আমার প্রিয় পোস্ট

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও ত্রিভুজ গোত্রীয়দের বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেস্টা

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২২

শেয়ারঃ
1 0

গতকাল রাতে, আনব্যানের দাবি আদায়ে বিজয় অর্জনের কিছুক্ষণের মধ্যেই অবাক হয়ে ত্রিভুজের একটি পোস্ট দেখলাম। সেখানকার লিংক ধরে তার আরো দুটি ও আশরাফ রহমানের একটি পোস্ট পড়লাম।

কিছু কথা বলা আবশ্যক মনে হওয়াতে আজ ফুল রেস্টে থাকার কথা থাকলেও নেটের সামনে বসতে হলো।

তাদের মূল বক্তব্য কি?
আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে আমার সোনার বাংলা গানটি থাকার যৌক্তিকতা কতখানি? কারণ-
রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ চেতনার বিরুধী ছিলেন, বা বাংলাদেশ তথা পূর্ববঙ্গের উন্নতির বিরুদ্ধপক্ষ মানুষ ছিলেন।
এর পক্ষের যুক্তি কি?
১। তিনি বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা নিয়েছিলেন।
২। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে কলকাতায় আয়োজিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩। আমাদের স্বাধীনতা হরণকারী ব্রিটিশদের তাবেদার ছিলেন। কেননা, তিনি জনগণমন ভাগ্যবিধাতা গানটি রচনা করেছিলেন সাদা চামড়ার স্তুতির উদ্দেশ্যে।

উপরের তিনটি ঘটনাকে সত্য ধরেও কি তাকে বাংলাদেশ চেতনার বিরুধী বলা যায়?
১। বঙ্গভঙ্গের ঘটনার সাথে বাংলাদেশ চেতনার কোন সম্পর্কই নেই। এটা ঠিক যে, পূর্ববঙ্গের মুসলিম উঠতি বুর্জোয়া শ্রেণীর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বুর্জোয়া শ্রেণী বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে ছিল, কেননা- তারা মুসলিমদের আগে থেকেই ইংরেজী শিক্ষার দিকে ঝুকেছিল এবং বণিকী পেশাতেও তারা অগ্রজ ছিল। ফলে, ইংরেজরা যখন ডিভাইড এণ্ড রুল এর নীতিতে বঙ্গভঙ্গ করলো- ঐ হিন্দু বুর্জোয়া অংশ স্বভাবতই তার বিরুধীতা করে। এবং মুসলিম অংশটিকে গোষ্ঠী স্বার্থেই ইংরেজরা পক্ষে পায়। তবে, এই অংশদুটির বাইরে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে দুই বঙ্গের অনেক মুক্তমনা এই বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেছিল এই জায়গা থেকে যে, প্রথমত ইংরেজরা প্রথমবারের মত সাফল্যের সাথে হিন্দু-মুসলিমে বিভেদ টানতে সক্ষম হয়, যা স্পষ্ট হয় পরবর্তি দাঙ্গায়, নজরুল সহ অনেকের লেখনীতে এই দাঙ্গা-বিরোধী বক্তব্য পাবেন (আমার কাজী নজরুল ইসলাম শীর্ষক পোস্ট দ্রষ্টব্য)- [যার চুড়ান্ত ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মকেন্দ্রিক পাকিস্তান নামক হাস্যকর রাষ্ট্রটির উদ্ভব]; এবং দ্বিতীয়ত- অবিভক্ত বাংলার স্বপ্নচারী ও অভ্যস্ত মানসিকতায় ইংরেজ কর্তৃক নির্মম আঘাতের কষ্ট।
এটা পরিস্কার যে, এই বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনাকারী ইংরেজরা, মুসলীম লীগের উত্পত্তির পেছনেও তাদের ভূমিকা ছিল এবং এটাও ঠিক যে, তাদের এ উপমহাদেশে কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন ছিল- এবং হিন্দু ও মুসলিমকে বিভক্ত করাও প্রয়োজন ছিল; বেশীদিন এখানে তাদের শাসন-নির্যাতনের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদেই।
২। ঢাকা কিন্তু তখন বাংলাদেশের রাজধানী নয়, ফলে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধীতার সাথে বাংলাদেশ চেতনার কোন সম্পর্কই থাকতে পারে না। একটি উদাহরণ দেই- ধরেন এই মুহুর্তে পদ্মাসেতুর একটি সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। এখন কোথায় এই সেতু নির্মিত হবে সেটা নিয়ে দুদল লোক এলাকাগত সুবিধার ভিত্তিতে একদল মাওয়া আরেকদল পাটুরিয়ায় সেতু নির্মাণের দাবি করলো। সে দাবিতে- পাটুরিয়ায় সেতু নির্মিত হলে যারা লাভবান হবেন তারা সমাবেশ করলো- মাওয়ায় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে। সেক্ষেত্রে কি বলা যেতে পারে? আমরা এটুকুই বলতে পারি পাটুরিয়ার লোকজন দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভাবতে ব্যর্থ হয়েছে, কেননা মাওয়া সেতু হলেই সবদিক থেকে মঙ্গল। কিন্তু বাংলাদেশ যদি দুটুকরা হয়ে দুটি দেশ হয় যার একদিকে মাওয়া আর দিকে পাটুরিয়া তবে মাওয়ার দিকের লোকজন কি দাবি করবে- অমুক ঐ সমাবেশে মাওয়া সেতুর বিরোধিতা করেছিল- সেজন্য সে আমাদের এই দেশের চেতনা পরিপন্থী??
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা ছিল- সেটা তাঁর বিশেষ স্বপ্ন ছিল। আর, বিভিন্ন সময়ে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ উভয়বঙ্গের শিক্ষাবিস্তার নিয়ে তাঁর অনেক নিরন্তর ইতিবাচক ভূমিকার কথা সকলেই জানে।
৩। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের আপোষকামী অংশের প্রতিনিধি। উঠতি বুর্জোয়া, জমিদার শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দল কংগ্রেসও তাই। সূর্যসেন-ক্ষুধিরাম-ভগত সিং- প্রীতিলতা- পরবর্তিতে সুভাষ বোস - এনাদের বিপ্লবী ধারার বিপরীতে কংগ্রেসের ভূমিকা ছিল ব্রিটিশদের সাথে আপোষ-লড়াই-সুবিধা আদায়-আপোষ- নীতিতে চলা এক রাজনৈতিক সংগ্রাম। যার ফলস্বরূপ আমরা পেয়েছি ব্রিটিশদের দান করা পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র- এ আমাদের লজ্জা যে, আমরা ব্রিটিশদের বিতাড়িত করতে পারিনি- এ লজ্জা আমাদের দান করেছে কংগ্রেস তথা মহাত্মা গান্ধী ও নেহরু- জিন্নাহরা; যদিও অগ্নিপুরুষ ঐ বিপ্লবীদের কারণেই ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল- তাই এ লজ্জা আমাদের লাঘবও হয়।
যাহোক, যা বলছিলাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আপোষকামী অংশের প্রতিনিধি- ফলে ওনার চিন্তা-ভাবনার মধ্যে এই সংগ্রাম ও আপোষ উভয়েরই সংমিশ্রন পাওয়া যায়। তবে তাঁর সাহিত্য-কর্ম, তাঁর জীবন, তাঁর কর্মপদ্ধতি সবকিছু দেখে তাঁকে একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের অধিকারী- সত ব্যক্তি বলেই মনে হয়। ফলে, তার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনে সুবিধা গ্রহণের কোন বিষয় থাকাটা সম্ভব নয়, বরং চিন্তাগত সারল্য জনিত কিছু ভুলের প্রভাবই মনে হয় আপোষের অংশটুকুকে। মনে রাখবেন জালিয়ানওয়ালাবাদের ঘটনায় কংগ্রেস তথা গান্ধীও এত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বাংলা ভাষা, বাঙ্গালি সংষ্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথঃ
হুমায়ুন আজাদের ভাষায় বলি, "আকাশে সূর্য ওঠে প্রতিদিন, আমরা সূর্যের স্নেহ পাই সারাক্ষণ। সূর্য ছাড়া আমাদের চলে না। তেমনি আমাদের আছেন একজন, যিনি আমাদের প্রতিদিনের সূর্য। তাঁর নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [১৮৬১-১৯৪১]। তিনি আমাদের জীবনে সারাক্ষণ আলো দিচ্ছেন। তিনি বাঙলা ভাষার সবার বড় কবি। তাই নয় শুধু, তিনি আমাদের সব। তিনি কবিতা লিখেছেন, গল্প লিখেছেন, উপন্যাস লিখেছেন, নাটক রচনা করেছেন, গান লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি কি লেখেন নি? তিনি একাই বাঙলা সাহিত্যকে এগিয়ে দিয়ে গেছেন কয়েকশো বছর। আজ যে বাঙলা সাহিত্য বেশ ধনী- তার বড় কারণ তিনি"। কিন্তু তিনি শুধু বাঙলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি নন, বাঙলা ভাষার শ্রেষ্ঠ বর্ণনামূলক ভাষাবিজ্ঞানীও। তিনি তাঁর সৃষ্টির মাঝে বাংলাকে যেন নবপ্রাণ দান করেন। ভাষাকেই করে তুলেন সমৃদ্ধ।
সংক্ষেপে ইতিহাসটা একটু বলি(বিস্তারিত অন্য সময়ে বলা যাবে)। চর্যাপদ এর কালে বাঙলা ভাষা ছিল খুবই অবিকশিত। ১৮০১ সালে শুরু হয় আধুনিক বাঙ্গালীর বাংলা গদ্যের ধারা। কেরি, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রামমোহন রায়, অক্ষয়কুমার দত্ত এবং আরো অনেকের শ্রমে ক্রম বিকশিত হয় সাধুভাষা। ১৮৬০ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভাষায় সাধুরীতি স্থির মানরূপ লাভ করে। এরপরে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও আরো অনেকে সাধুরীতির বাংলায় নিয়ে আসেন আরো অনেক বৈচিত্র। তবে রবীন্দ্রনাথের কৃতিত্ব অন্যখানে। তা হলো চলতি বাংলা। প্যারীচাঁদ মিত্র ও প্রমথ চৌধুরীর পথ ধরে যখন রবীন্দ্রনাথ গদ্যরীতি হিসাবে চলতি রীতিতে লেখা আরম্ভ করেন- তখন থেকেই কিন্তু চলতি রীতিই মান ভাষা, বাংলা ভাষা। এ কাজ করতে গিয়ে তাঁর ভাষাকে সৃষ্টি করতে হয়েছে। তাই তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সন্তান।
শুধু সাহিত্য ও ভাষার ক্ষেত্রেই নয়- রবীন্দ্রনাথ তাঁর অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রভৃতির মাধ্যমে বাঙ্গালীর মনন, রুচি, সংস্কৃতিও তৈরি করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

ফলে, আমাদের ভাষা কেন্দ্রিক যে জাতীয়তা বোধ- সেই বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধই অসম্পূর্ণ থেকে যায় রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিলে।

কেন ও কিভাবে সোনার বাংলা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতঃ
পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা থেকে যায়- মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা জিন্নাহর হাত ধরে। যে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব- সেখানে পূর্ব ও পশ্চিম দুটি অংশের মধ্যে একমাত্র মিল ধর্ম- ইসলাম।

পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী প্রথমেই আঘাত হানে আমাদের বাংলা ভাষার উপর। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেয়ার চেস্টা করা হলো। মূল কারণ ঐ ধর্মকেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি। ভারতের এক বড় অংশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলা, এই ভাষার উতপত্তি-বিকাশে বড় ভূমিকা বিভিন্ন হিন্দু কবি-সাহিত্যিকদের, তদুপরি পূর্ববঙ্গের মানুষদের সাথে সমস্ত দিক দিয়েই পশ্চিম পাকিস্তানীদের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের সাথে আত্মিক যোগাযোগ যুগযুগ ধরেই অনেক ভালো ছিল। ফলে, পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী প্রথম থেকে এখানকার লোকদের ভাষা, কৃষ্টি-কালচারকে ভালো নজরে দেখতে পারেনি- যা তাদের চোখে হয়ে দাঁড়ায় হিন্দুয়ানি। বাংলাকে তারা দেখেছিল হিন্দুর ভাষা হিসাবে। ফলে খড়গ নেমে আসে ভাষার উপরে- তৈরি হয় বায়ান্নো।

এই ভাষার লড়াই করতে গিয়ে অনন্য এক অভিজ্ঞতা হয় বাংলার। আগের স্ট্রীমের বাংলা থেকে তার একটি পার্থকয় তৈরি হয়ে যায়। এবারে বাংলা পায় একটি লড়াই এর চেতনা। ভাষার জন্য লড়াই- পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের বাংলা হয়ে ওঠে তেজোদ্দীপ্ত বাংলা। আর, এর মধ্য দিয়ে আরেকটি ঘটনা ঘটে, সেটা হলো বাঙ্গালী জাতিসত্তার উন্মেষ। এই ভাষা আন্দোলনের তাতপর্য এখানেই অনন্য যে, এর মধ্য দিয়ে আমরা পাকিস্তানী ধর্মভিত্তিক জাতিসত্তার অন্তসারশূণ্যতা উপলব্ধি করি এবং একই সাথে- আবহমান অবিভক্ত বাংলার যে বাঙ্গালী জাতিসত্তা তার সাথেও একটা সীমারেখা তৈরি হয়ে যায় আমাদের এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাঙ্গালী জাতিসত্তার। ফলে, স্বভাবতই এই বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের সাথে আছে লড়াইয়ের তেজ, আছে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা এবং ভাষার সাথে গাটছাড়া এক সম্পর্ক।

এদিকে ভাষার লড়াইয়ে হেরে গিয়ে শাসক গোষ্ঠী শুরু করে দেয় সাংস্কৃতিক দমন, পীড়ন, নির্যাতন। অন্যান্য অর্থনৈতিক শোষণের সাথে সমান তালে এসবও চলতে থাকে। ফলে, একে কেন্দ্র করে লড়াইও চলতে থাকে সমান তালে। সবচেয়ে বেশী আক্রমণ আসে, রবীন্দ্র চর্চার উপর। কেননা, আগেই বলেছি- রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিলে বাঙ্গালিত্বের আর কিছু থাকে। খুঁজে-ফিরে আমদানি করা হয় মুসলমান কবি-সাহিত্যিককে। এককালের কাফের উপাধী পাওয়া নজরুলকে মুখোমুখি করাতে চাইলো রবীন্দ্রনাথের। আমরা দুজনকেই আকড়ে ধরলাম, কাউকে কারো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে নয়, দুজনকেই পরম বন্ধু হিসাবে। ফলে, আমরা প্রতিবাদী জলসায় কারার ঐ লৌহ কপাট এর সাথে সাথে আমার সোনার বাংলাও গাইলাম।

তারপর তো, সবই ইতিহাস। রবীন্দ্র জন্ম শতবার্ষিকী। রবীন্দ্র চর্চার উপর নিষেধাজ্ঞা- জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনে বাঁধা, আর অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে লড়াই- এবং রবীন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলাকে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা।

এভাবে শাসক গোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথকে যতই আমাদের কাছ থেকে দূরে সরাতে চেয়েছে- ততই রবীন্দ্রনাথ হয়ে গেছেন বাঙ্গালী চেতনারই অংশ-বিশেষ।

বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় সঙ্গীতের বিরোধীতা একই সূত্রে গ্রোথিতঃ
বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় সঙ্গীতের বিরোধীতার মূলে আছে- সাম্প্রদায়িকতা, উপরের আলোচনায় তা নিশ্চয় এতক্ষণে পরিস্কার হয়েছে। ত্রিভুজ সেনাপতি আশরাফও তার এক পোস্টে এরকম একটি কথা লিখেছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথ নিজে ব্রাহ্ম হলেও তিনি হিন্দুত্ববাদের প্রচার করে গেছেন!!!

ত্রিভুজ গোত্রীয়রা আজ যেসব যুক্তি(!!) করছে- একই কথা পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী আমাদের এখানে প্রচারের চেস্টা চালাতো। তাদের হয়ে এ প্রচারকার্যের মূল দায়িত্ব পালন করতো এখানকার রাজাকার ও মুসলিম লীগের দালালরা। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, সে সময়ে চেতনার জায়গা বা লেভেলটা এমন জায়গায় ছিল যে, যখনই কেউ রবীন্দ্রনাথ বা হিন্দুত্ব নিয়ে কথা বলতে আসত- সাথে সাথেই তাকে দালাল হিসাবে প্রতিরোধ করতো। ফলে, রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কোন চক্রান্তই হালে পানি পায়নি।

আজও, দালালরা, মানে রাজাকার-রাজাকারপুত্র-নব্যরাজাকাররা একই ধরণের যুক্তি করতে চায়- জাতীয় সঙ্গীত পাল্টানোর কথা বলে - এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যার অপরনাম বাঙ্গালিত্বের চেতনার মূল যে চেতনা সেই অসাম্প্রদায়িক সেক্যুলার চেতনাকে আঘাত করা।

আরেকটি চমতকার(!) যুক্তি আজকাল প্রায়ই শোনা যায়ঃ এই জাতীয় সঙ্গীত আমাদের বাংলাদেশকে ধারণ করে না; বা আরো ভালো কোন সঙ্গীত যদি বাংলাদেশকে ধারণ করতে পারে তবে- সেটিকে জাতীয় সঙ্গীত করা উচিত। আজ জাতীয় সঙ্গীতকে কেন্দ্র যিনিই কথা বলছেন- বুঝতে হবে চিন্তায়-মানসিকতায় সকলেই 'একই গোয়ালের গরু' প্রকৃতির। সেদিনের মত আজও তাদের দালাল-রাজাকার হিসাবে প্রতিরোধই কাম্য।
আর, বাংলাদেশকে ধারন করা প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য হলো- এই গানের মত বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের ইমোশনকে ধারণ করতে পারে আর একটি গানও আমি কোনদিন শুনিনি। এমনকি অন্য যেকটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজী অনুবাদ পড়েছি- সেগুলোকেও আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের তুলনায় কিছুই মনে হয়নি- কেননা আমাদেরটি একই সাথে দেশকে ও দেশের প্রতি আবেগকে তুলে ধরে। আর, যদি এই গানটির কথায়-সুরে তা এমন মাটিছোয়া-হৃদয়গ্রাহী না-ও হতো, তারপরেও এই গানটিকেই জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে রাখতে হবে এ কারণে যে, এর সাথে একটি ইতিহাস আছে, তাকে ছাপিয়ে আছে একটি চেতনা- যে চেতনাটি হলো অসাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার বাংলার চেতনা।সকলকে ধন্যবাদ

 

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২৮
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সুশান্তের একটি পোস্ট এই মাত্র দেখলাম। চমতকার রেফারেন্স সহ দেখিয়ে দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ কোন গড়ের মাঠেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন নি।

সুশান্তকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


ওদের প্রধান অস্ত্রই তো মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির ধোঁয়াজাল।
৪. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২৯
সু-শান্ত বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে কলকাতায় আয়োজিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর#
এটা নিয়ে আমি একটা পোস্ট দিয়েছি। যাবতীয় উত্তর পাবেন আশা রাখি। Click This Link

৫. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩০
মাথামোটা বলেছেন:
আজি ঠান্ডা বেশ বেশী পড়িয়াছে,
ছাগু ুটকি অত্যন্ত চুলকাইতেছে।
কেহ এর বিরাম করে না তায়,
ছাগু জোরে জোরে চেচায়।

হয়েছে যে তার পাচড়া,
চিরুনি দিয়ে ধরে আচড়া।
যদি না হয় তবু শান্ত
লোহার দন্ড আন তো।

হায়, তলদেশের জ্বলুনী
যদি না থামাতে পারিস আজি,
রবীদার কবিতা সে বুঝিবেই
ছাগু তাই ধরেছে বাজী।আজি ঠান্ডা বেশ বেশী পড়িয়াছে,
ছাগু ুটকি অত্যন্ত চুলকাইতেছে।
কেহ এর বিরাম করে না তায়,
ছাগু জোরে জোরে চেচায়।

হয়েছে যে তার পাচড়া,
চিরুনি দিয়ে ধরে আচড়া।
যদি না হয় তবু শান্ত
লোহার দন্ড আন তো।

হায়, তলদেশের জ্বলুনী
যদি না থামাতে পারিস আজি,
রবীদার কবিতা সে বুঝিবেই
ছাগু তাই ধরেছে বাজী।
৬. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এই পোস্টেই এডিট করে করে অসমাপ্ত অংশ সমাপ্ত করার চেস্টা করবো,
এবং সমাপ্ত হলে- মন্তব্যে জানান দিবো।
৭. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯
আউটসাইডার বলেছেন: সাহিত্য কে সাহিত্যিক এর ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মিলানো কি ঠিক? একজন রবীন্দরনাথ কখনোই এতো সংকীণ' কিছু চিন্তা করবেন না যে তাঁকে বাংলাদেশের চেতনাবিরোধী বলা সম্ভব হবে। রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে খামোখাই কিছু লোক এর কলহে লিপ্ত হওয়া অবশ্য নতুন নয়। লেখক বা কবির পরিচয় তাঁর সাহিত্যকমে'র মাধ্যমেই হওয়া বান্চনীয় বলেই মনে করি। ব্যাক্তির অনেক চিন্তার প্রতিফলন হয়তো তাঁর সাহিত্যকমে' পড়বে, কিন্তু রবি ঠাকুরের লেখনীতে কি আমরা সেরকম কোন কিছু পেয়েছি কখনো যার মাধ্যমে আমরা বলবো যে রবিঠাকুর বাংলাদেশের চেতনা বিরোধী?
৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৪১
জামাল ভাস্কর বলেছেন: রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে লেখাটা ভালো লাগলো...প্রতিষ্ঠার আগে তিনি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী আন্দোলনে সায় দিলেও ১৯২৬'এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন...তখন তার বয়স ষাটোর্দ্ধ হইলেও চিন্তা কাঠামো নিয়া যেইরম flexible ছিলেন সেইটা প্রশংসনীয়। যেই কারনে রবীন্দ্রনাথ একটা সময়রে একদম একা প্রতিনিধিত্ব করতে পারছিলেন...ঐ সময়ে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক আর সামাজিক প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে তার চরিত্রের প্রগতিশীলতাটারে টের পাওন যায়।
৯. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৫০
ষড়যন্ত্রকারীদের জম বলেছেন: আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে বাংলা আছে,বাংলাদেশ নাই ।

আর এই বাংলা তৎকালীন বিট্রিশ বাংলা ।

বঙ্গভঙ্গের বিরহে রবীন্দ্রনাথ এই গান লিখেছিলেন , তাই এর সুরটা বিরহের,বিচ্ছেদের ।

কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত হওয়া উচিত উদ্দীপনার,শরীরে শিহরণ আনয়নকারী।

স্কুলে দেখেছি ছেলে মেয়েরা জাতীয় সঙ্গীত গায় ঝিমাইতে ঝিমাইতে।আমরাই গাইতাম একই রকম।

তাই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা দরকার ।


পূথিবীর অনেক দেশেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হয়েছে ,যেমন রাশিয়া ।


আমাদের দেশে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হারাইয়া যাবে না ।



একান্তই ব্যক্তিগত মত,যখন দেশের বেশীর ভাগ মানুষ আমার মত করে দেখবে তখনই হয়ত পরিবর্তন হবে।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন:
মা'শায়াল্লাহ !!
জব্বর বলেছেন!!!!!!!!!!!

১০. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
এই অংশ এডিট করা হয়েছে।

বাংলা ভাষা, বাঙ্গালি সংষ্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথঃ


বাকিটিও ধীরে ধীরে করবো।
১১. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:



গুড পোস্ট

রবীন্দ্রনাথের অবদান অতুলনীয়।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের ব্যাপারটি তর্ক সাপেক্ষ। ম্যান্ডেটরী হতে পারে। বাংলাদেশকে পরিপূর্ণভাবে ধারন করে এমন সঙ্গীত জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহন করা যেতে পারে।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬

লেখক বলেছেন:
বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় সঙ্গীতের বিরোধীতা একই সূত্রে গ্রোথিত

১২. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫২
হলদে ডানা বলেছেন: মাঝখানের একটি বিষয় নিয়ে কথা বলি-

বঙ্গভঙ্গ হলে কলকাতার বাবুদের কি ক্ষতি হতো? তারা বিরোধিতা করলেন কেন? এখানে তো একপক্ষীয়ভাবে পূর্ববঙ্গীয়দের লাভ হতো।

এর সাথে মাওয়া-পাটুরিয়ার তুলনা দেয়াটা কি প্রাসঙ্গিক হলো?
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন:
বঙ্গভঙ্গের বিষয়টিতে ১ নং পয়েন্টে আলোচনা করা হয়েছে। আবার দেখেন। কার কিসে লাভ হতো সেখানেই পাবেন।

মাওয়া-পাটুরিয়ার তুলনা- ২ নং পয়েন্টে- তা রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা নিয়ে করা মিথ্যাচারকে সত্য ধরলেও যে সেটি ওনার বাংলাদেশ চেতনার বিরোধী হওয়া প্রমানিত হয় না- তা বুঝাতে করা হয়েছে।

১৩. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৫
আশরাফ রহমান বলেছেন: কোলকাতা গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন-এটা প্রমাণিত সত্য। এবারে একটি পোষ্ট দেয়ার কথা ভাবছি।
১৪. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এ ব্যাপারে যে পোস্ট দেয়া হইছে সেইটা আগে ভাঙ্গেন
১৫. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:১০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:



গুড পোস্ট

রবীন্দ্রনাথের অবদান অতুলনীয়।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের ব্যাপারটি তর্ক সাপেক্ষ। ম্যান্ডেটরী হতে পারে। বাংলাদেশকে পরিপূর্ণভাবে ধারন করে এমন সঙ্গীত জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহন করা যেতে পারে
...............................

আপনারে আর কি যে বলবো
১৬. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: সারওয়ার ভাই একটা জাতীয় সঙ্গীত লেখেন, জামাতে ইসলামী থেকে বরাদ্দের ব্যবস্থা আমরা করে দেবো, নয়তো চাদা তুলে অনুদান দেবো। আপনার স্ট্যান্স আমার ডুবিয়াস মনে হ্‌ইতেছিল বরাবর। মনরে প্রবোধ দিতাম জামাতি এক ললনার ছিনানীর ছলনায় মোহগ্রস্থ হইয়া আপনার এই ভিমরতি। এখন দেখতাছি না, এইটাই আপনার বেসিক। আপনার সঙ্গে আর আলোচনা নাই
১৭. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:২৭
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


অমি রহমান পিয়াল ভাই,
ব্লগে যারা আমার অহেতুক বিরোধিতা করেন বলে মনে হয়, তাদের মধ্য থেকে আপনাকে আমি আসলে আলাদাভাবে দেখি। কারণ আপনি কখনো গালিবাজদের কাতারে গেলেও আপনার মৌলিক লেখার ক্ষমতা আছে।
আমি কারো প্রতি অন্ধ বিরোধ পুষে রাখি না। জামাতি রাজনীতিকে আমি মোটেই পছন্দ করি না। তবে কখনো আমার কোন চিন্তার সাথে জামাতি কারো চিন্তার মিলে যাওয়াটাকে যদি বলেন আমি জামাতি এটা আমার জন্য পীড়াদায়ক।
রবীন্দ্রনাথের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, বর্তমান জাতীয় সঙ্গীতটির চাইতে যদি দেখি অমি রহমান পিয়ালের লেখা দেশাত্মবোধক একটি গান বাংলাদেশকে আরো গভীর আরো উজ্জল আরো সমুন্নত করছে, তাহলে আমি মত দিবো পিয়ালের গানটি জাতীয় সঙ্গীত করা হোক।
ভিন্নমত পোষণ করলেই জামাতি তকমা লাগিয়ে দিবেন না প্লিজ। আর শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরকে আপাতদৃষ্টিতে ডিউবিয়াস মনে হয়। আসলে কিন্তু তা না।
১৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: একটা কথা কই সারওয়ার চৌধুরী। চেতনার ব্যাপারটা অনেকখানি আবেগপ্রসুত মানেন? এখানে যুক্তির কোনো স্থান নাই। যুক্তি দিয়া আমারে নাস্তিকরা বুঝাইতে পারবে আল্লাহ নাই, কিন্তু আমার আবেগ দিয়া আমি বিশ্বাস করবো তিনি আছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক আবেগ নিয়াই আমরা এই গানটারে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে বরণ করছি, তারে বর্জন মানে সেই চেতনারে বিসর্জন। আমার বাবার একটা শার্ট আমি এখনো গায়ে দিই, পুরানো হওয়ার পরও দিই, কারণ এতে তার গন্ধ আছে মনে হয়। তার অনেক স্মৃতি মনে করায় এই শার্ট। একটা সুন্দর শার্ট তো পাওয়াই যায়, আমি আমার স্মৃতি বিসর্জন দেব?
১৯. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
অচেনা বাঙালি বলেছেন: ষুছিল সারওয়ার আর ছাগা ত্রিভুজের মধ্যে পার্থক্য দেখতেছিনা।
২০. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৩
মনিটর বলেছেন: নামের শেষে চৌধুরী যুক্ত ধোপাদীঘির পাড়ের এ সম্পাদক প্রাণীটি তার ব্লগ জীবনের প্রথম দিকে প্রচন্ড জামাত ঘেঁষা ছিল। ফটোশপে এডিট করা ছবি না, তার কমেন্ট ফলো করেই এমন কথা বলছি। বিভিন্ন বার তাকে ধরা হয়েছিল, কোটেশন বলে কেটে পড়তো এই মহান 'থেরাপিস্ট'।
ধীরে ধীরে ভাও পাল্টানোর চেষ্টা করলেও এই বৃটিশ একসেন্টে ইংরেজি বলা মানুষটির প্রতি ধারণা পাল্টায় নাই। এমন কি তার ' ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ জাতীয়তা এবং জাতির পিতা প্রসঙ্গ" পোস্টে পোস্টে বলেছিলাম - "সরওয়ারচৌধুরীর আগের ব্লগাচরণের সাথে এ পোস্টের কনটেন্ট খুব বেমানান। ফারহান দাউদের ছদ্মবেশের কথা অনেকেরই মনে থাকবে। কারণ, জামাতীরা আগেও ভন্ড ছিলো, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আর কিছু বলার নাই।"

আজ আবার নিশ্চিত হলাম। ঝিলের মাঝে 'শাপলা'রূপী হয়ে যতই 'মুনশী'য়ানা দেখাক না কেনো, সারওয়ারচৌধুরীর মূল অবস্থান জামাতের শুঁড়িখানায়। ফরহাদ মজহারীয় তরিকায় ভাব ধরার ব্যর্থ চেষ্টা তার দেশে গিয়ে প্রচন্ড গরমে সুট টাই পরে আজিজ মার্কেটে ঘোরার মতো হাস্যকর।
২১. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
হলদে ডানা বলেছেন: "রবীন্দ্রনাথের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, বর্তমান জাতীয় সঙ্গীতটির চাইতে যদি দেখি অমি রহমান পিয়ালের লেখা দেশাত্মবোধক একটি গান বাংলাদেশকে আরো গভীর আরো উজ্জল আরো সমুন্নত করছে, তাহলে আমি মত দিবো পিয়ালের গানটি জাতীয় সঙ্গীত করা হোক।"

সম্পূর্ণ একমত। পিয়ালের বক্তব্য তার নিজের জন্য আবেগ প্রসুত হতে পারে তাই বলে সকলের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করেনা। তার মন্তব্যটি অতি প্রান্তিক বলেই আমার কাছে মনে হয়।
২২. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৭
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


বাবার শার্টের ব্যাপারটিকে সম্মান করি। ব্যাক্তি পর্যায়ে এই আবেগটুকু সামাজিক মুল্যোবোধের জন্য জরুরী। কিন্তু জাতীয় চেতনাজাত বিভিন্ন বিষয়ে পরিশীলতা আনয়নের সাথে বিশ্ব সভায় আমাদের উন্নততর সংস্কৃতিবোধের চেতনার প্রসঙ্গটিও জড়িত।
বর্তমান জাতীয় সঙ্গীত আমার কাছে অগ্রহনযোগ্য নয়।
যে কোন পরিবর্তন পরিশীলন পরিবর্ধনের দিকে যাওয়াটা সময়ের এক অপ্রিয় বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার সিঁড়িতে পা রাখে পৃথিবীর সকল জাতি গোষ্ঠী।
আর জাতীয় সংগীতের পরিবর্তন করলেই চেতনা বিসর্জন হবে কেন? চেতনাকে শাণিত করার জন্যই পরিশীলন পরিবর্তনের কথা আসতে পারে। এখানে আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না।@ অমি রহমান পিয়াল
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৯

লেখক বলেছেন:
দেখুন, আপনার বক্তব্য আসলে কোনটি???
একবার বলছেন- জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের ব্যাপারটি তর্ক সাপেক্ষ। .....বাংলাদেশকে পরিপূর্ণভাবে ধারন করে এমন সঙ্গীত জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গ্রহন করা যেতে পারে,

আবার এখানে বললেন,
বর্তমান জাতীয় সঙ্গীত আমার কাছে অগ্রহনযোগ্য নয়।

এক ধরণের বক্তব্য প্রদান করুন, আপনার অবস্থান পরিস্কার করুন।

জানেন, কারা এই জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের দাবি তুলছে?
কেন এই দাবি তুলছে??

যাহোক, যেসময় এই কমেন্ট করেছিলেন- তখন আমার পোস্ট অসম্পূর্ণ ছিল। আশা করি এখন পুরো পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বক্তব্য পরিস্কার করবেন।

আর, একটি প্রশ্ন।
এখন যদি- জাতীয় সঙ্গীতকে অগ্রহণযোগ্যই মনে না হয়- তবে তা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলার অর্থ কি????

২৩. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: সেটাই তো বললাম আগে। চেতনায় গলদ থাকলে এ ধরণের কথা ভাবতেই পারে যে কেউ। আমার চেতনার পরিবর্তন, পরিবর্ধন আর পরিমার্জনায় আমি নাই। স্যরি সারওয়ার চৌধুরী আপনার সঙ্গে আমি আর আলোচনা করতে রাজী না, কিছু ব্যাপারে আমি উগ্রপন্থী বলতে পারেন। ত্রিভুজের সঙ্গে যার মননের মিল, তার সঙ্গে আলোচনা করতে আমার অপমান বোধ জন্মায়
২৪. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:১৯
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: অমি রহমান পিয়াল: ত্রিভুজের সঙ্গে যার মননের মিল, তার সঙ্গে আলোচনা করতে আমার অপমান বোধ জন্মায়

তাইলে, শাপলা তরকারী বাদ দিয়া গোলাপরে জাতীয় ফুল, আর ....
২৫. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:২১
মনিটর বলেছেন: হ গোলাপ জাতীয় ফুল, ছাগল জাতীয় প্রাণী, উর্দু জাতীয় ভাষা,
২৬. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬
দিগন্ত বলেছেন: "রবীন্দ্রনাথের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, বর্তমান জাতীয় সঙ্গীতটির চাইতে যদি দেখি অমি রহমান পিয়ালের লেখা দেশাত্মবোধক একটি গান বাংলাদেশকে আরো গভীর আরো উজ্জল আরো সমুন্নত করছে, তাহলে আমি মত দিবো পিয়ালের গানটি জাতীয় সঙ্গীত করা হোক।"
- এটার সাথে একমত নই। যদি তার এক মাস পরে অমি রহমান পিয়াল যদি আরো একটি গান লেখেন যেটি আরো বেশী দেশাত্মবোধক তাহলে আবার জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হবে। আর তার ২ বছর পরে আবার কেউ লিখলে সেটা ... চলতেই থাকবে। যুক্তিগত ভাবে আপনি কি সেটাই চাইছেন?
অন্যান্য যে যে দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হয়েছে তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কি কি অবস্থায় আর কাদের মত নিয়ে পরিবর্তন হয়েছিল জানার ইচ্ছা রইল। রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হয় নি, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে রাশিয়া তৈরী হবার সময় আলাদা জাতীয় সঙ্গীত গ্রহণ করা হয়েছিল মাত্র।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৩

লেখক বলেছেন:
একমত

২৭. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
পুরো লেখাটি সম্পূর্ণ করলাম।

অবশ্য প্রতিবারেই একটি করে পোস্ট আকারে দিয়েছি জানান দেয়ার জন্য। সেগুলো দুয়েকদিনের মধ্যেই মুছে ফেলবো।


আর, শরীরটা একটু অসুস্থ থাকায়- ভালো করে স্টাডিও করতে পারিনি- রেফারেন্সও উল্লেখ করতে পারলাম না (হুমায়ুন আজাদের লাল নীল দীপাবলী ব্যতিত)।
তথ্যগত কোন ভুল-ত্রুটি পেলে- ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং অনুগ্রহ করে, শুধরিয়ে দিয়ে বাধিত করবেন।
তবে বিশ্লষণের ক্ষেত্রে কোন দ্বিমত থাকলে যুক্তি-কারণ সহ খণ্ডন কাম্য।
২৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:০৯
শান্ত বলেছেন: বক্তব্যে কোন শক্তিশালী কোন তথ্য পেলামনা ।
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২১

লেখক বলেছেন:
পাওয়ার কথাও নয়!!!!!!
সব পাবেন আলা মওদুদীর বই এ।

২৯. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
মুকুল বলেছেন:
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। +
৩১. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
হমপগ্র বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা

আপনার কাছে প্রথমেই কর জোরে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, যখন আমাকে আপনি পড়তে বলেছিলেন, ঠিক সেই সময়টা একটা ব্যাস্ততা বশত পড়া হয়নি। কিন্তু এখন পড়তে এসে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। এক ধারছে পড়েই গেলাম। একটা কথা বার বার মনে হচ্ছিলো, এই মাটি রবীন্দ্রনাথের জন্মে দেয়, শেখ মুজিবের জন্ম দেয়। আপনি এত রেফারেন্স এনে, এত বিষদ এবং এত সুন্দর যুক্তি দিয়েছেন, আসলেও মনে হয় মুজিব বা রবীন্দ্রনাথ এখানে জন্মায় ভুল করেন নি। আমি বুঝলাম না কোন যুক্তিতে আপনার পোস্টটি কার ভাল না লাগতে পারে? আপনি কোথাও ফাঁক রাখেননি এতটুকু। আমি অনেক কিছু শিখেছি, অনেক কিছু জেনেছি। সামহোয়ারে আসাটা পানিতে ফেলনা নয় আর।
আপনাকে কোথাও এতটুকু আন্ডার-এস্টিমেট করে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থী। কারণ আন্ডার-এস্টিমেট করা তো আমাদের স্বভাব। করেও থাকতে পারি পূর্বে।

(সম্মানিত পাঠকবৃন্দের জন্যঃ রবি ঠাকুর ঐ পারে জন্মালেও আমি এই সেন্সে এই মাটিতে বলেছি, যে তিনি বাঙ্গালি, আবার ভাববেন না আমি এইটাই জানি না রবি ঠাকুরের জন্ম কোথায়।)
৩২. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৩৮
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

নাস্তিকের ধর্মকতা
ব্লগে একটা কথা উঠেছে দেখে আলোচনায় অংশ নেয়া মাত্র। আমি আমার মত প্রকাশ করেছি শুধু এইজন্য যে জাতীয় সংগীতটিতে বাংলাদেশ শব্দটি নেই। এটা নিয়ে কেউ রাজনীতি করলে আমি তার সাথে নেই।

আর দিগন্ত যে বললেন, বারবার বদল করতে হবে কেন? আমাদের চেতনাবোধকে ধারণ এবং সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরে এমন হলেই হয়। সেটা লাস্ট ফর লং হতে পারে।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন:
তাহলে এটাই আপনার বক্তব্য যে,
আমাদের জাতীয় সঙ্গীতটিতে বাংলাদেশ শব্দটি নেই বলে এটিকে পরিবর্তন করা যাবে।
দিগন্তের কথার উত্তরে যেটা বললেন- সে পরিপ্রেক্ষিতে একটা প্রশ্ন করি- আপনার কি মনে হয়, আমার সোনার বাংলা গানটি আমাদের চেতনাবোধকে ধারণ করতে পারে না বা সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরে না????

আপনি আমার এই পোস্টের শেষ দুটি পরিচ্ছেদ অনুগ্রহ করে আরেকবার পড়েন। আপনার অবস্থান জানতে চাচ্ছি।

আপনার অবস্থান যথেস্ট কনফিউজিং। জেরা করলে বলেন- আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য নয় আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, আপনার অবস্থান জানতে চাইলে বলেন- এ গানটিতে বাংলাদেশ শব্দ নেই, যুক্তি দেয়া আরম্ভ করলে- বলেন আমি আসলে আমার বক্তব্য বলিনি, জাস্ট জানার চেস্টা করছি- আপনাকে রাজাকার বললে- গালির বিরুদ্ধে লম্বা লম্বা লেকচার দেন- সমস্ত সুশীলদের নিয়ে বিশাল একটা হইহই রব তুলে ফেলেন!!!!!!!!

৩৩. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
জামাল ভাস্কর বলেছেন: পোস্ট অনেক প্রয়োজনীয় আর সুলিখিত হইছে...
৩৬. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
অন্য পোস্টগুলো মুছে ফেললাম-

ঐ পোস্টের মন্তব্যসমূহ এখানে দিচ্ছি-


ত্রিভুজ বলেছেন:

সেই বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধ নিয়ে আমার কিছু বলার ছিলো... অফিসের কাজের চাপে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না... রাতে দেখা হবে.. তবে ছোট একটা পোস্ট দিয়ে যাচ্ছি.. পড়ে নিবেন... (সবকিছু মিলিয়েই)

৩৭. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
ত্রিভুজ বলেছেন:

উপস... আপনার একটা মন্তব্য পড়লাম এই মাত্র... লিখেছেন-
=============
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সুশান্তের একটি পোস্ট এই মাত্র দেখলাম। চমতকার রেফারেন্স সহ দেখিয়ে দিয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ কোন গড়ের মাঠেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন নি।

সুশান্তকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


ওদের প্রধান অস্ত্রই তো মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির ধোঁয়াজাল।
===============


আপনার জানার দৌড় বুঝতে পেরে আপনার সাথে আর সময় নষ্ট করার ইচ্ছে রইলো না।


ভাল থাকুন :=)
৩৮. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:

একদম ভিনটেজ রামছাগু


অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:

ছাগু এখন বাঙালী আর বাংলাদেশী নিয়া ফেনাবে। সেই পোস্ট বিনোদনের জন্য দারুন হইবে গ্যারান্টিড
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন


লেখক বলেছেন:

অমি ভাই,
ওনার ফেনানোর ইচ্ছা ছিল।
কিন্তু আমার জানার দৌঁড় বুঝে ফেলেছেন উনি।


ফলে, বিনোদন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখছি।
৩৯. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:

"রাগিব বলেছেন :
২০০৭-০৭-১৫ ১৬:০৯:১৯
আমার এক সময়ের পাকিস্তানী রুমমেটকে আমরা বাকি দুই বাঙালি রুমমেট বিশাল সবক দিয়েছিলাম।
তবে, ভারতীয়রা মোটেও কম যায় না এই ক্ষেত্রে। এর মধ্যে ভারতীয় অনেক বাঙালির মনোভাব দেখলে দুঃখ পাই। অর্কুটে পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙালি "দি থিঙ্কিং বেঙ্গালি" নামের গ্রুপ খুলে বাঙালিদের মহামিলনের চাপা শুরু করেছিলেন। আমি সহ দুই এক জন বাংলাদেশী বাঙালি ওখানে যোগ দেয়ার ক দিনের মাথাতেই টের পাই, সারাক্ষণ বাংলাদেশকে গালাগালি চলে। উনাদের মতে, বাংলাদেশী বাঙালিদের মতো অকৃতজ্ঞ আর হয় না, একাত্তুরে "দয়া করে" ভারতীয়রা আমাদের স্বাধীন করেছে, তাই আজও তাদের নমদাস হয়ে থাকাটা আমাদের কর্তব্য। তালপট্টির কথা বলা, বা পানির ভাগ চাওয়া, এরকম মহা আস্পর্ধা আমাদের কেনো? এক জন তো বলেই বসলো, পাকিস্তানীরা ৩০ লাখ বাংলাদেশী বাঙালিকে একাত্তুরে মেরে ভালই করেছে।
এহেন মনোভাবের গ্রুপে বাঙালিদের "মহামিলন" কী হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

রাগিব বলেছেন :
২০০৭-০৭-৩১ ১১:৫৭:৫২
খুব খোলা মনে অর্কুটের এক "বাঙালি" কমিউনিটিতে যোগ দিয়েছিলাম। "দি থিংকিং বেঙ্গালি" নামের এই কমিউনিটি নাকি বাঙালিদের মিলনমেলা।
দুদিনেই শিক্ষা হয়ে গেছে। প্রত্যেকটা থ্রেডের বিষয় একটাই, বাংলাদেশ নাকি পশ্চিমবঙ্গের সকল সমস্যার মূল। অশ্রাব্য সব গালি গালাজ বর্ষিত হতে থাকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের উপরে। মোটের উপরে ৯৯% সদস্যের মতামত একই। বিজেপির মুখপাত্র টাইপের কিছু পত্রিকার বানানো খবর কপচে কপচে এদের আস্ফালন চলে। একজন তো বলেই বসলো, বিএসএফ বাংলাদেশী চাষীদের গুলি করে মারে, বেশ করেছে!!
এদের সাথে কথা বলাও নিরর্থক। আমার অনেক ভাল বন্ধু আছে, যারা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি। উইকিপিডিয়া থেকে শুরু করে অনেক স্থানে সাহায্য করেছে ও করছে। কিন্তু তারা সম্ভবত ব্যতিক্রম। বাকি সব আম জনতা হয়তো জমিদারী আমলের মতো আমাদের এখনো প্রজাই মনে করে চলে। বাঙালিত্ব বিসর্জন দিয়ে ভারতীয় হওয়াটাই এখন তাদের মূল লক্ষ।
এ নিয়ে পরে বিস্তারিত পোস্ট দিবো। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ঐ কমিউনিটিতে গিয়েছিলাম, উলটা পেয়েছি গালাগাল!! হায় হরিদাস... কী বিচিত্র এই দেশ, "রেখেছো (ভারতীয়) বাঙালি করে, মানুষ করোনি"।

রাগিব বলেছেন :
২০০৭-০৭-৩১ ১২:২৭:০৮
মনের কথা ভাই,
"দেশের সম্পর্কে কিছু বললে আপনাদের রাগ হয়।" - না, তা নয়। দেশের বাস্তব অবস্থা নিয়ে কথা বললে, মানবাধিকার সমস্যা নিয়ে রাখ ঢাক করার বা গর্বিত হওয়ার কিছুই নেই। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানও অনস্বীকার্য।
কিন্তু সমস্যাটা হয় তখনই, যখন প্রতি নিয়ত এরকম দাবি শুনতে হয়, ১৯৭১ সালে ভারতের দয়ায় এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৃতীত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসে। এদেশের ৩০ লাখ বাঙালির আত্মদান, মুক্তিবাহিনীর বীর সেনাদের সংগ্রামকে যারা এরকম হেয় করে, তারা পাক হানাদারদের থেকে মোটেও কম নয়।"

নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সাঈদ শেরিফ,
আপনি এই মন্তব্য সমূহ কেন কপি পেস্ট করলেন বুঝলাম না।

তবে এটুকু বলতে পারি- এটা যেমন সত্য যে, ৭১ এ আমরা ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছি- কিন্তু এটাও সত্য যে, ভারতের এ সহযোগিতার পেছনে নানাবিধ উদ্দেশ্যও ছিল- যেটি হলো এশিয়ায় তার আধিপত্য বিস্তার করা। ভারত কিন্তু এখন একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ।

৪০. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
অচেনা বাঙালি বলেছেন:

মূর্খ বেহায়া ছাগলটা কেমনে ভাগলো!

এক লাইন লিখতে ৫ টা বানান ভুল করে সে আসে বাঙালি জাতীয়াতা নিয়া পোস্ট দিতে। হাহ্‌।

পোলাপাইন এত ..পায় তারপরেও লজ্জা নাই।
অসভ্য ইতর কোনহানকার।

৪১. ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
হমপগ্র বলেছেন:
আর, বাংলাদেশকে ধারন করা প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য হলো- এই গানের মত বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের ইমোশনকে ধারণ করতে পারে আর একটি গানও আমি কোনদিন শুনিনি। এমনকি অন্য যেকটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজী অনুবাদ পড়েছি- সেগুলোকেও আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের তুলনায় কিছুই মনে হয়নি- কেননা আমাদেরটি একই সাথে দেশকে ও দেশের প্রতি আবেগকে তুলে ধরে। আর, যদি এই গানটির কথায়-সুরে তা এমন মাটিছোয়া-হৃদয়গ্রাহী না-ও হতো, তারপরেও এই গানটিকেই জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে রাখতে হবে এ কারণে যে, এর সাথে একটি ইতিহাস আছে, তাকে ছাপিয়ে আছে একটি চেতনা- যে চেতনাটি হলো অসাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার বাংলার চেতনা।

আপনি হইলেন গিয়ে গোবরে পদ্মফুল। আপনার এই চমৎকার কথাটা ছাগুগুলান বুঝলে তো ভালই হইতো।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
নাস্তিকের ধর্মকথারে বলি, উলুবনে মুক্তা ছড়ানো। পরাজিতরা সব সময় ৭১এ বিজয়ের সব কিছুরে প‌্রশ্নবিদ্ধ করে নিজেগো পরাজয়ের justify করবার চায়। পরাজয়ের জ্বালা যে কি জ্বালা, কিযে চুলকানি সেইটা আপনারা বুঝবেন না।
৪২. ১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৪
দৈনিক সংগ্রাম বলেছেন:


বস আপনার লেখাটি হেবি হইছে কিন্তু ছাগু গুলারে বুঝেইলে তো বোঝে না।
৪৩. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
ফেলুদা বলেছেন: ক্লোরোফিল ছাগলের মস্তিষ্কে কোনো উন্নতি ঘটায়না, তার পরিপাকে সাহায্য করে মাত্র
৪৪. ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
হমপজদ বলেছেন: ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
ফেলুদা বলেছেন: হারামজাদা সরি হমপজদ ঠিক বলেছে
_____________________________________

হারামজাদা সরি ফেলুদা কেমন আছ?
৪৬. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৪৫
সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: ''-এই গানের মত বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের ইমোশনকে ধারণ করতে পারে আর একটি গানও আমি কোনদিন শুনিনি। এমনকি অন্য যেকটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজী অনুবাদ পড়েছি- সেগুলোকেও আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের তুলনায় কিছুই মনে হয়নি- কেননা আমাদেরটি একই সাথে দেশকে ও দেশের প্রতি আবেগকে তুলে ধরে। আর, যদি এই গানটির কথায়-সুরে তা এমন মাটিছোয়া-হৃদয়গ্রাহী না-ও হতো, তারপরেও এই গানটিকেই জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে রাখতে হবে এ কারণে যে, এর সাথে একটি ইতিহাস আছে, তাকে ছাপিয়ে আছে একটি চেতনা- যে চেতনাটি হলো অসাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার বাংলার চেতনা''-
এর চেয়ে ভালভাবে কিছু বলার পেলামনা। একটি তথ্যভিত্তিক লিখা, অসাধারন লিখা । অনেক ধন্যবাদ আর অভিনন্দন । প্রিয়তে যোগ করে রাখলাম ।
ভাল থাকবেন কিন্তু ।
৪৭. ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৮:৪৫
লাইটহাউজ বলেছেন: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সব বাজে কথা।
আমার ধারনা শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ হিন্দু বলেই তার বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই গানটি যদি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেতেন তখন বাংলাদেশ শব্দটি না থাকলেও কোন কথা উঠত না।

শোকেসে রাখলাম
৪৮. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৫
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: পোস্ট আগেই পড়ছিলাম .. আজ শোকেসে রাখলাম

ধন্যবাদ আপ্নাকে

খাটাখাটুনি করে চমত্কার একটা লেখা উপহার দেয়ার জন্য
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৮

লেখক বলেছেন:
সরি, আমি বুঝতে পারিনি আপনি আগেই পড়েছেন!!!!

৪৯. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
হাসিব বলেছেন: সারুয়ার্রে মিস্করি
৫২. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:১০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: পোস্টটা দারুণ।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের সাথে তুলনা হয়না কিছুরই।
আচ্ছা, সাহিত্যকে সাহিত্যিকের সাথে না মেলালেই কী না ?
এটা কী জরুরি ? একটা মানুষের ভুল হতেই পারে।
ঢাবির বিপক্ষে উনার যাওয়াটা নিয়ে যেই যুক্তি দিয়েছেন, কেমন যেন লাগল। মানে, কোলকাতায় ভার্সিটি ছিল তখন।(আমি যতদূর জানি)।
এখন আমার বাসার সামনে তুরাগ নদী। এখানে সেতু দেয়ার জন্য আমি কী পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করব?আর যদি আমার জানা ভুল হয়, তাও বলি,
আমি কলা খেয়ে খোসা রাস্তায় ফেললে এক রকম, আর উনি ফেললে সেটা অন্যরকম। আঞ্চলিকতা মাওয়া আর পাটুরিয়ার পোলাপানকে মানায়, উনাকে না। উনি করে থাকলে সেটা হয়ত বা তার ভুল ছিল।মানুষের ভুল হতেই পারে।

রবীন্দ্রনাথ একজন অসাধারণ সাহিত্যিক। তার সাহিত্যের উপর কোন কথাই চলেনা।বাংলা ভাষার সাহিত্যে তার অবদান অনেক।আমাদের জাতীয় সিঙ্গীত যে লিখছে,তার খোঁজ করতে গিয়ে যখন দেখি উনি নোবেল পাওয়া,গর্বে ঠিকই বুকটা ফুলে যায়।জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে কোন কনফিউশান নেই। তবে, আমি মন করি, সাহিত্য হল সাহিত্যিকের একেকটা অনুভূতির প্রকাশ। আমি সাই-ফাই ভাল লিখলে প্রমাণ হয় না যে, আমি কলার খোসা রাস্তায় ফেলি নাই। সাহিত্য আর সাহিত্যিক না মিলানোই ভাল।

ভাল থাকবেন।
৫৩. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ৮:৫৬
নাফিস ইফতেখার বলেছেন: এতো যুক্তিবহুল ও ছিদ্রবিহীন পোস্ট আমি আর দেখিনি! চিয়ার্স! আপনার যুক্তি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটা অতুলনীয়। ভালো থাকুন।
৫৪. ১০ ই মে, ২০০৯ সকাল ৭:০৩
ঋভু অনিকেত বলেছেন: ''বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় সঙ্গীতের বিরোধীতা একই সূত্রে গ্রোথিত''

আমি আর একটু যুক্ত করি,
মুক্তিযুদ্ধ,.বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় সঙ্গীতের বিরোধীতা একই সূত্রে গ্রোথিত এবং এ ধরণের বিরোধীতা কারা করেন,মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা কী ছিল জানতে চেস্টা করেন তাহলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে।
৫৫. ১০ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:১৩
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি লিখা-
কৃতজ্ঞতা-http://www.facebook.com/home.php#/note.php?note_id=191960665337

রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা কখনো স্তিমিত হয়নি। বরং সরকারি প্রচারমাধ্যমগুলো রাজনীতি প্রচার ও সংস্কৃতিচর্চায় কোনোরকম ভূমিকা পালন করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। নইলে ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এ গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্ভব হল কী করে? সুস্থ সংস্কৃতিচর্চায় সরকারি রক্তচক্ষু বিঘ্নের সৃষ্টি তো করতে পারেইনি বরং শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের রুখে দাঁড়াবার জন্য প্ররোচিত করেছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে পাশ্চাত্যের ব্যান্ড মিউজিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যায় রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা বেড়েছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। রবীন্দ্রনাথকে বর্জন করা কিংবা ছোট করার অপচেষ্টা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষিত মানুষের সমর্থন পায়নি, এখনও পায় না।

এটা রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিশেষ কোনো অনুরাগ বা ভক্তির নিদর্শন নয়। রবীন্দ্রনাথের গানের প্রধান আবেদন ব্যক্তির কাছে। এই আধুনিক ব্যক্তি যে-সমাজে গড়ে ওঠে, আমাদের দেশে সেই সমাজ এখন নির্মীয়মান। নানা কারণে এ-সমাজে ব্যক্তির বিকাশ স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক হচ্ছে না। এই সমাজগঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র। কিন্তু বিদেশি সাহায্য সংস্থাসমূহের রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ, তাদের পরোক্ষ উস্কানিতে ধর্মান্ধ অপশক্তির উৎপাত প্রভৃতির কারণে রাষ্ট্র যেমন শক্ত হতে পারে না, ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশেও তেমনি পদে পদে বিঘ্ন ঘটে।

রবীন্দ্রচর্চায় মাঝে মাঝে যে বিঘ্নের সৃষ্টি করা হয় তার কারণ কিন্তু তথাকথিত পাকিস্তানি সংস্কৃতি নয়। বরং সাম্রাজ্যবাদপুষ্ট ধর্মান্ধদের উৎপাত। এই উৎপাত কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন এইসব ইতর লোকদের বিরুদ্ধে একটু সংঘবদ্ধ হলেই এরা গর্তে ঢুকে পড়ে।

সিংহভাগ শিক্ষিত মানুষের রাজনৈতিক মতামত যা-ই হোক-না কেন, একটি আধুনিক সমাজের সদস্য হওয়ার জন্য তারা উদগ্রীব। সুতরাং পঙ্গু হোক, রুগ্ণ হোক, ব্যক্তির বিকাশ এখানে কোনো-না-কোনোভাবে ঘটেই চলেছে।

এই ব্যক্তির একান্ত অনুভব সবচেয়ে বেশি সাড়া পায় রবীন্দ্রসংগীতে। তাই এই পঙ্গু বা রুগ্ণ ব্যক্তিটিকে বারবার যেতে হয় তাঁর গানের কাছেই।

রবীন্দ্রনাথ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যে-ব্যক্তিকে তিনি শক্তসমর্থ মানুষ। আমাদের পঙ্গু ব্যক্তি রবীন্দ্রসংগীতে নিজেকে শনাক্ত করতে চায় শক্ত মানুষ হিসেবে। হয়তো এই দেখাটা ভুল কিন্তু এই ভুল দেখতে দেখতেই সে একদিন শক্ত একটি ব্যক্তিতে বিকশিত হতেও তো পারে। তখনই গড়ে ওঠে ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্ববান মানুষ দায়িত্বশীল, সে কেবল নিজেকে নিয়ে মুগ্ধ থাকতে পারে না। তাই তার চারদিকের মানুষের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে ওঠে। রাশিয়ার চিঠিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি রবীন্দ্রনাথের আকর্ষণে কোনো ভ্রান্তি ছিল না। অসাধারণ শক্তিমান মানুষ যে-কোনো জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও মঙ্গল দেখে সন্তুষ্ট হতে বাধ্য।

বাংলাদেশেও ব্যক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গান যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে। এবং শক্তসমর্থ ব্যক্তিগঠনে এই গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রবীন্দ্রনাথের গান মানুষকে বিপ্লবের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে না। কিন্তু শক্তসমর্থ ব্যক্তিগঠনে রবীন্দ্রনাথের গানের ক্ষমতা অসাধারণ। শক্ত মানুষের সমবেত শক্তি মানববিরোধী অচলায়তন ভাঙার অন্যতম প্রেরণা তো বটেই।



বাকি বিষয়গুলো নিয়ে শিঘ্রই আসছি।
৫৬. ১০ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:২৯
সুবিদ্ বলেছেন: গানটির লেখার পেছনে রবি ঠাকুরের মূল চেতনা লক্ষ্য করলে একে আর জাতীয় সঙ্গীত ভাবতে ভাল লাগেনা আমার.........
৫৭. ১০ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৮
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী'র ‌ ‌‌‌বাঙালীর জাতীয়তাবাদ-এর ৬৮ পৃষ্ঠা থেকে


১৯৮৫ তে বি.এ. পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র তের জন, বাইশ বছরে ১৮৮১তে তা পরিণত হয়েছিল এক হাজার সাতশ' বার জনে। এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঢাকায় যখন একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী ওঠে তখন নানা মহল থেকে তার বিরোধীতা করা হয়। ব্যপারটা রবীন্দ্রনাথও লক্ষ্য করেছিলেন। ‌‌"হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়' নাম দিয়ে(১৯১১) তখন তিনি একটা প্রবন্ধ লেখেন, যাতে এই দাবীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‍"আজ আমাদের দেশে মুসলমান স্বতন্ত্র থাকিয়া নিজের উন্নতি সাধনের
চেষ্টা করিতেছে। তাহা আমাদের পক্ষে যতই অপ্রিয় এবং আমাদের যতই অসুবিধা হউক, একদিন পরস্পরের যথার্থ মিলন সাধনের ইহাই প্রকৃত উপায়"। কেননা মুসলমান রয়েছে পিছিয়ে, সে যদি ধনী হয় তবেই না ত্যাগ করতে পারবে, নির্ধনের আবার ত্যাগ কিসের। কিন্তু এ-ও জানেন রবীন্দ্রনাথ, না-জানলে অত বড় হতেন না, যে প্রশ্নটা শুধু ধনী হবার নয়, আরো বড় প্রশ্ন হচ্ছে সমান হবার। বলেছেন-"আধুনিক কালের শিক্ষার প্রতি সময় থাকিতে মনোযোগ না করায় ভারতবর্ষের মুসলমান হিন্দুর চেয়ে অনেক বিষয়ে পিছায়ইয়া রহিয়াছে। সেখানে তাহাকে সমান করিয়া লইতে হবে।" তিনি আশা করেছেন," নিজেদের স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রভৃতি উদযোগ লইয়া মুসলমানরা যে উৎসাহিত হইয়া উঠিয়াছেন তাহার মধ্যে প্রতিযোগীতার ভাব যদি কিছু থাকে তবে তাহা স্থায়ী ও সত্য নহে।''
৫৮. ১০ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: ১। তিনি বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা নিয়েছিলেন।



বদরুদ্দীন উমরের ভারতীয় জাতীয় আন্দোলন-থেকে।

বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী যে আন্দোলন ১৯০৫ সালের প দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে সেটা প্রধাণত মধ্যশ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। এজন্য এই শ্রেণীর ইপরই সরকারের নির্যাতন সবথেকে বেশি হয়। পূর্ব বঙ্গ ও আসামের লেফটেনান্ট গভর্নর ব্যাম্পফিল্ড ফুলার বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে নির্যাতন শুরু করেন এবং সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করেন সাম্প্রদায়িকতা। তিনি ঘোষণা করেন যে তাঁর দুই স্ত্রী হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে মুসলমানই হলেঅ প্রিয়পাত্রী। এই সময় বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনকারীরা বঙ্কিম রচিত 'বন্দে মাতরম' সঙ্গীতকে জাতীয় সঙ্গীতের পর্যায়ে নিয়ে যান ও তার ব্যাপক প্রচার করেন। ফুলার বরিশালে বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কনফারেন্সের অধিবেশনে 'বন্দে মাতরম' সঙ্গীত গীত হলে পুলিশ দ্বিতীয় দিনে লাঠি চার্জ করে সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই পুলিশী নির্যাতন সত্ত্বেও আবদুর রসুলের সভাপতিত্বে বরিশালের এই অধিবেশনে সরকারের সঙ্গে অসহযোগীতা, বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা, বৃটিশ পণ্য বর্জন ইত্যাদি সম্পর্কে কয়েকটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।



এখন যারা রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক প্রমাণ করতে গিয়ে বঙ্কিমকে আড়াল করছেন-তারা আসলে কি করতে চাইছেন। যাই করুন না কেন ইতিহাস বিকৃতি হয়েই তা দেখা দিবে।

আর রবীন্দ্রনাথের ইংরেজ মনস্কতাকে হাজারভাবে খন্ডানো যায়।



@লেখক আপনার যুক্তির ঢং আমার পছন্দের-লিখাটি প্রিয়তে থাকলো।
১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৩৩

লেখক বলেছেন:
বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ নিয়ে কিছু আলোচনা এই পোস্টে ( Click This Link) পাবেন।

১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪২

লেখক বলেছেন:
Click This Link

৬০. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৫০
মে ঘ দূ ত বলেছেন: চমৎকার এই তথ্যবহুল পোষ্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
৬১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:০৬
তনুজা বলেছেন: ভাল কন্ট্রিবিউশন শুভ্র
৬৪. ২২ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬
টোকাই খান বলেছেন: বুঝলাম উনারে আপনি খুব শ্রদ্ধা করেন। সে জন্য উনারে ফেরেস্তার মত দেখবার চান। ভালই............... তয় কথা হইল উনিতো মানুষ...........................তাই কি করতে কি খাইয়া ফালাইছে........উনি তো বুঝাতারেনাইক্কা যে মোরা হেই জাতি যেহানে খাই সেহানে হাগু করি।
৬৫. ১৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:১৯
সোহানা মাহবুব বলেছেন: অনেক অনেক ভাল লাগল।প্রিয়তে।
+++
৬৭. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১
ইরফান আহেমদ বলেছেন: কতো বড়ো খচ্চর বুদ্ধিজীবি হবার চেষ্টা করলে স্বদেশ স্বধর্ম সবকিছুর বিপক্ষে লেখা যায়, এই লেখাটি তাই অনুভব হলো।

হাসিনার পেটিকোটের তলায়ই এ ধরনের বুদ্ধিজীবির স্থান হিসেবে ভালো মানায়।

মাইনাস।
৬৯. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
রাজিয়েল বলেছেন: লাইটহাউজ বলেছেন: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সব বাজে কথা।
আমার ধারনা শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ হিন্দু বলেই তার বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই গানটি যদি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেতেন তখন বাংলাদেশ শব্দটি না থাকলেও কোন কথা উঠত না।

১০০% সহমত। কোনভাবেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের পক্ষে নই। এটার চেয়ে হাজারগুন সুন্দর গান থাকতে পারে। কিন্তু তারপরেও আমার সোনার বাংলা পরিবর্তনের কথা যারা চিন্তা করে তাদের একটু দেখতে ইচ্ছা করে। এইসব লোকজনের কথামত যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুসলমানবিরোধীও হয়, বাংলাদেশ বিরোধীও হয়, গোড়া হিন্দুও হয় (জানি না কই শুনসে এগুলা), ইট ডাস নট ম্যাটার। কিচ্ছু আসে যায় না। আমার সোনার বাংলা যারা পরিবর্তন করবে তারা হবে দেশের নেক্সট মীরজাফর গ্রুপ। আবালের মত এইসব ইস্যু মাথায় আনার মত টাইম কাদের আসে এইটা একটা চিন্তার বিষয়। এরা দেশের জনশক্তির অপচয় করতেসে। এইসব লোকের এই দেশে থাকার কোন দরকার দেখি না।


আরেকটা কথা যারা জানে না তাদের জন্য: সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে যাওয়ার পর রাশিয়া তার জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করসিল ঠিক। কিন্তু কিছুদিন আগে রাশিয়া আবার তার সোভিয়েত আমলের জাতীয় সংগীত ফিয়ার নিয়ে আসছে। শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নের নামটার জায়গায় রাশিয়া নামটা জায়গায় জায়গায় ঢোকানো হইসে। খবর নিয়া দেইখেন।
৭০. ০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩১
কেষ্টব্যাটা বলেছেন: জ্বী, আপনাকে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ব্যাক্তিগত সহকারী বানানোর জন্য চরমভাবে মিনতি করছি.....
যিনি বল্ছেন, ইউনুস না পাই্য়া (হাচ্চুুুু) সরি হাচি..না পাওয়া উচিত ছিল। হা হা হা হা হা হা হা হা হা

 

মোট সময় লেগেছে ২.৯৮৪২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষেরে ঘৃণা করি'/
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'/
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে,/
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই