আমার প্রিয় পোস্ট

বিতর্ক পোস্ট: বিষয়- পতিতাবৃত্তি (উৎসর্গ: ফাহমিদুল হক)

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০

শেয়ারঃ
0 3 0

ফাহমিদুল হক এর "অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি; পর্নোগ্রাফির বিবর্তন" শীর্ষক চমৎকার সিরিজের শেষ পর্ব(Click This Link) এবং তার কমেন্টের ডিবেটগুলো পড়ে বেশ কিছু জায়গায় তাঁর সাথে একমত পোষণ করতে পারছি না। ঐ পোস্ট যেহেতু অনেক পুরাতন- তাই দ্বিমতের জায়গাগুলো তুলে ধরে স্বতন্ত্র পোস্ট হিসাবেই দিচ্ছি।

------------------------------------------
পতিতালয় অবশ্যই সমাজে থাকা উচিত। সামাজিক নৈতিকতা রক্ষায় পতিতাদের অবদান অনস্বীকার্য।
==>> আপনার কাছ থেকে এই লাইনগুলো দেখে কিছুটা হোচট খেলাম। হতাশবোধ হচ্ছে। সামাজিক নৈতিকতা রক্ষায় পতিতাদের অবদান কোথায় একটু জানাবেন কি?

বিবাহিত পুরুষদের যদি ধরে নিই শরীরের চাহিদা মেটানোর সুযোগ আছে, অবিবাহিতদের সেই সুযোগ কোথায়? পতিতালয় একটা অপশন হতে পারে। এতে ধর্মের কিছু আসলে গেলেও সমাজের অনেক উপকার হয়। যৌনতাড়িত ঐসব পুরুষ নয়তো সমাজে অনাসৃষ্টির কারণ হবে। সভ্যতার শুচিতা পতিতালয় দ্বারা খানিকটা রক্ষিত হয়।
# অবিবাহিতা নারীদের শরীরের চাহিদা মেটানোর সুযোগের কথা কি ভেবেছেন আপনি?
# পতিতাগমনে বিবাহিত পুরুষদের হার কেমন জানেন?
# ধর্মের আলোচনা অবান্তর, ধর্মের কিছু যায় আসে না- ধর্মগুলোও একইভাবে পুরুষতান্ত্রিকতার কথা বলে।
# পুরুষমাত্রই কি যৌন তাড়িত? প্রকৃতিগতভাবেই? নাকি আজকের সমাজের এই সমস্ত আয়োজনই একজনকে পুরুষকে যৌনতাড়িত পুরুষে পরিণত করে? পতিতাবৃত্তি কি আসলে আপনার ঐসমস্ত অনাসৃষ্টি রোধ করতে পারে?
# যৌন তাড়না নিবৃত্তির জন্য কি পতিতাগমনই অত্যাবশ্যক? ফ্রি সেক্স- দুজন নর-নারীর সম্মতিতে সেক্স এর মাধ্যমে সেটা নিবারিত হলে আপত্তি কিসে? যে সমাজে এরকমের চল আছে- এবং সেটা সহজসাধ্য (সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নেই) সেখানেও পতিতাবৃত্তির ক্ষেত্রে আপনার এই অনাসৃষ্টির যুক্তি কি অচল নয়?
# সভ্যতার শুচিতা জিনিসটা আসলে কি? সেটা কেমনে রক্ষিত হচ্ছে?

আমি যখন বলছি "সামাজিক নৈতিকতা রক্ষায় পতিতাদের অবদান অনস্বীকার্য" তখন বোঝাতে চাইছি যে একজন যৌনকর্মীর পেশাটি মোটেই অবমাননাকর নয়। সমাজে তারও কিছু অবদান আছে। এটা নিয়ে তার হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তি দরকার।...... যখন বলছি 'পতিতালয় থাকা উচিত', তখন একে নিয়ে যে ভদ্রলোকী অস্বস্তি সমাজের, তার বিপরীতেই বলছি।
===>> "এটা নিয়ে তার হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তি দরকার" এই কথাটাই হচ্ছে চরম হিপোক্রেসিতে ভরা। কিভাবে হীনমন্যতা দূর করবেন? স্বেচ্ছায় এই পেশায় গমন করে কয়জন? আমার বোন বা আমার মেয়েকে কি এই পেশায় যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারবো? যে এই পেশায় স্বেচ্ছায় যায় না- সে যখন বাধ্য হয়, তখন হীনমন্যতা কি থাকবে না? সমাজের প্রতি তাদের অনেক অবদান- এই কথা বলে তাদের হীনমন্যতা দূর করবেন? কিসের অবদান? কোন অবদান? আপনি আপনার সভ্য সোসাইটিতে তাদের কোন অবস্থান রাখবেন না- আর হীনমন্যতা দূর করবেন!! চরম হাস্যকর কথা!
তবে এটা ঠিকই বুঝা যায় যে, আপনি ভদ্রলোকী অস্বস্তি নিয়েই বেশি ভাবিত। পতিতাদের অবদান মেলা, তারা পতিতা নয়- যৌনকর্মী, এই পেশায় হীনমন্যতার কিছু নেই, দুনিয়ার সব সমাজেই এটা ছিল- আছে... এসবে নিশ্চয়ই ভদ্রলোকেরা তাদের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবে- বিপরীতে পতিতারা যৌনকর্মী হলেও যে তাদের অবস্থানের ইতরবিশেষ কিছু ঘটে না বা ঘটবে না- সেটাও ভদ্রলোকেদের ভালোই জানার কথা, আর জানে বলেই- তারা বড় বড় একাডেমিক রচনা লেখে- নানাবিধ তত্তকথা শুনায়- শুনিয়ে জানান দেয়- এই পেশার খুবই জরুর, সভ্যতার জন্যই নারীদের যৌনকর্মী হওয়া দরকার- যৌনকর্মীদের বহুত অবদান, ফলে তাদের প্রতি সম্মান দিতে হবে, অধিকার দিতে হবে.... ইত্যাদি।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো জাতি বা সভ্যতা সম্ভবত ছিলনা যা পতিতালয়-মুক্ত। বর্তমান সময়েও এমন কোনো সমাজ নেই সম্ভবত নেই যেখানে পতিতালয় নেই। 'সভ্যতা'র বা মানবসমাজের একটা অংশ হিসেবেই একে ধরে নিয়েছি।
===>> এটা হলো আজকের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় প্রচলিত মিথ্যাচার। আজকের যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ, সমাজের যা কিছু ক্ষত- সবকিছুকেই ইতিহাস টেনে বলে দেয়া যে- সব সময় সব জায়গাতেই এমনটা ছিল- এমনটাই থাকবে। ইতিহাসের সবসময়ই মানুষ লোভী ছিল - থাকবে, মানুষ সবসময়ই একে অপরের উপর ক্ষমতার চর্চা করেছে- করবে, শোষণ সবসময় ছিল- থাকবে... ইত্যাদি। আপনার এই আলোচনাও তাই নতুন নয়।

এগুলো এমনই মিথ্যাচার যে- সাধারণ মানুষ খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়- নিজের বর্তমান অবস্থাকে- চারপাশের জগতকেই সবচেয়ে ভালো দেখা যায় বলে এমন কথাকে সত্য বলে মনে হয়, আর সেই সুযোগটাই নেয়া হয়। কিন্তু একাডেমিশিয়ানরা যখন এসব মিথ্যাকে আকড়ে ধরে- যুক্তি হিসাবে হাজির করে- তখন খুব বিরক্তি তৈরি হয়। আজকে তো মানুষ অনেক পুরান যুগের সংস্কৃতির সন্ধান পেয়েছে- আগের জামানার ইতিহাস তো অনেককিছুই মানুষের জানা, নৃতাত্তিক নানা গবেষণাও আজ হাতের মুঠোয়- সেগুলোতে চোখ বুলানো কি খুব কঠিন?

মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় কি পতিতাবৃত্তি ছিল? সেই আমলকে কি আপনি পৃথিবীর ইতিহাস বলবেন না? নাকি আপনার পৃথিবীর ইতিহাস পুরুষতান্ত্রিকতার শুরু থেকে শুরু হয়েছে? আজকের বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও যে পতিতাবৃত্তি নাই- সেটাকে কি বলবেন? নাকি তারাও আপনার ইতিহাসে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়?
কেন পতিতালয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যৌনকর্মীরা কেন এই পথে আসেন -- এইসব সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে যেতে আমি আপাতত আগ্রহী না। আমি বরং যৌনকর্মীদের সম্মান ও অধিকারের দিকে মনোযোগী।
===>>> এর দ্বারাই আরো পরিষ্কারভাবে আপনার বা আপনাদের (তথাকথিত মানবাধিকার কর্মীদের বা মানবসম্পদ উন্নয়নে কর্মরতদের) উদ্দেশ্যটা বুঝা যায়, আগেই বলেছেন- আপনাদের মতে সমাজে পতিতাবৃ্ত্তির প্রয়োজন আছে- মানে আপনারা পতিতাবৃত্তি চান- আর চান বলেই ঐসব সমাজতাত্তিক বিশ্লেষণে (কেন পতিতালয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যৌনকর্মীরা কেন এই পথে আসেন) আগ্রহী হন না- মানে সেগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে তথাকথিত অধিকার-সম্মান এসবের মনভুলানো কথা আউড়ান!

শরীর বেচার মত মর্মান্তিক কাজটিকে আপনারা মহিমান্বিত করতে চান, একে হাত-পা-মাথার কাজের সাথে এককাতারে ফেলে সমান মর্যাদা দেয়ার কথা বলা বা কাজের অধিকারের কথা বলেন। কিন্তু এসব যে- এই পেশাটাকেই জিইয়ে রাখার লক্ষে- তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। আমার ড্রইং রুমে, আমার কর্মস্থলে, আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, আমার বন্ধু-বান্ধব-সোসাইটি-আড্ডায় কোন জায়গায় তো ওদের সাথে মুখোমুখি হতে হচ্ছে না- ফলে গল্পে-বক্তৃতায়-সিম্পোজিয়ামে-থিসিস পেপারে এদের নিয়ে সুন্দর সুন্দর দুচারটি কথা বললে সমস্যা কি?

সেদিন সানন্দার একটা সংখ্যায় চোখ গেলো- দেখি সেখানে গৃহপরিচারিকার প্রতি কেমন ব্যবহার/আচরণ করা দরকার সে সম্পর্কে বার পনেরটা টিপস আছে। আপনার সম্মান আর অধিকারের কথা শুনে- মনে পড়ে গেল।

পুনর্বাসন আর উচ্ছেদ-এর ডাইকোটমির মধ্যে যৌনকর্মীদের ফেলে এই 'অবমাননাকর' পেশার অধিক হেনস্থা করা হয় মাত্র। ..... শামিম ওসমান নারায়ণগঞ্জকে ভদ্রলোকের শহর বানাতে চেয়েছিলেন, যেজন্য টানবাজার থেকে যৌনকর্মীদের উৎখাত করা হয়েছিল। কিন্তু এর যে অন্য রাজনীতি আছে সেটাও সবাই বোঝে। তাই পতিতালয় বন্ধ হবার ভদ্রলোকী দাবিতে আমি নাই।
===>> শিমুল আর শুভ্রের আলোচনার জের এ শামিম ওসমানদের প্রসঙ্গ টানাকে খুব কাচা কাজই মনে হলো! শিমুলকে বলে দেখুন সে এরকমভাবে পতিতালয় উচ্ছেদ চায় কি না। শুভ্র তো মনে হয়- শামিম ওসমানদের ঐ উচ্ছেদ কার্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রামেও ছিল।

দেখুন টানবাজার উচ্ছেদ তো দূরের কথা- আমি তো এই মুহুর্তে মনে করি- এই মুহুর্তে এক ঢাকা শহরেই টানবাজারের মত অন্তত আরো ডজনখানেক পতিতালয় দরকার, সমস্ত ভাসমান যৌনকর্মীদের একুমুলেট করতে যতটা দরকার- ততটাই করতে হবে। কিন্তু সেই সাথে আমি অবশ্য অবশ্যই পতিতাবৃত্তির উচ্ছেদ চাই। পতিতাবৃত্তির উচ্ছেদকে পতিতালয় উচ্ছেদ হিসাবে গণ্য করাটা অপরিণত মস্তিষ্কজাত ছাড়া কিছুই না। এই বৃত্তির উচ্ছেদে আপনি যে সমাজতাত্তিক বিশ্লেষণে আগ্রহী না বলেছেন- সেটারই দরকার সবচেয়ে বেশি, কেন ও কিভাবে একজন নারী যৌনকর্মী হয়ে উঠে- এই আলোচনা ছাড়া কোনভাবেই পতিতাবৃত্তি বন্ধ করা সম্ভব না- আপনার উল্লেখিত শামিম ওসমানীয় পন্থায় পতিতালয় বন্ধ করে তো নয়ই।

একই কারণে পর্নোগ্রাফি বন্ধ করার আহ্বান জানাতে আমি জোর পাইনা। বরং এটা যে পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অনিবার্য পরিণতি, একটা বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি, একটা অচলায়তন -- আমার আওয়াজে এর সামান্য কেশও স্পর্শ হয়না। আমি বরং এর আধেয়তে পরবির্তন আনতে আগ্রহী। যে এতে নারীর দৃষ্টিভঙ্গীর অনুপ্রবেশের পক্ষপাতী। পুরুষরে পাশাপাশি নারীর দৃষ্টিতে যৌনতাকে দেখতে আগ্রহী। সত্যি কথা হলো 'নারী নিচে পুরুষ ওপরে' -- যৌনশাস্ত্রে এরকম অলঙ্ঘনীয় সঙ্গমকাঠামোর অনিবার্যতার বর্ণনা আছে বলে আমার জানা নেই।
====>> হাস্যকর ঠেকলো। পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অনিবার্য পরিণতি বলে, এর কেশও স্পর্শ করতে পারবেন না বলে- আধেয়তে পরিবর্তন আনতে চাইছেন! সেটাই কি আপনি পারবেন? বা পারছেন? পর্নোগ্রাফিতে নারীর দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রবেশ কিভাবে ঘটাবেন? উপর আর নীচের বিষয়টি পাল্টিয়ে? সঙ্গম দৃশ্যের শেষে নারীর মুখে গায়ে বীর্যপাতের দৃশ্য বন্ধ করে? হাস্যকর!


আপনি বলছেন "পর্ণোগ্রাফির প্রয়োজনীয়তা কোথায়। কোথাও নেই।"
অথচ আপনি [হয়তো] ঠিকই একজন পর্নোগ্রাফির ভোক্তা। আমি এটাও জোর করে বলতে পারিনা যে পর্নোগ্রাফি কারও কোনো ধরনের প্রয়োজনই মেটায় না।.....পর্নোগ্রাফির ভোক্তা হবার প্রাপ্তবয়ষ্ক দাবিকে আপনি উড়িয়ে দিতে পারেননা। আমি একে অপ্রাপ্তবয়ষ্কদের কাছ থেকে দূরে রাখতে চাই। একই কারণে শিশুদের পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহারের ঘোর বিরোধী
===>> ভোক্তা হলেই কি সেটা দাবি হয়ে যাবে? কিশোরদের এগুলো সবচেয়ে বেশি টানে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যাপারে পরিসংখ্যান থেকে
জানা যায় যে- পর্নোসাইটে হিটকারীদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররাই শীর্ষে। ফলে- আপনি কি বলবেন, এই অপ্রাপ্তবয়স্কদের দাবিকে উড়িয়ে দেয়া যাবে না? অন্যের যৌনাঙ্গ বা সঙ্গমদৃশ্য দেখার মাধ্যমে যৌনসুখলাভ করাটাকে আপনি প্রাপ্তবয়স্কের দাবি হিসাবে উল্লেখ করছেন?


আমি তো পেশাটি নিয়ে গৌরাবান্বিত হবার কথা বলিনি। আমি বলেছি যে একজন যৌনকর্মী যদি সামাজিক কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগে , তবে সেই হীনম্মন্যতাকে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা দরকার। তাকে একটা পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার কথা বলেছি। যেজন্য একজনের বেশ্যাকে আজ যৌনকর্মী হিসেবে ডাকা হয়ে থাকে
===>> একটা পেশায় যদি গৌরাবান্বিত হওয়া সম্ভবই না হয়- তবে কি করে আপনি হীনমন্যতা দূর করবেন? বেশ্যাকে যৌনকর্মী বলার মধ্য দিয়ে?

সমস্যা তো উপসংহার নিয়ে, যৌনকর্মীদের প্রসঙ্গ বাদ দিই, উপসংহারটা কেমন হলে ভালো হতো, আপনারা এইবেলা বলেন।
===>> প্রবন্ধটি যেহেতু আপনার- উপসংহারটাও তো আপনাকেই টানতে হবে। আপনি যে উপসংহার টেনেছেন- সেটার কোন কোন জায়গা ভালো লাগেনি- সেটা যথেস্টই আলোচিত হয়েছে- সেখান থেকে কি বুঝতে পারেন নি- কেমন হলে ভালো লাগতো?


পাদটীকায় এটা বলা যায় এই প্রবন্ধ রচিত হয়েছে সাংষ্কৃতিক অধ্যয়ন বা কালচারাল স্টাডিজ ধারায়, এবং কালচারাল স্টাডিজ কালচারাল কন্টেন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করে, বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে কালচারাল প্রোডাক্টকে যদিও সম্পর্কায়িত করার মাধ্যমেই তা করে থাকে। কিন্তু পণ্যের উৎপাদন-সম্পর্কের জায়গায় ঝাঁকুনি দেয়না। উহার দায়িত্ব অন্য কারও হাতে ন্যাস্ত আছে।
===>> কালচারাল স্টাডিজ কেবল কালচারাল কনটেন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করবে, তা উৎপাদন-সম্পর্কের জায়গা ধরে ঝাঁকুনি দিতে পারে না- এমন বাঁধাধরা নিয়ম কোথায় পেলেন?

অন্য কারো হাতে ন্যাস্ত আছে- বলে নিজের দায়িত্বটুকু এড়িয়ে যাচ্ছেন নয় কি? আর তাছাড়া কমেন্টের ডিবেটগুলোও কি আপনার কালচারাল স্টাডিজের অন্তর্ভুক্ত?

 

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

লেখক বলেছেন:
হুমমম.. কি? মতামত দেন।

৩. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৯
মেঘ_কম বলেছেন: নিয়ে গেলাম, পরে দেখব।
৫. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬
সুবিদ্ বলেছেন: পতিতাবৃত্তি একটি অন্যতম আদিম পেশা......আজকেও যা চরম একটা বাস্তবতা........

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে কোনভাবেই জায়েজ করা যাবেনা.......

আলোচনা যদি আমাদের সমাজে সীমাবদ্ধ থাকে তবে সাধারণভাবেই বলবো......একে যেমন নিকট (হয়তো কখনোই) দূর করা যাবেনা, তেমনি একে ঠিক উৎসাহ দেয়াটাও ঠিক হবেনা.......
৬. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
কঠিন চিজ বলেছেন: :( :( :( :(( :(( :((

সবাই খালি নৈতিক অবক্ষয়রে সাপোর্ট করে।
৭. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯
কৌশিক বলেছেন: (ইস কত কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততায়!)
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৮

লেখক বলেছেন:
ইস আপনেরেও আমরা মিস করতাছি......


তাড়াতাড়ি ব্যস্ততা কমাইয়া দেন....

৮. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: এখন আলোচনায় আসতে পারছিনা। পুরা লঘু মুডে আছি। আবার পড়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।
৯. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২২
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আমিও তখন অনেক আলাপ তুলছিলাম সেই পোস্টে। সদুত্তর পাই নাই। :(

এই পোস্ট পর্যবেক্ষণে রাখলাম।
১০. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬
লিভ ইন ঢাকা বলেছেন: ভালো লেগেছে যুক্তিগুলো!
১১. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
আমি এবং আঁধার বলেছেন: আপনার বক্তব্য ভালো লাগলো। তাত্ত্বিকগত নয়, বাস্তবতায় এসমস্যা নিরসনে কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন??
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন:
এ সমস্যা নিরসনে কি করা দরকার?
প্রথমত আমি মনে করি- আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সমস্ত মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো (যেমন অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসা-কাজ) নিশ্চিত করতে হবে; খুব খুব জরুরী হচ্ছে- সব হাতে কাজের নিশ্চয়তা এবং প্রতি কাজেরই উপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা ও পারিশ্রমিক প্রদান। দ্বিতীয়ত- নারী নির্যাতন, নারী অপহরণ, নারীকে প্রতারণা... এসব দূর করতে হবে- এ যাতীয় অপরাধ রাষ্ট্রকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থানগত ডিসক্রিমিনেশনও দূর করতে হবে- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরুষের পাশাপশি নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এবং একটা অলআউট সাংস্কৃতিক মুভমেন্ট প্রয়োজন- নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটাই পাল্টে ফেলতে হবে- রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। এখন বাস্তবতার কথা যদি বলেন, তবে মনে হতেই পারে, এই সমাজ ব্যবস্থায় কি সম্ভব? সেখানেও বলতে হবে- এটা আসলে একই সাথে সমাজ ব্যবস্থা পাল্টানোর আন্দোলনের সাথেই সম্পর্কিত। কর্পোরেট বানিজ্য থাকবে- মুনাফাকেন্দ্রিক পণ্যায়িত সমাজ ব্যবস্থা থাকবে- পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বজায় থাকবে- আর পতিতালয় থাকবে না- সেটা আমিও মনে করি না। কিন্তু উপরে যেসমস্ত উপায় একে একে বাতলে দিলাম- সেগুলোর সবই কিন্তু পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোই পূরণ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, ফলে- এই কাঠামোতে এসব দাবি করাটাও জরুরি কারণ, এর মাধ্যমেই দেখানো সম্ভব যে- বিদ্যমান কাঠামোতে রাষ্ট্র আজ তার অঙ্গীকারটুকু রাখতেও অপারগ।

ফাহমিদুল হক যখন পতিতাদের সম্মান করার কথা ও তাদের অধিকারের কথা বলেন- সেটার বিরোধিতা করেছি, আবার দেখা যাবে আমিও আবার সেই একই কথা বলবো- এই মুহুর্তে বিদ্যমান অবস্থায় সম্মান আর অধিকারের দাবি আমিও তুলি। কিন্তু- ফাহমিদুল হকের সাথে আমার মূল পার্থক্য হচ্ছে যে, উনি এই ব্যবস্থাকে অপরিবর্তনীয়- প্রয়োজনীয় হিসাবে ধরে এইসব দাবি করছেন, আর আমি এই ব্যবস্থা পাল্টানোর জায়গা থেকে আমার দাবিগুলো তুলছি। আর, সেকারণে তিনি বলতে পারেন: "কেন পতিতালয়ের সৃষ্টি হয়েছে, যৌনকর্মীরা কেন এই পথে আসেন -- এইসব সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে যেতে আমি আপাতত আগ্রহী না। আমি বরং যৌনকর্মীদের সম্মান ও অধিকারের দিকে মনোযোগী।" এর মানেই দাঁড়ায় যেসব কারণে পতিতালয়ের সৃষ্টি সেগুলো নিয়ে বলার কিছু নেই- এসব ছিল থাকবেই, শুধু এখানকার নারীরা যাতে যথাযথ সম্মান পায়- তাদের অধিকার পায়- সেটার নিশ্চয়তা পেলেই হবে। এই এপ্রোচটাতেই আমার যত আপত্তি।

আমিও তাদের অধিকারের কথা বলি। কিন্তু সেটা তো তাদের মানুষ হিসাবে বাঁচার অধিকার। যে কাজে তারা গৌরাবান্বিত হতে পারে- সেই কাজ পাওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই তাদের আছে। কিন্তু তা না বলে যদি যে কাজে তারা গৌরাবান্বিত হবে না- সেই কাজে তাদের হীনমন্যতা দূর করার কথা যদি বলা হয়- তবে সেটাকে আমার নিখাদ ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই মনে হয় না। পতিতা-বেশ্যা এসব ভাষার বিরুদ্ধে আমিও বলি- তার কারণ এই ভাষাগুলো এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা তৈরি করেছে, কিন্তু জানি- ভাষা তো লক্ষণ মাত্র যা দিয়ে আমি সমাজটাকে চিনাতে পারি, কিন্তু কেবল ভাষা পাল্টালেই কি সমাজের মানসিকতা পাল্টে যাবে? পতিতাকে যেমন আমার বাসার ড্রয়িংরুমে আপ্যায়ন করতে পারি না- একইভাবে তো তাকে পতিতা না বলে যৌনকর্মী বললেই কি ভদ্রলোকেদের ড্রইংরুমে স্থান পাবে?

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: যৌনকর্মীদের অধিকারের কথা বললে- এ মুহুর্তে যেসব খুব জরুরি মনে করি সেগুলো হচ্ছে:
প্রথমত ভাসমান যৌনকর্মীদের জীবন-যৌনতা-আয়ের নিরাপত্তা এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা। এরা অহরহই মার খায়-জখম হয়- এমনকি খুন পর্যন্তও হয়, রেপড হওয়াটা এদের জন্য নৈমত্তিক ব্যাপার, প্রতারিত হয় নিয়মিত-বিভিন্ন পার্টি এদের ভোগ করার পরে প্রাপ্য মজুরিটুকুও না দিয়ে এদের কুকুরের মত ছুড়ে ফেলে দেয়। এসবদিক দিয়ে এরা পতিতাপল্লীর যৌনকর্মীদের তুলনায় অনেক বেশী নির্যাতিত।
দ্বিতীয়ত, পতিতাপল্লীগুলোতেও
->যৌনকর্মীদের জীবন-যৌনতা-আয়ের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। এখানেও একইরকম সমস্যা বিদ্যমান। তবে খুব সহজেই এবং রাষ্ট্র উদ্যোগ নিলেই এখান থেকে নির্যাতন ও প্রতারণা বন্ধ করতে পারে।
->যৌনকর্মী যে আয় করে- তার পুরাটাই যাতে নিজেরা রাখতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে
-> দালাল-মাস্তান-প্রভাবশালী নেতাদের চক্রকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
-> যৌনকর্মীদের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে হবে
-> কোন নারীকে যেন জোর করে, প্রতারণার মাধ্যমে, বেচাকেনার মাধ্যমে এই পেশায় নামতে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
-> এই পল্লীতে জন্মানো শিশুদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যথাযথ শিক্ষা ও সমস্ত কিছুর দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকেই।
-> বিকল্প কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে যখনই কেউ এই পেশা ছাড়তে চায়- তখনই যেন স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোন জায়গায় কাজ পায় এবং কেবল কাজের অভাবে এই পেশায় থাকতে বাধ্য না হয়।
-> পসার কমে গেলে বা একটা বয়স পরে, বিকল্প আয়ের সংস্থানটাও খুব জরুরি- সেজন্যও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে বয়স হওয়ার পরে "খালা" হয়ে নানাচক্রের সাথে নিজেকে জড়িত রাখতে না হয়।
-> অফ সিজনে বা যেসময়ে পসার কম- সেরকম সময়ের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখা- যাতে ভাসমান হয়ে যেতে বাধ্য না হয়।
-> আর, এদের জন্য ব্যংক একাউন্ট, শিক্ষার ব্যবস্থা প্রভৃতি দাবি তো আছেই।

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪০

লেখক বলেছেন:
এবং যখনই সব হাতের কাজের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র দিতে পারবে- তখনই আইন করে সমস্ত ধরণের পতিতালয় তুলে দিতে হবে। একদম পুরা বন্ধ।

কিন্তু কাজের নিশ্চয়তা দেয়ার আগেই কখনোই পতিতালয় উচ্ছেদ করা যাবে না। ফলে স্টেপটা কেমন? ====>>>>

যতদিন ভাসমান যৌনকর্মী আছে ততদিন নতুন পতিতাপল্লী তৈরি করতে হবে এবং ভাসমানদের সেই পল্লীতে নিয়ে আসতে হবে ======>>> যতদিন বিকল্প কর্মসংস্থান না হচ্ছে, সব হাতে কাজ না হচ্ছে, ততদিন পতিতা পল্লী রাখতে হবে এবং তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে =======>>>> সবার কাজের নিশ্চয়তা ( মানে কেবল কোন একটি পল্লীর নারীদের জন্য কাজের সুযোগ না, পুরো রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের কাজের সুযোগ) দেয়া গেলে- আইন করে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ করতে হবে

১২. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭
শয়তান বলেছেন: আপাতত গ্যালারীতে বসলাম



( পর্যবেক্ষন এ পোস্ট )
১৪. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৪
কঠিন চিজ বলেছেন: :( :(

কয়েক দিন পরে পতিতা ওয়ালারা কি বলেবেন সেই চিন্তাই করতেছি।

@পতিতাওয়ালাদের কি মনে হয় যারা পতিতা তারা নিজের ইচ্ছায় সেই পেশ বেছে নেয়??
আর নতুন নতুন মেয়েদের পতিতা না বানিয়ে, পতিতাদের অন্য ভালো পেশাতে নিয়োগের জন্য আন্দোলন করুন।
১৬. ১৬ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪৯
নাজনীন১ বলেছেন: আপনার বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে নারীতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ পতিতা (যৌনকর্মী ) [শব্দের অভাববোধ করছি] ছিল না, আদিবাসী সমাজেও নাই। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আছে, পুরুষেরা সৃষ্টি করেছেন এই পেশা। এখন কেন এ পেশা এক রকমের সমাজে ছিল না, আরেক রকম সমাজে আছে? এর ব্যাখ্যা কি? কেন পুরুষেরা এইরকম পেশা চেয়েছে যুগে যুগে? নারীর হাতে যখন ক্ষমতা ছিল, তখন নারী কেন তার অপব্যবহার করেনি? তার কি কোন লোভ -লালসা ছিল না?

আপনার মতো আমারো প্রশ্ন যেখানে ধর্মীয় বাধা নেই, নারী-পুরুষ অবাধে মিশতে পারছে, সেখানেও কেন পতিতাবৃত্তি পেশা আছে? সেখানে কি শুধু বিবাহিতরাই যায়, অবিবাহিতরা, যাদের প্রেমিকা আছে তারা যায় না? নাকি বলা হবে শুধুমাত্র নিঃসঙ্গ অবিবাহিতরাই সেখানে যায়?
১৭. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৭
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: বর্তমান দুনিয়ার অনেক উন্নত (আর্থিক বা সামাজিক ভাবে) দেশে পতিতাবৃত্তি বা এসকোর্ট পেশা হিসাবে আইনসঙ্গত ও স্বীকৃত। এইটারে কি ভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৪

লেখক বলেছেন:
আইন দিয়ে সেটা নিষিদ্ধ করতে হবে। এটাই সমাধান।

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: দেখুন, ঐসব দেশে এই পেশা আইনসঙ্গত ও স্বীকৃত মানেই হচ্ছে রাষ্ট্র এটাকে প্রোমোট করছে। কেন?

যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের অনেক দেশেই এটাকে কেন্দ্র করে বিশাল পুঁজি ঘুরাফিরা করে- অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। প্রস্টিটিউশন ও পর্ণো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটা ইনকাম সোর্সের অন্যতম (অস্ত্র- তেল- পর্ণো- ঋণ - সফটওয়ার)। ইউরোপেও তাই। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া- মালয়েশিয়া (মালয়েশিয়ায় কিন্তু শরিয়া পুলিশও আছে!!!) এসব দেশে ট্যুরিজম ব্যবসাকে প্রোমোট করার জন্য রাষ্ট্র জেনে শুনে প্রস্টিটিউশনকে এনকারেজ করেছে। .....

আসলে, এসবের সাথে জড়িত- রাষ্ট্রের চরিত্রটা কেমন? পণ্যায়িত সমাজ কাঠামোতে- রাষ্ট্র তাই পতিতাবৃত্তিকে উৎসাহিত করে।

আপনি যদি ঐ সমাজের একটা নারী যে এই পেশায় আসে তার দিক থেকে চিন্তা করে প্রশ্ন করেন- সে কেন আসছে, তবে তার জবাবে কি বলা যেতে পারে? ঐসব দেশে একজন নারীর যৌনকর্মী হওয়ার কারণ কি হতে পারে? জোর-জবরদস্তি-চক্র এসব যদি বাদ দেই, যদি স্বেচ্ছায় আসার কথা ধরি- তবে কোন জায়গা থেকে এ পেশায় আসবে? সমাজে চাইলে অন্য কাজের সুযোগ থাকা অবস্থায় কেন আসবে? দুটো/তিনটা কারণ হতে পারে- ১) অন্য পেশার তুলনায় এই পেশায় অধিক অর্থ পাওয়া যায়, অথচ এর জন্য আলাদা তেমন কোন কোয়ালিফিকেশন অর্জন করতে হয় না ২) জনপ্রিয় বা স্টার হতে চায় ৩) যৌন তাড়না থেকে, ===>> আর কি কারণ থাকতে পারে? প্রোস্টিটিউশন যদি না থাকতো- তবে ঐ নারীর কি সমস্যা হতো? ৩ নং কারণ দূর করা সম্ভব যৌনাচার নিয়ে সামাজিক বিধি নিষেধ তুলে দিয়ে। প্রোস্টিটিউশন না থাকলে- অধিক অর্থের সোর্স হিসাবে বা স্টার হওয়ার চান্স হিসাবে এই অপশনই তো আসবে না।

আমি আসলে সবসময়ই পুরো বিষয়টাকে যারা এই পেশায় যাচ্ছে- তাদের দিক থেকেই আলো ফেলতে চাই। যারা খদ্দের, যারা ভোক্তা, যারা যায়- তাদের বিষয়টা আমার কাছে গৌন। তারা কেন যায়- সেটা দিয়ে এই পেশা থাকার যৌক্তিকতা বিচার করার পদ্ধতিটাই আপত্তিকর।

আর, এই পেশা তুলে দিলে- যৌন তাড়িত পুরুষেরা সমাজে নানা অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হবে, মানে ধর্ষণ-নারী নির্যাতন বেড়ে যাবে- এই ধরণের একটা প্রচারণা জারি আছে। এটাও একটা চরম হাস্যকর ও আপত্তিকর যুক্তি। শিমুল/শুভ্র ফাহমিদুল হকের এই যুক্তির রেসপেক্টে প্রশ্ন তুলেছিল- প্রোস্টিটিউশন কি ধর্ষণের মত অপরাধকে কমাতে পেরেছে? আসলে- এসব যুক্তির মাধ্যমে এসব অপরাধ বা সমস্যার মূল কারণটি আড়াল করা হয়।

একজন পুরুষ যৌনতাড়িত হলে এবং সেই যৌনক্ষুধা স্যাটিসফাই করতে না পারলে- ধর্ষণ করতে পারে, তাই সেটা স্যাটিসফাই করার মত প্রোস্টিটিউশন থাকতে হবে- এই যুক্তির মত ভয়ংকর চিন্তা আজ প্রগতিশীলতার নামে করা হচ্ছে! কি আশ্চর্য! একজনের যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য কতই না তাগিদ! প্রোস্টিটিউশন না থাকলে- সে ধর্ষণে প্রবৃত্ত হতে পারে? তো কি হয়েছে- রাষ্ট্র নারীকে ধর্ষণ বা যেকোন নির্যাতন থেকে রক্ষা করবে। রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব কি অস্বীকার করার একটা ঝোঁক পাওয়া যায় না - এইরকম যুক্তির মধ্য দিয়ে?

১৮. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩০
তামজি বলেছেন:
আপনার মতো আমারো প্রশ্ন যেখানে ধর্মীয় বাধা নেই, নারী-পুরুষ অবাধে মিশতে পারছে, সেখানেও কেন পতিতাবৃত্তি পেশা আছে?
১৯. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৪
জামাল ভাস্কর বলেছেন: ফাহমিদুল হক এইরম বক্তব্য দিছিলো নাকি!?

এনজিও ঘরানায় তো আজকাল পতিতাবৃত্তি শব্দটা উইঠা গেছে...তারা কয় যৌন কর্মী...পয়সার বিনিময়ে যৌন সঙ্গী হওনটারে তারা আদিতম পেশা কয়। যাউগ্গা, আমি পেশা হিসাবে এই যৌন সঙ্গী হওনরে খুব প্রয়োজনীয় মনে করি না। পতিতালয় বইলা চিহ্নিত কয়টা জায়গায় এনজিও ডক্যুমেন্টারী বানানের কাজে থাকনের অভিজ্ঞতা থেইকা জানি, শখ কইরা যৌনতাড়িত হইয়া এই পেশায় আসা নারী আমার চোখে পড়ে নাই।

পুরুষের তাড়না মিটাইয়া সমাজে শান্তি বজায় রাখনের দায়িত্ব নারীরে দিতে চাইতেছেন ফাহমিদুল হক সাহেব। ভালোই।

শামীম ওসমানেরা কি কারণে টানবাজার উচ্ছেদে নামছিলো জানি না ভালোমতো। আমি জানতাম তারা জমি দখল আর রাজনৈতিক ধান্দাবাজীতেই আছিলো। কিন্তু ফাহমিদুল হক সাহেবের বক্তব্যরে আমার আসলে নব্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল মনে হইলো।
২০. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪২
সুপ্ত সবুজ বলেছেন: লেখকের সাথে অনেক বিষয়ে মত পার্থক্য থাকলেও এ লেখাটা পছন্দ হয়েছে। ফাহমিদুল হক যেভাবে লিখেছেন তাতে মনে হয় তিনি তার স্ত্রী কিংবা বোনকে এ পেশায় নিয়ে আসবেন। আমরা অবশ্য এ ব্যাপারে আশাবাদী। আমার মনে হয় খারাপ লাগার মত আমি কিছু বলিনি।
২১. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: পতিতাবৃত্তি বন্ধ করলে তার উপজাত হিসেবে আরো কিছু সমস্যার উদ্ভব হতে পারে, এই জিনিসটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। নৈলে যদি হিতে বিপরীত হয়ে যায় তখন এই অপরিণামদর্শিতার জন্য দায়ী হবো আম্রাই।
নারীরা নিছক যৌনতাড়িত হয়ে এই পেশায় আসেনা। এই কথাটা প্রায় ১০০% ক্ষেত্রে সঠিক। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিবাহপূর্ব বা বিবাহপরবর্তী যেসব অনৈতিক সম্পর্ক গুলো, সহজ ভাবে বল্লে পরকীয়া, এগুলোর ব্যাখ্যা কি হতে পারে? যেসব পুরুষ/নারী এসব অনৈতিক সম্পর্ক গুলো গড়ে তোলে তাদের মানসিকতাটা কেমন থাকে? ব্যাক্তিগত জীবনে অতৃপ্তিই কি এর মূল কারণ না নতুন নতুন যৌন সঙ্গীর আকাঙ্খাটা কোনো ফ্যাক্টর?
২২. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯
নাজিম উদদীন বলেছেন: নারীমাংসকে কারা পণ্য বানায়, কারাই বা এর জন্য চাহিদার সৃষ্টি করে এসব জানা এবং পতিতাবৃত্তিকে সমাজে জায়েজ করার জন্য বিশেষ কোন যোগ্যতা লাগে না।
২৩. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৪
জামাল ভাস্কর বলেছেন: বিবাহ পূর্ব বা বিবাহ পরবর্তী শারিরীক সম্পর্করে নৈতিকতা দিয়া বিশ্লেষণের বিষয়টা আমার পছন্দ না। একজন নারী বা একজন পুরুষের শারিরীক সম্পর্ক নিয়া ভিন্ন উপলব্ধি থাকতেই পারে বইলা আমি মনে করি।

ব্যক্তিগত তৃপ্তি বা অতৃপ্তির শারিরীক বিষয়টা আসলে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় তারে অবদমন বরং সমস্যা তৈরী করে...কিন্তু মানসিক ধাচাটা তৈরী হইছে এই সমাজে টিকা থাকা বহুকালের পুরুষতান্ত্রিক চর্চা আর উপলব্ধি থেইকা। এইটারে যৌন শিক্ষার মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব...(একান্তই যদি নিয়ন্ত্রণ করতে চান)।

যৌনতারে ট্যাবু হিসাবে দেখার বিষয়টা এক্কেরেই পুরুষতন্ত্র আর সামন্তীয় অবশেষের উপজাত। নারীরে সবসময়েই দেখা হইছে দাস হিসাবে...ভোগের বস্তু স্বরূপ। পুরুষ একাই একজন নারীর দখল রাখতে চাইছে...কিন্তু নিজের বেলায় সে বহুগামী হওনের সকল অধিকার বজায় রাখছে। নারী বহুগামী হইতে বাধ্য হইলে সে পতিতা হইছে...আর পুরুষের বহুগামীতা হইছে পৌরুষের প্রামাণ্য...
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫

লেখক বলেছেন:
একমত।

@কাকভুষুন্ডি, আপনার আলোচনার জবাবে আমিও এটাই বলি।

২৪. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০
টংকেশ্বরী বলেছেন: খুব ভালো লেখা। সবচেয়ে বড় কথা যুক্তিগুলো যৌক্তিক । ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।


সবচেয়ে ভাল লেগেছে পতিতালয় এবং পতিতাবৃত্তি নিয়ে আপনার মতামত। একমত।

" দেখুন টানবাজার উচ্ছেদ তো দূরের কথা- আমি তো এই মুহুর্তে মনে করি- এই মুহুর্তে এক ঢাকা শহরেই টানবাজারের মত অন্তত আরো ডজনখানেক পতিতালয় দরকার, সমস্ত ভাসমান যৌনকর্মীদের একুমুলেট করতে যতটা দরকার- ততটাই করতে হবে। কিন্তু সেই সাথে আমি অবশ্য অবশ্যই পতিতাবৃত্তির উচ্ছেদ চাই।"




পুনশ্ছ: ওইসব লোকদের কথা শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়। সত্যি সত্যি জানতে ইচ্ছে হয়, উনাদের আপন/ প্রিয় কোন মানুষকে এই পেশায় দেখলে ও উনারা এসব যুক্তি দিতে পারে কিনা।


" পুরুষমাত্রই কি যৌন তাড়িত? প্রকৃতিগতভাবেই? নাকি আজকের সমাজের এই সমস্ত আয়োজনই একজনকে পুরুষকে যৌনতাড়িত পুরুষে পরিণত করে?"
২৫. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩১
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: সমাজের বিভিন্ন স্তরের কিছু নারীর লগে কথা কৈছি, তারাও কিন্তু পুরুষের এই বহুগামীতারে যাস্ট তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবেই দেক্তে ভালোবাসে বৈলা কৈছে। পছন্দ করে না, কিন্তু কিছু কয়ও না।
নারী কি সব ক্ষেত্রেই খালি বাধ্য হৈছে বহুগামী হৈতে? আমার মনেহয় না। অজানা জিনিসের প্রতি আকর্ষণও এক্টা ফ্যক্টর হিসেবে কাজ করে। এটা অবশ্য পুরুষ নারী সবার জন্য প্রযোজ্য। সমাজ পুরুষতান্ত্রিক বৈলাই আম্রা নারীগো উপ্রে সকল দোষ চাপায়া দিয়া বৈসা রৈ।
আমি আসলে কৈতে চাইছিলাম যে পতিতাবৃত্তিরে সম্পুর্ণভাবে বন্ধ কৈরা দিলে পরে হয়তো এই অবদমনটা হৈবো। পরিণামে রেপ জাতীয় অপরাধগুলো কি বাইড়া যাওনের কোনো পসিবিলিটি থাকে? @ ভাস্করদা
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮

লেখক বলেছেন: ১৭ নং কমেন্টের জবাবে যা কইছিলাম- সেইটা আবার কপি পেস্ট করতাছি:

আর, এই পেশা তুলে দিলে- যৌন তাড়িত পুরুষেরা সমাজে নানা অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হবে, মানে ধর্ষণ-নারী নির্যাতন বেড়ে যাবে- এই ধরণের একটা প্রচারণা জারি আছে। এটাও একটা চরম হাস্যকর ও আপত্তিকর যুক্তি। শিমুল/শুভ্র ফাহমিদুল হকের এই যুক্তির রেসপেক্টে প্রশ্ন তুলেছিল- প্রোস্টিটিউশন কি ধর্ষণের মত অপরাধকে কমাতে পেরেছে? আসলে- এসব যুক্তির মাধ্যমে এসব অপরাধ বা সমস্যার মূল কারণটি আড়াল করা হয়।

একজন পুরুষ যৌনতাড়িত হলে এবং সেই যৌনক্ষুধা স্যাটিসফাই করতে না পারলে- ধর্ষণ করতে পারে, তাই সেটা স্যাটিসফাই করার মত প্রোস্টিটিউশন থাকতে হবে- এই যুক্তির মত ভয়ংকর চিন্তা আজ প্রগতিশীলতার নামে করা হচ্ছে! কি আশ্চর্য! একজনের যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য কতই না তাগিদ! প্রোস্টিটিউশন না থাকলে- সে ধর্ষণে প্রবৃত্ত হতে পারে? তো কি হয়েছে- রাষ্ট্র নারীকে ধর্ষণ বা যেকোন নির্যাতন থেকে রক্ষা করবে। রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব কি অস্বীকার করার একটা ঝোঁক পাওয়া যায় না - এইরকম যুক্তির মধ্য দিয়ে?

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: প্রোস্টিটিউশন তুলে দিলে সোসাইটিতে অবদমন বাড়বে- এমনটাও ঠিক নয়। অবদমন তো প্রোস্টিটউশন থাকার পরে আছে। পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটির সমস্ত সংস্কার/টাবু টিকিয়ে রেখে আপনি অবদমন কিভাবে কমাবেন। একদিকে তীব্র আকর্ষণ তৈরি করা হবে- অন্যদিকে নানা টাবুর মাধ্যমে বাধা দেয়া হবে- কি করে অবদমন কমবে?

আর, অবদমন তো কেবল পুরুষের না- নারীরও। তাদের অবদমন মুক্তির উপায় কি?

সবচেয়ে বড় কথা- পুরুষের অবদমন যদি বাড়েও, তার দায় কেন নারীরা পতিতা হয়ে নিবে- বা নিতে হবে?

২৬. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
জামাল ভাস্কর বলেছেন: অজানা বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ বিষয়টা আসে খুব সাধারণ কারণে। যৌনতারে আমরা ট্যাবু বানাইছি আবার যৌনতারে ধরছি সমাজ অগ্রগতির ইতিহাস। কিন্তু যৌনতা নিয়া আলোচনা করতে আমাগো রুচীতে বাধে। ধরেন অনেক প্রগতিশীল ব্লগাররেও দেখি যৌনতা নিয়া বহুত কচকচাইতে প্রগতি দেখাইতে, কিন্তু যৌনতা নিয়া থাকা স্টিগমার প্রকাশও দেখি একই লোকের ভিন্ন আচরণে। যৌনতা নিয়া আমরা খোলাখুলি অনেক কথা কই। নারী শরীরের বিভিন্ন রহস্য নিয়া আমরা ছড়া-কবিতা লিখি...কিন্তু একই বিষয়ে আমার কোন আত্মীয়রে নিয়া কোন মন্তব্য করলে সেইটারে নিতে পারুম কি? মনে হয় না...যৌনতা আসলে এমনই রহস্যময় এই সমাজে। আর এই রহস্যময়তা পুরুষই বানাইছে তার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ-অপ্রমাণের খেলা খেলতে গিয়া। এই সমাজের নারীও পুরুষতান্ত্রিক হইয়াই বড় হয়...রুচীবোধ তৈরী করে; এইটা বাস্তবতা।

কেউ যদি তার অন্যের যৌন পরিতৃপ্তির দেওনের বিষয়টারে পেশা হিসাবে নিতে চায় তাইলে তারে বিকল্প পেশার সন্ধান দেখাইতে পারা যাইতে পারে। কিন্তু অন্যের যৌন অধিকারের উপর হস্তক্ষেপরে সকল সময়েই অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। ধর্ষণ তাই অপরাধ। পতিতা বৃত্তি না থাকলে ধর্ষণ বাইড়া যাইবো এইরম কারণে পতিতাবৃত্তি ধীরে অপসারণ করা লাগবো বিষয়টা নিয়া আলোচনা হয়তো করা যাইতে পারে। কিন্তু আমি নিজে মনে করি, ধর্ষণের ব্যাপারে শাস্তির বিধান রাইখাই পতিতাবৃত্তি(শব্দটা কইতে আমার খারাপ লাগে, একজন নারীরে পতিত ভাবতে পারি না, সমাজের পতিত দশারে আমরা নারীর উপর চাপাই বইলা এই ধরণের বিশেষণের উদ্ভব) বন্ধ হইতে পারে।

যেই সমাজে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড, রেড লাইট এরিয়া, স্লাট, মিল্ফ টাইপ শব্দ প্রচলিত থাকে সেইখানেও ধর্ষণের প্রবণতা কিন্তু আমাগো দেশের চাইতে কম না বস। ধর্ষণ পুরুষ তার ক্ষমতার প্রকাশ হিসাবেই করে। এইখানে ক্ষমতার ব্যবহার একটা রোগ হিসাবে ধরা দেয় আমার কাছে।
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন:
++++++++

২৭. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
হেমায়েতপুরী বলেছেন: পতিতাবৃত্তি আদিমতম পেশা... আছে, থাকবে... এবং ছিল। এটা পড়তে পারেন...

Click This Link আমার ব্যক্তিগত মতামত।

Click This Link আরেকটি অসামন্য উক্তি।

২৮. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: আমি বুঝাতে ভুল করছি মনে হয়।

আমার কথা হচ্ছে, পতিতাবৃত্তি চালু থাকা সত্তেও যেখানে ধর্ষণ/নারী নির্যাতন ধরণের অপরাধগুলো জারি আছে সেখানে পতিতাবৃত্তি বন্ধ করে দিলে এগুলোর প্রোকোপ কি আরো বাড়ার পসিবিলিটি আছে না নেই?

এবার আপনার উত্তরের দিকে তাকাই-

আপনি বলেছেন
একজন পুরুষ যৌনতাড়িত হলে এবং সেই যৌনক্ষুধা স্যাটিসফাই করতে না পারলে- ধর্ষণ করতে পারে, তাই সেটা স্যাটিসফাই করার মত প্রোস্টিটিউশন থাকতে হবে- এই যুক্তির মত ভয়ংকর চিন্তা আজ প্রগতিশীলতার নামে করা হচ্ছে! কি আশ্চর্য!

সমস্যা হচ্ছে পুরো সমাজ এবং পরিবেশটা হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক। যতদিন পর্যন্ত না সমাজ ব্যবস্থাকে পুরুষতান্ত্রিকতা থেকে বের করে কোনো নিউট্রাল সমাজ ব্যবস্থা চালু করা যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আম্রা যতই চেষ্টা করি পতিতাবৃত্তিকে বন্ধ করবার জন্য সেটা সম্ভব না। আমাদের তাকানো উচিত, বোধকরি, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাটাকে সংস্কারের।
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৭

লেখক বলেছেন: সমাজব্যবস্থা পাল্টানোর কথা তো আমিও বলছি। এই সোসাইটি পুরুষতান্ত্রিক- এই সোসাইটিটা মুনাফাকেন্দ্রিক- সেইটারে না বদলাইলে তো প্রোস্টিটিউশনই বন্ধ করতে পারবেন না। একাট আরেকটা থেকে তো বিচ্ছিন্ন না। কিন্তু, আপনি যদি বলেন- এই সমাজব্যবস্থাটা না পাল্টাইয়া প্রোস্টিটিউশন বন্ধ হলে- ধর্ষণ বাড়ার পসিবিলিটি আছে, তখন সেটারে সঠিক মনে করি না। পুরুষতান্ত্রিকতা আগে তুলে দিবেন তারপরে- এইসব দূর করবেন এমন চিন্তাটাই ভুল- এসমস্তই তো পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অনুষঙ্গ, এগুলো দূর না করে কিভাবে সমাজটা পাল্টাবেন। আমি তো মনে করি- পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সমস্ত অনুষঙ্গ দূর করার মধ্য দিয়েই পুরুষতান্ত্রিকতা দূর করা সম্ভব।

আর, এটাও মনে করি না যে- প্রোস্টিটিউশন তুলে দিলে- ধর্ষণের মত অপরাধ বাড়বে: বরং এইসব উপাদান যতদিন থাকবে- ততদিন ধর্ষণের মত অপরাধ থাকবে ও বাড়বে (জামাল ভাস্করের উপরের কমেন্ট দ্রষ্টব্য)। যে লোক নিয়মিত প্রোস্টিটিউশনে যায়- প্রোস্টিটিউশনে যাওয়ার সমস্ত স্কোপ থাকার পরেও সে সুযোগে ধর্ষণ করতে পারে- তেমনি যে লোক কোনদিন প্রোস্টিটিউশনে যায়নি- সে ধর্ষণ নাও করতে পারে- এমন উদাহরণ তো অহরহই পাবেন। বিপরীতটাও হয়তো আছে- কিন্তু সেটা থেকে কখনোই সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না যে- প্রোস্টিটিউশন বন্ধ করলে ধর্ষণ বাড়বে।

সবচেয়ে বড় কথা- ধর্ষণ কমানোর জন্য আমি রাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন বিষয়ক উদ্যোগের কথাই বলবো- তার জন্য প্রোস্টিটউশনকে জায়েজ করতে পারি না।

--------------------
আর, ফাহমিদুল হক যখন বলেন- সমাজের ধর্ষণ কমানোতে প্রোস্টিটিউশনের বিশাল ভূমিকা- সেখান থেকে যৌনকর্মীদের অবদান সম্পর্কিত আলোচনা আনেন- সমাজের শুচিতা রক্ষার্থে যৌনকর্মীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন- তখন, এই ভাবে না বলে উপায় থাকে না: "একজন পুরুষ যৌনতাড়িত হলে এবং সেই যৌনক্ষুধা স্যাটিসফাই করতে না পারলে- ধর্ষণ করতে পারে, তাই সেটা স্যাটিসফাই করার মত প্রোস্টিটিউশন থাকতে হবে- এই যুক্তির মত ভয়ংকর চিন্তা আজ প্রগতিশীলতার নামে করা হচ্ছে! কি আশ্চর্য!"

২৯. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০২
হেমায়েতপুরী বলেছেন: পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থার সাথে সাথে সন্ভবত মানুষের জৈবিক চাহিদা, বায়োলজিকাল স্টিমুলাশন, বহুগামিতা, আদিম প্রবৃত্তিকেও বুঝতে হবে।
৩০. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০২
নাজনীন১ বলেছেন: আপনি ১৬ নং-এর জবাব দেননি, যাইহোক সেটা হতো প্রশ্নের যোগ্যতার মধ্যে পড়েনি। আপনার জানার পরিধি অনেক, আমার মোটেও ততটা না। তাই আবারো প্রশ্ন করতে এলাম।

১৭ নং-এর জবাবে আপনি বলেছেন যে সামর্থবান রাষ্ট্রগুলোও যৌনপেশাকে প্রমোট করছে পুঁজিবাদীর কারণে, পন্যায়নের প্রভাব বা প্রবণতা থেকে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, এ পৃথিবীতে যে সমাজগুলো কিছুদিনের জন্য হলেও সমাজতান্ত্রিক ছিল, সেখানে কি কোন যৌন পেশা ছিল? থাকলে কি আকারে ছিল? কেন ছিল? [স্পেসেফিকেলী বলতে গেলে রাশিয়া, চীন এসব সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ব্যাপারে কি অবস্থান ছিল?]
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩০

লেখক বলেছেন: চীনের বেইজিং এ আমি গত বছর গিয়েছিলাম- সেখানে রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেক্স শপ দেখে এসেছি। যাহোক- চীনকে এখন সে অর্থে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলার কোন কারণ দেখি না।

সোভিয়েত ইউনিয়ন এক সময় গোটা দুনিয়ার সামনে ঘোষণা দিয়েছিল- তাদের রাষ্ট্রে একটাও প্রোস্টিটিউট, একটাও ভিক্ষুক আর একটা বেকার পাওয়া যাবে না। এবং পৃথিবীতে এটাই মনে হয় একমাত্র রাষ্ট্র যে এটা করতে সক্ষম হয়েছিল। আমি মনে করি- একটাও ভিক্ষুক আর একটা বেকার থাকবে না এমন পরিস্থিতি তৈরি করার আগ পর্যন্ত একটাও প্রস্টিটিউট থাকবে না এমন অবস্থা তৈরি করা সম্ভব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন সেরকম অবস্থায় ১৯১৭ সালের বিপ্লবের পরপরেই যেতে পারেনি- অনেকদিন সময় লেগেছে তার।

কিন্তু, নব্বই এ সোভিয়েত পতনের সাথে সাথে সেখানে রাতারাতি প্রোস্টিটিউশন প্রচুর বেড়ে যায়। মস্কো এখন দুনিয়ার অন্যতম নামকরা প্রোস্টিটিউশনের শহর- রাশিয়ান পর্ণোর দুনিয়াজোড়া আলাদা কদর আছে। সুতরাং, এটাও বুঝতে পারি- সোভিয়েত ব্যবস্থার মধ্যে আসলে অনেক গলদ থেকে গিয়েছিল- সেই পরিমাণ কালচারাল মোটিভেশন থাকলে- নিশ্চয়ই পতনের পর পরেই এভাবে এই ইন্ডাস্ট্রি এত তাড়াতাড়ি এত ফুলে উঠতো না। যাহোক- সে ভিন্ন আলোচনা।
-----------------------------

আপনার ১৬ নং কমেন্টের জবাব না দেয়ার জন্য দুঃখিত।
আসলে- ১১ ও ১৭ নং এর জবাবে অনেকটাই কাভার করেছে বলে মনে হয়েছিল....

৩১. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: ভাস্কর দার ২৬নং কমেন্টের পর আমার আর বলার মতো কিছুই নেই।
৩২. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
নাজনীন১ বলেছেন: ধন্যবাদ জবাব দেবার জন্য।

আপনি রাশিয়ার গত প্রায় একশ বছরের যে অবস্থার কথা বললেন, আর মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার যে রূপ দেখা যায়, তাতে কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিতে না পারলেও আমার একটা কথা মনে হয় পুরুষের লোভ, লালসা, ভোগ করার ইচ্ছা, ক্ষমতার বাহাদুরি দেখানো গড়পড়তা নারীর চেয়ে অনেক বেশী [এটা বলছি না ১০০ ভাগ পুরুষ অমন, তবে বেশীর ভাগের প্রবণতা সেরকম, কারো কারো মাত্রাতিরিক্ত বেশী ]। তাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষকে ভোগ করার চিত্র, তাকে পণ্য করার ব্যাপারটা সেভাবে নেই [শুধু কিছু ব্যতিক্রম আছে]। আর পুরুষতান্ত্রিকতা বা পুঁজিবাদী যা-ই বলি না কেন, এটা পুরুষের মজ্জাগত প্রবণতাকে শুধু গতি দেয়, আর কিছু না।

তাই পুরুষতান্ত্রিকতা বদলানো মানে আগে তার অনুষঙ্গতা বদলানো -- মনে হয় না এ থিওরী খুব কাজে দিবে।

কারণ, তা হলে হয়তো রাশিয়া সফলতার পথ খুঁজে পেত কিছুটা হলেও। সেখানে শুধু আসলে জোর করে আইন দিয়ে প্রবণতা ঠেকানো হয়েছে, মানে সুযোগের অভাবে ভদ্রলোক ছিল তারা। মানসিক প্রবণতা পালটানো সম্ভব হয়নি।
৩৩. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২১
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আপনর উপরে ভরসা আছে তারপরও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে ফাহমিদুল হক একথা বলেছে! তাই ওনার পোস্টটাই আগে পড়তে চাই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে। এই মুহুর্তে ভীষণ ব্যস্ত আছি, আশা করছি শিগগিরই এসে হাজির হবো।
৩৪. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯
বিগব্যাং বলেছেন: ফাহমিদুল হক স্যার গাবদাগোবদা সব হেডিং দিয়ে প্রবন্ধ ফাঁদেন...ভিত্রে থাকে ভূষিমাল...আগেও কয়েকবার এমন হইছে...বিরক্তিকর...
পোষ্টে প্লাস...
৩৭. ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০০
মনির হাসান বলেছেন: ঠিক কোন জায়গা থেকে আলোচনায় অংশ নিব খুজতে কষ্ট হচ্ছে।


সময়াভাব এবং ঘুমকাতরতায় ফাহমিদুল হকের লেখাটা পড়লাম না ... এই পোস্টটিকে মৌলিক ধরেই আলোচনায় যাচ্ছি ...


আমি আপনার মত হার্ড লাইনার নই ( হার্ডলাইনে আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে, ঠিক যে রকম'টা একটা কিশোর যদি এ সময়ের প্রেক্ষিতে বলে "রাজাকার'দের রাস্তায় ফেলে লাইত্থ্যা মারতে পারলে শান্তি পাইতাম" ... এটা শুনে আমি তার তারুন্য, আবেগ, উদ্দীপনা'কে শ্রদ্ধা করবো ... কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে দাবী করবো ... যেন রাজাকার'দের একটা বিধিসম্মত বিচার শেষে শাস্তি হয় ... ) ...

তেমনি ... পতিতা সংস্কৃতি'কে সমাজ থেকে হুট করে সমূলে উপড়ে ফেলা'র চিন্তা'টা টেকনিক্যালি অতিস্বপ্ন ।

চর্চটা অতি আদিম এবং মূল'টা অনেক গভীরে প্রথিত । রাষ্ট্র'ব্যাবস্থার হস্তক্ষেপে দুইদিনে বন্ধ করা যাবেনা । বিশাল সময়ের প্রস্তুতি দরকার । বিশাল মানুষের অংশ গ্রহন দরকার।

আশার কথা হচ্ছে ২০০৯'এ দাঁড়িয়ে আমি দাবী করি ... আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি'তে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে ... আরো আসবে ... ধর্ষিতা'দের বিয়ে হচ্ছে, পতিতা'দের ছেলেমেয়ে'রা স্কুলএ যাচ্ছে, আমেরিকায় হার্ডকোর পর্ণস্টার'দের সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে ... আমি আশাবাদী ... পতিতা'দের সামাজিক কর্মকান্ডে পূর্ণ অংশ'গ্রহন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র (ছাগলের গুষ্টি গাইগুই করবে, বাট ব্যাপারনা) ...

এই সামাজিক অংশগ্রহন'টা আমার কাছে বিশাল নিয়ামক রাদার দ্যান রাষ্ট্রীয় অধ্যাদেশ ।

পতিতা, পতিতা পল্লী এই ধরনের শব্দ গুলোয় আমাদের (নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ) একধরনের ফ্যাসিনেশন আছে । মানুষ যখন দেখতে অভ্যস্ত হবে যে তার পাশের ডেস্কের কলিগ একজন পতিতা, বা স্কুলের ফার্স্টবয় একজন পতিতার ছেলে ... তখন ঐ ফ্যাসিনেশন প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে আসবে ।

এতক্ষন আলোচনা করলাম শুরু'টা কিভাবে হবে ...
মূল'উৎপাটনের ব্যাপারে আরেকটু চিন্তা করে মন্তব্য করতে হবে ...
৩৮. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
দীপান্বিতা বলেছেন: নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থানগত ডিসক্রিমিনেশনও দূর করতে হবে- অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুরুষের পাশাপশি নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এবং একটা অলআউট সাংস্কৃতিক মুভমেন্ট প্রয়োজন- নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটাই পাল্টে ফেলতে হবে- রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

+++
৩৯. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৩
জীবনানন্দদাশের ছায়া বলেছেন: আপনার লেখা পড়লাম। ভাল লাগা প্রকাশের লাইসেন্স পাইনি এখনো। দীপান্বিতার রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে কথাটা মুল্যবান মনে হল।
৪০. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: না. ধ. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির জন্য। আপনার কল্যাণে ফাহমিদুল হকের লেখাটিও পড়া হলো, এবং তাকে নতুন করে চেনাও হলো। তবে ওনার আপত্তিজনক আলোচনাটুকু এসেছে মূলত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যে।

আপনাদের বিস্তারিত আলোচনার পরে আলোচনার তেমন বেশি কিছু আর নেই, তবে ফাহমিদুল হকের অবস্থানের কয়েকটি দিক আরেকবার সামারাইজ করা যায়, কারণ অনেক প্রগতিশীল ভদ্রলোকের মুখেই প্রায় একই রকমের কথা শুনেছি:

* পতিতাবৃত্তি একটি চিরায়ত পেশা

* মানুষের যৌনজীবনকে বিবাহিত আর অবিবাহিত এই দুই প্রকারের মধ্যে বেঁধে ফেলা। অবিবাহিতদের জন্য পতিতাগমন উচিৎ কাজ যদিও ধর্ম তা মানবে না তবে সমাজের মঙ্গলের জন্য ধর্মের থোড়াই কেয়ার করাও প্রগতিশীলতা!

* যৌনকর্মীর পেশা মোটেই অবমাননাকর নয়। সমাজে তারও অবদান স্বীকার করাও কর্তব্য।

* সভ্যতার শুচিতা রক্ষায় পতিতালয়ের ভূমিকা আছে।

* যৌনকর্মীরা কেন এই পথে আসেন বাদ দিয়ে যৌনকর্মীদের সম্মান ও অধিকারের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিৎ।

বেশ্যাবৃত্তি ও বেশ্যাকে আমাদের তথাকথিত প্রগতিশীল ভদ্র সমাজ আসলে কোন চোখে দেখে সেটা বুঝতে ফাহমিদুল হক সাহায্য করেছেন, তাকে ধন্যবাদ। দগ্ধ বেশ্যাজীবনের উৎস সন্ধানে এদের কোন আগ্রহ নেই বরং নামবদলের সামাজিকতায় খেলিয়ে নিয়ে বেশ্যাবৃত্তির মার্কেটিং করাতেই এরা তৎপর।

৪১. ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৯
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: মনির হাসানের বক্তব্য পড়েও হতাশ হলাম!

পতিতা সংস্কৃতি'কে সমাজ থেকে হুট করে সমূলে উপড়ে ফেলা'র চিন্তা'টা টেকনিক্যালি অতিস্বপ্ন।

কেন অতিস্বপ্ন? কেউ কি জোর করে পতিতা হচ্ছে নাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পতিতারা অন্যের দ্বারা বলপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে? এটি কার অপরাধ? নিশ্চয়ই যে জোর করছে তার। সমাজ সেই অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারছে না কেন? পতিতাবৃত্তির আরেকটি বড় কারণ ক্ষুধা! প্রথমেই কাজ পেলে কি কোন মেয়ে এই পেশায় আসতো? সমাজ কেন কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না? কাজের নিশ্চয়তা দিতে পারলে কি পতিতা সংস্কৃতি দূর করা সম্ভব নয়?

পতিতা'দের ছেলেমেয়ে'রা স্কুলএ যাচ্ছে...আমি আশাবাদী ... পতিতা'দের সামাজিক কর্মকান্ডে পূর্ণ অংশ'গ্রহন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র

তাই? পতিতাদের পতিতা রেখে তাদের সামাজিক কর্মকান্ডে আপনি আশাবাদী!?! দারুন বলেছেন! সামাজিক অংশগ্রহনটা আপনার কাছে বিশাল নিয়ামক মনে হচ্ছে আর সে কারণেই ফাহমিদুল হক আপনার সেই নিয়ামককে সামান্য ইম্প্রুভ করছেন এই যা!
২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮

লেখক বলেছেন:
দারুন বলেছেন....

ফাহমিদুল হক বা মনির হাসান আসলে- নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিষয়ের উপর আলোকপাত করছেন। একজন নারীর জন্য বা যৌনকর্মীর জন্য পেশাটা কেমন- সেটা তাদের ধর্তব্যের বিষয়ই না। কেবল- আমি আজ একজন যৌনকর্মীকে অনেক সম্মান জানালাম- যৌনকর্মীর সন্তানকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করলাম- এটাকেই বিশাল কিছু মনে করছে। এমনটা করতে পারলে নিশ্চয়ই মহৎ হিসাবে তাদেরকে মেলা বাহবা দেয়া হবে- কিন্তু তাতে কি ঐ যৌনকর্মীর লাঞ্ছনা এতটুকু কমবে বা ঐ যৌনকর্মীর সন্তানের যন্ত্রণা এতটুকু কমবে?

৪২. ২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:০৭
লুকার বলেছেন:


বাংলাদেশের পতিতালয়ে কোন মেয়ে স্বেচ্ছায় যায়নি, বিক্রি হয়ে গেছে।
আইন ও সামাজিক সচেতনতা দ্বারা এটা বন্ধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে জাল বিছিয়ে রেখেছে, তাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়েরা দৌড়ে গিয়ে ধরা দেয়।
স্বল্পসময়ে অধিক উপার্জনের জন্য পয়সাওয়ালাদের সঙ্গ দিতে আগ্রহী মেয়েদের সংখ্যা কম নয়। তাহলে সমাধান কী?

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে পতিতাবৃত্তি ছিল না।
এখন দেহ ভাড়া দেয়া সেখানে অন্যতম প্রধান ব্যবসা।

পৃথিবীর বৃহত্তম পাঁচটি ব্যবসার একটি এটি। প্রাচীনও বটে। এর শিকড় অনেক গভীরে। উপড়াতে হলে সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
৪৩. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: হমমমম....।পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

ফা,মি হকের পোষ্টটিতে আমার কিছু বক্তব্য ছিলো কিন্তু সবকিছু পরিস্কার করা সম্ভব হয়নি।প্রথমত উনার এমন অবস্থান আমার কাছে খানিকটা অপ্রত্যাশিত ছিলো, দ্বিতীয়ত উনার খোঁচা দাগানো কথায় একটু উত্তজিত ছিলাম।আর উত্তেজিত অবস্থায় যুক্তি ঠিকমত কাজ করে না।

যাহোক এইপোষ্টেই আমার অনেক কথাই বলা হয়ে গেছে।ফামি হকের মন্তব্য আশা করছি।
৪৪. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১১
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: আরেকটি বিষয়, ২/১ ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তার ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

কিছু বিষয়ে চিন্তার ভিন্নতার জন্য কাউকে "সুশীল" বলে নামকরন(মতান্তরে), গালিগালাজ
ঠিক হচ্ছে না@ মন্তব্যকারীগন।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন:
কার মন্তব্যে? জা.ভা.'র ?
নব্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল মনে হওয়াতে আমি কোন সমস্যা দেখি না। সরাসরি কিন্তু ফা.হকরে কিন্তু সুশীল বলা হয় নাই।

এইরকম ট্যাগিং কিন্তু ফা.হকও করেছেন, ভদ্রলোকীয় অস্বস্তির কথা বলেছেন। দুইজনের ট্যাগিং রে আমি খারাপ চোখে দেখি না। মাঝে মধ্যে এইসব ট্যাগিং এর দরকার আছে। এই পোস্টে প্লাস দেয়া বা বাহবা দেয়া এমনও লোক আছে- যারা এইসব যৌনকর্মীদের দিনের আলোয় ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকাবে। ফলে- ভদ্রলোকীয় অস্বস্তির কথাটা যেটা বলেছেন- সেটা এক্সিস্ট করে।

আবার- এনজিও অলাদের প্রভাব সম্বলিত একটা ভাবমানস তো সোসাইটিতে গড়ে উঠছে- যারা যৌনকর্মীদের যৌনকর্মী রেখেই কিভাবে অবস্থার উন্নতি করা যায়- কিভাবে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়- এইরকম চিন্তা ভাবনা করছেন। এরাই তো সেই নব্য সুশীল হিসাবে নানা সভা সেমিনার করে থাকে....

৪৫. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৫
ফাহমিদুল হক বলেছেন: অনেক আগেই এই পোস্ট পড়লও ব্যস্ততাজনিত কারণে অংশ নিতে দেরী হলো।
উল্লিখিত ধারাবাহিকের উপসংহার নিয়ে মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের এক পর্যায়ে পতিতাবৃত্তির কথাটি আসে।

সেখানে আমার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এভাবে তুলে ধরি যে:

* একটা টেক্সট হিসেবে পর্নোগ্রাফি যাচ্ছেতাই। এখানে নারী-পুরুষ সঙ্গমসর্বস্ব, সামাজিক ব্যক্তিক সম্পর্কের বরাতে এখানে যৌনতা আসেনা, মুনাফার জন্য কেবলই সঙ্গমদৃশ্যগুলো ধারণ করা হচ্ছে। * ঐ টেক্সটগুলো নারীর জন্য অবমাননাকর, যৌনতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দেয় ও যৌনতার প্রতি নারীর সাড়াকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করে। উপসংহারের দু-একটি বাক্যে ও মন্তব্য পর্যায়ে যা উঠে আসলো, আমি বলছি: * যেহেতু পর্নোগ্রাফি নারীরর জন্য অবমাননাকর, তাই এতে নারীর স্বরের অনুপ্রবেশ ঘটানো চাই। যৌনতা সম্পর্কে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি কী তারও প্রতিফলন ঘটানো দরকার। * উপসংহারে আমি বলেছি: "পর্নোগ্রাফিতে নারীশরীরের যথেচ্ছ ব্যবহার তার শরীরকে যেমন অপমান করে, তেমনি তার আত্মমর্যাদাকে তলায় নামিয়ে আনে -- যে সে মানুষ নয়, স্তন-যোনীসমেত একতাল মাংসপিণ্ড। এই অবমাননা থেকে রক্ষা পাবার একটা উপায় হতে পারে যে পর্নোগ্রাফির উৎপাদন-বিপণন-প্রদর্শন বন্ধের জন্য আওয়াজ তোলা। কিন্তু সেটা সম্ভবত খুব বাস্তবানুগ কোনো কর্মসূচি হবেনা। কারণ সমাজে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, পুঁজিতান্ত্রিক পরিমণ্ডলে এর ব্যবসায়িক বৈধতাও রয়েছে।" আমি বলছি কর্মসূচি হিসেবে তাহলে "সকল পর্নোগ্রাফি বন্ধ হউক", এই জেহাদ ঘোষণা আমার আপনার জন্য কার্যকর কর্মসূচি হবেনা। কারণ এর উৎপাদন-বিপণন কোনোটাই আমাদের হাতে নাই। কিংবা হাতে থাকলেও পুঁজিতান্ত্রিক সিস্টেমে এর ব্যাপক চাহিদা এর অস্তিত্বকে নিশ্চিত করে রেখেছে। কিন্তু আধেয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটা দেখানো গেছে যে যেহেতু এগুলো নারীর জন্য অবমাননাকর, তাই এতে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা হোক, এই দাবি বাস্তবসম্মত। কারণ পর্নোগ্রাফিবাহিত বার্তা পুরুষদের নারীদেহ ও তার সাড়া সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়। সমস্যা তো উপসংহার নিয়ে, যৌনকর্মীদের প্রসঙ্গ বাদ দিই, উপসংহারটা কেমন হলে ভালো হতো, আপনারা এইবেলা বলেন। পাদটীকায় এটা বলা যায় এই প্রবন্ধ রচিত হয়েছে সাংষ্কৃতিক অধ্যয়ন বা কালচারাল স্টাডিজ ধারায়, এবং কালচারাল স্টাডিজ কালচারাল কন্টেন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করে, বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে কালচারাল প্রোডাক্টকে যদিও সম্পর্কায়িত করার মাধ্যমেই তা করে থাকে। কিন্তু পণ্যের উৎপাদন-সম্পর্কের জায়গায় ঝাঁকুনি দেয়না।

উহার দায়িত্ব অন্য কারও হাতে ন্যাস্ত আছে।

আমি এখনও মনে করি যে পতিতাবৃত্তি সমাজে থাকা উচিত কি উচিত নয়, এটা একটা নৈতিকতা আবর্তিত বিতর্ক, এবং অকারণ বিতর্ক। এটি নারীর একটি পেশা, গার্মেন্টসও যেমন একটা পেশা। তবে গার্মেন্টসকর্মীর যে সম্মান আছে, যৌনকর্মীর নাই। কিন্তু যৌনকর্মীর প্রতি এই অসম্মানপ্রদর্শন চরমভাবে পুরুষতান্ত্রিক, এইখানে পরিবর্তনটা দরকার, কারণে সমাজে একজন যৌনকর্মীরও কন্ট্রিবিউশন আছে। আমাদের দেশের কনটেক্সটে এইরকম 'অসম্মানজনক' পেশায় আসার মূল কারণ দারিদ্র্য। তবে অন্য দেশের জন্য এটা হতে পারে 'অর্থের অভাব'। যেমন সিমেস্টার ব্রেকে এই পেশায় কেউ আসতে পারেন পরের সিমেস্টারের টিউশন ফির জন্য। সুতরাং এটা সমাজে থাকবে কি থাকবে না, এই বিতর্কটা কারও কারও জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ হলেও আমার জন্য অকারণ বিতর্ক। বরং 'অসম্মানজনক' পেশাটির প্রতি 'সম্মান'সহ তাকানো যাচ্ছে কিনা তাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আমি একজন প্রাক্তন যৌনকর্মীকে চিনি, যিনি পতিতালয়ে এক এনজিও কর্মসূচির কল্যাণে কাজ পান, পেশাটা ছাড়েন। তার কাজই হয় যৌনকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, এইচআইভি/এইডস বিষয়ে। কিন্তু এক পর্যায়ে এনজিওটি ফেজ আউট করে, তার চাকরি আর থাকেনা। অথচ তিনি ঐ পেশায় আর ফিরে যেতে চাননা। এখন তিনি এক বাসায় গৃহকর্ম করেন। তিনি কিন্তু এই গৃহকর্মের কাজটিও এনজয় করছেন না, অর্থাৎ 'সম্মান' এখানেও নাই। তিনি চান 'সম্মানজনক' কাজ। আপনি পুনর্বাসন এবং দূরীকরণের কাজ কীভাবে করবেন?

তবে হ্যাঁ, সমাজে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আসলে এক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন তো আসবেই। পুঁজিতান্ত্রিক ভোগবাদিতার পরিবর্তে সমাজতান্ত্রিক নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হলে, দারিদ্র্য কমলে এই পেশায় 'বাধ্য হয়ে আসা' নারীর সংখ্যা কমবে।

কিন্তু দারিদ্র্য কমলে, বিশেষত পুঁজিতান্ত্রিক উন্নয়ন ঘটতে থাকলে, নারীরা আরও অধিক মাত্রায় কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হলে, এটা অবশ্যম্ভাবী যে বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটিই নড়বড়ে হবে। বিচ্ছেদ ও বিয়ে না-করার প্রবণতা বাড়বে। তথাকথিত 'ফ্রি সেক্স' অধিক আদৃত হবে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা বাড়বে। বিচ্ছিন্ন এইসব একাকী মানুষের জন্য সেক্স শপ হবে, স্ট্রিপ টিজ হবে, ভিন্ন আকারে পতিতাবৃত্তি হাজির হবে। তাই বলছিলাম, নারী-পুরুষের যৌনসম্পর্ক, একগামিতা-বহুগামিতা, প্রি ও এক্সট্রাম্যারিটাল সেক্স, সেক্স ইন্ডাস্ট্রি/ট্রেড -- সবকিছুকে নৈতিকতার দৃষ্টিতে দেখা হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবং আয়রনিকালি মানুষের যৌনপ্রবৃত্তি সবসময়ই ধর্মীয় নিষেধ, সামাজিক নৈতিকতা, প্রথা, অনুশাসনকে গোপনে ডিঙিয়ে চলে। শরীরের রসায়ন ধর্ম-সমাজ মানেনা।

কালচারাল স্টাডিজ কালচারাল কন্টেন্ট নিয়েই কাজ করে, সমাজের/রাজনীতির/অর্থনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির সম্পর্ক্ও অনুসন্ধান করে, কিন্তু সমাজবদলের ডাক দেয়না। সব কন্টেন্টের আলোচনায় সমাজবদলের ডাক দেবার সুযোগও থাকেনা। পুঁজিতন্ত্রের বিপরীতে সমাজ পরিবর্তনের ডাক দেয় পলিটিকাল ইকোনমি ধারা। আমার ধারাবাহিকটি কালচারাল স্টাডিজ ধারায় রচিত হয়েছিল।
৪৭. ১০ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০৫
দেবার্নব রায় বলেছেন: ।।পুরো একমত হতে পারিনি...

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৪১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষেরে ঘৃণা করি'/
ও কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি' মরি'/
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে,/
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই