ভাবিতেই হয়। বনিকেরা ধর্ম নিয়া বানিজ্য করিবে ; তাহাতে আর বলিবার কি নতুন ! কিন্তু সপ্তাহের আর সব দিন ছেড়ে কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানেদের বিশেষদিন বলিয়া ?
ঢাকা শহুরটা;আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া? তাহা হইলে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ কী অস্বীকার করে অমুসলিম বাঙালি পরিচয়ের তথ্যমতাদর্শভোক্তা শ্রেনীটিকে। অস্বীকার করে বাঙালি হিন্দুকে;বাঙালি খ্রিষ্টানকে;বাঙালি বৌদ্ধকে।বাঙালি অমুসলিম প্রজাতিটিকে।
প্রাচীন রাষ্ট্রপ্রধানেরা বাংলাদেশের মোসলমানি দিয়া গ্যাছেন অনেক আগেই। এখন আমাদের ধার্মিক সম্পাদকগন রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাম্বাটির মোসলমানি দেবার ব্যবস্থা পাকাপাকি করিয়া ফেলিয়াছেন। আমাদের দেশটা মোসলমানদের। আমাদের প্রিয় সংবিধানটা মোসলমানদের। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা ;সম্পাদকেরা মোসলমানদের। আমাদের গণমাধ্যমগুলো কেবলই মোসলমানদের। চতুর্থখাম্বাগুলো মোসলমানদের। এখানে অন্য ধর্মালম্বীদের প্রবেশ নিষেধ। নিষেধ।
(এখন আর সেই যুগ নাই;যে যুগে হাড়ির ভাত একটা টিপিলেই অন্যদের অবস্থা বোঝা যেত। এখন একটা টিপিলে ঐ একটার অবস্থা খানিক বোঝা যায়। বাকিগলো থাকে না বোঝার দুরুত্বে। আমরা হাড়ির একটা ভাত টিপিয়া দেখিবার চেষ্টা করিলাম। বাকিগুলো টিপিবার স্বপ্ন রহিল। আর চোখে রহিল ভয়ংকরের স্বপ্ন। বুক ভরিয়া বমির ইচ্ছা। )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

