আমার প্রিয় পোস্ট

"আল্লাহ"র লিঙ্গ কি? (শুধুই ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেস্টা)

১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:২৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

একঃ
[সূচনাঃ এক ইসলামি বৈঠকে বেয়াড়াগোছের এক ব্যক্তির প্রশ্নঃ
: সুরা আল- জ্বিন এর আয়াত : ৩ এ বলা হয়েছে, "And exalted be the Majesty of our Lord, He has taken neither a wife, nor a son (or offspring or children)" অর্থাত "এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার উর্ধে। তিনি কোন পত্নী গ্রহণ করেননি এবং তার কোন সন্তান নেই।" এখন প্রশ্ন হলো, "আল্লাহ কি পুরুষ?" ? আরেকজনের সম্পূরক প্রশ্নঃ কেন 'তিনি কোন স্বামি গ্রহণ করেননি'- এটি উল্লেখ করা হলো না?

অনেকেই উত্তর দেয়ার চেস্টা করেছেন। যেমনঃ

: আল্লাহ পুরুষ নন, আবার নারীও নন- সকল লিঙ্গের ঊর্ধ্বে তিনি; কিন্তু , আমরা ইংরেজীতে তাঁকে লিখতে হলে সর্বনামের স্থানে HIS ব্যাবহার করি কেননা তাকে ক্ষমতাধর এবং শক্তিশালী হিসেবে গণ্য করা হয় আর সকল শক্তিশালী শব্দকেই HIS দ্বারা সম্বোধন করা হয়ে থাকে।

: আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়- কোনো প্রোটোটাইপ পাবেন না; ইংরেজী অনুবাদের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়- কারণ অদ্বৈত কোনো সত্বাকে উনি বা তিনি সম্বোধনে বোঝানো যায়- ইংরেজিতে হিজ বা হার লাগে; আরবিতে সেটা শুধুই আল্লাহ।

: ঐ আয়াতের আগে-পিছের কথা দেখলে অনেক কিছু পরিস্কার হবে, ঐ আয়াতটি আল্লাহর উক্তি নয়, বরং তা জ্বিনদের কথোপকথন। আসলে বাংলায় কোরানের যেসব অনুবাদ সহজলভ্য তার বেশিরভাগই অজস্র ভুলে ভরা।

: 'পত্নী' যেই শব্দটার অনুবাদ, সেটা আরবীতে পুরুষ এবং মহিলা দুজনকেই বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। সত্যি যদি কোরান বুঝতে চান, তাহলে অনুরোধ করব আগে শুদ্ধ এরাবিক ল্যাংগুয়েজ জানুন, তারপর পড়ুন এবং তারপর প্রশ্ন করুন
।]

উপরের উপদেশ মেনে, আরবী ভাষা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করছিলাম। কিন্তু, এতে আরো প্যাঁচের মধ্যে পড়লাম!! আশা করি, আপনারা যারা অনেক পড়েছেন, শুদ্ধ আরবী ভাষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন- তাঁরা হয়তো এই প্যাঁচ কাটাতে পারবেন।

শুদ্ধ অনুবাদ নিয়ে যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, সেহেতু- বাজারে পাওয়া যায় এমন প্রায় ৭/৮ টি অনুবাদ পাশাপাশি দেখলাম, নেটে প্রাপ্ত অনুবাদও দেখলাম; সবকটিতেই পেলাম- তিনি স্ত্রী/পত্নী/সহচরী গ্রহণ করেননি বা He has taken neither a wife.....। বুঝলাম না, ভাবলাম শব্দটি সম্পর্কে একটু অনুসন্ধান চালাই। যে শব্দের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে স্ত্রী/পত্নী- সেটি হচ্ছে আরবী সাহিবাত, তিনটি ডিকশনারি (আরবী-বাংলা, আরবী-ইংরেজী) ঘেটে পেলাম- স্ত্রী, বান্ধবী, কর্ত্রী, ওয়ালী, অধিকারিণী, wife প্রভৃতি স্ত্রীবাচক শব্দ। আরো কনফিউজড হয়ে গেলাম।

ভাবলাম- আরবী ব্যকরণটি দেখি। এ শাখাটি আলোচিত হয়, ইলমুস সরফ বা মিজানুস সরফ ও মুনশায়িব গ্রন্থে। সেটি ঘেটে দেখলাম আরবী ভাষায়- ক্রিয়াটি(ফি'ল) শুধু কালের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা কর্তার পুরুষ(নাম, মধ্যম, ও উত্তম), লিঙ্গ(পুং ও স্ত্রী), বচন(এক, দ্বি ও বহু)- এসবের উপরও নির্ভরশীল। এসব ভেদে ফি'ল এর বিভিন্ন রূপকে বলে সীগা। নামপুরুষ, একবচন পুং লিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। একটি উদাহরণ দেই, অতীত কাল(ফি'লে মাজি), নামপুরুষ, একবচন, পুং লিঙ্গ একটি শব্দ নাসারা (সে (পুং) সাহায্য করলো), স্ত্রীলিঙ্গ হলে হয়ে যাবে, নাসারাত (সে (স্ত্রী) সাহায্য করলো)। অতীত কালে না বোধক বোঝাতে সামনে চলে আসবে মা। মা নাসারা বা মা নাসারাত মানে সে সাহায্য করেনি, যথাক্রমে পুং ও স্ত্রী লিঙ্গ বুঝাবে।

আলোচ্য সুরা আল-জ্বিন সুরা ৩ নং আয়াতের ক্রিয়াটি হচ্ছে, গ্রহণ করেননি। আরবীতে মা'ত্তাখাজা। এটির ক্রিয়া পদটি অতীত কালের একবচন, নাম পুরুষ, পুং লিঙ্গ না-বোধক এর সীগার অনুরূপ। স্ত্রীবাচক সীগাটি হবে, মা'ত্তাখাজাত।

কোরআনের অন্যান্য আয়াতসমূহেও (সব এখনও দেখতে পারিনি) দেখলাম, আল্লাহকে কেন্দ্র করে যত ক্রিয়া আছে - তাতে পুং লিঙ্গ এর সীগা অনুসরণ করা হয়েছে।

ফলে, এ ধারণা হতেই পারে, 'আল্লাহ' শব্দটি আরবী ব্যকরণ মতে পুং লিঙ্গ; যদিও তিনি সুরা ইখলাস অনুসারে এক-অদ্বিতীয়।

দুইঃ

এবারের আলোচনাটি কথোপকথন আকারে উপস্থাপন করছিঃ

আঃ আল্লাহ নিরাকার।এবং তিনি আমাদের মানবিক লিংগ সম্বোধনের উর্ধে।এটা ইসলামের মূল বিশ্বাস। তাই তার নিরাকৃতির এই থিমের উপর আয়াতটির অনুবাদ করলে অর্থ হবে- তিনি কোনো জীবন-সংগী গ্রহন করেননি। অনুবাদ-বিজ্ঞানের মূল লক্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে দুইটি হল-
১-একটা ভাষার আক্ষরিক অনুবাদ করলে সেই ভাষার মূল অর্থ অনেক ক্ষেত্রেই বিকৃত হয়ে যায়।
২-অনেক সময় ভাষার অনেক আনুসঙ্গিক বিষয় তার ভাবার্থে প্রভাব ফেলে।
এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
তারপরও যদি প্রশ্ন থেকে যায় তখন কথা হল-
আল্লাহ তার বার্তা পাঠান মানুষের ভাষায়, যাতে মানুষ বুঝে। তিনি কোনো আসমানী ভাষায় বার্তা পাঠান না। এখন পৃথিবীর সব ভাষাতেই আপনি দুইটা বৈশিষ্ট খুঁজে পাবেন-
১- সামগ্রিকভাবে ছেলেমেয়ে উভয়কে সম্বোধন করার প্রয়োজন হলে পূঃলিংগ ব্যবহার করা হয়।
২- যে কোনো সম্মানিত সম্বোধনের ক্ষেত্রে পূঃলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়। যেভাবে সম্মানিত সম্বোধনের ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহার না করে বহুবচন ব্যবহার করা হয়। (এই নিয়ম মোটেও মেয়েদেরকে নীচু করার জন্যে নয়, যেমনটা গুটিকয়েক নারীবাদী মনে করে থাকেন।)
ভাষার বৈশিষ্ট্ অনুযায়ী তাই সম্মানিত সম্বোধনটাই আল্লাহ'র ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দিয়ে তার লিঙ্গ-পরিচয় তুলে ধরা হয়নি।

নাঃ এখানে আমি শুধু আক্ষরিক অনুবাদগত বিষয়টি তুলে ধরার চেস্টা করেছি, ভাষাগতভাবে আল্লাহ'র লিঙ্গ নির্ধারণের চেস্টা করেছি। কখনও বলিনি- আল্লাহ প্রকৃতই পুরুষ।
সাহিবা (صَاحِبَةً) শব্দটি দ্বারা আরবী ভাষাভাষীরা কি বুঝেন বা কি বুঝতে অভ্যস্ত? এই স্ত্রী বাচক শব্দটি যখন ব্যবহার করা হয়, তখন জীবন-সঙ্গিনীর কথাই মাথায় প্রথম কি আরবী ভাষাভাষীদের আসবে না? হুম, উল্টোদিকে আল্লাহর সম্পর্কে অন্যসব ধারণার কারণে, সেটার শেষ পর্যন্ত যে ভাবধারাটা আসে সেটা হলো,- জীবনসঙ্গিনী বা জীবনসঙ্গী গ্রহণের কোন বিষয়ই তাঁর ক্ষেত্রে ঘটা তাঁর ক্ষেত্রে সম্ভব না- মানে তাঁর দ্বারা বিয়ে-জন্ম-মৃত্যু এধরণের মানবীয় কাজকারবার সম্ভব না। ফলে, এই ভাবটি স্পষ্ট হয়, আপনি ঐ আয়াতের অর্থ 'তিনি স্ত্রী গ্রহণ করেননি' এটা করলেও তা স্পষ্ট হয়- যদি আল্লাহ সম্পর্কে অন্যান্য ধারণা আমাদের জানা থাকে। ফলে- এ ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুবাদে কোন সমস্যা দেখি না।

পৃথিবীর সব ভাষার দুটি বৈশিষ্ট যেটা উল্লেখ করেছেন- সেটি সম্পর্কে প্রথমেই বলতে হয়- পৃথিবীর সব ভাষা সম্পর্কে ঢালাও বলার আগে, জেনে বলা ভালো। বাংলা ও ইংরেজী- আমাদের পরিচিত গণ্ডিতেই একটু দৃষ্টি ফেলে দেখিঃ

বাংলা ভাষায়, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ উভয়ই লিঙ্গ নিরপেক্ষ, আরবী ভাষার বিপরীত। সে, তিনি, আপনি, তারা এসবের সাথে আপনার পরিচয় থাকাটাই স্বাভাবিক। ফলে, উভয়লিঙ্গ বা লিঙ্গহীন বুঝাতে পুং লিঙ্গ ব্যবহার করার রেওয়াজ নেই। আর বিশেষ্যের ক্ষেত্রে, সাধারণ বিশেষ্যের(পুং ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়কে বুঝায়) যেগুলোকে স্ত্রীবাচক করা হয়- সেগুলো ভুল প্রয়োগ। (যেমন, মন্ত্রী বলতে পুং লিঙ বুঝায় না- তা উভয়ই হতে পারে, সমস্যা টা হয়, আমরা মহিলা মন্ত্রী বা নারী মন্ত্রী ব্যবহার করায়, অনেকসময় মনে হয় মন্ত্রী যেন পুং লিঙ্গ!!!)।

ইংরেজীতে ক্রিয়াপদ লিঙ্গ নিরপেক্ষ হলেও, নামপুরুষ একবচন সর্বনাম লিঙ্গ নিরপেক্ষ নয়। তবে উভয় লিঙ্গকে নির্দেশ করে বা কোন লিঙ্গকেই বুঝায় না এমন সর্বনামও কিন্তু আছে (It, প্রভৃতি)। He/She ব্যবহারের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে এই It ব্যবহারই কিন্তু শ্রেয়তর।

পৃথিবীর অনেক ভাষাতেই উভয়লিঙ্গ বা ক্লীবলিঙ্গ প্রকাশের জন্য আলাদা ভঙ্গি বিদ্যমান।

আরবীতে, সেটা অবর্তমান- ফলে, সমস্ত কিছুকেই হয় পুং লিঙ্গ না হয় স্ত্রী লিঙ্গ হতে হয়, নদী-নালা-খাল-বিল এসবের ক্ষেত্রেও তাই। এটা আরবীর ভাষাগত একটা সমস্যা।

আঃ আপনার আলোচনায় কয়েকটি বিষয় এসেছে, সেগুলো সম্পর্কে আমার অভিমত হলোঃ

যখন সম্মানিত কারো ক্ষেত্রে আরবী ভাষা ব্যবহার করা হয় তখন সে ছেলে হোক মেয়ে হোক তার ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করা হয়। হিব্রুতে অবতীর্ণ ইঞ্জিলের অনুবাদের টীকাতেও আমি দেখেছি সেখানেও বিভ্রান্তি না সৃষ্টি হওয়ার জন্যে সেইম এই কথাটাই বলে দেয়া হয়েছে। তাই ভাবার্থ বা আক্ষরিক অর্থ যাই বলুন, যখন আপনি কোরআনের অনুবাদ করবেন, তখন "জীবন সংগী" অনুবাদ করতে হবে। পত্নী অনুবাদ করলে ভুল হবে।
অতএব, দুই জায়গাতেই আমার অবস্থান একই।

আমি আবারো বলছি- সাধারন ক্ষেত্রে যা ব্যবহৃত হয় তা আপনি স্রষ্টার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন না। স্রষ্টা মানুষের সাথে কমিউনিকেটের জন্যে যে ভাষার ব্যবহার করেন সেই ভাষার সম্মানিত সম্বোধনটাই তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তাই সাধারন ক্ষেত্রে "সাহিবা" দ্বারা কী বুঝায় তা নিয়ে আপনি কোরআন অনুবাদ করে প্রশ্ন তুলতে পারেন না।

আপনি বাংলা ভাষায় যেই লিংগ নিরপেক্ষতা দেখিয়েছেন তা চাইল্ডিশ। শুধু তাসলিমা নাসরিনের একটা উদাহরন-ই যথেষ্ট- বাংলাভাষার লিংগবৈষম্যের উর্ধে যাওয়ার প্রচেষ্ঠাতেই সে ছেলেবেলার শব্দের বিপরীতে মেয়েবেলা বানিয়েছে।
আর অমন মন্ত্রী-মার্কা লিংগ নিরপেক্ষ শব্দতো আরবীতেও আছে!! কিন্তু সাহেবা যেমন স্ত্রী-লিংগ, বাংলাতে স্ত্রী/পত্নী-ও তো স্ত্রী-লিংগ!!

আমার ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ জ্ঞান যদি আমাকে ধোকা না দেয় তাহলে বলব- ইংরেজীতে এই it এর ব্যবহারের শুরু আধুনিক। ইংরেজী ভাষা-বিজ্ঞানীরা রেনেসার পর থেকেই এই ভাষাকে লিংগ-বৈষম্যের উর্ধে তোলার নিরন্তন চেষ্টাতেই এই আধুনিকায়নের শুরু। ক্লাসিকাল ইংলিশে সম্মানিত সম্বোধনের ক্ষেত্রে পুংলিংগ-ই ব্যবহার করা হয়েছে।
পৃথিবীতে খুব খুব খুব-ই কম ভাষা আছে যা লিংগ-বৈষম্যের উর্ধে।

আপনি আরবী ভাষার একটি সমস্যা বের করেছেন!! এত বড় বড় ওরিয়েন্টালিস্টরা যারা ইসলামের ছিদ্রান্বেষন করতে গিয়ে বিয়ে পর্যন্ত করার সুযোগ পায়নি,বছরের পর বছর ডিপার্টমেন্টে পড়ে থেকেছে তারাও স্বীকার করেছে সেমেটিক হিব্রু + আরবী হচ্ছে পৃথিবীর বেসিক ল্যাংগুয়েজগুলোর একটা, সেখানে আপনি?? আপনি ভাষা বিজ্ঞান নিয়ে আরো পড়ুন। আমি যতটুকু জানি তাতে এটা বলতে পারি আরবী ভাষা নিয়ে আপনার এই একিউজিশান শুনলে যে কোনো অমুসলিম ওরিয়েন্টালিস্ট প্রফেসর ও আপনাকে তার রুমেই ঢুকতে দিবেনা!

নাঃ আরবী ভাষাভাষীরা সাহিবা শব্দ দিয়ে কি বুঝে? তারা এটিকে স্ত্রীবাচক শব্দ হিসাবেই চেনে। আরবী ভাষায় সাধারণ অর্থে সাহিবা মানে স্ত্রী বা পত্নী বুঝলেও 'আল্লাহ সাহিবা গ্রহণ করেনি'- এটা বলার পরও আল্লাহকে পুরুষ মনে হয়নি- সেটা আল্লাহকে কেন্দ্র করে জ্ঞানের জন্যই। ফলে বাংলা অনুবাদেও যদি আক্ষরিক অনুবাদ করা হয় - তবে 'আল্লাহ কোন পত্নী গ্রহণ করেননি', বললেও বেশিরভাগেরই মাথাতে আল্লাহ পুং লিঙ্গ কিনা এ প্রশ্ন আসেনা কেননা- আল্লাহ সংক্রান্ত সাধারণ ধারণা। আমি এই আলোচানার উদ্দেশ্যে - ওভাবে শুরু করেছিলাম দুই নম্বর পয়েন্ট। আমি মনে হয়, আপনাকে বুঝাতে পারিনি।
এ প্রসঙ্গে আরেকটু বলি- ধরেন, যদি আয়াতটি এমন হতো- আল্লাহ কোন স্বামি গ্রহণ করেননি- তারপরো আল্লাহ সংক্রান্ত সাধারণ ধারণার জন্য ভাবানুবাদ আমরা ঐ কমন জেন্ডারই বুঝতাম!!

ভাষা নিয়ে আরেকটু লিখতে হচ্ছে এ কারণে যে, মনে হচ্ছে যে আপনি আমার পয়েন্ট ধরতে পারেননি। সম্ভবত "সেমেটিক হিব্রু + আরবী হচ্ছে পৃথিবীর বেসিক ল্যাংগুয়েজগুলোর একটা" বা আরবী ভাষার মত অসাধারণ ও দুর্দান্ত ও ত্রুটিহীন ভাষা দুনিয়ায় একটাও নেই এধরণের ধারণা আপনার মধ্যে অন্ধভাবে শিকড় গেড়েছে। অন্ধভাবে বলছি এ কারণে যে, আপনি সিদ্ধান্ত আকারে জানাচ্ছেন- কেন এই ভাষার মধ্যে সমস্যা নেই, কেন ও কোন জায়গা থেকে বেসিক ল্যাংগুয়েজগুলোর একটি- সে আলোচনা করেননি এবং আমার দেয়া সমস্যাটিকে খন্ডন করেননি। যাহোক- আমার পয়েন্ট আরেকটু ব্যাখ্যা করি।- দেখি পরিস্কার করতে পারি কিনা।

প্রথমে পদ নিয়ে বলি। বিশেষ্য, বিশেষ্যের রিপ্লেসমেন্ট সর্বনাম, গুন/পরিমাণ প্রভৃতি বাচক বিশেষণ ও বাক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্রিয়া। এর পর লিঙ্গ ও বচন। লিঙ্গ হচ্ছে - পুং লিঙ্গ, স্ত্রি লিঙ্গ, উভয়লিঙ্গ ও ক্লীব লিঙ্গ। বচন- একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন। পুরুষ হলো পুং লিঙ্গ, মহিলা স্ত্রী লিঙ্গ, মানুষ পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই নির্দেশ করে। বাংলা ভাষায় লিঙ্গভেদ প্রধানত বিশেষ্য পদে (কিছু বিশেষণেও)। পুং লিঙ্গের উদাহরণ- ছেলে, বালক, বাবা, ভাই; অন্যদিকে স্ত্রী লিঙ্গের উদাহরণ- মেয়ে, বালিকা, মা, বোন। উভয়লিঙ্গ- মানুষ, শিল্পী, মন্ত্রী, আমলা প্রভৃতি, ক্লীবলিঙ্গ- বই, খাতা, পাহাড়, পর্বত, বাতাস প্রভৃতি।
বাংলার সর্বনাম (আমি, তুমি, সে, তিনি, তারা প্রভৃতি)- সাধারণভাবে লি্ঙ্গ-নিরপেক্ষ বা উভলিঙ্গ; ক্রিয়াপদও তাই।
ইংরেজী ভাষাও বাংলা ভাষার মতোই- ক্রিয়াপদ লিঙ্গ নিরপেক্ষ, তবে সর্বনামের ক্ষেত্রে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারের (He/She) ক্ষেত্রে তা লিঙ্গ নিরপেক্ষ না। যদিও এক্ষেত্রে It আছে, তথাপি তা সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার করাও যায়না। এটাকে একটা দূর্বলতা বলেই মনে হয়। কেননা The wind is blowing, it charms us.-এখানে It ব্যবহার করা গেলেও The student goes to school regularly, he/she passes well. এখানে It ব্যব হার করা যাচ্ছেনা এবং he অথবা she এর একটি ব্যবহার করতেই হচ্ছে। বাংলায় এই ক্লীবলিঙ্গ বা উভলিঙ্গ কর্তার জন্য সর্বনামে বা ক্রিয়ায় কোন সমস্যায় পড়তে হয়না। সে, তিনি এটি পুং/ স্ত্রী/ উভ/ক্লীব সবক্ষেত্রেই একই। যেমন ইংরেজীতে তার্ড পারসন প্লুরালে They।
তবে, ইংরেজী ভাষার এই সমস্যা অত প্রকট নয়, কেননা- তা শুধু থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার প্রোনাউন বাক্যের সাবজেক্ট হলে- সেই সাবজেক্ট টির লিঙ্গ ডিফাইন করতে হচ্ছেই। কিন্তু এটা পরিহার করা যায়- প্রোনাউন ব্যবহার না করে প্রতিক্ষেত্রেই নাউন ব্যবহার করলে। কিন্তু, উভলিঙ্গ বা ক্লীবলিঙ্গ নাউন সাবজেক্টে আসলে বাক্যের কোন স্থানে লিঙ্গ নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে না। কি বাংলায় কি ইংরেজীতে; যেমন- বাতাস বহিতেছে, The wind is blowing। আল্লাহ আদেশ করেন, Allah orders প্রভৃতি।

কিন্তু আরবী ভাষায়- ক্রিয়া পদটি শুধু কাল ও পুরুষের(নাম, মধ্যম, উত্তম) উপর নয়, তা লিঙ্গ ও বচনের উপরও নির্ভরশীল। কিন্তু, লিঙ্গ শুধু দুটি- পুং ও স্ত্রী লিঙ্গ। উত্তম পুরুষ ছাড়া, বাকি সব পুরুষেই- সব বিশেষ্য-সর্বনাম সাবজেক্ট হলেই তার ক্রিয়া, সাবজেক্টের লিঙ্গ অনুযায়ি পরিবর্তিত হয়।

ক্লীবলিঙ্গ বা উভলিঙ্গ বা লিঙ্গহীন সাবজেক্টের জন্য এ ধরণের কোন ক্রিয়ার রূপ বা সিগা নাথাকায় এই সমস্যা হয়েছে। ফলে, বাতাস বহিতেছে - একে আরবী করতে গেলেও বাতাসকে হয় পুরুষ হতে হয় নতুবা মেয়ে হতে হয়। এমনকি তুমি-কেও পুং বা স্ত্রী হতেই হয়। এটাকেই আমি ভাষাগত সমস্যা বলেছিলাম। কেননা- ভাষা সেক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ভাবটি প্রকাশ করতে পারছে না (ভাষার প্রধান কাজ যেহেতু ভাব প্রকাশ, সেটি প্রকাশে সীমাবদ্ধতা একটি সমস্যা বলেই গণ্য হওয়া উচিত)।

এটি ভাষাগত সমস্যাই। কিন্তু আপনি যে জানালেন, পৃথিবীর সকল ভাষায় সম্মানার্থে পুং লিঙ্গ ব্যবহার করা হয়- এখানে সেরকম কোন ব্যাপার ঘটেনি। কেননা, জ্বিন বললেও পুং লিঙ্গের ফর্মটি ব্যবহার করা হয়েছে কোরআনে; আর চরম ঘৃণার পাত্র, ইবলিস শয়তানকেও পুং লিঙ্গের ক্রিয়া ধারণ করতে হয়েছে।

আরেকটি বিষয়ে দুটি কথা বলি।
ছেলে একটি পুরুষ বাচক শব্দ। এখন কোন স্ত্রীবাচক শব্দকে যদি একটি ভাব প্রকাশে এই পুরুষ বাচক শব্দ গ্রহণ ছাড়া কোন উপায় থাকে না- তখন সেটিও ভাষার সীমাবদ্ধতাই বলতে হবে। এর সাথে লিঙ্গ বৈষম্যের সম্পর্ক বিদ্যমান। একজন পুরুষ যেমন বলতে পারেন ছেলেবেলা, তেমনি একজন মহিলা যদি বলতে পারেন মেয়েবেলা বা এ ধরণের কোন শব্দ, তেমনি একজন মানুষ(উভলিঙ্গ বা লিঙ্গ অপ্রকাশিত) বলতে পারেন ছেলে/মেয়ের কমন রূপ + বেলা - তাহলেই ভাষাটিকে বলা যাবে এক্ষেত্রে সমস্ত ভাব প্রকাশে সমর্থ। এখন এই 'ছেলে/মেয়ের কমন রূপ + বেলা' কিন্তু একজন পুরুষ বা একজন মহিলাও ব্যবহার করতে পারবেন- ফলে তাদের জন্য ছেলেবেলা বা মেয়েবেলা টাইপের শব্দদুটি না থাকলেও চলে, এভাবে শব্দ হয়ে ওঠে লিঙ্গ-বৈষম্যহীন, যেমন শৈশব- রহিমের শৈশব মানে এমনিতেই বুঝা যায় পুরুষের শৈশব, মর্জিনার শৈশব মানে বুঝা যায় একজন নারীর শৈশব, মানুষটির শৈশব বলতে বুঝা যায়- কোন একজনের শৈশব। এটাই হলো ভাষার স্মার্ট প্রকাশ ভঙ্গি।


আঃ আরবী ভাষার verb নিয়ে আপনি যে মত প্রকাশ করেছেন তাতে আমার দ্বিমত আছে। যেমনঃ شمس (সূর্য) শব্দটা যেভাবে পূঃলিংগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ঠিক একইভাবে স্ত্রীলিংগ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে নির্ভর করে বাক্য বিন্যাসের উপর। যেমন দু’টি বাক্য দেখুন,
طلع الشمس
طلعت الشمس
এখানে পূঃলিংগ/স্ত্রী লিঙ্গ উভয়টাই ব্যবহার করতে পারেন।

আবার দেখুন,
قام الرجال
قامت الرجال
এখানে رجال (পুরুষগন) শব্দটা পুঃলিঙ্গ হওয়ার পরও verb- قام/ قامت পুঃলিংগ বা স্ত্রীলিংগ দু’টোই ব্যবহৃত হয়।
এখন আপনি বলতে পারেন- verb টাকে কোনো না কোনো লিংগ দিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটা আপনার কাছে সীমাবদ্ধতা, কিন্তু এটাই হচ্ছে অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য। কারন আরবীতে একটা verb কে আপনি ১৪ টা form এ রুপান্তর করতে পারছেন।১৪ টা ১৪ অর্থ প্রদানকারী form. যার ফলে form clarification এর জন্যেই লিঙ্গ ব্যবহার দরকার হয়ে পড়ে। এবং এটা ভাষার ভাব প্রকাশে মোটেও বাধা নয়, বরং ভাষাকে সমৃদ্ধ করছে।

ভাষায় লিংগ ব্যবহার আপনার কাছে দোষনীয়। মূলত রেনেসা সময়কার একটা চেতনাই ছিল লিংগবিভেদ কে তুলে দেয়া। এখানে আপনার সাথে যা রেনেসার এই স্পেসিফিক চেতনাটাকে সাপোর্ট করে তার সাথে আমার মত পার্থক্য রয়েছে। লিংগ সমান হয়না, লিংগের ক্ষেত্র এবং অধিকারে ভারসাম্য এনে সমানুপাতিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। এবং তাই ভাষায় লিংগের ব্যবহার আমার কাছে সীমাবদ্ধতা নয়, এটাই ভাষার প্রকৃতি।

নাঃ "আরবী ভাষার verb নিয়ে আপনি যে মত প্রকাশ করেছেন তাতে আমার দ্বিমত আছে।"- এটা বলে আলোচনা শুরু করার পর যে বক্তব্য উপস্থাপন করলেন তাতে কোন দ্বিমত খুঁজে পেলাম না। আমার বক্তব্যটিই আপনি আরেকটি উদাহরণ দিয়ে দিলেন। আমি আরবী হরফে আলোচনা করিনি- আর আপনি আরবী হরফেই দিয়েছেন; এই যা পার্থক্য।
আপনার কি মনে হয়না - সূর্যকে একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গ(পুং বা স্ত্রী) হতে হওয়া একটা সীমাবদ্ধতা?

আপনি লিঙ্গ বৈষম্য তুলে দেয়া সংক্রান্ত যে আলোচনা করেছেন- সেটা আমি অফ দ্যা টপিক হিসাবে আলোচনা করেছি ঠিকই, কিন্তু আরবী ভাষার সমস্যা হিসাবে সেটাকে কি কখনও ইন্ডিকেট করেছি?

আমি সমস্যা হিসাবে যেটা বলেছি- সেটা হলো, একটা ভাষার কাজ হলো ভাবের আদান-প্রদান, আর যে ভাষা কোন ভাবকে অবিকল ব্যক্ত করতে না পারলে সেটাকে সে ভাষার সীমাবদ্ধতা বলা হয়। সেক্ষেত্রে আরবী ভাষা ক্লীব লিঙ্গ(সূর্য, বাতাস, বই, খাতা) বা উভয়লিঙ্গকে অবিকল কি প্রকাশ করতে পারছে??? পারছে না, কারণ- সেখানে সে প্রকাশরীতি নেই।

আমি কিন্তু একবারো বলিনি- এটা আরবীর লিঙ্গ-বৈষম্যহীন না হওয়ার সমস্যা (আপনি বলেছেন, "ভাষায় লিংগ ব্যবহার আপনার কাছে দোষনীয়")। বলেছি- আরবী ব্যকরণে যে ১৪ টি সীগা রয়েছে- তা লিঙ্গের ক্ষেত্রে শুধু দুটি প্রকারভেদ (পুং ও স্ত্রী লিঙ্গ) নেয়- অন্য কিছু (ক্লীব বা উভয়লিঙ্গ) নেয়না। ফলে- চাঁদ, সূর্য, মাটি, হাওয়া, আল্লাহ, শয়তান সবই হয় পুং লিঙ্গ না হয় স্ত্রী লিঙ্গ হতে হয়। ফলে- এই সীমাবদ্ধতার কারণে, শুধু ভাষা দিয়ে সেটা বোঝা যায়না, বুঝতে হয়, আলাদা কমনসেন্স দিয়ে। সূর্যকে বাক্যে ব্যবহারে পুং লিঙ্গ(ইচ্ছানুযায়ি) করলেও সূর্য সম্পর্কে আলাদা কমনসেন্স দিয়ে বুঝতে হয়- এটা পুরুষ/স্ত্রী কোনটাই নয়, বইকে বাক্যে ব্যবহারে স্ত্রী লিঙ্গ(ইচ্ছানুযায়ি) করলেও বই সম্পর্কে আলাদা কমনসেন্স দিয়ে বুঝতে হয়- এটা পুরুষ/স্ত্রী কোনটাই নয়; তেমনি- আল্লাহ কে বাক্যে ব্যবহারে পুং লিঙ্গ(ইচ্ছার সুযোগ নেই, বাধ্য- করতেই হবে, কিন্তু কেন?) করলেও আল্লাহ সম্পর্কে আলাদা কমনসেন্স দিয়ে বুঝতে হয়- তিনি পুরুষ/স্ত্রী কোনটাই নন। এটাকেই বলছি সীমাবদ্ধতা।

আপনি এটা বলছেন- "verb টাকে কোনো না কোনো লিংগ দিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। এটা আপনার কাছে সীমাবদ্ধতা"- দেখুন আমি verbটাকে কোন না কোন লিঙ্গ দিয়ে ব্যবহার করাকে সীমাবদ্ধতা বলিনি কোথাও।

"কারন আরবীতে একটা verb কে আপনি ১৪ টা form এ রুপান্তর করতে পারছেন। ১৪ টা ১৪ অর্থ প্রদানকারী form. যার ফলে form clarification এর জন্যেই লিঙ্গ ব্যবহার দরকার হয়ে পড়ে। এবং এটা ভাষার ভাব প্রকাশে মোটেও বাধা নয়, বরং ভাষাকে সমৃদ্ধ করছে।"- এই ১৪ টা form বা সীগা থাকলেই ভাষা সমৃদ্ধ হয়ে গেল কিভাবে? প্রতিটি ভাষারই প্রকাশের ভঙ্গি থাকে। সেখানে ক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরবীর ১৪ টি সীগা কিন্তু এমন-
১। নামপুরুষ-পুং লিঙ্গে ৩টি বচনে(এক, দ্বি, বহু), ৩টি সীগা,
২। নামপুরুষ-স্ত্রী লিঙ্গে ৩টি বচনে(এক, দ্বি, বহু), ৩টি সীগা,
৩। মধ্যমপুরুষ-পুং লিঙ্গে ৩টি বচনে(এক, দ্বি, বহু), ৩টি সীগা,
৪। মধ্যমপুরুষ-স্ত্রী লিঙ্গে ৩টি বচনে(এক, দ্বি, বহু), ৩টি সীগা,
৫। উত্তম পুরুষে ২টি বচনে (এক ও দ্বি/বহু) ২টি=> সর্বমোট ১৪। কাল গণনায় নিলে, মাজি(অতীত) ও মুজারে(বর্তমান/ভবিষ্যত)- ২৮টি রূপ।
আপনি ইংরেজী বা বাংলা ব্যকরণেও ক্রিয়ার রূপ পাবেন। এখানেও 1st person, 2nd person ও 3rd person আছে, মানে person অনুযায়ি verb এর বিভিন্ন রূপ আছে, বচনের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের সাথে verb সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, আছে singular number ও plural number; মূলত verb নির্ভরশীল কাল বা Tense এবং subject এর person ও number এর উপর, আরবী ভাষার সাথে মূল পার্থক্য হচ্ছে- এখানে লিঙ্গের সাথে verb কোন সংশ্লিষ্টতা নেই- subject ই লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু আরবীতে subject ও verb উভয়ই লিঙ্গ পরিচায়ক। অবশ্য আরবীতে, সর্বনাম subject ক্রিয়ার মধ্যেই থাকে। যেমন নাসারা- মানে, সে সাহায্য করলো। কিন্তু সাবজেক্ট noun হলে ক্রিয়ার সাথে সাথে তাকেও আলাদাভাবে থাকতে হয়। এখন সমস্যাটি দেখেন। আরবীতে verb এর লিঙ্গ শুধু দুটি, পুং ও স্ত্রী; কিন্তু noun subject এর লিঙ্গ কিন্তু শুধু দুটিনা!!!! এই noun subject আল্লাহ, শয়তান, সূর্য, বাতাস সবকিছুই হতে পারে; কিন্তু verb হবে শুধু দুটি- হয় পুং না হয় স্ত্রীলিঙ্গ।

বুঝুন কি ফ্যাসাদ!!!!!!!!!!!!

কৈফিয়াতঃ
১। সূচনা অংশটুকু বাউণ্ডুলের পোস্ট থেকে ও পোস্টের মন্তব্য থেকে সংগৃহীত।
২। এক নং পরিচ্ছেদটি একটি স্বতন্ত্র পোস্ট হিসাবে এখানে প্রকাশ করেছিলাম।
৩। আমার পোস্টকে কেন্দ্র করে- ফারজানা১৬ একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই পোস্টের তার সাথে আমার যে বিতর্ক হয়েছিল- সেটির মূল অংশ এখানে দুই নং পরিচ্ছেদে তুলে ধরেছি।
৪। সুতরাং পুরো পোস্টই বলতে গেলে রিপোস্ট, এবং আগে যারা পড়েছিলেন এবং আবার পড়তে গিয়ে বিরক্ত হয়েছেন- তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
৫। বর্তমান রূপে এই পোস্ট সচলায়তন ও মুক্তমনাতেও পাওয়া যাবে।

 

 

  • ৪২ টি মন্তব্য
  • ৭১৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৫
comment by: কৌশিক বলেছেন: আবারও পড়লাম।
২. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৯
comment by: ক্যাচাল বলেছেন: গুড পোস্ট।
৩. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: মুক্তমনায় পড়ছিলাম এইরম একটা। সেইটার লেখক কি আপনে ?
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন:
মাঝখানে সা.ইন থেকে বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছিলাম- তখন ভেবেছিলাম এই ব্লগে আর কখনও ফিরবো না- তাই অন্য প্লাটফর্ম খুজছিলাম, আর, এখানকার পোস্টগুলোও যেহেতু ড্রাফট করে ও মুছে ফেলেছিলাম- সেহেতু সে লেখা গুলো- সচলায়তনে ও মুক্তমনাতে প্রকাশ করেছিলাম.......


আপনাকে ধন্যবাদ।

৪. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৩
comment by: মদন বলেছেন: অর্ধেক পর্যন্ত টানা পড়ে পরে শেষে চরে এসেছি। আবার পড়তে হবে।
প্রিয়তে এড করে রাখলাম।
প্রতিটি যুক্তি পছন্দ হয়েছে।
৫. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৫
comment by: মানুষ বলেছেন: বর্তমান দুনিয়ায় সমকামীগো বিবাহ চালু হইছে। কে যে কার স্ত্রী আল্লাহ জানে।
৬. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:
মানুষ তুমি কিচু জানোনা, গে কাপলদের একজন একটিব একজন প‌্যাসিব হয়
৭. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
comment by: মানুষ বলেছেন: এইটা কি রুটিন মাফিক চেঞ্জ হয় নাকি সব সময় কনস্ট্যান্ট থাকে @ গন্ডু
৮. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:
নাস্তিক ধর্ম ভাই আমারে মাইর দিবো তার পুস্টে এসব কতা কোয়ার জন্য, অন্য পুস্টে কমুনে
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩

লেখক বলেছেন:
আপনারে মানুষ ডাকলো গণ্ডু (সম্ভবত গণ্ডার/হাসান)- আর এখন আপনার এই মন্তব্যে মনে হলো- আপনি মাথামোটা!!!!!!!!!

আসলেই কি???????

তবে- আপনার আলোচনা চালাতে পারেন- কেননা, সেটিকে ঢেকে রাখার কোন মানে খুঁজে পাইনা।

৯. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮
comment by: আসিফুল ইসলাম বলেছেন: আপনি মনে হয় "আরজ আলী মাতব্বর" সমগ্র পড়েছেন।
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন:
হুম, আমি আরজ আলী মাতুব্বর পড়েছি..........


তবে- নাস্তিকতার বড় পাঠ কিন্তু আমি পেয়েছি- কোরআন- হাদীস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়েই পেয়েছি। (আমি এককালে পাড়ার মসজিদের আযান দেয়ার কাজও করেছি- কিছু হুজুরের সাথে আমার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যার দরুন মাদ্রাসার লাইব্রেরির অনেক বই পড়ার সুযোগও পেয়েছিলাম)। মোটামুটি ভাবে আমার নাস্তিকতার পাঠ বললে বলতে হবে- একসাথে বিজ্ঞান ও ধর্ম উভয় বিষয়ের প্রতি মারাত্মক আগ্রহ তৈরি হওয়া...... এবং মাথার ভিতরে কোন প্রশ্নকেই অগ্রাহ্য না করা.......

আপনাকে ধন্যবাদ.....

১০. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ভাই,
মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে, তবে সেই স্বাধীনতা অন্যের স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন না করেই।
মুক্তমনায় পড়েছি সেলেখাগুলো। মুক্তমনার অনেক কিছুর সাথে একমত না হলেও সেগুলো পড়েছি ও পড়ি। ধর্মে প্রশ্ন না থাকলে সে ধর্মের গতিপথ রুদ্ধ হয়ে অন্ধকার জগতে চলে যায়। আপনার লেখাগুলো পড়ি তবে কমেন্ট করি না এসব বিষয়ে কম পড়াশোনার জন্য ও গ্যানের অভাবের জন্য।
লেখা চালাতে থাকেন, পড়বো ও পড়ি।
শুভকামনা।
১১. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
comment by: আমিই স্রোত বলেছেন:
যা ফোট
মাইনাস
১২. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: কৌশিক বলেছেন: নাস্তিকতার বড় পাঠ কিন্তু আমি পেয়েছি- কোরআন- হাদীস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়েই।
১৩. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮
comment by: উৎসুক বলেছেন: স্ব ঘোষিত নাস্তিকের কাছ থেকে এমন রচনা'ই বাঞ্ছনিয়।




- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৭

লেখক বলেছেন:
তা তো বটেই-

১৪. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৬
comment by: নাবিক বলেছেন: "হাতি ঘোড়া গেল তল, ব্যঙে কয় কত জল?"

অনেক খেটে লিখাটা লিখেছেন বুঝা যাইতাছে।

বিদ্যার দৌড়টাও আপনার ভালো বুঝা গেল।

"আমি এককালে পাড়ার মসজিদের আযান দেয়ার কাজও করেছি- কিছু হুজুরের সাথে আমার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যার দরুন মাদ্রাসার লাইব্রেরির অনেক বই পড়ার সুযোগও পেয়েছিলাম।"

যাউকগ্যা, আমি অত পড়া শুনা করা মানুষ না। তবে দুইখান কথা আছে,

১। ভালোইতো কুরআনের ভুল ধরতে পারেন দেহি। তয় কুরআন যে একটা চ্যালেন্জ দিল যে এর মতো একটা আয়াত বানায়া নিয়ে আসো। ১৫০০ বছর চইলা গেল, বাঘা বাঘা আরবী সাহিত্যিকরা কুরআনের আয়াতের মতো একটা আয়াত বানাইতে পারলোনা। আপনি এবার বানাইয়া ফেলেন একটা আয়াত। চ্যালেন্জটা নিয়ে ফেলেন। কি বলেন?

২। আমি আরেকটা জিনিস একদম ক্লিয়ার না । সুরা ইখলাস পড়ে দেখলাম। আল্লাহ সম্পর্কে চারটা কথা বলা হয়েছে। এখানে কিন্তু জ্বীনরা বলছেনা। আল্লাহ মুহাম্মদ (সঃ)কে বলছেন, মানুষের কাছে আল্লাহ কে, কেমন তা চারটি বাক্যে বলতে। এ চারটা বাক্য আলোচনা করে বলুনতো আল্লাহ কি পুরুষ না নারী?


প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, "বলুন আল্লাহ এক ও একক। তাঁর কোন দ্বিতীয় নাই।"

প্রশ্ন হলো, যাঁর কোন দ্বিতীয় নাই, তিনি আমি-আপনার মতো পুরুষ বা নারী হতে যাবেন কেন? বুঝিয়ে দেবেন প্লীজ?

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে," তিনি ( আল্লাহ ) হলেন সমাদ। সমাদ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, যার অনুবাদ বাংলায় করা খুব সহজ নয়। সহজে সমাদ মানে হলো, আল্লাহ কারো উপর নির্ভরশীল নন, সবাই তাঁর উপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন হলো, সকল নির্ভরশীলতা মুক্ত আল্লাহ কোন একটি লিংগের উপর নির্ভরশীল, এ ধারণা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এ পোস্টে তাই করার চেস্টা করা হয়েছে। আর উপরের নোংরা মন্তব্য গুলোর কথা বাদই দিলাম।


তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, "তাঁর কোন সন্তান নাই আর তিনি কারো সন্তান নন।"

আরবের লোকেরা মনে করতো আল্লাহ স্বয়ং কারো সন্তান এবং ফেরেশতারা তাঁর কন্যা। আর আল্লাহর পুত্র সন্তানও রয়েছে। এ ব্যাপারে সুরা আনআমের ১০০ ও ১০১ নং আয়াত দেখুন।

"আর লোকেরা জীনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়েছে। অথচ তিনি তাদের স্রস্টা। আর তারা না জেনে-বুঝে তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তারা যে সমস্ত কথা বলে তা থেকে তিনি মুক্ত এবং তার উর্ধে তিনি অবস্থান করছেন। তিনি তো আকাশ সমূহ ও পৃথিবীর নির্মাতা। তাঁর পুত্র কেমন করে হতে পারে যখন তাঁর কোন সংগীনি নেই? তিনি প্রত্যেকটি জিনিস সৃস্টি করেছেন"

লক্ষ্য করলে দেখবেন, সুরা ইখলাসে আল্লাহ নিজ থেকে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। যেখানে স্পস্ট করে বলা হয়েছে, কারো পু্ত্র বা কন্যা সন্তান হওয়া এবং একই সাথে সন্তানের পিতা কিংবা মাতা হওয়া থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র, মুক্ত। তিনি পুরুষ কিংবা নারী নন। তিনি লিংগ সম্পর্কিত আমাদের প্রচলিত ধারণের অনেক উর্ধে।

উপরোক্ত সুস্পস্ট ঘোষণার পরেও যখন মানুষ তাঁকে পিতা হিসেবে সাব্যস্ত করে তার জন্য পুত্র ও কন্যা বানিয়ে নিল। তখন তার জবাবে বলা হয়েছে, আর তারা না জেনে-বুঝে তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা বানিয়ে নিয়েছে। তাঁর পুত্র কেমন করে হতে পারে যখন তাঁর কোন সংগীনি নেই?

এ সম্পর্কিত প্রাসংগিক আয়াত গুলো হলো, নিসা- ১৭১, সাফফাত-১৫১-১৫২, ১৫৮ যুখরুফ-১৫, আম্বিয়া-২৬, ইউনুস-৬৮, বানী-ইসরাঈল-১১১, মুমীনূন-৯১।

চতুর্থ ও শেষ আয়াতে বলা হয়েছে, " তাঁর সমকক্ষ, তাঁর সাথে তুলনীয় কেউ নেই, তিনি অতুলনীয়"।

আপনি যখন তাঁকে পুরুষ বানানোর চেস্টা করছেন তখন প্রকারান্তরে আপনি তাঁকে আমাদের সাথে তুলনার চেষ্টা করছেন।
অথচ তিনি নিজে বলছেন তিনি সকল তুলনার উর্ধে।


সুরা ইখলাসের এ চারটি আয়াত আল্লাহ সম্পর্কে বেসিক ধারণা পাওয়ার জন্য যথেস্ট। আশা করি যারা "না জেনে-বুঝে তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা বানিয়ে নিয়েছে" তাঁদের মত আল্লাহকে পুরুষ বা নারী বানানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত হবেন।








১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩

লেখক বলেছেন:
নাবিক,

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ- আপনার আলোচনার জন্য। আমার বক্তব্য নিম্নরূপঃ

১। আমি কোরআনের ভুল ধরেছি বলে তো মনে হয়নি- আমার পোস্টে। আশা করি আপনি আরেকবার পড়ে দেখতে পারেন- যদিও আমি একে অভ্রান্ত মনে করি না। আমি আমার পুরো পোস্টে যেটি বলতে চেয়েছি- সেটি হলো আরবী ভাষারই প্রকাশভঙ্গীর একটি সীমাবদ্ধতার কথা। ফলে, ভুল ধরার কথা যদি বলেন- তবে সেটা বলতে হয় ভাষাগত ভুলের কথা আমি বলেছি।

এরপরে, আপনি যে যুক্তি করলেন- সেটি আমার কাছে অন্ধতাপ্রসূত মনে হয়েছে। কোরআনের চ্যালেঞ্জ বিষয়টিই হাস্যকর। "১৫০০ বছর চইলা গেল, বাঘা বাঘা আরবী সাহিত্যিকরা কুরআনের আয়াতের মতো একটা আয়াত বানাইতে পারলোনা। আপনি এবার বানাইয়া ফেলেন একটা আয়াত। চ্যালেন্জটা নিয়ে ফেলেন। কি বলেন?" আরেকটি আয়াত বানাতে বলা মানে কি? ধরেন- আমাদের মেঘনাদ বধ কাব্য- দেখে যদি কেউ বলে এই কাব্যের কোন লাইনের মত আরেকটি লাইন লেখুন তো, সেটি কেমন হবে? হ্যাঁ যেটা লেখা যাবে- লেখেছেও অনেকে- সেটা হলো আরেকটি নতুন মহাকাব্য, সনেটও লেখতে পারে, কিন্তু সেই কাব্য বা সনেট কি মেঘনাদবধ কাব্যের মত হবে কি করে? মত হতে গেলে তো হুবহু মেঘনাদবধ কাব্যই পয়দা করতে হয়!! একই ভাবে যদি বলেন- অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ, তাহলে বলা যায়- দুনিয়াতে আরো অনেক ধর্মগ্রন্থ আছে, কিন্তু কোরআনের মত- তাহলে একই ভাবে বলা যাবে- বেদের মত, উপনিষদের মত, বাইবেলের মতো, ত্রিপিটকের মত কি কোন ধর্মগ্রন্থ পাওয়া যাবে, আজ পর্যন্ত কি কেউ বেদের মত কোন শ্লোক- ত্রিপিটকের কোন শ্লোক তৈরি করতে পেরেছে? বাইবেলের অনেক ভার্সন তৈরি করেছে- এমনকি নারীবাদীরা উইমেন বাইবেলও লিখেছে, তাই বলে কি সেটা কে কখনও অরিজিনাল বাইবেলের অনুরূপ বাইবেল বলা যাবে? সেটা গেলে তো- কোরআনের যেসব স্যাটায়ার ভার্সন বের হয়েছে- সেগুলোকেও বলতে হবে কোরআনের মত!!

আপনি বড় জোর বলতে পারেন- কোরআনের মত অভ্রান্ত গ্রন্থ আছে কি-না, বলতে পারেন- কোরআনের মত সমগ্র জীবন ব্যবস্থা আর কোন গ্রন্থ তুলে ধরে কি-না.... ইত্যাদি, এসব প্রশ্ন বা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলেও আপনাকে কেউ অন্ধ বলবে না!!!

এই প্রশ্নের ব্যাপারে আমার মত হলো- কোন কিছু সব সময়ের জন্য অভ্রান্ত নয়- তারপরে আমি একটা নির্দিষ্ট পেরিফেরিতে অভ্রান্ত গ্রন্থের জন্য বিজ্ঞানের গ্রন্থের উপর বেশি ডিপেন্ড করবো..... আর- সমগ্র জীবন ব্যবস্থার কথা যতই বলি- সেটা সেই ১৪০০ বছরের সাপেক্ষে অনেক গ্রহণযোগ্য মানলেও- আজকের পরিস্থিতিতে সেটা অবাস্তব মনে হয়। আপনি নিজেও চিন্তা করে দেখুন- আজকে বাংলাদেশের আইন আদালত চালানোর জন্য আপনি বাংলাদেশের সংবিধানের উপর বেশি নির্ভরশীল হবেন, এবং সেটাও যে স্থির নয় এটার জন্য একটি সংসদ তৈরি করা হয়েছে- যেখানে সাংসদরা আইন তৈরি করবেন। এমনকি যে আরবে একসময় কোরআনের উপর পুরো নির্ভরশীল থাকা হয়েছিল- সেই আরবেও কিন্তু এখন এক কোরআন দিয়ে একটা আস্ত দেশ চালনার কথা কল্পনাও করা যায় না। এটা বুঝা দরকার- খালি খালি অন্ধের মত কোরআন নিয়ে ভাবের জগতে বাস করার কোন মানেই হয় না।

১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫২

লেখক বলেছেন:
২। আপনার এই পয়েন্টের আলোচনা আমার পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। কেননা, পোস্টের কোন জায়গায় একবারো দাবি করা হয়নি আল্লাহ পুরুষ বা আল্লাহ নারী। শুধু এটুকুই বলা হয়েছে- আল্লাহ এই শব্দটির আরবী ভাষায় ব্যবহারে পুরুষ ক্রিয়া গৃহীত হয়েছে- এবং সবসময়ই পুরুষ রূপ নিয়েছে এই শব্দটি।


১৫. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২
comment by: নাবিক বলেছেন:
১৬. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৭
comment by: পলাশমিঞা বলেছেন:
He is a neutral word.

And one more thing, ONE WHO BELIEVES IN EXISTENT GOD, HE ISN’T AN ATHEIST, he only says he is, but he isn’t.


১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৬

লেখক বলেছেন:
আপনার আলোচনা পরিস্কার হয়নি আমার কাছে, আমি দুঃখিত।

পুরো পোস্ট আবার পড়ে আবার আপনার সুচিন্তিত মত আশা করছি......

১৭. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৭
comment by: েবহাগ বলেছেন:
আল্লাহ কে মাইয়া গুষনা দেয়া হউক। পুংলিংগ বলার তিব্র প্রতিবাত।
১৮. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:
নাবিক বলেছেন:


১। ভালোইতো কুরআনের ভুল ধরতে পারেন দেহি। তয় কুরআন যে একটা চ্যালেন্জ দিল যে এর মতো একটা আয়াত বানায়া নিয়ে আসো। ১৫০০ বছর চইলা গেল, বাঘা বাঘা আরবী সাহিত্যিকরা কুরআনের আয়াতের মতো একটা আয়াত বানাইতে পারলোনা। আপনি এবার বানাইয়া ফেলেন একটা আয়াত। চ্যালেন্জটা নিয়ে ফেলেন। কি বলেন?""


কুন দুনিয়াত থাকেন? আয়াত তো আয়াত পুরা স্যাটয়ার কুরান বাইর হইসে ১৯৯৯ সালে

http://www.islam-exposed.org/


fake quran বা true quran বইলা গুগলে খুজ লাগান পাইয়া যাইবেন
১৯. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪
comment by: স্রোত বলেছেন:
গনডাইরারে
কিসু ঘাস দে রে !
২০. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮
comment by: স্রোত বলেছেন:
গডাম লাত্তি
২১. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০০
comment by: ক্যালী বলেছেন:

আল্লাহর কোন লিঙ্গ নাই কাজেই তিনি "হিজড়া"
২২. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০১
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: হিজড়া মানে ক্লীবলিঙ্গ নয় @ক্যালী,

যাদের দুইটাই কোন না কোন রুপে আছে তাদেরকেই সাধারনত হিজরা বলে।
২৩. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০৩
comment by: ক্যালী বলেছেন: আমিও তাই বলতে চাইছি কারন তিনি তো যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন কাজেই দুইটাই হালকা করে রাখছে। সুবিধামত যেকোন দিকে পোল্টি দেওয়ার জন্য।
২৪. ১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:০৫
comment by: নেমেসিস বলেছেন: প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা একটা সবিনয় অনুরোধ । আপনি কি কষ্ট করে আপনার প্রতিটা লেখার পিডিএফ কপি পোস্টটে যোগ করে দিতে পারেন ?

উপকার হবে অনেকেরই এতে । ধন্যবাদ ।
১৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ২:৫৩

লেখক বলেছেন:
পিডিএফ কপি কিভাবে যোগ করা যাবে??

২৫. ১৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: নাবিক বলেছেন: এ পোস্ট দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা শিরোনামেই স্পস্ট। প্রথমে আল্লাহর লিংগ কি বলে পরে ব্র্যাকেটে শুধুই ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের চেস্টা বললেও আসলেও আপনার লেখাটা ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বিচারে কতটুকু টেকে সেটা ভাষাতাত্ত্বিকদের উপর ছেড়ে দিলাম।

লেখাটা ভালো করে পড়েই মন্তব্য করেছিলাম। তারপরো আপনার জবাবের নিচের পয়েন্ট গুলো দিচ্ছি।

১। সকল ভাষার মতো আরবী ভাষারও নিজস্ব সীমবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতার একটি হলো স্রস্টার জন্য আলাদা কোন স্পেসাল সর্বনাম নাই। কুরআনে আল্লাহ নিজেকে প্রকাশের জন্য পুংলিংগ ব্যবহার করেছেন। সুরা ইখলাস তার অন্যতম উদাহরন।

কিন্তু ভাষার এ সীমাবদ্ধ সত্বেও আল্লাহ যে সকল আমাদের চেনা-জানা জেন্ডার ধারণার উর্ধে এটাই প্রকাশ করেছেন।

চারটি আয়াতের প্রত্যেকটি আয়াতই এ কথা প্রমাণ করে যে, ভাষাগত দিক থেকে পুংলিংগের সর্বনাম ব্যবহার করলেও তিনি পুরুষ, নারী বা এর মাঝামাঝি কিছু নন। তিনি এ সবের অনেক উর্ধে। জেন্ডারগত ধারনা বা বাস্তবতার উপর তিনি নির্ভরশীল নন। সর্বনামের ব্যাবহার থেকে যাতে মানুষ ভুল করে তাকে পুরুষ বা নারী এমন কিছু ভেবে না বসে সে জন্যই বলা হয়েছে, তিনি কারো সন্তান নন, আর সন্তান জন্ম দেয়াও তার কাজ নয়। তিনি জনক বা জননী নন। পু্ত্র বা কন্যা নন। তিনি আপনি আমার চেনা-জানা কিংবা কল্পনা করা যায় এমন কারো মত নয়। যার ইমেজ কলপনায় আঁকা যায় তিনি স্রস্টা নন। সুরাটির এ ম্যাসেজগুলো বুঝলে আপনা ভাষার সীমাবদ্ধতা নিয়ে পড়ে থাকতেন না। তার শিরোনাম চয়নে কৌশলের আশ্রয় নিতেন।

২। আপনার উদ্দেশ্য কি তা অন্যদের মন্তব্য দেখলেই বুঝা যায়। আমার মন্তব্যকে আপনি বলেছেন অপ্রাসংগিক আর যারা আল্লাহর লিং নিয়ে বেয়দবী করে গেলো সেগুলোকে সযতনে প্রাসংগিক মনে করে রেখে দিয়েছেন। গ্রেট।

৩। কুরআন নিজেই দাবী করেছে কুরআনে কোন ভুল নেই। এটা অভ্রান্ত। আপনি কি মনে করেন না করেন তাতে কিছু যায় আসেনা। কুরআনের অন্যতম বৈশিস্ট্য এটা স্রস্টার বাণী, সৃস্টির নয়। চ্যালেন্জটা সেখানেই। সৃস্টি কি পারে স্র