somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী-- ইরিনা (গল্প ধাঁধাঁর আসর ) শেষ পর্ব

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গল্প ধাঁধাঁর আসর পর্ব -১

এক

"মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধান"- শব্দ ক'টা ড. অনৃন্যের মস্তিস্কের কোষে কোষে আনন্দ স্ফুরণ ছুটাতে থাকে । ড. অনৃন্য চেয়ার ছেড়ে ওঠে দাঁড়ান । তার ঠোঁটে লেগে থাকে স্মিত হাসি । ঠিক এ-মুহূর্তে ড. অনৃন্যের যা ইচ্ছে করছে , তা হলো,--পৃষ্ঠদেশে দুটো ডানা গজিয়ে যাক , তিনি উড়াল দেবেন ! উঁচু এই পাহাড় চূড়া থেকে উড়াল দেবেন আকাশে । আকাশের বুক ছুঁয়ে মনের আনন্দে বার কয় চক্কর লাগিয়ে পর্বতে নেমে আসবেন ফের । মহাকাশ যানের বদৌলতে আকাশের বুক ফুঁড়ে অসীম দূরত্বে হারিয়ে যাবার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে । কিন্তু নিজের দুটো ডানায় ভর করে আকাশে উড়ার অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই হবে আরো অনন্য । আনন্দের অতিশয্যে মানুষের এরকম ইচ্ছে করে । ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করে বিহংগের মতো । ড. অনৃন্যের এখন সে ইচ্ছেটাই করছে । ক্ষণিকের জন্য হলেও পাখি হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে । বিজ্ঞানীদের এরকম ইচ্ছে করাটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিনা তার জানা নেই । অপরাধ হলেও এ-মুহূর্তে এরকম অপরাধের দ্বিধাহীন অপরাধী হতে তিনি রাজি আছেন । বিশেষ কারণে তিনি পুলকবোধ করছেন । ভীষণরকম পুলকবোধ করছেন । দীর্ঘদিন এমন গভীর আনন্দ তাকে ছেঁকে ধরেনি । রক্তের কণায় কণায় তিনি উত্তাল আনন্দ টের পান ।

দ্বিতল বিজ্ঞান ভবনের নীচ তলাটা সুরক্ষিত । বিশেষভাবে সুরক্ষিত এই নীচতলার অবস্থান মাটির নীচে । হঠাৎ দেখে মনে হয়, দরজা - জানালা বিহীন বদ্ধ একটি ঘর । জানালা অবশ্য একটি আছে । সাধারণ দৃষ্টিতে এর অস্তিত্ব চোখে পড়ে না । জানালার মতো দেখতে হলেও, এর কাজ আসলে দরজার । কালে-ভদ্রে এ দরজাটি ব্যবহৃত হয় । অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী পদে দেয়ালের কাছাকাছি এসে দাঁড়ান অনৃন্য । দেয়ালের হালকা নীল রং আর ঝারবাতির নীলাভ আলো মিশে রহস্যপূর্ণ এক আবহ ছড়ায় । অদৃশ্য জানালা বরাবর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার তাকান অনৃন্য । জানালার অদৃশ্য পরৎটি সরে যায় । হুড়মুড় করে জানালা ফুঁড়ে নেমে আসে স্বয়ংক্রিয় একটি সিঁড়ি । জানালার অদৃশ্য পরৎ সরে গিয়ে সিঁড়ির এই নেমে আসা ব্যাপারটি অলৌকিক কিছু নয় । অনৃন্য যোখানে দাঁড়িয়ে আছেন তার পায়ের নীচেই আছে বাটন । ক্ষুদ্রাকার নীল বাটন । তিনি সেটা পায়ে চেপে আছেন । পায়ে চেপে আছেন বলেই জানালা ফুঁড়ে আকস্মিক এই সিঁড়ির আবির্ভাব । ড. অনৃন্য সিঁড়িতে পা রাখেন । চলতে শুরু করে সিঁড়ি । জানালা রূপী দরজার কাছে এসে সিঁড়ি দাঁড়িয়ে যায় । ছোট্ট জানালা দিয়ে অনৃন্য নিজেকে গলিয়ে দেন বাইরে । পাহাড়ে পা রেখে অভিভূত অনৃন্য আকাশপানে তাকান । অজস্র তারকামন্ডলী জ্বলজ্বল করে জ্বলছে । প্রকান্ড এক চাঁদ জেগে আছে আকাশে । হঠাৎই অনৃন্যের মনে প্রশ্ন জাগে-- 'পৃথিবী থেকে ২০.৫ আলোকবর্ষ দূরত্বে আবিস্কৃত পৃথিবীর কাছাকাছি জলবায়ূর সেই গ্লীস ৫৮১সি গ্রহটির চাঁদের আলোও কি এমন মায়াময় ?'

অনৃন্য তার হাত দু'খানা দু'পাশে প্রশ্বস্ত করে মেলে ধরেন । আঙ্গুলগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ করেন আবার খোলেন । মুঠো ভরে ভরে জোছনা ধরছেন যেন । সুড়ুৎ করে একটি উল্কা ছিটকে যায় । আকাশমুখো অনৃন্য আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করেন এবার,-- 'মহাজাগতিক প্রাণের সন্ধান এখন ইতিহাস ! মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস !' রাতের নিস্তব্ধতাকে ফালি ফালি করে অনৃন্যের শব্দরা ছড়িয়ে যেতে থাকে পহাড় থেকে পাহাড়ে, আকাশে - আকাশে,--মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস...মানবজাতির সাফল্যের ইতিহাস...!

দুই

দৃশ্যটি দেখে সুবোধ 'তব্দা' খেয়ে যায় । 'তব্দা' শব্দটির বয়স পৃথিবীর বুকে হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও সুবোধ শিখেছে নতুন । পৃথিবীর মানুষের সমাগমে, সংস্পর্শে খুব একটা যাওয়া হয়নি তার । চলার গন্ডিও সীমাবদ্ধ । চলার গন্ডি সীমাবদ্ধ বলেই শব্দটি এর আগে তার শুনা হয়নি । শুনলে সে ঠিকই অর্থ বুঝে নিতো । সুবুধের একটি বিশেষ গুণ হলো , যে কোন ভাষা খুব দ্রুত সে রপ্ত করে নিতে পারে । এমনকি যে কোন সংকেত বা সাংকেতিক ভাষা ব্যাখ্যা করতে তার লাগে এক সেকেন্ডের তিন ভাগের এক ভাগ সময় । বলা ভালো, এই একটি বৈশিষ্টই সুবোধকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেই । কি দৃশ্য দেখে সুবোধ তব্দা খেল, আর তব্দা শব্দটি শেখার তার সেই কাহিনীতে আমরা একটু পরে যায় , তার আগে সুবোধের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় পর্বটা হয়ে যাক ।

সুবোধের মাথার পেছন দিকটায় মৃদু চাপ দিলে একটি ঢাকনা খুলে যায় ! দেখা যায়, ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো তারের সম্মিলন । অত্যন্ত শক্তিশালী সফটওয়্যার দিয়ে সুবোধের মস্তিস্ক পরিচালীত । সুবোধ একটি চর্তুমাত্রিক রোবট । ড. অনৃন্যের ব্যক্তিগত সহকারী রোবট । অনৃন্যের জন্য তার গভীর মমত্ববোধ এরকম একটি ভাব ধরে থাকার চেষ্টায় তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় । যদিও মমতা জিনিসটি রোবটদের মাঝে অবর্তমান , তবু, ভাবধরার প্রবণতাটা চতুর্মাত্রিক এই রোবটটির মাঝে প্রকটভাবেই পরিলক্ষিত হয় । সুবোধ অবশ্য খুবই অনুগত এটা ঠিক । দৃশ্যটির দিকে তাকিয়ে অনৃন্যের সঙ্গে বলা আজ ভোরের কথাগুলো মনে পড়ে সুবোধের । মুহূর্তেই সে একটু পেছনে ফিরে গিয়ে, মেমোরি সেলে স্মৃতিগুলো জাগরুক করে তোলে । আজ ভোরে অনৃন্য তাকে ডেকে বললেন,-
'সুবোধ !'
'জ্বি, জনাব ।'
'ভোরের এ কোমল প্রকৃতি তোমার লাগছে কেমন ?'
সুবোধ একটু অপ্রস্তুত হয় । খানিকক্ষণ চুপ মেরে থাকে । প্রকৃতি নানারূপে বদলায় । প্রকৃতির এই নানারূপ মানুষের মাঝে প্রভাব তৈরী করে । তার ভেতরে প্রভাব তৈরী হয়না । প্রভাব তৈরী হওয়া সম্ভব না । তবে , কিসে ড. অনৃন্য খুশী হন এইটুকু বুঝার মতন বোধ তার ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণেই দেয়া আছে । সে মতেই সে উত্তর দেয়--
'হে ভোরের প্রকৃতি ! তোমাতে মোর সুন্দরের আরতী !'
'বাহ্ ! বেশতো ! এটা কি এখনি বানালে ?'
'জ্বি, জনাব !'
'তোমার এই সাহিত্য প্রতিভাটা আমি উভোগ করি । তোমাকে তৈরীর সময় কি মনে করে জানিনা, খানিকটা সাহিত্য বীজ তোমার ভেতরে দিয়ে দেয়া হয়েছে । আমার সাহিত্যপ্রেমের কথা মাথায় রেখেই হবে হয়তোবা । কাজটা খুবই ভালো হয়েছে বলতে হয় । মাঝে মাঝে তুমি বেশ কাব্যিক হয়ে ওঠো ।'
'ধন্যবাদ, জনাব ।'
শব্দ দু'টা উচ্চারণ করেও সুবোধ খানিকটা বিষন্নতার ভঙ্গি করলো ।
সে যে একজন রোবট, এটা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে-এজন্যই তার এই বিষন্ন ভঙ্গি ! ড. অনৃন্য অবশ্য অতটুকু খেয়াল করলেন না । তার দৃষ্টি বাইরে । দু'তলার জানালা দিয়ে দৃষ্টি প্রসারীত করে তিনি শিশিরের ঝরে পড়া দেখছেন । তার মন অবশ্য শিশিরেও নেই । মন পড়ে আছে দু'তলার করিডোরের শেষ মাথার ঘরটিতে । যেখানে কম্পিউটার সামনে করে বসে আছেন পৃথিবীর সবচে' রূপবতী মানবী--ইরিনা । ইরিনাও এই বিজ্ঞান ভবনের একজন বিজ্ঞানী । ড. অনৃন্য আর ইরিনার ব্রত একটাই --মহাজাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের যোগাযোগ স্থাপন । কাজের সূত্রেই বেশীর ভাগ সময় তাদেরকে কাছাকাছি পাশাপাশি থাকতে হয় । রাতভর তারা দু'জন একসঙ্গে কাজ করেছেন । গতরাতে বিজ্ঞানভবনের শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোফে ধরা পড়েছে মহাজাগতিক প্রাণীদের কিছু সিগনাল । সিগনাল গুলো ব্যাখ্যার জন্য তারা মরিয়া । কুল-কিনারা পাচ্ছেন না কোন । ইরিনার পাশে বসে কাজ করতে অনৃন্যের খুব সমস্য হচ্ছিল । যতোবার ইরিনার গায়ের মোহনীয় গন্ধ তার নাকে আসছিল, তার মনোনিবেশ নষ্ট হচ্ছিল । এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল মাথা । এখনও সে মাথা পুরোপুরি ঠিক হয়নি । অনৃন্য তার অস্থির মনটাকে ভোরের নরম প্রকৃতি আর শিশিরে স্থির করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন । তার খুব ইচ্ছে করছে, ইরিনার ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ান । ইরিনার তুলতুলে একটা হাত ধরে তাকে নিয়ে পাহাড়ে নেমে যান । গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো করে ঝরে পড়া শিশির বিন্দু ছুঁয়ে দেখেন দু'জনে । এমনকি ইরিনার ভ্রু-তে আটকে যাওয়া শিশির কণা আঙ্গুলে তুলে নিয়ে তার রক্তিম গালে লেপটে দেন । এসব কিছুই করতে না পারার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তিনি নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করেন । সাধারণ মানুষদের মতো বিজ্ঞানী সমাজেও বদ্ধমূল ধারণা চালু আছে, --অসম্ভব রূপবতীরা সবসময়ই বিপদজনক । ভয়ঙ্কর বিপদজনক । এদের রূপ হচ্ছে আগুনের মতো । কাছাকাছি থাকলেই মোমের মতো গলে যাবার সম্ভাবনা । নিরাপদ দূরত্বে থাকাই তাই শ্রেয়তর । তাছাড়া হৃদয়ঘটিত ব্যাপার এই শতকের বিজ্ঞানী সমাজে গুরুত্ব পায়না । 'হৃদয় নয়, মস্তকে পরিচালীত হোন'--এই শ্লোগানটিই বিজ্ঞানীদের সদর দপ্তরে বড় বড় হরফে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে । গ্লীস ৫৮১সি নামের গ্রহটিতে মানুষের আবাস গড়ে তোলার খুব কাছাকাছি অবস্থানে বিজ্ঞানীকূল পৌঁছে গেছেন । এই মুহূর্তে প্রেমের কেলেঙ্কারীতে জড়ানো অনৃন্যের জন্য আত্মাহুতির সামিল । এমনকি মহাজাগতিক প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তার নিরলস প্রয়াসের জন্য অর্জিত সম্মানসূচক তারাটিও খসে যেতে পারে । হুশশ... করে একটা দীর্ঘশ্বাস বের করে দেন অনৃন্য । হুড় হুড় করে ভোরের নির্মল হাওয়া ফুসফুসে ঢুকে পড়ে তার । মন স্থির হয় । ফুরফুরে ভাব ফিরে আসে । মনে পড়ে, সুবোধ পেছনে দাঁড়িয়ে তখনও । নিজের অন্য মনস্কতার জন্য খানিকটা লজ্জিত বোধ করেন অনৃন্য । ধীর পায়ে ভিডি মডিওলের সামনে এসে ঝুঁকে পড়েন । স্কৃন উজ্জ্বল করে ওপাশ থেকে অপূর্ব হাসি ছড়িয়ে দেন ইরিনা ,- 'আমি একটু বেরুতে চাই ।' বলেন ইরিনা ।
'কোথায় ?'
'প্রাত ভ্রমণে !'
'বেশতো !'
'আপনিও চলুন না ।'
'না । গতরাতে আমাদের রেডিও টেলিস্কোফে ধরা পড়া মহাজাগতিক প্রাণীদের সিগনাল গুলো ভিন্ন মাত্রা থেকে নতুন করে ব্যাখ্যা করতে চাই । কাজটা আমি এখনি শুরু করবো ভাবছি । আপনার সঙ্গে সুবোধ যাক ।'
'ধন্যবাদ ।'
ভিডি মডিওলের সামনে থেকে সরে আসেন অনৃন্য । চোখের ইশারা পেয়ে সুবোধও বেরিয়ে যায় । সে জানে তার করণীয় ।

পাহাড় থেকে নেমে সমতলের পথ ধরে তারা হাঁটছে । প্রায় আধমাইল পথ হেঁটে ফেলেছে । পাহাড় থেকে নামা-ওঠার কাজটা তাদের জন্য আনন্দদায়ক । স্বয়ংক্রিয় লিপটে পা রাখলেই ঝামেলা শেষ । পাহাড় থেকে সমতলে কিম্বা একটানে সমতল থেকে পাহাড়ে । হাঁটাহাঁটির এই কাজটিও আনন্দদায়ক । তবে, এতে খানিকটা কষ্ট আছে । হেঁটে অভ্যস্ত নয় তারা । ইদানীং অভ্যস্ত হবার চেষ্টায় আছে । ভোরের সূর্যের আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাবার আগে আগে এই হন্টন পর্বটা তারা বেশ উপভোগ করছে । ইরিনা সামনে, পেছন পেছন সুবোধ । রাস্তাঘাট ফকফকা, খালি । এত ভোরে এখনও লোকজন নেই--এটাই এ সময়ে হাঁটার আনন্দ । সামনের বাঁকটা পেরুলেই একটা বাজার । বাজার পর্যন্ত তারা যায় না, লোকজন কেমন কেমন চোখে তাকায় । বাঁক থেকেই ফিরে আসে । বাঁকে পৌঁছেই তারা দেখলো দু'টা ছেলে ঘোর লাগা চোখে ইরিনার দিকে তাকিয়ে আছে । দু'জন যুবক । তাদের একজন ফিসফিস করে বললো, -'দোস্ত! তব্দা খাইয়া গেলাম !'
অন্যজন চোখে জিজ্ঞাসা নিয়ে তার দিকে তাকালো । প্রথমজন আবার বললো,- 'শালার ! এইরকম আগুনের গোলা নিয়া ঘুরতেছে একটা রোবট ! আহা ! কতোইনা পোড়া কপাল আমাদের !'
তাদেরকে খেয়াল করলো ইরিনা । ঘুরে গিয়ে চট করে ফিরতি পথে হাঁটতে শুরু করলো ।

ভোরের স্মৃতি থেকে সামনে দৃশ্যমান দৃশ্যে ফিরে আসে সুবোধ । এ দৃশ্যটি দেখেই ভোরের ওই যুবকটির মতো তব্দা খেয়ে গেছে সে । এমন দৃশ্য সে এ জীবনে আর দেখেনি । ইরিনার রুমের দরজায় এসেই সে ভয়াবহ ধাক্কাটা খেল । ইরিনা তাকে ডেকে পাঠিয়েছিল একটি জটিল সংকেতের ব্যাখ্যায় সাহায্য করতে । আসতে তার দেরি হয়েছে এক মিনিট । এরমধ্যেই এ ঘটনা । সে দেখলো, ইরিনা আর অনৃন্য মুখোমুখি দাঁড়িয়ে । ইরিনার রক্তিম দু'গাল ধরে তার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আছে অনৃন্য । ঠিক কি করা উচিৎ ভেবে পাচ্ছেনা সুবোধ ! সাহিত্যের ভাষায় ঠিক এই অবস্থাটাকেই বোধকরি বলা হয়--কিংকর্তব্যবিমূঢ় !

পহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে মুঠো ভর্তি জোছনা ধরতে ধরতে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অনৃন্য । ছেলেমানুষী একটা কান্ড তার মাথায় আসে । এই কান্ডটা তিনি করবেনই , নিশ্চিত হন । ইরিনার ঘরে ছুটে আসেন । ইরিনার দু'বাহু ধরে তাকে টেনে তোলেন । তারপরই বিনা বাক্যে তার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দেন । ঠেঁটে ঠোঁট চেপে ধরে রাখেন ! মুহূর্তগুলো গড়গড় গড়িয়ে যায় । ঠিক এ মুহূর্তে ইরিনার প্রতিক্রিয়া বুঝা ভার ! সে যেন এক কলের পুতুল !



তিন


খুক করে কেশে ওঠে সুবোধ । গলা দিয়ে শব্দ বেরুয় না তার । যেটুক বেরুয় নিজের কানেই পৌঁছায় না । আবারো গলা দিয়ে খুক শব্দ বের করে দেয় ! অনৃন্যের হাত আলগা হয়ে যায় । ঘাঁর ঘুরিয়ে তাকান তিনি । তাকে কিঞ্চিত উত্তেজিত দেখা যায় । অপ্রস্তুত হয়েছেন, এমন বোধ হয় না । চেহারা হাস্যোজ্জল । সুবোধকে দেখে বরং তিনি হইহই করে উঠেন ,--'মাই ডিয়ার ! ভিন গ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে চূড়ান্ত যোগাযোগ স্থাপনের মাত্র মুহূর্তকয় আগে অবস্থান করছি আমরা । আমাদের টেলিস্কোফে ধরা পড়া সিগনালগুলোর গাণীতিক সমীকরণ মেলানো সম্ভবপর হয়েছে !"
'অভিনন্দন মহোদয় !'
'ধন্যবাদ ।'
অনৃন্য আবার ইরিনার দিকে ফিরে তাকান । ভদ্রতার চূড়ান্ত করেন তিনি । খানিকটা সামনে ঝুঁকে পড়ে করজোরে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন ,-'আমি দুঃখিত , মহামতি ইরিনা ! আনন্দে বাঁধ ভাঙ্গা হয়েছিলাম আমি !' ইরিনার নামের আগে সম্মানসূচক শব্দ 'মহামতি' ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা জারি হয়েছে আজ থেকে । আজ দুপুরে সবার কাছে মেসেজ পৌঁছে গেছে । বিজ্ঞানীদের সদর দপ্তর থেকে প্রধান বিজ্ঞানী ক্রিশু এ আদেশ জারি করেছেন । অনৃন্য অপেক্ষায় থাকে ইরিনার জবাবের আশায়। চুপচাপ ইরিনা । দৃষ্টি অবনত । সবসময়ের মতনই শীতল । তাকে দেখে , তার ক্রোধ, ক্ষোভ, ভালবাসা, উচ্ছাস কিম্বা ঘৃণা বুঝার উপায় নেই । তিনি হাসেন । শ্লেষ জড়ানো কন্ঠে বলেন,- ''তারপর ?' 'অনৃন্য অসহায়বোধ করেন । তাকে বিভ্রান্ত দেখা যায় । ইরিনার এই 'তারপর' এর অর্থ তিনি ধরতে পারেন না ! তার চোখে জিজ্ঞাসা । হঠাৎ করেই ইরিনাকে তার অচেনা এক রহস্য মানবী বলে ভ্রম হয় । ইরিনা কথা বলে উঠেন,--'তারপর? তারপর আমিই বলি । আপনি ড. অনৃন্য মানবজাতির জন্য অনন্যসাধারণ একটি মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন । মহাজাগতিক প্রাণীদের প্রতিটি সিগনালকে একেকটি গাণিতিক মানদন্ডে দাঁড় করিয়েছেন । তারপর আপনার নিজস্ব গাণিতিক সমীকরণে সেগুলোকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ক্রমশ এগিয়ে গেছেন চূড়ান্ত সমাধানে । শেষ পর্যন্ত সবক'টি সিগনালেরই যে একক গাণিতিক সংখ্যাটি আপনি পেলেন, তা হলো,--দুই !' বিস্মায়িভিভূত অনৃন্যের মুখে কথা সরেনা । এই তথ্য এখন পর্যন্ত কারো জানার কথা না । কিন্তু ইরিনা জানে ! কি করে জানে ! তার ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই । প্রবেশ সহজও নয় । শক্ত বাঁধা । চায়লেই কেউ সেই বাঁধা ডিঙ্গোতে পারবেনা । তাহলে কি করে সম্ভব ? বিড়বিড় করেন অনৃন্য,- 'আপনি কি করে জানেন ?'
'আপনি খুব অবাক হচ্ছেন অনৃন্য । এই সংবাদ পৃথিবীর সবগুলো মিডিয়াতে চাওর হয়ে গেছে ইতোমধ্যে । পৃথিবীর মানুষেরা এখন উৎসব করছে মানবজাতির এই মহান সাফল্যে ! তারা এখন নানাভাবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে । কিন্তু সাময়িক ভাবে আপনাকে সবরকম নেটওয়ার্ক এর বাইরে রাখা হয়েছে ।'
কিন্তু কিভাবে সম্ভব ? কি করে জানলো তারা ?'
'আমিই তাদের জানিয়েছি !'
'আপনি ?'
'আমি খুব-ই দুঃখিত অনৃন্য ! আপনার ওপর আমাকে নজরদারী করতে হচ্ছিল । প্রথম থেকেই আমি এ-দায়িত্বে ছিলাম । সদর দপ্তর থেকে ড. ক্রিশু (বিজ্ঞানীদের প্রধান) আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন । তাছাড়া...!'
'তাছাড়া কি ?'
'তাছাড়া আপনার নেটওয়ার্কের ভেতর ঢুকে সমীকরণ মেলানোতো আমি আপনাকে সাহায্য করেছি । আপনার অজান্তে । আপনাকে বুঝতে দেয়া হয়নি ।'
হঠাৎ করেই একরাশ বিষাদে ছেয়ে যায় অনৃন্যের মুখ । এরা তার সাথে একধরণের খেলা খেলছে, গোপন খেলা । এরা তাকে বিশ্বাস করে না ! এতো বড় প্রতারণা !' ইরিনা তার মনের ভাব বুঝতে পারন । আলতো করে মমতার একখানা হাত রাখেন তার কাঁধে ।
'অনৃন্য; আমাদের সবার মঙ্গলের জন্যই এটা করতে হয়েছে । আমাদের নিরপত্তার জন্য । একটি অশুভ চক্র বলয়ে আমরা আবদ্ধ হয়ে আছি । যে কারণেই হোক , অশুভ এ- চক্রটি চায় না আমাদের লক্ষ্যে আমরা সফল হই । সমস্যা হলো এ চক্রটি অদৃশ্য । আমাদের কাছে এরা অচেনা । এর আগেও এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের একদম প্রান্ত সীমা থেকে আমরা বিফল হয়ে ফিরেছি, আপনি জানেন । অশুভ চক্র বলয় থেকে নিজেদের বাচানোর জন্যই আমাদের এ নিরপত্তা ব্যবস্থা !'

অনৃন্য একটু আশ্বস্থ হবার চেষ্টা করেন । সহজ হয়ে ওঠেন কিছুটা । মুহূর্তকয় ঘরময় নীরবতা ঘুরে বেড়ায় । বিরতি দিয়ে ফের বলতে শুরু করেন ইরিনা, - অনৃন্য, আপনার জন্য দারুণ সুখবর এবার ! একক গাণিতিক সংখ্যা- ২ এর যে ব্যাখ্যা আপনি দাড় করিয়েছেন, এক,- মানবজাতির বসবাস আমাদের এই পৃথিবী
দুই,-ভিনগ্রহবাসীদের বাস গ্লীস ৫৮১সি গ্রহটি
= একক গাণিতিক সংখ্যা-- ২ !
বিজ্ঞান পরিষদের সব বিজ্ঞানী একমত হয়ে আপনার এই ব্যাখা অনুমোদন করেছেন । এই সমাধানে দাড়িয়ে আমরা এখন গ্লীস ৫৮১সি গ্রহের এলিয়েনদের রেডিও সিগনাল দিতে পারছি । পরপর দুটো সিগনাল । বিরতি দিয়ে আবার দুটো সিগনাল । একাধারে বিস্ময়কর এবং ভীষণ আনন্দদায়ক সংবাদটি এখন আমি আপনাকে দেবো । আমাদের রেডিও টেলিস্কোফ ধরে ফেলেচে এলিয়েনদের আরো কিছু ফিরতি সিগনাল । আপনার উদ্ভাবিত সমীকরণ মতে এই সিগনালগুলো সমাধান করে যে একক গাণিতিক সংখ্যাটি পাওয়া যায় , তা হলো --১ ! আপনি কি একক সংখ্যা ১-এর কোন ব্যাখ্যা দাড় করাতে পারেন ? '
ইরিনার দিকে তাকান অনৃন্য । আনন্দে উদ্ভাসিত দৃষ্টি তার । হড়বড় করে তিনি বলে যান-- ১, আমাদের পৃথিবী । ২.ভীনগ্রহ গ্লীস ৫৮১সি । গ্রহ দুটো যদি কখনও এক হয়ে যায়, তাহলে আমরা পাই একক গাণিতিক সংখ্যা -১ ! '
'আপনার সাফল্যে অভিনন্দন ড. অনৃন্য ! ড. ক্রিশু ইতোমধ্যে আমাকে জানিয়েছেন, বিজ্ঞান সদর দপ্তরে আগামীকাল আপনাকে সম্বর্ধনা দেয়া হবে । আপনার সাফল্য অটুট হোক !'

গল্পের এ-পর্যায়ে এসে যদি আমরা কল্পণা করে নিতে পারি, এলিয়নরা তাদের উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে পৃথিবী নামের গ্রহটিকে তাদের গ্রহ গ্লীস ৫৮১সির সঙ্গে সংযুক্ত করে নিয়েছে । এলিয়েন এবং মানুষ সেখানে যাপন করে এমন একটি জীবন যেখানে কোন দুখ নেই, দ্বন্ধ নেই ,জরা কিম্বা মৃত্যু নেই । আছে শুধু আনন্দ ভরা জীবনের গান , তাহলে খুবই ভালো হয় । কিন্তু একটা সমস্যা ইতেমধ্যে আবিস্কার করেছেন অনৃন্য । ইরিনার প্রতি ব্যক্তিগত উতসাহ থেকে বিজ্ঞান পরিষদের সমস্ত বিজ্ঞানীদের পারিবারিক ডাটা খুজেও ইরিনার পরিবারের কোন সন্ধান মেলাতে পারেন নি অনৃন্য । এতেদিন কেবল শুনে এসেছেন ইরিনার পিতা-মাতা তার শৈশবেই দেহত্যাগ করেছেন । ইরিনা বেড়ে ওঠেছেন বিজ্ঞান পরিষদের প্রধান বিজ্ঞানী ড.ক্রিশুর ঘরে । ড.ক্রিশু তার নিকটাত্মীয় । কিন্তু ডাটা খুজে তার পিতা-মাতার নাম কিম্বা কোন বংশ পদবী অনৃন্য মেলাতে পারেন নি !

তারও বেশ কিছুদিনপর বছরের শেষ দিনে গ্লীস ৫৮১সি গ্রহের এলিয়েনদের একটি মেসেজ পৃথিবীর রেডিও বার্তায় পৌছায় । সুবোধ সেটি নিজের মেমোরিতে আপলোড করে অনুবাদ করে জানায়, নতুন বছরের প্রথম প্রহরে এলিয়েনদের একটি দল স্পেইস শিপ নিয়ে অবতরণ করবে । মানব জাতির দু'জন প্রতিনিধিকে তাদের গ্রহে নিয়ে যেতে চায় । এলিয়নদের উন্নত প্রযুক্তির সবরকম তথ্য আর শিক্ষা এই দু'জন প্রতিনিধিকে দিয়ে যথারীতি ফিরিয়ে দেয়া হবে । বিজ্ঞানীদের জরুরী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মানবজাতির পক্ষ থেকে এ-দুজন প্রতিনিধি হবেন, যাদের সাফল্যে আজ এতোদূর সে মহান দু'জন বিজ্ঞানী ড.অনৃন্য এবং ইরিনা ।

যথারীতি নতুন বছরের প্রথম প্রহরে বিজ্ঞান ভবনের অদুরে খোলা সমতলে অবতরণ করে স্পেইস শিপ । বিজ্ঞান পরিষদের সব বিজ্ঞানী তাদের গর্ব ড. অনৃন্য এবং ইরিনাকে এগিয়ে দিতে যান, আরেক সাফল্যের পথে । ড. অনৃন্য প্রথমে স্পেইস শিপে পা রাখেন । তারপরই ইরিনা । ইরিনা পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে স্পেইস শিপের পারদের মত টলটলে পর্দা ঝুলে পড়ে তার সামনে । ভেতরে প্রবেশে তিনি ব্যর্থ হন । দ্রুত স্পেইস শিপটি পাহাড় কাপিয়ে উড়াল দেয় । যাবার আগে এলিয়েনরা দুর্বোধ্য ভাষার একটি মেসেজ রেখে যায়। সুবোধ সেটির অনুবাদ করে শোনায়--"গ্লীস ৫৮১ সি গ্রহে রোবট প্রবেশের অনুমোদন নেই । অনুমোদন নেই ক্লোন মানুষের । ইরিনা একজন ক্লোন মানবী । যার জন্ম ল্যাবরেটরীতে "

পৃথিবী জুড়ে একটা হাহাকার পড়ে যায় । এ-হাহাকার অনৃন্যের জন্য । পৃথিবীর মানুষের মহান সম্পদ ড. অনৃন্যকে কি এলিয়েনরা ফিরিয়ে দিয়ে যাবে ? সময়-ই হয়তো বলে দিবে সে উত্তর ।

সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×