আমাদের সমাজে ও সরকারী বিভিন্ন নিয়ম-কানুনে দেখা যায় মেয়েদের নামের সাথে স্বামীর নাম উল্লেখ করতে হয়। ভোটার লিস্টে বিবাহিত মেয়েদের অবশ্যই স্বামীর নাম দিতে হয়। তাদের ক্ষেত্রে পিতার নাম পরিত্যাজ্য। অনেক বিবাহিত মহিলা নিজেই নিজের নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করে দেন। যেমন হাসিনা ওয়াজেদ, খালেদা জিয়া। উচিত ছিল হাসিনা মুজীব বলে পরিচয় দেয়া ও উল্লেখ করা। বিবাহিত মেয়েদের বেলায় স্বামীর নাম উল্লেখ করার এ নিয়ম বা বিধানটি পরিত্যাগ করা উচিত কয়েকটি কারণে :
এক. মেয়েরা স্বাধীন মানুষ, যেমন স্বাধীন পুরুষেরা। পুরুষরা তাদের নামের সাথে যখন নিজেদের স্ত্রীদের নাম লেখে না তখন নারীরা কেন লিখবে? তারা কি অপূর্ণ মানব? এটা নারীদের ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য। নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী।
দুই. ইসলামী ধর্ম ও সংস্কৃতিতে নারীদের নামের সাথে পিতার নাম উল্লেখ করা বিধান আছে। হোক বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত। আল-কোরআনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য আল্লাহ বলেছেন: তাদেরকে তাদের পিতার পরিচয়ে উল্লেখ করো। ইসলামের নবীও তাই করেছেন, করতে বলেছেন। তাইতো দেখা যায় যখন নবীর স্ত্রী খাদিজার নাম উল্লেখ করা হয় তখনও বলা হয় খাদিজা বিনতে খুআলিদ, আয়েশা বিনতে আবু বকর। নারীদের নামের সাথে স্বামীদের নাম যুক্ত করতে হবে এমন বিধান ইসলামেরতো নয়ই বরং ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতি বিরোধী।
তিন. স্বামী পরিবর্তিত হয়। স্বামী মারা গেলে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ হয়। এ সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় পরিচয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর নাম ব্যবহার যুক্তিযুক্ত নয়। পরিচয়ের ক্ষেত্রে স্থায়ী বিষয়ই গ্রহণযোগ্য, অস্থায়ী বিষয় নয়। এতে সমস্যারও সৃষ্টি হয়। যেমন, বিশ বছরের একজন অবিবাহিত মেয়ে ভোটার তালিকায় নাম লেখাল, পিতার নাম দেয়া হল। দু বছর পর বিবাহ হল। তার নামের সাথে পিতার নাম ছিল সেটি বাদ দিয়ে আসল স্বামীর নাম। কয়েক বছর পর স্বামী মারা গেল, আবার তার বিবাহ হল। আগের স্বামীর নাম বাদ দিয়ে মেয়েটির নামের সাথে নতুন স্বামীর নাম যুক্ত হল। এভাবে বার বার তার পরিচয়ে বহু পুরুষ কেন আসবে? নারী হয়েছে বলেই কি তার এ বিরম্বনা? যদি পিতার নামই তার সাথে থাকবে বলে নিয়ম থাকতো, তাহলে বার বার তার লেজুর পরিবর্তন করার বিরক্তি সহ্য করা হতো না। পিতা স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। নারীর নামের সাথে সর্বদা তার পিতার নাম থাকবে এটা তার অধিকার। যদি নারীর নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করার বিধান সমাজ চাপিয়ে দেয় তাহলে পুরুষকেও তার নামের সাথে স্ত্রীর নাম লিখতে হবে। নারী পুরুষের সমান অধিকারের দাবী এটা। তখন বলতে হবে ড. ওয়াজেদ হাসিনা, শহীদ জিয়াউররহমান খালেদা। আমাদের মহান সংস্কারবাদী সরকার কত সংস্কারই তো করতে পারেন এটা পারেন না কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


