আমার প্রিয় পোস্ট

ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান

১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:০৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

(এই পোস্টে ত্রিভুজ, হিমু রুদ্র, মাইনুল, মাহমুদ রহমান, কাঙাল মুরশীদ, হ্যারি স্যালডন প্রমুখের বিভিন্ন জায়গায় করা বক্তব্যকে খণ্ডন করা হয়েছে। সুতরাং তাদের প্রাসঙ্গিক যুক্তি-তর্ক খুবই কাম্য। অন্য যেকেউও এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।)

শুরু করছি একটি পৌরানিক কাহিনী দিয়ে, মহাভারতে এটি পাওয়া যাবে, ভাগবতেও এ কাহিনী আছে। দেবতাকূল সমুদ্র মন্থনের মাধ্যমে অমৃত আহরণ করে যখন তা পান করতে যাবে, সে সময় দানবদের মধ্য থেকে একজন, নাম রাহু, দেবতা সাজে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেবতাদের সাথে অমৃত পান আরম্ভ করে। কিন্তু দেবতাদের মধ্যে সূর্য এবং চন্দ্র হঠাৎই রাহুকে চিনতে পারায় তারা দেবতাদের জানিয়ে দেয় এবং দেবরাজ ইন্দ্র এককোপে রাহুর মস্তক ছিন্ন করে ফেলে। ঠিক সেই মুহুর্তে রাহু কর্তৃক পানকৃত অমৃত কেবল মস্তক হতে গলা পর্যন্ত এসেছিল বিধায় মস্তক পর্যন্ত অংশটুকু অমর হয়ে যায় এবং আকাশের একস্থানে অবস্থান করতে থাকে। সূর্য এবং চন্দ্রের কারণে ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে তাদের প্রতি শুরু হয় ভীষণ শত্রুতা এবং যখনই তাদের সঞ্চারপথে রাহুর নাগালের মধ্যে আসে, তখনই রাহু সূর্য ও চন্দ্রকে গিলে খায়। যেহেতু রাহুর শুধু মস্তকই আছে, ফলে সে সূর্য-চন্দ্রকে হজম করতে পারে না বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাটা গলা দিয়ে বের হয়ে পড়ে। যেসময়টুকু তার মুখের মধ্যে থাকে সে সময়েই হয় সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ।
বিভিন্ন জায়গার উপকথা, পুরাণ, প্রাচীণ গাঁথায় এরকম অসংখ্য কাহিনী আমরা পাই, যেখানে আমাদের চারপাশের প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো পড়লে আমরা বুঝতে পারি- এককালে মানুষ কি'করে বিভিন্ন ঘটনার উত্তর কল্পনা করেছে। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই যখন মানুষ এসব নানা কাহিনীকে স্ব স্ব ধর্মের মোড়কে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা আরম্ভ করে এবং তার একটা সার্বজনীন রূপ দেয়ার চেষ্টা করে। আর এই সার্বজনীন রূপ দিতে গিয়ে আজকের বিজ্ঞানের যুগে এসে, বিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার সাথে সেইসব পৌরানিক কাহিনীর একটা যোগসূত্র বের করে ফেলে অনেকেই। উপরের ঘটনাটির একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেখেছিলাম তেমনি একটি আলোচনায়। সেটি এবার শুনা যাকঃ

ভাগবতে আছে, "রাহুর মস্তক অমৃতের স্পর্শ লাভ করিবার ফলে অমর হইয়াছিল। তাই ব্রহ্মা রাহুর মস্তককে একটি ছায়া গ্রহরূপে স্বীকৃতি দিয়াছিলেন। রাহু যেহেতু চন্দ্র এবং সূর্যের চিরশত্রু, তাই অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্যের প্রতি ধাবিত হয়"। (ভাঃ ৮/৯/২৬), কিংবা "রাহু সূর্য এবং চন্দ্র উভয়ের প্রতিই বৈরীভাবাপন্ন এবং তাই সে প্রত্যেক অমাবস্যা ও পূর্ণিমাতে তাহাদের আচ্ছাদিত করতে চেষ্টা করে"। (ভাঃ ৫/২৪/২)

এই আলোচনার পরেই সেখানে আনা হলো চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত বিজ্ঞানের আলোচনা এবং দুটিতে অদ্ভুতভাবে মিল দেখিয়ে দাবী করা হলো, রাহু হলো ছায়া যা চন্দ্রের উপরে পড়ে, সব পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্রগ্রহণ হয় না- সব অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হয় না, কেবল যখন রাহু বা ছায়া পড়ে তখনই এই গ্রহণ হয়। অতএব, বিজ্ঞানের সমস্ত ব্যাখ্যা ভাগবতেই বিদ্যমান!!

ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ
এই যে, ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞানকে খুঁজে বের করা- ধর্মের বিভিন্ন ঘটনা-ব্যাখ্যা-আলোচনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো, বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারকে ধর্মের প্রাচীণ গ্রন্থের মাঝে খুঁজে পাওয়া এসবের উদ্দেশ্য জানতে বেশী চিন্তা করতে হয় না। যে সময়ে ধর্মসমূহের উদ্ভব, সে সময়টি বা যুগটি মানুষ পার হয়ে এসেছে অনেক আগেই। একসময় কোপার্নিকাস-ব্রুনো-গ্যালিলিও-হাইপেশিয়াদের মেরে, লাইব্রেরী পুড়িয়ে, পেশী শক্তি দিয়ে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা সাময়িক স্তব্ধ করা গেলেও, মানুষকে পুরোপুরি আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। এখন এই যুগে মানুষের জ্ঞানজগতে বিচরণ হাজার বছর আগের কুসংষ্কারকে অগ্রাহ্য করতে চায় বারেবারে। আর উল্টোদিকে প্রতিটি ধর্মই যে শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিয়ে এসেছিল, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। একে টিকিয়ে রাখতে তাই আজকের বিজ্ঞানের সাথে একটা ব্লেণ্ডিং যাকে বলে মিলে-মিশে জগা-খিচুরী বানানোটা হয়ে ওঠে অপরিহার্য। এভাবে ধর্মসমূহ হয়ে ওঠে বিজ্ঞানময়, ধর্মগ্রন্থ হয়ে ওঠে সায়েন্স এনসাইক্লোপিডিয়া!!

কিছু নমুনা দেখিঃ
কোরানঃ "অতঃপর আমি নিদর্শন দিতেছি। ওই সকল তারকার যাহারা পিছনে হটিয়া যায়।" - ৮১:১৫
বিজ্ঞানঃ অন্যান্য সকল দরবর্তী গ্যালাক্সী আমাদের এই মিলকীওয়ে গ্যালাক্সি থেকে সর্বদা দুরে সরে যাচ্ছে।
১৯২০ এর দশকে বৈজ্ঞানিক এডুইন হাবল দূরবর্তী গ্যালাক্সিসমূহের তারকার আলো পর্যবেক্ষন করে দেখতে পান- সেগুলি সর্বদা পশ্চাদপসরণ করছে।

কোরানঃ "আকাশমন্ডলীকে আমিই সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিদ্বারা এবং নিশ্চই আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি।" - ৫১:৪৭
বিজ্ঞানঃ সকল দিকের সব দূরবর্তী গ্যালাক্সিই প্রতিনিয়ত আমাদের মিলকীওয়ে গ্যালাক্সী থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। এর অর্থ দাড়ায়, মহাবিশ্ব সর্বদাই সম্পসারিত হচ্ছে।

কোরানঃ "কাফিরেরা কি দেখে না যে, এই আসমান যমীন সবকিছু মিলিত অবস্থায় ছিল, পরে আমি এইগুলিকে আলাদা আলাদা করিয়া দিয়াছি।" - ২১:৩০
বিজ্ঞানঃ মহাবিশ্ব বর্তমানে সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার অর্থ দাড়ায়, আদিতে কোন এক সময় মহাবিশ্বের সমস্ত গ্রহ, নক্ষত্র তথা সমস্ত পদার্থ একত্রিত অবস্থায় ছিল, সম্ভবত কোন এক আদি বিস্ফোরণ থেকে এই সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছে। (বিগব্যাঙ)

কোরানঃ "তৎপর তিনি আসমানের প্রতি মন দিলেন, তখন উহা ধোঁয়া ছিল, পরে তিনি আসমান ও যমীনকে বলিলেন, 'আস, ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায়', তাহারা বলিল, 'আমরা একান্ত অনুগতভাবেই আসিলাম।'" - ৪১:১১
বিজ্ঞানঃ সৃষ্টির প্রারম্ভে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রিত ধোয়া উৎপন্ন হয়েছিল। অজানা কারনবশত এই ধোয়া বিভক্ত হয়ে বিশাল আকৃতির সব ধোয়ার মেঘে রূপান্তরিত হয়েছিল। পরবর্তিতে এক একটি ধোয়ার মেঘ রূপান্তরিত হয়েছে এক একটি গ্যালাক্সিতে। ধোয়া থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এ মহাবিশ্ব সব গ্যালাক্সি তথা সম্পূর্ন মহাবিশ্ব।

কোরানঃ সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরিতেছে। ইহা পরাক্রমশালী প্রভুর নির্ধারিত। আমি চন্দ্রকে যথাস্থানে বসিয়ে দিয়েছি এমনকি চন্দ্রটি শীর্ণ খেজুর পাতার মতো হয়ে যায়। সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে। (৩৬: ৩৮, ৩৯, ৪০)
বিজ্ঞানঃ সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরছে...স্থির ভাবে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষ পথে ঘুরছে... বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল.. সবার কক্ষপথ আলাদা। সূর্য এদের মাঝখানে।

কোরানঃ হে জ্বিন ও মানবমণ্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করিতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তাহা হইলে উহাতে প্রবেশ কর৷ তোমরা উহাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না মহাবমতা ব্যতিরেকে। (৫৫:৩৩)
বিজ্ঞানঃ মহাশূন্য বিজয়ের কথা এখানে আয়াতে ইঙ্গিত দেয়া আছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, তোমরা মহাৰমতা অর্জন করেই কেবল উহাতে প্রবেশ করতে পারবে৷ বলাবাহুল্য, এই মহাৰমতা হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকর্ষের বাধা অতিক্রমকারী দ্রম্নতগামী প্রযুক্তি অর্জন৷ বিগত শতকের শেষ দিকে মানুষ এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করে এবং সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে৷


একটু দেখলেই বুঝা যায় এরকম বিজ্ঞানীকিকরণের ক্ষেত্রে দুটি কাজ সচেতনভাবে করা হয়, দুধরণের বিচ্যুতি, বিজ্ঞানের কোন স্বীকৃত তথ্যক কোরানজাত করতে গিয়ে প্রথম বিচ্যুতি ঘটানো হয় অনুবাদে ও দ্বিতীয় বিচ্যুতিটি ঘটে ব্যাখ্যায়। যেমন,

অনুবাদগত বিচ্যুতিঃ উপরের নমুনা থেকে দেখি, ৮১:১৫ ও ১৬ এর অনুবাদ করাঝয়েছে এভাবে: "অতঃপর আমি নিদর্শন দিতেছি। ওই সকল তারকার যাহারা পিছনে হটিয়া যায়"। জহুরুল হকের অনুবাদে আমরা পাই, "আমি স্বাক্ষী মানছি গ্রহ-নক্ষত্রদের। যারা চলে থাকে, অদৃশ্য হয়ে যায়"। আরো তিনটি অনুবাদ দেখি: "YUSUFALI: So verily I call to witness the planets - that recede, Go straight, or hide;
PICKTHAL: Oh, but I call to witness the planets, The stars which rise and set,
SHAKIR: But nay! I swear by the stars, That run their course (and) hide themselves,"

একইভাবে, ৫১:৪৭ এর অনুবাদ করা হয়েছে, "আকাশমন্ডলীকে আমিই সৃষ্টি করিয়াছি শক্তিদ্বারা এবং নিশ্চই আমি উহাকে সম্প্রসারিত করিতেছি"। জহুরুল হকের অনুবাদে এটি অনেকটা এমন : "আর মহাকাশমণ্ডল, আমরা তা নির্মাণ করেছি হাতে, আর আমরাই বিশালতার নির্মাতা"। ইংরেজী অনুবাদে পাই: "YUSUFALI: With power and skill did We construct the Firmament: for it is We Who create the vastness of pace.
PICKTHAL: We have built the heaven with might, and We it is Who make the vast extent (thereof).
SHAKIR: And the heaven, We raised it high with power, and most surely We are the makers of things ample. "

এরপরে আসি সূর্য ও পৃথিবীর গতিসংক্রান্ত আয়াতের অনুবাদে। ৩৬:৩৮ এর অনুবাদে এখানে বলা হয়েছে, "সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরিতেছে"। জহুরুল হকের অনুবাদ: "সূর্য তার গন্তব্যপথে বিচরণ করে"। এবং ইংরেজী অনুবাদে পাই: "YUSUFALI: And the sun runs his course for a period determined for him:
PICKTHAL: And the sun runneth on unto a resting-place for him.
SHAKIR: And the sun runs on to a term appointed for it; "

এরকম আরো দেখানো যেতে পারে, আশা করি আপনার নিজেও কয়েকটি অনুবাদের সাথে মিলিয়ে দেখলেই বুঝবেন।

ব্যাখ্যাগত বিচ্যুতিঃ এখানে আরো মজা, কেননা সবচেয়ে বড় জোচ্চুরী ঘটে এখানেই। "গ্রহ-নক্ষত্ররা চলে ও অদৃশ্য হয়" (৮১:১৫) এই অনুবাদের বদলে "তারারা পিছু হটে" এই অনুবাদ ধরলেও যখন এর সাথে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে অন্য গ্যালাক্সিসমূহ দূরে সরে যাচ্ছে বিজ্ঞানী হাবলের এই আবিষ্কারের যোগসূত্র বের করা হয়, তখন হাসবো না কাঁদবো সহসা বুঝে আসে না। আবার যখন "সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে" (৩৬:৪০) এর ব্যাখ্যায় বলা হয় তারা মানে পৃথিবী, গ্রহ সমূহ নিজ নিজ কক্ষে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, তখন ব্যকরণ নতুন করে শিখতে ইচ্ছে করে। প্রশ্ন এসে খেলা করে, বিশেষ্যের (সূর্য, চন্দ্র বা রাত্রি ও দিন) পরে যে সর্বনাম (তারা) বসে, সেই সর্বনাম কোন বিশেষ্যকে নির্দেশ করে! "আসমান যমীন সবকিছু মিলিত অবস্থায় ছিল, পরে আমি এইগুলিকে আলাদা আলাদা করিয়া দিয়াছি" (২১:৩০) এর ব্যাখ্যায় যখন বিগব্যাঙ থিওরি খুঁজে পাওয়া যায়, তখন মনে আসে এখন না থাক সৃষ্টির আদিতে নিশ্চয় আসমান বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নিশ্চয় ছিল। আরেকবার বিগব্যাঙ থিওরি খুঁজে দেখি শুরুতেই পৃথিবীর (যমীন) সৃষ্টি হয়েছিল কি-না। "হে জ্বিন ও মানবমণ্ডলী, যদি তোমরা প্রবেশ করিতে পার আসমান ও জমিনের এলাকায়, তাহা হইলে উহাতে প্রবেশ কর" (৫৫:৩৩) এর ব্যাখ্যায় যখন বলা হয় মানুষের চন্দ্রে অভিযান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী কোরানেই করা হয়েছে, তখন আর হাসি চেপে রাখতে পারি না, মনে পড়ে যায় সেই গল্পের কথা, যেখানে অর্ধশিক্ষিত এক গ্রাম্য যুবক বকলম গ্রামবাসীদের নিজের মত টেলিগ্রাম অনুবাদ করে শুনিয়েছিল!!

বিজ্ঞান বনাম কোরানঃ
মজা এখানেই শেষ নয়। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, এ ধরণের বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনায় আড়ালে আবডালে থেকে যায় কোরান- হাদীসের আরো কিছু সুরা, আয়াত, হাদীস। একইভাবে সেখানে ঘুণাক্ষরেও আনা হয় না বিজ্ঞানের অন্য কিছু স্বীকৃত আবিষ্কারের কথা। আর কোনক্রমেই যদিবা এসব কেউ নিয়েও আসে, সাথে সাথে ফতোয়াও হাজির হয়ে যায়ঃ "এসব কোরান-হাদীস বুঝার সামর্থ্য আমাদের মত অর্বাচীনের নেই, কোন কোনটি আবার নাকি বিয়োণ্ড হিউম্যান ইমাজিনেশন", কিংবা আক্রমণ চলে আসে বিজ্ঞানের উপরেই: "বিজ্ঞান কি সব কিছু কখনো জানতে পারে?" এই আক্রমণের সাথে সাথে অবশ্য কোরান ও বিজ্ঞানের যোগসূত্র বের করার হার কমা শুরু করে না।

যাহোক, এমন ফতোয়া আসবে ধরে নিয়েই আসুন কিছু কোরান-হাদীস পর্যালোচনা করিঃ

১৮: ৮৬: পরে যখন তিনি সূর্য অস্ত যাবার স্থানে পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন কালো জলাশয়ে অস্তগমন করছে, আর তার কাছে পেলেন এক অধিবাসী। আমরা বললাম- "হে যুলক্কারনাইন, তোমরা শাস্তি দিতে পার অথবা এদের সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার"।
১৮: ৯০: পরে যখন তিনি সূর্য উদয় হওয়ার জায়গায় পৌঁছলেন তখন তিনি এটিকে দেখতে পেলেন উদয় হচ্ছে এক অধিবাসীর উপরে যাদের জন্য আমরা এর থেকে কোন আবরণ বানাই নি।

এখানে কথক আল্লাহ যুলক্বারাইন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলছেন, তিনি সূর্য উদয় স্থলে একবার গেলেন এবং আরেকবার গেলেন সূর্য অস্তের স্থানে। যেখানে গিয়ে যুলক্বারাইন দেখে সূর্যের কালো জলাশয়ে অস্ত যাওয়াও প্রত্যক্ষ করেন। এখান থেকে মনে প্রশ্ন আসে, তখন কি আরবের মানুষ জানতো না যে পৃথিবী গোলাকৃতির, কেননা, সমতল হলেই পৃথবীতে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার দুদিকে দুটি স্থানের প্রয়োজন পড়ে। (শানে নুযুল দ্রষ্টব্যঃ কাফিরেরা তাওরাত-ইঞ্জীলে উল্লেখিত আশ্চর্য মানুষ সম্পর্কে মুহম্মদ সা কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যে ব্যক্তি গোটা বিশ্ব ভ্রমণ করেছিলেন উভয় দিকে মানে পশ্চিমে ও পূর্বে)।

এরপরে আরো কটি সুরায় কিছু আয়াত দেখলে একই প্রশ্ন আবারো উকিঝুকি মারতে থাকে মনে:
২১: ৩১: আর পৃথিবীতে আমরা পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছি, পাছে তাদের সঙ্গে এটি আন্দোলিত হয়; আর ওতে আমরা বানিয়েছি চওড়া পথঘাট যেন তারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়।
২১: ৩২: আর আমরা আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা এর নিদর্শনাবলী থেকে বিমুখ থাকে।
১৫: ১৯: আর পৃথিবী- আমরা তাকে প্রসারিত করেছি, আর তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা, আর তাতে উৎপন্ন করেছি হরেক রকমের জিনিস সুপরিমিতভাবে।
৭৮: ৬, ৭: আমরা কি পৃথিবীটাকে পাতানো বিছানো রূপে বানাইনি? আর পাহাড় পর্বতকে খুঁটি রূপে?
২: ২২: যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে ফরাশ (couch) বানিয়েছেন, আর আকাশকে চাঁদোয়া (canopy).....
৩১: ১০: তিনি মহাকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোন খুঁটি ছাড়াই,- তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ; আর তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা পাছে এটি তোমাদের নিয়ে ঢলে পড়ে।

এসব যখন পড়ি, তখন আধুনিক বিজ্ঞান আকাশ সম্পর্কে কি বলে তা মনে আসলেই বিপদ। যখন মহাশূণ্যে নিয়ত গতিশীল জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর বিচরণের দিকে তাকাই তখন কোরানের এই আকাশমণ্ডলী যাকে খুটি ছাড়াই আল্লাহ মানুষের ছাদ বা চাঁদোয়া হিসাবে সৃষ্টি করেছেন, যার আবার ৭টি স্তরও বিদ্যমান, সম্পর্কে ধাধায় পড়ে যাই। আর, জমিন বা পৃথিবীকে পাতানো বিছানো হিসাবে তৈরী করে সেখানে পাহাড়-পর্বত দিয়েছেন, যার দরুন পৃথিবী হেলেও পড়ে না, নড়াচড়াও করতে পারে না। এ আল্লাহর অসীম দয়া নিসন্দেহে, কিন্তু এখন যখন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এত বড় বড় পর্বতমালা থাকার পরেও শুধু নড়াচড়া নয় প্রতি ২৪ ঘন্টায় এক ডিগবাজীর সাথে সাথে ৩৬৫ দিনে সূর্যের চারদিকে নেচে বেড়াচ্ছে এই পৃথিবী, তখন আল্লাহর জ্ঞানের পরিধি নিয়ে মন সন্দেহগ্রস্ত হয়ে উঠতে চায়!


এবারে নিচের আয়াত দেখিঃ

৩৬: ৪০: সূর্যের নিজের সাধ্য নেই চন্দ্রকে ধরার, রাতেরও নেই দিনকে অতিক্রম করার। আর সবকটিই কক্ষপথে ভাসছে।

এখানে সূর্য ও চন্দ্রের সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই বলে যখন ঘোষণা করা হয়, তখন হঠাতই মনে হয় সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথের কথা জানলে কি এই সংঘর্ষের কথা উঠতে পারে? মনে পড়ে এক বালকের কথা, যে অবাক হয়ে তার বাবাকে প্রশ্ন করে যে, আচ্ছা বাবা- একই আকাশে সূর্যও পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাচ্ছে, চন্দ্রও। তাহলে ওদের মধ্যে ঠোকাঠুকি হয় না কেন? বাবা বলতে পারেন, ভিন্ন কক্ষপথের কথা অথবা বলতে পারেন আল্লাহর কুদরতের কথা। আল্লাহ নিজে তো নিজের কুদরতের কথা ঘোষণা করবেনই।

সূর্য নিজ অক্ষে ঘুরছে দাবী করা হয়েছে যে আয়াতটি দিয়ে সেটি হলো ৩৬: ৩৮, সেটির PICKTHAL কর্তৃক অনুবাদ হচ্ছে: "And the sun runneth on unto a resting-place for him". এই রেস্টিং প্লেসের বিষয়টি আমরা এবার দেখি সহীহ বুখারী হাদীসেঃ
"হযরত আবূ যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করিম সা. আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আবূ যর, তুমি কি জান যে, অস্ত যাওয়ার পরে সূর্য কোথায় যায়?" আমি উত্তর করলাম, "আমি জানি না, একমাত্র আল্লাহর রাসুল সা. ই ভালো বলতে পারেন"। তখন তিনি বললেন, "অস্ত যাবার পরে সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থান করে এবং আবার পূর্বদিকে উদয় হওয়ার জন্য আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় থাকে। এমন দিন আসবে যখন সূর্য উদয়ের অনুমতি পাবে না এবং তখন পৃথিবীতে কেয়ামত নেমে আসবে"। (ভলিউম ৪, বুক ৫৪, হাদীস ৪২১)

এবারে মুহম্মদ সা. ও তাঁর সমসাময়িক আরববাসীদের বিজ্ঞানের দৌড় সম্পর্কে ধারণা করা আমাদের জন্য কিছুটা সহজ হলো বিধায়। মুহম্মদ সা এর বিজ্ঞান দৌড়ই বা বলি কেমনে, ওনাকে তো শিখিয়েছেন আল্লাহ স্বয়ং!!

এমনতো অসংখ্যই আছে। ভুরি ভুরি। কোনটা বাদে কোনটা লিখবো? জ্বিন, ফেরেশতা এসব আর রূপকথার দেও-দানবের কোন পার্থক্য নেই। তার উপরে নদীর দুভাগ হওয়া, বোরাকে করে সপ্ত আসমান পরিভ্রমণ, লাঠির সর্প হয়ে যাওয়া, হাতের ইশারায় চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া, হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগ ভালো হয়ে যাওয়া প্রভৃতি ঘটনাকে চিত্তাকর্ষক পৌরাণিক কাহিনী বলা যেতে পারে, যেখানে বিজ্ঞান না টানাই হয়তো সবার জন্য মঙ্গলজনক।

যে লাউ সে-ই কদুঃ
এবারে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের সাথে বিজ্ঞানের সংযোগ দেখি:
ভাগবত ২/১৬/১৭: হে মাতঃ হে স্বায়ম্ভুব মনুর কন্যা! আমি পূর্বেই বর্ণনা করিয়াছি যে, কাল হইতেছে পরমেশ্বর ভগবানের শক্তি, প্রকৃতির সাম্য, অব্যক্ত অবস্থা বিক্ষুব্ধ হওয়ার ফলে, যাঁহার থেকে সৃষ্টির শুরু হয়।
বিজ্ঞানঃ এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে প্রকৃতির সাম্য, অব্যক্ত অবস্থা বিক্ষুব্ধ হওয়ার ফলে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শব্দটির অর্থ বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি বৃহৎ বিস্ফোরণের ফলে মহাবিশ্বের শুরু হয়েছে। একে বিগব্যাঙ বলে।

ভাগবত ৩/২০/১৬: গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুর নাভী থেকে একটি সহস্র সূর্যের মতো উজ্জ্বল পদ্ম উদ্ভুত হয়েছিল। সেই পদ্মটি সমস্ত বদ্ধ জীবের অধিষ্ঠান স্বরূপ এবং প্রথম জীব সর্বশক্তিমান ব্রহ্মা সেই পদ্মটি থেকে আবির্ভুত হয়েছিলেন।
বিজ্ঞানঃ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বইটির মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং পরিণতি অধ্যায়ে (১০০ পাতা) আলোচনা করেছেন যে, মনে করা হয় বিস্ফোরণের সময় মহাবিশ্বের আয়তন ছিল শুণ্য, সুতরাং উত্তাপ ছিল অসীম। মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল প্রায় এক হাজার কোটি ডিগ্রীতে। এ তাপ সূর্যের কেন্দ্রের তাপের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ বেশী। ভাগবতে বর্ণনা করা হয়েছে বিস্ফোরণের পর তাপমাত্রার পরিমাণ ১০০০ জ্বলন্ত সূর্যের তাপের সমান, যেটি বিজ্ঞানীরাও এখন আবিস্কার করেছেন।

স্কন্ধ পুরাণম ৩৮/৫৪: হে ভরত বংশাবতংস মেঘ সকল ধুম ও সমুদ্রের বাষ্প হইতে বৃষ্টি হয়। সেজন্য এরা জলপূর্ণ হলে নীল বর্ণ হয়ে থাকে এবং বর্ষণ করতে পারে।
ঋকবেদ ৭/৩৬/১: যজ্ঞের সদন হতে স্ত্রোত্র প্রকৃষ্ট রুপে গমন করুক। সূর্য কিরণসমূহ দ্বারা বৃষ্টি সৃষ্টি করিয়াছেন।
বিজ্ঞানঃ আজকের বিজ্ঞানীরা বৃষ্টির কারণ হিসাবে যে পানিচক্রের কথা বলছেন, সেখানে এই সূর্যের তাপে প্রতিদিন সমুদ্র ও জলাশয়ের পানি বাষ্পীভুত হয়ে উপরে উঠে ঘনীভূত ও শীতলীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়, যা ভারী হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে নেমে আসে। এটিই স্কন্ধ পুরাণ ও ঋকবেদের উপরের শ্লোকে বলা হয়েছে।

ভাগবত ২/৭/৩৭: কলিযুগে নাস্তিক অসুর স্বভাব মহাবিজ্ঞানীরা বৈদিক জ্ঞানে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে মহাশূণ্য যানে চড়ে গগনমার্গে অদৃশ্যভাবে বিচরণ করবে....
বিজ্ঞানঃ এই শ্লোকে কলিযুগ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বানী করে বলা হয়েছে কলিযুগে বিজ্ঞানীরা বৈদিক জ্ঞান অর্জন করে বিমান বা মহাশূণ্যযান তৈরী করবে। কলিযুগ মানে বর্তমান যুগ। সুতরাং বলা যায় বর্তমান যুগে বিজ্ঞানীরা যে বিমান তৈরী করেছেন, সে সম্পর্কে ভাগবতে লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে। ভাগবতে বেশ কয়েক রকমের মহাশূণ্য যানের বর্ণনা আছে।

এমন অনেক নমুনা দেখানো যেতে পারে, বাইবেলের বিজ্ঞানিকীকরণ নিয়েও কিছু নমুনা দেয়া যেতে পারে। মুসলিম পাঠকের কাছে এখানকার আলোচনাগুলো হাস্যকর, অবৈজ্ঞানিক, অবান্তর, অযৌক্তিক খুব সহজেই মনে হতে পারে; কিন্তু আদতে কোরানের সাথে বিজ্ঞানের যোগসূত্র বের করার আলোচনার সাথে এই আলোচনাসমূহের কোন পার্থক্য নেই। যে লাউ সে-ই কদু, এখানেও হয়েছে অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগত বিচ্যুতি, আজকের বিজ্ঞান এসব কিচ্ছা-কাহিনীকে আর যাই হোক বিজ্ঞান হিসাবে স্বীকার করে না। আরেকটি তুলনামূলক নমুনা দেখিয়ে এ পরিচ্ছেদের আলোচনা শেষ করছি।

কোরান ২৩:১৩,১৪: তারপর আমরা তাকে বানাই শুক্রকীট এক নিরাপদ অবস্থান স্থলে। তারপর শুক্রকীটকে বানাই একটি রক্তপিণ্ড, তারপর রক্তপিণ্ডকে বানাই একতাল মাংসের তাল, তারপরে মাংসের তালে আমরা সৃষ্টি করি হাড়গোড়, তারপর হাড়গোড়কে ঢেকে দেই মাংসপেশী দিয়ে, তারপরে আমরা তাকে সৃষ্টি করি অন্য এক সৃষ্টিতে। সেইজন্য আল্লাহরই অপার মহিমা, কত শ্রেষ্ঠ এই স্রষ্টা।
বিজ্ঞানঃ সেই কোন আমলে কোরানেই মাতৃগর্ভে ভ্রুণ সৃষ্টি ভ্রূণ থেকে ধীরে মানব শিশুর আকৃতি লাভের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে।

বায়ুপুরাণম ১৪/১৮, ১৯: গর্ভকালে শুক্র এবং শোনিত মিলিত হয়ে কলল আকার ধারণ করে। পরে কলল থেকে বুদবুদ আকার প্রাপ্ত হয়। চক্রের উপর মাটির পিণ্ড যেমন চক্রের ঘুর্ণন দ্বারা বিবর্তিত হয়ে ঘট, শরাদি বিভিন্ন নানাকার ধারণ করে, তদ্রূপ আত্মাও বায়ুদ্বারা পরিচালিত হয়ে কালবশে অস্থিযুক্ত বিবিধ মনঃসম্পন্ন মানুষরূপে উৎপন্ন করে।
ভাগবত ৩/৩১/২: সেই রেতকণা গর্ভে পতিত হলে, একরাত্রে শোনিতের সাথে মিশ্রিত হয়, পঞ্চ রাত্রিতে বুদ্বুদের আকার প্রাপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে তা মাংসপিণ্ডে বা অণ্ডে পরিণত হয়।
বিজ্ঞানঃ বৈদিক সাহিত্যে শুক্রাণুকে রেতকণা বা শুক্র, ডিম্বাণুকে শোনিত এবং জাইগোটকে কলল নামে অভিহিত করা হয়। আধুনিক বিজ্ঞান আজ অনুরূপ কথাই বলে।

উভয় আলোচনাই আধুনিক বিজ্ঞানকে টেনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, ধুনিক ভ্রূণতত্ত্ব অনুসারে অবশ্য কোরান বা ভাগবত ও বায়ুপুরাণের এসব ব্যখ্যা সম্পূর্ণ ভুল প্রমানিত!!

১৪০০ বছর আগের এক নিরক্ষরের গল্পঃ
এই ধরণের বিজ্ঞান আলোচনার পরে সকলের উদ্দেশ্যে প্রায়শই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয়ঃ "আজ হতে ১৪০০ বছর আগে যে আরবে একজন নিরক্ষর মানুষ এই কথাগুলো কিভাবে ভাবতে পেরেছিলেন তা কি কখনো চিন্তা করেছেন? আজ বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করছে আজ হতে ১৪০০ বছর আগেই একজন মানুষ তা বললে তা কিভাবে তার মস্তিষ্ক প্রসূত হয়?" এভাবেই প্রমাণ হয়ে গেল কোরান মনুষ্য সৃষ্ট নয়, এটা ঐশী।
এখানেই গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটলে ভালো হতো, কিন্তু যখন আমরা মানব ইতিহাসের কিছু দারুণ কিছু কর্মের সন্ধান পাই তখন বিস্ময়াভূত হয়ে যাই। সেই ১৪০০ বছরেরও আরো প্রায় ২ শতাধিক বছর পূর্বেই (কোপারনিকাসেরও সহস্র বছর পূর্বে) আর্যভট্ট (৪৭৬ খৃস্টাব্দ) বলেছেন, পৃথিবী গোলাকার, এটি নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরে এবং সাথে সাথে এটি সূর্যকেও প্রদক্ষিণ করে। ২ সহস্রাধিক বছর আগে (খৃষ্টের জন্মেরও ৩০০/ ৩৫০ বছর পূর্বে) এরিস্টোটল বলেছেন, বায়ুশূণ্য অবস্থায় বস্তু একই অবস্থানে থাকবে নতুবা সমগতিতে চিরকাল চলতে থাকবে। (এরিস্টোটল অবশ্য তার সিদ্ধান্তের পেছনে কোন প্রমাণ তো হাজির করতে পারেনই নি, বরং পরক্ষণেই তার সেই আবিস্কারকে অস্বীকার করেছেন এই ধারণা থেকে যে, বায়ুশূণ্য স্থান থাকতে পারে না, ফলে ইহা অসম্ভব)। ভাস্করাচার্য (২), নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র প্রদানেরও ৫ শতাধিক বছর পূর্বে বলেছেন, পৃথবীতে বস্তুসমূহ পতিত হয় পৃথিবীর টানেই, এবং পৃথিবী, গ্রহসমূহ, জ্যোতিস্কসমূহ, চাঁদ ও সূর্য নিজ নিজ কক্ষে এই আকর্ষণের কারণেই অবস্থান করে।

এসব যখন দেখি তখন ভাবি, আল্লাহর পূর্বে মানুষই তো সঠিক জ্ঞান তো আমাদের দিতে পারলো। আর, আল্লাহ এমনভাবে পেচিয়ে পুচিয়ে যে জ্ঞান দিলেন, তাও দেখা যাচ্ছে অনেক জায়গায় ভুলে ভরা!! আফসোস তৈরী হয়, নিজ হাতে লেখার পরেও কেন আল্লাহ গোটা কোরানে একবারো সরাসরি উল্লেখ করতে পারলেন না যে, পৃথিবী গোলাকার, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।

পরবর্তী কিস্তির শিরোনামঃ ঈশ্বর ও বিজ্ঞান- "আছে" ও "নাই" প্রমাণের কথিত দ্বন্দ্ব

সূত্রঃ
১। আল কুরআন- বাংলা অনুবাদ, ডঃ জহুরুল হক
২। Translation of quran( http://www.usc.edu/dept/MSA/quran/)
৩। তাফসিরুল মারেফুল কোরআন ( http://www.banglakitab.com/quran.htm)
৪। হিমু রুদ্রের পোস্ট "স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম : নাস্তিক/আস্তিক সব ব্লগারদের জন্যে" ( Click This Link) এবং পোস্টের আলোচনাসমূহ
৫। ত্রিভুজের পোস্ট বিজ্ঞান ও কোরান ১ ( Click This Link)
৬। সৈয়দ কামরান মির্জা কর্তৃক প্রণীত Samples of Quranic Contradictions, Inconsistencies and Errors ( Click This Link)
৭। কোরআন বাইবেল বেদ ও বিজ্ঞান- ডাঃ সি এন সি বোস

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্ম ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩

 

২. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:১৯
হিমু রুদ্র বলেছেন: ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি আপনি হিন্দু ধর্মকে টেনে এনেছেন দেখছি !

এটা ঠিক হয়নি। কেন ঠিক হয়নি তার উত্তর অবশ্যই দেব।

এটুকু জেনে রাখুন : হিন্দু ধর্মের বেস বা ভিত্তি হলো পৌরাণিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে... কাজেই সেই ধর্মে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার প্রমাণ খুব কম পাওয়া যাবে !

আর আপনি কুরআন এর আয়াতের বঙ্গানুবাদ সম্পর্কে যে 'ভুল' ( ! ) গুলো সচক্ষে দেখিয়ে দিয়েছেন.. সেটার জন্য সঠিক অনুবাদ খুঁজতে হবে এখন !

কুরআন মূলত আরবি ভাষায় অবতীর্ণ ধর্মগ্রন্থ। আরবি ভাষায় একটা শব্দের যে অর্থ সে রকম হুবহু অর্থ বাংলায় পাওয়া না-ও যেতে পারে ...
১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন:
আপনার মত আরেকজন হিন্দু ধর্মালম্বী এসে হয়তো বলবে, "আপনি হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি আপনি ইসলাম ধর্মকে টেনে এনেছেন দেখছি !

এটা ঠিক হয়নি। কেন ঠিক হয়নি তার উত্তর অবশ্যই দেব।....."

আপনার মত অন্য ধর্মের একজন বিশ্বাসীও মনে করে এবং অন্ধভাবে বিশ্বাসও করে, তার ধর্মই একমাত্র সঠিক, অন্যগুলো ভুয়া....


আপনার কাছে, হিন্দুদের বিভিন্ন আখ্যানকে পোরানিক কাহিনী মনে হয়, কিন্তু মনে রাখবেন, ফিরিশতাদের কাহিনী, জ্বিন পরীদের গপ সপ- নানারকম মুজিজার কাহিনীও অনেকের কাছে পৌরানিক কাহিনীর মতই মনে হতে পারে......

১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩৪

লেখক বলেছেন:
আর আপনি যে ইয়াসীন থেকে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা টেনেছেন, সেটি এখানে পরিষ্কার করবেন আশা করি। আপনার আলোচনা ছিল এরকমঃ
"সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরিতেছে। ইহা পরাক্রমশালী প্রভুর নির্ধারিত। আমি চন্দ্রকে যথাস্থানে বসিয়ে দিয়েছি এমনকি চন্দ্রটি শীর্ণ খেজুর পাতার মতো হয়ে যায়। সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে"। (৩৬: ৩৮, ৩৯, ৪০)

ব্যাখ্যাঃ সূর্য তার নিজ অক্ষে ঘুরছে...স্থির ভাবে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষ পথে ঘুরছে... বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল.. সবার কক্ষপথ আলাদা। সূর্য এদের মাঝখানে।

৪০ নং আয়াতটি হলোঃ সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে। এই বাক্যে তারা এই সর্বনামটি মানে কি সূর্য ও চন্দ্র (রাত-দিন) নয়?? আপনি একে কিভাবে বানিয়ে দিলেন যে পৃথিবী, বুধ, শুক্র সবাই সূর্যের চারদিকে ঘুরছে??? এ ধরণের ম্যানিপুলেশন কি অন্যায় নয়???

৩. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:২০
আতরাফ রহমান বলেছেন: কষ্ট করে লিখেছেন বোঝা যায়৷ এর আগে যুঞ্চিক্ত নামে একজনও এধরনের পোস্ট দিয়ে সমস্যা করেছিলেন৷ সামহয়্যার বাংলাদেশ ভিত্তিক হওয়াতে দেশের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠির ভাবধারা তাকে ধরে রাখতেই হবে৷ এ কারনে আপনার লেখা মডারেশনের কোপানলে পড়তে পারে৷ আপনার উচিত হবে ওয়েবেই অন্য কোথাও ব্যাকাপ রাখা৷ বেশ কিছু সাইট আছে যেখানে মডারেশন নেই, সেখানে রেখে আপনার লেখার লাইফটাইম দীর্ঘায়িত করতে পারেন৷
৪. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:২৪
মাইনুল বলেছেন: আপনার পোস্ট টা অনেক বড় পরে পড়বো। তবে একটা কথা বলি ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাসের ব্যাপার। আল্লাহ তায়ালা সাইন্স শিখানোর জন্য ইসলাম কে পাঠান নাই। ইসলাম এসেছে যাতে মানুষ আল্লাহর বিধান মেনে চলে।

আর সাইন্সের কথা বলছেন। সাইন্সের চোখে কি কোন কিছু ধ্রুব সত্য আছে। আজ সাইন্সে যা বলছে, কালকে হয়তো তা মিথ্যা হয়ে যাবে। তাই সাইন্স দিয়ে কিছুর তুলনা করা কতটুকু যুক্তি সংগত ?

সাইন্স কি এই জগতের সামান্য একটু অংশ ও এখনো উদ্ধার করতে পেরেছে। এই পৃথীবি হচ্ছে মহাজগতের লক্ষ লক্ষ গ্রহ মহাগ্রহের মধ্যে ছোট একটি গ্রহ। ফরগেট এবাউট আদার প্লানেট, এই আর্থ এর ই তো অনেক কিছুই সাইন্স এখনো জানেই না।
১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:২৯

লেখক বলেছেন:
আপনিই কিন্তু ৫টি পয়েন্ট উল্লেখ করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন- কোরান কত সায়েন্টিফিক!!!!

এখন সে আলোচনা পাশ কাটাচ্ছেন কেন?


আগে, সেই আলোচনার পক্ষে যুক্তি করুন, না পারলে আগের দাবী তুলে নিন, তারপরে নাহয় অন্য আলোচনায় যাওয়া যেতে পারে....।

৫. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:২৮
আতরাফ রহমান বলেছেন: মাইনুল আপনাকে আমি ছাগু ভাবতাম৷ তবে আপনি একেবারে আবুল নন বোঝা গেলো৷ আপনি ঠিকই বলেছেন "আল্লাহ তায়ালা সাইন্স শিখানোর জন্য ইসলাম কে পাঠান নাই"৷ এই কথাটা ঠিক এইভাবে সবাই যদি বুঝতো, তাহলে আর কষ্ট করে কোরান দিয়ে সায়েন্সের ব্যখ্যা করার মতো হাস্যকর চেষ্টা করার দরকার হতো না৷ শ্রদ্ধেয় সাদিক মোহাম্মদ আলম এবং আস্তমেয়েকে স্মরনে আসলো৷
৬. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩৩
কৌশিক বলেছেন: মাইনুলের কথাবার্তা বেশ এন্টারটেইনিং। পোস্টা সোজা প্রিয়তে।
৮. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩৯
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: বিশ্বাস তার গঠনের মতই নির্বোধ। বিশ্বাস= বিশেষভাবে গৃহীত শ্বাস...
৯. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: প্রথমেই খোলাসা করে বলি, আমি আপনার লেখার একজন অসম্ভব ভক্ত এবং সন্দেহাতীতভাবেই আপনি যে মতের অনুসারী আমিও সেই মতের অনুসারী।

তবে আমার কাছে ধর্ম সংক্রান্ত যে কোন পোস্টই অযৌক্তিক মনে হয়, তা ধর্মের পক্ষেও হোক কিংবা বিপক্ষেও হোক। আমি বুঝতে পারি আপনি অনেক কষ্ট করে আপনার লেখাগুলো লেখেন। আপনাকে একজন কঠোর পরিশ্রমী গবেষক বলতেও আমার কোন দ্বিধা নেই। তবে আপনার পরিশ্রমরে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মকে ভুল প্রমাণ করা। এই বিষয়টাতে আমি আপনার সাথে একমত নই। ধর্ম ভুল বা সঠিক এটা প্রমাণ হওয়াতে কোন কিছুর পরির্তন ঘটবে বলে আমার মনে হয় না। এটা যার যার বিশ্বাস । যার ভাল লাগবে সে পালন করবে, যার ভাল লাগবেনা সে পালন করবেনা।

ধর্মকে ভুল প্রমাণ করলেও ধার্মিকরা এটা মেনে নেবেনা। ধর্ম কিংবা ধার্মিক কেউ যুক্তির ধার ধারেনা। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস এবং এর অস্তিত্ব বিশ্বাসের উপর ভর করেই টিকে আছে। এটা অবশ্যই সত্য যে ধর্মের নেশা অনেকটা আফিমের নেশার মতো। কাজেই যে জিনিসটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন তা হলো । ধর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে কেউ যাতে ক্ষমতা, আর্থিক বা সামাজিক কোন সুবিধা না নিতে পারে। এবং ধর্মের নাম দিয়ে কেউ যাতে পিছিয়ে পরা সমাজের কোন অংশ বিশেষ করে নারী এবং সংখ্যালঘুদের দমিয়ে রাখতে না পারে। সর্বোপরি ধর্ম যাতে মানুষের কথা বলার স্পৃহাকে বন্ধ করে দিতে না পারে তার দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখা। আমরা যদি ধর্মের ভুল প্রমাণের চেয়ে ধরর্মর ব্যবহারকারীদের হাত হতে এই বিষয়গুলোকে নিস্কৃতি দিতে পারি তবে তাই হবে সবার জন্য মঙ্গলকর।
১০. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫
বৃত্তবন্দী বলেছেন: আপনি অনেক পড়াশোনা করেন বুঝা যায়।
আমি আসলে নিজেকে এক্সপ্রেস করতে পারিনা।
আপনি যদি দেশে থাকেন তাহলে আপনার সাথে দেখা করার ইচ্ছা থাকলো।অবশ্যই আপনার অনুমতি সাপেক্ষে।
১১. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৬
দি ওয়ান বলেছেন: Religion is a support for the people who are weak inside and who cant accept that there is not a single entity (God) who controls everything.

These people need the idea of the existence of God in their very own way (Thats why there are so many religions and Gods and prophets).

Who knows there may be a God! But who cares! We should help each other to make our life more comfortable and joyful. But all we do is to make divisions and discrimination among us for the sake of different religions. These are just bullshits!

Religion has nothing to do with science. Cause science is dynamic. What is accepted in science today can be discarded tomorrow if a better explanation comes. But religion is some ideas and a Holy Book that is not changeable. So why people compares these two completely different things! Cause most people are nothing but morons!

Everybody can have his own personal belief, but why people fights with others to prove that their belief is true and others are wrong. If he knows he is right then he should mind his own business and should not to fight with others. And he makes himself a fool when he tries to do this...
১৪. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:১১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
@ফরহাদ উদ্দীন স্বপন এবং এক্স ফাইলস,

স্বপনের আমার পোস্ট সম্পর্কিত এনালাইসিস হলো "আপনার পরিশ্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মকে ভুল প্রমাণ করা"। আমি নিজে আমার পোস্ট সংক্রান্ত ধারণা পোষণ করি অনেকটা এমন : "ধর্মের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাজগতকে যেভাবে বদ্ধ করে দেয়া হয়- সেটিকে উন্মোচিত করা"। (কতখানি পারি সেটি এখনো জানি না!)। এটি করতে গিয়ে যেটি প্রকৃতই ভুল- সেটিকে ভুল বলতে পিছপা হওয়ার কথা ভাবতেও পারি না। এটাকে আমার স্পিরিট হিসাবে ধরতে পারেন।


এবারে আসি আমার লেখার উদ্দেশ্যের সাথে যেখানটিতে আপনি একমত নন- সে জায়গাটিতে। আপনি বলেছেন, "ধর্ম ভুল বা সঠিক এটা প্রমাণ হওয়াতে কোন কিছুর পরির্তন ঘটবে বলে আমার মনে হয় না। এটা যার যার বিশ্বাস । যার ভাল লাগবে সে পালন করবে, যার ভাল লাগবেনা সে পালন করবেনা"।

আপনার এই মতের সাথে আমি একমত নই। আমি মানব ইতিহাস যতখানি পড়েছি, জেনেছি, এবং আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে মানুষকে যতখানি দেখেছি, আমার অন্যরকম মনে হয়েছে।

বিশ্বাস মানুষের গড়ে ওঠার পেছনে একটা ইতিহাস থাকে, কখনো কখনো বিশ্বাস মানুষের মর্ম মূলে গিয়ে বাসাও বাঁধে। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে ইমপরটেন্ট হলো, আমি যদি এই বিশ্বাস বা অন্ধ বিশ্বাসকে মানুষের অগ্রগতির পরিপন্থী হিসাবে পাই, তবে সেই বিশ্বাস যতই গভীরে বাসা বাঁধুক না কেন- একে আঘাত করাই উচিৎ মনে করি। এবং এটাও মনে করি, কোন অন্ধ বিশ্বাসই চিরস্থায়ী নয়। সাময়িকভাবে তা জেকে বসতে পারে, কিন্তু একদিন না একদিন সত্য উন্মোচিত হবেই হবে।


আর, অন্ধত্ব ত্যাগ করবে না, যে যেরকম আছে সেরকমই থাকবে এটা বলে চুপ থাকাটা কাজের কিছু মনে করি না। কেননা, সত্য সন্ধানের অন্য কোন উপায়ও আমার জানা নেই।
১৫. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
আরিফুর রহমান বলেছেন: ফরহাদ স্বপনকে:

আপনি কি কাঙ্গাল মুরশেদের পোস্টগুলি দেখেছেন? যার উদ্দেশ্যই হলো বিজ্ঞানের অসারতা প্রমান করা এবং ধর্ম নামের বিশ্বাস ভিত্তিক কার্যক্রমকে বিজ্ঞানের সাথে গুলিয়ে ফেলা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাস্তিকের ধর্মকথার পোস্টটি প্রাসঙ্গিক এবং সুস্থতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

এই মুহুর্তে ধর্মবাজগন তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যেখানে ব্লগের অপব্যাবহার করছে, সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনাকে 'শুধুমাত্রই ধর্ম ভুল প্রমানের চেষ্টা' হিসেবে দেখলে আপনাকে একচোখা মনে হতে পারে।

আমার মনে হয়, আলোচ্য লেখক সর্বসাধারনের অবগতির জন্যই এই পোস্টের অবতারনা করেছেন, ধর্ম যদি তাতে কিঞ্চিৎ ক্ষতিগ্রস্থও হয় তা আখেরে সবার ভালই করবে, মন্দ নয়।
১৬. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:১৭
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: @হিমু রুদ্র ...আপনি নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চান,খুব ভালো কথা ...কিন্ত এটা করতে যেয়ে অন্য ধর্মকে নিচু দেখানো আপনার ছোট মানসিকতার প্রমান দেয়। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস...আপনার বিশ্বাস আপনার কাছে...অন্য ধর্ম কে ছোট প্রমান করতে পারলেই আপনি একেবারে ডাইরেক্ট বেহেশতে চলে যাবেন ভাবছেন?এত সহজ না সবকিছু...আপনি ফাকা বুলি দিয়েই যদি ভাবেন আপনি ধর্ম প্রচার করছেন তাহলে ভাই আপনি আসলে আপনার ধর্ম এর ক্ষতি করছেন...মহানবীর আদর্শ মেনে চলুন...আগে নিজে ঠিক হোন,তারপর উপদেশ...
১৭. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
স্বাপ্নিক বলেছেন: একমত @ সাঁঝবাতি। হিমু সাহেব নিজের ধর্ম নিয়ে খুবই সেনসিটিভ, কেউ কিছু বললেই খড়গহস্ত হয়ে যান, কিন্তু নিজে বলার সময় তো দেখছি, অন্য ধর্মকে অপমান করতে ছাড়েন না, কেমনে কি ...
১৮. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৩০
এক্স ফাইলস্‌ বলেছেন: @ লেখক, আপনার যে বিশ্বাস সেটাও কোন না কোন ভাবে বেড়ে ওঠা। সেটার উপর ভর করে অন্য কোন বিশ্বাস (ধর্ম) কে আলোর পথে বাধা বলার প্রয়োজন কি?
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১১

লেখক বলেছেন:
আলোর পথে বাধা বলি কারণ, ধর্ম মানুষকে আলো দেখতে বাধা দেয়। যখন বিপরীত মত, পথ শুনতে- পড়তে আপনি বিব্রত করবেন, তখন আপনি বুঝবেন আপনার মনের জানালাগুলো বন্ধ করে দিলেন। যখন কোন কিছুই যাচাই না করে, আপনার যে যুক্তিবোধ, প্রজ্ঞা আছে সেগুলোকে ব্যবহার না করে কোন একটি কথাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন, তখন বুঝতে হবে আপনি নিজেকে অন্ধকার কুঠুরীতে আবদ্ধ করছেন।

একজনন মুসলমান অন্য ধর্মগ্রন্থ না পড়েই, না কমপেয়ার করেই কি বলতে পারে কোরান শ্রেষ্ঠ? স্বাভাবিক প্রজ্ঞা দিয়ে কি মনে করেন? একজন কেউ কি বলতে পারে, কোরানের কাছে সেসময়ের আরবের সমস্ত কবি ফেল মারছে, যে সেসময়ের কাব্য সম্পর্কে সামান্যতম ধারণা না রাখে? এসবই হলো অন্ধত্ব! সব ধর্মীয় বিশ্বাসীরা এটি করে। এবং এভাবে আলোর পথ বন্ধ করে রাখে।

আর, আমার বিশ্বাস নিয়ে যেটি বললেন, সেটি কেন বললেন জানি না। তবে এটুকু অন্তত বলতে পারি, আমার যেকোন বিপরীত মত আমি শুনতে বা পড়তে, তা নিয়ে চিন্তা করতে, পর্যালোচনা করতে এবং সেখানে যদি যথার্থতা থাকে, তা গ্রহণ করতে পিছপা হবোনা।

আপনাকে ধন্যবাদ।

১৯. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪৯
সপ্ন বলেছেন: আমি বন্ধু মাইনুল এর সাথে এক মত। ধর্ম তর্কের বেপার নয়, বিশ্বাষ এর বেপার। অামার মনে হয় লেখক এর উচিৎ কোরআন আরো ভালো করে পড়া এবং তা সঠিক ভাবে বোঝার চেষ্ট্ করা। আল্লাহ আপনাকে সহযোগিতা করুন। ভালো থাকুন। আরো পরে লিখবো.....
২০. ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
এক্স ফাইলস্‌ বলেছেন: লেখক বলেছেন-"ধর্মের মাধ্যমে মানুষের চিন্তাজগতকে যেভাবে বদ্ধ করে দেয়া হয়- সেটিকে উন্মোচিত করা"

ধর্মের কারণে কারও চিন্তাজগত বাধাগ্রস্হ হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। যারা চিন্তা করতে চাননা বরং তাদের জন্য ধর্ম হাতিয়ার হয়েছে কখনো কখনো।

আর বিজ্ঞানের ব্যাপারে আমার মনে হয়, আমরা যে গবেষনাগুলো করি তা বড়ই localized, উদাহরণ স্বরুপ একটা কোষের একটা প্রোটিন নিয়ে গবেষনা করেই আমরা ফলাফল দেই। কিন্তু সামগ্রিক কার্যকারণ দেখার সুযোগ একরকম অসম্ভব।



১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১৯

লেখক বলেছেন:
ধর্মের কারণেই চিন্তাজগৎ বাধাগ্রস্ত হয়।

ধর্ম একটি চিন্তাজগতকে ফ্রেমবদ্ধ করে দেয়, তার বাইরে সে আর চিন্তা করতে পারেনা, বা বলা যায় সে যে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর বাইরে বেরুতে পারছে না- সেটিও জানে না।

ধরুন, সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে এটিকে যখন ধর্ম সত্য হিসাবে ভাবতে শিখিয়েছিল, সেটিকে মানুষ অন্ধভাবে আকড়ে ধরেছে। ফলে যখন কোপার্নিকাস-ব্রুনো-গ্যালিলিও রা প্রমাণ করে দেখিয়ে দেয় যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, তখন বিশ্বাসের কারণে ধার্মিকদল এই সত্যটি দেখতে পারা দূরের কথা, এমন কিছু বাইবেলের বাইরে থাকতে পারে, সেটা কল্পনাও করতে পারে না! আজো অনেকে বিবর্তনবাদ মানতেই পারে না! কল্পনাই করতে পারে না।

এভাবেই ধর্ম মানুষের চিন্তাজগৎকে লিমিটেড করে দেয়।


আর বিজ্ঞান লোকালাইজড, সমাগ্রিক নয়- এসব কেন বললেন বুঝতে পারলাম না।

২১. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:২১
এক্স ফাইলস্‌ বলেছেন: যেকোন ধরনের অন্ধত্ব আমিও পছন্দ করিনা। তবে আপনার কথিত এই অন্ধত্ব দূর করার তেমন কোন সুন্দর পন্থাও আজ পর্যন্ত পাইনি।
২২. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:২৯
এক্স ফাইলস্‌ বলেছেন: ধরুন একটি ড্রাগ এর কথা। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট জায়গায় এর এফেক্ট টাই আমরা মাপতে সক্ষম। অর্গান বা পুরো শরীরের উপর এর প্রভাব বুঝতে আমাদের লাগে কয়েক বছর। আর বিজ্ঞানের শুধু ভালো ফলাফল টাই আমাদের নাগালে পৌছায়। কত কিছুই লুকিয়ে ফেলি আমরা বিজ্ঞানীরা, অনেকটা ধর্ম ব্যবসায়ীদের মতো তার কোন হিসাব নাই।

যাইহোক, আমার পড়াশুনা সীমিত। বর্তমানে যেটুকু ভাবতে পারি তাতেই আমি খুশি।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
২৪. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


আপনার আলোচনার সুক্ষ কারচুপির দু'টি নমুনা। ভোট কারচুপির মতো। ;)


১। "গ্রহ-নক্ষত্ররা চলে ও অদৃশ্য হয়" (৮১:১৫) এই অনুবাদের বদলে "তারারা পিছু হটে''

-এই অনুবাদদ্বয়ে শাব্দিক পার্থক্য থাকলেও উভয় অনুবাদে কি গ্রহ নক্ষত্রের মোভমেন্টের ইনফরমেশন নেই? আছে। আপনি মোভমেন্টকে প্রাধান্য না দিয়ে শাব্দিক পার্থক্যকে বড় করে দেখাচ্ছেন।


২। 'আর, জমিন বা পৃথিবীকে পাতানো বিছানো হিসাবে তৈরী করে সেখানে পাহাড়-পর্বত দিয়েছেন'

- কোরআনে তো বলা হয় নাই 'পৃথিবীকে পাতানো বিছানো'। আপনি বললেন কোরআন দেখিয়েছে। ওখানে পৃথিবীর স্ট্যাটিক অবস্থার যে বর্ননা তা তো ঠিকই আছে। বিজ্ঞান আমাদেরকে জানালো, পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে তিরিশ কিলোমিটার বেগে বর্ষ পরিক্রমনের দৌড়ে আছে। এবং দৌড় দুটি। আহ্নিক ও বার্ষিক। কিন্তু এতো দ্রুত বেগে দৌড়ের মধ্যেও ভূপৃষ্টের সকল প্রকার আয়োজনের কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে স্থিতাবস্থায়ই সে তার কক্ষপথের মোভমেন্টে আছে। আপনি এ ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেন।
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০০

লেখক বলেছেন:
এইতো অবশেষে যুক্তি-তর্ক পেলাম। আপনি যে এতে অবতীর্ণ হলেন সেকারণে আপনাকে ধন্যবাদ।

এবার আসি আপনার পয়েন্টে...

১। গ্রহ-নক্ষত্ররা চলে ও অদৃশ্য হয় এখানে মোভমেন্ট আছে, এবং তারারা পিছু হটে এখানে মোভমেন্টের কথা আছে। কিন্তু এই লাইন থেকে যখন বিজ্ঞানী হাবলের দূরবর্তী গ্যালাক্সিসমূহ মিল্কিওয়ে থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এটার যোগসূত্র পাওয়া যায়, তখন শুধু মোভমেন্ট দেখালেই এনাফ হয় না, সেখানে গ্রহ-নক্ষত্র চলে ও অদৃশ্য হয় এটা হয়ে যায় তারারা পিছু হটে। এই পিছু হটার বা পশ্চাদপসরণের সাথে হাবল এর আবিষ্কারের পশ্চাদপসরণের একটি সম্পর্ক এভাবে খুজে ফেলাতেই আপত্তি।

২। এই এত বেগের পরেও আমরা পৃথিবীর রিলেটিভ মোভমেন্ট শূণ্য পাচ্ছি, সেটির কারণ কি পাহাড়-পর্বত? কোরানে বারবার বলা হয়েছে, পাহাড়-পর্বত স্থাপনের কারণেই পৃথিবী হেলে পড়ছে না, ঝাকি খাচ্ছে না। ইত্যাদি। কিন্তু আসল কারণ হলো, পৃথিবীর উপরিস্থিত সমস্ত কিছু আর পৃথিবীর আপেক্ষিক গতি ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি- সে সম্পর্কে গোটা কোরানে কিছুই নেই। আমি কি এড়িয়ে গেলাম বুঝলাম না। আপনি মনে হয় পুরো পোস্ট ভালো করে পড়েন নি।

২৫. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: সম্ভবত আমরা কথা বলছি চেতনা, রাজনীতি, অন্ধ বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে। ধর্মর কারণে চিন্তার গতি বাধাগ্রস্ত হতেই পারে। কেননা এটা প্রশ্নকে সরিয়ে বিশ্বাসকে প্রাধান্য দেয়। আধুনিক চিন্তা যতই দাবী করুক না কেন মানুষ সবসময়ই যৌক্তিক, তার চর্চা কিন্তু তা বলে না। আবার যৌক্তিকতা জ্ঞান ক্ষমতা সম্র্পকের ডিসকোর্সের মধ্য তৈরী হয়। তাই এটাকেও ক্রিটিক্যালি না দেখা সমস্যা জনক।
এক্স এর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হল,---কত কিছুই লুকিয়ে ফেলি আমরা বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানের রাজনীতি নিয়েও সতর্ক থাকা দরকার। বিজ্ঞানও এখন পরম সত্যের কথা না বলে বরং প্রকল্পের কথা বলে। আর বিজ্ঞানের নানান কিছুই প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। যদিও এটাকেই ধর্মকে বৈধতা দানকারীরা আগ্রহ নিয়ে আঁকড়ে ধরতে চান। নিমগাছে কখনোই আম ফলবে না বলে আমরা জানি, কিন্তু বিশ্বাস তাড়িতরা নিজেদেরকে সত্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে প্রতিনিয়ত পরস্পর বিরোধী এই ফালে লাফ দেয়। যদিও এটার কারণ আর্থসামাজিক.....বিজ্ঞানের ডিসকোর্স অনেক শক্তিশালী বলে....ধর্মের এখন বিজ্ঞানের দ্বারা বৈধ হওনের খায়েশ জাগছে। দূর্বলের কতকিছু যে করতে হয়।
২৬. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


কোরআনের যে-সব অনুবাদ ইং বাং মিলিয়ে আপনি 'হাসবেন না কাঁদবেন' অবস্থার কথা বললেন। অনুবাদগুলো আবার দেখুন তো অন্তর্গত সার কথায় পার্থক্য আছে কি না? আমি তো দেখছি নাই।
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:০৫

লেখক বলেছেন:

আমি তো অনুবাদ মিলিয়ে হাসবো না কাদবো অবস্থানের কথা বলিনি!!
আপনি কি পোস্ট পড়ে কমেন্ট করছেন, নাকি মনমত যা ইচ্ছা তাই লিখেছেন??

আর, সব অনুবাদকে যদি একই মনে হয়- তখন আমার কিই বা বলার থাকতে পারে!!!

সূর্য নিজ অক্ষে ঘুরছে আর সূর্য তার গন্তব্যপথে বিচরণ করে এ দুটিকে যদি আপনি একই বলতে চান, তবে আপনাকে বলবো চোখের ঠুলীটি রেখে এসে আলোচনা করুন।

২৭. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:২২
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


আপনার জবাব ২। প্রসঙ্গে-

আপেক্ষিক গতি ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কথা উল্লেখ না থাকলেও এই গতি যে গ্রহটিতে লালিত জীবন্ত ফেনোমেননগুলোর কোনো ক্ষতি সাধন করছে না, তা আল্লাহ জানিয়েছেন। আল্লাহ যা উল্লেখ করেন নি, তার পিছনে তাঁর কি হেকমত তা নিয়ে না হয় কাইল কেয়ামতে আল্লাহর মুখোমুখি হলে কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিবেন।





আপনাকে একটা অনুরোধ করি, কোরআন একটি মাল্টিলেয়ার্ড মিনিংফুল ধর্মগ্রন্থ। এবং এই কারণেই বহুবিধ ইন্টারপ্রিটেশন এসেছে এবং আসবে। আমাদের দেখতে হবে ভাষিক পার্থক্য কোথাও অন্তর্গত সার কথার বিপরীত হচ্ছে কি না।

এটা ঠিক যে, উপমহাদেশের অনেক 'বাঘা মোল্লা'র চাইতে পশ্চিমের যারা কম্পারেটিভ রিলিজিওন স্টাডি করেন, তাদের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা উন্নতমানের। আমি অন্তত তক্বদীর বিষয়ে কিছু ঘাটাঘাটি করতে যেয়ে এই পার্থক্য দেখেছি।


আপনার পোস্টের কেন্দ্রীয় বার্তা ধর্মকে ফলসিফাই করা। এই রকম ইনটেশন নিয়ে আর যাই হোক নৈর্ব্যক্তিক বা বিশ্বস্ত ডিসকোর্স তৈরী হয় না।


আপনার প্রবণতা রহস্য উন্মোচনের দিকেও বটে। কিন্তু কংকুলশন দিয়ে দেন যেভাবে তাতে নিগেটিভ ইনটেশনটা মূর্ত হয়ে যায়।

আমি জানি এবং মানি, ধর্মকে কেন্দ্র করে অগণন আগাছা উৎপাদিত হচ্ছে সমাজে। কিন্তু আগাছা সাফ করার মহৎ কাজটি যদি এমন হয় যে, ফসল যোগ্য জমিরই বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন, তাহলে কি হিতে বিপরীত হয়ে যায় না?
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪

লেখক বলেছেন:
আপনি ২ এর জবাব দিতে গিয়ে কি বললেন? এত খানি আলোচনা কি ২ এর সাথে প্রাসঙ্গিক?

যে পৃথবীর গতি সম্পর্কে জানে না সেও অভিজ্ঞতায় দেখে ও জানে যে, পৃথিবী স্থির- কোন নড়নচড়ন নেই। পৃথিবীর কোন নড়চড়ন নেই, এটা হেলে পড়ে না- এসব বলার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই তাই। কিন্তু আমার প্রশ্নটি ছিল অন্যখানে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম- পৃথিবী যে নড়ে চড়ে না, বা হেলে পড়ে না- সেটার কারণ হিসাবে আল্লাহ বারবার এরশাদ করেছেন- তিনি পাহাড়-পর্বত পৃথবীতে খুটি হিসাবে গেড়ে দিয়েছেন। এটি বিজ্ঞানসম্মত???? মূল প্রশ্ন আমার এটিই। এর উত্তর দেন আগে, এর সাথে সম্পুরক প্রশ্ন হিসাবে বলেছিলাম- কারণ যদি বলতেই হয়, যিনি যানেন তিনি বলবেন আপেক্ষিক গতি ও মাধ্যাকর্ষণ বলের কথা।

২৮. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৬
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


সামান্য একটু ফুসসত পেয়ে ব্লগে এসেছিলাম একটা পোস্ট দিতে। পুরা সময়টা আপনার পোস্ট পড়ে ও মন্তব্য করেই পার করলাম। আর আপনি বলছেন, আপনার পোস্ট পড়ি নি। এই রকম আজগুবি হাইপথেটিক্যাল প্রিডিক্ট কইরা তো মিয়া ভাই পাবলিক খেদাইবেন আপনার ব্লগ-বাড়ি থিকা। ;)


সূর্যের গন্তব্যপথটাই তার কক্ষপথ ধরলে তো অসুবিধা থাকে না।
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩

লেখক বলেছেন:
হাইপোথিটিকল না, আমি কারণ সহই আপনাকে সেই প্রশ্ন করেছিলাম যে, আপনি আমার পোস্ট পড়ে মন্তব্য করছেন কিনা।

কারণটি আবার বলছি।

আমার পোস্ট পড়ে আপনি আলোচনা করলেনঃ "কোরআনের যে-সব অনুবাদ ইং বাং মিলিয়ে আপনি 'হাসবেন না কাঁদবেন' অবস্থার কথা বললেন"।

অথচ, আমি যেখানে অনুবাদ নিয়ে অসঙ্গতিগুলো দেখালাম- সেখানে একবারো হাসি-কান্নার কথা উল্লেখ করিনি (অনুবাদগত বিচ্যুতি প্যারাটি আবার পড়ে দেখেন)!!!

আমি হাসি-কান্নার কথা উল্লেখ করেছি- কোরানের আয়াতের সাথে বিজ্ঞানের (হাবলের) আবিষ্কারের জোরকৃত মিল দেখানোর বিষয়ে। সেটি কি আপনি খেয়াল করেন নি??


এখন যেহেতু আপনি বলছেন আপনি ভালো করে পড়েছেন তখন কি ধরে নেব- আপনি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন??? না-কি, পড়তে গিয়ে সব গুবলেট বানিয়ে ফেলেছেন!!!!


সূর্যের গন্তব্যপথকে তার কক্ষপথ ধরা, আর নিজ অক্ষে ঘুরছে- এরকম একটি বৈজ্ঞানিক প্রপোজিশনের সাথে একাকার করা আলাদা কথা!!!

কেননা, সাধারণ দৃষ্টিতেই দেখা যায় সূর্য পূর্ব দিকে উঠে, পশ্চিমে অস্ত যায়। সেখান থেকে যেকেউ বলতে পারে সূর্য তার গন্তব্যপথে ভ্রমণ করে। কিন্তু সূর্য নিজ অক্ষে ঘুরছে এটার জন্য বিজ্ঞানের কিছু হিসাবের প্রয়োজন আছে। এখন গন্তব্যপথে গমনকে কেউ যদি নিজ অক্ষে ঘুরছে বলে ধরে নেয় বা চালাতে চায়- তখন তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক।

২৯. ১৪ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬
অপ বাক বলেছেন: শব্দের যত রকমের বিচ্যুতি এবং উপমা দিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে নিয়ে আসা যায় এরা তা করবে , এরা এমনটা করে তার কারণ নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা কিংবা নিজের বিশ্বাসকে অকাট্য প্রমাণ করবার জন্য এমন না, সম্ভবত এটা একটা প্রতিক্রিয়া,
নিজের বিশ্বাসের জগত ভেঙে গেলে যে মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে সেটা রদ করবার জন্যই এমন আয়োজন। ডারউইনের বিবর্তনবাদ নিয়ে একটা ডকুমেন্টারিতে দেখলাম, চার্চের পুরোহিতকুল এই বিবর্তনবাদকে অগ্রাহ্য প্রমাণ করবার জন্য রীতিমতো পরিশ্রম করছেন। তারা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের কথা তুলে আনছেন- ও মাই গড দে সে আওয়ার এনসেস্টর ওয়্যার মানকিস। ডু ইয়্যু বিলিভ ইট
চার্চের সব শিশু একসাথে চিৎকার করছে, নো নো নো।

এই বিশ্বাস আর সংস্কৃতির ধারাটা তৈরি করে কারণ কোথাও কেউ বিজ্ঞানকে মেনে নিতে পারছে না। তাদের নিজের এই মেনে নিতে না পারাটার প্রতিক্রিয়া ধর্মকে বিজ্ঞানময় করে তোলার অনুপ্রেরণা।

পশ্চিমে বাইবেলকে বিজ্ঞানময় করে তুলবার প্রবনতার পরে মুসলিম বিশ্বে কুরাণকে বিজ্ঞানময় করে তুলবার প্রবনতা শুরু হয়েছে।
এর আগে ইসলাম আর কুরাণের মূল দায় ছিলো সম্ভবত আমর ধর্ম শ্রেষ্ঠ এটা প্রমাণের জন্য এর জীবন বিধানকে ব্যাখ্যা করা, বিজ্ঞানের ক্ষমতা বেশী এটা বুঝা যায় কারণ বিজ্ঞান ধর্ম দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় না। উল্টো ধর্ম বিজ্ঞানকে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
আর ধর্মীয় বিদ্বেষের বলি হয়েছে ব্যাংকিং ব্যাবস্থা, মানুষের ধর্ম বিশ্বাসের কোমলতার সুযোগ নিয়ে হয়েছে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা। মিশরের কতিপয় উজবুক মুসলিম ব্রাদারহুড করেছে, তাদের ক্ষমতার লড়াই ধর্মকে ব্যবহার করে, সেই নেশা জমেছে মওদুদীর, সে এখানে খুললো জামায়াতে ইসলামী, সৈদি বাদশাহ বুকাইলিকে দিয়ে যা ইচ্ছা তাই লিখিয়ে নিলো, বুকাইলিও পয়সার বিনিময়ে কুরানকে বিজ্ঞানময় করে ছাড়লো। আসলো ইয়াহিয়া।
তবে সম্পুর্ণ প্রক্রিয়াটাতে আসলে ধর্মবিশ্বাসী মানুষেরা আনন্দিত। তাদের বিশ্বাস করবার প্রক্রিয়াটি যে সম্পূর্ণ আধুনিক এবং এটা বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক প্রজন্মের উত্তরাধিকার বহন করে এটা ভেবেই তারা সান্তনা পেয়ে থাকে।
এখানে এইসব নিয়ে আলোচনার পরিসর নেই , হয়তো আলোচনাটাও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেলো।
তবে চমৎকার গোছালো আলোচনা। এই রকম আলোচনা হয়তো করবার মানসিকতা নেই অনেকের।
৩০. ১৪ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৪
আরিফুর রহমান বলেছেন: অপবাকের কমেন্টে জাঝা!
৩১. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৫৭
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

'ধর্মগ্রন্থ হয়ে ওঠে সায়েন্স এনসাইক্লোপিডিয়া!!'


-এইটা আপনিই বললেন। কোনো মুসলিম ধার্মিক কোরআনকে সায়েন্স এ্যানসাইক্লোপেডিয়া বলতে দেখি নি।
৩২. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:০৪
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


কোরআনের অনেক কথা সিম্বলিক বা মেটাফরিক হতে পারে। তা কি আপনি ভেবেছেন ?
৩৩. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:০৪
নেমেসিস বলেছেন: চমৎকার পোস্টটা সোজা শোকেসবদ্ধ কর্লাম ।
৩৪. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:১৫
অপ বাক বলেছেন: সারওয়ার চৌধুরি, মেটাফোর বিষয়টা অনেক কিছুকেই টেনে অনেক কিছু করে ফেলতে পারে।
গীতা পড়ছিলাম একদিন, ব্যাখ্যাসমেত, সেখানে গীতার প্রথম বক্তব্য হলো, কৃষ্ণ সর্বাকর্ষক, কৃষ্ণ সব কিছুই আকর্ষণ করেন। এটাতে বুঝানো হয়েছে কৃষ্ণ গহ্বরের কথা। কৃষ্ণ গহ্বর যেমন সকল কিছুকে আকর্ষণ করে , সকল পদার্থকে কৃষ্ণ নিজের দিকে টানেন।

এইখানে এই মেটাফোরটা মেনে নিলে সেই ৫০০০ বছর আগেই আসলে কৃষ্ণগহ্বরের বিষয়টা আর্যমুনিদের জানা ছিলো। তারাই বিজ্ঞানের অনেক আগেই এটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মেটাফোরিক্যালি।
গীতা আর মহাভরতের মতো বিজ্ঞানময় গ্রন্থ পাঠ না করে, সনাতন ধর্মে আকৃষ্ট না হয়ে কেনো মুসলিমদের গ্রন্থ নিয়ে পরে আছি আমরা।
বৈজ্ঞানিকতার প্রমাণ দিতে গিয়ে বেচারা এক বাংলাদেশী শমসের আলী বলে ফেললেন কোরান আগেই কৃষ্ণ গহ্বরের কথা বলা হয়েছে।
পরে পড়ে দেখলাম তাওরাত, বাইবেল, ভগবতগীতা আর মহাভারত সবাই অনেক আগেই এসব বলে গেছে, উপমায় উপমায়।
অনেক আগের কথা না রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতায় আছে আলোর কণার কথা, জীবনানন্দের একটা কবিতায় আছে আলোক কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে- জীবনানন্দ মনে হয় হাবলের জার্নালটা পড়ে এই কবিতা লিখেছেন, তবে তিনি এটা স্বীকার করেন নি।

উপমা নিয়ে যেতে যেতে অনেক কিছুই অনেক কিছু প্রমাণ করে দেওয়া যায়। এটা এইভাবে দেখলে এ রকম, ওভাবে দেখলে এটা ওরকম। একই কথার প্রশংসাসূচক এবং নিন্দাসূচক অর্থ নির্ধারণ করা সম্ভব।

এই যে আসমান জমিনের মাঝের ফারাকটা, সেখানে পৌঁছাতে গেলে জ্বিনদের পাথর ছুড়ে মারে, এই সীমানাটা কোথায় ভাই। এই উপমার অর্থ কি?

অন্ধজনে দেহ আলো প্রকল্প নিয়ে নাস্তিকের ধর্মকথা যে প্রচারণা শুরু করেছে সেটাতে অন্ধজনের আলোকিত হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু এটা নিয়ে একটা বিশাল সন্দেহ থাকলেও, অন্ধদের হাতড়ে বেড়ানো দেখতে খারাপ লাগে না।
৩৫. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

@অপ বাক

হুমম...
আমার উদ্দেশে দেয়া আপনার কমেন্টের উপসংহার মোতাবেক ধরে নিলাম আমি অন্ধ। আমার আলোর দরকার। যিনি আমাকে আলো দিতে এসেছেন, তিনি আমাকে ঠিক আলো দিচ্ছেন কি না তা বুঝার ক্ষমতা আমার থাকে যদি, তাহলে আমি এটা বলার অধিকার রাখি যে, তিনি আলো দিচ্ছেন না আগুন দিচ্ছেন আমাকে পুড়িয়ে মারার জন্যে! আলো অন্ধকার দূর করে। আগুনও অন্ধকার দূর করে! আগুনের লেলিহান শিখা সব কিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিজেই অন্ধকারে গা ঢাকা দেয়! ছাই-ভস্ম পড়ে থাকে হতভাগা মাটির পৃথিবী পৃষ্ঠে!

এই পোস্টের ব্যাপারে (যা আপনার বিবেচনায় আলো) আমি শুধু এইটুকুই বলবো, কোরআনের যে-সব তর্জমা একাট্টা করে পোস্টদাতা আকাশ পাতাল তফাতের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা সঠিক নয়। শাব্দিক পার্থক্য থাকলেও অন্তর্গত সার কথাতে ফারাক নেই। ভাষিক পার্থক্য থাকতেই পারে।
আর কোরআনে যা নেই, তা কেন নেই? এমন প্রশ্ন উত্থাপন অবান্তর মনে করি। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্ন তো আপনি মিলিয়ন প্রকারের উত্থাপন করতেই পারেন। প্রশ্নের প্রজ্ঞাজাত ভেলিডিটি থাকতে হবে তো? আপনাকে কেউ যদি এ রকম প্রশ্ন করে যে, 'এতোদিন হাত দিয়ে খাওয়া হয়েছে, এখন পা দিয়ে খেতে হবে। নুতনত্বের জন্যে পা দিয়েই খাওয়া উচিত নয় কি?' - এই প্রশ্নকারীকে কি বলা যায় আপনিই ভাবুন।

ও আচ্ছা মনে পড়লো, আপনার 'রাজনৈতিক জিঘাংসা ব্লগে-' শীর্ষক পোস্টের ভেতর আলো দেখতে পেয়েছিলাম। সিরিয়াসলি। নট ফান।
৩৬. ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ১০:০৩
হট্টগোল বলেছেন:

পোস্ট প্রিয় বাক্সবন্দি করা হলো। আপনার লেখা প্রায়ই পড়ি, ভাবছি আবার শুরু থেকে শুরু করতে হবে।

মডারেশনের কথা মাথায় রেখে ওয়েবের অন্য কোথাও আপলোড করে রাইখেন আপনার লেখাগুলো।
৩৭. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০০
অপ বাক বলেছেন: আমার বক্তব্য ছিলো মেটাফোরকেন্দ্রিক। মেটাফোর বিষয়ে বললে বলতে হবে মেটাফোর সব সময় নিজের মতো সাজানোর বিষয় থাকে। আমি কোনটাকে ঠিক কোন অর্থে ব্যবহার করবো এটা আমার নিজের ব্যবসায়িক বুদ্ধির উপরে নির্ভর করবে।

যারা মেটাফোরকে অনেক ভাবে ব্যবহার করতে চায় তাদের জন্য পন্থার কমতি নেই, সে যেই নামের ধর্ম ব্যবসায়ী হোক না কেনো- তার একটাই লক্ষ্য থাকে ধর্মকে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা।
কোন মনোবাসনা পুরণে কে কোন মেটাফোর তৈরি করছে, এটা বুঝা কঠিন, যাদের ক্ষমতা আছে তাদের জন্য এটা পাথেয় স্বরুপ- এই রকম কিছু একটা আছে কোরানে, এটাকে আমি অতি সরল ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যেনো এটা পড়ে তোমরা জ্ঞানলাভ করতে পারো।

এটার ভিন্ন ভিন্ন অর্থ খুঁজবার প্রবনতাটা শুরু হয়েছে এই গত ৫০ বছরে- এটাও এক ধরণের সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া। ( আমার উপরের মন্তব্যটা দ্রষ্টব্য)
যখন দেখলো কতিপয় মুসলিম ইহুদি নাসারারা সবাই মিলে তাদের ধর্মগ্রন্থকে বিজ্ঞানসম্মত করে তুলছে, জেগে উঠলো ইসলামী জোশ, বিবি তালাকের ফতোয়া খোঁজা ইসলামী ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবসার উপলক্ষ্য পেয়ে সেটাকেও ব্যবহার করলো।
একেক জন একেক ভাবে এই এই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে- কেউ বাইবেলের ভুল ধরে, কেউ বাইবেলের চেয়ে কোরানকে অধিকবিজ্ঞানময় প্রমাণিত করে।
সমস্যা কিংবা লজ্জার হলো তাদের অধিকাংশের আলোচনার ভিত্তি হলো বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিবর্তনবাদের প্রতিক্রিয়ায় খ্রীষ্টার মিশনারি আর পাদ্রীদের লেখা বইপুস্তক, সেখান থেকে মেটাফোস সংক্রান্ত ধারণাগুলো গ্রহন করে সেটার সুন্নতে খাৎনা দেওয়ার কাজটা করছে এইসব তথাকথিত বিজ্ঞানসেবী।
৩৯. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:২৮
হ্যারি সেলডন বলেছেন: কোরাণে সায়েন্স খুঁজতে যায় যারা তাদের বিশ্বাস দূর্বল।


নাস্তিকের ধর্মকথা, আমি কয়েকদিনের মধ্যেই নাস্তিকদের কাছে কিছু সহজ-সরল প্রশ্ন করব। আপনাকে পাব আশা করি উত্তর দেয়ার জন্য। ব্লগার আরিফুর রহমান এবং অন্যান্য নাস্তিক, আধা-নাস্তিকদের কাছেও উত্তর আশা করব। উত্তর দিতে হবে যুক্তি দিয়ে কারণ নাস্তিকরা যুক্তি ছাড়া কিছুই মানবেনা তাই।
১৫ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:১৭

লেখক বলেছেন:

আপনার প্রশ্নের অপেক্ষায়.....

৪০. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:০৯
হট্টগোল বলেছেন:

হ্যারি সেলডন @ ঠিকাছে। কিন্তু আলোচনার সময় আপনিও স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ থাইকেন। অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে কোরাণ ও ইসলামের বাইরে অবস্থান করবেন। এসব আলোচনার শেষ হয় অনেকটা এরকম করে - কিন্তু ভাই কোরাণে কিন্তু অমুক অমুক অমুক ...

তার মানে কি? এতোক্ষণ আলাপ উনি চালাইলেন কোরাণ ও ইসলামের মধ্যে বইসা।
৪১. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:১১
অমিত বলেছেন: আসেন সারওয়ারচৌধুরী একটু আলোচনা করি। আপনে আমারে বলেন কোরান কেন মাল্টিলেয়ার্ড আর মিনিংফুল ?
৪২. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:১২
হ্যারি সেলডন বলেছেন: হট্টগোলাভাই, ধন্যবাদ। আমি কোরাণ-হাদিস কোন কিছুই আনবনা। কোরাণ, বাইবেল, গীতা সবকিছুর উর্ধ্বেই আলোচনা হবে। বিগব্যাংগ থিয়রী থেকে আলোচনা শুরু হবে যখন কোরাণ হাদিস কোন কিছুই ছিলনা।
৪৩. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৩০
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


@অপ বাক + নাস্তিকের ধর্মকথা

সায়েন্সটা কি? সায়েন্স অব রিলিজিওনটাই বা কি? In its broadest sense, science refers to any systematic knowledge or practice.
রিলিজিওনের ভেতরে সর্বপ্রকারের সায়েন্টিফিক ফেনোমেনোনের ইংগীতবহ কথা থাকতে পারে না? সাইকোলজি থেকে শুরু করে যত প্রকারের 'লজি' আছে। কুসংস্কার ও বহুবিধ কূপমন্ডুক সংস্কার বাদ দিয়ে যে-ধর্ম তুলনামুলক উন্নততর জীবন যাপনের শিক্ষা দেয়, তাকে কি আপনি বিজ্ঞান বলবেন না? আমি সেই ধর্মকে এক অর্থে বিজ্ঞান বলি। শুধুমাত্র ম্যাথমেটিক্যাল এক্সপ্লোরেশনসকে যদি আমরা বিজ্ঞান বলবো কেন? কোরআন বিজ্ঞানময় এই অর্থে যে, এখানে জীবন জগতের প্রয়োজনীয় বিষয়ের সামারাইজড কথা আছে।
১৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০০

লেখক বলেছেন:
রিলিজিওনের ভেতরে সর্বপ্রকারের সায়েন্টিফিক ফেনোমেনোনের ইংগীতবহ কথা থাকতে পারে না?

========>>>>

না থাকতে পারে না...

প্রথমত সায়েন্স কোন ইংগীত নিয়ে মেটাফোর নিয়ে কাজ কারবার করে না। এর কথা বার্তা সোজা-সাপ্টা। যুক্তি ও প্রমাণ এর বেইস।

আপনি সাহিত্যে, কাব্যে, গল্পকথায়, কল্পকাহিনীতে যত ইচ্ছা মেটাফোর, ইংগীত ব্যবহার করুন- করতে পারেন। এসবের ব্যবহারের কারণে আপনার সাহিত্য শ্রেষ্ঠত্বও পেতে পারে, তবে সেটাকে বিজ্ঞান বলা যেতে পারে না।

সে কারণে কল্পবিজ্ঞানকেও বা বিজ্ঞানকল্পকাহিনীকেও বিজ্ঞান বলা হয় না। বলা যায় না। কল্পকাহিনীতে যা ইচ্ছা তা লেখা যায়, ইচ্ছামত ভবিষ্যদ্বানীও করা যায়, সেসব কিচ্ছা কাহিনী কোন একসময়ে বিজ্ঞানের নব আবিষ্কারে মিল পাওয়া গেলেও- সেটার সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নেই বলতে হবে।

কেননা, বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট একটা কর্মপদ্ধতি আছে। আমি আমার কোন এক লেখায় ইচ্ছামত বললাম যে, কুত্তার পেটে বিলাই এর ভ্রূণ স্থাপন করে একটা বিলাই জন্ম হইল, তার পর সেটাকে কেন্দ্র করে একটা বই লেখে ফেললাম। এই যে অভাবনীয় কথা লেখলাম- এটাকে শুধু আমার কল্পনা হিসাবেই নিতে হবে, এমনকি কখনো যদি বিজ্ঞানে সেই প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়ও তবু, আমার আজকের এই কল্পনাকে বিজ্ঞান বলার কোন কারণ নেই। কেননা, আমার এই কল্পনার সাথে কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সম্পর্ক নেই, আমার একটা কিছু আজগুবি লেখার ইচ্ছা হয়েছে, আমি লিখেছি। আর, এ পদ্ধতি যদি কখনো বা আবিষ্কৃত হয়ও, সেটা কিন্তু একটি পদ্ধতি অনুসৃত করেই হয়েছে- সে কারণেই সেটাকে বলা হবে বিজ্ঞান।

৪৪. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৪৩
অমিত বলেছেন: আমার মনে হয় বিজ্ঞান সম্পর্কে উইকির এন্ট্রির প্রথম লাইন দিয়ে আলোচনা বেশিদূর চালানো যায় না।এক কোরানে যা আছে তার থেকে ঢেরঢের বেশিগুনে বৈজ্ঞানিক ইংগীতবহ কথা পাবেন জুলভের্ন থেকে শুরু করে হালের সায়েন্স ফিকশন গুলাতে। ঐগুলাকে তো আপনে সায়েন্স বলতে পারবেন না ভাই, বলতে হবে সায়েন্স ফিকশন।
যে জিনিস আপনে কন্ট্রলড এনভায়রনমেন্টে পরীক্ষা চালানো দূরের কথা, থিওরি দিয়েই প্রমাণ করতে পারবেন না, তারে আপনে যত জোর দিয়েই বলেন না কেন, বৈজ্ঞানিক ধারণা বলে প্রমাণ করতে পারবেন না। আর উন্নততর জীবনের শিক্ষা কি ধর্ম ছাড়া পাওয়া অসম্ভব ? কোরআন বাদে অন্য ধর্মগ্রন্থে কি জীবন জগতের প্রয়োজনীয় বিষয়ের সামারাইজড কথা নাই ?
৪৫. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৫২
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

@অমিত

খুব সংক্ষেপে কথাটা বলার জন্যেই উইকির লাইনটা দিলাম। বিজ্ঞান শব্দটা অনেক দূর পর্যন্ত ধরে তা বলতে।
সায়েন্স ফিকশনগুলোতে থাকতেই পারে।

অন্য ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে আমার ততটা জ্ঞান নেই।


কোরআনের, আমি দেখেছি, কিছু আয়াত এমন যে ব্যবহারিক জীবনের দিক নির্দেশনামূলক আবার একই আয়াত স্পিরিচুয়াল প্রেকটিসের বেলায়ও প্রযোজ্য। এখানে অন্তত দু'টি লেয়ার দেখা যাচ্ছে।

আসলে এসব আলোচনা বিস্তারিত না হলে অনেক কিছু ক্লিয়ার হয় না। ব্লগে সেটা সম্ভবও না। এখন আমার সময়ও ফুরিয়ে এসেছে।
৪৬. ১৫ ই মে, ২০০৮ রাত ২:০০
অমিত বলেছেন: আচ্ছা যদি একই কারণে অন্য ধর্মগ্রন্থগুলার মধ্যে আপনি মাল্টিলেয়ার্ড আর মিনিংফুল তথ্য পান এবং তাদের মধ্যেও আপনি বৈজ্ঞানিক ইংগীতময় তথ্য পান, তাহলে খি আপনে চারটা ধর্মের মধ্যে যেটা সবথেকে বিজ্ঞানময় সেটা বেছে নেবেন নাকি মুসলিমই থাকবেন ?
৪৭. ১৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
সারওয়ার চৌধুরী বলেছেন,
কোরআন বিজ্ঞানময় এই অর্থে যে, এখানে জীবন জগতের প্রয়োজনীয় বিষয়ের সামারাইজড কথা আছে।
=========>

কোরআন বিজ্ঞানময় যখন এই যুক্তিতে বলেন, তবে মনে হয় বিজ্ঞান সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের ঘাটতি আছে বলতে হবে।

আর, কোরানে জীবন জগতের প্রয়োজনীয় বিষয়ের সামারাইজড কথা আছে==> খোলা দৃষ্টিতে কোরান যদি পুরো পড়ে থাকেন- তবে এই কথা বলতে পারতেন না। জীবন জগত সম্পর্কিত আপনার ধারণাও অবশ্য জানা দরকার।

কোরান পড়লে আপনি একটা বড় অংশ পাবেন আল্লাহর বন্দনা, পরকালের লোভ ও ভয়, ফেরেশতাদের জ্বিনদের কিচ্ছা-কাহিনী, প্রাচীণ কিছু রূপকথা- যেখানে জীবন জগত পাবেন না। মাক্কী সুরাগুলো পড়েন, কি আছে সেখানে?? এরপরে, মদীনায় যে সুরাগুলো এসেছে সেগুলোতে জীবন-যাপনের বেশকিছু বিষয় এসেছে, কিন্তু তার বড় একটা অংশই আজকের যুগে অবসলিউট। আপনি আজকের জীবন জগৎ সেখানে খুঁজে পাবেন না। আপনি যদি শানে নুযুল মিলিয়ে পড়েন, তবে একটা ইতিহাস গ্রন্থ হিসাবে অনেক মজা পাবেন- কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুহম্মদ সা কিভাবে কোন কথা ঐশী বলে প্রচার করে কিভাবে বিভিন্ন বিষয় সামাল দিয়েছেন- এসব দারুন মজার। কোরানের আবেদন এতটুকুই- একটি ইতিহাস গ্রন্থ বড়জোড় বলতে পারেন।
৪৮. ১৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: সা,চৌ,

এবং সেই সাথে হাদীস মিলিয়ে পড়লে, আরো অনেক কিছু পরিষ্কার হবে, আরো মজাটা বাড়বে।


যেমন, বুদ্ধিমতী আয়েশা কিন্তু একবার বলেই ফেলেছিল, "আপনার আল্লাহ তো আপনাকে খুশী করার জন্য ফটাফট কোরান নাযিল করিয়ে দিচ্ছেন!!"

এটা বলা কারণ, আয়েশা সহ অন্য বিবিদের সাথে নবীজীর একবার মনোমালিন্য হয়েছিল- মারিয়াকে ভোগ করা নিয়ে। সেটা সামাল দিতে তিনি বেশ কিছু কোরানের আয়াত নাযিল করান- তখন আয়েশা এই উক্তি দিয়ে ফেলেন।

এই যে, এই হাদীস না পড়লে কি আপনার কাছে কোরান পরিষ্কার হতো?? না। শুধু কোরানকে মাল্টিলেয়ার মিনিংফুল মনে করে ঢেকুর তুলতেন!!

আপনি শানে নুযুল পড়লে বুঝতেন- কোরানের আয়াতগুলো সবগুলোই কখনো না কখনো কোন কিছুকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে, এবং নবী সেগুলো আরববাসীদের সাথে কমিউনিকেট করেছেন। যখন করেছেন, তখন যাদের সাথে করেছেন, তারা বুঝেছে একটি নির্দিষ্ট অর্থেই। ফলে, এখানে মাল্টিপল বিষয়টি হাস্যকর।

আর, মাল্টিপল অর্থে আপনি যে বললেন, "কোরআনের, আমি দেখেছি, কিছু আয়াত এমন যে ব্যবহারিক জীবনের দিক নির্দেশনামূলক আবার একই আয়াত স্পিরিচুয়াল প্রেকটিসের বেলায়ও প্রযোজ্য। এখানে অন্তত দু'টি লেয়ার দেখা যাচ্ছে"- সেটি চুড়ান্তরকমের হাস্যকর। একদিকে ধরেন সুরা তাহরীমে নবীর স্ত্রীদের ব্যাপারে কথা বলা হচ্ছে, সেটিই আপনি নামাযে সুরা হিসাবে পাঠ করে এবাদত কমপ্লিট করছেন। এটাকে যদি ডাবল লেয়ার বলেন- তবে অন্য ধর্মগুলোকেও ডাবল লেয়ার বলা যেতে পারে। দেখুন এই উদাহরণঃ

মহাভারতে আছে, বড় ভাই যুধিষ্ঠির দ্রৌপদীর সাথে যখন রমনে লিপ্ত সেসময় এক কুকুর দরজার সামনে থেকে যুধিষ্ঠিরের জুতা জোড়া নিয়ে চলে যায়, এবং ছোট ভাই অর্জুন দরজার সামনে কোন জুতা না দেখে ঘরে ঢুকে পড়ে (জুতা চিহ্ন) এবং ভাইকে ঐ অবস্থায় দেখে ফেলে। এতে যুধিষ্ঠির শাপ দেয় কুকুরকে যে আজ থেকে কুকুরের রমনক্রিয়া ছোটভাই বড় ভাই তো বটেই সকলে দেখবে।

এই ঘটনা বর্ণনা করে যে শ্লোক আছে- সেটিই কিন্তু দেখবেন কোন একটি পুজায় বা আহ্নকে একজন ধার্মিক পাঠ করা পূর্বক পুজাপর্ব সমাপ্ত করছেন!!!

কি আমার মাল্ট লেয়ার!!!
৫০. ১৫ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
মহাজাগতিক বলেছেন: সালাম দিলাম। প্রথমে আপনার শান্তি কামনা করি। ধর্ম নিয়ে আপনি ভাবনা করেন জেনে ভাল লাগছে। যাহোক আপনার প্রোফাইলের ছবিতে দেখছি আরজ আলী মাতুব্বরের ছবি (যদি ভুল না দেখে থাকি)। দেখেই বুঝলাম আপনার পক্ষে কোনো কিছু জানার আগ্রহের চেয়ে প্রশ্ন করার আগ্রহই বেশী থাকবে। বিশেষ করে যদি প্রশ্ন করেই বিখ্যাত হওয়া যায় তখন উত্তর জানার আগ্রহ কি আর থাকে? ব্রান্ড দেখে পণ্য চেনা যায় কি-না। আপনার দাওয়াত কবুল করেই এ পোস্টে ঢুকলাম। বিরাট পোস্ট। আলোচনার বিষয় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ন। পোস্টের শুরুর দিকটা পড়লাম। আশা করি মাঝে মাঝে আপনার পোস্টে কমেন্ট দিতে পারব। আমার কমেন্ট শুধু আপনার 'ইসলামবিষয়ক' প্রশ্নগুলির সাথেই সম্পর্কযুক্ত থাকবে। এখানে এটুকু বলতে পারি যে, কোরাণের ব্যাখ্যার আপাত অসঙ্গতি আপনি তুলে ধরেছেন তা এত কমদূরত্বমূলক যে আদৌ ধতর্ব্য নয়। একটা কথা বলি, ইহজগতে একটি বইয়ের ব্যাখ্যায় একমত হতে না পারার কারণে দেশে দেশে সরকার পরিবর্তন, মাঝে মাঝে যুদ্ধ, কখনও বা হত্যা, কখনও ক্ষমতাচ্যুতি অবশেষে জেলহাজত, কখনও নির্বাচন পেছানো, কখনও নির্বাচন আগানো ইত্যাদি হয়। সে বই হচ্ছে প্রত্যেক দেশের সংবিধান (যদি তা লিখিত হয়)।
৫১. ১৫ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:০৭
মহাজাগতিক বলেছেন: আবার বই ব্যাখ্যা করে করে কেউ রুটি রুজি কামাই করে এ পৃথিবীতে লক্ষ কোটি মানুষ আছে। তাদেরকে বলা হয়। উকিল বা এডভোকেট। এরা একই আইনের ব্যাখ্যা একজনের জন্য একরকম আরেকজনের জন্য আরেকরকম করে। আইনের বইয়ের সঠিক ব্যাখ্যা কোনটা তা ঠিক করার জন্য বিরাট বিরাট অট্টালিকা , আদালত তৈরী করা হয়েছে। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যায় করে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা বাক বিতন্ডা করে। তাহলে ব্যাখ্যা যদি অত সরল আর একপেশে হত তাহলে তো সংবিধান, আইন আদালত ইত্যাদি সবকিছুকেই বাহুল্য বলতে হয়। সংক্ষেপে কথা হলো অপনাকে চিন্তাভাবনায় ডাইনামিক হতে হবে। তবেই সব বুঝতে পারবেন। ফ্লাট চিন্তায় কোরাণ বুঝতে পারবেন না। ধন্যাবাদ।।
৫২. ১৫ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
মহাজাগতিক বলেছেন: ভুল বুঝবেন না। আমি বলতে চাইছি সমসাময়িক মানুষের রচিত বইপুস্তক (যেমন সংবিধান, আইনপুস্তক ইত্যাদি) যদি মানুষেরই দ্বারা বিভিন্ন ধরনের এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে পুরোপুরি উল্টা ব্যাখা করা হয়ে তা আবার বৈধতাও পেতে পারে, লোয়ার কোর্টের রায় হাইয়ার কোর্টে সম্পূর্ণ উল্টে যেতে পারে তবে কোরাণ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সামান্য ভাষাগত পাথ্যর্ক ধতর্ব্য নয়। যখানে কোরাণ প্রদত্ত হয়েছে সার্বজনীনভাবে সকল ভাষার সকল কালের মানুষের জন্য সেখানে বিভিন্ন জাতি ভাষা ও কালের মানুষের ব্যাখ্যায় সামান্য পার্থক্য থাকলে তা নিয়ে কুরুক্ষেত্র বাধানো উদ্দেশ্যমূলক নয় তো?
৫৩. ১৬ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: মহাজাগতিক,
আপনার পরপর মন্তব্য কটি পড়লাম, পড়ে মনে হলো- আপনার আসলে কি কোন সংবিধান, আইন গ্রন্থ আদৌ পড়া আছে কি না?? থাকলে, বুঝতেন এসবে ব্যাখ্যা বা বুঝার কোন সমস্যা নেই। কোরানের মত ইংগীতপূর্ণ কোন ধারা বা উপধারা আইন গ্রন্থে থাকে না। আপনি আদালতে যে ব্যাখ্যা কেন্দ্রিক পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন- সেটি আদৌ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মতভেদের বিষয় নেই। সেখানে যেটি ঘটে, বিভিন্ন ধারা উপধারার মধ্যে সমন্বয় ও বাস্তব প্রয়োগে মতান্তর। একটি উদাহরণ দিলে বুঝবেন, ধরেন একটি অন্যায়ের জন্য একটি শাস্তির বিধান আছে। কাছাকাছি আরো কিছু শর্তে ফেললে সেই শাস্তিও আবার কম বেশী হওয়ারো বিধান আছে। এখন যেটি হয় সেটি হলো আসামী যে আসলেই সে অন্যায় করেছে, সেটি প্রমাণ- সেই অন্যায়ের মাত্রা, অন্য বিভিন্ন ধারা-উপধারা সমূহের সাথে কতখানি সঙ্গতিপূর্ণ বা সঙ্গতিপূর্ণ নয়- এসব প্রমাণ করাতেই সেখানে বাক বিতণ্ডা হয়। তার মানে এই নয় যে, আইনের কোন ধারা উপধারা সম্পর্কে একেকজনের ব্যাখ্যা একেকরকম হচ্ছে তা নয়- যেটা হয় সেটি হলো- উপস্থিত বাদী-বিবাদীদের মধ্যে চলে, কাকে কোন ধারা-উপধারায় ফেলে সন্দেহাতীতভাবে দোষী বা নির্দোষ প্রমাণ করা যায়- তার যুদ্ধ।
৫৫. ১৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:২৬
হিমু রুদ্র বলেছেন: সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: @হিমু রুদ্র ...আপনি নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চান,খুব ভালো কথা ...কিন্ত এটা করতে যেয়ে অন্য ধর্মকে নিচু দেখানো আপনার ছোট মানসিকতার প্রমান দেয়। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস...আপনার বিশ্বাস আপনার কাছে...অন্য ধর্ম কে ছোট প্রমান করতে পারলেই আপনি একেবারে ডাইরেক্ট বেহেশতে চলে যাবেন ভাবছেন?এত সহজ না সবকিছু...আপনি ফাকা বুলি দিয়েই যদি ভাবেন আপনি ধর্ম প্রচার করছেন তাহলে ভাই আপনি আসলে আপনার ধর্ম এর ক্ষতি করছেন...মহানবীর আদর্শ মেনে চলুন...আগে নিজে ঠিক হোন,তারপর উপদেশ...

-------------না বুঝে কথা বললে কিছু যায় আসবে না ! আমি কি হিন্দু ধর্মকে ছোট প্রমাণ করেছি ? বেশি মাথা মোটা মনে হয় আপনার !!!

হিন্দুরা নিজেরাই বলে- তাদের ধর্ম পৌরাণিক কিছু কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে তবে হিন্দু ধর্মে কোনো নাস্তিক নেই !‍!!!

নাস্তিকদের মূল আক্রমণ হলো ইসলাম ধর্ম কেননা- তারা এই বাস্তবসম্মত ধর্মের পেছনে লেগে খুব মজা পায়...

বুঝছেন ?
৫৬. ১৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৩৮
হিমু রুদ্র বলেছেন: ৪০ নং আয়াতটি হলোঃ সূর্য চন্দ্রকে ধরতে পারে না ও রাত্রিও দিনকে আতিক্রম করতে পারে না। তারা নিজ নিজ কক্ষ পথে চলতেছে। এই বাক্যে তারা এই সর্বনামটি মানে কি সূর্য ও চন্দ্র (রাত-দিন) নয়?? আপনি একে কিভাবে বানিয়ে দিলেন যে পৃথিবী, বুধ, শুক্র সবাই সূর্যের চারদিকে ঘুরছে??? এ ধরণের ম্যানিপুলেশন কি অন্যায় নয়???

-----------আমি কোনো ম্যানিপুলেট করিনি ! আমি বলতে চেয়েছি... এ ধারণা থেকেই বিজ্ঞানীরা সেই মহাবিখ্যাত আবিষ্কার করে ফেলেছেন!!! আপনি নিশ্চয় এ যুক্তি দেখাতে পারবেন না- যে বিজ্ঞানীরা কোনদিন কুরআন পড়েন নাই... কুরআন ছাড়া আর কোনো ধর্মগ্রন্থ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল নয়...

ডা. জাকির নায়েক বাইবেলে ১২০ টার মতো বৈজ্ঞানিক ভুল বের করেছেন উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের সামনে !

আপনি শুধু হিন্দু ধর্ম আর ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন... বাইবেলও থাকা উচিত ছিলো এর মধ্যে!

আর আমি এই পর্যন্ত আমার কোনো পোস্টে কোনো ধর্মকে ছোট করে দেখাইনি আপনাদের মতো (নাস্তিকদের মতো আর কি !) নিজের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেছি বৈজ্ঞানিক আলোকে... আমি একটা কমেন্ট করেছি তাতেই বারুদে আগুন লাগলে কিছু করার নেই...

কুরআন যদি এতই বিভ্রান্তিকর হতো তাহলে জাকির নায়েক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে পারতেন না... তিনি খুন হতেন !


@ লেখক : প্রথমত সায়েন্স কোন ইংগীত নিয়ে মেটাফোর নিয়ে কাজ কারবার করে না। এর কথা বার্তা সোজা-সাপ্টা। যুক্তি ও প্রমাণ এর বেইস।

---------আমার কথা হলো বিজ্ঞান কতগুলা জিনিস যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ? ভুলে ভরা 'বিগ ব্যাং' থিওরি আপনার মাথায় মনে হয় নেই ! কিভাবে বিজ্ঞান বিধিসম্মত উপায়ে 'পৃথিবী সৃষ্টির রহস্য' চোখের সামনে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিলো ! হা : হা:
ডারউইনের ভুলে ভরা 'বিবর্তনবাদ' ... 'বানর থেকে মানুষ আসা'- প্রভৃতি হাস্যকর বিষয়গুলোর প্রমাণ বিজ্ঞান দিয়েছে আজ পর্যন্ত ?

একজন স্রষ্টা আছেন তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন, করছেন এবং তার কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। আচ্ছা বিজ্ঞান যদি এতই এগ্রেসিভ হয় তাহলে মানুষের মৃত্যু ঘটছে ক্যানো ? বিজ্ঞান কেন অমরত্বের সন্ধান দিতে পারছে না মানুষকে ? সিডর, নার্গিস - সব দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়ার পরও মানুষ মরছে কেন ?

বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কথা আপনি স্বীকার না করলেও অনেকেই করবে, করছে।
৫৭. ১৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:৪৬
হিমু রুদ্র বলেছেন: @ লেখক : এমনতো অসংখ্যই আছে। ভুরি ভুরি। কোনটা বাদে কোনটা লিখবো? জ্বিন, ফেরেশতা এসব আর রূপকথার দেও-দানবের কোন পার্থক্য নেই। তার উপরে নদীর দুভাগ হওয়া, বোরাকে করে সপ্ত আসমান পরিভ্রমণ, লাঠির সর্প হয়ে যাওয়া, হাতের ইশারায় চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া, হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগ ভালো হয়ে যাওয়া প্রভৃতি ঘটনাকে চিত্তাকর্ষক পৌরাণিক কাহিনী বলা যেতে পারে, যেখানে বিজ্ঞান না টানাই হয়তো সবার জন্য মঙ্গলজনক।

--------------------ইসলাম ধর্মের জ্বিন-ফেরেশতা কোনো দেও-দানব না (আপনি যখন ইসলাম ধর্মে কুঠারাঘাত করছেন তখন কেউ কিছু বলছেন না আসলেই আমরা খুব ভদ্র ! ) তার উপরে নদীর দুভাগ হওয়া, বোরাকে করে সপ্ত আসমান পরিভ্রমণ, লাঠির সর্প হয়ে যাওয়া, হাতের ইশারায় চাদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া, হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগ ভালো হয়ে যাওয়া প্রভৃতি ঘটনাকে চিত্তাকর্ষক পৌরাণিক কাহিনী বলা যেতে পারে, যেখানে বিজ্ঞান না টানাই হয়তো সবার জন্য মঙ্গলজনক।

---------------------হি হি হি... হাসি পেলো আপনার 'মঙ্গলজনক' এর সংজ্ঞা শুনে ! শুনুন মিস্টার ধর্মকথা... আমাদের নবী, ঈসা (আ) কিংবা খ্রিস্টানদের 'যীশু খ্রিস্ট' যাই বলুন- তার সম্পর্কে যদি পৌরাণিক কাহিনী লিখা হতো তাহলে কুরআন ও বাইবেল - এই দুই ধর্মগ্রন্থই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেত ! ঈসা (আ) এর সময়টা ছিলো যাদুর। তাঁর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ছিলো কেননা তিনি আপনার আমার মতো গরু-ছাগল ছিলেন না... তিনি ছিলেন একজন নবী... খ্রিস্টানরা শুধু তার ভুল রূপটাকে মানে আর আমরা মুসলমানরা আসল ব্যাপার জানি... তিনি ঈশ্বরের পুত্র নন... তিনি ক্রুশবিদ্ধও হননি... তিনি জীবিত এবং কেয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে আসবেন...

(ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আরো পড়াশোনা করে লিখবেন আশা করছি !)

এখন কেয়ামত পর্যন্ত আপনাকে বা আমাকে বেঁচে থাকতে হবে কি বলেন... যেটা কখনো সম্ভব না...

সব কিছুর মূলে আছে বিশ্বাস। ধর্ম হলো গভীর বিশ্বাস। আপনি ধর্মে বিশ্বাস করতে পারবেন না। অন্ধ বিজ্ঞান আপনার নিত্যসঙ্গী।

পৃথিবী থেকে অনেক বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ বিলুপ্ত হবে কিন্তু কুরআন বিলুপ্ত হবে না...জেনে রাখুন !
১৭ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৮

লেখক বলেছেন:

...... জেনে রাখলাম।

৫৮. ১৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:০৪
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


'আপনি শানে নুযুল পড়লে বুঝতেন- কোরানের আয়াতগুলো সবগুলোই কখনো না কখনো কোন কিছুকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে, এবং নবী সেগুলো আরববাসীদের সাথে কমিউনিকেট করেছেন। যখন করেছেন, তখন যাদের সাথে করেছেন, তারা বুঝেছে একটি নির্দিষ্ট অর্থেই। '





নাঃ ধঃ

দেখুন আপনি কিভাবে অর্থডক্সের মতো একদেশদর্শি চিন্তা থেকে কথা বলছেন তার প্রমান দেই। কোরআনের আয়াতের শানে নুযুল আছে তা আমি জানি। আপনি বলতে চাইলে ইনডিরেক্টলি আমি জানি না।
কিন্তু ঘটনার আলোকে অবতীর্ণ আয়াত সমূহেও ঘটনার বাইরের বিভিন্ন বিষয়ের ইংগিত আছে। একটা উদাহরণ- সূরা ফজরে 'নাফসে মোতমাইন্না' র অবতারণা করে একটা বিশদ স্পিরিচুয়াল জগতের কথা বলেছেন আল্লাহ। একইভাবে সৃষ্টিতত্বের আয়াতগুলোও। আর কোরআনের এক সূরার কোনো আয়াতের রিলেটেড আয়াত অন্য সূরাতে সন্নিবেশিত। আশা করি জানেন ব্যাপারটা।


আসল ব্যাপার মনে হয়, আপনি যেহেতু অস্বীকারের পথেই নিজেকে ধাবিত রেখেছেন, সেখানে স্বীকারের কিছু পেলেও আপনি ইগনোর করার প্রবণতা প্রকাশ করেন।
১৭ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

লেখক বলেছেন:

আমি না হয় স্বীকারের কিছু পাচ্ছি না, বা পেলেও ইগনোর করছি (আপনার ভাষায়); এবার আপনিই নাহয় কিছু উদাহরণ সহকারে বিস্তারিত আলোচনা করেন, .....

৬০. ১৮ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯
হ্যারি সেলডন বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা, কোন এক বিচিত্র কারণে আমি আমার লেটেস্ট পোস্টে ঢুকতে পারছিনা। তাই আপনার লাস্ট কমেন্ট কি সেটা দেখতে পারতেছিনা। পরে দেখে জবাব দিব। তবে সেটা আইনস্টাইনের নাস্তিক না হওয়ার প্রমাণ বিষয়ক হয়ে থাকলে তাহলে এখানে বিস্তারিত পাবেন।

Click This Link

আর নিউটন যে আস্তিক ছিল সেটা সর্বজন স্বীকৃত। তবুও প্রমাণ চাইলে দেওয়া যাবে।


এখন আপনাকে কোন ধর্মগ্রন্থ বা ধর্ম বাদ দিয়ে একটা প্রশ্ন করি।

আপনি কি বিগ ব্যাং থিয়রীতে বিশ্বাস করেন?
১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৪৫

লেখক বলেছেন:

আইনস্টাইন আস্তিক ছিলেন বলে দাবীর স্বপক্ষে দেয়া লিংক গুলো দেখলাম, কিন্তু তেমন কাজের কিছু মনে হলো না।

যাহোক, আপনাকে আমি আইনস্টাইনের একটি পত্রের অংশবিশেষ ও লিংক দিচ্ছিঃ
The word God is for me nothing more than the expression and product of human weaknesses, the Bible a collection of honourable, but still primitive legends which are nevertheless pretty childish. No interpretation no matter how subtle can (for me) change this. These subtilised interpretations are highly manifold according to their nature and have almost nothing to do with the original text. For me the Jewish religion like all other religions is an incarnation of the most childish superstitions. And the Jewish people to whom I gladly belong and with whose mentality I have a deep affinity have no different quality for me than all other people. As far as my experience goes, they are also no better than other human groups, although they are protected from the worst cancers by a lack of power. Otherwise I cannot see anything 'chosen' about them.


লিংকঃ Click This Link

এর বাইরে আইস্টাইনের কয়েকটি আর্টিকেল আছে, যেমন সায়েন্স এণ্ড রিলেজিওন, সোশালিজম .. এসবও পড়তে পারেন।


একটা ভুল আমরা ওনার সম্পর্কে করি, ইহুদীদের প্রতি ওনার যে একাত্মতা সেটার সাথে আস্তিকতাকে মিলিয়ে ফেলি। সেসময় ইহুদীরা ছিল ব্যাপক নির্যাতিত, দেশে দেশে মার খাচ্ছিল। ইহুদী হওয়ার কারণে তাকে দেশত্যাগ করতেও হয়েছিল। সমস্ত মিলে ইহুদীদের সাথে তার একটি নৈকট্য ছিল- এটা কিন্তু স্বজাতি হিসাবেই!!

৬১. ১৯ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:১৪
হ্যারি সেলডন বলেছেন: নাস্তিকের ধর্মকথা, আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম।
১৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০১

লেখক বলেছেন:
আপনার প্রশ্নঃ

আপনি কি বিগ ব্যাং থিয়রীতে বিশ্বাস করেন?
========>>>

বিজ্ঞানীরা যতখানি আস্থা রাখে বিগ ব্যাং মডেলের উপর- ততখানিই আমি এই মডেলে বিশ্বাস রাখি।

অর্থাৎ বলা যায়, বিশ্বজগতের সৃষ্টি এই বিগ ব্যাং এর মাধ্যমেও হতে পারে। হতে পারে এই সম্ভাবনার কথা বলছি, কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক কটি মডেল বিদ্যমান। (যদিও এসব মডেলের নামেই থিউরি শব্দটি প্রচলিত, তথাপি আমি এগুলোকে মডেল নামে ডাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি!)। যেমন, Steady state theories , TeVeS, MOND, Gödel's universe, Machian universe, Lorentzian universes প্রভৃতি বিভিন্ন মডেল। অবশ্য এসমস্ত মডেলের মধ্যে যেহেতু বর্তমানে বিগ ব্যাং মডেলটিই সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় এবং দিনে দিনে তা অনেক বেশী সমৃদ্ধও হয়েছে। সে হিসাবে, এই মডেলের সম্ভাবনার দিকটি অপেক্ষাকৃত জোরালোও মনে হয়।

সুতরাং, আপনার প্রশ্নের জবাবটি হ্যা বোধক ধরে আপনার পরবর্তী আলোচনায় প্রবেশ করতে পারেন।




৬৩. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৪৯
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: আরেকটি ব্যাপার-

আপনি পোস্টে ''কোন কোনটি আবার নাকি বিয়োণ্ড হিউম্যান ইমাজিনেশন" উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। আচ্ছা বলুন দেখি, হিউম্যান পারসেপশনের বাইরে কি সত্যিই বিস্তর বিষয়-আশয় নেই। আমি তো অনেক বিজ্ঞানীর মুখে শুনেছি, বিয়ন্ড পারসেপশনের কথা। আপনি কিসের ভিত্তিতে সব কিছুকে হিউম্যান পারসেপশনের ভেতরে ভাবছেন বলবেন কি



আর আপনার পড়াশুনা ভালো, চিন্তার পরিধিও বিস্তৃত, যৌক্তিক বিশ্লেষণের প্রবণতাও দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু উপরে আমি আপনার পর্যবেক্ষণগত বা ব্যাখ্যাগত ত্রুটি যেগুলো বললাম, এইসবের কারণে আপনার পরিবেশিত তথ্য দেখলে সন্দিহান হয়ে পড়ি। অনুসন্ধিৎসু মানুষ হিসাবে আপনার কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য ও তথ্য পেতে চাচ্ছি। যা আলোকিত করবে সবাইকে।
৬৪. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:

এই জগত- Click This Link
সম্পর্কে কিছু ফরমাইলেন না আপনি? বিশেষ করে পোস্টের 'প্রাককথন'র ব্যাপারে।
৬৫. ১৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:১২
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: অপবাক, আপনার শেষের দিকের মন্তব্যগুলি দিয়ে একটা পোস্ট দেয়ার অনুরোধ করছি।

পোস্টের জন্য +

বিজ্ঞান এখনো জগত-প্রকৃতির যে সব জায়গায় কাজ শেষ করতে পারে নাই, অসমাপ্ত রয়েছে (যেমন বিগব্যাং) ধর্মের সর্বশেষ আশ্রয় সেই সব জায়গায়।
৬৬. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১২
নির্বাসন বলেছেন: ভোদাই চন্দ্র নাস্তিক...
আরজ আলী মাতবরের মত ভোদাই না সেজে...কুপমন্ডুকের মত বসে না থেকে সত্যানুসন্ধান কর...কাজে দিবে...তোরে ছাগল কওয়াও ঠিক না...তাতে ছাগলের অপমান হয়।
৬৭. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৬
স্বপ্লচূড়া বলেছেন: দারুন লাগছে। ++++++++++++++++++++++++++++
৭০. ০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:০২
রানা চৌধুরী বলেছেন: ইসলাম সম্পর্কে আপনার ভালোই ধারনা আছে বলে মনে হচ্ছে। তার আগে বলুন একটা ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে কি আপনি কোরান শরিফ পুরোটা ভালভাবে পড়ে দেখেছেন?আমার মনে হয় আপনি তা করেন নি। কোরান শরিফ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারনা পেতে হলে ১ বার পড়ে সেটা সম্ভব না। যে কাউকে গভীর মনোযোগ সহকারে কয়েকবার পড়া উচিত। কারো ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে সেই ধর্মগ্রন্থ কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে তারপর মন্তব্য করুন। আমার মতে জগতের কোন ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে এমন তাচ্ছিল্যের সাথে মন্তব্য করা ঠিক না। কড়া ভাবে মন্তব্য করলে যে কেউ ভাববে, মুসলমানরা এ রকমই গোড়া।
৭২. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২০
হিমু ব্রাউন বলেছেন: +++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

 

মোট সময় লেগেছে ০.২০২৪ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
মানুষেরে ঘৃণা করি'/
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'/
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে,/
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই