প্রতিবার বিডিআর বিএসএফ এর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পরই সীমান্তে দু'চারজন বাংলাদেশীর লাশ ফেলে দেয় বিএসএফ । এমনকি বৈঠক চলাকালীন সময়েও বাংলাদেশী হত্যা করে বিএসএফ এর নিশানা ঠিক করবার নজির অহরহ । মাত্র তিন দিন আগের প্রতিশ্রুতি ভুলে আবারো দুবৃর্ত্ত বিএসএফ বাংলাদেশ সীমানায় অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে । সংবাদে প্রকাশ, সীমানার একমাইল অভ্যন্তরে তারা ঢুকে পড়েছে । গুলি করে নিরীহ ৩০ জন বাংলাদেশীকে আহত করেছে ।
বিএনপি -জামাত জোটের রাজনীতির একটা বড়ো প্রচার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ ভারত হয়ে যাবে । আদতে সেরকম সম্ভাবনা না থাকলেও ভারতের প্রতি আওয়ামীলীগের দুর্বলতার ফলে নতজানু পররাস্টনীতির চরম উদাহরণ হৃদয়, কর্ণ এবং দৃস্টি পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । বরাবরই পাখির মতো বাংলাদেশী শিকার করছে বিএসএফ । সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত এর জোরালো কোন প্রতিবাদ পাওয়া যায়নি । সেটা আওয়ামী সরকারের এই সময়েতো বটেই এমনকি ভারত নিয়ে রাজনীতি প্রিয় বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলেও নতজানু পররাস্ট্রনীতির চিত্র এরচে' উন্নত ছিল বলে দাবি করা যাবেনা ।
গতকালের ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াতে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-- "এটা দুঃখজনক !"
আমাদের অদক্ষ পররাস্ট্রমন্ত্রী এটাকে 'বিচ্ছিন্ন" ঘটনা বলে অভিধা দিয়েছেন । দিপুমণি ম্যামকে বিনয়ের সঙ্গে বলা যায়, যারা বাবা, ভাই, স্বামী হারায় বিএসএফ এর বর্বরতায়, বিচ্ছিন্নতা শব্দটা তারা বুঝেন না । কিম্বা আপনার পিতা ভ্রাতা অথবা স্বামী বিএসএফ এর বর্বর হত্যার শিকার হলে নিশ্চয় তখন আর সেটা আপনার কাছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হবেনা । বিএসএফ কর্তৃক আরো কতো বাংলাদেশীকে হত্যা করা হলে সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে অভিধা পাবেনা, দীপুমণি কি তা বলতে পারেন ?
শেখ হাসিনার চীন যাত্রার দিনে ভারতের ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার আড়ালে ভারত আমাদের কি মেসেজ দিতে চায় ? ভারত কি চায়না চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক ? ভারত কি তা চায় ?
শেখ হাসিনা কি একটা ফোন করে ভারত সরকারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এইরকম বন্ধুত্বের নিদর্শন আর কতোকাল চলবে ?
সামন্তবাদী ভারতের এমন ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই । ধিক্কার নতজানু পররাস্ট্রনীতিকে ।
ভারতের জঘণ্য আচরণ সম্পর্কিত পত্রিকার কিছু রিপোর্ট : -
সমকাল রিপোর্ট
আমার দেশ
আজ ১৫ তারিখের আপডেট নিউজ হলো, এই ঘটনায় বিডিআর বিএসএফ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে ফের । "এভাবে আর গুলি করবেনা বলে বিএসএফ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলা হয়েছে । প্রশ্ন হলো, আগে কি এরকম প্রতিশ্রুতি বিএসএফ আর দেয়নি কোনদিন ? দেখার বিষয় এই প্রতিশ্রুতি কতোদিন মেয়াদে টিকে থাকে ।
সংযুক্তি :
ভারতের জনৈক পররাস্ট্র সচীব বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে কথা দিয়ে গেছেন, আগামী একবছর বিএসএফ আর একতরফা গুলি চালাবেনা ।
তেনার উদ্ধৃতিটি নানাকারণে আমোদজনক । কারণ, এই উদ্ধৃতি থেকে যে সত্যগুলো বেরিয়ে আসে, তা হলো,-
১. ভারত যে একতরফা গুলি চালিয়ে বাংলাদেশী হত্যা করে, অবচেতনে সেই সত্য স্বীকারুক্তি ।
২.বাংলাদেশীদের গুলি করে মেরে ফেলাটা ভারতীয়দের ইচ্ছাধীন । ইচ্ছা হলো, একবছর বিরতি নিলেন। ইচ্ছে হলেই আবার গুলি করে বাংলাদেশী হত্যার কাজটা নিষ্ঠার সঙ্গেই তারা শুরু করবেন ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১০ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




