আমার প্রিয় পোস্ট
- সেরা কিছু শর্টফিল্মের কালেকশন--মাস্টওয়াচ পোষ্ট --(সিরিজ ২) - নিয়নের আলো
- নারী স্বাধীনতা ও পুরুষশাসিত সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি - চল যাব তোকে নিয়ে
- ফ্রিদা কাহলো - বিপ্লব ভট্টাচার্য্য
- নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনূস প্রসঙ্গ: কিসের লজ্জা? কার লজ্জা? (১)-নাস্তিকের ধর্মকথার জবাব: - মুক্ত মণ
- লালন এর তিনজন গুরু - ইমন জুবায়ের
- রসদঃ মুক্তচিন্তা, অবিশ্বাস, সন্দেহবাদীতা, যুক্তিবাদীতা এবং বিজ্ঞানবিষয়ক পোস্ট সংকলন। - আসিফ মহিউদ্দীন
- 'ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ইসলাম ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ'বরাবরঃ অয়োময় - রুদ্রপ্রতাপ
- অন্ধকার থেকে আলোয়-২য় পর্ব - সন্যাসী
- সমাজতন্ত্রের নিজস্ব কোন আবেদন নাই - দুরের পাখি
- নাস্তানাবুদ নাস্তিকতা : নাস্তিকতার অসারতা প্রমাণকারী ব্লগ পোষ্ট সঙ্কলন - স্বর্ণলতা
- নৈতিকতার ভিত্তি - আস্তিক নাস্তিক কথোপকথন --

- কঠিন চিজ
- কোরান অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত হয় নি - সাহোশি৬
- মদিনার তিনটি ইহুদি গোত্রের বিতাড়ণ -এপোলোজেটিক এবং এটাকিং ভার্শন - দুরের পাখি
- বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট: ডাকাতি-লুট না অত্যাচারিতের অধিকার আদায়? - জ্বিনের বাদশা
- আল-কুরআনের অলৌকিকত্বঃ জানা থাকলেও যা বারবার জানাতে ইচ্ছা করে। - হেডমাষ্টার সাহেব
- বাংলা ব্লগ'স্ফেয়ারে মুক্ত'চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ লেখা/পোস্ট/ব্লগ সংগ্রহের উদ্যোগঃ সচেতন সকলে'র অংশগ্রহন কাম্য … - মনির হাসান
- আমাদের ইতিহাস, আমাদের কিংবদন্তী: বোবা মেয়েটির কথা! - ম্যাভেরিক
- খনা ও খনার বচন...... - মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান
- ধর্ম'গুলোর ভবিষ্যত কি ? নাস্তিক'রা ধর্মের কি পরিনতি বা অবস্থা দেখতে চায় ? ...একটি আলোচনা পোস্ট ..বিশেষত নাস্তিকদের জন্য - মনির হাসান
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- বহু বিবাহ : প্রয়োজন, লোভ ও ভীমরতি - মোহাম্মদ লোমান
- কোরান'এ নারী-পুরুষ এর অসমতা বিষয়ক কয়েকটি আয়াত - সুশীল সমাজ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর: ৩। - তৌসিক আহম্মেদ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর: ২। - তৌসিক আহম্মেদ
- ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু প্রশ্নের উত্তর। উত্তর নং: ১। - তৌসিক আহম্মেদ
- জামাতের নেতারা বলে কি আর করে কি !? (শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জামাতি ভন্ডামির চালচিত্র
) - সেলটিক সাগর
- তিনি আরজ আলী, একজন আলো-আঁধারির পরিব্রাজক - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বগতোক্তি এবং বিক্ষিপ্ত প্রশ্ন - সোজা কথা
- নাস্তিকের ধর্মকথার আস্তিকতা-নাস্তিকতার দার্শনিক বিচার ও কিছু প্রসঙ্গ - খারেজি
- ইসলামে উত্তরাধিকার আইন (১): কতটা গাণিতিক ব্যবহারিক আইন - মাসুদুল হক
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- নির্বাচনে বামের না পারা-শেষ অংশ। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- ... তাহলে ইসলামের "প্রানীর ছবি আকা হারাম"-নির্দেশটি কতটা যৌক্তিক ? - মনির হাসান
- বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়ার অন্যতম কারণ: ওয়াহাবী কানেকশন। - ইমন জুবায়ের
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এবং একজন স্বঘোষিত পর্নোষ্টার - জাতেমাতাল
- আমার প্রিয় পোস্ট : মলয় রায়চৌধুরী'র কবিতা প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার - নৃপ অনুপ
- ধর্মীয় অন্ধতা এবং আমাদের বানরায়ন-৩(জেসাস ক্রাইস্ট কি ঐতিহাসিক চরিত্র-১) - আরিফুল হোসেন তুহিন
- রুবিকস কিউব (পর্ব ৪) : রুবিকস কিউবের সমাধান: লেয়ার বাই লেয়ার - গণিত পাগল
- পারস্যের এক প্রেরিতপুরুষ - ইমন জুবায়ের
- "আয়ান হারসা আলি একজন "মুসলমান-নাস্তিক" শিরোনামে "এস্কিমো" নিকের একটি পোস্টের কাউন্টার পোস্ট :৩ - নাহিদ মাহমুদ
- কোরআনের সংরক্ষণ।-১ - কুম্ভকর্ণ
- আরজ আলী মাতুব্বর এবং কিছুমিছু... - পান্থ বিহোস
- নাস্তিকের ধরমোকথার জন্য লেখা..... - জুনায়েদ সাদিক
- নবীজি সা: এর বহুবিবাহের কারন - মাহিরাহি
- রসুল সা. এর চারের অধিক বিয়ে প্রসংগঃ ইউসুফ আল কারদাওয়ী - মাহমুদ রহমান
- নাস্তিকের ধর্মকথার পোস্টপ্রসঙ্গেঃ সবাইকে সতর্ক করার জন্য এ পোস্ট - মাহমুদ রহমান
- স্টিফেন হকিং, নাস্তিকতা ও ইসলাম : নাস্তিক/আস্তিক সব ব্লগারদের জন্যে - হিমু রুদ্র
- উ: কোরিয়া : কি বিভত্তস্য অভিষপ্ত এক দেশ ! - পদ্মানন্দ
- বিধাতা মোরে ক্ষমা করো - শান্তির দেবদূত
- তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই : আল-কোরআন - ক্যাচাল
- দুটি প্রশ্ন ( নাস্তিকের ধর্মকথা ) - স্ক্রু লুজ Screw Loose
- বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - বিবর্তনবাদী
মনির হোসেনের পোস্ট ধরে কিছু আলোচনা: বিষয়- নারীর নারীত্ব ও সতীত্ব (উৎসর্গ: মনির হাসান ও সালাউদ্দীন শুভ্র)
১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:০০
মনির হাসানের "পুরুষতান্ত্রিকতার ধ্বজভঙ্গ সমাজতত্ত্বঃ “নারীর ইজ্জতই তার প্রধান সম্বল" (Click This Link) পোস্টের আলোচনাটা কমেন্ট আকারে দিলে অনেকের চোখে হয়তো পড়তো না। এই বিবেচনায় শুভ্র ও মনিরের অনুরোধে এই নতুন পোস্টের অবতারণা।
--------------------------------
এক
প্রথমে সতীত্ব-নারীত্ব-সতিপনা এসব নিয়ে কিছু কথাবার্তা কই.....
শুভ্রঃ সতিত্ব বিষয়টিকে বাজার খোলামেলা করে দিয়েছে। সতীত্বের আড়ালে থাকার, সম্ভ্রমে থাকার এবং ভালোবাসায় থাকবার যে বিষয়টি ছিলো-আমাদের আধুনিক শিক্ষায় তা হবার জো রইলো না।
নারীত্ব কখনোই সতীত্ব বর্জিত নয়-এর বাজারি হওয়াটা অপরাধই। কিন্তু সমাজ সতীত্বের ধারনাকে জোরালো করেছে আবার শারীরিক ও মানসিকভাবে এমন অনেক নারী তৈরি করেছে যারা সতীত্ব বিকিয়ে চলে অথবা সতীত্বের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে গিয়ে সমাজ বিচ্ছ্ন্নি হয়েছে।
মনিরঃআমি সতীত্ব বর্জনের আহবান জানাই নি কোথাও
====>>> সেই পুরাতন রোগ! কোন বিষয়কে ভিতর থেকে দেখতে না পাওয়া- আরো দশটা বিষয়ের সাথে এক করে একরকম লেজেগুবরে অবস্থা করে ফেলা!!!
বাজার এই সমস্যাটিকে প্রকট করেছে ঠিকই- কিন্তু একে বাজার দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে যাওয়া নেহাত বোকামি। বাজারের আগে থেকেই এই সমস্যার শুরু- যেদিন থেকে নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব স্থাপিত হলো- সেদিন থেকেই পুরুষ নারীর উপর নানারকম টাবুর সাথে এরকম কিছু নারীত্ব/সতীত্বের ধারণাও তৈরি করে নিয়েছে। এটার মূল জায়গাই হলো- এর মাধ্যমে নারীকে পুরুষের আয়ত্তে রাখা, নারীকে পুরুষের সম্পদ হিসাবে তৈরি করা।
নারীর সতীত্ব কার জন্য? পুরুষের জন্য। নারীর একগামিতা কার জন্য ? পুরুষের জন্য। নারীর নারীত্ব কার জন্য? পুরুষের জন্য। এটাই হলো মূল কথা। যদিও এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এসমস্ত প্রশ্নের জবাব পাবেন অন্যভাবে- নারীর সতীত্ব কার জন্য? এই সমাজের জন্য। নারীর একগামিতা কার জন্য ? এই সমাজের জন্য। নারীর নারীত্ব কার জন্য? এই সমাজের জন্য। কারণ, পুরুষ মানেই তো আজকের এই সমাজ, আজকের এই সমাজ মানেই পুরুষ।
ফলে, পুরুষেরা সমস্বরে আওয়াজ তুলবে: নারীত্ব কখনো সতীত্ব বর্জিত নয়!!! সমাজও সমস্বরে চিৎকার করবে: নারীত্ব কখনো সতীত্ব বর্জিত নয়!!! আর এই সমাজের প্রোডাক্ট শুভ্ররা তো করবেই। এমনকি এমন পোস্টের লেখক পর্যন্ত বলবে: আমি সতীত্ব বর্জনের আহবান জানাই নি কোথাও!!!!
লাইনটি কিন্তু ভীষণ!!!
নারীত্ব কখনো সতীত্ব বর্জিত নয়!!
এখানে সতীত্বকে তো বটেই- নারীত্বকেও মহিমান্বিত করে তোলা হলো! এবং খুব চমৎকারভাবে- এক ঢিলে দুই পাখি- যেন নারীত্ব জিনিসটা খুবই মহার্ঘ্য একটা জিনিস এবং সেই মহার্ঘ্য "নারীত্ব" পরিপূর্ণ হতে পারে "সতীত্ব" আরেক মহার্ঘ্যের সংযোগে!!
এই না হলে, এই না বললে- আমাদের পুরুষতান্ত্রিকতা! এই না হলে আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ!!!
অন্য কেউঃ সতীত্ব বর্জনের আহবান জানাইবেন্না ক্যান? পুরুষগো লিগা যদি 'সতত্ব' চালুঅয়, তৈলে 'সতীত্ব' মানতে রাজি আসি। নয়তো দ্রব্যটা হিপোক্রাইসি। আমার পরাণপাখি জান্তে চাইতারেনা আমার 'সতত্ব' আসে কিনা। টার্মটাই তো নাই। আমার কি অধিকার তারে জিগানের যে হ্যার 'সতীত্ব' আসে কিনা? আজিব।
'সতীত্ব' টার্মটা পুংবাদীগো চালু করা সবচাইতে অশ্লীল টার্মগুলার একটা।
==========>>>>> জটিল কমেন্ট। পুরোটাই একমত।
মনিরঃ "সতীত্ব বর্জনের ডাকে" কাদের সব থেকে বেশি বলি দিতে হবে ?
অবশ্যই নারীদের ... মনির/অন্যকেউ/শুভ্র এরা যতই সতত্ব বিসর্জন দেক না ক্যান ... তারা প্লেবয় খ্যাতি পাবে ... এই আন্দোলনের শহিদ বলে তাদের কেউ দেখবেনা ।
অপর দিকে একজন নারী যদি সতীত্ব বিসর্জন দেয় তো তার ট্যাগ হবে "বেশ্যা" ... ... নারীরা জগতের অনেক কারণেই বলি হতে হতে শেষ ... আর আমি তাদের বলি দেখতে চাই না ... তাই আপাতত "সতীত্ব বর্জনের ডাক" দিচ্ছিনা ।
===>> কি অদ্ভুদ কিসিমের বৈপরীত্য! এমন আগুন পোস্টের লেখকের মুখে এরকম পুরুষের গন্ধ ছোটা কমেন্ট!!!
সতীত্ব বা নারীত্ব বর্জন করা মানে সামাজিকভাবে বিবাহ বহির্ভূত সেক্সে লিপ্ত থাকা? এটাই বুঝলেন? যে কথা নিজের পোস্টে বললেন- সেই গলদ নিজে করে বসলেন! সতীত্ব বর্জন মানে হলো "সতীত্ব" নামক অশ্লীল ও আধিপত্যমূলক পোষাকটি ত্যাগ করা- সেটা মানে নারীদের জনে জনে সেক্স করা না। সেই নোংরা পোষাক- যার মাধ্যমে নারীর সেক্সের একাধিপত্য পুরুষের হাতে থাকে- সেই নোংরা পোষাককে ছুড়ে ফেলা দেয়া। যে পোষাকের কারণে বেশ্যা ও অন্যান্য "চ" বর্গীয় সেক্স কেন্দ্রিক ও জন্মকেন্দ্রিক গালিগালাজের কেন্দ্রমুখ নারী- সেই পোষাক বর্জনের ডাকে যদি "বেশ্যা" গালি খাওয়ার ভয় দেখেন- তবে করার কিছু নেই। এই পোষাক তো কেবল নারীর ত্যাগ করার বা বর্জন করার নয়- এটাকে তো পুরা সমাজ থেকেই ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। ফলে- সতীত্ব/নারীত্ব বর্জনের ডাক তো সমাজ থেকে পুরুষতান্ত্রিকতাকেই নির্মূল করার ডাক- তা কেমন করে নারীর বিবাহ বহির্ভূত সেক্স করার নাম হতে পারে??
শুভ্রঃ ১. নারীর সতীত্ব বলতে শুধু তার জননাঙ্গকেই বুঝলে ভুল হবে-এটা তার নিজস্বতাও বটে। প্রত্যেক নারী তার শরীর নিয়ে কি করবে এটা তার বিষয়।
মনিরঃ ১. ঠিকাছে
====>>>> নারীর নিজস্বতা আবার কি? এবং সতীত্ব ধারণাটির মধ্যে জনন অঙ্গ তো আছেই- পুরুষেরা সেই ধারণা তৈরি করেছে- আপনি আমি অস্বীকার করতে চাইলেও কি অস্বীকার করতে পারবো? এখন, সতীত্ব'র সাথে তথাকথিত অবৈধ সেক্সকে বাদ দিলে আর কি কি বিষয় থাকতে পারে- যেটাকে নারীর নিজস্ব বলে সতীত্বের ধারণাকে সম্মান করা যায়? "প্রত্যেক নারী তার শরীর নিয়ে কি করবে এটা তার বিষয়"- এটার স্বীকৃতি কি আপনার সমাজ দেয়? একজন নারীও কি সতীত্বের প্রতি মোহ থাকা অবস্থায় এমনটা ভাবতে পারে- পুরুষরা এমন ভাবতে পারে?
এবং শেষ পর্যন্ত সতীত্বের রুট সেক্সই। তাই সীতাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়- আয়েশাকেও আয়াত দিয়ে সতীত্ব হানির হাত থেকে রক্ষা পেতে হয়। কিন্তু কোন পুরুষকে কোনদিন সতত্বের পরীক্ষের দিতে হয়না- কৃষ্ণের বহুগামীতা লীলাখেলা হিসাব শ্রদ্ধার পাত্র হয়- মুহম্মদ সা এর বহুগামিতা (বিয়ে করে বা না করেই) হয় নানাকারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ!!
শুভ্রঃ ২.ব্যাক্তি স্বাধীনতা জরুরি-কিন্তু এটাকে রুচি এবং সংস্কৃতির আধারেই তৈরি করতে হয়। ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠাটা মোটেই ঠিক নয়।
মনিরঃ ২. ঠিকাছে
====>>> যেখানে নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতার চাপে পিষ্ঠ এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবোধটাই রহিত- সেখানে নারীর ব্যক্তিস্বাধনীতার কথাটাই মুখ্য। সেটা শুনে যখন কেউ স্বেচ্ছাচারী হওয়ার ভয় দেখে ও দেখায়- তাদের উদ্দেশ্য বলতে পারি- এমন ক্ষেত্রে কখনো কখনো স্বেচ্ছাচারী হলেও ভালো।
বৃষ্টির জন্য যেখানে হাহাকার- সবাই বৃষ্টির কামনাই করে। কিন্তু এমন সময় কেউ কেউ ঝড়ের আশংকা করলেও নিশ্চয়ই আমরা বৃষ্টির জন্য কামনা ও প্রার্থনা বন্ধ করবো না।
শুভ্রঃ ৩.বাজার নারীকে অনেক বেশি করে বাইরে আসতে বলে। এটা খেয়াল রাখতে হবে। বাজারের ছলনা থেকে নারীকে মুক্ত না করলে নারী কখনোই মুক্ত হবে না।
মনিরঃ ৩. বাজার করুক আর নাই করুক, নারীর বাইরে যেতে সমস্যা কি? তারা কি শুধু ঘরে সেক্স ডল হয়ে পরে থাকার জন্য ? আমার উপলব্ধি হচ্ছে "বাজার যদি নারীকে বাইরে বের করে আনে না , শুধু বিছানায় পাঠায়।"
====>>>> বাজার নারীকে বাইরে আসতে বলে- এটার মাধ্যমে আসলে কি খেয়াল করতে বলেন? এই অংশটুকু আর সমস্ত কিছু থেকে আলাদা করে দেখলে বাজারকে অনেক পজিটিভ মনে হয় যে!!
আসলে কিন্তু বাজার পজিটিভ নয়।
একটা সময় নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য বজায় রাখতে তথাকথিত ডিভিশন অব লেবার তৈরি করে নেয় ও তৈরি করে দেয় পুরুষেরা (আজ আমরা বলি এমন ডিভিশন তৈরি করেছে এই সমাজ): নারীদের জন্য নরম সরম কাজ- নারীরা থাকবে ঘরে, সে হবে গৃহিনী, ঘর-গৃহস্থালী সামলাবে আর সন্তান-উৎপাদন-লালনপালন করবে, আর পুরুষেরা করবে যাবতীয় শক্ত কাজ- আসলে এটা নামেই শক্ত কাজ, সন্তান উৎপাদন বলি আর ঘরের কাজ করা বলি কোনটাই তো অশক্ত কাজ নয়- আসলে পুরুষেরা বাইরের সেই তথাকথিত শক্ত কাজ বলতে যেটা করে সেটা হলো আয়-উপার্জন করে। আর এটার মাধ্যমেই নারীর উপর তার কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে।
কিন্তু, আজকের যুগটা একটু অন্যরকম- আজ হলো বাজারের যুগ, মুনাফার যুগ। তাই নারীকে পুরুষের অধীনস্ত রাখার প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকার পরেও- নারীকে আর কেবল ঘরে বন্দী রাখলে মুনাফা কম হয়। কারণ মুনাফা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন সস্তা শ্রম- সবচেয়ে সস্তা, নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরাপদ (নিরাপদ এই অর্থে যে এটা দুর্বল দাবিহীন) শ্রম হচ্ছে নারী ও শিশুর শ্রম। সেকারণেই নারীদেরকেও বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়।
বাধ্য হয়েই হোক আর যেকারণেই হোক- এর ফল এট লিস্ট আগের জামানার তুলনায় ভালো। কারণ, নারী যতখানি উপার্জনক্ষম হতে পারছে- ততখানি তো সে পুরুষের কর্তৃত্ব অস্বীকার করার মত একটা ভিত্তি পাচ্ছে। তারপরেও বলবো এই বাজারই আবার আরেকভাবে নারীর পুরুষের কর্তৃত্বকে নিশ্চিত করছে। সেটা কিভাবে? তাহলে সেটাই বলছি।
বাজার দেখে মুনাফা। মুনাফার জন্য যা করা দরকার- সে সেটাই করে। সে যখন দেখলো- সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক এবং বাজারে আধিপত্য পুরুষদেরই, পুরুষরাই এখন পর্যন্ত মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলে- সুতরাং মুনাফার মাধ্যম হিসাবে এই পুরুষতান্ত্রিকতাকেই সে আকড়ে ধরলো। নারীকে বানিয়ে ফেললো পণ্য, স্রেফ বাজারি পণ্য। নারী আগে থেকেই ছিল- পুরুষের ভোগ্য সামগ্রী, কিন্তু একটা পর্যন্ত সেটা ছিল অনেকটা ঘরে তোলা সামগ্রী বা সম্পদের মতো। কিন্তু আজকে এসে বাজারের বদৌলতে নারী হয়ে গেল সম্পূর্ণটাই পণ্য। নারীর সেক্স, সেক্সাল অর্গান সবই রমরমা পণ্য। একটা লোকের দৈনন্দিন জীবনে সাবান- পেপার- টুথপেস্ট- থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, অ্যাপার্টমেন্ট কত কি লাগে- বাজারের কল্যানে এই চাহিদার শেষ নেই; এবং সেই সাথে লাগে নারী। ভদ্র ফর্মে নারীর ভালোবাসা থেকে শুরু করে নারীর মনভোলানো হাসি- রাঙানো ঠোট- অনাবৃত উরু- বুক - পাছা সবই দরকার। সবই লোভনীয়। সবই পণ্য। এমনকি পুরুষের শেভিং রেজর, বা জাঙ্গিয়ার প্রয়োজনও নারীকে ভিন্ন সম্ভব নয়। এই হলো আজকের বাজার। আর এ কারণে- নারীকে বাইরে এনেও একই সাথে এই বাজার ব্যবস্থা নারীকে পণ্য করে ছেড়েছে এবং এরই মাধ্যমে পুরুষদের আধিপত্য ঠিকই বজায় রেখেছে।
শুভ্রঃ ৪. সতীত্ব পরীক্ষা করাটা অন্যায় কিন্তু সতীত্ব রক্ষা করাটা দায়িত্ব।
মনিরঃ ৪. "সতীত্ব নিয়ে সুচিবায়ুতা ! ! " হা হা হা ... পোস্টটা আপনার কোন উপকার করতে পারেনি ।
====>> আসলেই পোস্ট শুভ্রের কোন উপকারে আসেনি!
সতীত্ব রক্ষা মানে আসলে কি? কে রক্ষা করবে, কেন করবে, কার জন্য করবে?
সতীত্ব রক্ষার এই মহোত্তম দায়িত্ব কে নারীর উপর অর্পন করলো? সতীত্ব রক্ষার এই দায় কেন নারীরা বহন করবে?
শুভ্রঃ ৫. রাষ্ট্র এবং তার রাজনীতিকে বুঝতে হবে-বুঝতে হবে পুঁজিবাদী রাজনীতির কৌশলকেও-এভাবেই আলোচনা করতে হবে নারীকে।
মনিরঃ ৫. ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে
===>>> এটাতে একমত। অবশ্যই রাষ্ট্র ও রাজনীতিতকে বুঝতে হবে, আজকের পুঁজিবাদী বাজার রাজনীতির কৌশলকে নিয়েও আলোচনা করতে হবে। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদকে উচ্ছেদের সংগ্রাম আর পুরুষতান্ত্রিকতা উচ্ছেদের সংগ্রাম আসলে অভিন্ন।
শুভ্রঃ ৬.নির্দিষ্ট করতে হবে আমাদের নারীকে। এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইতিহাসের নারীদের খুঁজে-খুঁড়ে বের করতে হবে। তারপর এখনকার সময়ের নারীদের সতীত্ব নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
মনিরঃ ৬. এইটা কি কইলেন ? নির্দষ্টকরণ মানে কোন দিক দিয়া ? নারীরাতো নির্দিষ্টই ( গন্ডিবদ্ধ ) হয়াই আছে । আর কত করতে চান ?
===>> ইতিহাসের নারীদের খুজে বের করা যেতে পারে। কিন্তু সেটাই মুখ্য নয়। মুখ্য হলো- যাবতীয় অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে, শোষণ-নীপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের নিরন্তর লড়াই সংগ্রাম, এবং পুরুষরাও এই সংগ্রামে সামিল হলে- নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রামই নারী ও পুরুষের ভেদ ঘুচিয়ে উভয়কেই সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
শুভ্রঃ সতীপনা বিষয়টি আসলেই আপত্তিকর। আমাদের সমাজে অসংখ্য নারী আছেন যারা নিজের সতীত্ব বজায় রাখতে চান। এটা সমাজ সংস্কার তাকে শিখিয়েছে। আবার অসংখ্য নারী পোশাকি সতিপনা বজায় রাখে। আমি পষ্ট করেই বলেছি সতীপনা কেবলমাত্র জননাঙ্গ কেন্দ্রিক কোন বিষয় নয়। সমস্ত অর্থেই নারী। কোন নারী-যে নারী ঘরের, পাড়াগাঁয়ে থাকে। তাদের অধিকাংশই সতীত্ব মানে এবং মেনেও তা ভাঙ্গে। সবাই না কেউ কেউ। নারীকে বুঝতে হবে। কেবল প্রগতিকে বুঝলে চলবে না।
কারণ বেশিরভাগ নারী-ই এই সমস্ত প্রগতির ধারণায় উপেক্ষিত। তাদের কোন মতামতই সেখানে প্রতিভাত হয় না। তাই আমি বলছি সতীত্বকে সম্মান করার কথা।
===>> "সতীপনা আসলেই আপত্তিকর" - "সতীপনা কেবলমাত্র জননাঙ্গ বিষয় নয়"- "সমস্ত অর্থেই নারী"- এ কথাগুলো পরষ্পরবিরোধী মনে হচ্ছে।
অনেক নারী সতীত্ব বজায় রাখতে চায়- এটা সমাজ সংস্কার তাকে শিখিয়েছে- তার মানে কি ঐ নারীর এই সংস্কারকে আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে? কেবল পোশাকী সতীপনাকে অপছন্দ করবো- এমন? পাড়া-গাঁয়ের নারীকে বুঝা মানে কি সমাজের নাম করে পুরুষেরা দীর্ঘদিন যে পুরুষতান্ত্রিকতার ভূত তাদের উপর চাপিয়েছে, সংস্কার হিসাবে যেটা নারীর সংস্কারে গভভিরে প্রবেশ করেছে- তাকে সেভাবেই অবস্থান করতে দেয়া?
মানতে পারলাম না। বেশিরভাগ নারী-ই সমস্ত প্রগতির ধারণায় উপেক্ষিত, এটার মানে কি? চরম বিভ্রান্তিমূলক কথা। প্রগতি মানে আপনি কি বুঝেন- সেটাই জানতে চাইছি।
মনিরঃ আপনার দৃষ্টি ভঙ্গিটা মোটেও সুবিধার মনে হইতেছেনা । সতীত্বকে সম্মান করতে করতেই তো আমরা এই সতীত্ব পুজায় অভ্যস্ত হয়া গেছি।
পোস্টের আবেদনের সাথে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটার দুরত্ব অনেক । অনেক ... ...
===>> এবার ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
দুই
মনিরঃ "... খুব সম্ভব, নির্মল কুমারী যোনির প্রতি অমোঘ আকর্ষন আর তার স্বাদ নেয়ার লোভ থেকেই এই তত্ত্বের উদ্ভব। আর নিজের দুর্বল যৌনক্ষমতায় নারী যেন পরমুখি না হয়, সেই ভয় তো আছেই"
মনজুরুল হকের চমৎকার আলোচনার পরেও মনিরের প্রশ্ন: "অনুমান করি, আপনার ঊল্লেখিত ভরকেন্দ্র পরিবর্তনের ইতিহাসের মোড়ে এসে নারীর অবদান তুলনামূলক পেশিনির্ভর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কাছে হার মেনে যায় ... এবং নির্বাহী পুরুষ কর্তা ব্যাক্তিদের তত্ত্ব দিয়ে সমাজ কাঠামো নির্মিত হতে থাকে ... যার অভিসপ্ত ফলাফল আজকের ......
তাই ঠিক এই টার্নিং পয়েন্টে ... ঠিক কোন কারণে পুরুষ কর্তারা এই বিকৃত তত্ত্বটি আরোপ করতে চেয়েছিল ... তার একটা সম্ভাবনা যাচাই ছিল ......"
==========>>> টার্নিং পয়েন্ট টুকু পর্যন্ত যেহেতু স্বীকার করেছেন- তাহলে তারপরের অংশতেই আলোকপাত করি। একবার যখন আধিপত্য অর্জিত হলো- তারপরে সেই আধিপত্য বজায় রাখার চেস্টা করলো। দুর্বলের উপর সবলের, শোষিতের উপর শোষকের, প্রজার উপর রাজা/পুরোহিতের, নারীর উপর উপর পুরুষের। এই আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে সবলেরা, রাজা/পুরোহিতেরা, পুরুষেরা নানা রকম নিয়ম কানুন, রীতিনীতি, সংস্কার, টাবু চালু করে নিল। এই সময়ে ধর্মের আবির্ভাব, তখনকার ধর্মগুলো সরাসরি যেমন রাজা/পুরোহিতদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে (রাজারা সরাসরি ঈশ্বরের প্রতিনিধি), তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা করেছে পুরুষদের। সমস্ত ধর্মই পুরুষদের জয়গান করেছে, যদিও আদিম লোকাচারে পুরুষ-নারীর ভেদাভেদ চোখে পড়ে না। এর মানেই হলো- এই আধিপত্য বিস্তারের গল্পগুলো সবই কাছাকাছি সময়ের গল্প এবং ধর্ম তার অনেক বড় হাতিয়ার।
যাহোক, আমরা গল্পটিকে নারীর উপর পুরুষের আধপত্য বিস্তারে সীমাবদ্ধ রাখি। আধিপত্য বিস্তারের চেস্টা যেহেতু সম্পদকে নিয়ে, সম্পদের মালিকানা ও ভোগ নিয়ে- সেহেতু এতে পুরুষেরা জয়ী হয়েছে মানেই- যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভরকেন্দ্র পুরুষদের হাতে। এখন এটাকে সুনিশ্চিত করার লক্ষে নর ও নারীর শ্রম বিভাজন। অর্থাৎ নারীকে যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া। এটা হলো প্রথম স্টেপ। নারীদের কাজ হলো ঘর গৃহস্ঠালি দেখা, ঘরে থাকা, সন্তান উৎপাদন, সন্তান পালন ইত্যাদি। যেভাবেই হোক নারীকে উপার্জনক্ষম হতে দেয়া চলবে না।
এরপরে আসে- বংশের প্রশ্ন। আগে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে বংশ পরিচয় নির্নী্ত হতো মায়ের পরিচয়ে। সেটা ছিল অনকে বড় বড় পরিবার, যৌথ পরিবার- দলবদ্ধতা বা যুথবদ্ধতাই ছিল মুখ্য, সাম্য ছিল ভিত্তি। কিন্তু পুরুষের হাতে আধিপত্য আসার পরে- সেগুলোও ভেঙে পড়ে। পুরুষের হাতে জমলো অর্থ কড়ি- সম্পদ, কিন্তু সারাজীবন ভোগ করার পরেও যে সম্পদ থেকে যাবে- সেটার কি গতি হবে? এই প্রশ্নে চলে আসলো বংশ রক্ষা- পুরুষই ঠিক করলো রক্ত সম্পর্কের কথা, রক্তের বিশুদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা তখনই খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো। এর আগে পর্যন্ত রক্তের বিশুদ্ধতার কোন প্রয়োজন কেউ কখনো অনুভব করেনি। এখান থেকেই আরম্ভ পিতৃতান্ত্রিকতার ও নারীর একগামিতার। বংশ রক্ষা পুরুষের একটা অপরিহার্য কাজের আওতায় পড়লো। এখানে বিশেষভাবে দ্রষ্টব্য: নারীর একগামিতা- সেটা কোনমতেই পুরুষের নয়। পুরুষ কিন্তু বহুগামি হলেও তার বংশরক্ষার সমস্যা হচ্ছে না। রক্তের বিশুদ্ধতাও রক্ষা করতে সমস্যা হচ্ছে না। আর এটা করতে গিয়েই অর্থাৎ এই বিশুদ্ধতার উপর বিশেষ জোর দিতে গিয়েই সতীত্বের একটা টাবু তৈরি করে নিতে হলো।
এটাই হলো ইতিহাস। সেখানে কুমারির যোনির লোভ, আর পুরুষের অক্ষমতার কথাগুলো কেবলই গালগল্প।
মজার ব্যাপার হলো- বংশরক্ষাটাই কিন্তু মূল ছিল। ফলে- কোথাও কোথাও কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত রক্তের বিশুদ্ধতা বা সতীত্বও ছিল অনেক গৌন। মন সংহিতায় পাবেন- জমি কিভাবে চাষ হচ্ছে বা কে চাষ করছে সেটা মুখ্য নয়- জমির মালিকই ফসলের মালিক হবে। অর্থাৎ, পত্নীর মালিক হচ্ছে তার পতি- ফলে সেই পত্নীর গর্ভে পতি সন্তান উৎপাদনে ব্যর্থ হলে- অন্যের (এর একটা তালিকা আছে- যদিও পরবর্তীতে এটা অনেকদিন কেবল পুরোহিত-ঠাকুরদের জন্য বরাদ্দ) বীজে পত্নীর গর্ভে সন্তান উৎপাদন করা যাবে- এবং মনু সংহিতা অনুযায়ি ঐ সন্তানের মালিক হবে জমির মালিক অর্থাৎ পতি। এখান থেকেও আমরা একটা ধারণা পেতে পারি বৈকি।
তাহলে মোটামুটি স্টেপগুলো হচ্ছেঃ
সম্পদ নিয়ে লড়ালড়িতে নারীর উপর পুরুষের জয় ==>> অর্থনৈতিক কর্মাকাণ্ডে পুরুষের আধিপত্য ==>> নর-নারীর শ্রম বিভাজন এবং অর্থনৈতিক কর্মাকাণ্ড থেকে নারীর প্রস্থান ==>> পুরুষের হাতে সম্পদ সঞ্চিত হওয়া ==>> বংশরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতা ==>> রক্ত সম্পর্কের বিশুদ্ধতা ==>> সতীত্বের ধারণা
সবাইকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সহীদুল হক মাণইক বলেছেন:
----------
লেখক বলেছেন:
একাই এতগুলো মাইনাস দিলেন যে!!!
ভুরিদত্ত বলেছেন:
র্যাডিক্যাল ফেমিনিজমের একটা উৎকট প্রবাহ দেখতে পাচ্ছি চারিদিকে দিন দিন। অনেক দিন আগে এখানে কে একটা সেই রকম পোস্ট দিয়েছিল। সে পুরুষ, নারীকে সহানুভূতির জায়গা থেকে দেখে, প্রস্টিটিউশন ব্লা ব্লা ব্লা বলে একটা লেখা ছেড়েছিল। সেটার ইতিবাচক সমালোচনা করে আমার দ্বিতীয় লেখাটি এসেছিল - ওদের জন্যে কি সামান্য একটু ভালোবাসা রাখা যায় না?মূল মনোভাবটা বোঝাতে একটা মন্তব্য যথেষ্ঠ নয়, কিন্তু আমি অপ্রেসর আর সে অপ্রেসড, এই ভাবনা থেকে তাকে আমি টেনে তুলবো - এরকম কোনো কিছু করতে আমি রাজী নই। সেই বিচার হয় শ্রেষ্ঠ যখন দন্ডিত আর দন্ডদাতা এক সাথে কাঁদে, বাইনারী বিভাজন এড়িয়ে গেলাম, নারীপুরুষ নয় - মানুষ হিসেবেই একজন আরেক জনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবে।
লেখক বলেছেন:
আপনার পোস্টের লিংকটা কি দেয়া যায়?
ভুরিদত্ত বলেছেন:
টাকার ওপিঠ অথবা চাঁদের যে অন্ধকার পৃষ্ঠটা দেখা যায় না সেইটা দেখানোর একটি ক্ষুদ্র চেষ্টা করিয়াছিলাম মাত্র। Click This Link
লেখক বলেছেন:
হুম, পড়লাম।
ভুরিদত্ত বলেছেন:
ও হ্যাঁ, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঐ লেখাটি যে লিখেছিল তার ভাষাকে হুবহু অপরিবর্তিত রেখে - প্রয়োজনীয় কিছু শব্দগুচ্ছকে জায়গামতো বদলে দেওয়া হয়েছে।
মনির হাসান বলেছেন:
না'ধ ভাই ... প্রথমে হাজার স্যালুট ... সুতীব্র'ভাবে আমার তথৈবচ সতীত্বভাবনার ব্যাবচ্ছেদ করার জন্য ... (আমি আত্মপক্ষ সমর্থন করবো না ... নির্দ্বিধায় আমার দ্বৈতাচার বা দুরাচার বা ভন্ডামী'টা মেনে নিয়ে আলোচনায় বাস্তব প্রেক্ষাপট'টা শুধু তুলে ধরবো ।)
দ্রোহ বলেন, সমাজের রিফর্মেশনের চিন্তা বলেন আমার উপলব্ধিটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের ... তাই পোস্টে এবং কমেন্টে আত্মবৈপরিত্য ছিল ... "আমিও ভন্ড অনেকের মতো" ... আর সত্যি কথা বলতে আপনার মতো এখনও সাহস বা পূর্ণ'তা আসেনি এক ধাক্কায় সব কিছু একটা স্ট্রেইট লাইনে নিয়ে আসব ... হার্ড লাইনে নিয়ে আসব ... ঠিক আপনি যেরকম'টা স্পষ্ট ভাষায় বলতে পেরেছেন ।
আমার সীমাবদ্ধ'তা, সীমাবদ্ধতার চিন্তা'টা আমি বা আমার চারপাশের সামাজিক পুরুষ জীবদের হিসেব'টা মাথায় নিয়ে । আমি সে দায় স্বীকার করি । অবশ্যই এটা দ্বৈতাচার ... এক্ষেত্রে অজুহাত (কোন যুক্তি নয়) দেব আমি আমার সমচিন্তকদের অভাবে অসহায় ।
কিন্তু আমার অসহায়ত্ব'টা কিন্তু ফ্যান্টাসি না ... বাস্তবতা ।
পরিবর্তন চাই ... সেখানে কোন আপোষ নেই । কিন্তু পন্থায় আপোষ'টা কি করা যায় ?
হাজার হাজার বছরের একটা সামাজিক অনুশীলন ... এর বিপরীতে হুট করে একটা হার্ড লাইনের তত্ত্ব ঢূকিয়ে দিলে ... আমার জ্ঞান বলে মানুষ সেটাকে সামগ্রিকভাবে বর্জন করবে । একটু টেকনিক্যাল হলে দোষ কি ?
(ঠিক যেরকম'টা আমি, শুভ্র নিজেদের এত উদার দাবী করি তারপরও পূর্নতা আসেনি ... )
আর আমার নিজস্ব দৈন্যতা তো আছেই ... নিজে যে উদাহরন হবো, তাও তো পারিনি এখনও ।
অফিস' থেকে বাসায় ফিরে পূর্ণ আলোচনায় আসবো ... রাতে ।
আপাতত বিদায় নিচ্ছি ।
লেখক বলেছেন:
দেখুন, আলোচনাটা বা বিতর্কটা যখন হচ্ছে- তখন তার কয়েকটি দিক থাকে: প্রথমত আলোচনার বিষয়গত বা তত্বগত অবস্থান, তারপরে আসতে পারে আলোচকদের ব্যক্তিগত অবস্থান, এবং তারো পরে- অন্যান্য টেকনিক্যল দিক- বিশেষত প্রাকটিসে নামার আগে এই টেকনিক্যল বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যে তিনটি বিষয়ের কথা বললাম- সবগুলোই খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলেও এসবের প্রতিটিই আবার প্রতিটি থেকে স্বতন্ত্র, সে সম্পর্কে সচেতন না থাকলে এবং একটার সাথে আরেকটা মিশিয়ে ফেললে শেষ পর্যন্ত কেবল বিভ্রান্তিই বাড়তে পারে। আপনার উপরের বক্তব্যটিকে আমার সেরকম দোষে দুষ্ট মনে হলো।
মূল তাত্ত্বিক ডিবেটটির সাথে - "পূর্ণতা আসেনি", "নিজস্ব দৈন্যতা তো আছেই", "আমিও ভন্ড অনেকের মতো", "আত্মবৈপরিত্য ছিল", "আমার দ্বৈতাচার বা দুরাচার বা ভন্ডামী'টা" ---- এসব ভদ্রলোকোচিত আত্মসমালোচনা, আবার তার সাথে "কিন্তু পন্থায় আপোষ'টা কি করা যায় ?"- এমন টেকনিক্যল লাইন নিয়ে আলোচনা সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে একটা জগাখিচুড়িই দাঁড়িয়েছে বলে মনে হয়েছে। কেন এমন হয়েছে বা হচ্ছে- সেটাই বলার চেষ্টা করছি:
দেখুন, ভালো করে খেয়াল করুন- আপনার সাথে আমার তর্কের বা বিরোধের জায়গাটি কি? চিন্তার বা মতের কোন জায়গাটিতে বৈপরীত্য? সেটা কি মনে হয় যে, টেকনিক্যলি কিভাবে আমরা এপ্রোচ করবো, বাস্তব সমস্যা নিরসনে কিভাবে প্রাকটিসে নামবো- সেখানটিতে? না কি বাস্তব সমস্যাটির রুট কোথায় সেখানটিতে? আরো স্পষ্ট করতে গেলে- নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য যে আছে- এ ব্যাপারে আমাদের দ্বিমত নেই, দ্বিমত আছে এই আধিপত্যের ধরণ নিয়ে, তার ইতিহাস নিয়ে, এই আধিপত্যের ভাষাগুলো নিয়ে। আমি মনে করি, এসমস্তই খুব তত্ত্বগত জায়গা। এমনকি শুভ্রের "নারীত্ব কখনোই সতীত্ব বর্জিত নয়", তার জবাবে আপনার "আমি কখনোই সতীত্ব বর্জনের ডাক দেইনি" কিংবা এটার জবাবে অন্য কেউ এর "কেন সতীত্ব বর্জনের ডাক দিবেন না?" এবং অন্য কেউ এর বক্তব্য প্রতি আমার সমর্থন- এসমস্তই আমি মনে করি টেকনিক্যল জায়গার চেয়েও তাত্তিক জায়গা। কারণ এর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হচ্ছে- সতীত্ব সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গীটি কার কিরূপ।
আপনার যদি অবস্থান এমন হয়- আপনিও মনে করেন যে সতীত্বের ধারণাটি খুব আপত্তিকর (আপনার পোস্ট পড়ে সেরকমই মনে হয়েছিল), এবং আপনি এই সতীত্বকেন্দ্রিক ধারণাটির ও টাবুর উচ্ছেদ চান ঠিকই, কিন্তু একটু টেকনিক্যল হওয়ার জন্য আপনি এই মুহুর্তে জনে জনে মাঠে ঘাটে রাস্তায় সতীত্ব বর্জনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নামছেন না; তাহলে বলবো অবশ্যই আমার বা অন্য কেউ এর সাথে দ্বিমত নেই; কিন্তু সেরকম অবস্থান থাকলে কি শুভ্রের ঐ কথার জবাব আপনারটা হয়? শুভ্রের কথার জবাব দেয়ার জন্য, বা এখানে এই ব্লগে তত্তালোচনার জন্য টেকনিক্যল হতে লাগে?
আমি যেটা বুঝি, নিজের কনসেপ্ট আগে ক্লিয়ার করাটা খুব প্রয়োজন, কনসেপ্ট যদি পরিষ্কার থাকে- তবেই না আপনি বা আমি- আমরা কোন কোন জায়গায় আপোষ করলেও করতেও পারি- আপোষ করা আরো বড় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আরো এগিয়ে যাওয়ার লক্ষে; কিন্তু ধারণা ঠিক করার মুহুর্তে, নিজের দোদুল্যমান অবস্থায়, চিন্তার পশ্চাদপদতাকে আপোষ বা টেকনিক্যল হওয়া বলে হাজির করতে লাগলে সেই আপোষ আর কখনো এগিয়ে নিতে পারে, আপোষের চোরাবালিতে একেবারে ডুবিয়ে ফেলে।
------------------------------------
আরো আলোচনা হবে নিশ্চয়ই। শুধু একটা কথা- আত্মসমালোচনা বা ব্যক্তিকে একটু পাশ কাটিয়েই আলোচনা করলে ভালো হয়। দৈন্যতা আছে, বা ভণ্ড অনেকের মত- এটা যদি মনেই করেন তবে দৈন্যতা বা ভণ্ডামির জায়গাগুলো ধরে ধরে বের করে ঝেটিয়ে বিদায় করার চেস্টায় লিপ্ত হোন- সেটা কাজে লাগবে, এখানে সেটার তো দরকার নেই। পোস্টে ও কমেন্টে আত্মবৈপরীত্য ছিল বুঝে উঠলে ঠিক করুন- কোন অবস্থানটি সঠিক- সেটি উল্লেখ করুন। (খালি খালি আত্মসমালোচনাকে সেজন্য ভদ্রলোকোচিত বলেছি)
---------------------
ব্যক্তিকে ধরে অবশ্য আমিও টান মেরেছি, একজায়গা বলেছি এই সোসাইটির প্রোডাক্ট শুভ্র....। সেখানে শুভ্র বলা মানে আসলে বুঝাতে চেয়েছি শুভ্র আসলে যেসব চিন্তা তার আলোচনায় এনেছে- সেগুলো এই পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটিরই চিন্তার ফসল। তাছাড়া শুভ্র বা আপনাকে কঠিনভাবে দুটো কথা বলতে আমার বাঁধে না- হয়তো বা আপনাদের সাথে অনেক নৈকট্যবোধ করি বলেই.....
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
(সতীত্ব বা নারীত্ব বর্জন করা মানে সামাজিকভাবে বিবাহ বহির্ভূত সেক্সে লিপ্ত থাকা? এটাই বুঝলেন? যে কথা নিজের পোস্টে বললেন- সেই গলদ নিজে করে বসলেন! সতীত্ব বর্জন মানে হলো "সতীত্ব" নামক অশ্লীল ও আধিপত্যমূলক পোষাকটি ত্যাগ করা- সেটা মানে নারীদের জনে জনে সেক্স করা না। সেই নোংরা পোষাক- যার মাধ্যমে নারীর সেক্সের একাধিপত্য পুরুষের হাতে থাকে- সেই নোংরা পোষাককে ছুড়ে ফেলা দেয়া। যে পোষাকের কারণে বেশ্যা ও অন্যান্য "চ" বর্গীয় সেক্স কেন্দ্রিক ও জন্মকেন্দ্রিক গালিগালাজের কেন্দ্রমুখ নারী- সেই পোষাক বর্জনের ডাকে যদি "বেশ্যা" গালি খাওয়ার ভয় দেখেন- তবে করার কিছু নেই। এই পোষাক তো কেবল নারীর ত্যাগ করার বা বর্জন করার নয়- এটাকে তো পুরা সমাজ থেকেই ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। ফলে- সতীত্ব/নারীত্ব বর্জনের ডাক তো সমাজ থেকে পুরুষতান্ত্রিকতাকেই নির্মূল করার ডাক- তা কেমন করে নারীর বিবাহ বহির্ভূত সেক্স করার নাম হতে পারে?) এই প্যারাটা দারুণ হইসে। তবে, কী না বাকি কিছু কেমন যেন লাগল, মানে মনে হল বেশ কিছু জায়গায় জোর করে প্রথার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা। প্রথা সবসময়েই যে খারাপ হয়, তা বোধহয় না। যাই হোক, বংশ রক্ষা জিনিসটা কী খুব খারাপ? বংশ রক্ষা করার কারণে কী হিউম্যানিটির অনেক ক্ষতি হইছে?বংশ রক্ষা না হইলে এমন কি ভাল হইত?
আরেকটা ব্যাপার, নারীদের নিয়ে যারা খুব বেশি বলাবলি করে, তাদের মাঝে একটা ব্যাপার খুব কমন পাই। নারীকে তারা সবাই শুধু নারীই ভাবে। মানুষ ভাবতে পারে না।
কারণে অকারণে বহুগামীতাকে সাপোর্ট করলে আমার কিছু বলার নাই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সব ক্ষেত্রেই এটা দূষণীয়। নারী বলতে আলাদা কেন? নারী কে মানুষ হিসেবে ট্রিট করলে কী এমন দোষ?
কথাটা বোধহয় বুঝাতে পারলাম না, মানে, একটা ছেলে সিগারেট খাইতেছে থেইকা আমার বান্ধবী কইল, পুলাডি শুধু সিগারেট খায়। কারণ, এইটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীদেরও উচিত বেশি বেশি সিগারেট খাইয়া প্রথা ভাঙ্গা। আমার মন কইতাছিল, সবার উচিত সিগারেট বাদ দেয়া। নারীরা সিগারেট খায় না, এটা পিছিয়ে পড়ার ব্যাপার না, বরং এটাই তাদেরকে আরও উপরের দিকে স্থান দেয়। কিন্তু নারীবাদীদের কে বুঝাইব?? যাউক,অফটপিকে কই, আমগো দেশে নারীরাও পান খায়। শ্লার, প্যাটে নাই ভাত, কর্তা বিড়ি, কর্ত্রী জর্দ্দা দিয়া পান। খা শ্লারা।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
(সতীত্ব বা নারীত্ব বর্জন করা মানে সামাজিকভাবে বিবাহ বহির্ভূত সেক্সে লিপ্ত থাকা? এটাই বুঝলেন? যে কথা নিজের পোস্টে বললেন- সেই গলদ নিজে করে বসলেন! সতীত্ব বর্জন মানে হলো "সতীত্ব" নামক অশ্লীল ও আধিপত্যমূলক পোষাকটি ত্যাগ করা- সেটা মানে নারীদের জনে জনে সেক্স করা না। সেই নোংরা পোষাক- যার মাধ্যমে নারীর সেক্সের একাধিপত্য পুরুষের হাতে থাকে- সেই নোংরা পোষাককে ছুড়ে ফেলা দেয়া। যে পোষাকের কারণে বেশ্যা ও অন্যান্য "চ" বর্গীয় সেক্স কেন্দ্রিক ও জন্মকেন্দ্রিক গালিগালাজের কেন্দ্রমুখ নারী- সেই পোষাক বর্জনের ডাকে যদি "বেশ্যা" গালি খাওয়ার ভয় দেখেন- তবে করার কিছু নেই। এই পোষাক তো কেবল নারীর ত্যাগ করার বা বর্জন করার নয়- এটাকে তো পুরা সমাজ থেকেই ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। ফলে- সতীত্ব/নারীত্ব বর্জনের ডাক তো সমাজ থেকে পুরুষতান্ত্রিকতাকেই নির্মূল করার ডাক- তা কেমন করে নারীর বিবাহ বহির্ভূত সেক্স করার নাম হতে পারে?) এই প্যারাটা দারুণ হইসে। তবে, কী না বাকি কিছু কেমন যেন লাগল, মানে মনে হল বেশ কিছু জায়গায় জোর করে প্রথার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা। প্রথা সবসময়েই যে খারাপ হয়, তা বোধহয় না। যাই হোক, বংশ রক্ষা জিনিসটা কী খুব খারাপ? বংশ রক্ষা করার কারণে কী হিউম্যানিটির অনেক ক্ষতি হইছে?বংশ রক্ষা না হইলে এমন কি ভাল হইত?
আরেকটা ব্যাপার, নারীদের নিয়ে যারা খুব বেশি বলাবলি করে, তাদের মাঝে একটা ব্যাপার খুব কমন পাই। নারীকে তারা সবাই শুধু নারীই ভাবে। মানুষ ভাবতে পারে না।
কারণে অকারণে বহুগামীতাকে সাপোর্ট করলে আমার কিছু বলার নাই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সব ক্ষেত্রেই এটা দূষণীয়। নারী বলতে আলাদা কেন? নারী কে মানুষ হিসেবে ট্রিট করলে কী এমন দোষ?
কথাটা বোধহয় বুঝাতে পারলাম না, মানে, একটা ছেলে সিগারেট খাইতেছে থেইকা আমার বান্ধবী কইল, পুলাডি শুধু সিগারেট খায়। কারণ, এইটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীদেরও উচিত বেশি বেশি সিগারেট খাইয়া প্রথা ভাঙ্গা। আমার মন কইতাছিল, সবার উচিত সিগারেট বাদ দেয়া। নারীরা সিগারেট খায় না, এটা পিছিয়ে পড়ার ব্যাপার না, বরং এটাই তাদেরকে আরও উপরের দিকে স্থান দেয়। কিন্তু নারীবাদীদের কে বুঝাইব?? যাউক,অফটপিকে কই, আমগো দেশে নারীরাও পান খায়। শ্লার, প্যাটে নাই ভাত, কর্তা বিড়ি, কর্ত্রী জর্দ্দা দিয়া পান। খা শ্লারা।
ভুরিদত্ত বলেছেন:
আসার সময় রাস্তার গাড়ির ভিতরে ইতিউতি সৌন্দর্য দেইখা মন ঠান্ডা করলাম। জাতে পাগল তালে সেইরম - খিক।
পাগল তুমি, কেন তোমার গাড়ির দিকে মন?
আকাশের সৌন্দর্য আর ভালো লাগে না বুঝি বৎস?
দন্ডিত বলেছেন:
অনেকদিন পর পোস্ট দিলেন। অনেক থ্যাংকু। এই প্রসঙ্গে আমি মাইনষের চিন্তাভাবনার লেভেল বুঝাইতে কিছু মন্তব্য দেখাইতে চাই।Click This Link
মন্তব্যগুলা খুব খিয়াল কৈরা। আর আমি আরিফুল হোসেন তুহিন। ব্যান খাইয়া এই নিকে আছি।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
@দন্ডিতফ্যালাসি করা আর ধরা এক জিনিস না। ধূর শ্লা, মানে সবাই আমার শ্লা না। কেউ যদি জোর করে বলে যে, আমি সেটাই মিন করসি, তাইলে কিছু বলার নাই। ভূড়ির কামই এমুন, সব খানে ফ্যালাসি।
এইখানে ফ্যালাসিটা কী? এটা হইল, মানলাম আমি জঘন্য একটা লোক। দিনে দশটা খুন করি। কিন্তু আমি যদি কইলাম যে, চুরি করা ভাল না। বাটপারিও ভাল না।
আমি খারাপ মানে এই না যে, আমার উলটা কথাটা সত্য। আমি খারাপ মানে এইনা যে, আমি চুরিকে খারাপ বলছি বলে, সেটা আসলে ভাল জিনিস হবে।
আমি যদি খুব খ্রাপ হই, তাইলেই আমার এই যুক্তি। আর, সেখানে ফানপুস্টের কথা নিয়ে ব্যক্তি আক্রমণ করা ফালতু ভূড়ির কথায় আমি আসলেই কতটুকু খারাপ, সেটা নিয়ে চিন্তার অনেক অবকাশ আছে।
ভুরিদত্ত বলেছেন:
পাগলা ঐ সব লোলিকনটাইপ পরীটরী-মেয়েডিজে ছবির আর মাদোনাকে নিয়ে ঝাকানাকা গানের অনুপ্রেরণা কোথা হইতে সঙগ্রহ করে তাহা এতো দিনে বুঝিলাম!
দেশী পোলা বলেছেন:
মনুসংহিতাতে তো বহুৎ কিছুই লেখা আছে, মানে কয়জন??
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
@ভুড়িতুমি কই কী কর, তা সবাইরে কইতে ডরাও কেনু? আমি ত ওপেন পানি ঘোলা করি, আর তুমরা লুকায়া লুকায়া সেই পানি খাইয়া ফাল পাড় যে, পানি ঘোলা করি ক্যান?
আসল নিকে আইতে ডরাউ কেন? এতই যদি ধোয়া তুলসী পাতা হউ, তাইলে আসল নিকে আসতে এত ভয় কীসের? নাকি কোন কাহিনী কইরা ধরা খাইছিলা?
আমারে নিয়া শত লাখ পোস্ট আসুক, আমার সব ওপেন। সবাই জানে আমি কী । সবাই তার নাম আইডি ব্লগে পাবলিশ করতে বাধ্য না, আর আসল নিক গোপন করার অধিকারও সবার আছে। কিন্তু সেই অধিকারের সুযোগ নিয়া আরেকজনরে এট্যাক করার মানসিকতাটাই বইলা দেয় যে তুমার স্বভাব কেমুন !! আসল নিকে না আইসা, তা গোপন কইরা থাকতে চাইলে নিজের মত থাক। নিজে লুকায়া থাইকা মাইনষেরে খুচায়াও না। এইটা বাটপার আর সুবিধাবাদীদের লক্ষণ।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। মনরি ভাই অনেক ভালো একটা কমেন্ট করেছেন। বিষয়টা ওইখানেই-আমিও যা বলেছি তা আমার অগঠিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিচারেই। একে গ্রহণ বর্জন অথবা আরো বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ আবারো আসলো।
কিন্তু এখানে যে বিষয়টি আলোচনার সময় খেয়াল রাখতে হবে-আমি একটা রাজনৈতিক বক্তব্যকেই তুলে ধরবার চেষ্টা করেছি। নারী তার শরীর, মন, মনন, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার, জল, ভুমি, সীমানা, ইতিহাস, ধর্ম, পূরান মিলিয়েই নারী। আমার আলোচনাটা সেখানে। এবং আলোচনার উদ্দেশ্য নারী মুক্তির পথ রচনা করা। সেই পথে আমি পুরুষতন্ত্রকে বহন করে চলছি না এমন দাবী মূর্খতা হবে। নারী সরব হলেও র্দীঘ একটা সময় পর্যন্ত পুরুষত্ন্ত্র থাকবেই-নানা চেহারা নিয়ে থাকবে। নারী মুক্তির অপরিহার্য অংশ লুকিয়ে থাকা পুরুষ। বিষয়টা বুঝতে হবে। খোলামেলা ভাবেই বুঝতে হবে।
আশা করছি আরো আলোচনা চলবে। আমারও অনেক কিছু বলবার আছে। তবে সময় লাগবে, সময় সুযোগ করে আমাকে আসতে হবে -এইটুকু সহযোগীতা প্রত্যাশ্যা করছি।
ধ্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
আমিও যা বলেছি তা আমার অগঠিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিচারেই
==>>
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীটি কি? বাজারকে নিয়ে এসে কথা বলা? এটাই? নারীকে কেবলমাত্র নারী হিসাবে দেখা এবং সেখানেই স্থির রাখা - সবকিছুর মূলে বাজারকে নিয়ে আসাটাই কি এই দৃষ্টিভঙ্গীর মূল?
নারী তার শরীর, মন, মনন, সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার, জল, ভুমি, সীমানা, ইতিহাস, ধর্ম, পূরান মিলিয়েই নারী
==>>
আমি এখানটিতেই আপত্তি করি। নারীকে আমি কেবল আলাদা করতে চাই শরীরে। বাকিগুলোতে মানে মন-মনন-সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবার-... এ সমস্তেই কোন আলাদা পরিচয়ের দরকার আছে বলে মনে করি না। সবক্ষেত্রে মানুষ পরিচয়টাই যথেস্ট। দেখুন- দুটো বিষয়: একটা হলো বাস্তবতা এবং আরেকটি আমি যা চাই। যা এখন প্রচলিত তার সবটাই বাস্তবতার দোহাই দিয়ে মেনে নিতেই হবে এমন আমি মনে করি না। কেননা এতে তাহলে তো কখনো পরিবর্তনই আসতো না।
লেখক বলেছেন:
নারী সরব হলেও র্দীঘ একটা সময় পর্যন্ত পুরুষত্ন্ত্র থাকবেই-নানা চেহারা নিয়ে থাকবে।
====>>
আমিও মনে করিনা যে পুরুষতন্ত্র উচ্ছেদ একা নারীর কাজ। এটা উভয়ের মিলিত। কেবল নারীর কাজ ভাবলে পুরুষতন্ত্রের বিপরীতে নারীতন্ত্র এমন ভাবটাই সামনে আসে- এ জায়গাটিতেই কেবল আমার পিওর নারীবাদীদের সাথে বিরোধ (যদিও আমি মনে করি যতদিন পুরুষতন্ত্র জেকে বসে আছে- নারীবাদীদের সংগ্রামকে কোনমতেই হেলা করার উপায় নেই)- আমি যেহেতু পুরুষতন্ত্রকে বিদায় দেয়া মানে মনে করি- নারীর উপর আধিপত্য দূরে সরে নারী ও পুরুষের উভয়েরই মানুষ হিসাবে সমান মর্যাদার জায়গায় আসীন হওয়া - সেহেতু এখানে পুরুষেরও গরজ আছে বৈকি। পুরুষের গরজ- তারও পুরুষ থেকে মানুষে উন্নীত হওয়া। কেননা, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতদিন আছে- নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য যতদিন আছে- ততদিন কোন পুরুষই মুক্ত নয়, কোন পুরুষের পক্ষেই সম্ভব নয় পুরুষ পরিচয়টাকে ফেলে দিয়ে মানুষ পরিচয়ে গর্ববোধ করা।
নারী মুক্তির অপরিহার্য অংশ লুকিয়ে থাকা পুরুষ
=====>>
এটার মাধ্যমে কি বুঝাতে চেয়েছেন? ঠিক পরিষ্কার হলো না।
সামনে আরো আলোচনা চলবে....
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
+
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
লেখক বলেছেন-বাজার এই সমস্যাটিকে প্রকট করেছে ঠিকই- কিন্তু একে বাজার দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে যাওয়া নেহাত বোকামি। বাজারের আগে থেকেই এই সমস্যার শুরু- যেদিন থেকে নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব স্থাপিত হলো- সেদিন থেকেই পুরুষ নারীর উপর নানারকম টাবুর সাথে এরকম কিছু নারীত্ব/সতীত্বের ধারণাও তৈরি করে নিয়েছে। এটার মূল জায়গাই হলো- এর মাধ্যমে নারীকে পুরুষের আয়ত্তে রাখা, নারীকে পুরুষের সম্পদ হিসাবে তৈরি করা।কবে থেকে নারীর ওপর পুরুষের কর্তৃত্ব স্থাপন হল। একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না নারী পুরুষের দ্বন্দ থাকবেই। অর্থাৎ প্রজাতি হিসেবে নারী পুরুষ নানা প্রকার মানসিক এবং সামাজিক দ্বন্দ মোকাবেলা করেই জীবন যাত্রায় চলমান থাকবে। এবং দ্বন্দ না থাকলে সৃষ্টি থাকে না। কিন্তু আমাদের সমাজে কেন পৃথিবীর ইতিহাসেই নারী অবদমিত নিপীড়িত। এর শুরুটা কি ধর্ম দিয়েই হয়েছে নাকি নারী পুরুষের দ্বন্দকে কাজে লাগিয়েছে পুরুষ-হাতিয়ার হয়েছে ধর্ম। আমাদের দেশেও কৃষির সাথে নারীর সম্পৃক্ততার সবচেয়ে বড় উদাহরণ খনা। খনার বচনেও নারীর গৃহসজ্জার গুরু দায়িত্বের কথা বলা আছে। তারমনে খনাও পুরুষ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। খনার বচনের পাশাপাশি আছে ডাক বচন। এই ডাককে ভাবা হয় পুরুষ-কেউ কেউ যাকে প্রাচ্যের সক্রেটিস বলেছেন। কিন্তু এই ডাকও পুরুষ-তার বক্তব্যে। এই দ্বন্দকে মোকাবেলা করতে হল যে দর্শন বা উদারতর প্রয়োজন ছিল তা আমাদের ইতিহাসে নেই। রোকেয়া অনেক পরে এসেছেন। কিন্তু তিনিও সামাজিক ছিলেন, জানতেন বৃত্তের ভেতরে থেকেই বৃত্তকে ভাঙতে হবে। প্রীতিলতা-কল্পনা দত্তরাও সামাজিক ছিলেন। নারী ছিলেন।
নারীত্ব নারীর বৈশিষ্ট্য। আমি সমার্থক হিসেবে সতীত্ব বলেছি। সতীত্ব বলার প্রয়োজন নাই-নারীত্বই বলি। নারী শরীরের যে সমস্ত অংশ আজ বাজারে উন্মুক্ত তার অধিকার নারীর। একান্তই ব্যাক্তি নারীর, কোন সমাজ বা বিধান তাকে চাপিয়ে বা দমিয়ে রাখাটা অমানবিক। অর্থাৎ কেউ যদি বোরখাকে তার পোশাক মনে করে তবে বোরখাই তার পোশাক। আবার বাজার যে চাহিদা তৈরি করে সেই সংস্কৃতি খোলামেলা পোশাকের যে আচার গড়ে তোলে তা যদি সামাজিক না হয় তবে অবশ্যই তা বর্জনীয়। পোশাক কেবলমাত্র বাহ্যিক বিষয় নয় মোটেই, পোশাক মানসিকতার প্রকাশ এবং মানসিকতা গঠন করে থাকে। ফলে বোরখা খুলে ফেলবার বা তাকে হেয় করবার বিষয় নয়, বোরখা মানসিকতার বিপরীত বোধ তৈরির সংগ্রামই করণীয়। ততক্ষণ পর্যন্ত অসংখ্য নারীর পোষাক ওই বোরখা-এটা বলে বোঝানোর প্রয়োজন নাই।
নারীকে শরীর ছাড়া দেখবার জো নেই। বাজার সেই মানসিকতাকে প্রবলভাবেই প্রতিষ্ঠত করেছে। নারী মানেই শরীর। (এবং শেষ পর্যন্ত সতীত্বের রুট সেক্সই। তাই সীতাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়- আয়েশাকেও আয়াত দিয়ে সতীত্ব হানির হাত থেকে রক্ষা পেতে হয়। কিন্তু কোন পুরুষকে কোনদিন সতত্বের পরীক্ষের দিতে হয়না- কৃষ্ণের বহুগামীতা লীলাখেলা হিসাব শ্রদ্ধার পাত্র হয়- মুহম্মদ সা এর বহুগামিতা (বিয়ে করে বা না করেই) হয় নানাকারণেই গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ!!)
কৃষ্ণকে এভাবে ব্যাখ্যা করার কারণ দেখি না। রাধাও তো পুজ্য। বেহুলাকে বাদ দিয়ে দিলেন কেন। মহুয়া, পদ্মাবতি এমন কতো আছে। মহানবি বিষয়ে এখনকার আলাপের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, শিবকে নিয়েও এমন অনেক আলাপ করা যায়, বুদ্ধ, নজরুল, জসিম উদ্দিন এরাও এই সমস্ত আলাপের বাইরে না। এর সাথে এখনকার নারী মুক্তি সম্পৃক্ত না। এখনকার নারী বাজারের হাতে জিম্মি। আগে সেখান থেকে মুক্ত হতে হবে। পুকুরে ডুবে মরতে বসেছে যে আগে তাকে ডাঙায় তুলে সুস্থ্য করাটাই কাজ, সে বোরখা পড়ে কেন পুকুরে নামতে গেল সেই আলোচনা পরে।
আরো কিছু আলোচনা পরর্তীতে করবার আশা রাখি।
লেখক বলেছেন:
নারীত্ব নারীর বৈশিষ্ট্য =======>>>>> নারীত্ব জিনিসটা আসলে কি? নারীর বৈশিষ্ট্যই বা কি?
আর, তাহলে এটাও বলেন- পুরুষের বৈষিষ্ট্য কি? পুরুষত্ব?
====
মেলা দৌড়ের উপর আছি, বেশি কিছু আজ বলতে পারছি না- আগামিকাল কিছু আলোচনা করার আগ্রহ থাকলো।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন:
একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না নারী পুরুষের দ্বন্দ থাকবেই। অর্থাৎ প্রজাতি হিসেবে নারী পুরুষ নানা প্রকার মানসিক এবং সামাজিক দ্বন্দ মোকাবেলা করেই জীবন যাত্রায় চলমান থাকবে। এবং দ্বন্দ না থাকলে সৃষ্টি থাকে না।
======>>>
বিষয়টি ভুলতে না দিয়ে বা মনে করিয়ে দিয়ে কি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন? দ্বন্দ্ব সবসময়ই থাকবেই? আর থাকবেই বলেই দ্বন্দ্ব খুব মহান? দ্বন্দ্বের নিরসন ঘটাতে চাওয়া মানেই সৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়া?
একটা উদাহরণ সহকারেই বুঝাই।
ধরেন- আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল বা ছাত্রলীগের কোন ক্যাডার কোন কারণে আপনার উপর খেপলো- ব্যাটার চেহারা কালো-লম্বা-উচা- ষণ্ডার মতো চেহারা- দেখলেই বুঝা যায় গায়ে গতরে মেলা জোর, তার উপর সরাকরী দলের ক্যাডার - অস্ত্রও আছে, তার তুলনায় আপনি টিংটিঙ্গে তালপাতার সেপাই, গায়ে তো জোর নেই- কারো ব্যাকিং ও নেই তারো উপর আপনি একটা আস্ত ভীতুর ডিম। এমন অবস্থায় ঐ ক্যাডার ষণ্ডা আপনাকে উঠতে বসতে ঝাড়ি দেয়- তার হুকুম তামিল করতে বাধ্য করে- মাঝে মধ্যে গালে ও পাছায় দুমাদুম ঘাও বসিয়ে দেয়। আপনি বাধ্য হয়ে সব মুখ বুজে সহ্য করে যান। এরকম অবস্থায় ঐ ষণ্ডার এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা উঠায় সে যদি বলে- "একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না সবল আর দুর্বলের দ্বন্দ্ব থাকবেই। অর্থাৎ সবল আর দুর্বল নানা প্রকার মানসিক এবং সামাজিক দ্বন্দ মোকাবেলা করেই জীবন যাত্রায় চলমান থাকবে। এবং দ্বন্দ না থাকলে সৃষ্টি থাকে না।"- তাহলে কেমন হবে?
অনেক রকম দ্বন্দ্বের কথাই আমরা জানি। সব দ্বন্দ্বই সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য? নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব, মালিক-শ্রমিকের দ্বন্দ্ব- সাদা-কালোর দ্বন্দ্ব....। দেখুন- কেবল দ্বন্দ্ব দেখলেই কি হবে? দ্বন্দ্বের স্বরূপ চেনা কি দরকার নয়? উপরে যে দ্বন্দ্বগুলো উল্লেখ করলাম সেগুলো হচ্ছে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব এবং একটি আরেকটির উপর আধিপত্যমূলক দ্বন্দ্ব, তাহলে এ দ্বন্দ্ব কোন দিক দিয়ে অপরিহার্য? কার জন্য অপরিহার্য? যারা আধিপত্য বজায় রেখেছে তাদের জন্য নয় কি?
আবার মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বটি নির্ভেজাল বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব এবং এর নিরসনের একটাই উপায় শ্রেণীকেই এলিমিনেট করা। কিন্তু নারী-পুরুষ বা সাদা-কালোর দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে সমাধান আজকের বিরোধাত্মক দ্বন্দ্বকে মিলনাত্মক দ্বন্দ্বে পরিণত করে ফেলা। সেটা সম্ভব কেবল ও কেবলমাত্র সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবার সমস্ত ক্ষেত্রেই নারী ও পুরুষ বা সাদা ও কালো পরিচয়কে দূর করে মানুষ পরিচয়ে এগিয়ে যাওয়া, পথ ফেলা।
যাহোক- মোদ্দা কথা হচ্ছে- দ্বন্দ্বকে নানা আঙ্গিকে দেখা উচিৎ, না হলে "দ্বন্দ্ব না থাকলে সৃষ্টি থাকে না"- এমন মোটা সিদ্ধান্তই বের হবে।
------------
হতে পারে, আপনি নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব না থাকলে সৃষ্টি থাকে না - এটা বলতে চেয়েছেন এবং এর মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব মানে নারী-পুরুষের সেক্সকে ইন্ডিকেট করেছেন। সেকসেত্রেও বলবো এই দ্বন্দ্ব স্বভাবগতভাবে মিলনাত্মক হওয়ার কথা এবং এটার সাথে কোনমতেই নারী-পুরুষের আর সমস্ত দ্বন্দ্বের কোন তুলনাই চলে না, বাকি সমস্ত দ্বন্দ্বই আধিপত্যমূলক এবং এই আধিপত্যের আধিক্যে আজ নারী-পুরুষের সেক্সটাও আধিপত্যমূলক (যেটা ডিবেটের অন্যতম মূল জায়গা)।
-------------------
নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব থাকবেই, মানতে পারলাম না। ইতিহাস দেখুন- দ্বন্দ্ব পরিবর্তনশীল। আর, এটা থাকবেই- ওরকম চলবেই- শোষণ থাকবেই- গরীবরা মার খাবেই- ... এসব আস;লে ভাববাদী কথাবার্তা এবং এগুলো সুবিধাজনক জায়গায় থাকা লোকজনের প্রচারণা। আর, আপনি এক্ষেত্রে যদি বুঝাতে চান- নারী ও পুরুষ প্রজাতিগতভাবেই আলাদা শারিরিক বৈশিষ্ট্য নিয়েই থাকবে- সেটায় কোন দ্বিমত করি না। কিন্তু সেটা এই আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণও নয়। সাদা আর কালোদের দ্বন্দ্ব বা কালোদের উপর সাদাদের আধিপত্য নিয়ে যখন আলোচনা হয়- তখন জন্মগতভাবে কেউ সাদা হবে আর কেউ কালো হবে, সেই বিষয়টা কি কখনো ধর্তব্যে আসবে? নিয়ে এসে কি বলা হবে- এই দ্বন্দ্ব থাকবেই? যখন সাদা বা কালো'র পরিচয়কে মুখ্য না করার কথা বলা হয়- তখনও কালো কালোই, সাদা সাদাই- তারপরেও এটা বলার মানে হলো- সেই সাদা চামড়ার মানুষ সাদা হিসাবে নয় মানুষ হিসাবে যেমন সোসাইটিতে যতটুকু মর্যাদা পাবে, কালোজনও কালো হিসাবে নয় একজন মানুষ হিসাবেই ঠিক ততটুকুই মর্যাদার অধিকারী হবে।
লেখক বলেছেন:
আমাদের সমাজে কেন পৃথিবীর ইতিহাসেই নারী অবদমিত নিপীড়িত
======>>>>>>
কেবল আমাদের সমাজের কথা আমিও বলিনি, গোটা দুনিয়াতেই নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য, নারীরা অবদমিত (কিছু আদিবাসী গোষ্ঠী ছাড়া)। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসকে ধরে টান দিলে- আপনার সাথে আমি একমত নই। অবশ্যই নই। একসময় পুরুষদের কোন আধিপত্য ছিল না। বরং মানুষের শুরুর ইতিহাস মাতৃতান্ত্রিক সমাজের। এটা কিন্তু একই সাথে নারীতান্ত্রিক নয় (অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) যেমনটি আমাদের আজকের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক ও পুরুষতান্ত্রিক। আর, বাজারের আবির্ভাব তো সেদিনের। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ইতিহাস খুব বেশীদিনের নয়। তার আগে সামন্তীয় বা দাস ব্যবস্থায় কি নারীরা অবদমিত নয়? পুরুষদের আধিপত্য কি ছিল না? সুতরাং- সন্দেহাতীত ভাবেই নারী-পুরুষের দ্বন্দ্বের রুট আজকের বাজার নয়। তবে এটাও ঠিক আজ এই দ্বন্দ্বকে মোকাবেলা করতে চাইলে বাজার তথা পুঁজিবাদকেও মোকাবেলা করতে হবে।
লেখক বলেছেন:
এর শুরুটা কি ধর্ম দিয়েই হয়েছে নাকি নারী পুরুষের দ্বন্দকে কাজে লাগিয়েছে পুরুষ-হাতিয়ার হয়েছে ধর্ম
====>>>
আমিও বলিনি ধর্ম থেকে নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য শুরু হয়েছি- বরং বলেছি পুরুষ নারীর আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষেত্রে ধর্মবিশ্বাসকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। প্রজার উপর রাজা/পুরোহিতের শাসনকে যেমন ধর্ম স্থায়িত্ব দিয়েছে, ঠিক তেমনি নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যকেও স্থায়িত্ব দিয়েছে।
আজকের আদিবাসী মাতৃতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলো বা প্রাচীণ আমলের আলামত থেকে দেখা যায়- আদিম লোকাচার আজকের ধর্মবিশ্বাস থেকে ভিন্ন, এই ভিন্নতার মূল জায়গা সেইসব লোকাচার বা ব্রতগুলো খুব কাজ সংশ্লিষ্ট, সেখানেও কল্পনার ছোয়া আছে- কিন্তু সেগুলো অলীক কোন দেবদেবী বা ঈশ্বরের কাছে সমর্পন বা প্রার্থণা বা ভিক্ষা চাওয়া মতো নয়- বরং নাচ-গান-ছবি আকার মধ্য দিয়ে অরাধ্য কাজটির একটা ড্রেস রিহার্সেল করা। যেমন: শিকারে যাওয়ার আগে হয়তো সবাই মিলে বল্লম নিয়ে লাঠি নিয়ে একরকম নৃত্য করা- ফসলের জন্য ফসল বোনা থেকে ফসল কাটা পুরো সময়টা কাজের সাথে যেসব লোকাচার চলে- সেগুলো সবই কাজ কেন্দ্রিক নৃত্য গান হল্লা। কারো কাছে আলাদা প্রার্থণার কিছু নেই। আজকের ধর্মবিশ্বাসগুলোর সাথে এগুলোর আরেকটি বড় পার্থক্য হলো- এসব লোকাচারে সমস্ত কাজকর্মে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ, কেউ কারো উপর খবরদারি করে না, নারী -পুরুষ সমস্ত কিছুতেই মিলে মিশে একাকার।
আমি এসব লোকাচারের সাথে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসগুলোকে আলাদা করছি। এবং মানুষের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দিচ্ছে যে- আদিম লোকাচারগুলো থেকে এই ধর্মবিশ্বাসের রূপান্তরটি ঘটে মানে মানুষ ঘটায় ইতিহাসের ঐ সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ যেসময়ে রাজা/পুরোহিতদের ক্ষমতা চলে আসে- যখন নারীদের উপর পুরুষদের আধিপত্য চালু হলো। অর্থাৎ, ঐ সন্ধিক্ষণে রাজা/পুরোহিতেরা বা প্রজার উপরে বা পুরুষের উপরে আধিপত্য বজায় রাখতে আদিম লোকাচারগুলোকে ধর্মবিশ্বাসে রূপান্তর ঘটায়। দুটো বিষয় ঐ সময় থেকে হালের শেষ প্রধান ধর্ম ইসলাম পর্যন্ত সবকটাতেই কমন। সেটা হলো ১) সমস্ত ধর্ম প্রবর্তক হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতিনিধি, ঈশ্বরের অংশ, ঈশ্বরেরই অবতার, ঈশ্বরের আত্মীয় বা ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র বা বন্ধু বা প্রতিনিধি। যেটা একটা পর্যায় পর্যন্ত রাজাদেরও উপাধি। ২) সমস্ত ধর্ম প্রবর্তকই পুরুষ এবং ধর্মগ্রন্থের সম্বোধন প্রধানত পুরুষদের প্রতি।
লেখক বলেছেন:
রোকেয়া অনেক পরে এসেছেন। কিন্তু তিনিও সামাজিক ছিলেন, জানতেন বৃত্তের ভেতরে থেকেই বৃত্তকে ভাঙতে হবে। প্রীতিলতা-কল্পনা দত্তরাও সামাজিক ছিলেন। নারী ছিলেন।
======>>>>>
এই আলোচনার মাজেজা কি, বুঝলাম না! রোকেয়া, প্রীতিলতা-কল্পনা দত্তরা নারী? এটার দ্বারা কি প্রমাণ হয়? রহিমা, সেলিনা, রিনি, স্মৃতিরানী এরাও নারী। তো? বুঝাই যাচ্ছে- রোকেয়া, প্রীতিলতা, কল্পনা দত্তদের নাম আমরা স্মরণ রেখেছি এবং শ্রদ্ধাভরেই স্মরণ রেখেছি, তার কারণ নিশ্চয়ই তারা নারী সেজন্য নয়; বরং এই কারণে যে রোকেয়া সমাজ-সংস্কারক- সাহিত্যিক; প্রীতিলতা-কল্পনা দেশপ্রেমিক বিপ্লবী। একারণেই তারা রহিমা-সেলিনা-স্মৃতিরানীদের থেকে আলাদা। একইভাবে, ক্ষুধিরাম- নজরুল- বিদ্যাসগর প্রমুখকে আমরা শ্রদ্ধা করি- এই কারণে নয় যে- তারা পুরুষ।
তারপরেও আমরা রোকেয়া-প্রীতিলতা যে নারী ছিলেন এটা মাঝে মধ্যে উল্লেখ করি কেবল এই কারণে যে- এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেশিরভাগ নারীর আত্মবিশ্বাস আজ এতই ঠুনকো যে- এইসব নারীদের গল্প এদের শোনাতে হয়- একজন নভোচারী মহিলা হলে- একজন নারী ভালো পাশ দিলে - একজন নারী পুলিশ অফিসার হলে- এমনকি একজন নারী ঘোড়ার পিঠে চড়লেও সেটার গল্প নারীদের শোনাই, ছবি দেখাই- কারণ এসব দেখে যদি তাদের কিছু আত্মবিশ্বাস বাড়ে (এটা একটা টেকনিক্যল অবস্থা)। কিন্তু আপনি যেভাবে ওনাদের নারী বললেন- তা ঠিক সমীচীন মনে হয়নি। আজ কি কেউ বলে যে রবীন্দ্রনাথ কিন্তু পুরুষ, সেলিম আল দীন কিন্তু পুরুষ, মাও জে দং কিন্তু পুরুষ ছিলেন!!
আজ এতটুকুই থাক- কাল আবার কথা হবে......
লেখক বলেছেন: আমাদের দেশেও কৃষির সাথে নারীর সম্পৃক্ততার সবচেয়ে বড় উদাহরণ খনা। খনার বচনেও নারীর গৃহসজ্জার গুরু দায়িত্বের কথা বলা আছে। তারমানে খনাও পুরুষ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। খনার বচনের পাশাপাশি আছে ডাক বচন। এই ডাককে ভাবা হয় পুরুষ-কেউ কেউ যাকে প্রাচ্যের সক্রেটিস বলেছেন। কিন্তু এই ডাকও পুরুষ-তার বক্তব্যে। এই দ্বন্দকে মোকাবেলা করতে হল যে দর্শন বা উদারতর প্রয়োজন ছিল তা আমাদের ইতিহাসে নেই।
=====>>>>>>
ইতিহাসকে দেখার জন্য বিশেষ চোখের প্রয়োজন। তাহলেই অনেক কিছু দেখতে পারতেন বা পারবেন। খনার বচন বা লোক গাঁথা- লোক কথা থেকেও ইতিহাস বা অতীতকে বের করে আনা যায়- তবে সেটা করতে গেলে একরকম ফিল্টার ব্যবহার করতে হয়। ঠিক ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এসব থেকেই অতীতের অনেক কিছুই অনেক যোগসূত্রই বের করা ফেলা সম্ভব। কিভাবে সম্ভব? সেটাই তাহলে আগে বলছি।
এইসব লোকথা-গাঁথা-বচন এগুলো লোকমুখে প্রচলিত ও প্রচারিত- বংশ পরম্পরায় যুগে যুগে। ফলে- বেশিরভাগই পরিবর্তিত হতে হতে আজকের অবস্থায় এসে পৌছেছে। ফলে এগুলোতে বিভিন্ন যুগের চিন্তা অনুযায়ি পরিবর্তিত হতে হতে এই অবস্থায় আসতে হয়েছে এবং ফলে- আজকের বা কাছাকাছি যুগের চিন্তারই বেশি প্রাধান্য পাওয়া যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এসবের রুট যেহেতু আরো অনেক প্রাচীণ- এগুলোতে সেই আমলের ছিটেফোটাও অবশিষ্ট আকারে পরতে পরতে মিশে থাকে। সেগুলোই অনুসন্ধান করে বের করতে হয়। তার সূত্র হচ্ছে- আজকের চিন্তার সাথে যেসমস্ত জিনিসগুলো সাংঘর্ষিক- সেগুলোকেই ধরতে হবে প্রাচীণ বা আগের যুগের চিন্তা বা ভাবনা।
খনার বচনে যেখানে পুরুরষের আধিপত্য দেখেন- সেটাকে দিয়ে পূর্বকে বিচার করা ঠিক হবে না, কারণ আজ তো এটারই জয়জয়কার। বের করুন এমন কিছুর- যার সাথে আজকের মিল নেই। আপনার আলোচনাতেই এমন নজির আছে। কৃষিকাজে মেয়েদের অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। এটাই বিশেষ। খনাগুলোতে যে মাত্রায় এবং যতখানি জুড়ে কৃষিকাজে মেয়েদের সংশ্লিষ্টতার কথা আছে- সেটা কি আজকের যুগে দেখা যায়? না। তাহলে কেন খনার বচনে সে কথা বলা হলো? কারণে, এককালে সেটাই স্বাভাবিক ছিল। তাহলে দাড়াচ্ছে- কৃষিতে মানে সেসময়কার মানুষের মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মেয়েদের ভূমিকা খুবই প্রধান ছিল।
আরেকটি উদাহরণ দেই।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরাতন সাহিত্যের নাম বেদ। অনেকে বলেন- এই সাহিত্য পড়েই নাকি বুনো-অসভ্য ভারতবাসী সভ্য-ভব্য হয়েছে!! এহেন বেদ সাহিত্যের কোথাও বলতে গেলে কোন দেবীর উল্লেখ নেই। যে দু-চারজন দেবীর কথা পাওয়া যায় তারা পুরুষ দেবতার পাশে নেহাতই নগণ্য, আর ঋগ্বেদে দেবী-সূত্র নামে এক জায়গায় দেবীর কিছু গৌরব গাঁথার কথা আছে- কিন্তু এ ছাড়া আর কোথাও দেবীর মাহাত্ম্য দেখা যায় না। এই বৈদিক দেবলোকে প্রধান কারা? ইন্দ্র, বরুন, মিত্র, পূষণ, অগ্নি, সূর্য, মাতবিশ্ব- এই রকম আরো অনেক অনেক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই বেদ-বেদান্ত-উপনিষদ-গীতা যতই পবিত্র গ্রন্থ হোক না কেন, এখানকার মানুষের মনের জগতে কারা আছে? ইন্দ্র, বরুন, মিত্র দেবতারা? না-কি দেবীরা? দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী, অন্নপূর্ণা, লক্ষ্মী, সরস্বতী? এখানকার প্রধান পুজা কি? কেন? বেদ পুরুষতন্ত্রের জয়গান গায়- সেখান থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি- সেই আমলে এখানে পুরুষতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (এবং বৈদিকরা বাইরের এই ইতিহাস জানলে আমরা বলতে পারি- তারা এসে আমাদের এখানে পুরুষতন্ত্র চাপিয়েছে)- এবং দেবীদের শৌর্য-প্রতিপত্তি দেখে বুঝা যায়- বৈদিক যুগের আগে এখানে অবশ্যই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ছিল।
খুববেশী না- দুর্গাকে একটু মন দিয়ে লক্ষ করুন। দুর্গার হাতে কি অস্ত্র? কিভাবে নারীর দেবীর হাতে অস্ত্র এসেছে? সে সময়ে যদি নারী অস্ত্র না-ই ধরতো? আজকে আমরা কি কল্পনাও করতে পারি- সেরকম অস্ত্রের কোন একটি নিয়ে কোন এক নারীকে? দুর্গা কাকে বধ করেছে? অসুরকে। অসুর পুরুষ না নারী? কোন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কি এমন পুজা চালু হওয়া সম্ভব যেখানে একজন নারীর পায়ের কাছে এক পুরুষ অসহায় ও পরাজিত অবস্থায় পড়ে আছে? সুতরাং পুরুষতান্ত্রিক আমলের পুরুষের আধিপত্যমূলক কোন বচন বা কোন লোককথা দিয়ে ইতিহাস বিচার করতে যাওয়া নেহাতই বোকামি ছাড়া কিছু না।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
নারীত্ব অভিধাটির অর্থ কি। সহজভাবে নারীর বৈশিষ্ট্য। এখানে নারী মানেও মানুষ এই আলোচনার প্রয়োজন নাই বলেই মনে করছি। তাহলে নারীকে আমি আলাদা করছি, কারণ নারী আলাদাই। নারীর পোশাক, সামাজিক পরিচয়, কাজের ছন্দ ঢং পুরুষের মতো না। শাড়ি পড়ে যে মানুষ সে পাঞ্জাবি পড়া মানুষের মতো একই মনন-চিন্তা ধারণ করবে না। নারীর পোশাকে পকেট থাকে না। তার মানে এই না যে নারী অযোগ্য কিংবা অপাংক্তেয়। এটা নারীর বৈশিষ্ট্য। শহরে নারীর যে চেহারা গ্রামে সেই চেহারা না। ঘরে থাকে যে নারী সে অফিস করা নারীর মতো না, যে নারী রাজনৈতিক সে আচারণে আলাদা। সব মিলিয়েই নারী। নারীত্ব কেন একজন নারীর জন্য লজ্জার হবে তাই বুঝে উঠতে পারলাম না।নারীকে শরীর শূণ্যভাবে দেখার চেষ্টা করুন। কারণ প্রকৃতিতে পুরুষ নারী শারীরিক বৈশিষ্ট্যে আলাদা। কিন্তু শুধু কি শারীরকি ভাবেই নারী আলাদা, চিন্তায় মানসিকতায় আলাদা নয়। সন্তান জন্মদানের কাজটি পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, এবং এখানে নারীই প্রধাণ। ফলে নারী তার মায়ের পরিচয় থেকে আলাদা নন। আমাদের সমাজে অসংখ্য নারী আছেন যারা ঘরের বাইরে আসতে চান না। রাষ্ট্র নারীকে ঘরের বাইরে আসার সুযোগ দিতে হবে, কিন্তু নারীর সাথে ঘরের যে সম্পর্ক সেই সম্পর্ক পৃরুষের না। পরুষের ঘর ঘনিষ্ঠ হতে অনেক সময় লাগবে-সে জন্য নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি। রাজনৈতিকভাবে নারীকে প্রতিষ্ঠা করার মানে কি এই যে নারীকে ঘর ছাড়া করা।
আরো আলোচনার আশা রাখি।
ভুরিদত্ত বলেছেন:
যখন স্কুলের সুবোধ ছাত্র ছিলাম সেই সময়কার আমার একটা লেখা থেকে কিছুটা তুলে দিলাম।...ট্র্যাডিশনাল জেন্ডার রোলস বা বাইনারি অপজিটস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, সেগুলোকে মুছে ফেললে কিন্তু অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। নারী-পুরুষ, শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ, কুমারী-বেশ্যা, ধর্ষনকারী-ধর্ষিতা; এই সবের কথা বলছি। মাদোনার মিউসিভিডিওগুলোর কথা চিন্তা কর এক বার। মেন হ্যাভ ব্রেস্টস অ্যান্ড উয়্যার ব্রাজ, ইম্প্লাইঙ দ্যাট দে হ্যাভ ব্রেস্ট এনভি, ইনস্টেড অব উম্যান হ্যাভিঙ পেনিস এনভি। জাস্টিফাই মাই লাভের কথা চিন্তা কর এক বার। মাদোনার এই ভিডিওটাকে এক ধরণের গে অ্যান্থেম বলা যেতে পারে...।
বিডি আইডল বলেছেন:
এত বড় বড় লেখা আর কমেন্ট কেমনে লিখে মাইনষে? বাপরে..
লেখক বলেছেন:
বাপরে ......
বিডি আইডল বলেছেন:
আপনারে ব্লগে খুব অনিয়মিত দেখি ইদানিং.... নাস্তিকতার বিষয়ে একমাত্র আপনার লেখনী গুলোই ব্লগে সবাই আগ্রহ করে পড়ে....আপনার অনুপস্হিতিতে কিছু অকাকুষ্মান্ড নানা রকম ছাই পাশ দিয়ে ব্লগ গরম করে.
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
২০ নং কমেন্টে শুভ্র বলেছেনঃ .......কৃষ্ণকে এভাবে ব্যাখ্যা করার কারণ দেখি না। রাধাও তো পুজ্য। বেহুলাকে বাদ দিয়ে দিলেন কে মহুয়া, পদ্মাবতি এমন কতো আছে।====>>>>>
কেন কারণ দেখেন না? এভাবে ব্যাখ্যা না করলে- ধর্মগুলো কেমন,- ধর্মগুলো কিভাবে পুরুষতান্ত্রিকতা ধারণ করে এবং মানুষের মাঝে টাবু/সংস্কার হিসাবে নিয়ে যায় তা বুঝবেন কি করে?
কৃষ্ণের লীলা তথা বহুগামিতা অস্বীকার করতে পারবেন? সেটা কি কখনো নিন্দিত হয়েছে? তার সেই নৃত্য- যেটার মাধ্যমে এক নাচেই শ শ নারীর সাথে মিলন ঘটে যেত- সেটা আপনি অনেক মন্দিরের ভাস্কর্যেও পাবেন- কৃষ্ণ- রাধার মৈথুন কেন্দ্রে এবং কৃষ্ণ ও অসংখ্য নারীর মৈথুন তার চারদিকে নানা নাচের ভঙ্গিতে।
সেটাই বলছি- সীতাকে রাবন অপহরণ করলো, এই দোষে কেবল সীতাকে তার সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়! কিন্তু তাদের পুরুষ ভগবান কৃষ্ণ একের পর এক নানা নারীর সাথে মিলিত হলেও কিছু ঘটে না!!!
রাধার কথা বলেছেন। বলেছেন- রাধাও পুজ্য! এটা বলে কি প্রমাণ করলেন- ধর্ম নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দিল! কৃষ্ণ ও রাধার মর্যাদা কি এক, সমান? রাধা কি পরিচিত নিজের পরিচয়ে নাকি কৃষ্ণের পরিচয়ে? ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্ণ হচ্ছে সরাসরি ভগবান- ভগবান এর অবতার? আর রাধা কি? স্রেফ কৃষ্ণের প্রণয়নী। মানুষের মনস্পটে অবশ্য রাধা আরেকটু বেশি থেকে গিয়েছে। কারণ, রাধার পরিণতি, রাধার বিরহ, রাধার কষ্ট- এসবেই মানুষ অনেক বেশি সমব্যথি। অথচ শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের আচরণটা কি, কেমন? মেল ডমিন্যান্সির চুড়ান্ত উদাহরণ নয় কি এই রাধা-কৃষ্ণের প্রেম?
রাধার বিরহের ধরণটিও দেখা দরকার, সেখানেও পুরুষতান্ত্রিকতার ছোয়া পাবেন, কেননা সমস্ততেই দেখবেন রাধা একটা চুড়ান্ত অসহায় নারী। সেখানে বিরহ ও কষ্টই মূল- অনুযোগ কখনোই অভিযোগ পর্যন্ত হতে পারে না। আমরা এমন প্রেমের মাহাত্ম্যে নমো নমো করি, কিন্তু এটা কি সম মর্যাদার প্রেম? আজও রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, রাধার বিরহ-কষ্ট আমাদের সাহিত্যের জন্য অমূল্য সম্পদ। সেগুলোর সুরই বা কেমন? "কালারে কইয়ো গিয়া- সে যেন আমার ঘরে আসে না; সে যে কার কুঞ্জে কয় বেলা ..."- কালা মানে কৃষ্ণ কার ঘরে কয় বেলা কাটাচ্ছে সেটা রাধার মনে কেবল কষ্টের অনুভূতি জাগায়- কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি বিদ্রোহী করে না বা প্রেম এতটুকু কমাতে পারে না।
কৃষ্ণের টানে যখন পূর্বতন স্বামিকে ছেড়ে অভিসারে বের হতো- সেটা অনেক কঠিন কাজই ছিল রাধার জন্য। তার জন্য কম নিন্দাও তার কপালে জোটেনি! তাই তো গান "নিন্দার কাটা যদই না বিধিল গায়, তাতে প্রেমের কি সাধ আছে বলো...."। কিন্তু কৃষ্ণকে কি কখনো সেরকম নিন্দার মুখোমুখি হতে হয়েছে?
বেহুলার কথা বলেছেন। বেহুলার এত জয়জয়কার কিসের জন্য? এই মিথের মাধ্যমে সমস্ত নারীকূল ভাবলো- চোখের পানি ফেলে অনুভব করলো- আহা কি অসীম পতি প্রেম! পুরুরষেরাও দেখলো- এরকম পত্নীই তাদের চাই! নিঃসীম নিষ্ঠার সাথে পতি প্রেম ছাড়া বেহুলার কোন বিষয়টা আপনার চোখে পড়েছে? বেহুলার জীবনের আর কোন কথা জানি? একটা নারী কি কেবল এতটুকুই? এই তার জীবন? পতিই কি তার একমাত্র ও শেষ কথা? তার পরেও দেখেন দেবতাদের কেমন ব্যবহার? ইন্দ্রসভায় পুরুষ দেবতারা বেহুলাকে ভোগ না করে স্বামিকে ছাড়েনি! বলতে পারেন- বেহুলার একগামিতা রক্ষা হলো না (এখানকার বিভিন্ন প্রাচীণ পুরাণে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি- নারীর একগামিতা মূখ্য ছিল না। তবে বুঝতে হবে, পুরুষের বহুগামিতা আর নারীর বহুগামিতার মধ্যে একটা বেসিক পার্থক্যও কিন্তু ছিল। পুরুষেরটা ছিল তার নিজস্ব মনোরঞ্জনের লক্ষে- আর নারীরটাও পুরুষের প্রয়োজনে, পুরুরষের তাগিদে)- কিন্তু সেটাতে বাধ্য ছিল বা নিজের মনোরঞ্জন অপেক্ষা দেবকূলের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে স্বামিকে পাওয়াই প্রধান ছিল। এখানেও লক্ষণীয় নারীর প্রতি পুরুষের আচরণ কিরূপ?
একই ২০ নং কমেন্টে শুভ্র বলেছে: মহানবি বিষয়ে এখনকার আলাপের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, শিবকে নিয়েও এমন অনেক আলাপ করা যায়, বুদ্ধ, নজরুল, জসিম উদ্দিন এরাও এই সমস্ত আলাপের বাইরে না। এর সাথে এখনকার নারী মুক্তি সম্পৃক্ত না। এখনকার নারী বাজারের হাতে জিম্মি। আগে সেখান থেকে মুক্ত হতে হবে
======>>>
নজরুল, জসিম উদ্দীনকে কোন জায়গা থেকে শুভ্র এনেছে- সেটা পরিষ্কার নয়। কৃষ্ণ-মুহম্মদ সা কে আনা কারণ ধর্মকে বুঝা দরকার। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য বিস্তারে যেসমস্ত সংস্কার বা টাবু মানুষের মনে গেথে আছে- সেগুলোর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী মাধ্যমে হচ্ছে ধর্ম। ফলে- বাজারকে ব্যবচ্ছেদ করার সাথে সাথে ধর্মকেও ব্যবচ্ছেদ করতে হবে।
আর, সেসময়ের আলোচনাটার মূল টোন কি ধরতে পারেননি? নাকি, মুহম্মদ সা এর নাম নেয়াতেই মাথা গরম হয়েছে! তখন বলতে চেয়েছিলাম- এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সতীত্বের ধারণা পুরুরষদের তৈরি, সেটা নারীদের উপর চাপিয়ে দেয়া, এই সমাজ নারীর সেক্সকে নিয়ে নানা বিধিনিষেধ নিয়ম কানুন চাপিয়ে দিয়েছে সতীত্বের ধারণার মধ্য দিয়ে- এবং সেটা একতরফাভাবে কেবল নারীর জন্যই প্রযোজ্য। এটা বুঝানোর জন্যই জানিয়েছি- সীতা বা আয়েশাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়। সীতা বা আয়েশা দুজনই ধর্মীয় দিক দিয়ে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ নারী। তাদেরই এই অবস্থা! অথচ বিপরীতক্রমে ধর্মীয় পুরুষদের দিকে তাকিয়ে দেখুন- পুরুষদের পলিগামি ইজিলি এলাউড ও একসেপটেড। এই পার্থক্যটার কথা বলেছি। বাচ্চা আয়েশাকে এমনকি মুহম্মদ সা এর মৃত্যুর পরেও বিয়ের অনুমতি দেয়া হয় না- অথচ মুহম্মদ সা একের পরে এক বিয়ে ও উপপত্নী গ্রহণ করতে পারে। জিহাদে গেলে- সাহাবীরা মুহম্মদ সা এর কাছে একা থাকার কষ্ট থেকে পরিত্রাণ চাইলে তার ব্যবস্থা হয়- কিন্তু ঐ সাহাবীদের স্ত্রীরাও তো বাড়িতে একা থাকে- তাদেরও কামহীন দীর্ঘদিন কাটাতে হয়- সেটার ব্যবস্থা কি আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারি? গনীমতের মাল হিসাবে- প্রাপ্ত নারীদের ভোগ করার (বিয়ে না করেও তা জায়েজ- বিয়ে করা বা না করা ইচ্ছামাফিক) বিধান আছে, প্রাপ্ত দাসদের কি জয়ী দলের মেয়েরা ভোগ করতে পারতো? এ পার্থক্যগুলো যতই আড়াল করতে চান না কেন- অস্বীকার করতে পারবেন?
"এখনকার নারীরা বাজারের হাতে জিম্মি- তাকে আগে বাজার থেকে মুক্ত হতে হবে, তারপরে অন্য কিছু"- এই যদি আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী হয়, তবে বলতেই হচ্ছে আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীটি কেবল অগঠিত নয়, অসম্পূর্ণ ও আংশিক। আজকের বাজারের কাছে জিম্মি কেবল নারীরা নয়, পুরুষরাও- সমস্ত মানব জগতই আজ জিম্মি- মানুষের মানবিকতা-মূল্যবোধ, এই সভ্যতা সবই। সেখান থেকে মুক্ত হওয়ার প্রয়োজন অবশ্যই আছে- কিন্তু সাথে এটাও বুঝতে হবে যে, নারীরা পুরুষদের হাতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রুচি-সংস্কৃতি-সংস্কার-নানারকম টাবু সবকিছুর হাতেও জিম্মি। সবকিছু বাদ দিয়ে বাজারকে কেবল দোষারোপ করলে- মূল দ্বান্দিকতাই আপনি ধরতে পারবেন না।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
নারীকে শরীর ছাড়া দেখবার জো নেই। বাজার সেই মানসিকতাকে প্রবলভাবেই প্রতিষ্ঠত করেছে। নারী মানেই শরীর।
======>>>>
নারীকে শরীর ছাড়া দেখবার জো নাই মানে? এমনটাই কি আপনি মনে করেন , নাকি বলতে চাচ্ছেন বাজার নারীকে এভাবে উপস্থাপন করছে?
আপনার উপরের তিনটি লাইন পড়ে যেটা বুঝতে পারছি- "আসলেই নারীকে শরীর ছাড়া দেখার জো নেই। এই মানসিকতায় সমস্যা নেই- কিন্তু বাজার এই মানসিকতাকে এমন প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে- আজ নারী মানেই শরীর।" আপনি কি এটাই বুঝাতে চাচ্ছেন? এমনটাই যদি আপনার অবস্থান হয়ে থাকে- তাহলে আপত্তি জানাই। নারীকে শরীর ছাড়া দেখার জো নেই -এটাতে আমার তীব্র আপত্তি। কেবলমাত্র যার সাথে আমার সেক্সের সম্পর্ক- কেউ পলিগামি হয়ে থাকলে- যাদের যাদের সাথে তার সেক্সের সম্পর্ক- কেবল তার বা তাদের ক্ষেত্রে শরীরটা অপারেটিং হতে পারে। তাও সবসময় নয়- খুব অল্প কিছু ও সুনির্দিষ্ট কিছু সময়ে বা মুহুর্তেই। বাকি সময়ে এবং অন্য সকল নারীদের ক্ষেত্রে শরীর কিভাবে আসতে পারে? এর বাইরে শুধু সন্তান উৎপাদনের কথা এবং শুরুর কিছুদিন সন্তান লালন পালনকে (মানে ব্রেস্ট ফিডিং এর সময়টুকু) ধরতে পারেন। শারীরিক বৈশিষ্টের যে পার্থক্য আছে নারী ও পুরুষের মাঝে সেগুলো জগতের আর কোন কাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ? আপনার আমার সাথে সারাজীবন ধরে যত নারীকে দেখা বা নারীর সাথে যত ইন্টারেকশন তার মধ্যে কতখানি অংশ ঐ দু একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যুক্ত? তাহলে বাকি আর সবাইয়ের আর সব কাজে শরীর কতখানি মুখ্য? অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ - এই শরীর কেন্দ্রিক পার্থক্যের কথা বলে- সন্তান উৎপাদন ও লালন পালনের কথা বলে ও মহিমান্বিত করে সমস্ত নারীকে সবসময়ের জন্য শরীর দিয়ে বিচার করতে শেখায়। এবং এটা বাজার আসার আগ থেকেই শেখায়। সে কারণেই আপনার মূল লাইনের সাথে দ্বিমত করছি।
নারীত্ব নারীর বৈশিষ্ট্য। আমি সমার্থক হিসেবে সতীত্ব বলেছি। সতীত্ব বলার প্রয়োজন নাই-নারীত্বই বলি।
========>>>>
নারীর বৈশিষ্ট্য মানে আসলে কি? আমি বলছি- নারী ও পুরুষের মধ্যকার কিছু পার্থক্য কেবল প্রকৃতিগত কিছু পার্থক্য, যেগুলো এড়ানো সম্ভব নয় সেগুলোই - অর্থাৎ তাদের ক্রোমজোমগত পার্থক্য, তাদের বহিরাঙ্গের কিছু পার্থক্য- তাদের হরমোনগত পার্থক্য- এসবই। এসব বৈশিষ্ট্যকেই যদি কেবল যথাক্রমে পুরুষের ও নারীর বৈশিষ্ট তথা পুরুষত্ব ও নারীত্ব বলতে চান- আপত্তি নেই। কিন্তু এই সোসাইটিতে তো নারীত্ব ও পুরুষত্ব অভিধাদুটো আরো বিশেষ অর্থ ধারণ করে। আপনি যে সামাজিক-মানসিক-মনন-রুচি-সংস্কৃতি মিলে নারীর কথা বলেছেন, বলা যায় সেগুলোকে মিলিয়েই নারীত্বের ধারণা। কিন্তু নারীর সেই সামাজিক অবস্থানটি কি? নারীর মানসিকতা কি? মনন কি? রুচি কি? সংস্কৃতিটাই বা কি? সবকিছুর মধ্যেই পাবেন- পুরুষতান্ত্রিকতার ছাপ, নারী দুর্বল, নারী অবলা, নারী অসহায়, নারী স্বয়ংসম্পূর্ণা নয়, নারী নরম- এসমস্তই নারীত্ব বা নারীর বৈশিষ্ট হিসাবে সমাজে প্রচলিত। নারী ও পুরুষের কাজের বিভাজন অর্থাৎ নারীর কাজ ঘরের ভিতরে, সন্তান উৎপাদন ও সন্তান লালন-পালন, ঘরকান্না- রান্না বান্না, পতির সেবা করা, শক্ত পোক্ত কাজ নারীর জন্য নয়, বাইরের কাজ নারীর নয়..... এগুলোও নারীত্বের নাম দিয়েই সমাজে প্রচলিত। নারী সুন্দর- (আর পুরুষ কিন্তু অসুন্দর এমনটা নয়- পুরুষ সুন্দর অসুন্দর এটা কোন ধর্তব্যই নয়- পুরুষের সৌন্দর্য গণনাতেই আসবে না) তাই তো পুরুষ তাকে মাথায় তুলে রাখে- আর পুরুষের মন পেতে তাই নারীকে আরো সুন্দর হওয়ার চেস্টা করতে হয়- সাজগোজ করতে হয়- সৌন্দর্য নিয়ে নারীকে অনেক মাথা ও সময় ব্যয় করতে হয়। এসবও নারীত্ব। এগুলো আসলে কোনটাই প্রাকৃতিক বা প্রজাতিগত ব্যাপার স্যাপার নয়। সবই এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ফসল- আজ নারীর মনন-রুচি-সংস্কৃতিতেও তাই পুরুষতান্ত্রিকতার ছোয়া পাবেন।
আর, সতীত্ব হচ্ছে আরো র বা ক্রুড ফর্মে নারীকে পুরুষের আয়ত্বে রাখার ব্যবস্থা। এই ধারণাটির মাধ্যমে পুরুষ নারীর শরীর তথা সেক্সের উপরে একচ্ছত্র অধিকার লাভ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে এমন কোন টার্মোলজি আপনি বাংলা- ইংরেজী ডিকশনারিতে পাবেন (অন্য কেউ "সতত্ব" টার্ম উল্লেখ করেছে)। সতীত্ব ধারণাটির বর্জন চাওয়া মানে এই নয় যে- নারীরা সেক্স করে বেড়াচ্ছে- এটা মানে হলো- নারী সেক্স করবে কি না সেটা তার নিজস্ব বিষয়- সেটা দিয়ে সমাজে তাকে চিহ্নিত বা জবাবদিহি করতে হবে না।
নারী শরীরের যে সমস্ত অংশ আজ বাজারে উন্মুক্ত তার অধিকার নারীর। একান্তই ব্যাক্তি নারীর, কোন সমাজ বা বিধান তাকে চাপিয়ে বা দমিয়ে রাখাটা অমানবিক।
======>>>>>>
মোদ্দা কথা, বাজার নারীকে পণ্য করে। এবং সেটা কখনো নারীকে অনাবৃত করে করে- আবার দরকার হলে নারীকে আবৃত রেখে বা পুরো বোরখায় ঢেকেও করে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নারীদের সুন্দরী প্রতিযোগিতার কথা একটু স্মরণ করেন। সেখানেও কর্পোরেটরাই স্পন্সর হয়েছে, কারণ তারা জানে ঐ মধ্যপ্রাচ্যেও তাদের বিশাল বাজার আছে। হাতিয়ার তো ঐ নারীরাই। সুতরাং বাজারকে বুঝতে হবে আরো অন্য প্রেমিজ থেকে- রোজার মাসে যখন টিভিতে মাগরিগের আযান দেখার বা শোনার আগ্রহ মানুষের মধ্যে বেড়ে যায়- তখন সেই আযানের স্পন্সর হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতাও বেড়ে যায়। তার ফল স্বরূপ পাবেন- মার্কেন্টাইল ব্যংক মাগরিবের আযান বা সিটিসেল মাগরিবের আযান বা আরেক চ্যানেলে রুহ আফযা মাগরিবের আযান, রোযার মাসে মাগরিবের আযানের আগের সময়টুকুতে এ্যাডের রেটও যথারীতি বাড়িয়ে দেয় ইলেকট্রনিক মিডিয়া চ্যানেল গুলো। এই বৃত্তান্ত দেয়ার কারণ বাজারের ধর্মটিকে বুঝানো। এর কোন রুচি-আদর্শ-সংস্কৃতির বালাই নাই, একটাই তার লক্ষ : মুনাফা। যে বাজার একটু আগে চরম নারী বিদ্বেষী, মুনাফার খাতিরে একই বাজার আবার দেখবেন দারুন নারীবাদী। এর ভোল পাল্টাতে এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। সেকারণেই দেখবেন আজ সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীণ ফোনের বৃক্ষরোপনের ডাক সম্বলিত বিরাট বিলবোর্ড, দেখবেন এইচএচবিসি ব্যংক আর ডাচ বাংলা ব্যংক বাংলার সংস্কৃতির বড় ধারক বাহক হয়ে যায়, এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রথম আলো ব্যাপক উদ্যোগী, আর ব্রাক ও গ্রামীণ ব্যংক নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশী সোচ্চার!!!! আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে খুব পজিটিভ মনে হয়, অর্থাৎ বাজার কেবল নারীকে ন্যাংটোই করে না- তাকে দরকারে আবৃতও করে - তার পক্ষে সুন্দর সুন্দর কথাও কয়। বাজারকে ধরতে হবে তার ক্যারেক্টার দিয়ে- মানে এইসব সুন্দর সুন্দর কথা সে নারীর স্বার্থে বলে না- বলে নিজের স্বার্থে। এসিড সন্ত্রাস নিয়ে প্রথম আলো গ্রুপ খুব কমই ভাবিত, আসলে সে নিজের একটা ইমেজ তৈরি করতে চায়- চায় এর মাধ্যমে একটা ব্র্যান্ড হিসাবে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌছানো, একইভাবে নারীর ক্ষমতায়নের নামে ব্রাক বা গ্রামীণ ব্যাংক নারীর সস্তা শ্রমকে শোষণ করতে- তাদের সুদের ব্যবসা আরো জাকিয়ে বসতে।
যাহোক, প্রসঙ্গে ফিরি। নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য বুঝতে কেবল বাজার দিয়ে বুঝার চেস্টাটা যথেস্ট নয়, কারণ এটির একটি নিজস্ব বা স্বতন্ত্র চেহোরা আছে। যে গ্রামে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলটিতে বাজার নারীকে অনাবৃত করতে পারেনি, সেখানেও নারীর উপর পুরুষের অবদমন আছে। পরিবারের ছেলেটিকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আপত্তি নেই কিন্তু মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর কল্পনা করাটাই অসম্ভব এমন গ্রাম বা পরিবার কম নেই। কখনো কখনো দেখা যায়- সেখানে বাজার গিয়ে উল্টো মেয়েদের পড়াশুনার ভার নিচ্ছে- কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতা মেয়েদের স্কুলে যেতে দিচ্ছে না। কি বলবেন?
অর্থাৎ কেউ যদি বোরখাকে তার পোশাক মনে করে তবে বোরখাই তার পোশাক। আবার বাজার যে চাহিদা তৈরি করে সেই সংস্কৃতি খোলামেলা পোশাকের যে আচার গড়ে তোলে তা যদি সামাজিক না হয় তবে অবশ্যই তা বর্জনীয়। পোশাক কেবলমাত্র বাহ্যিক বিষয় নয় মোটেই, পোশাক মানসিকতার প্রকাশ এবং মানসিকতা গঠন করে থাকে।
=======>>>>>>
কেউ যদি বলে যা বললেন- সেটার উল্টোটাও তো বলতে পারতেন! মানে কেউ যদি মনে করে আপনার ভাষায় খোলামেলা পোষাকটাই তার পোষাক তবে?
যেটা বলছি- আবারো বলছি এগুলো বুঝতে গেলে আগে বাজারের চিন্তাকে মাথা থেকে দূর করতে হবে। অঞ্চলভেদে নারী ও পুরুষের পোষাকের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সেটা বুঝার জন্য বাজারকে টানার দরকার নেই। পোষাকের বিষয়টা যখন এনেছেন- সেহেতু সেটা নিয়ে দুটো কথা বলছি কেননা- পোষাকের মধ্যেও মেল ডমিনেন্স স্পষ্ট। খুব খোলা চোখে দেখে বলুন- পুরুষের পোষাকের তুলনায় এখানে নারীর পোষাক বাহুল্য যুক্ত কিনা? নারীর পোষাকের তুলনায় পুরুষের পোষাক অধিক কাজবান্ধব কি না? নারীর সাজ সজ্জা নিয়ে এখানে বললাম না।
পোষাক আসলে মানসিকতার প্রকাশ নয়- সংস্কৃতির প্রকাশ। এখানকার কালচারে নারীরা শাড়ি পরে, সালোয়ার কামিজ পরে, ওড়না পরে- অন্য কোথাও হলে সে অন্য পোষাক পরতো। এই সংস্কৃতি গড়ে ওঠারও ইতিহাস থাকে। অঞ্চলের আবহাওয়া, মানুষের কাজ-কাজের ধরণ, পারষ্পরিক সম্পর্ক এসমস্ত কিছুর মধ্য দিয়েই পোষাকের সংস্কৃতিটাও গড়ে উঠেছে। সমাজটি নারীকে কোন দৃষ্টিতে দেখে সে অনুযায়ী নারীর পোষাকেও তার ছাপ থাকে। সেটাই হয়েছে।
ফলে বোরখা খুলে ফেলবার বা তাকে হেয় করবার বিষয় নয়, বোরখা মানসিকতার বিপরীত বোধ তৈরির সংগ্রামই করণীয়। ততক্ষণ পর্যন্ত অসংখ্য নারীর পোষাক ওই বোরখা-এটা বলে বোঝানোর প্রয়োজন নাই।
=======>>>>>>>
এটা একটা টেকনিক্যল দিক। প্রথমে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার: বোরখা সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গিটি কেমন। যদি সিদ্ধান্ত হয়: হ্যা এটা নারীর প্রতি অন্যায়- চাপিয়ে দেয়া একটা কিম্ভুত পোষাক- তারপরে সিদ্ধান্ত যেসব নারী এটা নিজ থেকে পরিধান করে- তাদের কিভাবে বোরখা ছাড়া করা যায়। সেরকম ক্ষেত্রে আপনার উপরের প্রস্তাব খুবই উত্তম। কিন্তু টেকনিক্যল বিষয় কখনো সব জায়গার জন্য একই রকম স্বতসিদ্ধের মত হয় না। সুযোগ থাকলে অন্য পদ্ধতিতেও আগানো যায়। কামাল আতাতুর্ক বুঝানোর সাথে আইনও তৈরি করেছিলেন- কারণ তিনি জানতেন, কোন ধারণা বদ্ধমূল হওয়ার পরে সেটা বুঝিয়ে দূর করা খুব কঠিন। ফলে- নতুন প্রজন্ম যারা তখনও পর্যন্ত একান্তই শিশু- কোন ধারণা তাদের মধ্যে বদ্ধমূল হওয়ার আগে- আইনের বিধিনিষেধটাই সেখানে খুব ফ্রুটফুল ছিল।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
রাধ কৃষ্ণের বিষয়ে আপনার মতামতটি ভালো কিন্তু এখানে একটা দেখবার দৃষ্টিভঙ্গীর পার্থক্য আছে। কৃষ্ণ এমনি এমনি রাধাকে পায়নি। তাকে অনেক সাধ্য সাধনা করতে হয়েছে। রাধার জন্যে কৃষ্ণের উপঢৌকনের সে কি বহর। সব দেখেই না রাধা প্রেমে পড়লো। হ্যাঁ রাধার প্রেমে নারী প্রেমিকা, কেবলই প্রেমিকা, সর্বংসহা। কিন্তু রাধা কি ভিতু-তা মনে হয় না। যে রাধা সাপের ভয়ে প্রায় জ্ঞান হারাতো, সেই সাপ অভিসারের পথে তার জন্যে আর বিষ নিয়ে বসে থাকে না। সমাজ-সংসার ছেড়ে সেই নারী প্রবল এক প্রেমে দুকুল ভরিয়ে চলেছে। সেই নারী প্রেমিকা। সেই নারী সমাজের সব নারী নয়। যেমন সীতা। সেও সমাজের সব নারী নয়। উচ্চ বর্গ যে ইতিহাস তৈরি করেছে তাতে নিম্নবর্গ নিপীড়িত। যেমন শুদ্র যেমন সীতা। সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা পার করে স্বসম্মানে স্বর্গে নিয়ে গেলেও রামায়নে রাম এক কোপে শুদ্রের মাথা ফেলে দিয়েছে ব্রাহ্মণ হতে চাওয়ার অপরাধে। ফলে লড়াইটা নিম্নবর্গ আর উচ্চ বর্গের-তার অংশ হিসেবে নারী। তাদের রচিত চরিত্রের বাইরেও সমাজে নারী ছিল। সীতা বেহুলাই সেই সময়কার বাংলার একমাত্র নারী নন। কিন্তু তাদের ভেতর নারীত্ব ছিল আর ছিল পুরষের প্রতি আনুগত্য। কিন্তু সেই নারী লড়াই করবে কেন এবং কার বিরুদ্ধে। এই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ভূখন্ড জল এবং ভুমি সম্ভূত। অর্থাৎ এই দুয়ের ওপর নির্ভর করেই আমাদের সমাজের মানুষের জীবিকা এবং সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। তাদের নিজস্ব ধর্ম এবং আচার পদ্ধতি ছিল। সেই মানুষগুলো কখনো বৌদ্ধ হয়েছে কনো হয়েছে হিন্দু আর সবশেষে মুসলমান। কিন্তু এই মানুষগুলোর ধর্ম মোটেও শেকড় ছাড়া নয়। কি তাদের শেকড়, এটা বুঝতে হবে, এটা না বুঝলে নারীকেও বুঝতে ভুল হবে। আমার একবার কুমার পাড়ায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা হল। এর বাইরেও নানা কারণে এই মানুষগুলোর সামাজিক জীবন সম্পর্কে ধারণা ছিল। তো সেই কুমারদের কাজের ভাগ ছিল। পুরুষরা সাধারণত মাটি আনা, কাঁই তৈরি করা, চুলা তৈরি, আগুনে পাত্র পোড়ানো, রং তৈরি এসব কাজ করে। আর নারীরা প্রাত্র তৈরি থেকে শুরু করে আঁকার কাজ এসব করতো। এই দুইটা কাজের পার্থক্যের কারণ শারীরিক পরিশ্রম। ফলে তাদের নারীরা কখনো দু একবার বাজার বা মেলায় ঘুরে আসার সুযোগ পেলেও বাইরের সাথে তাদের সম্পর্কটা তেমন নাই। যদিও সংবাদের অর্থে তারা প্রায় সব খবরই রাখে। গল্প জমায়। এখন কুমারদের জীবন অনেক কষ্টের। কারখানায় তৈরি পাত্র মাটির পাত্রকে বাজার থেকে উচ্ছেদ করছে। আর নারী আসছে গার্মেন্টসে, ফুটপাথে। এই পরবির্তনটা বুঝতে হবে। এবং নারীকে তার ভুমি আর জলেই চিন্তা করতে হবে।
জেলেদের জীবন যে নারীর, চরে থাকে, নদীময় জীবন। তার কাছে শহর নাই, শিক্ষা নাই, আলো নাই। সেই নারী বোরখাও হয়তো পড়ে, তবে বেড়াতে যাবার পোশাক হিসেবে। কিন্তু ঘরে নদীর বুকে তার আঁচল ওড়ে। বোরখা পড়ার কারণ সেখানে মসজিদও আছে। এসব নিয়ে বলার কিছু নাই। কিন্তু নদীতে হাল বাওয়া নারীর মুক্তি কোথায় ঘটবে। তার প্রগতিশীল চেহারাটা কেমন হবে। সে মেলায় যায় হয়তো, যাত্রা দেখে, গাজির গীত শোনে, তার জীবনে মুক্তি মানে কি। তার কাছে নারীর বাইরে আসা কোন অর্থ বহন করে। শরীরে ক্ষুধা না যৌনতা কোনটার অভাব সে বোধ করে। তার নিপীড়ক যে পুরুষ, তাকে লড়াই করা যাবে কিভাবে।
পরবর্তীতে আরো কিছু বলবো।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
রাধা কৃষ্ণের বিষয়ে আরো কিছু বলি। কৃষ্ণ পুরুষ এটা সত্যি-এবং সে ক্রমশ ভগবান হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণের কয়েক হাজার (সম্ভবত ১৩ হাজার) গোপী ছিল। একজন রাধাকেই আমরা জানি। রাধা কৃষ্ণের প্রেমে দিশেহারা, ঘর সংসার কিছুই আর তাকে বাধা দিতে পারে না। চোখ বেঁধে অন্ধকারে হাঁটার প্র্যাকটিস করে রাধা, রাতের অভিসারে কৃষ্ণকে পাওয়ার প্রচন্ড আকুতি তার। সেই সময়ে নারীরা বাজারে যেত, নির্দিষ্ট একটা জায়গায় গিয়ে সবাই যার যার তৈরি জিনিস বিক্রি করত। স্নান করতে যেত, পূজা দিতে যেত। এমন যাওয়া আসার পথেই কৃষ্ণের সাথে তার দেখা হয়। কৃষ্ণ নানাভাবে রাধাকে প্রলুব্ধ করে। এখানে সমাজের যে চিত্র ফুটে ওঠে-তাতে নারী প্রেমিকা, প্রেমই তার জন্য প্রধাণ, প্রেমই তার চরিত্র। আগেই বলেছি রাধা সমাজের পুরো অংশকে রিপ্রেজেন্ট করেন না। তিনি একটা অংশ মাত্র। কিন্তু রাধাও নারীকে উপস্থাপন করে। তাতে কৃষ্ণের প্রতি তার আনুগত্য আছে-এর কারণও প্রেম। নারী প্রেমিকা। প্রেমবতি, প্রেম অনুভূতি তার প্রচন্ড। প্রেম নারীর দুর্বলতা-এই ভাষ্য কার? পুরুষ না প্রগতির। লড়াইয়ের নারীও আছেন। বেহুলা। মনসা পুজা নিম্নবর্গের পুজা। চাঁদ সওদাগর শিবের উপাসক। মনসার মতো জাতকুলহীন দেবীর পুজা সে করবে না। কিন্তু মনসার আক্রোশ-চাঁদকে মানতেই হবে, পুজা করতেই হবে। সেই মনসাকে পৃথিবীতে অধিষ্ঠিত করেছে কে-বেহুলা। সংগ্রামের সাগরে সে ভাসমান হয়েছে-প্রাণের আশায়। তাতে লক্ষীন্দরের বেঁচে ফেরার আকুতি ছিল, কিন্তু তার ফিরে পাওয়া প্রাণের ভেতরে ছিল মনসার সুপ্ত বাসনা। বেহুলা আকাশ-মর্ত্য জয় করেছে। বাধ্য করেছে চাঁদ সওদাগরকে মনসার পুজা দিতে। এই মনসা নিম্নবর্গের আখ্যান। সাঁওতালরা মনসার পুজা করে। সর্প পৃজার একটি পুরুষ মূর্তিও ছিল-যার নাম ছিল ঘট পুজা। কালে তা হারিয়ে যায়। মনসাই প্রধাণ হয়ে ওঠে। এই মনসাকে আত্মীকরণ করে ব্রাহ্মনরা। একটা উদ্ধৃতি দেই-
শ্রী আশুতোষ ভট্রাচার্য তার মনসামঙ্গল নামক সংকলন গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- এখন দেখিতে হয় পশ্চিম-ভারতের 'মনসা' নামটি কখন হইতে জাঙ্গুলী দেবীর পরিবর্তে ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হয়। পূর্বেই বলিয়াছি জাঙ্গুলির সঙ্গে বৌদ্ধ সমাজের সম্পর্ক ছিল, তিনি তান্ত্রিক বৌদ্ধ দেবী ছিলেন। পাল রাজত্বের অবসানে সেন রাজত্বের যখন প্রতিষ্ঠা হইল, তখন এদেশে বৌদ্ধ ধর্মের বিলোপ ও তাহার স্থানে হিন্দুধর্মের পুনরাভ্যুত্থান হইয়াছিল, সেই সময়ে যে সকল বৌদ্ধ দেবদেবীকে নুতন নাম দিয়া হিন্দুসমাজের মধ্যে গ্রহণ করা হইয়াছিল, এই সর্পদেবী তাহাদের অন্যতম। বৌদ্ধ সংস্রবের জন্য তাঁহার জাঙ্গুলী নাম পরিত্যাক্ত হয় এবং তাহার পরিবর্তে মনসা নামকরণ হয়। বাংলার পূর্বোক্ত অর্বাচীন পুরাণগুলি ইহার কিছুকাল মধ্যেই রচিত হয় এবং তাহার ম্যধ দিয়া মনসাকে শিবের কন্যারুপে দাবী করিয়া হিন্দু-সমাজের মধ্যে গ্রহণ করা হয়।
ফলে লড়াইটা সবসময়ই ছিল-বর্গের, শ্রেণীর। উচ্চবিত্ত আমাদের সাহিত্য পূরাণ সবকিছুকেই দখল করেছে। এর খোলস থেকে নিজেদেরটা, আসলটা বের করে আনতে হবে।
আবারো ফিরে আসবো সময় করে।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
শুভ্র,
আপনার উপরের কমেন্ট দুটো খুবই চমৎকার- নিশ্চয়ই পাঠকের জ্ঞান বাড়বে- কিন্তু আমি কয়েকবার পড়েও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল, স্বতন্ত্র পোস্ট হিসাবে উপরের কমেন্ট দুটো খুবই দারুন দুটো পোস্ট হয়ে যেত - কিন্তু এখানকার কোন্ আলোচনার প্রেক্ষাপটে কোন্ উদ্দেশ্যে আনলেন সেটাই বুঝতে পারছি না।
আপনার সাথে আলোচনা করতে গিয়ে দেখছি- এমনিতেই আলোচনা অনেক ছড়িয়ে যাচ্ছে- নিজের কমেন্ট লেখার সময় বুঝছিলাম- ক্ষণে ক্ষণেই প্রসঙ্গান্তরে যেতে হচ্ছিল- বারবার নিজের উপর রাশ টানতে হচ্ছিল- কিন্তু আপনার তো দেখি আলোচনা ছড়াতেই বেশী আগ্রহ!! কি আর করা...
আমি কৃষ্ণ-সীতা-মুহম্মদ সা-আয়েশা এনাদের নাম উল্লেখ করেছিলাম- বিশেষ উদ্দেশ্যে এবং একটা নির্দিষ্ট প্রেমিজ থেকে- সেগুলো থেকে নারী-পুরুষ-আধিপত্য এসবকেই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম- কিন্তু ধরেন মুহম্মদ সা এর নাম শুনেই কেউ যদি এসে বলা শুরু করে "হ্যা মুহম্মদ সা,? ও হ্যা তিনি তো বিশ্বনবী ছিলেন। তার জন্ম ৫৭০ খৃস্টাব্দে- তার মাতার না আমিনা- পিতার নাম..ইত্যাদি ইত্যাদি"- তবে কেমন অনুভূতি হওয়া উচিৎ?
আমাদের আলোচনার বিষয় আশা করি- জল ও মাটি নিয়ে নয়- বা সংস্কৃতি কিভাবে গড়ে উঠে সেটা নিয়েও নয়। রাধা যে দারুন প্রেমিকা ছিলেন সেটা নিয়েও মতবিরোধ নেই। তাহলে মতবিরোধের জায়গাটা ধরে সেখানে আলো ফেলাই কি উচিৎ নয়?
মনসামঙ্গল বা মনসাকাহিনীতে অবশ্যই একটা লড়াইয়ের দিক আছে, নিম্নবর্গের দেবী মনসাকে কিভাবে জাতকূলেরা গ্রহণ করে নিল তার একটা যোগসূত্রও পাওয়া যায়- কিন্তু লড়াইটা সবসময়ই ছিল বর্গের, শ্রেণীর- সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কি বিরোধ বা বিতর্কটা হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে - তবে সে প্রসঙ্গের কেনই বা অবতারণা? বরং, বলুন- এই নিম্নবর্গের আর উচ্চবর্গের এমন লড়াইয়ের কাহিনীর মধ্যেও যে নারীর অবস্থান- পুরুষতান্ত্রিকতার জয়গান- সেটাকে কি অস্বীকার করতে পারছেন? বেহুলার একটিভিটিজ দিয়ে বলুন তো- সে কি করেছে? আর লড়াইটা করলে কিন্তু করেছে মনসা নিজেই।- এসবকে খণ্ডান। প্রতি কমেন্টেই অসংখ্য প্রশ্ন করেছি সেগুলোর জবাব দিন- যেসব জায়গায় আপনার দ্বিমত করে যুক্তি করেছি সেগুলোর অন্তসারশূন্যতা বা অযৌক্তিকতা ধরে দিন। সেগুলো না করে কেন এত ডালপালা ছড়ানো?
কিছু মনে করবেন না- আপনার কমেন্ট পড়ে যেটা মনে হলো- সেটাই বলছি। বিতর্কসভায় প্রসঙ্গে থাকতে পারা বিশেষ একটা গুণ হিসাবে বিবেচিত। যেহেতু এটা বিতর্কসভা নয়- ফলে আপনি ইচ্ছামত আলোচনা করতেই পারেন, তাতে অবশ্য ক্ষতি বৃদ্ধি হচ্ছে না- আমিও তাল মিলিয়ে মেলা কথা বলে যেতে পারছি। আর এভাবে হয়তো বলেই যাবো- যতক্ষণ ধৈর্য থাকে ....
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন:
আমি প্রতিদিন এই লোকটার ব্লগে চুপিচুপি আইসা ঘুরে যাই।আজব! পুরা পাগল.......!
এত জ্ঞান মানুষ পায় কই? দিন রাত কি খালি বই পড়ে নাকি?
ওই বুড়া, তুমি এত জানো ক্যামনে?
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
@লেখক-আমি প্রসঙ্গেই আছি। তবে যেহেতু সময় পাচ্ছি না তাই যখন যেটুকু পারছি মন্তব্য আকারে তুলে দিচ্ছি। একটানা মন্তব্য করবার সময় পেলে হয়তো সবগুলো বিষয় মিলিয়ে মিলিয়ে আপনার সাথে আমার বিরোধের জায়গাটা পরিষ্কার করতে পারতাম। তবে আমি আপনার উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে অবশ্যই আমার মতামত রেখে যাবো।
লেখক বলেছেন:
আপনার নীচের কমেন্টগুলো দেখে ভালো লাগলো- ডিবেটের জায়গা ধরে ধরে যতটুকুই কথা বলার চেস্টা করেছেন- তার জন্য ধন্যবাদ।
সময়ের সংকট কোনো ব্যাপার না- (সেটা আমারো আছে), কেননা এই পোস্টে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চালাতে পারি- তাতে কোন সমস্যা দেখছি না।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
মনসামঙ্গল বা মনসাকাহিনীতে অবশ্যই একটা লড়াইয়ের দিক আছে, নিম্নবর্গের দেবী মনসাকে কিভাবে জাতকূলেরা গ্রহণ করে নিল তার একটা যোগসূত্রও পাওয়া যায়- কিন্তু লড়াইটা সবসময়ই ছিল বর্গের, শ্রেণীর- সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কি বিরোধ বা বিতর্কটা হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে - তবে সে প্রসঙ্গের কেনই বা অবতারণা? বরং, বলুন- এই নিম্নবর্গের আর উচ্চবর্গের এমন লড়াইয়ের কাহিনীর মধ্যেও যে নারীর অবস্থান- পুরুষতান্ত্রিকতার জয়গান- সেটাকে কি অস্বীকার করতে পারছেন? বেহুলার একটিভিটিজ দিয়ে বলুন তো- সে কি করেছে? আর লড়াইটা করলে কিন্তু করেছে মনসা নিজেই।- এসবকে খণ্ডান।লড়াইটা বর্গের এজন্যেই বলছি আপনি যে এই লড়াইয়ের ভেতরে নারীর লাঞ্ছনার চিত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন তা গৌণ। বেহুলা কি আর করতে পারতো। আপনি বেহুলাকে যে আদর্শ নারী চরিত্রে দাঁড় করাতে চান তার স্বরুপ কি। আমি জানি না। মনসাও দেবী, তর জন্যে লড়াই করছে বেহুলা-স্বামীর জীবন ফিরিয়ে আনবার জন্য। এই কাহীনি অনেকদূর থেকে এসেছে স্থানীয় ঘটনাসমূহের সাথে মিশেছে-বেহুলার ঘটনাটি স্থানীয়। মনসার ঘটনা বা বেহুলার ঘটনা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা লোকজ কাহীনি। পুরো মনসার ঘটনাই আমাদের দেশের নয়। বিহার বা এই সমস্ত অঞ্চল থেকেও যারা আমাদের দেশের মাঝখান দিয়ে নানা কারণে যাতায়াত করতেন তাদের মুখ নিসৃত কাহীনি সংযোজিত হয়ে গড়ে উঠেছে বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী-মনসা মঙ্গল। এখন সেই কাহীনিতে বেহুলার পতিব্রতী মনকে যদি আপনি আবহমান বাংলার নারী নিপীড়নের সাথে মিলিয়ে ফেলেন তাইলে তা হবে ভুল। বেহুলা লড়াই করেছেন। কবি তা-ই স্বীকার করে গেছেন। এখানে যদি নারী থাকেন তাহলে আছেন-লখিন্দরের মা। সে নিপীড়িত-আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজের নারী। সে ঘরে বন্দী প্রায়-কারণ চাঁদ সওদাগর পুরুষ-শীবও পুরুষ। সওদাগর শীবের পূজা করে, ব্যবসা করে অঢেল টাকা। শুদ্র স্পর্শ করে না। তার রিরুদ্ধে লড়েছে বেহুলা-তা যে ফর্মেই হোক না কেন। ফলে আমাদের নারীরা লড়াকু এটা নতুন কিছু না। লড়াই আমাদের নারীদের ভেতরে আছে। সেই জলে ভাসা বেহুলা আজ বাংলায় নাই। তাকে খুঁজে আনতে হবে। নারী মুক্তির সংগ্রামে বেহুলা প্রয়োজনীয়।
আমাদের প্রাচীন সমাজে নারী ওই অর্থে নিপীড়িত বা নির্যাতিত ছিল না। কালে কালে নানা কু আচার-ধর্ম এবং বিশেষত শাসকরা এই সাথে জনগণ এবং নারীদের অবদমিত করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাজার নারীকে তার অপমানের প্রান্ত সীমায় নিয়ে এসেছে। আপনি বলছিলেন আমি কথা বাড়াই। কিন্তু কথা বলার প্রয়োজন আছে। সতীদাহ প্রথা বিলোপের আন্দোলন বিদ্যাসাগর যে জন্যেই করেন না কেন তা ইংরেজের পক্ষে গেছে। কারণ তাদের হাত ধরেই আমরা সভ্য হয়েছি এটা প্রতিষ্ঠিত হল। এতে কি নারীর মুক্তি ঘটলো। অথচ সতীদাহ আমাদের দেশের সবজায়গায় ছিল না। যে সমস্ত স্থানে ছিল সেখানে নারীদের নিজস্ব প্রতিরোধ ছিল। প্রয়োজন ছিল সেই সমস্ত প্রতিরোধকে উস্কে দিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এক ধরণের নারী জাগরণ তৈরি করা যার উদ্দশ্যে হবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। তা হয়নি-হয়নি বলেই নিপীড়িত নারীর ক্ষতের ঘা-ই শুকিয়েছে কেবল আরো অনেক ক্ষত তৈরি করবার জন্য।
ফলে নারী মুক্তির বিষয় নিয়ে আমি এতো তর্ক করছি। আবারো নতুন করে উপনিবেশের পথে নারী মুক্তির আমি বিপক্ষে। নারীর বাইরে আসবার মানে কি। যার প্রয়োজন সে বাইরে আসবে। উৎপাদন ব্যবস্থা যদি সংস্কৃতি তৈরি করে তাহলে সে নিরিখেই কোন পুরুষ বা কোন নারী ঘরের বাইরে থাকবে কি ভেতরে থাকবে তা নির্ধারিত হবে। আমাদের গ্রামের নারীরা এখনো বাজার মেলায় যায়। তাদের কে নির্যাতন যারা করে তাদের হাতে অস্ত্র আছে-হয় ধর্মের নইলে ক্ষমতার। আর যারা অসহায় হয়ে নির্যাতন করে বুঝতে হবে তাদের বাহুর বল ওই ক্ষমতা চক্রের হাতেই আছে। যাদের অঢেল টাকা তারা এবং যাদের টাকা নাই তাদের ঘর বাহির সমান, এটা বুঝিয়ে বলবার প্রয়োজন নাই। বাইরে আসবার ক্রাইসিস মাঝখানে যারা থাকে তাদের-মধ্যবিত্তের।
ফলে লড়াইটা বর্গের। আমাদের সংস্কৃতিতে নারী নির্যাতন নাই। আপনি সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করবার চেষ্টা করছেন, আমি তার বিরোধীতা করতে চাই বলেই রাধা-বেহুলাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছি। আমাদের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন ধর্মবাদীরা যে ইতিহাস-সাহিত্য নির্মাণ করেছেন তা-ই আমাদের নারী না। তা ক্ষমতাধরদের বানানো নারী। আমাদের নারীরা সাহসী এবং লড়াকু, প্রেমিক এবং দরদী। আমাদের সংস্কৃতিতে নারী এবং ঘরের সম্পর্ক নিবিড়। নারীর গায়ে বোরখা চাপায় সমাজ, সেই সমাজ যে সমাজ সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে-সমস্তের সমাজ নয় বিশেষের সমাজ। ফলে সমস্তের ক্ষমতা আনয়নেই নারী মুক্তি ঘটবে। নারীর জন্য আলাদা করে সংগ্রামের প্রয়োজন জরুরি নয়-যতোটা জরুরি শ্রেণী সংগ্রাম। এবং নারীর লড়াইটাও তাই সরাসরি বাজার এবং আধিপত্যের বিরুদ্ধে, বাজার এবং পশ্চিমের পুরুষদের বিরুদ্ধে, আমাদের পুরুষদের বিরুদ্ধের লড়াই পরবর্তি কর্মসূচি।
লেখক বলেছেন:
আসলে অনেক আলোচনাই করে ফেলেছি- তারপরেও আমার অবস্থানটা যখন আপনার বোধগম্য করতে পারছি না, তখন কি আর করা! - নিজের ব্যর্থতার দায়টুকু স্বীকার করে নিচ্ছি। স্পষ্টই দেখতে পারছি- এই আলোচনা চালানো মানেই একই কথার পুনরাবৃত্তি।
তারপরেও, এখানেই শেষ করতে ইচ্ছে করছে না বলে আরেকটু চেস্টা করা। যথাসম্ভব চেস্টা করবো পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে- কতখানি পারবো জানি না।
লেখক বলেছেন: লড়াইটা বর্গের এজন্যেই বলছি আপনি যে এই লড়াইয়ের ভেতরে নারীর লাঞ্ছনার চিত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন তা গৌণ। বেহুলা কি আর করতে পারতো। আপনি বেহুলাকে যে আদর্শ নারী চরিত্রে দাঁড় করাতে চান তার স্বরুপ কি। আমি জানি না। মনসাও দেবী, তর জন্যে লড়াই করছে বেহুলা-স্বামীর জীবন ফিরিয়ে আনবার জন্য।
==>> অনেকবারই বলেছি আবারো বলছি- বর্গের লড়াই থাকা মানেই নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যটা খারিজ হয়ে যায় না। আমি যতবারই দেখাচ্ছি, এসব এসব .. সবই নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যের চিহ্ন ততবারই আপনি সে ব্যাপারে কোন কথা না বলে- অন্য আলোচনা এনে বলছেন- এই আলোচনা বা দাবিটি গৌন!! এ কেমন কথা?
আমাদের লোকগাথাগুলোর মধ্যে মনসামঙ্গলটা আমাদের একটু বেশিই প্রিয় কারণ এতে বর্গের লড়াই তথা শ্রেণী সংগ্রামের একটা ছোয়া পাওয়া যায়। সেদিকটা আমিও অস্বীকার করছি না। কিন্তু শ্রেণী সংগ্রামকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা মানে কি আর সব দ্বন্দ্বকে গৌন করা বা অগ্রাহ্য করা?
মনসা ছিল নিম্নবর্গের দেবী, তাকে এখানকার জাতকূলেরা প্রথমে গ্রহণ করতে চায়নি- বা আর্যরা বৈদিক সভ্যতার নামে এখানে তাদের দেবতাদের একচ্ছত্র প্রচার ঘটাতে চাইলেও- শেষ পর্যন্ত এখানকার দেবীদেরকেও যে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে- সেসব থেকে আমরা একটা লড়াইয়ের ছবিই পাই। এসব নিয়ে আমি কোনমতেই দ্বিমত করছি না। কিন্তু এসব লড়াই থাকা মানে কিকরে নারীর লাঞ্ছনা বা নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যের ইতিহাসটা গৌন হয়ে যায়? বরং, দেখুন এই মনসামঙ্গলে একটা লড়াইয়ের গল্পও কেমন করে পুরুষতান্ত্রিকতার আচড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়!
মনসা ফাইট করছে শিবের সাথে- মানে মনসার অনুসারি নিম্নজাতের লোকেরা ফাইট করছে জাতকূলদের সাথে, অথচ তার আবেদন- তার ভাষ্য কেমন হয়ে যাচ্ছে? পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বিরাজ না করলে আপনি কি মনে করেন- মনসামঙ্গল এভাবে রচিত হতো?
আপনি যথার্থই প্রশ্ন করেছেন- বেহুলা আর কি করতে পারতো? আমিও বলি- ঐ রকম একটা পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটিতে তো আসলেই বেহুলার আর কিছু করার ছিল না। পতির মৃত্যু মানে তো সবই শেষ, কি আর আছে জীবনে? তাই অনিশ্চিতের পানে বের হওয়া- জগৎ সংসার ছেড়ে সবকিছু বাদ দিয়ে মৃত পতিকে নিয়ে দেবীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া। সবাই দুঃখে চোখের পানি ফেলি- আহা! কি কষ্ট মেয়েটার, ভাবি কি অসীম পতি ভক্তি। কিন্তু, আমি তো চাচ্ছিলাম এমন একটা সাহিত্য, এমন একটা লোকগাঁথা যেখানে পতি মৃত পত্নীর শোকে এমন পাগল পারা হয়ে যায়- এমন করে একাগ্র মনে ও চিত্তে পত্নীর প্রাণ ভিক্ষা করে জগৎ সংসার ত্যাগ করে ব্রত করছে বা ধ্যানে নেমেছে! (পতির পাগল হওয়া তো মাত্র কদিনের)। দেখান এরকম একটা কিছু। কেন নেই? কারণ কি এটাই যে এমনটাই নারীর বৈশিষ্ট্য (নারীত্ব!!) যে সে তার পতিকে এমন সাধনার মত করে ভালোবাসে? কারণ কি এটাই যে- এমনটিই পুরুষের বৈশিষ্ট্য (পুরুষত্ব) সে পত্নী প্রেমে অমন উদ্বেল হবেনা?
আমি সীতা/রাধার গল্প বলার সাথে সাথে আপনি বেহুলার নাম দেখালেন। আমাকে বলেন- কোন জায়গায় বেহুলা বিশেষ? কোন জায়গায় সে পুরুষের সম মর্যাদার অধিকারী? আপনি কি মনসামঙ্গলের মধ্যে বর্গের লড়াইয়ের ছোয়া আছে- সেটা বলার জন্যই প্রথমবার বেহুলার নাম এনেছিলেন? তা না হলে- কেন বারবার যে বিষয়ে আমি দ্বিমত করছি না সে ব্যাপারে এত কথা?
লেখক বলেছেন: এখন সেই কাহীনিতে বেহুলার পতিব্রতী মনকে যদি আপনি আবহমান বাংলার নারী নিপীড়নের সাথে মিলিয়ে ফেলেন তাইলে তা হবে ভুল।
না, আমি আবহমান বাংলার নারী নিপীড়নের সাথে বেহুলার পতিব্রতী মনকে মিলিয়ে ফেলি নাই। পুরষতান্ত্রিকতা মানে কেবল নারী নির্যাতন বা নারী নিপীড়নকে আমি বুঝি না- মানুষ হিসাবে নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা না থাকা এবং পুরুষের মর্যাদাকে উচ্চে তুলে নারীর মর্যাদাকে অগ্রাহ্য করা হিসাবেই দেখি। তার সবচেয়ে র বা আদিম ফর্ম হচ্ছে- সরাসরি নির্যাতন- নিপীড়ন করা; আর সূক্ষ্ম রূপ হচ্ছে- নারীকে ভিতর থেকে শুকিয়ে ফেলে তার আত্মবিশ্বাসকে ধসিয়ে দিয়ে তাকে ভাবতে বাধ্য করা- নারীরা আসলেই পুরুষদের সমকক্ষ নয় কোনদিক দিয়েই। এই সূক্ষ্ম কাজটি সমাধা করতে বেহুলার মত ক্যারেক্টার আমাদের পুরুষদের খুব দরকার। তার পতিব্রতী মনটির প্রতি পুরুষদের খুব দরদ, নারীদেরও দরদ খুব নয় তা নয়- কিন্তু পুরুষেরাই এটাকে খুব মহিমান্বিত করে প্রচার করতে ভালোবাসে- পতির জন্য জানপাত করে একটা নারী লড়াই করে যাচ্ছে- এই লড়াই মহান না হয়ে আর উপায় আছে!! অন্তত এমন পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটিতে!
বেহুলা লড়াই করেছেন। কবি তা-ই স্বীকার করে গেছেন।
==>> কিসের লড়াই? কেন লড়াই? আপনি বর্গের লড়াইয়ের কাহিনী বলছেন- সে নিয়ে বেহুলার কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল? সে কি শুদ্র? মনসামঙ্গলে নিম্নবর্গের কথা কি আমরা শুনতে পাই? একটা ক্যারেক্টারের নাম বলেন।
শুভ্র, মনসামঙ্গলের প্রতি আমারো যথেস্ট আগ্রহ। সে আগ্রহ এর পেছনের কারণটিতে- ইতিহাসটিতে, যেখানে নিম্নবর্গের লড়াইয়ের একটা ছোয়া আছে। কিন্তু বেহুলা তো আমাকে কোনমতেই আকৃষ্ট করতে পারে না। তার লড়াইয়ের মধ্যে আমি বর্গের লড়াইয়ের কোন লক্ষণই যে পাই না।
তারচেয়েও বড় কথা- আমার মনে হয়, এই মনসামঙ্গল তো জাতকূলদের দিক থেকেই লেখা। এবং সেটা পুরুষদের হাতের তৈরি। কবি মনসার জয়টা অস্বীকার করতে পারে না ঠিকই, কিন্তু মনসাকে কিভাবে চিত্রিত করে? চাঁদ সদাগরের একের পর এক সন্তানের মৃত্যু, তার পরিবারের নিদারুন মনোবেদনা, বেহুলার বেদনা সব একাকার হয়ে- কোন বর্গের প্রতি সমবেদনা জাগায়?
কারণ চাঁদ সওদাগর পুরুষ-শীবও পুরুষ। সওদাগর শীবের পূজা করে, ব্যবসা করে অঢেল টাকা। শুদ্র স্পর্শ করে না। তার রিরুদ্ধে লড়েছে বেহুলা-তা যে ফর্মেই হোক না কেন।
===>> বেহুলা কি চাঁদ সদাগরের বিরুদ্ধে আসলেই লড়াই করেছে? চাঁদ শেষ পর্যন্ত মনসাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে- বেহুলার লড়াইয়ের কারণে- না মনসার কারণে? লড়াইটা যদি হয়ে থাকে তবে তো হয়েছে- চাঁদ ও মনসার ভেতরে। চাঁদ দেখুন কত শক্ত- একের পর এক সন্তান মারা যাওয়ার পরেও সে ভেঙ্গে পড়ে না- মনসার শত ভয়েও সে ভীত হয় না। আর হ্যা- মনসাও যেমন করেই হোক চাঁদকে বাধ্য করবে- সে সমস্ত চেস্টাই চালাতে থাকে। এখানে দেখবেন- দেবীর সাথে লড়াইটা করছে একজন মানুষ! কবিতো সমানে সমানে লড়াইটাও দেখালো না! চাঁদ জাতকূল। তাকে কত উপরে তুলে দেয়া হয়েছে চিন্তা করুন!
আর, বেহুলার লড়াই? সে তো কেবল তার পতিদেবকে বাচানোর লড়াই। আর কিছু না। এটাই তার ধ্যান জ্ঞান। এটার জন্য সে সব করতে পারে। শিব-মনসা তার কাছে কোন ব্যাপার না। এই লড়াইয়ের মাহাত্ম্য কি- সেটা উপরের আলোচনায় একবার করেছি। আবার বলার দরকার আশা করি নাই।
ফলে আমাদের নারীরা লড়াকু এটা নতুন কিছু না। লড়াই আমাদের নারীদের ভেতরে আছে। সেই জলে ভাসা বেহুলা আজ বাংলায় নাই। তাকে খুঁজে আনতে হবে। নারী মুক্তির সংগ্রামে বেহুলা প্রয়োজনীয়।
==>> জলে ভাসা নারীর কোন দরকার আমাদের নেই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে জলে ভাসার শিক্ষাই দেয়, দিতে চায়। পতি নাই মানে তো কথাই নাই। দাও তাকে জলে ভাসিয়ে। সতীদাহ-সহমরণ এসবেরই ধারাবাহিকতা। বিধবাদের যেভাবে একঘরে-অচ্ছুত করে রাখা হতো- সেসব এগুলোরই ধারাবাহিকতা। নারীদের জলে ভাসানোর দিন শেষ। প্রগতির নামে সেগুলোরে আবার টাইনেন না।
নারী মুক্তি সংগ্রামে বেহুলার তো দরকার নাই-ই নাই, বরং বেহুলার কাহিনীর বিনির্মাণ দরকার, পুনর্পাঠে এমন বেহুলাদের তৈরি করতে হবে যারা অকূল জলে ভাসবে না- যারা ভিক্ষাবৃত্তিকে সম্বল করবে না- উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিজের মান-মর্যাদার বিসর্জন দিবে না, বরং যাদের লড়াইয়ে থাকবে তেজ- যে তেজে চোখের জল আর অনুনয় বিনয়ের চেয়ে ঝাঁজটাই হবে প্রধান।
লেখক বলেছেন: উচ্চবিত্ত আমাদের সাহিত্য পূরাণ সবকিছুকেই দখল করেছে। এর খোলস থেকে নিজেদেরটা, আসলটা বের করে আনতে হবে
===>>
এটা আপনি একজায়গায় বললেও- সেই উচ্চবিত্তদের ভাষ্যকেই আপন করে নিচ্ছেন, তাদের দেখানো লড়াইকেই পরম জ্ঞান করছেন!!!!!
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব থাকবেই, মানতে পারলাম না। ইতিহাস দেখুন- দ্বন্দ্ব পরিবর্তনশীল।
নারী পুরুষের দ্বন্দ থাকবে। এই প্রশ্নের সাথে নারীত্ব এবং পুরুষত্ব জড়িত। নারীত্ব বলতে আমি আগেই বুঝানোর চেষ্ট করেছি, যেমন নারী মা। নারীর পোশাক সম্পর্কিত আপনার আলোচনার বিষয়েও এখানে আলাপ করবো। নারী মানে এখানে পরিষ্কার ভাবেই আমাদের নারী যারা জল জমি সম্ভূত, আমাদের ইতিহাস সাহিত্যের নারী। নারীর পোশাক হিসেবে শাড়ি বা অন্য যে কোন প্রচলিত পোশাক যারা পড়েন এবং যারা আমাদের দেশে বাজার আসার পরে যে পোশাক পড়ে তাদের মনন-চিন্তায় পার্থক্য আছে। আমি তাই বলছিলাম, পোশাক মানসিকতা তৈরি করে। গ্রামে প্রায় সব নারীই শাড়ি পড়েন। শাড়ি পড়বার সাথে তা সামলে চলার, এবং পরিপাটি রাখাতে অভ্যস্ত হতে হয়। শাড়ি পড়া শিখতে হয়। গায়ে তা জড়িয়ে রাখার ভাজগুলো পাল্টে যায় যখন কাজ পাল্টে যায়। একেক কাজে একেকভাবে শাড়ি জড়াতে হয়। ফলে শাড়ি পড়াটা কাজের অর্থে প্রতিবন্ধক হয় না। যারা শাড়ি পড়েন তাদের আচরণে লাজুকতা, সম্ভ্রম-অন্যকে শ্রদ্ধা আন্তরিকতা, এই বিষয়গুলো থাকে। শহরে এসব বিষয় কম-কারণ কি। বাজার। শরীরে ওড়না জড়ানোরও ঢং আছে। খেয়াল করে দেখবেন, ওড়না জড়ানোর ধরণ সহজেই মানসিকতাকে নির্দিষ্ট করে দেয়। মিছিলের নারী যেভাবে ওড়না পড়ে বিজ্ঞাপনের নারী সেই ঢঙে ওড়না পড়ে না। এখানে নারীর বাজারায়ন বুঝতে পারবেন। তবে পোশাকের সাথে যৌনতার কোন সম্পর্ক স্থাপনের আমি বিরোধী। শরীর নয় ব্যবহারের প্রয়োজনেই সামাজিক পোশাক পড়া উচিত। পোশাক নারী মুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-বাইরের বিষয় নয়। আমাদের প্রান্তের নারীদের পোশাক শাড়ি-সলোয়ার। কিন্তু মধ্যবিত্ত নারীর পোশাক-ভেবে দেখুনতো,এটাও একটা সংকট বটে।
তাই নারী মুক্তিতে মধ্যবিত্ত প্রবণতাকে চিহ্নিত করতে হবে। আপনি বলছিলেন প্রাকৃতিকভাবে নারী পুরুষের শরীর আলাদা। শরীর আলাদা মানেই চরিত্রেও আলাদা। চার পায়ের প্রাণী আর দুই পায়ের প্রাণী আচরণে এক হবে না। ঋতুস্রাব যার হয় তার চিন্তা ভাবনা আলাদাই হবে, আচরণ আলাদা হবে। গর্ভধারণ করা, বাচ্চা জন্ম দেয়া নারীকে কেন আপনারা আচরণে আলাদা করতে পারেন না বুঝি না। আপনাদের কি ধারণা বিধবা হলে শাদা শাড়ি চুড়ি পড়াকে আমি নারীত্ব বলছি। না সেটা সামাজিক আধিপত্য। আমি নারীত্ব বলতে বলছি প্রাকৃতিক জীব হিসেবে, মানব জাতির একটা প্রজাতি হিসেবে নারী-যে শুধু শরীরে নয়-মনে আর মনননে ও আলাদা। তবে অধিকারের প্রশ্নে নয়-সম্মান বা স্বাধীনতার প্রশ্নে নয়। সেখানে সবাই এক, অন্যান্য প্রাণী জগতও এই বিচারে এক।
দ্বন্দের বিষয়টা স্বাভাবিক। বোঝাপড়ার দ্বন্দ থাকবেই। নারী পুরুষের মিলনাত্বক দ্বন্দকেই আমি বুঝিয়েছি-সে জন্যেই সৃষ্টির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছি। দ্বন্দ অবশ্যই থাকবে। মানসিকতার-মিলিয়ে চলার-ঘর সংসার। কতো কিছিমের দ্বন্দ।
সময় করে বাকি বিষয়গুলো সম্পর্কে বলে যাবো।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীটি কি? বাজারকে নিয়ে এসে কথা বলা? এটাই? নারীকে কেবলমাত্র নারী হিসাবে দেখা এবং সেখানেই স্থির রাখা - সবকিছুর মূলে বাজারকে নিয়ে আসাটাই কি এই দৃষ্টিভঙ্গীর মূল?-----আমি বলতে চাইছি আমাদের সংস্কৃতিতে ওই অর্থে পুরুষ নাই। যে পুরুষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে সে আসলে ক্ষমতা চর্চার ইতিহাসের সাথে যুক্ত এবং আমাদের রাজনীতি তাকে বড় করে তুলেছে-বিশাল করে তুলেছে। যতো বড়ই হোক না কেন এই পুরুষ আগাছা-বিষবৃক্ষ, একে উৎপাটনের জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক সংগ্রাম। ফলে সেই সংগ্রামের মূল প্রতিপক্ষ আজকের সময়ের বাজার। এই বাজার হটানো ব্যাতিত নারীকে মুক্ত করা যাবে না। বাজার নারী মুক্তির কিছু ধারণা তৈরি কছে যা মধ্যবিত্তীয় গন্ডি অতিক্রম করতে পারছে না। এর অধিকাংশই আমি পূর্বের মন্তব্যে উল্লেখ করেছি। শরীরই নারীর জন্য আজকের সময়ে সবচেয়ে বড়ো অপমানের বিষয় হয়ে যাচ্ছে, এর কারণ বাজার। তাই বারেবারে বাজার তথা বাজার সংস্কৃতির কথা বলছি আমি। আপনি হয়তো ধর্মের কথা বলবেন-কিন্তু ধর্মকে এতো প্রচন্ড করে তুলেছে আমাদের রাজনীতি। নইলে বোরখা পড়তে বাধ্য হয় কয়জন। সমাজ তাকে বাধ্য করে, সেই সমাজ কার নিয়ন্ত্রণে থাকে ওই বাজার তথা পণ্য নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি। অনেকেই বোরখা পড়ে না, তাদের তাতে কিছু যায় আসে না। ফুটপাথে ঘুমায় যে নারী তার বোরখা পড়ায় কিছু যায় আসে না। তাকে ফুটপাথে শুইয়ে রেখেছে কে। নারী মুক্তির জন্যেও সে-ই আসল শত্রু। কারণ সেকানে নারীত্ব-মানবিকতা কিছুই নাই। ওই নারীর ঘরের বাইরে আসবার সমস্যা নাই-তার যে ঘরই নাই। ফলে ঘরের বাইরে আসবার সমস্যা মধ্যবিত্তেরই বেশি।
ধর্ষন, শারীরিক নির্যাতন এগুলোও তৈরি করেছে বাজার। ধর্মের খোলসে ক্ষমতা খড়গহস্ত হয়েছে নারীর ওপর। সেইক্ষমতার কেন্দ্র পরিবর্তনই জরুরি কথা। তাহলেই কেবল আসতে পারে নারী মুক্তি। এসব বিষয়ে আপনি আমার সাথে একমত হবেন। কিন্তু যেখানে আমাদের মত মিলতে চাইছে না -তা হল আজকের যুগে নারী মুক্তি বলতে আমরা কি বুঝি। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা মুক্ত নারীর চেহারা কি হবে-তার মডেল কি। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। আমি তাই সেই রাধা-বেহুলা ধরে আমাদের নারীর চেহারা তৈরি করবার চেষটা করেছি। প্রান্তের নারী যারা আমাদের এই আলোচনা পড়ছেন না তাদেরও তুলে আনবার চেষ্টা করেছি। এই প্রশ্নের মিমাংসা না হলে নারী মুক্তি পশ্চিমের পথেই হাঁটবে। যারা শিক্ষত-মধ্যবিত্ত তারা এক রকম মুক্তি চান আর যারা প্রান্তিক তাদের কাছে মুক্তির বিষয়টা ভিন্ন। তাই আমি বারে বারে বাজারের কথা বলছি। বাজার মুক্ত দর্শন তৈরির প্রচেষ্টায়। বাজার নিয়ে আপনি নিজেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন এখানে। ফলে বাজারকে বুঝতে পারা আরো সহজ হবে পাঠকের জন্য। আমি এখানে বলতে চাই বাজার না থাকলে নারীর অসহায়ত্ব কমে যেতেও সময় লাগবে না। আপনি যে বলছেন বাজার নিজেই নারীকে ন্যাংটা করে নিজেই আবার বোরখা পড়ায়-আমিও তাই বলি। তার সাথে এও বলি নারীকে ওই বাজার বা ক্ষমতাই বরাবর অপমান করে এসেছে আমাদের সংস্কৃতিতে-সাহিত্য নারীর অপমান নাই।
আমি এখানটিতেই আপত্তি করি। নারীকে আমি কেবল আলাদা করতে চাই শরীরে। বাকিগুলোতে মানে মন-মনন-সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবার-... এ সমস্তেই কোন আলাদা পরিচয়ের দরকার আছে বলে মনে করি না। সবক্ষেত্রে মানুষ পরিচয়টাই যথেস্ট
এই আলোচনার সাথে আপনি পরবর্তীতে যুক্ত করেছেন নারীকে শারীরকিভাবে দেখবার বিষয়টি আমাদের সংস্কৃতিতে আছে। এর উদাহরণও দিয়েছেন। এখানে আমি আগেই অনেক কিছু বলেছি। নারীর মাতৃত্বকালীন দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে ক্ষমতা আর রাজনীতি। এর সাথে আমাদের সংস্কৃতির সম্পর্ক নাই। সীতাকে অপহরণ করেছে রাবন, তার আগে সীতার নিতম্বের বর্ণনা আছে-এটা নারীর সৌন্দর্য্য বর্ননা, মন্দিরের গাত্রেও এমন অলংকরন আছে। রামের শরীরের বর্ণনাও আছে। কিন্তু যেহেতু পুরষ লেখক সুতরাং নারী শারীরিক হয়ে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। এই বিষয়ে আমি আগেই বলেছি এটা গোটা সমাজের মানসিকতা নয়। এবং নারীর শারীরিক সৌন্দর্য বর্ননাও কোন লেখক চাইলে করতে পারেন, তাছাড়া শরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যরকম একটা আলোচনার বিষয়। ফলে এখানে কথা বাড়িয়ে লাভ নাই। নারীর শরীরকে পণ্য করেছে বাজার। নারীর শরীর আর যাই হোক বাজারি ছিল না এই কিছুদিন আগেও।
নারী মুক্তির অপরিহার্য অংশ লুকিয়ে থাকা পুরুষ =====>> এটার মাধ্যমে কি বুঝাতে চেয়েছেন? ঠিক পরিষ্কার হলো না।
এখানে বলতে চেয়েছি আমি আপনি যদি নারী মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেই তাহলে আমাদের ভেতরের পুরুষটাকে লুকিয়েই সেই লড়াইয়ে আমরা অংশ নিবো।
আপাতত আলোচনা শেষ করছি। প্রয়োজনে আবার আসবো। তবে সময়ের কথা বলতে পারছি না। একটু খেয়াল রাখবেন।
ধন্যবাদ।
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আমাদের প্রাচীন সমাজে নারী ওই অর্থে নিপীড়িত বা নির্যাতিত ছিল না। কালে কালে নানা কু আচার-ধর্ম এবং বিশেষত শাসকরা এই সাথে জনগণ এবং নারীদের অবদমিত করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাজার নারীকে তার অপমানের প্রান্ত সীমায় নিয়ে এসেছে। ===>>
প্রাচীণ সমাজ মানে কোনটার কথা বলছেন?
যাহোক- সেটা আমিও বলেছি- একসময় মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ছিল এবং সেসময়ে আজকের মত পুরুষের আধিপত্য ছিল না। তার পরে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আবির্ভাবের সাথে সাথে নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য চলে আসে- সেই থেকে নারীকে করায়ত্ত করার সমস্ত আয়োজনই পুরুষেরা করেছে। কিন্তু সে ইতিহাস তো অনেক আগের। বাজারের ইতিহাস তো এই সেদিনের। সেজন্যই বারবার বলছি- কেবল বাজার দিয়ে একে বুঝতে চাওয়ার নাম এই আধিপত্যকে- এর ইতিহাসকেই অস্বীকার করা। এটা আমি কখনোই অস্বীকার করিনা যে- আজকে নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যকে মোকাবেলা করতে হলে- বাজারকে মোকাবেলা অবশ্যই করতে হবে- কিন্তু শুধু বাজারকে মোকাবেলাই যথেস্ট নয় বলেই আমার মত।
আপনি যে শ্রেণী সংগ্ররামের কথাকে সামনে তুলে ধরছেন- সে শ্রেণী সংগ্রামকে কখনো খাটো করতে চাচ্ছি না। কিন্তু, এই সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতাকে গণনায় না নিলে- আপনি পুরুষতান্ত্রিকতাকেও বিদায় করতে পারবেন না, শ্রেণী সংগ্রামকেও সফল করতে পারবেন না। বুঝতে হবে- যে শ্রমিক বা কৃষক মালিক বা জোতদারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে- দেখা যাবে সে-ই হয়তো এসে বাড়িতে বউকে পেটাচ্ছে, নিজের মেয়েকে মায়ের সাথে রান্না-বান্নার কাজে পাঠিয়ে ছেলেটিকে নিয়ে স্কুলে পাঠানোর চেস্টা করছে- অবলীলায় নারীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। সুতরাং বুঝতে হবে- কেবল শ্রেণী সংগ্রামই সব নয়। কমিউনিস্ট আন্দোলনেও এবিষয়টির গুরুত্ব বুঝা দরকার।
কোন কমিউনিস্ট আন্দোলনই, কোন শ্রেণী সংগ্রামই - তা যত বড়ই হোক যত তীব্রই হোক- ব্যাপক নারীর অংশগ্রহণ ব্যতীত সেই অর্থে সফল হতে পারে না- শ্রেণী সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা পুরুষতান্ত্রিকতার কবল থেকে মুক্ত হতে পারে না। সেজন্যই বলেছি- অন্যায়-নিপীড়নের বিরুদ্ধে- শোষণের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের মিলিত সংগ্রামই সমাধানের পথ, কেননা- এর মধ্য দিয়েই একজন নারীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, এর মধ্য দিয়েই নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীর বদল হতে পারে। রাশিয়ার বলশেভিক পার্টিতে নারীর অংশগ্রহণ দেখুন- সোভিয়েতগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ দেখুন- মাও জে দং এর লংমার্চে নারীর অংশগ্রহণ দেখুন- তাদের পার্টি সাহিতয় পড়ুন- তাহলেই বুঝতে পারবেন- শ্রেণী সংগ্রাম যাদের জীবনের প্রধানতম কাজ- তারা পুরুষতান্ত্রিকতার ভূতকে তাড়ানোর লক্ষে কি সংগ্রামটাই না করেছেন। কেবল- শ্রেণী সংগ্রাম করলেই হবে- এমনটা মনে করে এই ইস্যুতে বসে থাকেনি। রুশ বিপ্লবের পরে- সোভিয়েত ইউনিয়নে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- সেগুলো দেখুন। কারণ, শ্রমিক শ্রেণী ক্ষমতায় চলে আসলেও- তখন পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেই নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য বজায় ছিল এবং সেটা নির্মূলের জন্য আলাদা পদক্ষেপ নিতেও হয়েছিল। দেবীপ্রসাদের "নিষিদ্ধ দেশ নিষিদ্ধ কথা"- বইটি পড়লে এসমস্ত পদক্ষেপের কথা জানতে পারবেন- বিস্তারিত বলাটার সুযোগ এখানে নেই। এত কিছু এখানে বলার উদ্দেশ্য একটাই- নারী পুরুষের আজকের দ্বন্দ্বকে কেবল বাজার দিয়ে বুঝতে চাইলে- কেবল বাজারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বা শ্রেণী সংগ্রামে এর সমাধান দেখলে- কোনদিনই সমস্যার মূলেও ঢুকতে পারবেন না- আর সমাধান তো দূর অন্ত!
সতীদাহ প্রথা বিলোপের আন্দোলন বিদ্যাসাগর যে জন্যেই করেন না কেন তা ইংরেজের পক্ষে গেছে। কারণ তাদের হাত ধরেই আমরা সভ্য হয়েছি এটা প্রতিষ্ঠিত হল। এতে কি নারীর মুক্তি ঘটলো। অথচ সতীদাহ আমাদের দেশের সবজায়গায় ছিল না। যে সমস্ত স্থানে ছিল সেখানে নারীদের নিজস্ব প্রতিরোধ ছিল। প্রয়োজন ছিল সেই সমস্ত প্রতিরোধকে উস্কে দিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এক ধরণের নারী জাগরণ তৈরি করা যার উদ্দশ্যে হবে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। তা হয়নি- হয়নি বলেই নিপীড়িত নারীর ক্ষতের ঘা-ই শুকিয়েছে কেবল আরো অনেক ক্ষত তৈরি করবার জন্য।
=======>>
সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা উচ্ছেদের সংগ্রামের মূল কৃতিত্বের দাবীদার রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর নয় (বিদ্যাসগর বিধবা বিবাহ প্রবর্তন করার সংগ্রাম করেছিলেন)। আপনার সাথে একমত যে- আমাদের এখানকার রেনেসা বা বদরুদ্দীন উমরের ভাষায় বড়জোর ধর্মীয় পুনর্জাগরণ- এর সময় যা কিছু হয়েছে তা বৃটিশদের সহায়তায় ও প্রভাবে হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। এর কারণে আমাদের মেরুদন্ডটা পর্যন্ত সোজা করতে শিখলাম না। বৃটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইটাও ঠিক মতো করতে পারলাম না- যতখানি করেছি তাও সাম্প্রদায়িকতা এসে নানাভাবে বাসা বেঁধেছে যার ফলাফল বৃটিশরা আমাদের বারবার বিভক্ত করতে পেরেছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই বিভক্ত হয়ে বৃটিশমুক্ত হয়েছি। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে, তাই সেদিকে যাচ্ছি না। কিন্তু, এসমস্ত আক্ষেপ থাকার পরেও- যখন সে সময়টার দিকে তাকাই- সেটাকে হিসাবে দেখি? এখানকার হিন্দু নারীদের কি অবস্থা? পতির মৃত্যুর পরে যে অনেক নারী স্বেচ্ছায় সতীদাহ বা সহমরণে চিতায় যেতে চাইতো সেটা কি কেবল সতী হওয়ার আকাঙ্খায়, নাকি বিধবাদের প্রতি সমাজের যে আচরণ, যে নৃশংসতা সেটার কারণে? এমন একটা প্রথা কি এমনি এমনি একেবারে চালু হলো? ঐ প্রথার বাইরে যে কত বিধবা আত্মহতয়া করেছে- কতজন কুল ত্যাগ করে নিখোজ হয়েছে- পতিতাবৃত্তিতে নেমেছে- সেটার হিসাবটা কি রাখবেন না? ঘরে ঘরে বিধবার সংখ্যাধিক্যের কারণ কি, শিশুবিবাহ- বহুবিবাহ এসমস্তই এসমস্যাগুলোর সাথে লিংকড। এসবই নারীর নিপীড়নের ইতিহাস।
ফলে- যে প্রক্রিয়ায় এগুলো উচ্ছেদ হয়েছে তা নিয়ে আমার যতই আক্ষেপ থাকুক না কেন- এসব প্রথা উচ্ছেদ বা বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের জন্য রাজা রামমোহন বা বিদ্যাসাগরের সংগ্রামকে দারুন রেসপেক্ট না করে পারি না।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
আপনাকে তাইলে মনসামঙ্গলের পুরুষ নিগ্রহের কিছু চিত্র দেখাই। মনসার পিতা শিব। শিবের বউ চন্ডি। সে কিছুতেই মনসাকে শিবের কন্যা বা তার সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকার করে। সে মনসার ওপর নির্যাতন চালায়। শিব এখানে খুবই কামুক পুরুষ। চন্ডি শিবের এই স্বভাব জানে। চন্ডির নিজের হাতে তৈরি করা এক বাগান দেখতে গিয়েই শিব শরীরি শিহরণ অনুভব করে। এর তীব্রতায় সে কোন এক গাছের গোড়াতেই বির্যস্খলন ঘটায়। সেই বির্য থেকেই জন্ম নেয় মনসা। মনসার কোন গর্ভনাই। সে জন্যে সে অযোনিসম্ভাবা। শিব যখন মনসাকে তার ঘরে নিয়ে আসে চন্ডি তা মানতেই পারে না। সে শিবের ওপর মানসিক এবং চন্ডির ওপর শারীরিক নির্যঅতন চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মনসা চন্ডিকে দংশন করে। চন্ডি মারা যায়। শিব তথন পাগল প্রায়, যে চন্ডি তাকে এতোই পরাধীন করে রেখেছে সেই চন্ডির দুর্দশায় সে না কেঁদে পারে না। শিব মনসার কাছে আর্জি করে চন্ডির জীবন ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। মনসা তাকে জীবন ফিরিয়ে দেয়। মনসার ফুলশয্যার রাতেই সে তার স্বামীকে দংশন করে। মনসা এতোই ভীষণ। পুরুষ এখানে অবদমিত-শিব এখানে লোফার, চরিত্রহীন। চন্ডির কাছে শিব অসহায়, কোন স্বাধীনতাই ভোগ করতে পারে না। বিয়ের রাতেই স্বামীকে মেরে ফেলে মনসা, কারণ তার স্বামী পছন্দ হয়নি। স্বামী তাকে জোর করতে চাইলে মনসা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দংশন করে। যদিও পরে জীবন ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু মনসার আর ঘর করা হয় না। তার স্বামী ছিল বিদ্বান, সাধক, স্বামী তাকে বর দিয়ে যায়। সেই বর নিয়ে মনসা ঘর ছাড়া হয়। পরবর্তীতে লখিন্দরের মাকে আমরা পাই। তিনি সর্প পূজা করেন লুকিয়ে লুকিয়ে। তার স্বামীর প্রতি মোটেও কোন আস্থা তার নেই। তবুও সংসার করেন। এটা খেয়াল করে দেখুন। বিশ্বাস আলাদা হতেই পারে, কিন্তু তাতে সম্পর্ক নাই করে দেয়ার পক্ষে নন চাঁদ সওদাগরের বউ। তার সাত ছেলের জীবন ফিরে পেতে তিনি লুকিয়ে মনসার পূজা দিয়ে আসতেন। পুরুষ সওদাগর নারীর এই লড়াইকে কিছুতেই অবদমিত করতে পারেন নি। এমনকি লখিন্দরকে দংশন করে যে সাপ সেও নারী-কাল নাগিনী। তার আগে অনেক সাপই এসে ফিরে যায়, সব পুরুষ সাপ, সীতার ছলনায় তারা সিক্ত হয়। ফিরে যায়। প্রহর শেষ হবার আগেই কাল নাগিণী লখিন্দরকে দংশন করে। নারী হয়ে পুরুষকে দংশন-নারী পুরষের প্রাণ সংহার করছে। মনসা মঙ্গলে এমন চিত্র অনেক আছে। চাঁদ সওদাগরের বন্ধু নেতা। বিষহরি সে, তাকেও মেরে ফেলে মনসা, তাও নারীর রুপ ধরেই।
এখানে নারীকে ক্রর হিংস্র রূপে দেখানো হয়েছে এই সমালোচনা যদি আপনি করেন তার জবাব পরে এসে দিয়ে যবো। কিন্তু এখানে পুরুষ আছে-আপনার এই মতকে আমি অস্বীকার করি, তার জন্যেই আরো কিছু আলোচনা করে গেলাম। আমি প্রশ্ন করেছিলাম বেহুলা কি আর করতে পারতো। আপনার জবাবটা একটা হয়তোর ওপর ভাসিয়ে দিলেন। বিয়ের রাতে স্বামীকে দংশন করবার চিত্র আমরা আগেই পেয়েছি-এবার দেখলাম স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলবার আকুলতা। আপনি যাকে স্বামী ভাবছেন আমি তাকে একটা প্রাণ ভাবছি, আমি তাকে ভাবছি এক দেবীর আক্রোশকে, সেই আক্রোশে পুরষ অসহায়, বেহুরা এখানে কেবলমাত্র সংগ্রামীই নয়। মানবিক। এই মানবিকতাটা আপনি ধরতে পারছেন না। খালি লখিন্দর নয় আরো ভাইদের জীবন ফিরিয়ে আনবার জন্য বেহুলা সেদিন জলভাসা হয়েছিল। আপনি খুব কাঠখোট্টা, আমার জলে ভাসবার ব্যাঞ্জনাটা ধরতে পারেন নি। জলে ভাসা মানেই অসহায়ত্বের জীবন বোধহয় আপনার চোখে ফুটে ওঠে। আমি তা বলছি না, আমি বলছি সংগ্রামের সমুদ্র সন্তরণের কথা। বেহুলা এক ভেলায় বসে যে সাহস দেখালো, তাকে আমি কেবল স্বামীর প্রতি ভালোবাসায় আটকে রাখতে চাই না, তাকে কেবল স্বামী পাবার জন্য এক নারীর কাতরতা হিসেবে দেখলে ভুল করবেন। তাতে বেহুলা খন্ডিত হয়, সে আকাশ মর্ত্য জয় করছে, প্রাণের দাবীতে, কেন এটাকে নিছক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখছেন।
এখানে তো পুরুষ অসহায়, লখিন্দরের জীবন বেহুলার একাগ্রতার কাছে আটকে আছে। পুরুষ পারে না নারীকে রক্ষা করতে, নারীই পারে, তার সেই ক্ষমতা আছে-সেই মানবিকতার রক্ষাকর্তা। বিষয়টা এভাবেওতো ব্যাখ্যা করতে পারেন। পুরুষের নারীর প্রতি প্রেমের কাহীনি কি লিখা নাই। আছে অসংখ্য আছে, মহুয়া থেকে শুরু করে এমন অসংখ্য কাহীনি আছে। কয়টা উদাহরণ লাগবে আপনার।
আপনি বেহুলাকে ভিক্ষুক বলছেন। বিষয়টাই বোধগম্য হল না। বেহুলা ভিক্ষা করলো কোথায়, সে জীবন ফিরিয়ে আনলো, পুরুষের ঘাড়ত্যাড়ামিকে ভেঙ্গে দিলো। লখিন্দর কেন বেহুরার জন্য ভেলা ভাসালো না, আপনি এই আক্ষেপ থেকে বের হতে পারছেন না। এটা খুব অদ্ভুত বিষয়। পরুষ পদানত হবার অসংখ্য পূরাণ আমাদের আছে।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
তার পরে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আবির্ভাবের সাথে সাথে নারীর উপর পুরুষের আধিপত্য চলে আসে- সেই থেকে নারীকে করায়ত্ত করার সমস্ত আয়োজনই পুরুষেরা করেছে। কিন্তু সে ইতিহাস তো অনেক আগের। বাজারের ইতিহাস তো এই সেদিনের। সেজন্যই বারবার বলছি- কেবল বাজার দিয়ে একে বুঝতে চাওয়ার নাম এই আধিপত্যকে- এর ইতিহাসকেই অস্বীকার করা।কখন থেকে আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক হল কবে থেকে। আজ থেকে তো আগে। দিন তারিখের হিসেবে এটা বলা যায় না, যাবে না। আজ থেকে আড়াই সাড়ে তিন হাজার বছর আগেও আমাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক ছিল, বিভিন্ন প্রকার নারী মূরর্তির প্রাপ্তি তা প্রমাণ করে। কিন্তু এরপরে কি। চর্যাপদে দেখা যায় নারীরা মদ বিক্রি করছে, বা এখকার নারীদের মতো মডেল তার নয়। এর বাইরে আমাদের ইতিহাস তৈরি হয়েছে কার হাতে। কে করেছে। মুসলমানদের শাসন আসার পরেই আমাদের দেশে ইতিহাস রচনা শুরু হয়। তার আগের ইতিহাস খুঁজে নিতে হয় সাহিত্য থেকে। রাময়ণে সীতার অগ্নিপরীক্ষা রাজনৈতিক, এখানে নারীর এই পরীক্ষাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখলে বুঝা যাবে না মুল সমস্যা কোথায়। এই রাজনীতি ব্রাহ্মনের। কিন্তু সীতার প্রতি রামের ভালোবাসা-তা কালজয়ী নয় হয়তো, সীতার প্রতি অপমানে এই প্রেম হয়তো মুছেই গেছে রামের ভালোবাসা। কিন্তু রাম সীতাকে ভালোইবাসতো, তবে রামের প্রধাণ পরিচয় প্রেমিক নয়, সে রাজ্য প্রধাণ, রাষ্ট্রশাসন তার প্রধাণ কাজ। খালি নারীর অবদমন দিয়ে সীতার সতীত্ব পরীক্ষা করলেই চলে না। সীতার ওই অর্থে কোন বংশ পরিচয় নাই, এবং সে আদতেই নারী, সৎ নারী। কিন্তু রাম ভীষণ, কারণ রাম রাজনীতি করা মানুষ। ফলে রামায়ণকে রাজনীতি থেকে দূরে বিচার কলে চলবে না। এই রাজনীতি উচ্চ বর্গের, সীতা এখানে নিম্নবর্গ প্রতিনিধি, সীতা নারী, সে লাঞ্ছিতা, রামায়ণ পড়ে এই অনুভূতি কার না তৈরি হয়। ফলে এই সাহিত্যের পাঠক ওই অগ্নি পরীক্ষার বিপক্ষেই যায়। তাহলে আমাদের সমাজে পুরুষ কবে থেকে আছে। আর্যদের উদাহরণ দিয়েছিলেন আগেই। তারমানে পুরুষ তার ক্ষমতা চর্চার সাথে সাথেই নারীকে অবদমিত করবার চেষ্টা করেছে। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমাদের সংস্কৃতির পুরুষের চেহারা আমাদের কাছে অজানা। আপনি মনসাকাব্য তেকে যে পুরুষকে বের করে আনতে চান, সেখানে আসলেই পুরুষ নাই। সেখানে ক্ষমতার দ্বন্দ আছে, সংস্কৃতির পুরুষ নাই। রামায়নে আছে, মহাভারতে আছে, মনুসংহিতায় আছে। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই ক্ষমতার পুরুষ, সংস্কৃতির পুরুষ নয়। আপনি মনসাকব্যে যে পুরুষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তা পাবেন না। বেহুলা আমাদের নারী। সে আধুনিকা নয়, তাই বোধহয় আপনি মেনে নিতে পারছেন না। সে যদি লখিন্দর, মনসা উভয়কেই অস্বীকার করতো আপনি বোধহয় সেখানে আজকের যুগের নারী মুক্তির মডেল খুঁজে পেতেন। কিন্তু আফসোস সে হবে উন্মুল নারী-শেকড় ছেড়া নারী। কেবল বেহুলা কেন-সীতার কষ্ট যার বুকে বাজবে না সে আমাদের নারী হতে পারবে না আর যাই হোক।
আপনি বাজার কে খুঁজছেন পরে-আমি তাকে শুরু থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছি। পালদের আমলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। সেই বিদ্রোহ রাজনৈতিক-ধর্মের নয়। অথচ দ্বন্দটা ধর্ম হিসেবেই উপস্থাপিত। আমাদের দেশভাগও তাই। ফলে আড়ালে কি আছে তাও খুঁজে বের করতে হবে। বাজার মানে সেইতো ইংরেজ এই দেশে আসার আগে থেকেই আমাদের এখানে যে বণিকি পুঁজি জমা হচ্ছিল-সে বাজার তৈরি করছিল। সেই বাজার কেবল ভয়াবই হতে পারে-ভালো কিছু করতে পারে না। কিন্তু বাজারের শুরুটা কোথায়-তার পূর্ববর্তী রুপ ক্ষমতার দ্বন্দ। বাজারের আদি রুপ নিশ্চিতভাবেই ক্ষমতা চর্চার সাথে যুক্ত। ওইটা আমাদের সংস্কৃতি না, হয়ে উঠেছে কারণ আমরা বাজারে বাধা পড়েছি।
আমি রাজনৈতিকভাবেই বিষয়টা দেখতে চাই। আপনি হয়তো আমাদের প্রাত্যহিকতা-সমাজিকতা-সাহিত্য সম্ত ক্ষেত্রে নারীর অবদমনের বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে চান। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আপনাকে সেটা খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে। আর আমি আলোচনা করছি নারী মুক্তির রাজনৈতিক সংগ্রামের কর্মসূচি বিচারে। এখানে একটা সুক্ষ কিন্তু প্রভাবক প্রার্থক্য আছে। আমি সোজা কথায় আগেই বলেছি পশ্চিমের পথে নারী মুক্তির আমি বিপক্ষে। আমাদের নারী চরিত্র কেমন হবে তা অজানা। মধ্যবিত্তের সংকট কখনোই গোটা নারী সমাজের সংকট নয়। আমাদের পূরাণে যে অবদমিত নারীর চিত্র আপনি খুঁজে বের করছেন তা আজকের সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। আজকের সময়ের মূল শত্রু বাজার-এবং একটা সাংস্কৃতিক সংগ্রামই পারে সেই বাজারকে মোকাবিলা করতে। আর সংস্কৃতিক সংগ্রাম মানেই আমাদের বেহুল-রাধা-মহুয়া এমন আরো অনেক। আপনাকে বুঝতে হবে এরাই আমাদের আনন্দ-বিদ্রোহের প্রকাশ। এদের ভেতরে পুরুষ খুঁজতে যাবার প্রবণতাটাই বুমেরাং হবে। এই আলোচনা পরের-আগে বাজার মুক্ত সমাজ চাই।
নারী মুক্তি সংগ্রামে বেহুলার তো দরকার নাই-ই নাই, বরং বেহুলার কাহিনীর বিনির্মাণ দরকার, পুনর্পাঠে এমন বেহুলাদের তৈরি করতে হবে যারা অকূল জলে ভাসবে না- যারা ভিক্ষাবৃত্তিকে সম্বল করবে না- উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিজের মান-মর্যাদার বিসর্জন দিবে না, বরং যাদের লড়াইয়ে থাকবে তেজ- যে তেজে চোখের জল আর অনুনয় বিনয়ের চেয়ে ঝাঁজটাই হবে প্রধান।
-অপেক্ষায় থাকলাম।
আমি সীতা/রাধার গল্প বলার সাথে সাথে আপনি বেহুলার নাম দেখালেন। আমাকে বলেন- কোন জায়গায় বেহুলা বিশেষ? কোন জায়গায় সে পুরুষের সম মর্যাদার অধিকারী?
বেহুলা এখানে মানুষ-মানবিকতা। নারী পুরুষের বিষয়ই এখানে নাই। আমি আগেই অনেকবার আলোচনা করেছি।
উচ্চবিত্ত আমাদের সাহিত্য পূরাণ সবকিছুকেই দখল করেছে। এর খোলস থেকে নিজেদেরটা, আসলটা বের করে আনতে হবে ===>> এটা আপনি একজায়গায় বললেও- সেই উচ্চবিত্তদের ভাষ্যকেই আপন করে নিচ্ছেন, তাদের দেখানো লড়াইকেই পরম জ্ঞান করছেন!!!!!
উচ্চবিত্ত যে সাহিত্য তৈরি করেছে বলতে আমি বুঝিয়েছি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। কিন্তু তাদের সমস্ত সাহিত্যই তাদের পক্ষে গেছে তা মোটেই না। সাহিত্যের এই প্রবণতার দিকে যাবো না। সে অন্য আলোচনা। আমি তারে পক্ষে কথা বলছি না মোটেও-আমার বিবেচনাটা রাজনৈতিক এবং উপন্যাসের চরিত্র বিচার। রাজনৈতিকভাবে সে নারী পুরুষ বিচার করে না, সে বিচার করে বর্গ, আর বগের দুর্বল অংশ নারীকে সে বেঁধে রাখতে চায়। এটা তার প্রবণতা, কৌশল, সাহিত্যে তার সামান্যই আছে। তাও সব সাহিত্যে নেই। এসব তাদের শাসন নীতিতে আছে। সাহিত্য পড়ে এর কিছু কিছু বুঝা যায়, কিন্তু এই বুঝতে পারায় ভুলটা ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করছি আমি। একটা গড় হিসাবে পুরুষ নারী বিচার করার পক্ষপাতি আমি নই। তাতে আসল শত্রু চিহ্নিত হয় না।
পুরুষতান্ত্রিকতা আসলে কী। একটা হচ্ছে জোরজবরদস্তি আর ক্ষমতার পুরুষ আরেকটা হচ্ছে সংস্কৃতির পুরুষ। আপনি সংস্কৃতির পুরুষকে খুজতে বলছেন,আমিও তা-ই খুঁজছি, তবে ভিন্নভাবে। বাজারের পুরুষ অনেক ভীষণ, সংস্কৃতির পুরুষকে সে জিইয়ে রেখেছে, ভয়ানক করে তুলেছে। আগে বাজারি পুরুষকে উন্মূল করা চাই। সংস্কৃতির পুরুষটা নীরিহ, একে খুঁজে পেতে সময় লাগলেও উৎপাটন করতে সময় লাগবে না। কিন্তু একে ভুলভাবে খুঁজলে অনেক বড়ো ভুল হয়ে যবে।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
ভাই নষ্ট কিবোর্ড........প্রচুর বানান ভুল আছে। কষ্ট কইরা মিলায়া নিয়েন।
__________________________________________
...মিলায়া নিছি...পুরাটাই মিলছে। পশ্চিমের "নারীমুক্তি" আমার চাই না।
প্রথমে কষ্টসাধ্য একটি পোস্টের জন্য লেখক এবং সকল মন্তব্যকারীদের ধন্যবাদ। সব মন্তব্যগুলো এখনও পড়া হয়নি। প্রিয়তো তুলে রাখলাম পরে পড়বো বলে।
একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সম্পদ নিয়ে লড়ালড়িতে নারীর ওপর পুরুষে জয় বললে সাধারণ পাঠকের কাছে মনে হতে পারে লড়াইটা নারী-পুরুষে হয়েছিল। আদিম সাম্যবাদী সমাজের শেষের দিকে যখন পশু শিকার অর্থনীতি-পশু পালন অর্থনীতি, তারও পর কৃষি অর্থনীতি। এ কৃষির আবিস্কার কিন্তু নারীই করেছিল। তার প্রকৃতিগত সম্ভাবনার বলে। মনুষ্য প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখার নারীর যে নিজস্ব একক শক্তি অর্থাৎ সন্তানধারণ, সে সময় নারী নিয়োজিত হয়ে পড়ে কৃষিতে.....নিজস্ব সৃজনীশক্তি দিয়ে। কিন্তু পুরুষ ঠিকই পশু শিকার ও পশু পালন করতে থাকে। পশু শিকার ও পশু পালনে বেশি সময় ধরে থাকবার জন্য পুরুষের অপেক্ষাকৃত বেশি দক্ষতা তৈরি হয় পশুভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায়। পরবর্তীতে কৃষিতে যখন পশু শক্তির ব্যবহার শুরু হয়, তখন কৃষিতে পুরুষের আধিপত্য তৈরি হয়। পুরুষের এ আধিপত্যই উৎপাদন-পুনরুৎপাদন হয় সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কৃষিভিত্তিক অথৃনীতিতে উৎবৃ্ত্ত উৎপাদন, উৎবৃত্ত উৎপাদনের ব্যক্তিগত মালিকানা তৈরি, আর এ মালিকানা যেহেতু পুরুষের হাতে এসে যায়, তখন বংশধারা রক্ষা ও মালিকানা হস্তান্তরের প্রশ্নে পুরুষের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে নারীর তথাকথিত সতীত্ব রক্ষার ধারণা তৈরি...............। এই যে কৃষি নারীর হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত সম্পদের ধারণা তৈরি এ দু'টিকে এঙ্গেলস নারীর ঐতিহাসিক বিশ্বপরাজয় বলেছেন। এ আলোচনগুলো আপনার পোস্টেও এসেছে। তবু একটু উল্লেখ করলাম। আশা করি বিরক্ত হন নি।
অন্য কেউ বলেছেন:
etodin baade dekhlam. aro kichhudin baad abar niyomito howar asha rakhi blog-e. tokhon firbo ekhane, abar.juddhe chhilam, thakbo.
সুমন অহেমদ বলেছেন:
লেখাটা বেশ লজিকাল....পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়েছি গতোকাল...
ভালো লাগলো...
এই ব্লগে আপনার প্রোফাইলের লিংকটাই প্রথম আমাকে একজন দিয়েছিলো অনেক আগে... আমি তেমন আগ্রহ পাইনি... যে লিংকটা দিয়েছিলো তার আসল নাম ভুলে গেছি, তবে তার সাথে মাঝে মাঝে অনেক কথা হতো... এফএফএফ. . . .
তাকে মনে পড়ে গেলো।
ও... অন্যপ্রসঙ্গে কথা বলছি!!
দুঃখিতো....
আপনার সাথে আশারাখছি কথা হবে, যদি আস্তিকতা নাস্তিকতা নিয়ে কোনো লেখা লিখি...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















