আমার প্রিয় পোস্ট

অবিশ্বাসের সূত্রপাত -৬ (শেষ পর্ব)

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৬

শেয়ারঃ
0 0 0

পঞ্চম পর্ব
একদিন এক আস্তিক বন্ধুর সাথে তর্ক করছিলাম। আগেই বলেছি- এই তর্ক-বিতর্ক সবসময়ই আমার চিন্তাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করেছে, বিপরীত যুক্তি-মত-প্রশ্ন আমাকে নতুন ভাবনার খোরাকই দিয়েছে। তো- সেই বন্ধুর সাথে যুক্তি-তর্ক করছি, আমি একেক করে বিজ্ঞানের কথা বলছি- সবগুলোতেই সে আল্লাহর মহিমা খুঁজে পাচ্ছে। এমনি যুক্তি করতে করতে অনেকটা বিরক্ত হয়ে আল্লাহকেই চ্যালেঞ্জ জানাই।

পাশে একটা ইট ছিল- সেটা ধরে একটু উচুতে নিয়ে ফেলে দিলাম। দিয়ে বললাম- আল্লাহ তো শুধু "হও" বললেই সব হয়ে যায়, তাঁর তো অসীম ক্ষমতা- এখন দেখি আল্লাহ কেমনে পারে- এই ইটকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে চালিত করুক। নিজে আবার আমি ইটকে উপরে তুলে বললাম- এই যে আমি কিন্তু ঠিকই উপরে তুলতে পারছি- কিন্তু আল্লাহ পারলো না- আবার ছেড়ে দিয়ে বলি, কই আল্লাহর ক্ষমতা তো কিছু দেখছি না। বন্ধুটি কি বলবে- খুঁজে পাচ্ছিল না, এবং ধীরে ধীরে ক্ষেপে উঠছিল। স্বীকার করছি- তার এই যে অক্ষম ক্রোধ, এটাতে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। (নাস্তিকতার শুরুর দিকে- আস্তিকরা যুক্তিতে না পেরে যখন ক্ষেপে যেত- সেটা অনেকদিন পর্যন্ত খুব আনন্দ দিত; কিন্তু একটা সময় এই এপ্রোচের ভুল ধরতে পারি- কেননা আস্তিকদের খেপানোর মাধ্যমে শুধু দূরত্বই তৈরী হতো- আর কিছু হতো না। এপ্রোচের কথা যদি বলতেই হয় বলবো আরজ আলী মাতুব্বরের কথা। যার কাছ থেকে এপ্রোচের স্টাইল সম্পর্কে শিখেছি ও এখনো শিখছি- তিনি আরজ আলী মাতুব্বর।)

এই যে আল্লাহকে অক্ষম বলে প্রমাণ করে দেয়া- সেটা শুরুতে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির ধারাবাহিকতায় বলেছিলাম- অনেকটা ঝোঁকের মাথায়। সেটা আমার জন্য তখনও সহজ ছিল না, কারণ আমি তখনও আল্লাহর অনস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত নই। ভয় ছিল যে, সত্যি আল্লাহ যদি থেকে থাকেন- এবং এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে হঠাৎ কোন গজব নামিয়ে দেন!! তো প্রথম চ্যালেঞ্জ এই জিতে যাওয়ার পরে যেন সাহস আরো বাড়তে থাকে- চ্যালেঞ্জ বাড়াতে বাড়াতে একসময় নিজেকে নিয়েও চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকি। বলি- আল্লাহ যদি সত্যি থেকে থাকেন, তবে চ্যালেঞ্জ জানানচ্ছি- আমাকে এই মুহুর্তে টুপ করে মেরে ফেলুক.. ইত্যাদি। আস্তিক বন্ধুদের কেউ আমার জন্যে ভয়ে তওবা করে, আবার কেউবা যথারীতি ক্ষেপে ভূত!!

তো, কেউ কেউ যুক্তি করতো - আল্লাহর তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই- যার তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে? আমি বুঝতে পারি - আল্লাহর খেয়েদেয়ে কোন কাজই আসলে নেই। আল্লাহ যদি থেকেই থাকেন, প্রচণ্ড অথর্ব টাইপের কেউ- কেননা প্রকৃতির কোন একটি নিয়ম ভাঙ্গার মতো সামর্থ বা ক্ষমতা তার নেই। (অনেক পরে দেখি আইনস্টাইনও একই রকমের কথা বলেছেন!!)

এগুলো- প্রশ্ন হিসাবেই ছিল- কিন্তু কেউ তো তার জবাব দিতে পারতো না, উল্টো যা দিতো তা প্রশ্নকেই বরং বাড়িয়ে তুলতো। এর মধ্যেই আস্তিকদের কাছ থেকে আরেক ধরণের যুক্তির সাথে পরিচিত হলাম। সবকিছুই কোরআন-হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেয়া। আল্লাহ আছেন কিনা- এটার জবাব আল্লাহ কোরআনে কি বলেছেন সেটা দিয়ে দেয়া!!

ক্লাস টেনে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একটা স্যারের কাছে ব্যাচে পড়তে যেতাম- মাঝখানে এশার নামাজ পড়ার জন্য স্যার সবাইকে ধরে মসজিদে নিয়ে যেত। আমি আর একদুজন যথারীতি ফাকি দিতাম। তো একদিন ব্যাচেরই এক আস্তিক বন্ধু স্যার মসজিদে যাওয়ার পরে আমাকেও মসজিদে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। শেষে বলতেই হলো- আমার ধর্ম নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। সে খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো- কি? আমার ইন্সট্যান্ট জবাব(মানে প্রশ্ন): "এই যে নামাজের আগে আমরা ওযু করি- ওযু ভঙ্গের অন্যতম কারণ বায়ু নির্গত করা ও ওযু ভেঙ্গে গেলে নিয়ম আবার ওযু করা। এখন, ধর- আমি মাত্রই ওযু করেছি- এখনও আমার হাত-পা-মুখ ভেজা, এমন সময় আমার বায়ু নির্গত হলো- আমাকে কেন ওযুর নাম করে আবার সেই ভেজা হাত-পাগুলোই ধুতে হবে? এমনতো নয় যে- আমি পশ্চাদ্দেশ পরিষ্কার করার মাধ্যমে ওযু করছি?" বেচারি জবাব দিতে না পেরে স্যারকে জানিয়ে দিল। পিঠে বেতের বাড়ি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম- কিন্তু সে পথে না গিয়ে স্যার জবাব দেয়ার চেষ্টা করলেন। স্যার কোরআন-হাদীস থেকে কোট করলেন- পুরো আরবীতে, মুখস্থ। বাংলায় জানালেন- আল্লাহ জানিয়েছেন- পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ, ফলে মুমীনদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, প্রতিদিন গোসল করা- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ওযু করার মাধ্যমে মুসল্লীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে...... ইত্যাদি। কিন্তু আমার জবাব আর পাওয়া হলো না। যাহোক- ততদিনে এধরণের যুক্তি শুনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম- কি আর করা....।

এভাবেই বিভিন্ন টুকরো টুকরো ঘটনায়-ভাবনায়-প্রশ্নে মোটাদাগে আমার নাস্তিকতার সূত্রপাত। অন্য অনেকের ক্ষেত্রে যেমন আরজ আলী, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ প্রমুখের বই পড়ে বিশ্বাসে আঘাত খাওয়া, প্রশ্ন তৈরী হওয়া- আমার ক্ষেত্রে তেমনটি নয়। এনারা আমার জীবনে এসেছেন- নাস্তিক হওয়ার অনেক পরে। এঁদের কাছেও আমার অবশ্যই অনেক ঋণ, তাঁদের কাছ থেকে আমি অনেক যুক্তি পেয়েছি। কিন্তু নাস্তিকতার প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা নেই। ভূমিকা যদি কারও থেকেই থাকে- তবে এ মুহুর্তে তিনজনের নাম বলবো- কাজী নজরুল ইসলাম- হুমায়ুন আহমেদ ও তসলিমা নাসরিনের।

পরিচিত অধিকাংশ ছেলেমেয়েদের দেখেছি- প্রিয় কবি বা লেখকের কথা আসলেই যার যার ধর্ম অনুযায়ী প্রিয় নির্ধারিত হয়। মুসলমান বন্ধুর অবধারিত নজরুল, আর হিন্দু বন্ধুটি রবীন্দ্রনাথ বলতে অজ্ঞান। এটা প্রায় কমন। শুধু এতটুকু থাকলেই হতো- কিন্তু দেখা গেল, মুসলমান বন্ধুরা একটা বড় অংশই রবীন্দ্রনাথ বিরোধি আর হিন্দু বন্ধুদের বড় অংশ নজরুল বিরোধি। আমি ক্লাস এইট/নাইন/টেনের কথা বলছি। আমারও সে সময়ে প্রিয় কবি ছিল সুকান্ত আর নজরুল- বলাই বাহুল্য তেজী কবিতা সেসময়ে পছন্দ করতাম। নজরুল প্রিয় হলেও- ধর্মানুযায়ী এই ভালো লাগালাগিতে বিরক্তি তৈরি হতো। অনেকে নজরুলের হামদ-নাতের কথা, ইসলামী গানের কথা বলতো। মেলাতে পারতাম না। প্রিয় কবিতা "বিদ্রোহী"র কিছু লাইন খুব ভালো লাগতো- "ভয়ে হাবিয়া দোযখ নিভে নিভে যায় কাপিয়া", "আমি জাহান্নামের আগুনে বসি হাসি পুষ্পের হাসি", "ধরি জীব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি", "ভগবান বুকে একে দেই পদচিহ্ন"। এলাইন কটি থেকে একটা ধারণা ছিল- তিনি অন্যরকম। পরে এক কাকুর (বাবার বন্ধু) কাছ থেকে শুনি- নজরুলের বিরুদ্ধেও মুরতাদ/কাফির ঘোষনা হয়েছিল। তিনি যেমন হামদ-নাত লিখেছেন- লিখেছেন রাধা-কৃষ্ণ কীর্তন। শুনে খুব ভালো লাগে।

হুমায়ুন আহমেদের "শ্রাবণ মেঘের দিন" বইটিতে দুটি বাক্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়েছি। "আল্লাহর অংক জ্ঞান কাঁচা" আর "ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেনি- ম্যান ক্রিয়েটেড গড"। সুরা নিসা মিলিয়ে দেখি আসলেই আল্লাহর (প্রকৃতপক্ষে নবীজীর) অংকজ্ঞান মারাত্মক কাঁচা। আর- দ্বিতীয় বাক্যটি দীর্ঘদিন আমার কানে বাজতো। এবং অনুরূপ বাক্য পরে পেয়েছি- নজরুলের কবিতায়- যার জন্য তাকে মুরতাদ ঘোষনার দাবি তুলেছিল মোল্লারা:
"মানুষ এনেছে গ্রন্থ; - গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো!"
বা আরেক জায়গায় দেখেছিলাম- "পথ মানুষের সৃষ্টি- উল্টোটা নয়"। অর্থাৎ চালু একটা পথ অনেক পথিককে কাছে টানে ঠিকই- পথ আছে জন্যই সে পথ দিয়ে পথিক চলাচল করে বটেই- কিন্তু শুরুর কথা যদি আমরা দেখি- অবশ্যই একদম শুরুতে মানুষের দ্বারাই পথের সৃষ্টি হয়েছে। "মুহম্মদ সা:-ই ইসলাম- আল্লাহ- কোরআন প্রভৃতির স্রষ্টা" - এই ভাবনাটি অনেক বেশী যৌক্তিক মনে হতে লাগলো।

আমি যখন ক্লাস নাইনে- তখন সারাদেশে ঘাদানিক এর যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ব্যাপক আন্দোলন চলছে। আমি আমার এলাকাতে বসেই সে আন্দোলনের তেজ টের পাচ্ছিলাম, ঘাদানিক এর সিগনেচার ক্যাম্পেইন আমার জীবনের প্রথম রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। জামাত উল্টোদিকে ব্লাসফেমী আইনের জন্য আন্দোলন করছে, তসলিমা নাসরিনকে মুরতাদ ঘোষণার জন্য আন্দোলন করছে। এসময়টিতে আমার অনেকের সাথে এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রচুর তর্ক করতে হয়েছে এবং তসলিমাকে নিয়ে তর্ক করতে গিয়ে তার বই পড়া আরম্ভ করে দেই। তার নির্বাচিত কলাম বলতে গেলে গোগ্রাসে গিলি। এখান থেকে প্রচুর আয়াত-হাদীস টুকে রাখি, মুখস্থ করি। মুসলমান মাত্রেরই মুহম্মদ সা এর প্রতি দারুন শ্রদ্ধা ও ভক্তি থাকে, কলেমা তাইয়েবা থেকে সকল মুসলমান জানে শুধু আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আনলেই হবে না- নবীজীকেও রাসুল হিসাবে মানলে পরে ঈমান পূর্ণ হবে। সে হিসাবে আমার নিজেরও নবীজীর প্রতি ভক্তির জায়গা ছিল। মনে হতো- নবীজী যদি সত্যি থেকে থাকেন- তবে কোরআনও আছে। কোরআন থাকলে তো আল্লাহও আছে- কেননা নবীজী তো আর মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। এই গদগদ ভক্তিভাব কাটাতে তসলিমা নাসরিন কিছুটা হলেও সাহায্য করেছেন। তার আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে ইসলাম-কোরআন-মোহাম্মদ সা কে উড়িয়ে দেয়া, বিশেষ করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে কোরআন-হাদীস দেখিয়ে নবীজীর একের পর এক বিয়ে করা, নারীদের প্রতি অবমাননাকর হাদীস-কোরআন লিপিবদ্ধ করা এসব আমার খুব কাজে দেয়।

এমন করে বলতে গেলে হয়তো আরো অনেক কিছুই বলা যেতে পারে। তবে মনে হয়- এরই মধ্যে যথেষ্ট বলেছি, পাঠকেরাও যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন। এই হলো আমার অবিশ্বাসের শুরুর গল্প। পুরোপুরি- দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠি বলা যায় এসএসসি পরীক্ষার পরে। এসময়টায় অনেক বই (গল্প-উপন্যাস) হাতে পাই, একাডেমিক পড়ার চাপবিহীন কিছু ফ্রি সময়ও পাই- ফলে চাপমুক্ত ভাবার অবকাশও তৈরী হয়। প্রথম ভাবনাটা আসে- পরীক্ষার আগে আগে ভয়ে অস্থিরতায় অনেকটা কুপোকাত হওয়ার জন্য একটা লজ্জাবোধ। সেখান থেকে আরেকটা চিন্তা মাথায় আসে- সেটা হলো: বুঝতে পারি- ঈশ্বর বিশ্বাস মানুষের দুর্বল মুহুর্তের সঙ্গী। অবলম্বনহীন অবস্থায় মানসিক শক্তি পাওয়ার একটা বায়বীয় অবলম্বন মাত্র। নিজেকে এমন দুর্বল ভাবতে ইচ্ছা করলো না। এই চিন্তাকে সাথে নিয়ে আল্লাহ বা ঈশ্বর, কোরআন-ইসলাম-মুহম্মদ সা সবকিছু নিয়ে আবার ভালো করে ভাবতে লাগলাম- শুরু শেষ পর্যন্ত। একসময় বুঝতে পারলাম- এতদিন অহেতুক ভয় পেয়েছি- দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সব ছুড়ে ফেলে ঝেড়ে কাশার সময় এসেছে।

ঝেড়ে কাশলাম।

সবাইকে ধন্যবাদ।

 

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৫
এরশাদ বাদশা বলেছেন: ব্যাপক লেখা। মনোযোগ দিয়ে পড়া লাগবে। আপাতত পিলাস।
২. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৫
অলৌকিক হাসান বলেছেন: +
আপনার ইমেইল জানতে চাই। অথবা আমারটায় ইমেইল করতে পারেন।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩১

লেখক বলেছেন:
nastikerdharmakathaএটজিমেইল.কম

৩. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৮
আরেফিন জিটি বলেছেন: কি লিখেন ভাই এগুলা, আপনার কি আর খেয়ে দেয়ে কাজ নাই। আর কতো?!! /:)
৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩০
নাজিম উদদীন বলেছেন: "ঈশ্বর বিশ্বাস মানুষের দুর্বল মুহুর্তের সঙ্গী। অবলম্বনহীন অবস্থায় মানসিক শক্তি পাওয়ার একটা বায়বীয় অবলম্বন।"


দু'দিন ব্লগে নাই, আগের পর্বগুলো পড়ে শেষ করলাম।

ভাল থাকবেন।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৪

লেখক বলেছেন:
আপনার লেখাটি তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন.....

৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩০
মনজুরুল হক বলেছেন:

"দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সব ছুড়ে ফেলে ঝেড়ে কাশার সময় এসেছে।"

চমৎকার লেখা। একটা অনুসন্ধিৎসাঃ আস্তিক্য প্রান্ত থেকে যদি সরল একটি প্রশ্ন ওঠে..
কেন ? ঝেড়ে কাশতে হবে কেন? চূড়ান্ত গোলটা কোথায়?
--------------------------------------------------------------------------------

টানা সরল লেখার জন্য ধন্যবাদ।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন:
ঝেড়ে কাশতে হয়েছে- সেটা আমারই দুর্বলতা ছিল। আগের পর্বে পাবেন। অনেক যুক্তি চোখের সামনে পাবার পরেও মনের মধ্যে একটা দ্বিধা থেকে গিয়েছিল- কেন যেন ভয় থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছিলাম না। দুর্বল মুহুর্ত আসলে- বিশেষ করে পরীক্ষার আগে- আল্লাহর কাছে ব্যাপক মাপ-টাপ চেয়ে নামাজ পড়া আরম্ভ করেছি- এমনও হয়েছে! তাই ঝেড়ে কাশাটা আমার জন্য ফরজ ছিল।

চুড়ান্ত গোলটা কোথায় বললে বলবো- আমাদের বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া- যেটা "বিশ্বাসের সূত্রপাত" শীর্ষক লেখাটিতে লিখেছি। পারিবারিক আবহই আমাদের মধ্যে ঈশ্বর বিশ্বাস অত্যন্ত গভীরে ঢুকিয়ে দেয়- সেটা ত্যাগ করা যথেষ্টই কঠিন একটা কাজ মনে হয়েছে- অন্তত আমার কাছে......

ধন্যবাদ।

৭. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫৩
আরিফুর রহমান বলেছেন: @অলৌকিক... মেইল না ইঠি?

ইমেইল=ইঠি প্রস্তাব করছি।

@লেখক
চমৎকার সিরিজের জন্য ধন্যবাদ।

তসলিমার এপ্রোচ উগ্র হলেও আপনাকে নাড়া দিতে পেরেছিলো, এ থেকে মাঝে মাঝে নাড়া দেয়া লেখারও প্রয়োজন আছে মনে হয় না?
৮. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫৪
দাম বলেছেন: পাশে একটা ইট ছিল- সেটা ধরে একটু উচুতে নিয়ে ফেলে দিলাম। দিয়ে বললাম- আল্লাহ তো শুধু "হও" বললেই সব হয়ে যায়, তাঁর তো অসীম ক্ষমতা- এখন দেখি আল্লাহ কেমনে পারে- এই ইটকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে চালিত করুক। নিজে আবার আমি ইটকে উপরে তুলে বললাম- এই যে আমি কিন্তু ঠিকই উপরে তুলতে পারছি- কিন্তু আল্লাহ পারলো না- আবার ছেড়ে দিয়ে বলি, কই আল্লাহর ক্ষমতা তো কিছু দেখছি না। বন্ধুটি কি বলবে- খুঁজে পাচ্ছিল না, এবং ধীরে ধীরে ক্ষেপে উঠছিল। স্বীকার করছি- তার এই যে অক্ষম ক্রোধ, এটাতে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। (নাস্তিকতার শুরুর দিকে- আস্তিকরা যুক্তিতে না পেরে যখন ক্ষেপে যেত- সেটা অনেকদিন পর্যন্ত খুব আনন্দ দিত; কিন্তু একটা সময় এই এপ্রোচের ভুল ধরতে পারি- কেননা আস্তিকদের খেপানোর মাধ্যমে শুধু দূরত্বই তৈরী হতো- আর কিছু হতো না। এপ্রোচের কথা যদি বলতেই হয় বলবো আরজ আলী মাতুব্বরের কথা। যার কাছ থেকে এপ্রোচের স্টাইল সম্পর্কে শিখেছি ও এখনো শিখছি- তিনি আরজ আলী মাতুব্বর।)

সুন্দর একটা প্রশ্ণ। আচ্ছা মানুষের চিন্তা কি ? বা মানুষের মদ্ধ্যে চিন্তার শুরু হয় কি ভাবে??
৯. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:০৩
দাম বলেছেন: পাশে একটা ইট ছিল- সেটা ধরে একটু উচুতে নিয়ে ফেলে দিলাম। দিয়ে বললাম- আল্লাহ তো শুধু "হও" বললেই সব হয়ে যায়, তাঁর তো অসীম ক্ষমতা- এখন দেখি আল্লাহ কেমনে পারে- এই ইটকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে চালিত করুক। নিজে আবার আমি ইটকে উপরে তুলে বললাম- এই যে আমি কিন্তু ঠিকই উপরে তুলতে পারছি- কিন্তু আল্লাহ পারলো না- আবার ছেড়ে দিয়ে বলি, কই আল্লাহর ক্ষমতা তো কিছু দেখছি না। বন্ধুটি কি বলবে- খুঁজে পাচ্ছিল না, এবং ধীরে ধীরে ক্ষেপে উঠছিল। স্বীকার করছি- তার এই যে অক্ষম ক্রোধ, এটাতে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। (নাস্তিকতার শুরুর দিকে- আস্তিকরা যুক্তিতে না পেরে যখন ক্ষেপে যেত- সেটা অনেকদিন পর্যন্ত খুব আনন্দ দিত; কিন্তু একটা সময় এই এপ্রোচের ভুল ধরতে পারি- কেননা আস্তিকদের খেপানোর মাধ্যমে শুধু দূরত্বই তৈরী হতো- আর কিছু হতো না। এপ্রোচের কথা যদি বলতেই হয় বলবো আরজ আলী মাতুব্বরের কথা। যার কাছ থেকে এপ্রোচের স্টাইল সম্পর্কে শিখেছি ও এখনো শিখছি- তিনি আরজ আলী মাতুব্বর।)

সুন্দর একটা প্রশ্ণ। আচ্ছা মানুষের চিন্তা কি ? বা মানুষের মদ্ধ্যে চিন্তার শুরু হয় কি ভাবে??
১০. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:১৬
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: আপনের লেখা পড়ে সব বিশ্বাস এর ভিত্তি অতিক্রম করতে ইচ্ছে করে, অবশ্য এমনিতেও বিশ্বাস এর ভিত্তি খুব বেশী একটা শক্ত না ...
১১. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:২২
ঘনাদা বলেছেন: @দাম, আমার মনে হয় মানুষ থেকে যখন থেকে টের পায় তার খুলির ভেতরে কিছু ধুসর পদার্থ আছে যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ছাড়াও অন্য কাজে লাগে, ঠিক তখন থেকেই ঐ ধুসর পদার্থের ভেতর এক ধরনের বৈদ্যুতিক ঝড়ের সৃষ্টি হয়। একেই চিন্তা বলা যেতে পারে।

বেশি জটিল করবো না, আপনি হারিয়ে যেতে পারেন। ;)

তবে ঐ ধুসর পদার্থের নাম বলতে পারলে আপনার জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় হাদিয়া!
১৩. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:০৬
দ্বিতীয় পরিচয় বলেছেন: আমি আপনার একজন চরম ভক্ত। এই সিরিজ শেষ মানেতো আরো কিছু শুরু তাইনা????????

++++
১৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩৫
তনুজা বলেছেন: সিরিজটা ভাল লাগছে, ছোট ছোট বেশ কিছু উদাহরণ দিয়েছেন যেমন হুমায়ূন আহমেদ এর একটা কথা .....

এই ব্যাপারটা আমারও মনে হয়, অনেক কিছু আছে যা প্রচ্ছন্ন। গান -কবিতা -সুর ছোট ছোট বাক্যবন্ধ সেগুলোই সংবেদনশীলতার মধ্য দিয়ে যুক্তির পাশে এসে দাঁড়ায়।

ধ্যানের মধ্য দিয়ে কেউ পায় ঈশ্বর কেউ হয়ে ওঠে নিরীশ্বরবাদী।

ভাল লাগল ।পরেরগুলোর জন্য বসে আছি

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন:
এই পোস্টের শিরোনাম দেখননি?
সিরিজের শেষ পর্ব এটা.....


এবার আপনার গল্প শোনার জন্য বসে আছি.....

১৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৫৮
কঁাকন বলেছেন: একটা ব্যাপার আমাকে অনেক সময় ভাবাতো এখনো ভাবায় কিন্তু আমার পড়া ব্লগের নাস্তিকদের পোষ্টে চোখে পড়ে নি তাই একটু বলছি যদিও আমার শেষ পর্যন্ত নাস্তিক হওয়া হয়নি :

আমাদের সৃষ্টিকর্তা কিন্তু আমাদের মানবীয় দোষও গুনাবলীর উর্ধে নয়।
গুণাবলীর একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় মানুষের কাছে প্রকাশিত হতে গেলে মানবীয় গুনাবলী দ্বারা প্রকাশিত হতে হবে হয়তো তার আরো অনেক অনুভুতি আছে মানুষ হিসেবে যেহেতু আমরা আওতি মানবীয় বা অমানবীয় অনুভুতি গুলো বুঝবোনা তাই সেগুলো অপ্রকাশ্য।

কিন্তু দোষগুলো কেন তার ক্যারেক্টারে যুক্ত হোলো:
ঈর্ষা, রাগ এসব মানবীয় দোষের সংযুক্তি আসলে সৃষ্টিকর্তাকে আমাদের পর্যায়ে নিয়ে আসে,

আর আমি এখানে সৃষ্টিকর্তার কথাই স্পেসিফিকেলি বলতে চেয়েছি (দেব-দেবী, নবী-রাসুল, ফেরেস্তা মহামানব নয়)
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৩

লেখক বলেছেন:
খোদার মনুষ্যভাবাপন্ন হওয়ার বিষয়টি নিজে বের করতে পারিনি- নাস্তিক হওয়ার অনেক পরে এটা পড়েছি- ধর্মগুলোর- ঈশ্বরচিন্তার বিবর্তনের ইতিহাস পড়তে গিয়ে এই বিষয়টি প্রথম মাথায় আসে- অবশ্যই এটা এখন আমার নাস্তিক ভাবনার অন্যতম বড় যুক্তি।

আপনাকে ধন্যবাদ।

১৭. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮
মাইনাস বলেছেন: আমি তুই রাজাকার। বুজলাম নাআমার পুস্টটা মুইছা দিল। পুরা ব্যান করল।
আর এই মাইনাস নিকে একটা পোস্ট দিসিলাম নিকটাই ডিলিট কইরা দিল। মডুগ যে কি হইসে আল্লাই জানে। লগ আউট হইলে আমার কমেন্ট দিতে পারুম না। আমিত বুইঝা পাইলাম না আমি কি দোষ করছি।

আপনেরে পোস্টটা দিয়া গেলাম। শেষেরটা।

..........................

হঠাৎ থমকে গেলাম, নেই, যেখানে থাকার কথা ছিল সেখানে এখন শূন্য। শূন্যতার তীব্র আহাকার কামরে ধরে বুকের পাজর, চোখে অন্ধকার লাগে, আবারও দেখি, নাহ পোস্টটি নেই। পোস্টটি ডিলিট হয়েছে। অবাক হয়ে খুজি কি কারন থাকতে এর পেছনে। নাস্তিক, আস্তিক, প্রলয়, কোন জায়গা থেকে ডিলিট হল পোস্টটি ? আমি নাস্তিকতা ও আস্তিকতার মৌলবাদিদের সাপোর্টার নই, আমি প্রলয়েরও সাপোর্টার নই। আমি আমার দেশের সাপোর্টার। আমার দেশের জন্য যেটা ভাল হবে আমি তাই করব। সেটাকে কেও জাতীয় করন বলুক আর সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়ায় বলুক আমি থোড়াই কেয়ার করি! একজন বাঙালী হিসেবে যদি আমার লজ্জা হয় প্রলয়ের অপকর্মে, তাহলে সেটা কি আমার দোষ, নাকি, সময়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ ? আমি যদি আমার ছোট মেয়েটার জন্য ভয়ে কুকড়ে উঠি, ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, সেটাও কি আমার দোষ ? আমার বুকে আচড়ে পড়া মেয়ে যখন বিষের যন্ত্রনায় নীল হয়ে যায়, মুখ দিয়ে অনবরত ফেনা পড়তে থাকে, সেটাতে কষ্ট পাওয়াও কি আমার দোষ ? হ্যা, সেটা আমার দোষই হবে, নইলে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ পিতার মেয়ের কাছে ক্ষমার চাওয়ার পোস্টটি কেন ডিলিট করবে মহাশয় দেবরা ? দেবরা ভাই নাকি এই ব্লগের মডারেটর। উনার মানুষের ফিলিংস নিয়ে কিছু যায় আসে না। চোখে ঠুলি পড়ে সামনে যা আসে সব কিছু ডিলিট করে দিয়ে তার কর্মের দক্ষতা প্রমান করে থাকেন। কোন মেয়ের নিরব আকুতি লেখার অক্ষর ভেদ করে তার কাছে পৌছায় না। কে মরল, কে বাচল, কিসে যায় আসে!

মহাশয় দেবরা, হাত জোর করে বলি, আমার লেখার প্রলয় একটা চিহ্ন ছিল মাত্র। ওখানে কোনভাবেই প্রলয়কে নিয়ে কিছু বলা হয় নি যেটা নিয়মের লংঘন হয়। লংঘন যদি খুজতে চান তবে চোখ খুলে দেখুন সারাদিন আস্তিক আর নাস্তিক দিয়ে দুই মৌলবাদি গ্রুপের মারামারি। তাদের শব্দচয়ন হয়ত আপনার কাছে অতিশয় মধুর লাগে বিধায় তাদেরকে অনায়াশে দেখা যায় ব্লগের ময়দানে। আপনি কি তাদের পোস্টগুলো পড়ে দেখেন, নাকি চোখ বুলান ? কোন অসামঞ্জস্য কি আপনার চোখে পড়ে না?

মহাশয় দেবরা , আমি অতিশয় দুঃখিত এইভাবে কথা বলার জন্য। আমার গোস্তাকি মাফ করবেন। আমি মিনতি করি, আপনার যেন কোন মেয়ে না হয়, সেই এলোচুলে যেন আপনার বুকে কোনদিন আছড়ে না পড়ে। কোনদিন যেন না বলে, "বাবা, আমাকে পুতুল কিনে দিবে, ঐ যে লাল রংএর পুতুলটা?" আপনিও মায়াময় চোখে যেন ওর দিকে তাকিয়ে না বলেন," মা। চল বাইরে যাই, তোমার জন্য পুতুলের রাজ্য কিনে দেব।"আমি মিনতি করি, স্বপ্নভংগের ব্যথায় যেন আপনাকে নীল না হয়ে উঠতে হয়!" দুলছে হাওয়ায়, না না কোন ফুল নয়......নীলাঞ্জনা গানটার কথা খুব মনে পড়ছে। জানি না এই সময় মনে পড়ে ভুল করলাম কিনা! তাও মনে পড়ছে। এ যে বাবার মন! বাবাতো কখনো পারে না তার সন্তানের ক্ষতি চাইতে? সেতো চাইতে পারে না, তার সোনামনি মেয়ে লম্পট কাপুরুষের হাতে পড়ে নিঃশ্বেষ হোক! আমি আবারও মিনতি করি, আপনার যেন এই অবস্থা দেখতে না হয়।

মহাশয় দেবরা, আমাকে যদি চিনতে না পারেন তবে আমি বলি আমি কে? আমি অন্য আরেক নিকের অধিকারী এক মানুষ , যে ছদ্মবেশে সবসময় আপনাদের পাশে পাশে ঠাকে কিন্তু মুখ দেখানোর সাহস হয় না। লজ্জায়, ঘৃনায়, পুরুষ হবার যাতনায়। হ্যা, আমি তুই রাজাকার নিক। যেই নিকের পোস্ট আপনি আজকে ডিলিট করেছেন। কি ছিল তাতে, ছিল এক পিতার ঐ স্বপ্নগুলোর কথা ও স্বপ্নভংগের হতাশায় মেয়ের কাছে অক্ষম পিতার ক্ষমা চাওয়ার কথা। হয়ত সেই অক্ষম পিতার ক্ষমা আপনের ভাল লাগে নি। হয়ত সেই মেয়ের বিবর্ণ ছবিও আপনার মনকে নাড়া দিতে পারে নি। কিন্তু কি বলব মহাশয়, ওটাই যে আমার নিয়তি। ওর থেকে ভালভাবে যে আমি মনের কষ্ট প্রকাশ করতে পারি না। আমি তো সিনেমার ডায়লগের চিৎকার করে বলতে পারি না, হে পৃথিবী আমার বুকটা চিড়ে দেখ এই কষ্ট সত্য কিনা, মৃত মেয়ে কান্নায় এই বুকটা ভারাক্রান্ত কিনা। মহাশয় মাফ করবেন, আমি সিনেমা ও ভান্ডামী শিখিনি, আজও শিখতে পারলাম না।

দোয়া করি আপনার মেয়ে হলেও যেন সে সুখি হোক!
১৮. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
ত্রিশোনকু বলেছেন: "মানুষ এনেছে গ্রন্থ; -
গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো!"

গ্রন্থ মানুষ গ্রাহ্য।

এটা তো ঠিক কথাই, এর জন্য তো মুরতাদ ঘোষনা করা যায়না। প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল বলেই ইশ্বরের গ্রন্থ পাঠাতে হয়েছিল তা না হ'লে গ্রন্থ পাঠাবার তো কোন কারন ঘটেনা।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮

লেখক বলেছেন:
ওনার কথাটি ছিল এমন যে- মানুষই ঐ গ্রন্থের স্রষ্টা বা প্রণেতা।

আসলে- গ্রন্থের জায়গা থেকে সরে আসুন চিন্তা বা ভাবনায়। মানুষই ভাবতে পারে- এবং মানুষের ভাবনা গতিশীল- নিয়ত পরিবর্তনশীল। এই ভাবনার অংশ হিসাবেই মানুষই কল্পনায় বিভিন্ন ধর্মমতকে তৈরী করে নেয়। একবার তৈরী হওয়ার পরে আবার- সেই চিন্তা যথাযথ প্রচার ও প্রসার পেলে দেখা যায়- যুগে যুগে সেই ধর্মমতে লোকে এসে জমা হচ্ছে.......

নজরুলের বক্তব্য আসলে এটাই ছিল......

১৯. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১
তনুজা বলেছেন: শিরোণাম আসলেই দেখিনি । তাহলে ভুল সংশোধন- আপনার অন্য লেখার জন্য অপেক্ষায় আছি

আমার গল্প ? দুই লাইন , জন্মেই ভুলে গেছি একজন জন্ম দিয়েছেন -এমন অকৃতজ্ঞ (কবে যে আস্তিক ছিলাম এটাই বুঝিনা )
২০. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০
ক-খ-গ বলেছেন:
স্যালুট স্যার!
২১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
veille prolongée de Dieu...

ঈশ্বর এখন মহাঘুমে নিমজ্জিত...
২২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৪:২৮
দাম বলেছেন: @ঘনাদা
আপনি হঠাৎ করে কি ভাবে জানলেন যে ঐ ধুসর পদার্থের ভেতর এক ধরনের বৈদ্যুতিক ঝড়ের সৃষ্টি হয়। যাকে আপনি চিন্তা বলছেন। আপনি কি সেটা দেখছেন??
২৩. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭
দুরের পাখি বলেছেন: পুরাটা পড়লাম । মতবিরোধের তেমন কিছু নাই । ভালো থাকুন ।
২৪. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন: ঢাকা আসছি ২০ তারিখ, দেখা হলে মন্দ হয় না।

২৫. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০৩
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আপনার সিরিজগুলো অনিয়মিতভাবে পড়েছি। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে আমি নিজেরটা লিখতে গেলে দুই তিন লাইনে শেষ হয়ে যাবে। আপনি ছয়টা সিরিজ চালিয়ে দিলেন। চেষ্টা করেছেন সৎ থাকতে-আমার মনে হয়েছে-সে জন্যে ধন্যবাদ।

"ভয়ে হাবিয়া দোযখ নিভে নিভে যায় কাপিয়া", "আমি জাহান্নামের আগুনে বসি হাসি পুষ্পের হাসি", "ধরি জীব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি", "ভগবান বুকে একে দেই পদচিহ্ন"-এই কব্যগুলেঅ ছোটবেলায়-কৈশোরে এতো প্রনোদনা দিত-হেসেই উড়িয়ে দিতাম ধর্মকে। বড়ো বেলায় এর অন্য মানে। মিথের ব্যবহার কাব্যে-এ কবির চতুরতা-তিনি যে কি বলতে চাইছেন এখন আর আগের মত বুঝি না। ভগবানের বুকে যে পা কবি তুলতে চাইলেন-সেই পা তো কালি কতো আগেই ভগবানের বুকে তুলে রেখেছে।

কিন্তু আলোচনায় চারপাশটা আসা দরকার-যারা এখনো ধর্ম বিশ্বাস করছে-কেন করছে-আপনার বন্ধুটিই করছে। আমার কোন বন্ধুই ধর্মীয় রেওয়াজ মানে না-কিন্তু নাস্তিক বলতে ভয় পায়। অনেকেই আছে ঈশ্বর মানে কিন্তু ধর্ম মানে না। এই আলোচনাগুলোও দরকার।

ধন্যবাদ আপনাকে।
২৭. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৩
আমি পাগল না বলেছেন: আচ্ছা, আপনার মনের মধ্যে কি এখনও মহানবী সা এর জন্য শ্রদ্ধা আছে? আপনি দুই এক জায়গায় মহানবী সা এর 'সা' লিখেছেন। এটা কি শ্রদ্ধাবশত(শ্রদ্ধা তো থাকার কথা না যেহেতু বিশ্বাস করেন না) না এখনও .০০১% হলেও আস্তিক রয়েছেন(আপনার অবচেতন মন ভুলতে পারে নাই?)?
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:০৩

লেখক বলেছেন:

প্রথমত একজন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা মানেই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস থাকা নয়।

দ্বিতীয়ত একজন মানুষের নাম হচ্ছে ঐ মানুষটিকে চেনার বা ডাকার একটা মাধ্যম মাত্র। সেটিকে অবিকৃতভাবে উপস্থাপন করা মানে এই নয় যে- সেই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধাবশত এটা করা। এটা সাধারণ সৌজন্যবোধ।

তৃতীয় আমি মনে করি কাউকে নিয়ে স্যাটায়ার- ক্যারিকেচার এসব করতে গেলে নামের বা আরো বিভিন্ন কিছুর বিকৃতি আসতেই পারে- তবে আমার লেখাগুলো কোনটাই স্যাটায়ার মূলক। মাঝে মধ্যে ব্যঙ্গ থাকতে পারে- তবে কোনভাবেই এগুলো স্যাটায়ার নয়। আর আলোচ্য লেখাটি তো অনেকটা স্মৃতিচারণমূলক। এসব লেখায় আমি যুক্তির উপরেই বেশী নির্ভর করতে চাই। ফলে- স্যাটায়ার বা ক্যারিকেচারের প্রয়োজন পড়ে না।


পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

২৮. ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:১৩
অভিষেক খান বলেছেন: কি আশ্চর্য! আমার অবস্থা তো হুবহু আপনার মতই। আমার নাম দেখেই বুঝতে পারছেন আমি "হিন্দু" নামধারী এক বাঙ্গালী মুসলমান ঘরের "হতভাগা" সন্তান। এই কারনে প্রায়ই বন্ধুরা আমাকে "মালাওন" সম্বোধন করে। আর নাস্তিক হয়ে ওঠার পথে যেসব ঘটনা ঘটেছিল আপনার জীবনে, আমার জীবনেও তাই! বন্ধুদের সাথে তর্ক, প্রতিবন্ধকতা, একবার নিজেকে নাস্তিক ভাবা, পরক্ষণেই আস্তিক, আবার নাস্তিক, ইসলামী বই পড়ে বিশ্বাস অর্জন, আবার সে বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়া ইত্যাদি। তবে এখন পর্যন্ত আমি পরিবার থেকে কোন সাপোর্ট পাই নি। :((
২৯. ১৯ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
লুদ্ধক বলেছেন: জটিল হইছে বস্‌, I like logic nd u were logical. but the thing is: there are a lots of logics for religion in the history of philosophy. hw do u evaluate that? Like Dekert nd some others I cant name all of them... pls explain...
৩১. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৬
আ শী ষ বলেছেন: আমি তর্কহীন ভাবে নাস্তিকতার পথে। এখনো কিছু ধর্মকর্ম করি এবং তা সামাজিক জীব হিসাবেই্।

এ্ই বিশ্ব কে সৃষ্টি করলো তা নিয়য়া আমার কোন মাথা ব্যথা নাই। আমার মৃত্যুর পর কী হবে তা নিয়ে আমি কখনো ভাবি না।


আমার কিছু প্রশ্ন আছে যার উত্তর আমি খুঁজি।
৩২. ১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:২১
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: তার আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে ইসলাম-কোরআন-মোহাম্মদ সা কে উড়িয়ে দেয়া, বিশেষ করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে কোরআন-হাদীস দেখিয়ে নবীজীর একের পর এক বিয়ে করা......।

হযরত মুহাম্মদ (সা: ) যে কটা বিবাহ করেছিলেন তার মধ্যে বিবি আয়শা (রা: ) ছাড়া বাকি সবার বয়সই ছিল মাঝ বয়সেরও উর্ধ্বে এমনকি এর মধ্যে বৃদ্ধ বয়সের নারীও ছিলেন। সে সব নারীরা কেউ ছিলেন বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যক্তা। অসহায় এসব নারীদের স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে উনি কি অপকর্ম (নাউযুবিল্লাহ) করলেন, দয়া করে কি একটু বুঝিয়ে বলবেন?

হযরত মুহাম্মদ (সা: ) বিধবা বিবাহ করলেও এটা তো নাস্তিকেরা/নবী বিদ্বেষীরা মানেনই না উল্টো ওনাকে নারীলোভী (নাউযুবিল্লাহ) হিসাবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পান ওদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবাকে বিবাহ করার মাধ্যমে বিধবা বিবাহের প্রচলন করলে উনি হয়ে যান সমাজ সংস্কারক।

আপনি যত যুক্তির কথাই বলেন না কেন, এই হযরত মুহাম্মদ (সা: ) বিয়ের বিষয়টাতে এসে কি আপনি কি তসলিমা নাসরিন সবার যুক্তিই কেমন যেন বিমূর্ত চিত্রকলার মত হয়ে যায়।
২৭ শে জুন, ২০১০ সকাল ১০:০৭

লেখক বলেছেন: হযরত মুহাম্মদ (সা: ) যে কটা বিবাহ করেছিলেন তার মধ্যে বিবি আয়শা (রা: ) ছাড়া বাকি সবার বয়সই ছিল মাঝ বয়সেরও উর্ধ্বে এমনকি এর মধ্যে বৃদ্ধ বয়সের নারীও ছিলেন। হযরত মুহাম্মদ (সা: ) যে কটা বিবাহ করেছিলেন তার মধ্যে বিবি আয়শা (রা: ) ছাড়া বাকি সবার বয়সই ছিল মাঝ বয়সেরও উর্ধ্বে এমনকি এর মধ্যে বৃদ্ধ বয়সের নারীও ছিলেন।

====>>>>
আপনি কি জেনেশুনে এই কথা বলছেন? আমি বুঝতে পারছি না, এটা মিথ্যাচার নাকি অজ্ঞানতা!!!!

যাহোক, এইরকম মিথ্যাচার নিয়ে অনেকবারই কথা বলেছি- এখন বিস্তারিত বলার কিছুই নেই (নবীজীর বিয়ে নিয়ে কিছু পোস্ট আছে- সেগুলো দেখতে পারেন)- সংক্ষেপে দুটো কথা বলছি ......

আসল সত্য হচ্ছে- একমাত্র আয়েশা-ই ছিলেন কুমারী ও একই সাথে বালিকা- খুকী! কিন্তু তার মানে এই না যে- বাকিরা মধ্যবয়স্ক ও বৃদ্ধ ছিলেন। নবীজীর স্ত্রীদের বয়স কত-কেমন ছিল তা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেইখেন। বরং, এক স্ত্রী বার্ধক্যে উপনীত হলে- নবীজী তাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের রাতের ভাগটা আয়েশাকে দিয়ে তালাক প্রাপ্তি থেকে রক্ষা পান!!!!!

হযরত মুহাম্মদ (সা: ) বিধবা বিবাহ করলেও এটা তো নাস্তিকেরা/নবী বিদ্বেষীরা মানেনই না উল্টো ওনাকে নারীলোভী (নাউযুবিল্লাহ) হিসাবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পান ওদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবাকে বিবাহ করার মাধ্যমে বিধবা বিবাহের প্রচলন করলে উনি হয়ে যান সমাজ সংস্কারক।
=====>>>>>
বিদ্যাসাগরের সাথে তুলনা!!!! হাস্যকর!!!
বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন - বিধবাদের বিবাহের পক্ষে কলম ধরেছেন, অনেক বিধবার বিবাহে উপস্থিত থেকেছেন, নিজের ছেলেকেও বিধবার সাথে বিবাহ দিয়েছেন; কিন্তু তিনি নিজে কি বিধবাকে বিবাহ করেছিলেন? করেন নি কেন? কারণ- তিনি তারো আগে বিবাহ করেছিলেন। অর্থাৎ- বিধবাদের পক্ষে দাঁড়াতে চাইলে- বিধবা বিবাহের জন্য সংগ্রাম করতে চাইলে - বিধবাদের ধরে ধরে একের পর এক বিবাহ করতে হবে- এমন লাম্পট্য ধরণের ধ্যান-ধারণা বিদ্যাসাগরের মধ্যে ছিলনা। ফলে- একটা বিধবাকে বিয়ে না করেও তিনিই ছিলেন বিধবা বিবাহ প্রথা প্রচলনের পক্ষে সবচেয়ে বড় সৈনিক।

এবার আসি- আপনাদের মুহম্মদ সা এর ব্যাপারে। ১ম স্ত্রী খাদিজার মৃত্যুর পর তিনি একের পর এক বিয়ে করে গেছেন। সেটা কি অসহায় বিধবা নারীদের, স্বামী পরিত্যাক্তা নারীদের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য!!! এর চেয়ে চরম হাস্যকর যুক্তি কি হতে পারে!!! বিরোধী পক্ষের নেতাকে খুন করে তার সুন্দরী তরুনী স্ত্রীকে বিধবা বানিয়ে বিধবা বিবাহ করার মধ্যে কি মাহাত্ম্য থাকতে পারে? নিজের পালক পুত্রের তরুনী স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্যে করে তাকে স্বামী পরিত্যাক্তা বানিয়ে বিবাহ করার মধ্যে কি মাহাত্ম্য থাকতে পারে- সেটাও একটু বইলেন......

যাউকগা- এতো কথা বলার কিছু নাই ....
সমাজ-সংস্কার আর লাম্পট্যের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝার জন্য যে চোখের পর্দাটা দূর করা যে আগে দরকার ........

৩৪. ০৭ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৩৯
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: আসলেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজে একজন বিধবাকে বিয়ে করেছিলেন – আমার এই ভুল তথ্যটা দাওয়ার কারনে লাভের লাভ একটাই হলো এই যে হযরত মুহাম্মদ (সা: ) প্রতি আপনার ধৃষ্টতাপূর্ন মনোভাব জানতে পারা।

লেখক কিন্তু উল্লেখ করেননি ১ম স্ত্রী খাদিজা (রা: ) র মৃত্যুর সময় হযরত মুহাম্মদ (সা: ) এর বয়স কত ছিল আর খাদিজা (রা: ) কে বিয়ের সময় ওনার বয়স কত ছিলো? উনি এই বিষয়গুলো সজ্ঞানে এড়িয়ে গেছেন যাতে করে এটা প্রমান করা যায় যে হযরত মুহাম্মদ (সা: ) লাম্পট্য ধরণের ধ্যান-ধারণার বাহক (নাউযুবিল্লাহ্)। খাদিজা (রা: ) কে বিয়ের সময় খাদিজা (রা: ) বয়স ছিলো ৪০ এবং দুইবারের বিধবা আর মুহাম্নদ (সা: ) এর বয়স ছিলো ২৫। এরপর পরবর্তী ২৫ বছর ধরে মুহাম্নদ (সা: ) খাদিজা (রা: ) এর প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন। এই ২৫ বছর সময়কালেই তো উনি একের পর এক বিয়ে করে যেতে পারতেন কারন যেকোন মানুষের জীবনে এই সময়টাই তো ভরা যৌবনের সময়, তাই না? কিন্তু তা তিনি করলেন না, করলেন যৌবনকাল পার করে। তাও আবার বিধবা আর স্বামী পরিত্যক্তাদের বিয়ে করলেন। ওনার কি ক্ষমতা ছিলো না যে একের পর এর সাহাবীদের কুমারী মেয়েদের বিয়ে করার? কারন কি? - আপনিই ব্যখ্যা করেন। আমি তো মুক্যু সুক্যু মানুষ, আপনার মতো এত জ্ঞানও রাখি না। বিশ্লেষনও করতে পারি না।

মদীনায় হিযরতের পর আল্লাহ্র রহমতে ওনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলো কিন্তু তাই বলে উনি খুব স্বস্তিতে ছিলেন না। মদীনার বাইরের মক্কার কাফের আর মদীনার ভেতরের ইহুদি গোত্র বনু কোরাইজার ষড়যন্ত্র - এসবই তাকে সর্বদা মানসিক চাপের মধ্যে রাখতো। আবার আল্লাহ্ সুবানুওয়াতাআলা কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্বের বিষয়টাও তাকে চিন্তা করতে হতো। শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থের জন্য বিয়ে করাটা কি সে সময়ের পারিপার্শ্বিক অবস্হার সাথে খাপ খা্য়? তাও ইসলাম যখন খুব নাজুক একটা সময় অতিবাহিত করছিল।

মোহাম্মদ (সা: ) কে নিয়ে আপনার যে এজেন্ডা তা হলো ওনাকে যতটুকু সম্ভব হেয় করা যায়; যতটুকু সম্ভব আমাদের মত সাধারন মানুষদের চেয়েও নিচে নামিয়ে আনা যায়। এর ফলাফলটা হলো্ এরকম: ঘটনাটা (হযরত মুহাম্মদ (সা: ) এর বি্য়ে) আপনি অবিকৃত রাখলেন কিন্ত এর পেছনের কার্যকারনসমূহ বিকৃত করে ফেললেন যাতে করে ওনার বিয়ের বিষয়টা আপনার এজেন্ডা অনুযায়ী উপস্হাপন করা যায়।খুবই প্রাচীন কৌশল যদিও শেষ পর্যন্ত এর কোন কার্যকারীতা থাকে না। তো আপনার শেষ প্যারার বক্তব্যগুলো আপানার কৌশল অনুযায়ী সাজাই:

বিরোধী পক্ষের নেতাকে খুন (২য় কারন)করে তার সুন্দরী তরুনী স্ত্রীকে (১ম কারন) বিধবা বানিয়ে বিধবা বিবাহ (ফলাফল) করার মধ্যে কি মাহাত্ম্য থাকতে পারে?

মদিনায় হিজরতের পর এবং পরর্বতীতে মক্কা বিজয়ের পর মুসলমানরা বেশ কিছু যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছিল। যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী ফলাফলস্বরূপ কোন কোন সময় মুসলমানদের প্রতিপক্ষের কোন নেতা প্রান হারিয়েছিলেন। পরির্বতিতে হযরত মুহাম্মদ (সা: ) এর পরাজিত এবং নিহত নেতার বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করার ফল ছিল সুদুর প্রসারী। যেহেতু মুসলমানদের সাথে বিদ্রোহী গোত্রের একটা আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হল, সেহেতু বিদ্রোহী গোত্রের মধ্যে পুনরায় বিদ্রোহ মাথাচাড়া দেয়ার কোন কারনই আর থাকলো না। আর মুসলমানদের পক্ষেও ঐ পরাজিত বিদ্রোহী গোত্রকে অহেতুক নির্যাতনের কোন অবকাশ থাকল না যেহেতু হাজার হোক তারা হযরত মুহাম্মদ (সা: ) এর আত্মীয়। এর ফলে সমাজে একটা stability এলো এবং অস্হিরতা অনেকাংশেই কমে গেল। সমাজে এই পরিস্হিতিটা ইসলামের প্রসারের জন্য তখন অনেক জরুরী ছিল। মূলত: এইসব রাজনৈতিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সা: ) বিয়ে করেছেন। তো এটাই হলো যুদ্ধে নিহত বিরোধী নেতার বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করার মাহাত্ম্য।

কিন্তু আপনি যে কারন উল্লেখ করলেন (বিরোধী পক্ষের নেতাকে খুন (২য় কারন)করে তার সুন্দরী তরুনী স্ত্রীকে (১ম কারন) ) তাতে করে তো তৎকালীন সমাজে অস্হিরতা বাড়তো বৈ কমতো না। ইসলামের নব্য অনুসারীরা আরো কোনঠাসা হয়ে পড়তো। যাই হোক, বাস্তবে সেরকম কিছু কিন্তু ঘটেনি বরং ইসলামের খুব দ্রুত প্রসার ঘটেছিল।

নিজের পালক পুত্রের তরুনী স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্যে করে (কারন) তাকে স্বামী পরিত্যাক্তা বানিয়ে বিবাহ (ফলাফল) করার মধ্যে কি মাহাত্ম্য থাকতে পারে?

নিজের পালক পুত্র জায়েদ ছিলো খাদিজা (রা: ) কাছ থেকে উপহার পাওয়া একজন ক্রীতদাস যাকে তিনি উপহার পাওয়ার পর মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তারও অল্প কিছুকাল পর তাকে প্রকাশ্যে তার পুত্র ঘোষনা করেন। এটি তিনি করেছিলেন যেন তৎকালীন আরব সমাজ ক্রীতদাসকে অন্তত: মানুষ হিসাবে গন্য করে। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। তিনি তার নিজ আগ্রহে জায়েদকে বিয়ে দিয়েছিলেন তারই নিকটাত্মীয় উচ্চ বংশীয় জায়নাব বিনতে জাহাস (রা: ) সাথে যাতে করে মানুষ বংশ নিয়ে অহেতুক গর্ব না করে এবং নিজেদের মধ্যেকার বিভেদ ভুলে যায়।দু:খজনকভাবে তাদের সংসারটা সুখের হয়নি। যে কারনে বেশ কয়েকবার জায়েদ তার স্ত্রীকে তালাক দিতে উদ্দত হয়েছিলেন কিন্তু মুহাম্মদ (সা: ) প্রতিবার জায়েদকে নিবৃত্ত করেছিলেন এবং বলেছিলেন ধৈর্য্য ধরতে।পরবর্তীতে আল্লাহ্র সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে তিনি জায়নাব (রা: ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

যেহেতু হযরত মুহাম্মদ (সা: ) কর্তৃক তার নিজের পালক পুত্রকে তালাক দিতে বাধ্য করার মত কোন কিছুই ঘটেনি সেহেতু এখানে আমার বলার কিছুই নেই।

বরং আপনি যে একের পর এক হযরত মুহাম্মদ (সা: ) এর বিয়ের পেছনের কারনগুলো মনের মাধুরী মিশিয়ে বিকৃত করে যাচ্ছেন তার মাহাত্ম্যটা কি? মিথ্যাচারের উপর ভর করে আপনি যে আপনার যুক্তির (?) প্রাসাদ গড়ছেন তার মাহাত্ম্যটা কি?

যাউকগা- এতো কথা বলার কিছু নাই ....
কারন এরপরও আপনি আপনার মত করে ইতিহাস তৈরি করেই যাবেন এবং আপনার বাচ্চা ছাগলেরা কাঠাল পাতার চাইতেও উপাদেয় ঐ লেখাগুলো চিবোবে আর নেচেই যাবে, নেচেই যাবে.....।




৩৫. ০৭ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:৪৮
ডট কম ০০৯ বলেছেন: ঝেড়ে কাশলাম ও মাইনাস সহ
৩৬. ০৭ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:১৭
অপলক বলেছেন: আপনার জ্ঞান ভাসাভাসা। আরও স্টাডি দরকার। আরও শক্ত নোট দরকার আস্তিক নাস্তিক নিয়ে বা নবী করিম (সা) নিয়ে লিখতে।

আমার ধারণা, আপনি সামুতে নাস্তিক/ইসলাম বিরোধীদের একটা সংখ্যা পরিমাপ করতে চাইছেন। সে থেকে হয়ত ধারণা নিতে চান মুসলমান পরিবারে বেড়ে উঠেও কে কিভাবে এবং কত সংখ্যক ইসলাম বিরোধী চিন্তাধারায় বেড়ে উঠছে। এক সময় হয়ত বিদেশীদের হাতে তথ্য তুলে দিবেন। যদি এরকম কিছু না-ই হয় তাহলে আপনার এই ঢোল পেটানোর মানে কি? নিজের অবস্থান বোঝানোর জন্যে কেউ এত কিছু করে না। জানেন তো, দিল্লীর সুলতানগণ বাঙ্গালীদের "বুলঘকবাসী" বলতেন। বুলঘক ব্যবহৃত হয় বিদ্রোহী বা হট্টগল বা সমস্যা সৃষ্টিকারী অর্থে।

আচ্ছা এসব বাদ দিলাম। আপনার পোষ্ট পড়ে মাঝে মাঝে লেজ কাটা শেয়ালের গল্পের মিল পেলাম। লেজ কাটা শেয়ালের লেজ নেই বলে, সে ফন্দি করল সবার লেজ কাটার। পরে সে যখন ধরা পড়ল, তখন সবাই তার আফসোসের কথা জানল।

তবে শেষকথা হল,পাঠক সৃষ্টি করতে পেরেছেন এটাই বড় কথা। চালিয়ে যান। =p~ =p~ :P


৩৭. ০৭ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৫৫
সজীব আকিব বলেছেন: @মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ

জায়েদের স্ত্রীকে বিয়ে করার জন্য মুহাম্মদ মরিয়া হয়ে উঠলে জায়েদ তাকে তালাক দেন। পুত্রবধুকে বিয়ের এমন নজির নবুয়তির দাবি করার পরও না দেখালে চলত। আর মুহাম্মদ কোন বয়সে কাকে বিয়ে করে ছিলেন তা জানতা নাস্তিকের ধর্মকথার নিম্নোক্ত পোস্টটি মাথা ঠাণ্ডা করে মন দিয়ে পড়েন-
নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন
লিংক Click This Link
একটা বই পড়লে সব ক্লিয়ার হয়ে যেত -'যে সত্য বলা হয়নি' লিংক Click This Link
৩৮. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২৫
ছালেক আজাদ বলেছেন: পেশাদার দুর্গন্ধযুক্ত নাস্তিক = পেদু নাস্তিক

 

মোট সময় লেগেছে ১.১২৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষেরে ঘৃণা করি'/
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'/
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে,/
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই