আমার প্রিয় পোস্ট
- সেরা কিছু শর্টফিল্মের কালেকশন--মাস্টওয়াচ পোষ্ট --(সিরিজ ২) - নিয়নের আলো
- নারী স্বাধীনতা ও পুরুষশাসিত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি - চল যাব তোকে নিয়ে
- ফ্রিদা কাহলো - বিপ্লব ভট্টাচার্য্য
- নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনূস প্রসঙ্গ: কিসের লজ্জা? কার লজ্জা? (১)-নাস্তিকের ধর্মকথার জবাব: - মুক্ত মণ
- লালন এর তিনজন গুরু - ইমন জুবায়ের
- রসদঃ মুক্তচিন্তা, অবিশ্বাস, সন্দেহবাদীতা, যুক্তিবাদীতা এবং বিজ্ঞানবিষয়ক পোস্ট সংকলন। - আসিফ মহিউদ্দীন
- 'ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ইসলাম ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ'বরাবরঃ অয়োময় - রুদ্রপ্রতাপ
- অন্ধকার থেকে আলোয়-২য় পর্ব - সন্যাসী
- সমাজতন্ত্রের নিজস্ব কোন আবেদন নাই - দুরের পাখি
- নাস্তানাবুদ নাস্তিকতা : নাস্তিকতার অসারতা প্রমাণকারী ব্লগ পোষ্ট সঙ্কলন - স্বর্ণলতা
- নৈতিকতার ভিত্তি - আস্তিক নাস্তিক কথোপকথন --

- কঠিন চিজ
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- মদিনার তিনটি ইহুদি গোত্রের বিতাড়ণ -এপোলোজেটিক এবং এটাকিং ভার্শন - দুরের পাখি
- বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট: ডাকাতি-লুট না অত্যাচারিতের অধিকার আদায়? - জ্বিনের বাদশা
- আল-কুরআনের অলৌকিকত্বঃ জানা থাকলেও যা বারবার জানাতে ইচ্ছা করে। - হেডমাষ্টার সাহেব
- বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা/পোস্ট/ব্লগ সংগ্রহের উদ্যোগঃ সচেতন সকলে'র অংশগ্রহন কাম্য … - মনির হাসান
- আমাদের ইতিহাস, আমাদের কিংবদন্তী: বোবা মেয়েটির কথা! - ম্যাভেরিক
- খনা ও খনার বচন...... - মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান
- ধর্ম'গুলোর ভবিষ্যত কি ? নাস্তিক'রা ধর্মের কি পরিনতি বা অবস্থা দেখতে চায় ? ...একটি আলোচনা পোস্ট ..বিশেষত নাস্তিকদের জন্য - মনির হাসান
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- বহু বিবাহ : প্রয়োজন, লোভ ও ভীমরতি - মোহাম্মদ লোমান
- কোরান'এ নারী-পুরুষ এর অসমতা বিষয়ক কয়েকটি আয়াত - সুশীল সমাজ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর: ৩। - তৌসিক আহম্মেদ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর: ২। - তৌসিক আহম্মেদ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর নং: ১। - তৌসিক আহম্মেদ
- জামাতের নেতারা বলে কি আর করে কি !? (শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জামাতি ভন্ডামির চালচিত্র
) - সেলটিক সাগর
- তিনি আরজ আলী, একজন আলো-আঁধারির পরিব্রাজক - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- নাস্তিকের ধর্মকথার আস্তিকতা-নাস্তিকতার দার্শনিক বিচার ও কিছু প্রসঙ্গ - খারেজি
- ইসলামে উত্তরাধিকার আইন (১): কতটা গাণিতিক ব্যবহারিক আইন - মাসুদুল হক
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- নির্বাচনে বামের না পারা-শেষ অংশ। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এবং একজন স্বঘোষিত পর্নোষ্টার - জাতেমাতাল
- আমার প্রিয় পোস্ট : মলয় রায়চৌধুরী'র কবিতা প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার - নৃপ অনুপ
- ধর্মীয় অন্ধতা এবং আমাদের বানরায়ন-৩(জেসাস ক্রাইস্ট কি ঐতিহাসিক চরিত্র-১) - আরিফুল হোসেন তুহিন
- রুবিকস কিউব (পর্ব ৪) : রুবিকস কিউবের সমাধান: লেয়ার বাই লেয়ার - গণিত পাগল
- পারস্যের এক প্রেরিতপুরুষ - ইমন জুবায়ের
- "আয়ান হারসা আলি একজন "মুসলমান-নাস্তিক" শিরোনামে "এস্কিমো" নিকের একটি পোস্টের কাউন্টার পোস্ট :৩ - নাহিদ মাহমুদ
- কোরআনের সংরক্ষণ।-১ - কুম্ভকর্ণ
- আরজ আলী মাতুব্বর এবং কিছুমিছু... - পান্থ বিহোস
- নাস্তিকের ধরমোকথার জন্য লেখা..... - জুনায়েদ সাদিক
- নবীজি সা: এর বহুবিবাহের কারন - মাহিরাহি
- রসুল সা. এর চারের অধিক বিয়ে প্রসংগঃ ইউসুফ আল কারদাওয়ী - মাহমুদ রহমান
- নাস্তিকের ধর্মকথার পোস্টপ্রসঙ্গেঃ সবাইকে সতর্ক করার জন্য এ পোস্ট - মাহমুদ রহমান
- স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম : নাস্তিক/আস্তিক সব ব্লগারদের জন্যে - হিমু রুদ্র
- উ: কোরিয়া : কি বিভত্তস্য অভিষপ্ত এক দেশ ! - পদ্মানন্দ
- বিধাতা মোরে ক্ষমা করো - শান্তির দেবদূত
- তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই : আল-কোরআন - ক্যাচাল
- দুটি প্রশ্ন ( নাস্তিকের ধর্মকথা ) - স্ক্রু লুজ Screw Loose
- বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - বিবর্তনবাদী
আল্লাহ, মুহম্মদ সা এবং আল-কোরআন বিষয়ক কিছু আলোচনার জবাবে....
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৩
আমরা না দেখেই বিশ্বাস করি তিনি আছেন। আমার এই বিশ্বাস আরো দৃঢ় ভিত্তি লাভ করে যখন আমরা সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন দেখি। তার নিদর্শনের মাঝে তার বক্তব্যের/ অস্তিত্বের প্রমাণ পাই নানা ভাবে।
এটা মোটামুটি সব বিশ্বাসী/আস্তিকদের ক্ষেত্রেই কমন, আমি নিজে যখন আস্তিক ছিলাম- আমার ক্ষেত্রেও এটা ঘটেছে। মুসলমান বাপ-মা'র কারণে জন্মের পরেই মুসলমান হয়ে তারপরে- এমন যুক্তি- নিদর্শন খুজেছি- খুজে পেয়েছি। ক্লাস থ্রি/ফোরের ক্লাসের ধর্মের বই এ পরিষ্কার যুক্তি ছিল- "আল্লাহ যে আছেন এটার নিদর্শন আমাদের চারপাশে অসংখ্য আছে"। সবকিছু এত নিয়মমাফিক চলে- এ থেকেই প্রমাণ হয় যে, একজন নিশ্চয়ই আছেন যিনি সবকিছু সুচারু ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন- আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা যে একজনই কারণ একাধিক হলে তো তাদের মধ্যে মতবিরোধ হতো- বিশ্বজগৎ সুচারুরূপে চলতে পারতো না...... ইত্যাদি। আমি নিশ্চিত- অন্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে। আগে বিশ্বাস করে নেয়া- তারপরে যুক্তি খোজা- নিদর্শন খুজে পাওয়া.....।
যাহোক- এটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই, যে বিষয়টি নিয়ে বলতে চাই- আপনি যেসব নিদর্শন বা যুক্তি দেখে আপনার বিশ্বাসকে পাকাপোক্ত করেছেন- সেগুলো নিয়ে আমার যথেষ্ট কথা আছে। সেগুলোকে যদি, আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়- তবে আমার আগের বিশ্বাসের ভিত্তিটি কি একটু দুর্বল হতে পারে না????
"কখনো দেখি , ১৪০০ বছর আগে আদর্শ, নীতি বা ন্যায় পরায়নতা ভিত্তিক যে সমাজ গঠন করেছিলেন অস্বাভাবিক সামাজিক পংকিলতার মধ্য থেকে যা বিশ্ব ইতিহাসের যে কোন সময়ে যে কোন স্থানে বিরল।
মনে পড়ে ওমর (আঃ) আর তার ভৃত্য একটা উঠে বিশাল মরুভুমির ৫০% -৫০% পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কখন মনে পড়ে হযরত ওমর (আঃ) এর দুর্ভিক্ষ কালিন বক্তব্য "আজ যদি ফোরাতের তীরে একটা কুকুর যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে তার জন্য আমি দ্বায়ী।" মানব ইতিহাসে এর তুলনা কোথায়?"
১৪০০ বছর আগে মুহম্মদ সা আরব সমাজে যে অবদান রেখেছেন- তা আমি স্বীকার করি- এবং একজন মানুষ হিসাবে তার প্রতি আমার প্রচণ্ড শ্রদ্ধাও আছে। কিন্তু যুগে যুগে আরো অসংখ্য মানুষকেই তো আমরা পাই। তাদেরো প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু যখন বলা হয় ১৪০০ বছর আগে আরবভূমিতে মুহম্মদ সা এর এই ভূমিকা বিশ্ব ইতিহাসে যেকোন স্থানে বিরল- তখন বুঝতে পারি - এমন দাবিদারের বিশ্ব ইতিহাস সম্পর্কে জানা-বুঝা নিতান্তই কম। বুঝতে পারি এ হলো চোখ বন্ধ করে ভক্তিতে গদগদ হওয়া, এ এমনই ভক্তি যে- একজন রক্তমানুষের মানুষকে ঐশ্বরিক পর্যায়ে কল্পনা করে নেয়া, সেই মানুষটি যে একটি নির্দিষ্ট সময়কালে- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট সমাজ ব্যবস্থায় এসেছিলেন- তা ভুলে তার সমস্ত ক্রিয়া-কর্মকেই সমস্ত যুগের জন্য সমস্ত অঞ্চলের জন্যই সমস্ত সমাজব্যবস্থার জন্যই চুড়ান্ত বলে ঘোষণা দেয়া। তখন বিনীতভাবে প্রশ্ন না করে পারি না যে, এই মানুষটি বিদায় হজ্জে দাসদের প্রতি সুব্যবহার করার আহবান জানাতে পারলেন কিন্তু কৃতদাস প্রথা উচ্ছেদের ডাক দিলেন না কেন? পুরুষের জন্য চার বিবাহের বিধান কেন রাখলেন? হিল্লা বিয়ে প্রথা কেন রাখলেন? দাসীদের সাথে বিবাহ বহির্ভুত যৌন সম্পর্ক কেন জায়েজ রাখলেন?..... ইত্যাদি।
বিশ্ব ইতিহাসের কথা টেনে যখন এই মানুষটিকে মহামানব হিসাবে দেখানো হয়, সরাসরি আল্লাহর বন্ধু বা রাসুল হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়- তখন বিনীত ভাবে প্রশ্ন করি- ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরে কেন তার একের পর এক নারীর প্রতি ঝুঁকতে হয়? কেন একের পর এক যুদ্ধ/জেহাদে লিপ্ত হতে হয়? কেন বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা ছড়াতে হয়? কেন অন্য ধর্মাবলম্বী প্যাগানদের ধর্মী উপাসকদের মূর্তিগুলো ধ্বংস করে দিতে হয়?.... ইত্যাদি।
এসবের জন্য একজন মানুষ মুহম্মদ সা এর প্রতি কোন অশ্রদ্ধা নেই- কারণ আমি জানি একজন মানুষের যুগগত, সমাজ ব্যবস্থাগত সীমাবদ্ধতা কি হতে পারে। কিন্তু অবশ্যই একজন রাসুলুল্লাহ মুহম্মদ সা এর প্রতি আমার হাজারো প্রশ্ন আছে। তাই কেউ যদি- যুগের কথা বলে নবীজী হিসাবে তার নারী লিপ্সাকে অনুমোদন দিতে চান- সোলায়মান........ সহ বহুত রাজা বাদশার আরো চরম নারী লিপ্সার সাথে তুলনা দেখিয়ে রাসুল মুহম্মদ সা এর চরিত্রকে অনুকরণীয় দেখাতে চান- তাদের আমি বিনীতভাবে যীশু-গৌতম বুদ্ধ- সক্রেটিস থেকে শুরু করে মুহম্মদ সা এর আরো অনেক আগের অসংখ্য মানুষের তুলনা আনি, এনে জানাই এ ব্যাপারে অনুকরণ- অনুসরণ করতে চাইলে তাদেরই তো করা উচিৎ।
ওমরেরও অনেক কাহিনী, অনেক গল্প আমাদের এখনো উদ্দিপ্ত করে- ইতিহাসে এমন অসংখ্য চরিত্রই আমাদের মাঝে এমন করেই বেচে থাকেন যুগ যুগ ধরে। কিন্তু সেই সব রক্ত মাংসের মানুষের অনবদ্য গল্পগুলোকে কেন্দ্র করে যখন অন্য সব যোগসূত্র বের করে, মানুষের মহিমার চেয়ে কিচ্ছাকাহিনী/গালগল্পের মাহাত্ম্য প্রচারের চেষ্টা হয়- তখন বিনীতভাবে প্রশ্ন করি- ইসলামের চার খলীফার কয় খলীফা খুন হয়েছেন? কাদের হাতে খুন হয়েছেন? কি কারণে খুন হয়েছেন?
মুহম্মদ সা এর শবদেহ দাফনে কেনই বা দেরী হলো? ওনার কাছের মানুষেরা কি নিসন্দেহ ছিলেন না- যে তিনি আল্লাহর রাসুল? নিসন্দেহ কি ছিলেন না যে- আল্লাহর রাসুলের শবদেহ অবহেলায় ফেলে রেখে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হতে পারেন?
"যখন দেখি, আল-কুরআনের বাণী গুলো এত বেশি অলংকৃত, শব্দের যে অপরুপ বিন্যাস যার তুলনীয় কাব্যগ্রন্থ আজও সম্ভব হয় নি, (অবশ্য এটা আপনাকে ভালভাবে বুঝতে হলে আপনাকে আরবি সাহিত্য বা আরবি ভাষা অনেক ভাল জানতে হবে বা আপ্নকে সাহিত্য বিশারদ হতে হবে; আমরা আপাতত যারা সাহিত্য বিশারদ আছেন তাদের কথায় বিশ্বাস করে নিচ্ছি)।"
আল-কুরআনের বাণীগুলো এত বেশী অলংকৃত, শব্দের যে অপরূপ বিন্যাস- তা একজন বিশ্বাসী মাত্রই আরবী ভাষা না জেনে- না বুঝেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। আর এমন অন্ধভক্তিজনিত অবস্থান থেকেই এরকম ঘোষণা: "কোরআনের সমতুল্য কাব্যগ্রন্থ আজও সম্ভব হয়নি"!!!!!!!!
সুতরাং- খুব সহজেই এক বাক্যে জবাব দেয়া যায়: এমন ঘোষণাকারীর কাব্য সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই।
সেই সাথে এরকম বিশ্বাসীদের অবগতির জন্য জানিয়ে দেই: বিশ্ব সাহিত্যে আল-কোরআনের অবস্থান বলতে গেলে শূণ্যের কোঠায়। ইতিহাস গ্রন্থ- দর্শন গ্রন্থ হিসাবে এই গ্রন্থের যথেষ্ট ভূমিকা অবশ্যই আছে- একটা পুরো যুগকে বুঝতে গেলে- কোরআন-হাদীসের শরণাপন্ন অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে কোরআন না থাকলেও চলবে। এমনকি আমাদের এই অঞ্চলের মহাভারত-রামায়নকেও মহাকাব্য আখ্যা দেয়া যায়, প্রাচীণ সাহিত্যের কোঠায় আমরা চর্যাচর্যবিনশ্চয় বা চর্যাপদকে বুকে পিঠে ধরে রাখি- বিশ্বসাহিত্যকে হোমারের দুই প্রাচীণ মহাকাব্য অনেক ধনী করে- সেগুলোর তুলনায় আল-কোরআন নিতান্তই শিশু। সাহিত্য বিশারদদের কথা আপনি এনেছেন- কিন্তু দুনিয়ার সাহিত্য বিশারদরাই কিন্তু প্রাচীণ কোন গ্রন্থের মধ্যে কোনটির সাহিত্যমান কেমন- কোনটিকে মহাকাব্য বলা যাবে- কোনটিকে বলা যাবে না- তা নির্ধারণ করেছেন।
এবারে সরাসরি আল-কোরআনের কাব্যগুন কেমন তা একটু বিচার করি। কাব্যের বিভিন্ন অঙ্গগুলো হচ্ছে: রূপক-উপমা- ছন্দ ইত্যাদি। একটা ভাবকে রূপক-উপমা দিয়ে তুলে ধরতে পারাটা কাব্যের বিশেষত্ব- এটা কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আছে, এটা স্বীকার করছি। কিন্তু এর পরিমাণ খুব কম ও এগুলো আমার মতে ততখানি বুদ্ধিদীপ্ত নয়- মানে অনেকটা ফ্লাট টাইপের। উপরন্তু আমাদের এখানকার প্রাচীণ গাঁথা-কবিতায় সাধারণ মানুষ যেসমস্ত উপমা-রূপক দিয়ে মানুষের মনের ভাবকে প্রকাশ করে গিয়েছে- অনেক আগে থেকেই দেহবাদী গানগুলোতে যে উপমার ছড়াছড়ি- তা থেকেই বুঝা যায়- এগুলো মানুষের দ্বারাই খুব সম্ভব।
আর, ছন্দের কথা বললে- কোরআনকে অনেক পেছনে রাখতে হবে। রামায়ন-মহাভারতের শ্লোক- আমাদের চর্যাপদের পদগুলোর ছন্দ অনেক সুললিত, পরিমিত। কোরআনের বেশীরভাগ কবিতা তথা সুরাই আসলে ছন্দ মেইনটেইন করেনি। তবে কিছু কিছু সুরা- অনেক সুরার মাঝের বিভিন্ন ধারাবাহিক আয়াতে আমরা ছন্দের খেলা দেখতে পাই। কিন্তু সাথে এটাও বলতে হবে যে- যেকোন প্রাচীণ ছন্দের মত এগুলো একঘেয়ে অনুপ্রাসের সমাহার।
যেমন:
আলাম তারা কাইফা ফায়ালা রাব্বুকা বি আসহাবিল ফিল
আলাম ইয়াজয়াল কাইদাহুম ফি তাদলিল
ওয়া আরসালা আলাইহিম তয়রান আবাবিল
তারমিহিম বিহিজারাতিম মিন সিজ্জিল
ফাজায়ালাহু কা'য়াসফিমমাকুল.....
এটা ১০৫ নং সুরা ফিল। সব বাক্যের শেষেই আছে ইল (যদিও পঞ্চম বাক্যে আছে উল)। তেমনি সুরা ফাতেহায় সব বাক্যের শেষে আছে- ইন/ইম। সুরা নাসে সব বাক্যের শেষে পাওয়া যাবে নাস..... ইত্যাদি।
এধরণের ছন্দ প্রাচীণ কবিতাগুলোতে পাওয়া যায়। সে সময়ে আসলে ছন্দগুলো তৈরি হতো মুখে মুখে- প্রচারিত হতো মুখে মুখে, ফলে এরকম অন্তমিল রেখে তৈরি করাটা ছিল সহজ, এরকম অন্তমিল দেয়া ছন্দ মনে রাখাটাও ছিল সহজ। দেখুন চেষ্টা করলে আপনি এরকম ছন্দ তৈরি করতে পারবেন- যেমন:
আলো আমার আলো
আমি আছি ভালো
যতই তুমি কালো
প্রেমের সুধা ঢালো
..... বা
কলকল
ছলছল
ঢলঢল
ঝলমল
হলহল
কোলাহল....... ইত্যাদি।
চেষ্টা করে দেখুন, আমার মত কেউ পারলে আপনিও পারবেন। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছড়াগুলো পড়ে দেখতে পারেন- তাহলে বুঝবেন এরকম ছন্দ মানুষ কি দারুন তৈরি করতে পারে।
আর প্রাচীণকালের দোহাই পাড়লে বলবো- চর্যাপদ, রামায়ন-মহাভারত এসবের দিকে চোখ রাখুন। চর্যাপদের ছন্দগুলো- রামায়ন মহাভারতের শ্লোকগুলোও এরকম অন্তমিল ছন্দ দিয়ে তৈরি। এবং পড়লেই বুঝতে পারবেন ওগুলোর চেয়ে কত নিম্নমানের ছন্দ আল-কোরআনে। নিম্নমানের বলছি এই কারণে যে, কোরআনেরটা অনেক বেশী একঘেয়ে, এবং কোরআনে এইরকম মিল দেখাতে গিয়ে একই শব্দ, একই বাক্য বারবার ব্যবহার করা হয়েছে।
আর, আপনার ঐ বাক্যটিতে তো মনে হলো- বর্তমানের কাব্যগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে!!!! বর্তমানের কাব্যগুলোর দিকে তাকানো আসলে ঠিক হবে না, তাহলে কোরআনকে আরো ন্যাংটো হতে হবে। আজকে ছন্দের যত বৈচিত্র, যত শক্তি তা ঐ আমলের কোন গ্রন্থের কাছ থেকে আশা করি না- তুলনাটাও ঠিক নয়; তবে আপনারা যদি সেই রকম চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসেন তবে বিনীতভাবে জানাতেই হয় যে- বিশ্ব সাহিত্যে আল-কোরআনকে কেউ কোনদিন মহাকাব্য/কাব্য বলেনি বলেই আমি জানি।
"বা যখন দেখি কুরআন ১৪০০ বছরের মাঝে বিন্দুমাত্র চেঞ্জ হয়নি যেখানে বাইবেল বা অন্যান্য ধর্মগুলি শত শত বার চেঞ্জ হয়েছে*। রাজা বা পাদ্রিরা নিজেদের মনের মত পরিবর্তন করেছেন। এর মধ্যে আমরা আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে পাই। .....
...... অন্যান্য অনেক ধর্ম প্রকৃতপক্ষে ঈস্বরের কাছ থেকে আসলেও তা সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তন/ বিকৃত হয়ে গেছে এবং সময়ের পরিবর্তনের জন্য ধর্ম গ্রন্থ গুলির লেটেস্ট বা ফাইনাল ভারসন প্রয়োজন। এটাই যে ফাইনাল ভারসন এর প্রমাণ হচ্ছে, দেড় হাজার বছরেও এটার বিন্দুমাত্র অবিকৃতি। (আল্লাহ তায়ালা কুরআনে নিজেই কুরআনের সংরক্ষন করবেন বলেছেন বা অবশ্যই তা অবিকৃত আছে।)"
কোরআন অবিকৃত হয়নি মানে কি বুঝাতে চেয়েছেন? এবং তার দ্বারা কি প্রমাণ হয়?
আজকে মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের পরে- লাখ লাখ কোটি কোটি বই আপনি যুগ যুগ অবিকৃত পাবেন। শেক্সপীয়রের নাটক, সনেটগুলো সব একই ফর্মে আপনি পাবেন- সামান্য দাড়ি-কমারও কমবেশ পাবেন না। চর্যাপদের পদগুলোও তো আপনি ঠিক আগের ফর্মেই পাচ্ছেন। এখনতো আমরা দুই/ আড়াই হাজার বছর আগের শিলালিপিও পাই- সেগুলোও তো অবিকৃত। এতে কি প্রমানিত হয়?
হুম, একটা সময়ে মুখে মুখে যখন জ্ঞান, সাহিত্য... প্রভৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বা যুগ থেকে যুগে বিচরণ করতো - তখন সেগুলোর ক্ষেত্রে বিকৃতির সম্ভাবনা থেকেই যেত। এবং আমরা জানি আল-কোরআন পুরোটা এক সাথে লিপিবদ্ধ অবস্থায় মুহম্মদ সা মানুষের সামনে হাজির করেননি। প্রাথমিক অবস্থায় এটা খণ্ড খণ্ড ভাবে মুখে মুখে প্রচারিত ও বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত অবস্থায় ছিল। ফলে- এটার বিশুদ্ধতা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছিল, এবং সেকারণেই সে ব্যাপারে সকলকে নিশ্চিন্ত করার দায় কোরআনের ছিল। সেকারণেই আমরা কোরআনে আল্লাহকে বলতে দেখি- তিনিই এর সংরক্ষণকারী!!!
নিশ্চিৎভাবেই মেঘনাদবদকাব্য বা কিং লীয়র বা ওয়ার এণ্ড পীস এর ক্ষেত্রে এরকম অবিকৃতির ঘোষণা দেয়ার কোন প্রয়োজনই কেউ বোধ করেননি।
এবারে আসি- অন্যান্য প্রাচীণ গ্রন্থ সমূহের সাথে তুলনার বিষয়টিতে। অন্য ধর্মগ্রন্থসমূহ বিকৃত হয়েছে, কোরআন হয়নি!! এ কথাটির ফাঁক একটু দেখলেই বুঝা যাবে।
যেসমস্ত গ্রন্থ সমূহ লেখকের (আপনাদের ভাষায় যার উপর নাজিল হয়েছে তার) জীবদ্দশাতেই প্রামান্যরুপে উপস্থিত হয়েছে- সেগুলো নিয়ে বিকৃতির অভিযোগ আনাটা কি সম্ভব? এটা আনা হয়, লেখকের বা নাযেল হওয়া ব্যক্তির মৃত্যুর পরে সংকলিত হওয়ার ক্ষেত্রে। যেমন ধরেন- সক্রেটিস কোন কিছু লিখে যাননি। লিখেছেন, তার দুই শিষ্য। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে- শিষ্য দুজন যা লিখেছেন- তার হুবাহু কি সক্রটিসের চিন্তা-দর্শনকে রিপ্রেজেন্ট করে? কিন্তু এটাও ঠিক যে- প্লেটো যখন প্রামান্যরূপে বা লিখিতরূপে প্লেটোর সংলাপ বা সক্রেটিসের জবানবন্দী লিখলেন- সেটা কিন্তু অবিকৃত হিসাবেই এবং অবশ্যই প্লেটোর লেখা হিসাবেই আমরা পাই।
একইভাবে, যেশাস ও মুহম্মদ সা দুজনের কেউই নিজে বাইবেল-কোরআনের এরকম প্রামান্য রূপে হাজির করতে পারেন নি। পরবর্তীতে তাদের অনুসারীরা এগুলো সংকলিত করেন। এখন প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক যে, এখানে যা আছে তা আসলে ওনাদের প্রচারিত ধর্মমতকে হুবাহু ধারণ করে কি না? যেশাসের মৃত্যুর বেশ পরে যেহেতু এগুলো সংকলনের উদ্যোগ নেয়া হয়- সেহেতু বিচ্যুতির সম্ভাবনা একটু বেশি- সে তুলনায় কোরআনে একটু কম। কিন্তু একবার সংকলিত বা প্রামান্য রূপে পাওয়া গেলে- সেটা ঠিক ঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে অবিকৃতরূপেই রাখা সম্ভব। আমরা তো এই উপমহাদেশেরই খৃস্টপপুর্ব আমলের বেশ কিছু গ্রন্থের সন্ধান পেয়েছি- এবং যেহেতু সেটা ঐ আমলের লিপিবদ্ধ- এবং সহজেই দাবি করা যায়- সেগুলো লেখক যেমন লিখেছেন- তেমনই আছে।
এরপরে আসে, একটি ধর্মগ্রন্থ প্রামান্য অবস্থায় পাবার পরেও সেটার ব্যাখ্যা নিয়ে নানামত। মূলত এটাকে কেন্দ্র করেই বাইবেলের পরবর্তি সংষ্করণ বের হয়েছে। পরবর্তীগুলোকে যেকেউ বিকৃত বলতে পারে- কিন্তু পুরানটাকে তো সেই অর্থে বিকৃত বলা যাবে কি? আর- এমন তো কোরআনের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়। কোরআন সংকলনের সময়ই সাহাবীদের মধ্যে মতভেদের কথা বিভিন্ন হাদীসেই আছে। আলী রা এর আপত্তির কথা আমরা জানি। বিভিন্ন ভাষারীতি নিয়ে ঝামেলার কথাও আমরা জানি। ওসমান কর্তৃক কোরআনের অন্য সব কপি ধ্বংস করার কথা আমরা জানি। হাফস ও ওয়ালস এর কোরআনের ভিন্নতার কথা আমরা জানি। শিয়াদের আলাদা কোরআনের কথা আমরা জানি। সর্বশেষ রাশাদ খলীফার সংশোধিত কোরআনের কথাও আমরা জানি। এসমস্তই নির্দেশ করে যে- কোরআনও বিভিন্ন সময়ে বিকৃত হয়েছে এবং এক গ্রুপের কাছে আরেক গ্রুপের কোরআন অবশ্যই বিকৃত কোরআন।
সুতরাং কোরআন অবিকৃত হলেই যে সেটা আল্লাহর লেখা এমনটা যেমন বলা যাবে না তেমনি- কোরআনও বিভিন্ন সময়ে বিকৃত হয়েছে, কোরআনকে বিকৃত করা হয়েছে এটা যখন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে- তখন কি আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ তৈরী হওয়া উচিৎ নয়?
"বা যখন দেখি কূরআনে এক টা আয়াত নেই যা প্রতিষ্টিত বিজ্ঞান দ্বারা ভুল প্রমাণ করা যায়। তার বিপরিতে অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে অসংখ্য ভুল তথ্য, বা অসামনজন্য তথ্যে ভরপুর।
বা যখন দেখি কুরআনে বিজ্ঞানে অধুনা প্রমানিত অনেক বিষয় নির্ভুল ভাবে বর্নণা দেয়া হয়েছে।"
কোরআনের একটা আয়াত নেই যা প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান দ্বারা ভুল প্রমান করা যায়- এটা যে বলে তার সম্পর্কে দুটো কথা অনায়াসেই বলা যায়: এক- হয় তিনি কোরআনের সব আয়াত পড়েননি, পড়ে বুঝেননি, নয় দুই- তিনি বিজ্ঞান সম্পর্কে নিতান্তই অজ্ঞ।
প্রাচীণ গ্রন্থসমূহের, তা সে ধর্মগ্রন্থই হোক- আর জ্ঞান-দর্শনের গ্রন্থই হোক, সেগুলোর মধ্যে অসংখ্য অসামঞ্জস্যতা আজকের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান যেমন খুজে পায়- একইভাবে কোরআনের আয়াতে আয়াতে বিজ্ঞান বিরোধী অসত্য অসামঞ্জস্য উদ্ভট কথাবার্তা পাওয়া যায়। আবার সেই সমস্ত প্রাচীণ গ্রন্থ সমূহে অনেক কিছুই পাবেন যেগুলো এখনও বিজ্ঞান গ্রহণ করে (এর দ্বারা এতটুকুই প্রমানিত হয় যে- ঐ বিষয়গুলোতে সে সময়েই মানুষ সঠিক জ্ঞানের সন্ধান পেয়েছিল!!)- তেমনি হয়তো কোরআনেরও কিছি কিছু বিষয় আজকের দিনের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান দ্বারা সঠিক বলা যাবে। কিন্তু তারমানে এই নয় যে- কোরআনের সমস্ত কিছুই আজকের বিজ্ঞান অনুমোদন করে!!! আদমের গল্প- ফেরেশতা-জ্বিন এর গালগল্প, যাদুবিদ্যা-তুকতাকের গল্প, নবীদের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প.... এগুলো সবই আজকের বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নেহায়েত গালগল্পই। আসমান-যমিন নিয়ে যেসব কথাবার্তা আছে, প্রাণীর-মানুষের সৃষ্টি, মানুষের জন্ম-ভ্রূণের বিকাশ এসব নিয়ে কথাবার্তা আজকের বিজ্ঞানের চোখে ভ্রান্ত। এমন অনেক কিছুই আছে। আপনি নিজে আরেকটু পড়াশুনা করুন, চোখ কান খোলা রাখুন- মনের জানালা খুলে দিন- নিজেও বুঝতে পারবেন।
আর, অধুনা প্রমানিত অনেক বিষয় কোরআনে নির্ভুলভাবে বর্ণনা দেয়া আছে- এমন দাবী আসলে একরকমের মিথ্যাচারের ফসল। বর্তমানের বিজ্ঞানের যুগে - সব ধর্মই নিজেদের একটু জাতে তোলার জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার একটি পোস্ট ছিল- তাই নতুন করে কিছু বলছি না- সেটিই আবার পড়ার আহবান জানাই। লিংক: Click This Link
"যখন মনে হয় যে, মহানবী (সাঃ), যিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর ব্যক্তি, তিনি কিভাবে মনগড়া ভাবে ২৩ বছর ধরে অসামঞ্জস্যহীন গ্রন্থ রচনা করলেন যা একইসাথে ১) মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক, ২) যা তথ্যের অসামঞ্জস্যতা নেই, ৩) যাতে প্রদত্ত কোন তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভুল নেই, ৪) অধুনা বিজ্ঞান প্রমান করছে/ খুজে বের করছে এমন তথ্য ও দেয়া আছে, ৬) যা অস্বাধারণ কাব্যে ভরপুর ৫) যা দেড় হাজার বছরেও চেঞ্জ হয়নি। ৬) এটিই একমাত্র গ্রন্থ যা অধিকাংশ মানুষ পুরোপুরি মুখস্ত রাখতে পারে, ৭) এটিই একমাত্র গ্রন্থ যা বিশ্বের হাজার হাজার লোক মুখস্ত রেখেছে। ফলে কুরআনের সমস্ত কপি পুড়িয়ে ফেললেও কুরআনকে ধংশ করা সম্ভব না।"
০) মুহম্মদ সা আদৌ নিরক্ষর ছিলেন কি না- তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ আছে। তার প্রতি প্রথম ওহী- পড়ো। প্রাথমিক জীবনে তিনি সফল বনিক ছিলেন- সেগুলোর হিসাবাদি তাঁকেই করতে হতো। তিনি বিভিন্ন শাসকদের উদ্দেশ্যে লিখিত পত্র পড়ে সংশোধন করে দিয়েছেন এরকম হাদীসও মিলে। যাহোক তারপরে ধরে নিচ্ছি যে- তিনি নিরক্ষর ছিলেন। কিন্তু লেখতে - পড়তে না জানা মানেই কি বুদ্ধিহীন? বা মুহম্মদ সা নিরক্ষর মানে কি কেউ বলবেন যে তিনি অসাধারণ ধীশক্তির অধিকারী ছিলেন না?
প্রাচীণ আমলের অসংখ্য গুনী মানুষের কথা আমরা জানি যারা ক-অক্ষর গোমাংস ছিলেন, শুধু মাথার মধ্যেই মুখে মুখেই তারা তাদের অনবদ্য সব সৃষ্টি করে গেছেন। ফলে- মুহম্মদ সা লেখতে পড়তে না জানলেই যে- তার নেতৃত্ব ক্ষমতা, দারুন অনুসন্ধিৎসু মন, গভীরে চিন্তা করার ক্ষমতা, দূর দৃষ্টি থাকবে না- এমনটি কেউ নিশ্চিৎভাবে বলতে পারবে না। আর এসমস্ত গুনের অধিকারী হলে, এবং সাথে আরো কিছু চৌকশ মানুষ থাকলে কোরআনের মত গ্রন্থটি রচনা করা অসম্ভব মনে হয় না।
আরেকটি বিষয় এখানে বলতে হবে- আজকের কোরআনটি আমরা পাই- ওসমানের হাত ধরে- তারও আগে আবু বকরের আমলে কোরআন সংকলন কমিটি প্রথম উদ্যোগটি নেয়। এই কমিটিতে যারা ছিলেন- তাদের মধ্যেও চৌকশ সাহাবী, কবি প্রতিভার সাহাবিরা ছিলেন। ফলে- আজকের কোরআনকে আমরা যে ফর্মে দেখি- সেটি একা মুহম্মদ সা এর অবদান এমনটি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যে কারণে আলী রা কে প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে দেখা যায়।
১) মানব জাতির পথ প্রদর্শক- একথাটি ভুল। আজকের দুনিয়ার অমুসলিম অংশ কোরআনকে ছাড়াই ভালো চলতে পারছে, ফলে তাদের জন্য এটা কোনমতেই পথ প্রদর্শক নয়; উপরন্তু মুসলিম বিশ্বও আজ যতই তাদের বিশ্বাসে আল্লাহকে রাসুলকে- কোরআনকে উচ্চে স্থান দেক না কেন- কোরআনের সবকিছুই তারা নিজেরাও পালন করে না বা পালন করা সম্ভব না জন্যেই পালন করে না।
নিজে পুরো কোরআন অর্থসহ এবং শানে নুযুল সহ নিজে একটু খুটিয়ে পড়লেই বুঝতে পারবেন কোরআন টা পুরো মানব জাতির পথ প্রদর্শক নয়। দেখতে পারবেন এখানে কিভাবে নবীজীর বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে একেকটা আয়াত/সুরা অবতীর্ণ হয়েছে। এমনকি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে যখন মনোমালিন্য তৈরী হয়েছিল- সেটাকে সামাল দিতে গিয়েও আয়াত নাযেল হয়েছে- বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাহাবীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে নবীজীর কাছে আসলে আয়াত নাযেল হয়েছে, বিধর্মীরা প্রশ্ন করতে আসলে আয়াত নাযেল হয়েছে- সাহাবীদের উদ্দীপ্ত করার জন্য আয়াত নাযেল হয়েছে... এসবের মধ্যে সহজেই বুঝতে পারবেন একটা বড় অংশই একদম স্পেসিফিক কিছু ঘটনা, কিছু মানুষকে নিয়ে সুরা আছে- সেগুলো কোনভাবেই সমগ্র মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক বলতে পারবেন না। একজন ব্যক্তির নামে (বিধর্মী) পর্যন্ত একটা সুরা আছে- এবং সেখানে এমন ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে- দেখলে বুঝতে পারবেন - এটা মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক কিনা!!!!!
২) অনেক তথ্যেরই অসামঞ্জস্যতা আছে। আগের কমেন্টে কিছু বলেছি। এছাড়া বিভিন্ন অসামঞ্জস্যের জন্যই মুসলিমদের মধ্যে এত ভাগ- এতগুলো মাযহাবের সৃষ্টি।
৩) বৈজ্ঞানিক তথ্যের হাজারো ভুল আছে- তা আগেই বলেছি, আমার উপরের দেয়া পোস্টের লিংক দ্রষ্টব্য।
৪) অধুনা বিজ্ঞান বের করেছে এমন অসংখ্য কিছু কোরআনে নেই- এবং এমন অসংখ্য কিছু কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। আর, কোরআনেই এমন জিনিস পত্র আছে- এরকম দাবি নির্ভেজাল মিথ্যাচার ও ধাপ্পাবাজি সেটাও আগে বলেছি।
৫) দেড় হাজার বছরে চেঞ্জ হয়েছে- সেটা তো বলেইছি। আর- আরো এমন অনেক গ্রন্থ পাবেন যা আরো অধিক সময় ধরে অবিকৃত অবস্থায় আছে।
৬) এটার কাব্যগুন নিয়েও উপরে বলেছি। যতখানি আছে- সেটার ব্যাপারে মুহম্মদ সা এর কিছু কবি সাহাবীর নাম শোনা যায়। ধরলাম- সেগুলো সাহাবীদের কাজ নয়, তারপরেও এ সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে যে- মুহম্মদ সা এর কাব্য প্রতিভাও ছিল। কিন্তু সেটাকে যদি আল্লাহর সৃষ্টি হিসাবে মানতেই হয় তবে আজকের যুগে এসে বলতেই হবে- আল্লাহর কাব্য প্রতিভা ইয়েটস- ইলিয়ট- জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, শেক্সপীয়র, মধুসুদন প্রমুখের তুলনায় অতি নিম্নমানের।
৭) এটা ঠিক যে- কোরআন মুখস্থকারীর সংখ্যা অনেক। এককালে হয়তো অন্য অনেক গ্রন্থই মানুষ মুখস্থ করে রাখতো- কিন্তু বর্তমানে এই অপ্রয়োজনীয় কাজটি কিছু ধর্মান্ধ ব্যক্তিই করে রাখে। ভগবৎগীতা, এমনকি বাইবেল মুখস্থ করা লোকও দুনিয়ায় আছে। সেই গ্রন্থগুলো আরো প্রাচীণ- এতে কিছু প্রমাণ হয় না। আর এটাও ঠিক যে- কোন গ্রন্থের সমস্ত কপি পুড়িয়ে ফেলা হলে- তার মুখস্থকারী একজনও জীবিত থাকলে সে গ্রন্থকে পুনরিজ্জীবিত করা যাবে। সেটা কোরআন কেন- যেকোন গ্রন্থের জন্য সত্য।
তবে- আমাকে যদি বলা হয়- দুনিয়ার সমস্ত কিছু ধ্বংস করা হবে- শুধু একটা বই রক্ষা করা যাবে- এমন শর্তের মুখে আমি কোরআন নয়- একটা সায়েন্স এনস্লাইকোপিডিয়া নিতাম। সেরকম সুযোগ না পাওয়া গেলে- আমি বিজ্ঞানের লেটেস্ট সমস্ত সূত্রগুলো লিপিবদ্ধ করে একটা বই বানিয়ে সেটি রক্ষা করতাম। কেননা একমাত্র সেটা হাতে নিয়েই মানুষ সবচেয়ে অল্প সময়ে সভ্যতাকে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে। কোরআনকে নিয়ে যেটা কখনো সম্ভব নয়।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
নিশ্চিৎভাবেই মেঘনাদবদকাব্য বা কিং লীয়র বা ওয়ার এণ্ড পীস এর ক্ষেত্রে এরকম অবিকৃতির ঘোষণা দেয়ার কোন প্রয়োজনই কেউ বোধ করেননি।++++++++++++++++++++++
তনুজা বলেছেন:
না.ধ. জানতাম আপনার লেখার ধার অনেক, তারপরও পড়ে অভিভূত। এমন ডিটেইল কিন্তু টু দ্য পয়েন্ট। স্যালুট, সেই সাথে প্রিয়তে
স্টিংরে বলেছেন:
+
দ্বিতীয় পরিচয় বলেছেন:
প্রিয়তে।
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
আর কত প্রিয়তে রাখব ? সবগুলোইতো রাখি। মাঝে মাঝেই আপনার ব্লগে ঢুঁ দেই নতুন কোন লেখা আছে কি না দেখতে । আপনার পুরো ব্লগটাই প্রিয়তে।
মিশু মিলন বলেছেন:
অসাধারণ!!! ভাইরে মহা ব্যস্ত। কদিন ঢাকার বাইরে ছিলাম। ব্লগে বসতেই পারি না। কেমন আছেন আপনারা?
সত্যান্বেষী বলেছেন:
+++
সত্যান্বেষী বলেছেন:
'যুক্তির উত্তাল জলে আমার বিশ্বাসের ক্রমাগত পার ভাঙা।' আমার নাস্তিক হয়ে উঠা নিয়ে এই শিরোনামে একটি পোস্ট দেয়ার কথা ভাবছি। কিন্তু অযথা সময় কাটানোর সময় থাকলেও লিখতে গেলে আর সময় হয় না। লেখক বলেছেন:
একটু কষ্ট হলেও দয়া করে শীঘ্রই লেখাটি তৈরী করুন........
সাব্বির শাহরিয়ার বলেছেন:
নাম বানানোর এত পথ থাকতে এই পথে কেন আসলেন বুঝতে পারলাম না।
লেখক বলেছেন:
সবাই তো সব কিছু বুঝতে পারে না রে ভাই.......
গুরু ভাই বলেছেন:
আম্নের তো দেহি কুনি দর্ম ই নাই?
জেনারেল বলেছেন:
বরাবরেই মতই দুর্দান্ত
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
দারুন!
ফাতাহ্ বলেছেন:
পুরান পাগলে ভাত পাইনা নতুন পাগলে আমদানি আর কি .....
খোলা_আকাশ বলেছেন:
++++
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
কাব্যগুণকে সময় এবং প্রেক্ষিতে আলোচনা করাই ভালো। এবং কাব্যগুণে রবীন্দ্রনাথ আর কোরআনের তুলনা চলে না-এও ঠিক। কিন্তু কাব্যগুণ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। মুহাম্মদ ভেবেছেন-এও অনেক-তিনি যে দৃশ্যকল্প তৈরি করেছেন-তা কম কিসে-আমার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর মনে হয় কিছু কিছু অংশ।আপনার যুক্তির ঢং চমৎকার।
লেখক বলেছেন:
আমিও মনে করি- কাব্যগুণ তথা যেকোন সাহিত্য বিচার সময় ও প্রেক্ষিতেই করা উচিৎ।
আমি চর্যাপদ- রামায়ন-মহাভারত-ওডিসি-ইলিয়ড প্রভৃতিতে অবশ্যই আজকের যুগের ছন্দের বৈচিত্র্য ও শক্তি খুঁজতে যাই না- এটাই স্বাভাবিক যে- ঐ আমলের কাব্যে পয়ার-চতুর্দ্দশপদী বা অমিত্রাক্ষর পাবো না। কিন্তু সমস্যা হয় যে- যখন কেউ কোন এক আমলের এক কাব্যকে সমস্ত যুগের জন্য সেরার রায় দিয়ে দেয় তখন। সে জায়গা থেকেই উপরের আলোচনাটি টানা- রবীন্দ্রনাথ, ... প্রমুখের নাম আনা। আরেকটি উদ্দেশ্য আছে- সেটা হলো দেখানো যে- মানুষের পক্ষেই কি অসাধারণ সব সৃষ্টি সম্ভব।
উপরন্তু আমার কাছে কোরআনের কাব্যমান সে আমলের এবং তারও আগের আমলের কাব্যের সাথে তুলনাতেও খুব নিম্নমানের মনে হয়। কেননা- বাস্তবে কোরআন তো কোন কাব্যগ্রন্থ নয়- মুহম্মদ সা এর কোন উদ্দেশ্যও ছিল না- কোরআনের মাধ্যমে কাব্যচর্চা করার। তারপরেও একদল ধর্মান্ধ লোক এর কিছু কবিতার উদাহরণ টেনে একে সমস্ত যুগের সেরা কাব্য বলে দাবি করে- এতে আসলে কোরআনকেই তারা তামাশার বস্তু হিসাবে উপস্থাপন করেন। এবং এটা মনে করি জন্যই আমি- চর্যাপদ-রামায়ন-মহাভারত প্রভৃতি যেগুলো আসলেই কাব্য এবং অসংখ্য কবির কাব্য প্রচেষ্টারই ফল- সেগুলোর সাথে কোরআনের তুলনাটাও আমার কাছে সঠিক মনে হয় না (এ যেন মেঘনাদবধ কাব্যের কাব্যময়তার সাথে বিষাদ সিন্ধুর কাব্যময়তার তুলনামূলক আলোচনা!!)। তারপরেও সেরকম তুলনামূলক আলোচনা টানা- কারণ, বিশেষ সেই দাবি।
আপনি দৃশ্যকল্প সৃষ্টির কথা বলেছেন। হুম, সেটা আমিও স্বীকার করি, এবং কোরআন যতই পড়ি- ততই মুহম্মদ সা এর প্রতিভায় বিস্মিত হয়ে যাই। তার কল্পনাশক্তি খুবই অসাধারণ। মেরাজের কাহিনীটিও ধরুন। বা বেহেশত-দোযখের ডিটেইলিং গুলো দেখুন। সে সময়ের বিধর্মী- স্বধর্মী সকলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব তিনি যেভাবে দিয়েছেন- খুব উচ্চমাপের কল্পনাশক্তির লোক না হলে তা সম্ভব নয়। একবার সাহাবীরা জিজ্ঞেস করছেন- সন্ধা নামলে সূর্য কোথায় যায়? সাথে সাথে জবাব- সূর্য গিয়ে আল্লাহর আরশের নীচে অবস্থান করে- ঠিক সুবেসাদিকের সময় সূর্য আবার চলে আসে... ইত্যাদি। এই যে- জবাবটি দিলেন, এখানেও কিন্তু দারুন কল্পনাশক্তির মিশেল আছে। এরকম- অসংখ্য বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন- কোরআনে ও হাদীসে পাওয়া যায়- এবং এত অসাধারণ ভঙ্গীতে, সবই অনবদ্য। ধরেন, আল্লাহর যে ৯৯ টি নাম, মানুষেরই বিভিন্ন ভালো গুন সব আল্লাহর নাম হিসাবে দিয়েছেন- কিন্তু এমন খুটে খুটে মানুষের ৯৯ টি গুন বের করাও কিন্তু কম না।
এটা ঠিক যে- ইসলাম হিসাবে মুহম্মদ সা যা প্রচার করেছেন তার বড় অংশই তার নিজের আবিষ্কার নয়। সেখানকার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা অলরেডিই এগুলোর বড় অংশ বিশ্বাস করতো ও মানতো, নানা মিথ আগে থেকেই আরব অঞ্চলে প্রচলিত ছিল- কিন্তু সেগুলোকে নিজের মত রিমেক করা, সংকলন করাও আমার মনে হয় অসাধারণ ধীশক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। এবং মাঝে মধ্যেই কোরআনে নানারকম দৃশ্যকল্প তৈরী হয়েছে। কিন্তু এসবকেই কি কাব্য বলা যায়? একটা রূপকথা গল্পে- ঠাকুরমার ঝুলি টাইপের বই এও চমৎকার সব দৃশ্যকল্প পাবেন- সেটাতে কি শুধু এটুকুই বলতে পারি না যে- এসবের রচয়িতার কল্পনাশক্তি খুব প্রখর ছিল (উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী পশুপাখির মুখে ভাষা দিয়ে গল্পগুলো পড়লে তো আমি এখনো মুগ্ধ হই- বা ঈশপের গল্প গুলোও লেখকের কল্নাশক্তির বহিপ্রকাশ ঘটায়)- কিন্তু কাব্য বা কবিতা হতে গেলে তো আরো কিছু লাগে!!
বাকারা- নিসা...... এসব সুরাকে কিকরে আপনি কবিতা বলবেন? কোনদিক থেকে এগুলোর কাব্যগুণ খুঁজে পাবেন?
আবার নাস-ফাতেহা-ফিল এরকম কিছু কবিতার ব্যাপারেও আগেই বলেছি- এগুলোর ছন্দ সেই প্রাচীণ আমলের কবিতাগুলোর সাথে তুলনা করেও নিম্নমানের মনে হয়েছে। কেননা- এগুলো একটু বেশী মাত্রায় একঘেয়ে- যেমন দেখুন:
রহিমের কলম আছে,
জব্বারের মলম আছে,
আবুলের বই আছে,
মিহিরের মই আছে,
কাদিরের কলস আছে,
নাদের খুব অলস আছে.....
সবগুলোর শেষে আছে..... এমনটি চললে- সেটি কি খুব ভালো লাগে? সুরা নাসে সব বাক্যের শেষেই নাস। অধিকাংশ কবিতার বেলাতেই ফর্মটা এই একই রকম। অথচ অন্তমিল রেখেই যদি কবিতার ছন্দ এমন হয়-
রহিমের কলম আছে,
জব্বারের মলম কাছে,
আবুলের আছে বই,
মিহিরের মই,
কাদিরের কলস,
নাদের খুব অলস.....
অন্তমিল থাকলেও কিন্তু ততোটা একঘেয়ে নয়। চর্যাপদ- রামায়ন-মহাভারতের ছন্দগুলো তাই আমার কাছে বেশী ভালো লাগে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
সিংহ বলেছেন:
+
কলুর বলদ বলেছেন:
++++++++++++++
আরিফুর রহমান বলেছেন:
জেনারেল বলেছেন: বরাবরেই মতই দুর্দান্ত
দি ওয়ান বলেছেন:
দুর্দান্ত + :-)
তনুজা বলেছেন:
হা হা হা @বিপ্লব০০৭, অসামান্য কমেন্ট
নিদ্রালু বলেছেন:
এত সুন্দর লেখায় যারা মাইনাস দিয়েছেন, আমার মনে হয় তারা না পড়েই শুধুমাত্র অন্ধবিশ্বাস থেকে দিয়েছেন।
সবাক বলেছেন:
প্রিয় পোস্ট
জেমসবন্ড বলেছেন:
পড়লাম....বুঝলাম...আপনার সাথে তর্ক করা বৃথা । কারণ কি জানেন ?
ছোট বেলায় একটা ভাব সম্প্রসারণ এর মূল কথাটা আজও আমার মনে বাজে ...সেটা হলঃ
দ্বার বন্ধ করে ভ্রম টাকে রুখি
সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি ?
................কথাটার মানে বুজেন ? আপনি তো ধরেই নিয়েছেন...যাক...হেদায়াত আল্লাহর হাতে....তবে...আপনি নিজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন আর অন্যদেরকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন...এটাই সবথেকে বড় ক্ষতি....
যাক....আপনাকে বলে গেলাম আল-কুরআনের ভাষায়--পারেন তো সমালোচনা করতে ..পারেন না কিছু সৃষ্টি করতে....
.................আল্লাহর দাসদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই তাকে ভয় করে; আল্লাহ পরাক্রমশালী,ক্ষমাশীল ।.. (সূরা ফাতির-৮)
...কেয়ামতের দিন অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে একত্রিত করবেন, এত কোন সন্দেহ নেই । তারাই অবিশ্বাস করবে যারা নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলেছ । (সূরা আন-আম-১২)
...তার(আল্লাহ'র) প্রমাণ বা নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে আকাশ ও পৃথিবীর সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র । নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের জন্য এর মধ্যে রয়েছে প্রমাণ (সূরা -রূম-২২)
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
@জেমসবন্ড: ভাই এদের সাথে কোন যুক্তি তর্কে যাওয়া বৃথা। অনেক দেখছি। কুকুরের লেজ যেমনই ছিল তেমনই আছে।
আপু, আপনি সম্ভবত জাত-নাস্তিক। তাই মন্তব্যের তাত্পর্য আপনার কাছে ভিন্নভাবে ধরা দিচ্ছে। অথচ এই ডিডাকশনে আসতে কী যে পরিশ্রম হয়েছে আমার...! কোরআনের ছন্ধবদ্ধ আয়াতগুলো কিভাবে যে একজন নিরক্ষরের কাছ থেকে প্রডিউস হল, এটা বুঝতে নয়, বরং উপলব্ধি করতে আমার ঘাম বেরিয়ে গিয়েছে। আস্তিকদের সমস্যাটা ওখানেই। উপলব্ধিটাই বড় কথা যেখানে একজন নাস্তিক মনে করে জাস্ট তার যুক্তি দিয়েই একজন আস্তিককে কাঁত করে দেবে। আমি বুঝি, আস্তিকদের কাছে পুরো ব্যাপারটাই কিন্তু ভিন্ন...তাদের প্রতি আমার ক্রোধ নেই; তাদের সাইকোলজিটাও বুঝতে হবে। মহাবিশ্ব ও মানবজাতির ইতিহাসের বিশালতা নিজের মধ্যে ধারন করতে পারলে, যৌক্তিক চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসও একসময় নিজের অন্ত:সারশূন্যতাগুলো ধীরে ধীরে খুঁজে পেতে শুরু করবে। ইতিহাসে ছাত্রদের সাইকোলজি ওটাই।
শন পাপড়ি বলেছেন:
"কেন অন্য ধর্মাবলম্বী প্যাগানদের ধর্মী উপাসকদের মূর্তিগুলো ধ্বংস করে দিতে হয়?"-গৌতম বুদ্ধ তো তার নিজের মূর্তি বানিয়ে পূজা করতে বলেননি,তিনি তো মানবতার পূজা করতে বলেছেন।
হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ এ মোট ৫ বার বলা হয়েছে-"নতস্য প্রতিমা আস্তি"----তার কোন প্রতিমূর্তি নেই।
সূত্রঃইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন(IRF)
তাহলে তো প্রতিমা ধবংস করে তো একটি মিথ্যার ই অবসান ঘটান হয়েছে।
তালেবানদের বৌদ্ধ মূর্তি ধবংস তাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়, কারণ দেশটি মুসলিম প্রধান।সেখানে কোন বৌদ্ধ আছে শুনি নাই।
তবে যদি অন্য ধর্মাবলম্বী থেকে থাকে ,তবে সেক্ষেত্রে ইসলামের নিষেধাজ্ঞা আছে।
মহানবী(সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবা ঘর থেকে মূর্তি বিতাড়িত করেছিলেন,কারণ কাবা মুসলমানদের মিলনকেন্দ্র যেখানে আল্লাহর উপাসনা করা হয়,কন মানব সৃষ্ট মূর্তির নয়।
আপনার মনে দেখা যাচ্ছে অনেক প্রশ্ন।আপ্নাকে একটু সাহায্য করতে পারি। প্রতিদিন রাত ১০:৩০ থেকে ১১:৩০ পর্যন্ত PEACE TVতে Dr. ZAKIR NAYEKএর লেকচার দেখান হয়,যেখানে আপনার অনেক প্রশ্নের প্রামাণ্য উত্তর পেতে পারেন।
মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন:
লৈখক কে একটা বিষয় সম্বন্ধে চিন্তা করার জন্য অনুরোধ করব। যদিও অনেকদিন পর মন্তব্যটা করছি তবুও আশা করব আমার ভাগ্য ভাল হবে। লেখক, যদি মনে করেন পরকাল না থাকে তবে আমি ইবাদত করছি আর আপনি ইবাদত করছেন না ধরে নিলাম, দুজনের কেউ ই কোন সমস্যায় পড়ব না। কিন্তু বাইচান্স যদি পরকাল চলেই আসে তবে আপনি কি প্রস্তুত আছেন আপনার সকল যুক্তি নিয়ে? আমি কিন্তু প্রস্তুতি নিচ্ছি নিয়মিত।আরেকটা কথা, বিশ্বাস বিষয়টা সব যুক্তির উর্ধ্বে। মানুষের মনুষ্য অনুভুতিগুলোই আসলে যুক্তি দিয়ে চলে না। একটু চিন্তা করে দেখেন না কখনো কি আপনার এমন কোন মেয়েকে দেখে পছন্দ হয়নি, যার সাথে আপনার মিলন হওয়া কোন যুক্তিতেই আসে না, তার পরও ভাল লেগেছে। এমন হয়েছেকি কখনো? যদি হয় তাহলে বুঝবেন বিশ্বাস আসলে বিশ্বাসই। যুক্তি দিয়ে যা জানবেন তা বিশ্বাসে পরিণত হতেও পারে নাও হতে পারে। কিন্তু মানুষের কাছে যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসই বড় এবং বেশি সমাদৃত।
অরণ্যদেব বলেছেন:
@মুহাম্মদ ফয়সল । আপ্নের যুক্তিটা ছেলেমানুষ্মিার্কা হয়া গেল না? ধরেন্জদি এইরোম্ট্টা গল্পু..."কিন্তু বাইচান্স যদি পরকাল চলেই আসে তবে আপনি কি প্রস্তুত আছেন আপনার সকল যুক্তি নিয়ে? আমি কিন্তু প্রস্তুতি নিচ্ছি নিয়মিত।"
এইযে আপ্নে কৈলেন। এইবার ধন্জেদি আপ্নেরে এট্টা কুয়ার্কাসে নিয়া কউয়াহৈল, এই কুয়ার পানিতে ঝাপ্দেউ। বাইচান্স যদি কুয়ায় গজাল্পুতা থাহে? যদি চুক্খা বাঁশ পুতাথাহে? আপ্নে কি বাইচান্সের উপ্রে ভরসা কর্বেন, না পানিত্নাইম্মা পুরমান্লৈবেন?
মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন:
অরণ্যদেব, সংস্কৃত ছাইড়া বাংলায় লেখেন, আপনার লেখা বুঝতে বহুতবার পরা লাগছে। আর আপনে কইলেন আর আমি কুয়ায় ঝাপ দিলাম, এই ডা মনে করলেন ক্যামনে। নিজে ছেলেমানুষি ছাইরা আগে আরেকবার পরেন কি লিখছি, তা হলেই বুঝতে পারবেন যুক্তিটা কিসে।
ফারুক৫৫ বলেছেন:
"একইভাবে কোরআনের আয়াতে আয়াতে বিজ্ঞান বিরোধী অসত্য অসামঞ্জস্য উদ্ভট কথাবার্তা পাওয়া যায়।"দুই একটা উদাহরন দিয়ে কথা টা বল্লে যুক্তিযুক্ত হতো।
ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করতে চাইলে কোরান নিয়েই সমালোচনা করেন , মানুষের ভুল ধ্যান ধারনা নিয়ে সমলোচনা করে লাভ আছে কি? মুহাম্মদ আমাদের মতোই মানুষ (এ তথ্য কোরানের বহু আয়াতে পাবেন), তারও ভুলভ্রান্তি আছে।
কোরান কোন কাব্যগ্রন্থ না , সুতরাং কাব্য হিসাবে এর মূল্য দিতে চায় অতিউৎসাহীরা। তবুও এর বিপরীতে আপনি যে কাব্য সৃষ্টি করেছেন তা নোবেল পাওয়ার মতো।
সপ্ন পুরন বলেছেন:
মুহাম্মদ ফয়সল ভাই,যা দেখাইলেন না ভাই।হযরত আলির কথাটা চামে মাইরা দিলেন।ভালো পোস্ট।
শফিক আসাদ বলেছেন:
"অরণ্যদেব, সংস্কৃত ছাইড়া বাংলায় লেখেন, আপনার লেখা বুঝতে বহুতবার পরা লাগছে।" আমি তো বহুতবারেও কিছু বুঝলাম না।নাস্তিকের ধর্মকথা == আপনি নাস্তিক কাকে বলে তা জানেন?
যাক্, এ পোস্টটা ভালোই, অনেক কষ্ট করে করা।
ভাইরে, আমি ভালো ঢোল বাজাইতে পারি বইলা সবার কান পচানোর জরুরত টা বুঝলাম না। চালায়া যান। সমাজে আপনের দরকার আছে।
আচ্ছা আপনি এক্সরসিস্ট মুভিটা দেখছেন?
শফিক আসাদ বলেছেন:
নাস্তিক কাকে বলে আমিও জানি না। তাইতো আমার এই অবস্থা। পারলে হেল্প মি।
আমি গৃহহীন বলেছেন:
একটা কুয়ার মধ্যে একটা ব্যাং আছে। তাকে যদি কখনো বলা হয়, বাইরে এমন এমন সব প্রাণী আছে যারা এমন যন্ত্র ( পরমানু অস্ত্র ) তৈরী করে যা দিয়ে মাইলের পর মাইল ধংশ করে দেয়া যায়, তাহলে কি সে বিশ্বাস করবে? অবশ্যই না। আমাদের অবস্থাও সেরকম। অসীম মহাশুন্যের কিছুই আমরা জানিনা। কোথায় আছি, কোথা থেকে আসলাম, এই সৌর জগতের বাইরে কি আছে, কিছুই জানিনা। যা বলি তা অনেকটাই অনুমান নির্ভর। আমরা সেটাকেই বিজ্ঞান বলি, যেটা আমাদের চারপাশে ঘটে, এর বাইরে কিছু আমরা ভাবিনা। আমাদের বিজ্ঞান একটা জায়গায় গিয়ে কিন্ত থেমে যায়, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। বিজ্ঞান আমাদের বলে, কিভাবে প্রাণীর জীবন চক্র চলে, জীনের গঠন, নিউক্লিয়াসের গঠন সবই বিজ্ঞান বলে। কিন্তু বিজ্ঞান কি পারে শুন্য থেকে কিছু তৈরী করে দেখাতে? বিজ্ঞান অবশ্যই দরকার, কিন্তু সেটা আমদের সমাজকে উন্নত করার জন্য।
যে বিজ্ঞান কে দ্ধ্রুব সত্য ধরে আমরা সৃষ্টিকর্তা কে অস্বীকার করি, সেই বিজ্ঞান কি কোন দিন পারবে প্রকৃতির সামান্য কোন কিছুও তৈরী করতে? কোনদিনও কি পারবে মৃত্যুর ব্যাখ্যা দিতে? পারবে না। যেই পৃথিবীর উপর দাঁড়িয়ে আমাদের এত বড়াই, একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে কোথায় যায় আমাদের এত বড়াই?
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। তিনি আমাদের সত্যকে জানার সুযোগ দিন।
লেখক বলেছেন:
আপনার কুয়ার ব্যাঙের উপমাটা আমার মনে ধরেছে। আসলেই আমরা এই অপার বিশ্বজগতের তুলনায় একটা কুয়ার ব্যাঙেই বসবাস করছি। এমনকি এই পৃথিবীরই অনেক কিছু আমাদের অজানা- ফলে নিজেদের কুয়ার ব্যাঙ ভাবতে আমার কোনই আপত্তি নেই।
কিন্তু কুয়াটির মধ্যকার কোন কোন ব্যাঙ যদি হঠাৎ করেই আজগুবি সব গাল গল্প নিয়ে এসে হাজির হয় এবং সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানায়- তবে সেগুলোতে বিশ্বাস আনাটাকে অন্ধত্বই বলা হবে। আর যে এরকম গাল গল্প বিশ্বাস করার জন্য প্রচার করে- তার মস্তিষ্কের চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করি।
পরিশেষে এটাই মনে করি যে- আমি আমরা যদি কুয়ার ব্যাঙ হয়ে থাকি- তবে বিভিন্ন আমলের তথাকথিত প্রেরিত পুরুষেরাও (নবী-রাসুলেরা) অনুরূপ কুয়ার ব্যাঙ- বরং বলা যায় যে- এই আমলের কুয়ার পরিধিটি সেই আমলের কুয়ার তুলনায় পরিধি ও আয়তনে অনেকটাই বড়। সুতরাং আগের আমলের কুয়া সংক্রান্ত জ্ঞানটুকু নিয়ে আজো পড়ে থাকলে বর্ধিত অংশটুকু অজ্ঞাতই থেকে যাবে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মোহাইমেন বলেছেন:
লেখা স্টাইল ভালো কিন্তু যুক্তির অনেক ফাক আছে। রিফিউট করা যাবে লাইনে লাইনে, করে লাভ নাই তাতে, 'যেই লাউ সেই কদু'ই থাকবে।একটা পরামর্শ দেই:
পরিস্কার-পরিছন্ন হয়ে একটু ধ্যান নিমগ্ন হবেন (আমি এখানে একাগ্রতার কথা বলেছি)। তারপর যত বিদ্যা-যুক্তি আছে সব কিছু নিয়ে উত্তরগুলো খোজার চেস্টা করবেন, 'আপনি কে', 'কেন আসলেন', 'কোথায় যাবেন'। ব্যস আর কিছু না। এর মাঝে প্রশ্ন আসবে। সেগুলো সম্পর্কে পড়াশুনা করে আবার চিন্তা করতে বসবেন। চিন্তাভাবনা করবেন আস্তিকদের যুক্তিতর্কে হারানোর জন্যে না। নিজের যুক্তিগুলোকে ক্ষুরধার করার জন্য।
বিজ্ঞান বলতে আপনারা অজ্ঞান, অথচ আপনারা বিজ্ঞানকে আবদ্ধ করে ফেলেছেন ক্ষুদ্র পরিসীমায়।
আপনার লেখায় যুক্তি আছে, কিন্তু সেটা কোথাও মুদ্রার একপিঠ, আবার কোথাও খন্ডিত, কোথাও আবেশী যুক্তি। এই অপুর্নতাগুলো খুব সুক্ষভাবে আড়াল করেছেন সাবলীল লেখনীগুন দিয়ে। আর না হয় নাইবা বললাম, কি বলেন
সোজা কথা বলেছেন:
@মোহাইমেন, এখানে মানুষের চিন্তাভাবনার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে।Click This Link
সাইলেন্সার বলেছেন:
ভাইয়েরা আমার,
কেয়ামতের বেশি দেরী নাই!
লক্ষণ শুরু হইছে!
সামহোয়ার ইন ব্লগে আসার আগে বুঝতেও পারি নাই দেশে নাস্তিকের সংখ্যা এত!
আল্লাহ তুমি আমাদের মাফ করে দাও...
রশীদ খাঁন বলেছেন:
প্রিয় পোষ্ট
রানা চৌধুরী বলেছেন:
ইসলাম সম্পর্কে আপনার ভালোই ধারনা আছে বলে মনে হচ্ছে। তার আগে বলুন একটা ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে কি আপনি কোরান শরিফ পুরোটা ভালভাবে পড়ে দেখেছেন?আমার মনে হয় আপনি তা করেন নি। কোরান শরিফ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারনা পেতে হলে ১ বার পড়ে সেটা সম্ভব না। যে কাউকে গভীর মনোযোগ সহকারে কয়েকবার পড়া উচিত। কারো ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে সেই ধর্মগ্রন্থ কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে তারপর মন্তব্য করুন। আমার মতে জগতের কোন ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে এমন তাচ্ছিল্যের সাথে মন্তব্য করা ঠিক না। আমি কড়া ভাবে মন্তব্য করলে যে কেউ ভাববে, মুসলমানরা এ রকমই গোড়া।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
হ! মিশ্টার রানা.. বহুত বার কোরান পইড়াও এইটারে একটা বোকা বোকা কথা ভরা গরন্থ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নাই.. 'পইড়া দেখেন' বাদ দিয়া নতুন কিছু বলেন..
রানা চৌধুরী বলেছেন:
আরিফ সাহেব, পবিত্র কোরানের অনেক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি তাদের বুকে মোহর মেরে দিয়েছি,চোখে পর্দা টেনে দিয়েছি ফলে তারা দেখেও দেখবে না,বুঝেও বুঝবে না। আমার মনে হয় আপনি এমনই একটা দলে পড়ে গেছেন। এই মহা পবিত্র কোরানের অনেক জায়গায় এমন অনেক আয়াত আছে যেখানে বলা আছে কোরান এমন এক ধর্মগন্থ যা পড়ে কিছু লোক পথ পাবে আবার কিছু লোক বিপথগামী হবে, বস্তত আল্লাহ'র অনুগ্রহ ব্যাতিত কেউ সৎ পথ প্রাপ্ত হয় না। তাই আপনাকে শত বোঝালেও আপনি বুঝবেন না। আল্লাহ যেন আপনাকে অনুগ্রহ করেন।
সাদী বলেছেন:
মোহাইমেন বলেছেন: লেখা স্টাইল ভালো কিন্তু যুক্তির অনেক ফাক আছে। রিফিউট করা যাবে লাইনে লাইনে, করে লাভ নাই তাতে, 'যেই লাউ সেই কদু'ই থাকবে।একটা পরামর্শ দেই:
পরিস্কার-পরিছন্ন হয়ে একটু ধ্যান নিমগ্ন হবেন (আমি এখানে একাগ্রতার কথা বলেছি)। তারপর যত বিদ্যা-যুক্তি আছে সব কিছু নিয়ে উত্তরগুলো খোজার চেস্টা করবেন, 'আপনি কে', 'কেন আসলেন', 'কোথায় যাবেন'। ব্যস আর কিছু না। এর মাঝে প্রশ্ন আসবে। সেগুলো সম্পর্কে পড়াশুনা করে আবার চিন্তা করতে বসবেন। চিন্তাভাবনা করবেন আস্তিকদের যুক্তিতর্কে হারানোর জন্যে না। নিজের যুক্তিগুলোকে ক্ষুরধার করার জন্য।
বিজ্ঞান বলতে আপনারা অজ্ঞান, অথচ আপনারা বিজ্ঞানকে আবদ্ধ করে ফেলেছেন ক্ষুদ্র পরিসীমায়।
আপনার লেখায় যুক্তি আছে, কিন্তু সেটা কোথাও মুদ্রার একপিঠ, আবার কোথাও খন্ডিত, কোথাও আবেশী যুক্তি। এই অপুর্নতাগুলো খুব সুক্ষভাবে আড়াল করেছেন সাবলীল লেখনীগুন দিয়ে। আর না হয় নাইবা বললাম, কি বলেন
তানভীর চৌধুরী পিয়েল বলেছেন:
@রানা চৌধুরী, "মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি তাদের বুকে মোহর মেরে দিয়েছি,চোখে পর্দা টেনে দিয়েছি ফলে তারা দেখেও দেখবে না,বুঝেও বুঝবে না"
আল্লাহই যদি আমার বুকে মোহর মারেন তবে আখেরাতে আমি শাস্তি পাব কেন?
যদি আমি একটা শিশুকে দিয়ে খুন করাই তবে সে শাস্তি পাবে কেন?
(আমি কেবল বিষয়টা বুঝতে চাই, অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই)
চিন্তার ক্ষেত্রে মুক্ত ভাবে একটা বিষয়কে ভেবেছেন, তার ওপর কিছু লিখেছেন, সে জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এতে কোরআনের কত ক্ষতি হবে বা ১৮০০ মিলিয়ন মুসলমানদের মধ্যে কয়জন তার ধর্ম ত্যাগ করবে জানিনা।
লেখক বলেছেন:
আপনার কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আসলে যিনি সৃষ্টি করলেন তিনি সবার মগজটা স্বাধীন করে দিলেন- বিষয়টা কি এরকম? মহান সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন নিজের মর্জিমাফিক খেয়াল-খুশি মোতাবেক, সৃষ্ট সমস্ত কিছু চলা-ফেরা- চিন্তা-ভাবনা সমস্ত কিছুও হয় তারই ইচ্ছামাফিক। অর্থাৎ- আমি যে আজ সেই সৃষ্টিকর্তা আর তার পেয়ারি বান্দার নামে এত আজে বাজে কথা বলছি- সেটাও তো ওনারই ইচ্ছা- কেননা সবকিছুই তো পূর্বনির্ধারিত। একইভাবে আপনিও যে উপরের কমেন্ট লিখেছেন- সেটাও ওনারই ইচ্ছাতেই......., আমরা ওনার শুধু খেলার পুতুল মাত্র- বলতে পারেন- রোবট, খুব উন্নতমানের রোবট, আর কিছু নয়। যা কিছু হয়- যা কিছু ঘটে- সবই ওনার লীলা, কেবলই লীলাখেলা।
যাক আসলে আমাদের জ্ঞান কিন্তু খুবই সীমাবদ্ধ, এই সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া আমাদের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব। তার পরেও চিন্তার দরজা তো সব সময়ই খোলা।
লেখক বলেছেন: ৭৩ নং সুরায় এরকম কিছু পেলাম না, সম্ভবত অন্য সুরা হবে। ৭৩ নং সুরার প্রথম ৫ টি আয়াত কপি করছি:
1. O you wrapped in garments (i.e. Prophet Muhammad SAW)!
2. Stand (to pray) all night, except a little.
3. Half of it, or a little less than that,
4. Or a little more; and recite the Qur’ân (aloud) in a slow, (pleasant tone and) style .
5. Verily, We shall send down to you a weighty Word (i.e. obligations, legal laws, etc.).
আপনার উল্লেখিত সুরা নাম্বার বা নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। কিছু আলোচনা করা যাবে।
লেখক বলেছেন: ৭৬ নং সুরার প্রথম ৫ টি আয়াত:
১। Has there not been over man a period of time, when he was nothing to be mentioned?
২। Verily, We have created man from Nutfah drops of mixed semen (discharge of man and woman), in order to try him, so We made him hearer, seer.
৩। Verily, We showed him the way, whether he be grateful or ungrateful.
৪। Verily, We have prepared for the disbelievers iron chains, iron collars, and a blazing Fire.
৫। Verily, the Abrâr (pious, who fear Allâh and avoid evil), shall drink a cup (of wine) mixed with water from a spring in Paradise called Kâfûr.
আয়াত ৫ টি পড়ে খুবই আশ্চর্যান্বিত হইলাম!
"আমি তোমাদেরকে দ্রষ্টা এবং শ্রোতা হিসেবে সৃষ্টি করেছি। তোমরা আমার সব কিছু দেখার পরেও আমাকে স্বীকার বা অস্বীকার করার সম্পুর্ণ স্বাধীনতা তোমাদের কে দেয়া হলো। "===>> আপনি সম্ভবত ২ নং ও ৩ নং আয়াতের ভাবার্থ হিসাবে এগুলো লিখেছেন। ধরে নিচ্ছি- কোরআনে এই সুরার এই দুটি আয়াতের মানে এরকমই দাঁড়ায়। মানুষকে তার কাজের ব্যাপারে বা চিন্তার ব্যাপারে স্বাধিনতা দিয়েছেন এমন আয়াত আরো অনেক আছে- সেগুলোও আশ্চর্যজনক। অনেক জায়গাতেই কোরআনে বলা হয়েছে- মানুষ তার কর্মফল ভোগ করবে কারণ আপন কর্মের জন্য সেই মূলত দায়ি..... ইত্যাদি। এধরণের সমস্ত আয়াতই আসলে খুব আশ্চর্যান্বিত করে দেয়ার মত।
কারণ- এই আয়াতগুলো প্রচণ্ড স্ববিরোধিতায় পরিপূর্ণ। কোরআন তথা ইসলাম ধর্মে যে বিষয়গুলো মারাত্মক স্ববিরোধিতা দোষে দুষ্ট তার মধ্যে এটা অন্যতম। আল্লাহ সবকিছুর মালিক- নিয়ন্ত্রা, তার নির্দেশ ছাড়া একটা পাতাও নড়ে না, আল্লাহ সমস্তকিছু পূর্বেই নির্ধারিত করে রেখেছেন- আল্লাহর কাছে কেবল মানুষ নয়- জগতের ভূত ভবিষ্যৎ অজানা নয়,- সেই আল্লাহই আবার কোরআনে বলছেন: মানুষের সামনে পথ রাখা হয়েছে - সে কৃতজ্ঞ হবে নাকি অকৃতজ্ঞ হবে সেটা নাকি মানুষ নিজেই বেছে নিতে পারবে!!!! এগুলো পড়লে আশ্চর্য হতেই হয় বৈকি। এসব উল্টাপাল্টা গাল গল্প পড়তে গেলে হাসিও কম আসে না।
যাহোক- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
যা হোক আপনি মানুষের অদৃষ্টের ব্যাপারে কোরআনের ভুমিকা নিয়ে বলতে চেয়েছেন, বাহ্যিক ভাবে যেটাকে স্ববিরোধী মনে হয়। আসলে পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম বা দর্শনের কথা আমার জানা নেই যেটা অদৃষ্ট আর কর্মফলের ক্লিয়ার ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে। সেখানে গীতা বলেছে কর্ম করে যাও, ফলের আশা রেখে। কোরআন ও বলেছে আমল করো, ফল তোমার রবের হাতে। তবে এটাও বলা হয়েছে আমল করার ব্যাপারে তোমরা সম্পুর্ণ স্বাধীন।
আমি যা করি তার সব কিছুই যদি স্রষ্টার হুকুমেই করি তাহলে তার কোন দায় আমার ওপর বর্তায়না। চিন্তা শক্তিটা স্বাধীন হলে এটা বোঝতে তেমন কষ্ট হবার কথা নয়।
বিশেষঃ আমার কাছে জিব্রাঈল বা কোন স্বর্গদূত আসেনা যে আমি আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবো। আপনার মতো আমিও ওসব বিষয়ে ভাবি এই যা।
ফারাক শুধু এই যে আপনি কনক্লুশনে এসে গেছেন এসব সম্পুর্ণ মিথ্যা আর আমি এখনো কোন কনক্লুশনে আসতে পারিনি। আমি এখনো প্রকৃতির প্রতিটি নিয়মে আর পদার্থ বিদ্যার প্রতিটি ল আর থিউরিতে স্রষ্টাকে খুঁজে ফিরি। আমি ভাবি হয়তো এমন কেউ আছেন যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমার ভবিষ্যত টা হয়তো তারই নিয়ন্ত্রনে।
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন:
কোরআনের বহু যায়গায় বলাহয়েছে -আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তারা কিছুই সৃস্টি করেনি বরং তারাই অন্যের সৃস্ট।
কথাটা মুলত আরবের সেই সময়কার বিভিন্ন দেবদেবীর প্রসঙ্গে বলা হলেও এটা একটা চিরন্তন সত্য। এই ব্লগে নাস্তিক নামধারীদের বিভিন্ন লেখা পড়ে বিষয়টা নতুনকরে অনুধাবন করলাম। এরা আল্লাহ, তার কিতাব এবং তার রাসুল(স: )কে মিথ্যা প্রমানের জন্য দুটি জিনিসের উপর অগাধ বিশ্বাস রাখে - এক. ইতিহাস এবং দুই. বিজ্ঞান। আর সন্দেহাতীত ভাবেই সত্য যে এ'দুটির কোনটি শুন্য থেকে কিছু সৃস্টি করতে পারে না বরং উভয়েই মানুষের তৈরী। চিন্তা করে দেখুন কোরআনের কথা কতটা সত্য!!
আসলেই যুগে যুগে মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপর নির্ভর করেছে তারা সবাই এ'রকমই দুর্বল ছিল। একসময় মানুষ নিজের হাতে তৈরী দেব-দেবী বা প্রকৃতিক জড় বস্তু সুর্য চন্দ্র এ'সবের উপর বিশ্বাস রাখত আর বর্তমানে রাখছে ইতিহাস আর বিজ্ঞানের উপর। যদি সম্ভব হয় মানুষের তৈরী এ'সব দুর্বল বিষয় বাদ দিয়ে এমন কিছুকে উপস্থাপন করুন যা আল্লাহরমত শুন্য থেকে কিছু সৃস্টি করতে পারে।
একটা প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায় - আল্লাহর কর্তৃত্ব যদি সর্বত্র বিরাজমান থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে এত কথা লেখা হয় কিভাবে। এই প্রশ্নটি আমাকেও ভাবাত। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আল্লাহ মুলত তার কোরআনের আয়াতের সত্যতা প্রমানের জন্যই তার বিরুদ্ধে লেখার অনুমতি দেন। কোরআনেই বলা হয়েছে যারা নাফরমানির পথে অগ্রসর হয় আল্লাহ তাদেরকে সেই পথে অগ্রসর হওয়া সহজ করে দেন। আর এর মাধ্যমেই তিনি মানুষকে পরীক্ষা করেন কারা এ'সব কথাবার্তা শুনে বিভ্রান্ত হয় আর কারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এ'জন্যই সকল যুগে এ'ধরনের কিছু মানুষ দেখা গেছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত দেখা যাবে।
শুভ্র এবং শুভ্র বলেছেন:
অসাধারণ
সংগ্রামী অলস বলেছেন:
"এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।"
"আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।"
আল বাক্বারাহ, আয়াত ২৩-২৪।
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন:
ছোট বেলা থেকেই একটা প্রশ্ন আমাক খুব তাড়াত, যে আল্লহ পাক সর্বজ্ঞ্যানী, ঊনি ভুত,ভবিষ্য সব জানেন, কে কি কবে কোথায় করবে... সব। তাহলে আমাদেরকে কেন ঊনি পরিক্ষার হলে পাঠাইলেন, যার রেজাল্ট উনার আগে থেকেই জানা, কে পাশ(বেহেস্ত) কে ফেল(দোজখ) করবে?
কার্নেল বলেছেন:
একটা ইনফাইনিট লুপ চালায়া মাইনাস দিতে পারলে ভালা লাগত
মিরাশদার১০ বলেছেন:
তবে- আমাকে যদি বলা হয়- দুনিয়ার সমস্ত কিছু ধ্বংস করা হবে- শুধু একটা বই রক্ষা করা যাবে- এমন শর্তের মুখে আমি কোরআন নয়- একটা সায়েন্স এনস্লাইকোপিডিয়া নিতাম। সেরকম সুযোগ না পাওয়া গেলে- আমি বিজ্ঞানের লেটেস্ট সমস্ত সূত্রগুলো লিপিবদ্ধ করে একটা বই বানিয়ে সেটি রক্ষা করতাম। কেননা একমাত্র সেটা হাতে নিয়েই মানুষ সবচেয়ে অল্প সময়ে সভ্যতাকে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে। কোরআনকে নিয়ে যেটা কখনো সম্ভব নয়।+++
আলোকের পথিক বলেছেন:
নাস্তিকের ধরমকথার প্রত্যেকটি ব্লগ পড়ি আর ভাবি কয়েকটা মানুশকে আসল পথে আনার কত চেষ্টা আপনি করেন আর সেগুলো কিভাবে বৃথা যায়। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আলোকের পথিক বলেছেন:
নাস্তিকের ধরমকথার প্রত্যেকটি ব্লগ পড়ি আর ভাবি কয়েকটা মানুশকে আসল পথে আনার কত চেষ্টা আপনি করেন আর সেগুলো কিভাবে বৃথা যায়। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
আলোকের পথিক বলেছেন:
নাস্তিকের ধরমকথার প্রত্যেকটি ব্লগ পড়ি আর ভাবি কয়েকটা মানুশকে আসল পথে আনার কত চেষ্টা আপনি করেন আর সেগুলো কিভাবে বৃথা যায়। সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
মেহেদী পরাগ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন ভাই। আপনার কথাগুলোর অধিকাংশের সাথেই সহমত। তবে একটা জিনিস খেয়াল করবেন যে আপনার সমালোচনার অনেকটাই আছে মানুষের ধারণা নিয়ে, সরাসরী কোরান নিয়ে নয়। এখন আপনি কি কিছু অসত মানুষের অসততার কারণে মূল জিনিসটা থেকে নিজেকে বঞ্ছিত করবেন?১) কোরান কাব্যিক- এটা সত্য বলে ভাবা আপনার জন্য জরুরী নয়। কোরান এমন দাবী করেনা যে এটা সাহিত্যে অনন্য।
২) আদম হাওয়া, নবীদের অলৌকিক ক্ষমতার আজগুবী গালগল্প - এগুলো কোরানের আয়াতের উপর মানুষের ইম্পোজ করা ব্যাখ্যা। আপনার বিশ্বাস না করলেও চলবে।
৩) জ্বীন, ফেরেশতা- মানুষের ইম্পোজ করা ব্যাখ্যায় আমরা যা মনে করি ব্যাপারটা সেরকম নয়। জ্বীন তো মানুষই আর যা লুক্কায়িত থাকে বা দেখা যায় না। ফেরেশতা তো ফিজিক্যাল ল।
৪) ওহী নাজিলের উপায়- সম্পূর্ণ আন কোরানিক মতবাদ বিশ্বাস করে লোকে, আপনি না বিশ্বাস করলেও চলবে।
৫) নবী নিরক্ষর- আপনি বরং উল্টোটাই বিশ্বাস করুন। কোরান অনুযায়ী সেটাই যৌক্তিক।
৬) কোরান ও বিজ্ঞান- যে লিঙ্ক দিলেন তা পড়লাম। এটা মূলত কোরান নিয়ে অতি উৎসাহীদের ''ক'' তে ''কমলা'' খোঁজার চেষ্টা। সে সব অতি উৎসাহীর বিপক্ষে আপনার পোস্ট ভাল। তবে মূল কথাটা আপনি অন্য ভাবে চিন্তা করতে পারেন। সেটা হল কোরান থেকে ওই সব বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করা যায় না ঠিক আছে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সাথে কোরানের সরাসরি সংঘর্ষ নেই। এর সাথে যোগ করুন অন্য বহু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যা কোরানের সাথে পিউর প্যারালাল পজিশনে অবস্থান করে। এর পরেও এটাকে কোরান বিশ্বাস করার মূল যুক্তি বলবনা আপনার কাছে।
৭) দাস প্রথা- বিদায় হজ্বে লক্ষ সাহাবা উপস্থিত ছিলেন তবু এই ভাষনের তিনটি ভার্সন পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে বানী/হাদীস কতটা পরিবর্তিত হয়েছে। যুদ্ধবন্দীদের দাস বানানোর অনুমতি কোরানে দেয়া নাই, আর পূর্বের সকল দাস মুক্ত করে দেয়ার পরামর্শ কোরানে দেয়া আছে। এতে দাস প্রথা উঠেই গেল।
কোরান বলে বাপ দাদার ধর্ম অন্ধ অনুকরন না করতে। কোরান বলে যুক্তি চিন্তা প্রয়োগ করতে। কোরান এটাও বলে যে বাপের ধর্ম অন্ধ বিশ্বাস করলে বাপের ধর্মই যে ঠিক তার নিশ্চয়তা কে দিবে? যারা যুক্তি চিন্তা ব্যবহার করেনা তাদেরকে অন্ধ বধিরের সাথে তুলনা করে কোরান।
কোরান বলে আগের মানুষেরা আল্লাহর আয়াতসমূহ পরিবর্তন করেছে। আজ কোরানের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন উপায় দেখি। পল ভার্সাস আবু হুরায়রা। হাদীস / তাফসিরের মাধ্যমে কোরানের আয়াত পরিবর্তন না করেও তার ইমপ্লিকেশন পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ জ্বীন/অলৌকিক গল্প/ চোরের হাত কেটে ফেলা/ বউ পেটানো/ বেহেশতের হুর ইত্যাদি অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যায়।
যারা অন্ধ বিশ্বাসী তারা এত অযৌক্তিক জিনিস এর পরেও চিন্তা না করার কারণে আর বাপের ধর্ম টিকিয়ে রাখার কারণে ইসলাম ধর্ম ছেড়ে চলে যায় না। কোরান এর চাইতে এরা হাদীস বেশী পড়ে আর জীবনে হাদীসের প্রয়োগ বেশী। আপনার মত যারা চিন্তাশীল তারা এই আজগুবি জিনিস দেখেই বুঝে এগুলো ভুল/মিথ্যা তাই ধর্ম ত্যাগ করে। মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠের উদাহরণ আপনারা দুই দল। মুদ্রার মাঝের পুরুত্বটুকুতে খুব কম লোকেই আছে। কোরানও বলে অধিকাংশের মত অনুসরণ করা ঠিক নয় কারণ অধিকাংশই ভুলের মধ্য আছে।
কোরান ছাড়াই সুখে শান্তিতে থাকা যায়- জ্বী, ঠিক বলেছেন, ইয়োরোপের উন্নত দেশগুলো দেখুন সেখানে মুসলিম নাই কিন্তু আপনি কোরানের আদর্শের বাস্তবায়ন পাবেন। পরিবার প্রথা, নগ্নতা, যৌনতা এইরকম কিছু বিষয় ছাড়া ৯০% ক্ষেত্রেই কোরানের আদর্শ দেখবেন। পক্ষান্তরে আরব দেশগুলো দেখুন আপনি মুসলিম পাবেন কিন্তু কোরানের আদর্শের জায়গায় হাদীসের বাস্তবায়ণ দেখবেন। এতে শান্তি আসবে কি করে?
কেন কোরান বিশ্বাস করবেন? করার দরকার নাই। তবে যুক্তি প্রয়োগ করুন। মুক্তমনা হিসেবে হাদীসের নির্ভরতা মুক্ত কোরানের ট্রান্সলেশন পড়ে অন্তত আরেকবার যাচাই করুন। এর পরেও সত্য খুঁজে না পেলে কোন ক্ষতি নাই কারণ কোরান বলে আল্লাহ কর্ম/সত উদ্দেশ্য দেখবেন কর্মফল নয়।
তবে কোরান বিশ্বাস না করলেও কোরানের আদর্শ ফলো করতে পারেন। পৃথিবীর যেকোন মানবাধিকার আইনের তুলনায় কোরানে বর্ণিত মানবাধিকার এর কথা শতগুন সমৃদ্ধ। কোরান মিথ্যা কথা বলতে না করে, অতিরক্ত সম্পদ দান করে দিতে বলে, অন্যায় করতে না করে। গরীব মিসকীন, দরীদ্র আত্মীয়, দেউলিয়া হয়ে পথে বসা ব্যবসায়ী, বিপদে পড়া মুসাফির, প্রতিবন্ধি, মা বাবা, প্রতিবেশী, সমাজ, ইত্যাদি আরও অনেক ক্ষেত্রে কোরানের চমৎকার উপদেশ আছে। তবে মুসলিমেরা নামাজ নিয়ে আর না বুঝে তেলাওয়াত করে নেকি কামানোয় ব্যস্ত বলে এই আদর্শের কথা জানেও না মানেও না। আশ পাশের গরীবেরা না খেয়েই থাকে।
নামাজ রোজা নিয়ে প্রশ্ন? তারও উত্তর আছে। আমি আর বিস্তারিত বললাম না। শুধু শেষ একবার ভেবে দেখার অনুরোধ করলাম। না ভাবলেও ক্ষতি নাই।
আওয়ার বীকন-ড. শাব্বির আহমেদ এই সাইটে লাইব্রেরী ''কোরান এজ ইট এক্সপ্লেইন্স ইটসেলফ'' ট্রান্সলেশন দেয়া আছে।
আর জেনে রাখবেন, পার্সনিফাইড আল্লাহ যে সপ্ত আসমানের উপর বড়ই গাছের তলায় আসনে বসে আছেন এমন ধারণা নিতান্তই হাদীস ভিত্তিক। কোরান অনুযায়ী আল্লাহ নিরাকার, একাকার, বচন মুক্ত, সর্বত্র বিরাজমান, মানুষ্য ধারণার বাইরে, আমাদের ঘাড়ের শিরার চাইতেও নিকটে আছেন।
পল যেমন খ্রীস্টানদের প্রতারিত করেছে, তেমনি হুরায়রার মত কিচু হাদীস পন্থীদের প্রতারণায় সত্য থেকে কেন নিজেকে দূরে রাখবেন?
ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















আজকে চলে যাচ্ছি.....
"আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না"- এই বিষয়ক আগামিকাল দেয়ার চেষ্টা করবো, আজ লেখার সময় পাইনি।