somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন্তব্য গুম করে দিলেই কি বক্তব্য প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়!

৩০ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেরিনার ডিজুসদের রক্ষাকল্পে ঈশপের গল্প বলেছেন “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” – এই প্রশ্নের সরল উত্তর
নামক পোস্টে। গল্পটা এরকম -

একটি ছবি কে এঁকেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয় ৷ তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব ৷ একইভাবে “সৃষ্ট নন”, এমন একজন স্রষ্টা থাকা সম্ভব, তাই বার্ট্রান্ড রাসেলের “হু ক্রিয়েটেড গড মাম?” এই প্রশ্ন করা অযৌক্তিক, অবান্তর, বোকামী

আমি উত্তরে বলেছিলাম -

একটা চতুর শব্দের খেলা খেললেন। জাকিরের কথা মনে পড়ে গেল। জাকির বলেছিলো যে ঈশ্বরে অবিশ্বাসীকে মুসলমান বানানোর কাজ নাকি অর্ধেকই হয়ে গিয়েছে। কেমন করে? আসুন দেখি জাকিরের চতুর শব্দের খেলা - “যেহেতু ঈশ্বরে অবিশ্বাসী মনে করে “There is no God”, সেহেতু তাকে বাকিটা মানে “But Allah”, শেখাতে পারলেই সে মুসলমান হয়ে যাবে।“

আসুন দেখা যাক আপনি যে শব্দের খেলাটা খেললেন তার ফাঁকটা কোথায়।


একটি ছবি কে এঁকেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে এঁকেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর কেননা চিত্রশিল্পীর ক্ষেত্রে “আঁকা” নামক ক্রিয়াটি প্রযোজ্য নয় ৷ তাই চিত্রশিল্পীর অংকিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য কথায় “অংকিত নয়” এমন একজন অংকনকারী থাকা সম্ভব ৷

সৃষ্টি আর অংকন শব্দ দুটোর আপাত পার্থক্য দেখিয়ে আপনি বোঝাতে চেয়েছেন যে “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন?” এ প্রশ্ন অবান্তর।

এখন দেখুন “ছবিটি কার আঁকা?” এর বদলে “ছবিটি কার সৃষ্টি?” এ প্রশ্ন করলে কিন্তু আপনার শব্দের খেলা টেকেনা। তখন উত্তর পাওয়া যায় “চিত্রশিল্পীর”। আবার প্রশ্ন করা যায় “চিত্রশিল্পী কার সৃষ্টি?” উত্তর “ঈশ্বরের”। তারপরই পৌঁছে যাওয়া যায় সেই প্রশ্নে যেটার অসারতা প্রমাণের জন্য আপনার এই ছেলে ভুলানো খেলা।

মেরিনারের শাপ শাপান্ত -

রাস্তার একটা বদ্ধ পাগলও ক্যানভাসে ছবি আঁকা আর চিত্রকরের মানবজন্ম (তার সৃষ্টি বা তার পৃথিবীতে আসাকে) একই প্রক্রিয়া বলে আখ্যায়িত করবে না। শঠতা, শব্দের খেলা বা মারপ‌্যাঁচও সহজ কথাকে বুঝতে না চাওয়ার মুনাফিক্বি অবশ্য নাস্তিকদের সহজাত বৈশিষ্ট্য!

তারপর পেরিয়ে গেছে অনেক দিন। দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন মুসাফির। তিনি লিখেছেন -

১০ নং কমেন্টকারী নির্নয়কে বলছি..
আপনি ভুল কথা বলেছেন: এই পৃথিবীতে কেউ কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারেনা। রুপান্তরিত করতে পারে মাত্র।

তেমনি ছবি আকা কোন সৃষ্টি নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছে.. রং, হার্ডবোর্ড, তুলি, সহ একজন মানুষ... ইত্যাদি বিভিন্ন উপকরন। আর সব উপকরন গুলির অস্তিত্বই হলো স্রষ্টার কাছ থেকে ধার। যেমন: হার্ডবোর্ড বা কাগজ এটা এসেছে কাঠ থেকে আর, কাঠ এসেছে গাছ থেকে, গাছের অস্তিত্ব মাটি থেকে, আর মাটির অস্তিত্ব... কে সৃষ্টি করেছেন? স্রষ্টা..

অতএব ছবি সহ এই পৃথিবীর মানুষের দ্বারা করা কোন কিছুই সৃষ্টি নয় বরং আবিস্কার, তৈরি, রূপান্তর ইত্যাদি শব্দে আখ্যায়ীত করা যাবে কিন্তু - সৃষ্টি নয়।


এই বক্তব্যের সাথে সাথে তিনি আমাকে কিছু ঐশ্বরিক হুমকিও দিয়েছেন। সেটা এখানে উহ্যই থাক।

মুসাফিরের দাওয়াত পেয়ে আবার পোস্টে ফিরে মেরিনার কে লিখেছিলাম -

আপনি যখন অংকন সম্ভব আর অংকন সম্ভব না এই শব্দের খেলা নিয়ে উপস্থিত হলেন তখন আপনাকে বলেছিলাম এই শব্দের খেলার জন্যই এই গল্প তৈরী, যা ইচ্ছা করলে অন্যভাবেও বলা যায়। সৃষ্টি শব্দের ব্যবহার সেকারণেই হয়েছিলো, মানুষের সৃষ্টি আর ছবি সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে এক বলা হয়নি। যে উর্দু সর্বস্ব ভাষা জ্ঞানের কারণে আপনি আমার লেখা বুঝতে পারেননি তার কারণে এবারও বুঝবেন কি না জানিনা, তবু লিখছি - “বিষাদ সিন্ধু মীর মোশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি” বাক্যে ব্যবহৃত সৃষ্টি শব্দের অর্থ সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল। “রাস্তার একটা বদ্ধ পাগল” হয়তো সেটা বোঝেনা। আপনারও বুঝতে কষ্ট হচ্ছে, ব্যাপার না। সকল কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। কঠিন নিয়তে এগিয়ে যান, অবশ্যই বাংলা শিখে ফেলতে পারবেন। আর একটা কথা অক্ষমদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র অভিশাপ দেয়া। কথার যথাযথ জবাব দিতে না পেরে আপনি অক্ষম ক্রোধে মুনাফিক আখ্যায়িত করলেন। জাহান্নামের শাস্তি ভোগের এই শাপ-শাপান্ত করাটা নিজের কাছে আপনার হেরে যাবার প্রমাণ।

আপনার মগজকে আর একটু নাড়া দেয়ার জন্য লিখে যাই - অংকনের বদলে সৃষ্টি যদি নাও ব্যবহার করেন, বরং “তৈরী” শব্দটা ব্যবহার করেন, তাহলেও আপনার পাতানো গল্পের খেলা টেকেনা।

মেরিনার মুছে দিয়েছে সেই উত্তর। সাথে সাথে ভীম-রুল এর জবাবটাও।

মন্তব্য মুছে দিয়ে কী হল মেরিনার! স্বর্ণলতার ঐতিহাসিক সংকলনে আপনার পাতানো গল্পের খেলা যুগ যুগ ধরে অখন্ডনীয় কঠিন সত্য হিসেবে অক্ষয় হয়ে থাকবে?

আচ্ছা মেরিনার যে জবাব দিতে না পেরে মন্তব্য মুছে দেয় তার কি মুনাফিকের সাথে কোন মিল আছে? জানতে চাইলাম, কারণ আপনি তো মুনাফিকদের ব্যাপারে অনেক জানেন!


*********

যে মানুষ এত অসৎ সে কোন মুখে সত্যের আহবান জানায়! সত্য যা-ই হোক সে যা বলে সেটাকে তো সে সত্য বলেই জানে। তা-ই যদি হয় তাহলে এত অসৎ কেন বক্তব্য খন্ডনে? ব্লক করে দিয়ে , আমার মন্তব্য মুছে দিয়ে এখন লিখছে -

আমি যদি "পাপুয়া নিউ গিনী"র জঙ্গল থেকে অথবা এ্যামাযনের জঙ্গল থেকে একজন আদিবাসীকে নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করি যে, একজন চিত্রকরের একটি ছবি আঁকার প্রক্রিয়া, আর ঐ চিত্রকরের পৃথিবীতে আসার প্রক্রিয়া দু'টো কি এক? বিজ্ঞান আর দর্শন সম্বন্ধে একেবারে অজ্ঞ ঐ লোকও বলবেন যে, কিছুতেই নয় - অথচ আপনাদের মত পন্ডিতরা এই সাধারণ যুক্তিটা বুঝতে চাইছেন না - ভাষার মারপ্যাঁচে দু'টো প্রক্রিয়াকেই এক দেখাতে চাইছেন!

অথচ আমি “বিষাদ সিন্ধু মীর মোশাররফ হোসেনের অমর সৃষ্টি” বাক্যের উদাহরণ দিয়ে তাকে তার জবাব আগেই দিয়ে দিয়েছিলাম। এখন আমার মন্তব্যের অনুপস্থিতিতে ফাঁপড়বাজি করছে! আফসোস এমন মানুষকে নিয়ে!

মেরিনার সেইরকম একটা ইনশাল্লাহ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন যে মুসাফিরকে দেয়া কমেন্টটাও মুছে দেবেন তিনি! মুসাফিরকে দেয়া জবাবটা তাই এখানে যুক্ত করলাম। আর ওখানে তা লিখতেও পারবোনা কারণ “দুঃখিত, আপনার এখানে মন্তব্য করার অনুমতি নেই ।“ !!!

@ মুসাফির

পোস্টের লেখক যদি অংকন এর বদলে রূপান্তর ব্যাবহার করেন তাহলে তার পোস্ট শুরু হবে এভাবে -

একটি ছবি কে রূপান্তর করেছে, এর উত্তরে একজন চিত্রশিল্পীর অস্তিত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু “চিত্রশিল্পীকে কে রূপান্তর করেছে?” এই প্রশ্নটি অবান্তর ...

খেলা এখানেই শেষ হয়ে যায়। আপনার সমমর্মী পোস্ট লেখক যদি আপনার পরামর্শ অনুযায়ী লেখাটা শুরু করেন তাহলে তিনি আর পাতানো গল্পের খেলাটা খেলতে পারবেননা। কারণ আপনার কথা অনুযায়ী তখন প্রগমনটা দাঁড়াবে এরকম “চিত্রশিল্পীকে কে রূপান্তর করেছে? এই প্রশ্নটি অবান্তর ...”। শেষের “এই প্রশ্নটি অবান্তর” কথাটা পোস্ট লেখক লিখতে চাইবেননা। কারণ তাঁর ধারণা চিত্রশিল্পী ঈশ্বরের সৃষ্টি (ঈশ্বর কর্তৃক রূপান্তরিত)। যদি সেটা তিনি না লেখেন তাহলে পাতানো গল্পের ক্রমে “ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন এই প্রশ্ন অবান্তর” পর্যন্ত লেখক পৌঁছাতে পারবেননা। সুতরাং আপনার রূপান্তর শব্দের ব্যবহার এই পোষ্টের জন্মই হতে দেবেনা। আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে আপনার রূপান্তর শব্দটাই এ প্রসঙ্গে অবান্তর।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১০ ভোর ৫:১৯
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×