somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বৃত্তান্ত

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“বিলিয়ন মানুষের মতামতকে অশ্রদ্ধা করা”, “অনুভুতিতে আঘাত”, “বিশ্বাসে আঘাত” ইত্যাকার বিষয়ে অনেকে সরব। হার্ডকোর আরবসাম্রাজ্যবাদী ছাড়াও এই অনুভূতির জ্বরে আক্রান্ত এমন অনেকে, যাদের একদিকে “প্রগতিশীল”, “মুক্তিযুদ্ধে পক্ষশক্তি” হওয়ার খায়েশ আছে, অন্যদিকে “পাছে কেউ নাস্তিক বলে” এই ভয়ে নিজেদের ইসলামিত্ব প্রমাণের একটা তাড়না আছে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে মানে “হিন্দুদের দালাল” এই তকমা থেকে বাঁচার জন্যও একটা প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। এই যে প্রমাণ করার তাড়না তা শেষ পর্যন্ত জেনে বুঝে ধর্ম পালনের বদলে ধর্মের ইজ্জত বাঁচাতে সরব হওয়াতে পর্যবসিত হয়; জানাতে হয় যে ধর্মের অবমাননায় তাদের অনুভূতি আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে।

তারা সপ্তাহে ৩৫ ওয়াক্ত নামাজের জায়গায় ৩৪ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে ভাবেনা যে তারা ইসলামের পাঁচ মূল ভিত্তির একটিতে আঘাত করেছে কীনা। তারা কোরান না পড়ে ভাবেনা যে তারা আল্লাহর আদেশ “ইকরা” কে আঘাত করেছে কীনা। তারা ছবি তুলে ভাবেনা তারা নবীর হাদিসকে আঘাত করেছে কীনা।

তবু অনুভূতিতে আঘাত নিয়ে বাজার গরম, কাঠগড়ায় নির্ধার্মিকরা। দেখে-শুনে-পড়ে-মনে হয় “অনুভূতিতে আঘাত” নামের আয়াত/শ্লোক/ভার্সটা নির্ধার্মিকদেরই নাজিল করা জিনিস। অথচ-


- ইহুদি ধর্মের মুসা নবী তৎকালীন সমাজের মূর্তিপূজারীদের মূর্তিপূজার অসারতা বোঝাতে তাদের মতামতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানিয়ে মূর্তি ভেঙেছিলেন। তিনি একই সাথে ইসলামের নবী। মুসা নবীর কাজে কী মূর্তিপূজারীদের অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি!

- সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মূর্তিপূজারীদের বিরুদ্ধে একা নবী অশ্রদ্ধা থেকেই একেশ্বরবাদ প্রচার করা শুরু করেছিলেন। পরে মূর্তি ভেঙে তাদের মতামতকে অশ্রদ্ধাও করেছিলেন। তিনি যা সত্য মনে করেছেন তা তিনি কোন অশ্রদ্ধা/অবমাননার তোয়াক্কা না করেই প্রতিষ্ঠা করেছেন।

- ইসলামিক সত্য “যিশু মারা যানননি, তাঁকে তুলে নেয়া হয়েছে” খৃষ্টানদের বিশ্বাস-অনুভূতিতে আঘাত।

- ইসলামিক সত্য “ইহুদিরা অভিশপ্ত” ইহুদিদের বিশ্বাস-অনুভূতিতে আঘাত।

- ইসলামিক সত্য “খৃষ্টানরা পথভ্রষ্ট” খৃষ্টানদের বিশ্বাস-অনুভূতিতে আঘাত।


ধর্ম বিষয়ে সমালোচনায় যারা অনুভূতিতে আঘাত পায় তাদের নির্ধার্মিকদের দোষারোপ করার আগে ভাবা উচিত যে তাদের ধর্ম প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ধর্মপুরুষরা সমাজের মতামতকে শ্রদ্ধা করেছিলেন কী না।


এছাড়াও ইসলামের ভেতরও বহু গ্রুপ একে অপরকে অশ্রদ্ধা করে, অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে চলেছে-




- কাদীয়ানীদের অমুসলিম আখ্যা দিয়ে মসজিদে “কাদীয়ানী উপাসনালয়” বোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছিলো, তাদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েই।

- আবার চরমোনাই পীর গ্রুপ ও দেওয়ানবাগী পীর গ্রুপ একে অপরের মত কে অশ্রদ্ধা করে। দেওয়ানবাগী চোরমান ঊএর সাবেক পীর আমিনীকে কামিনী বলে অশ্রদ্ধা করেছে।

- সুন্নীরা শিয়াদের মত কে অশ্রদ্ধা করে।

- আহলে কুরান গ্রুপকে অশ্রদ্ধা করে আহলে হাদিস।

- মাজারবাদীরা অশ্রদ্ধা করে সালাফিদের। সালাফিরা মাজারবাদীদের শিরককারী হিসেবে দেখে। সালাফিরা যে শুধু যুক্তি তর্কে মাজারবাদীদের অনুভূতিতে আঘাত করে তা নয়, তারা বহু মাজার গুড়িয়েও দিয়েছে।

- মডারেট মূর্খরা আলেমদের অশ্রদ্ধা করে “গোঁড়া” ভেবে। আলেম ওলামারা মডারেট মূর্খদের অশ্রদ্ধা করে বেদাতী হিসেবে।


কে কেন কবে কার অনুভূতির তোয়াক্কা করেছে নিজেদের সত্য প্রচারে? তারা নিজেরা যেটাকে সত্য মনে করেছে তাতে কী অন্যদের অনুভূতিতে আঘাতের ভাবনায় তারা চুপ করে গিয়েছে? অশ্রদ্ধা জানানো তে কে কবে কার থেকে কতটা পিছিয়ে ছিলো?


মক্কার কাফেরদের ধর্মমতের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করায় নবীকে যেমন হেনস্তা হতে হয়েছে আজ ঠিক সেরকমই প্রতিষ্ঠিত ধর্মের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করায় হেনস্তা হতে হচ্ছে অনেককে। সত্য কী সেটার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে গায়ের জোর।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৪:০৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের নতুন ধরন - জুলাই মাসে কই ছিলেন?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

১।

জুলাই মাসে কই ছিলেন – গত দেড় বছর ধরে অনলাইনে এই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বহুবার। এই প্যাটার্নের প্রশ্ন, অভাগা দেশে বারবার ফিরে আসে। শেষমেশ এই ধরনের প্রশ্নগুলোই নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×