somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিলাতের সাত সতের-৪

০৬ ই মে, ২০১০ রাত ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে বের হয়ে ডিস্ট্রিক্ট লাইনে মনুমেন্ট নেমে ট্রেন বদলে নর্দার্ন লাইন ধরে বোরো স্টেশনে নেমে আর কলেজ খুঁজে পাই না। প্রায় ঘন্টা খানিক খুঁজে তারপর পেলাম। ওহ সে কি হেস্তনেস্ত, কলেজের চার পাশ দিয়ে ঘুরেছি কিন্তু পাইনি। শেষ পর্যন্ত পেলাম। ভর্তি করে কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে, কবে এসে কোর্স মেটেরিয়াল নিতে হবে সব কিছু জেনে কিছু দরকারি কাগজ পত্র নিয়ে বেরিয়ে এলাম।
আসার পথে জিজ্ঞেস করলাম কেন পাইনি বুঝেছ?
হ্যা বুঝেছি, এইতো এই রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে গেলেই হবে ওই তো ডান দিকে স্টেশন।
ঠিক আছে, এই ভাবেই এসো, চল এখন তোমাকে বাঙ্গালি লন্ডনে নিয়ে যাই ওখানে গিয়ে খেতে হবে ভীষন ক্ষুধা লেগেছে।
হ্যা আব্বু আমারও ক্ষুধা লেগেছে, কিন্তু বাঙ্গালি লন্ডন মানে?
মানে গেলেই বুঝবে, আমি আগে থেকে বলে তোমার অবাক হবার পথ বন্ধ করতে চাই না।
অল্ডগেট ইস্টে নেমে স্টেশন থেকে উপরে এসেই বাংলায় ‘ব্রিক লেন’ রাস্তার নাম লেখা এবং অধিকাংশ উপ মহাদেশীয় লোকজন দেখে খুকু বলল আব্বু আমি এই বারো ঘন্টা ফ্লাই করে এ কোথায় এলাম এ তো দেখছি একে বারে আমাদের ঢাকা।
বললাম চল আরো সামনে চল আরো দেখ।

যতই এগোচ্ছি অধিকাংশ দোকানের নাম, রাস্তার নাম সব বাংলায় লেখা দেখে খুকু অবাক। যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। কিছু দূরে বাংলাদেশের সোনালি ব্যাঙ্ক পর্যন্ত গিয়ে আবার ফিরে এসে হোয়াইট চ্যাপেল এলাম। এখানে রাস্তার পাশে ফুটপাথে তাঁবু টানানো শাক সব্জী থেকে মোবাইল ফোন সহ নানা ধরনের জিনিসের দোকান দেখে ও আরো অবাক।
লন্ডনেও এমন ফুটপাথে বাজার!
নিজের চোখেই দেখছ আর জিজ্ঞেস কর কি।
চল আব্বু আজ আমরা ইংলিশ লাঞ্চ করি।
ইংলিশ লাঞ্চে কি থাকে?
এদের ট্র্যাডিশনাল ইংলিশ লাঞ্চ হচ্ছে ফিশ এন্ড চিপস। বলে কাছে ছোট একটা দোকানে ঢুকলাম।
ওর বয়েসী এক ওয়েট্রেস এসে জিজ্ঞেস করল কি খাব।
খুকু বলল আব্বু দুই রকম অর্ডার দেই তাই দুইটাই টেস্ট করে দেখতে পারব।
হ্যা দাও।
একটা দিল মাছ এবং চিপস, সাথে মটর শুঁটি আর স্যালাদ, আর একটা চিকেন এবং বেকড বিন্স সাথে টোস্ট আর স্যালাদ।

অর্ডার নিয়ে ওয়েট্রেস মেয়েটা চলে গেলে খুকু বলল আব্বু মেয়েটা যেমন সুন্দর তেমন ওর আচরণ তাই না?
আমি বললাম হ্যা, আবার এলে জিজ্ঞেস করে দেখ হয় তো ও তোমার মত ছাত্রী। সত্যিই মেয়েটা যখন দুই ট্রেতে করে দুই হাতে খাবার এনে টেবিলে নামিয়ে রাখছিল তখন খুকু জিজ্ঞেস করল
তুমি কি এখানে ফুল টাইম কাজ কর?
না আমি পার্ট টাইম।
তা হলা অন্য সময়ে কি কর?
আমি পড়াশুনা করি।
কোথায়?
ওর কলেজের নাম শুনে খুকু বলল,
আমি এই মাত্র ওই কলেজে ভর্তি হয়ে এলাম।
তাই নাকি?তাহলে তো তুমি আমার কলেজ মেট!
হ্যা তাই দেখছি।
তোমার কথা শুনে মনে হয় না তুমি ইংলিশ, আমি কি ভুল বলছি?
না তুমি ঠিক ধরেছ, আমি পোলিশ।
বাহ!

দোকানে আমরাই দুই জন কাস্টমার ছিলাম, খেতে খেতে ওরা আরো কিছু আলাপ করল। আমি শুনছি আর খাচ্ছি আর দেখছি খুকু এখানে ভাষা নিয়ে কোন অসুবিধায় পরবে কি না। দেখলাম মোটা মুটি চলছে, কালই বাংলাদেশ থেকে এসে কি আর রাতারাতি ইংরেজ হয়ে যেতে পারে?তবে যা বলছে তা মন্দ না। একটু নিশ্চিন্ত হলাম।
মেয়েটির নাম আলেকজান্দ্রা। আলেকজান্দ্রা আবার এক নতুন কাস্টমার এলে তাকে এ্টেন্ড করতে গেলে খুকু বলল,
মেয়েটা খুব ভাল, তাই না আব্বু?ওকে কিছু টিপস দিয়ে দিও।
আচ্ছা, সে তুমিই দিও বলে একটা ৫ পাউন্ডের নোট বের করে ওর হাতে দিলাম, তবে এখানে ৯৫% ভাগ রেস্টুরেন্টে টিপস মালিকেরা নিয়ে নেয়, কর্মচারীদের দেয় না। কাজেই যাবার সময় তুমি কাউন্টারে যে আছে তাকে দেখিয়ে ওকে ডেকে ওর হাতে নোটটা দিয়ে ওই লোককে বলবে এটা ওকে দিলাম।

খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম কি আব্বু এই খাবার কেমন লাগছে?
আমি তোমার মেয়ে না?
এই তো বাবা বিদেশে না এলে জীবনের অনেক কিছু অজানা থেকে যায়, কি করে পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলতে হয় তা কিছুই বোঝা যায় না। এখন এসেছ, দেখবে পৃথিবীটা কেমন।

সেদিন খাবার পাট সেরে রাস্তার ও পাশে ইস্ট লন্ডন জামে মসজিদ দেখালাম আর একটু এগিয়ে রয়াল হাসপাতাল দেখালাম। এখান দিয়ে রাস্তা পার হয়ে একটু বাম দিকে বার্কলেজ ব্যাঙ্ক এ নিয়ে গেলাম একটা একাউন্ট করার জন্য। রিসিপশনে যে ছিল সে আমাদের সামনের এক জন বয়স্ক বাঙ্গালির সাথে বাংলাদেশের সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। আমরা তার পিছনে দাঁড়ালাম। সামনের বয়স্ক ভদ্রলোকের কাজ হয়ে গেলে আমরা এগিয়ে বাংলায় বললাম আমরা একাউন্ট করতে চাই। আমাদের কথা শুনে সে কিছু বোঝেনি এমন একটা ভাব করে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল কি বললে?
আবার বাংলায় বললাম আমরা একটা স্টুডেন্ট একাউন্ট করতে চাই
এবারও সে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, কি বললে?
বললাম আপনি এই একটু আগে ওই ভদ্র লোকের সাথে বাংলায় কথা বলছিলেন আর এখন আমার কথা বুঝতে পারছেন না?
সে আবার ইংরেজিতে বলল, কি বললে?
বুঝলাম ইনি এক মাত্র আঞ্চলিক ভাষা ছাড়া শুদ্ধ বাংলা জানেন না কিংবা বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিতে লজ্জা পান তাই তখন বাধ্য হয়ে ইংরেজিতেই বললাম। শুনে বলল এখানে আমরা স্টুডেন্ট একাউন্ট করি না, আপনারা অন লাইনে স্টুডেন্ট একাউন্ট করুন। এমনিই এর উপর আমার কিছুটা রাগ মেশানো বিরক্তি ভাব এসেছিল তাই আর কিছু না বলে ধন্যবাদ জানিয়ে ওর সামনে থেকে চলে এলাম।

আবার কাছাকাছি কোন ব্যাঙ্ক আছে দেখতে হবে, খুঁজে লয়েডস ব্যাঙ্ক পেলাম রাস্তার ওপাড়ে। এখানে এসে জানালাম। এরা আবার বলছে ঠিকানার প্রমান লাগবে।
আরে এ এসেছে মাত্র গত পরশু সে এটা কি ভাবে দিবে?এই তো কলেজ থেকে যে চিঠি দিয়েছে ওতে তার স্থানীয় এবং স্থায়ী দুই ঠিকানা দেয়া আছে।
না এতে হবে না।
কি হলে হবে?
ওর নামে বাসার যে কোন বিলের একটা কপি হলেই হবে।
আচ্ছা আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবে যে এক জন মানুষ যে দেশে ছিল না সে কি করে এই বিল দেখাবে?তা হলে কি বলতে চাও ও এখানে আসার আগে ওর নামে বাসা করে রাখা উচিত?
দেখ এ কথার জবাব আমি দিতে পারব না কারন আমাদের যে নিয়ম আমি তোমাকে তাই বলে দিলাম। এ কথা বলে একাউন্ট করার নিয়ম সংক্রান্ত ছাপান একটা কাগজ আমাকে দিয়ে বলল দেখ এটা পড়লেই জানতে পারবে কি কি দেখাতে হবে।
কাগজটা নিয়ে পড়ে দেখলাম ও লোক যা বলেছে তাই লেখা। বেশ হবে না যখন তা হলে আর কি। বের হয়ে পাশের এইচএসবিসি ব্যাঙ্ক এ গেলাম ওখানেও ওই একই কথা। সেদিনের মত আর একাউন্ট করা হোল না, ব্যাঙ্ক থেকে বের হয়ে এলাম।

মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম এখন কি আরো কিছুক্ষণ ঘুরে দেখবে না কি বাসায় যাবে?
না আব্বু আজ আর পারছি না, খুব টায়ার্ড লাগছে, বাসায় চল। তুমি তো কাল আছ কাল আবার বের হব।
বেশ চল, এখানে রিকশা নেই যে এই রিকশা চল বলে লাফ দিয়ে উঠে পরবে, এখানে একটু হাটতে হবেই। আজ একটু হেঁটেছ বলে এমন টায়ার্ড লাগছে।(চলবে)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×