ক্যাম্পাস লাইফ-১
১৬ এপ্রিল ২০০৬ ছিল আমার ক্যাম্পাস জীবনের দ্বিতীয় দিন। আগেরদিন কোন ক্লাস হয়নাই। ওরিয়েন্টেশন ছিল। এদিন আমাদের প্রথম ক্লাস। আমার স্বপ্নের দ্বিতীয় দিন।
সকাল সকাল রেডি হলাম। ব্যাপুক না হলেও একটু আধটু কেতাদুরস্ত হবার চেষ্টা করলাম। সকালে উঠে নাস্তা করে রেডি হলাম। ৪৩৫ ভাসানী হল থেকে পুরাতন কলা খুব বেশি দুরে নয়। আগের দিনের মত ড্রেসই পরলাম। ফিজু স্যারের ক্লাস। প্রথম ক্লাস, প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু.... কত কি ভাবছি???ৎ
বড়ভাইদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলাম। নিচে নামলাম। হলের গেটটা প্রায় লাগানো। বুঝলামনা। কিরে হলের গেট লাগানো। ঠিক লাগানো নয় চাপানো। অল্প একটু খোলা। কয়েকজন ছেলে ছোকরা ঘুর ঘুর করছে। আমি পরোয়া না করে হল গেট দিয়ে বের হতে চাইলাম। একজন জানতে চাইলো: কত ব্যাচ?
বল্লাম : ৩৫ তম ব্যাচ।(তখন এটি সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচ)। তখনও জানিনা জুনিয়র মানেই গিনিপিগ!!
জিজ্ঞেস করলো: সাবজেক্ট কি?
পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। বল্লাম: প্রত্নতত্ত্ব।
কোন রুমে উঠছোস? টেম্পারেচার বাড়লো। শাহিন ভাইয়ের রুমে।
তাইলে তো আরে আগে আগে থাকবি। গেস্ট রুমে দাড়া।
কাচুমাচু করে বল্লাম: ভাই আমার ক্লাস শুরু.... একটা হুংকার শুনলাম।
আমার মত আরো গিনিপিগ দেখি গেস্ট রুমে।
আমার মনে ঝড় শুরু হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর মিছিল শুরু হলো....গড়ো গড়ো.. দেশ গড়ো.....
কান্না চেপে রাখতে পারছিলাম না।
একদল তরুন দেশ গড়ার কথা বলছে কিন্তু ক্লাস করছে না নিজেরা। অন্যদের ক্লাস বাদ দিয়ে দেশ গড়ার গুরু দায়িত্ব নিতে বলতে বাধ্য করছে। অদ্ভুত...অদ্ভুত।
কিছুই মেলাতে পারছিলামনা। কোথায় নিজেকে গড়া আর কোথায় দেশ সেবা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথমদিনে ক্লাস বাদ দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দেশ গড়ার মিছিল করলাম। মিছিল নতুন কলা ভবনের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছে। দেখলাম অনেকেই পেছন থেকে পালাচ্ছে। আমিও সাহস পেলাম। একটু এগিয়ে আমিও পেছন থেকে সটকে পড়লাম। ওরা দেশ গড়তে থাকুক...আমি ক্লাসে গেলাম।
প্রথম ক্লাস ফিজু স্যারের। কত ম্বপ্ন দেখালেন। স্যার সকল সমস্যা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন। শুধু সমস্যা একটাই....স্যারের ফাইল আটকায় সবাই...এই ভিসি,এর আগের ভিসি...আরো অনেকে। কেউ স্যাররে আটকাতে পারেনাই।.....ক্লাস সম্ভবত একটাই হয়েছিল।......রাকিব, মিজান, সাদ, শুভ, তনাহার অনেককেই পেলাম। কর্মকর্ত আকবর সাহেব তো রীতিমত ভিসি আমাদের কাছে। উনি ও ভাবেসাবে একটা কিছু.....
পাদটীকা: বর্তমান জয়বাংলা সরকার আসার পরে আগের সকল কিছুই পাল্টে গেল। সব জায়গায় জয়বাংলার জয়জয়কার। কিছুদিন পর জাবি ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হলো। নতুন কমিটি সাংবাদিক সমিতিতে সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করলো। খোলামেলা আলোচনায় অনেক কিছু বললো তারা। আমি আমার ঘটনাটা বলে জিজ্ঞেস করলাম :জুনিয়ারদের গিনিপিগ বানানো বন্ধ করবেন কিনা?
সাধারন সম্পাদকের উত্তর: এতকিছু দেখতে গেলে রাজনীতি কিভাবে হবে???
তবে কারো ইমার্জিন্সি প্রয়োজন বললে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে।
সময় নষ্ট করলাম না শুধু শুধু জিজ্ঞেস করে: কারো সমস্য শুনার মত আন্তরিক সম্পর্ক জুনিয়রদের সঙ্গে আপনাদের আছে কি???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




