somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ হেমন্ত এসেছে এ শহরে

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




হেমন্ত এর সাথে কুড়ি বছর পর দেখা হল । গোঁফ-দাঁড়ি সমেত হেমন্তকে দেখে আমি চিনতে পারেনি । আমার কাঁধে হাত চাপড়ে বলেছিল , কিরে এখনো সিগারেট টানছিস ।

আমি অবাক হয়ে যখন তাকালাম , তখন দেখলাম এ আমাদের হেমন্ত । হাতে তার সিগারেট । অথচ এ হেমন্ত কখনো সিগারেট টানেনি । আমার অবাক হওয়া দেখে বললো , একা থাকতে পারলাম না । সিগারেটাকে নিজের সঙ্গী করে নিলাম একেবারে । আমি আর জিজ্ঞেস করলাম না , কবে জেল থেকে ছাড়া পেলি ?

কিন্তু হেমন্ত আমাকে আবারো অবাক করে বললো , গতকাল ছাড়া পেলাম । আমি খুন না করেও খুনি । প্রেমিকার হত্যাকারী । কিন্তু জানিস , তাকে আমি আগেই খুন করেছিলাম যখন তাকে আমি আর পাবোনা জানতাম । সে খুনটা ছিল মনে । রাস্তায় সন্ত্রাসীরা যখন পালানোর সময় তাকে গুলি করে গেলো , সবাই ধরে নিলো আমি তার খুনি । কিন্তু লাবণ্যকে কি আমি খুন করতে পারি বল ? একটা মানুষকে কয়বার খুন করা যায় ? আমিতো তাকে ভালোবাসি , খুন করা কি যায় ভালোবাসার মানুষকে ?

হেমন্ত এর কথা শুনে আমি আর কিছুই বলতে পারিনি । জেলে যাওয়ার বেশ কিছুদিন আমি সেই এলাকা সেই শহর ছেড়ে চলে আসি । হেমন্তের কোন খোঁজ রাখিনি । আজ এ শহরে তাকে দেখে আমার থেকে বড় অবাক আর কেউ হয়নি । হেমন্ত জানেনা লাবণ্যকে আমি ভালোবাসতাম , আর হেমন্তের মত আমি এত ভালো প্রেমিক ছিলাম না । তাই লাবণ্যকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম । আমার ভালোবাসাটা এক তরফাই ছিলো লাবণ্যের প্রতি ।

সাংবাদিকতায় হেমন্তের অনেক শত্রু তৈরি হয় , এক ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠান মৃত মানুষদের দেহ ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করতো । লিফা নামের সেই কোম্পানির রিপোর্টটা করেই তাদের অনেক বড় শুত্রু হয়ে যায় সে ।
আবার হেমন্ত কথা বলে উঠলো , জানিস এত বছর পর প্রমাণিত হল সেই ওষুধ প্রতিষ্ঠানই গুন্ডা পাঠিয়ে খুন টা করেছিল । প্রমাণিত হলো কিছুদিন আগে , আর তাই তোকে দেখতে আসলাম । আমার কিডনিটা ভালো আছেতো ?


মনে পড়ে গেলো হেমন্তের একটা কিডনি নিয়েই আমি বেঁচে আছি । হেমন্ত না থাকলে আমি হয়তো বাঁচতাম না । হেমন্ত লাবণ্যকে পাবেনা বলেই আমি লাবণ্যকে হত্যা করতে লোক পাঠিয়ে ছিলাম । কারণ লাবণ্যের কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা ছিল । আর সেই ওষুধ কোম্পানির পাঠানো গুন্ডা আর আমার পাঠানো গুন্ডা একই ছিল । একেই অ্যাসাইনমেন্ট তারা দুইজন থেকে পায় । কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমি তাদের মানা করতে ফোন দিয়েও পাইনি । তাই শহর ছেড়েছিলাম ।

হেমন্ত আমাকে এইবার হঠাৎ করে বললো , চলে যাই বন্ধু ।

হেমন্ত চলে যাচ্ছে , আমি তাকিয়ে আছি । দুইজন মানুষের কাছেই যেন কথাটা গোপন ।

ক্লান্ত হেমন্ত হাঁটছে , আর ভাবছে , আমার শরীরের একটা অংশ যার কাছে তাকে চাইলেই কি সহজে হত্যা করা যায় ।

ছবিঃ ইন্টারনেট
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×