উপরের এই ছবিটা আমার নিজের হাতে তোলা, আমার গ্রামের।
মূল কথায় যাওয়ার আগে কিছু কথা বলে নিই
১। বাংলাদেশে একটিমাত্র পেশা যা অবহেলিত
২। যে পেশার কোন দাবী-দাওয়া নাই (দাবী আছে কৃষি উপকরণের, যেকোন মূল্যে তেল-সারের যোগান, কিন্তু কাউকে বলতে পারে নাই)
৩। যাদের সাথে সরকারকে কোনদিন, কোন বিষয়ে সমঝোতায় বসতে হয় না
৪। যারা কোনদিন ধর্মঘটে যায় না
৫। যারা বোকা এবং খুবই সহজ-সরল
৬। যারা উৎপাদিত পণ্যের দাম নিজেরা স্থির করে না
৭। যাদের জন্য কোন প্রণোদনা প্যাকেজ নাই
৮। যাদের কোন বীমা নাই
৯। কোন ক্ষেত্রে যাদের কোন কোটা নাই
১০। অথচ বাংলাদেশ সেই পেশা-নির্ভর দেশ
১১। যারা কোনদিন কোন আন্দোলনে যায় না।
হ্যাঁ, আমি কৃষকের কথা বলছি। গত কয়েক বছরে আমার দেখা প্রথম এবং প্রধাণ যে সমস্যা তা হলঃ সারের অপর্যাপ্ততা, কৃষকেরা টাকা দিয়েও প্রয়োজনমত সার পায়নি। জনপ্রতি ৫ কেজি, ১০ কেজি সার ধার্য করে সরকার, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সেটাও আবার পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান/মেম্বার/অফিসারদের কাছে কান্নাকাটি করতে হয়। চেয়ারম্যান/অফিসার/গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আবার নিজেদের লোকদের জন্য অতিরিক্ত সার বরাদ্দ করে, এবং সেগুলো বেশি দামে গরিব কৃষকের কাছে বিক্রি করে। এগুলো আমার নিজের চোখে দেখা। আর তেলের দাম যে কি পরিমাণ বেড়েছে তা হয়ত সবাই জানে না।
যাইহোক, সরকার এবার কৃষক-প্রতি ২০০ টাকা করে ভর্তূকি দিয়েছে। অবশ্য এই টাকা তারাই পাবে, যারা পাট চাষ করেছে। (পাটের দামও এবার বেশ ভাল ছিল, কৃষকেরা মণপ্রতি ১৫০০ টাকা বিক্রি করতে পারলেই খুশি ছিল। সুখের কথা হলঃ কেউ কেউ ২০০০/২২০০ টাকা দরেও বিক্রি করেছে, পাটের কোয়ালিটি অনুসারে।)
যদিও এই ২০০ টাকা নিতান্তই কম, তারপরও এটা অবশ্যই ভাল উদ্যোগ, কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এই ২০০ টাকা তুলতে একজন কৃষককে ঘুরতে হয়েছে ৩/৪ দিন, যেখানে একজন কৃষকের একদিনের মজূরি কমপক্ষে ১৫০ টাকা। আরও সমস্যা হলঃ গ্রামের চেয়ারম্যান/মেম্বার/নেতারা তাদের ৩/৪ বছর বয়সী মেয়েকেও কৃষক বানিয়ে টাকা তুলেছে।
এর একটা সমাধান হতে পারে এরকমঃ প্রত্যেক কৃষকের (শুনেছি, কৃষকের পরিচয় পত্রের প্রবর্তণ করেছে সরকার) জন্য একটা করে ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলে দেয়া হোক, সরকার চাইলে ভর্তূকির টাকা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে একাউন্টে দিয়ে দিতে পারে।
ধন্যবাদ সবাইকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


