গল্প ধাঁধাঁর আসর : জিনিসটা কি ? জটিল কিসু না ! একটা খেলা । নতুন ধরণের খেলা । এই গল্পটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে । একবারে না বুঝলে আবার , বারবার । এতো সময় হাতে নাই ? এই খেলাতে অংশগ্রহণ করতে হলে সময়তো একটু দিতেই হবে ! গল্পটা পড়লেন,তারপর ? গল্পের শেষ অংশটুকু আপনাকে লিখতে হবে । আপনার মত করেই লিখুন, সমস্যা নাই । ৫০০ শব্দের ভেতরে লিখুন । গল্পের কাছাকাছি থাকতে হবে । আপনার একটা টার্গেট থাকবে ! টার্গেটটা হলো, এই গল্পের শেষটা কেমন হতে পারে, সেটা ! সময় ৪৮ঘন্টা । ৪৮ ঘন্টা পরে এই গল্পের বাকী অংশটুকু প্রকাশ করা হবে ।
শেষ অংশটুকুর সঙ্গে আপনার লেখা অংশটুকু যদ্দুর মিলবে, তদ্দুর আপনার সাফল্য । খুব কাছাকাছি লিখবেন, লেখার প্লটের প্রায় কাছাকাছি থাকবেন এরকম তিনজনের জন্য থাকবে, এই অধমের পক্ষ থেকে উপহার । তবে, উপহারটা বকেয়া থাকবে । এই অধম দেশে গেলে তখন নিজ তাগিদে ওনাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবে বলে ওয়াদাবদ্ধ হচ্ছে । আর উপহারও তখন দেয়া হবে , কথা দিলাম ।
এক
"মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধান"- শব্দ ক'টা ড. অনৃন্যের মস্তিস্কের কোষে কোষে আনন্দ স্ফুরণ ছুটাতে থাকে । ড. অনৃন্য চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়ান । তার ঠোঁটে লেগে থাকে স্মিত হাসি । ঠিক এ-মুহূর্তে ড. অনৃন্যের যা ইচ্ছে করছে , তা হলো,--পৃষ্ঠদেশে দুটো ডানা গজিয়ে যাক , তিনি উড়াল দেবেন ! উঁচু এই পাহাড় চূড়া থেকে উড়াল দেবেন আকাশে । আকাশের বুক ছুঁয়ে মনের আনন্দে বার কয় চক্কর লাগিয়ে পর্বতে নেমে আসবেন ফের । মহাকাশ যানের বদৌলতে আকাশের বুক ফুঁড়ে অসীম দূরত্বে হারিয়ে যাবার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে । কিন্তু নিজের দুটো ডানায় ভর করে আকাশে উড়ার অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই হবে আরো অনন্য । আনন্দের অতিশয্যে মানুষের এরকম ইচ্ছে করে । ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করে বিহংগের মতো । ড. অনৃন্যের এখন সে ইচ্ছেটাই করছে । ক্ষণিকের জন্য হলেও পাখি হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে । বিজ্ঞানীদের এরকম ইচ্ছে করাটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিনা তার জানা নেই । অপরাধ হলেও এ-মুহূর্তে এরকম অপরাধের দ্বিধাহীন অপরাধী হতে তিনি রাজি আছেন । বিশেষ কারণে তিনি পুলকবোধ করছেন । ভীষণরকম পুলকবোধ করছেন । দীর্ঘদিন এমন গভীর আনন্দ তাকে ছেঁকে ধরেনি । রক্তের কণায় কণায় তিনি উত্তাল আনন্দ টের পান ।
দ্বিতল বিজ্ঞান ভবনের নীচ তলাটা সুরক্ষিত । বিশেষভাবে সুরক্ষিত এই নীচতলার অবস্থান মাটির নীচে । হঠাৎ দেখে মনে হয়, দরজা - জানালা বিহীন বদ্ধ একটি ঘর । জানালা অবশ্য একটি আছে । সাধারণ দৃষ্টিতে এর অস্তিত্ব চোখে পড়ে না । জানালার মতো দেখতে হলেও, এর কাজ আসলে দরজার । কালে-ভদ্রে এ দরজাটি ব্যবহৃত হয় । অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী পদে দেয়ালের কাছাকাছি এসে দাঁড়ান অনৃন্য । দেয়ালের হালকা নীল রং আর ঝারবাতির নীলাভ আলো মিশে রহস্যপূর্ণ এক আবহ ছড়ায় । অদৃশ্য জানালা বরাবর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার তাকান অনৃন্য । জানালার অদৃশ্য পরৎটি সরে যায় । হুড়মুড় করে জানালা ফুঁড়ে নেমে আসে স্বয়ংক্রিয় একটি সিঁড়ি । জানালার অদৃশ্য পরৎ সরে গিয়ে সিঁড়ির এই নেমে আসা ব্যাপারটি অলৌকিক কিছু নয় । অনৃন্য যোখানে দাঁড়িয়ে আছেন তার পায়ের নীচেই আছে বাটন । ক্ষুদ্রাকার নীল বাটন । তিনি সেটা পায়ে চেপে আছেন । পায়ে চেপে আছেন বলেই জানালা ফুঁড়ে আকস্মিক এই সিঁড়ির আবির্ভাব । ড. অনৃন্য সিঁড়িতে পা রাখেন । চলতে শুরু করে সিঁড়ি । জানালা রূপী দরজার কাছে এসে সিঁড়ি দাঁড়িয়ে যায় । ছোট্ট জানালা দিয়ে অনৃন্য নিজেকে গলিয়ে দেন বাইরে । পাহাড়ে পা রেখে অভিভূত অনৃন্য আকাশপানে তাকান । অজস্র তারকামন্ডলী জ্বলজ্বল করে জ্বলছে । প্রকান্ড এক চাঁদ জেগে আছে আকাশে । হঠাৎই অনৃন্যের মনে প্রশ্ন জাগে-- 'পৃথিবী থেকে ২০.৫ আলোকবর্ষ দূরত্বে আবিস্কৃত পৃথিবীর কাছাকাছি জলবায়ূর সেই গ্লীস ৫৮১সি গ্রহটির চাঁদের আলোও কি এমন মায়াময় ?'
অনৃন্য তার হাত দু'খানা দু'পাশে প্রশ্বস্ত করে মেলে ধরেন । আঙ্গুলগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ করেন আবার খোলেন । মুঠো ভরে ভরে জোছনা ধরছেন যেন । সুড়ুৎ করে একটি উল্কা ছিটকে যায় । আকাশমুখো অনৃন্য আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করেন এবার,-- 'মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধান এখন ইতিহাস ! মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস !' রাতের নিস্তব্ধতাকে ফালি ফালি করে অনৃন্যের শব্দরা ছড়িয়ে যেতে থাকে পহাড় থেকে পাহাড়ে, আকাশে - আকাশে,--মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস...মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস...!
দুই
দৃশ্যটি দেখে সুবোধ 'তব্দা' খেয়ে যায় । 'তব্দা' শব্দটির বয়স পৃথিবীর বুকে হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও সুবোধ শিখেছে নতুন । পৃথিবীর মানুষের সমাগমে, সংস্পর্শে খুব একটা যাওয়া হয়নি তার । চলার গন্ডিও সীমাবদ্ধ । চলার গন্ডি সীমাবদ্ধ বলেই শব্দটি এর আগে তার শুনা হয়নি । শুনলে সে ঠিকই অর্থ বুঝে নিতো । সুবুধের একটি বিশেষ গুণ হলো , যে কোন ভাষা খুব দ্রুত সে রপ্ত করে নিতে পারে । এমনকি যে কোন সংকেত বা সাংকেতিক ভাষা ব্যাখ্যা করতে তার লাগে এক সেকেন্ডের তিন ভাগের এক ভাগ সময় । বলা ভালো, এই একটি বৈশিষ্টই সুবোধকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেই । কি দৃশ্য দেখে সুবোধ তব্দা খেল, আর তব্দা শব্দটি শেখার তার সেই কাহিনীতে আমরা একটু পরে যায় , তার আগে সুবোধের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় পর্বটা হয়ে যাক ।
সুবোধের মাথার পেছন দিকটায় মৃদু চাপ দিলে একটি ঢাকনা খুলে যায় ! দেখা যায়, ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো তারের সম্মিলন । অত্যন্ত শক্তিশালী সফটওয়্যার দিয়ে সুবোধের মস্তিস্ক পরিচালীত । সুবোধ একটি চর্তুমাত্রিক রোবট । ড. অনৃন্যের ব্যক্তিগত সহকারী রোবট । অনৃন্যের জন্য তার গভীর মমত্ববোধ এরকম একটি ভাব ধরে থাকার চেষ্টায় তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় । যদিও মমতা জিনিসটি রোবটদের মাঝে অবর্তমান , তবু, ভাবধরার প্রবণতাটা চতুর্মাত্রিক এই রোবটটির মাঝে প্রকটভাবেই পরিলক্ষিত হয় । সুবোধ অবশ্য খুবই অনুগত এটা ঠিক । দৃশ্যটির দিকে তাকিয়ে অনৃন্যের সঙ্গে বলা আজ ভোরের কথাগুলো মনে পড়ে সুবোধের । মুহূর্তেই সে একটু পেছনে ফিরে গিয়ে, মেমোরি সেলে স্মৃতিগুলো জাগরুক করে তোলে । আজ ভোরে অনৃন্য তাকে ডেকে বললেন,-
'সুবোধ !'
'জ্বি, জনাব ।'
'ভোরের এ কোমল প্রকৃতি তোমার লাগছে কেমন ?'
সুবোধ একটু অপ্রস্তুত হয় । খানিকক্ষণ চুপ মেরে থাকে । প্রকৃতি নানারূপে বদলায় । প্রকৃতির এই নানারূপ মানুষের মাঝে প্রভাব তৈরী করে । তার ভেতরে প্রভাব তৈরী হয়না । প্রভাব তৈরী হওয়া সম্ভব না । তবে , কিসে ড. অনৃন্য খুশী হন এইটুকু বুঝার মতন বোধ তার ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণেই দেয়া আছে । সে মতেই সে উত্তর দেয়--
'হে ভোরের প্রকৃতি ! তোমাতে মোর সুন্দরের আরতী !'
'বাহ্ ! বেশতো ! এটা কি এখনি বানালে ?'
'জ্বি, জনাব !'
'তোমার এই সাহিত্য প্রতিভাটা আমি উভোগ করি । তোমাকে তৈরীর সময় কি মনে করে জানিনা, খানিকটা সাহিত্য বীজ তোমার ভেতরে দিয়ে দেয়া হয়েছে । আমার সাহিত্যপ্রেমের কথা মাথায় রেখেই হবে হয়তোবা । কাজটা খুবই ভালো হয়েছে বলতে হয় । মাঝে মাঝে তুমি বেশ কাব্যিক হয়ে ওঠো ।'
'ধন্যবাদ, জনাব ।'
শব্দ দু'টা উচ্চারণ করেও সুবোধ খানিকটা বিষন্নতার ভঙ্গি করলো ।
সে যে একজন রোবট, এটা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে-এজন্যই তার এই বিষন্ন ভঙ্গি ! ড. অনৃন্য অবশ্য অতটুকু খেয়াল করলেন না । তার দৃষ্টি বাইরে । দু'তলার জানালা দিয়ে দৃষ্টি প্রসারীত করে তিনি শিশিরের ঝরে পড়া দেখছেন । তার মন অবশ্য শিশিরেও নেই । মন পড়ে আছে দু'তলার করিডোরের শেষ মাথার ঘরটিতে । যেখানে কম্পিউটার সামনে করে বসে আছেন পৃথিবীর সবচে' রূপবতী মানবী--ইরিনা । ইরিনাও এই বিজ্ঞান ভবনের একজন বিজ্ঞানী । ড. অনৃন্য আর ইরিনার ব্রত একটাই --মহাজাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের যোগাযোগ স্থাপন । কাজের সূত্রেই বেশীর ভাগ সময় তাদেরকে কাছাকাছি পাশাপাশি থাকতে হয় । রাতভর তারা দু'জন একসঙ্গে কাজ করেছেন । গতরাতে বিজ্ঞানভবনের শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোফে ধরা পড়েছে মহাজাগতিক প্রাণীদের কিছু সিগনাল । সিগনাল গুলো ব্যাখ্যার জন্য তারা মরিয়া । কুল-কিনারা পাচ্ছেন না কোন । ইরিনার পাশে বসে কাজ করতে অনৃন্যের খুব সমস্য হচ্ছিল । যতোবার ইরিনার গায়ের মোহনীয় গন্ধ তার নাকে আসছিল, তার মনোনিবেশ নষ্ট হচ্ছিল । এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল মাথা । এখনও সে মাথা পুরোপুরি ঠিক হয়নি । অনৃন্য তার অস্থির মনটাকে ভোরের নরম প্রকৃতি আর শিশিরে স্থির করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন । তার খুব ইচ্ছে করছে, ইরিনার ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ান । ইরিনার তুলতুলে একটা হাত ধরে তাকে নিয়ে পাহাড়ে নেমে যান । গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো করে ঝরে পড়া শিশির বিন্দু ছুঁয়ে দেখেন দু'জনে । এমনকি ইরিনার ভ্রু-তে আটকে যাওয়া শিশির কণা আঙ্গুলে তুলে নিয়ে তার রক্তিম গালে লেপটে দেন । এসব কিছুই করতে না পারার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তিনি নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করেন । সাধারণ মানুষদের মতো বিজ্ঞানী সমাজেও বদ্ধমূল ধারণা চালু আছে, --অসম্ভব রূপবতীরা সবসময়ই বিপদজনক । ভয়ঙ্কর বিপদজনক । এদের রূপ হচ্ছে আগুনের মতো । কাছাকাছি থাকলেই মোমের মতো গলে যাবার সম্ভাবনা । নিরাপদ দূরত্বে থাকাই তাই শ্রেয়তর । তাছাড়া হৃদয়ঘটিত ব্যাপার এই শতকের বিজ্ঞানী সমাজে গুরুত্ব পায়না । 'হৃদয় নয়, মস্তকে পরিচালীত হোন'--এই শ্লোগানটিই বিজ্ঞানীদের সদর দপ্তরে বড় বড় হরফে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে । গ্লীস ৫৮১সি নামের গ্রহটিতে মানুষের আবাস গড়ে তোলার খুব কাছাকাছি অবস্থানে বিজ্ঞানীকূল পৌঁছে গেছেন । এই মুহূর্তে প্রেমের কেলেঙ্কারীতে জড়ানো অনৃন্যের জন্য আত্মাহুতির সামিল । এমনকি মহাজাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তার নিরলস প্রয়াসের জন্য অর্জিত সম্মানসূচক তারাটিও খসে যেতে পারে । হুশশ... করে একটা দীর্ঘশ্বাস বের করে দেন অনৃন্য । হুড় হুড় করে ভোরের নির্মল হাওয়া ফুসফুসে ঢুকে পড়ে তার । মন স্থির হয় । ফুরফুরে ভাব ফিরে আসে । মনে পড়ে, সুবোধ পেছনে দাঁড়িয়ে তখনও । নিজের অন্য মনস্কতার জন্য খানিকটা লজ্জিত বোধ করেন অনৃন্য । ধীর পায়ে ভিডি মডিওলের সামনে এসে ঝুঁকে পড়েন । স্কৃন উজ্জ্বল করে ওপাশ থেকে অপূর্ব হাসি ছড়িয়ে দেন ইরিনা ,- 'আমি একটু বেরুতে চাই ।' বলেন ইরিনা ।
'কোথায় ?'
'প্রাত ভ্রমণে !'
'বেশতো !'
'আপনিও চলুন না ।'
'না । গতরাতে আমাদের রেডিও টেলিস্কোফে ধরা পড়া মহাজাগতিক প্রাণীদের সিগনাল গুলো ভিন্ন মাত্রা থেকে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে চাই । কাজটা আমি এখনি শুরু করবো ভাবছি । আপনার সঙ্গে সুবোধ যাক ।'
'ধন্যবাদ ।'
ভিডি মডিওলের সামনে থেকে সরে আসেন অনৃন্য । চোখের ইশারা পেয়ে সুবোধও বেরিয়ে যায় । সে জানে তার করণীয় ।
পাহাড় থেকে নেমে সমতলের পথ ধরে তারা হাঁটছে । প্রায় আধমাইল পথ হেঁটে ফেলেছে । পাহাড় থেকে নামা-ওঠার কাজটা তাদের জন্য আনন্দদায়ক । স্বয়ংক্রিয় লিপটে পা রাখলেই ঝামেলা শেষ । পাহাড় থেকে সমতলে কিম্বা একটানে সমতল থেকে পাহাড়ে । হাঁটাহাঁটির এই কাজটিও আনন্দদায়ক । তবে, এতে খানিকটা কষ্ট আছে । হেঁটে অভ্যস্ত নয় তারা । ইদানীং অভ্যস্ত হবার চেষ্টায় আছে । ভোরের সূর্যের আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাবার আগে আগে এই হন্টন পর্বটা তারা বেশ উপভোগ করছে । ইরিনা সামনে, পেছন পেছন সুবোধ । রাস্তাঘাট ফকফকা, খালি । এত ভোরে এখনও লোকজন নেই--এটাই এ সময়ে হাঁটার আনন্দ । সামনের বাঁকটা পেরুলেই একটা বাজার । বাজার পর্যন্ত তারা যায় না, লোকজন কেমন কেমন চোখে তাকায় । বাঁক থেকেই ফিরে আসে । বাঁকে পৌঁছেই তারা দেখলো দু'টা ছেলে ঘোর লাগা চোখে ইরিনার দিকে তাকিয়ে আছে । দু'জন যুবক । তাদের একজন ফিসফিস করে বললো, -'দোস্ত! তব্দা খাইয়া গেলাম !'
অন্যজন চোখে জিজ্ঞাসা নিয়ে তার দিকে তাকালো । প্রথমজন আবার বললো,- 'শালার ! এইরকম আগুনের গোলা নিয়া ঘুরতেছে একটা রোবট ! আহা ! কতোইনা পোড়া কপাল আমাদের !'
তাদেরকে খেয়াল করলো ইরিনা । ঘুরে গিয়ে চট করে ফিরতি পথে হাঁটতে শুরু করলো ।
ভোরের স্মৃতি থেকে সামনে দৃশ্যমান দৃশ্যে ফিরে আসে সুবোধ । এ দৃশ্যটি দেখেই ভোরের ওই যুবকটির মতো তব্দা খেয়ে গেছে সে । এমন দৃশ্য সে এ জীবনে আর দেখেনি । ইরিনার রুমের দরজায় এসেই সে ভয়াবহ ধাক্কাটা খেল । ইরিনা তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল একটি জটিল সংকেতের ব্যাখ্যায় সাহায্য করতে । আসতে তার দেরি হয়েছে এক মিনিট । এরমধ্যেই এ ঘটনা । সে দেখলো, ইরিনা আর অনৃন্য মুখোমুখি দাঁড়িয়ে । ইরিনার রক্তিম দু'গাল ধরে তার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আছে অনৃন্য । ঠিক কি করা উচিৎ ভেবে পাচ্ছেনা সুবোধ ! সাহিত্যের ভাষায় ঠিক এই অবস্থাটাকেই বোধকরি বলা হয়--কিংকর্তব্যবিমূঢ় !
পহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে মুঠো ভর্তি জোছনা ধরতে ধরতে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অনৃন্য । ছেলেমানুষী একটা কান্ড তার মাথায় আসে । এই কান্ডটা তিনি করবেনই , নিশ্চিত হন । ইরিনার ঘরে ছুটে আসেন । ইরিনার দু'বাহু ধরে তাকে টেনে তোলেন । তারপরই বিনা বাক্যে তার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেন । ঠেঁটে ঠোঁট চেপে ধরে রাখেন ! মুহূর্তগুলো গড়গড় গড়িয়ে যায় । ঠিক এ মুহূর্তে ইরিনার প্রতিক্রিয়া বুঝা ভার ! সে যেন এক কলের পুতুল !
লেখাটি একইসঙ্গে আমারব্লগ.কম -এ প্রকাশীত
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


