আবার ঈদ আইছে । বাঙালি মধ্যবিত্ত মোসলমান বড়ই আনন্দিত ।
তাঁরা হাটবাজার জুড়ে বাকবাকুম গেয়ে ফিরছে। শপিংমলগুলোর রোশনাই-এ অন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাস্তার ভিখারিটি। কত্ত আলো বাংলাদেশ জুড়ে। এ দিনে আনন্দ হবে খুব। যারা সারা বছর তিন বেলা খাবার পায় না ; তারা আচ্ছা করে খেতে পারবে! শহুরে টাকাঅলারা এক একটা দানবীর মহসীন হয়ে উঠবে। দান-খয়রাতের কাপড় আনতে যেয়ে মারা যাবে অসহায় নারী আর খয়রাত দিতে পেরে জান্নাতুল ফেরদাউসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকবে প্রতিভাবান বাঙালি শহুরে বড়লোকটি।
বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামবে গার্মেন্টস এর শ্রমিক। আতœহত্যা করার জন্য হায়ে ডিজেল ঢালবে বোকা শ্রমিক। আর দেশের রাজারাজড়ারা তাদের পিছে লেলিয়ে দেবে পুলিশ। তারপর পুলিশ পেদিয়ে রাস্তাজুড়ে সামরিকতত্বাবধায়কতন্ত্র উদ্ধার করে ছাড়বে। সরকার ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে গার্মেন্টস শ্রমিকের সাথে, মরে যাওয়া পাটকল শ্রমিকের সাথে! আহ সরকারের কতো আনন্দ! তাদের আমলে চারিপাশে খুশির কেমন ম-ম গন্ধ! সবাই হাসছে। কৃষক মরে যেতে যেতে হাসছে। শ্রমিক হাসছে। আমলারা ইদবোনাসের গন্ধ পেয়ে আনন্দে ঘুমিয়ে পড়ছে আবার জেগে উঠছে। আর দানবীর মহসিনেরা জান্নাতের স্বপ্নে হাসছে। কোলাহলে ঢেকে ফেলছে গোটা বাংলাদেশকে।
শ্রমিকের শিশুরা অভুক্ত থাকবে। ময়লা কাপড় পড়ে সারদিন নিজেদের লুকিয়ে রাখবে ঘরের কোণে। আর সন্তানকে নতুন জামা কিনে দিতে না পেরে অক্ষম বাবা বার বার হাতে তুলে নেবে মোটা রশি কিন্তু পারবে না রশির উত্তম ব্যবহার করতে। সারের দাবিতে যে কৃষকের মাথা ফাটল তার পরিবার খেয়ে না খেয়ে কাটিয়ে দেবে খুশির ঈদের দিনকে। আর আমাদের সাংবাদিকেরা পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে দেবে খুশির বার্তা। টেলিভিশনগুলো উৎসবে উৎসবে ভরিয়ে দেবে বাঙালির সব দুখ-যাতনা। রাষ্ট আনন্দে আতœহারা হয়ে ছুটি ঘোষনা করেবে সুখি আমলাদের জন্য । শ্রমিকের শিশুরা অভুক্ত থাকবে। পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে খুশির বার্তা।
আবার ঈদ আইছে। আবার বারবার ঈদ আইবো। কিন্তু শ্রমিকের শিশুরা প্রতিবারই অভুক্ত থাকবে। পত্রিকার স্বাস্থ্যবান শিরোনাম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে খুশির বার্তা।
(রি-পোষ্ট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





