
বর্তমানে বিভিন্ন টকশো ও বিবৃতিতে আওয়ামী মন্ত্রী এবং আওয়ামী ঘরানার বিবৃতিজীবীরা বলে বেড়াচ্ছেন সংবিধান কাটাছিঁড়ার কথা। সংবিধানের সবচাইতে বড় অপারেশনটা তো ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগই করেছিল। একদলীয় ব্যবস্খা যদি সেদিন সাংবিধানিক ক্যু-এর মাধ্যমে করা না হতো তাহলে দেশে সামরিক আইন জারির কোন সুযোগ সৃষ্টি হতো না। ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির ওপর অন্যায়, অবৈধ একদলীয় নিবর্তনমূলক শাসন চাপিয়ে দেয়ার কারণেই ৫ম সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমেই জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একদলীয় দুঃশাসনের জিঞ্জির থেকে দেশকে উদ্ধার করা হয়েছিল। শুধুমাত্র ধর্মভিত্তিক দল নয় বরং আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমেই।
কিন্তু তারপরও বর্তমান সরকার বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার বলেছেন, বাহাত্তরের সংবিধানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এ ব্যাপারে আমি একটি পোস্টও দিয়েছিলাম ।
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদক জনাব নাইমুল ইসলাম খানও বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের সরাসরি ফিরে গেলে শুধু বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে না, ঐ দিকে হাঁটতে শুরু করলেই বিশৃঙ্খলা শুরু হবে এবং সে বিশৃঙ্খলা কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সে বিষয়টি কল্পনা করতে গেলে আমি শিহরিত হই ।
তার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি এখানে পাবেন।
যে সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি, যে সংবিধানের ওপর আওয়ামী লীগই কয়েকবার অপারেশন চালিয়েছে, তা আবার কেন জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা সত্যিই ভাবনা বিষয়। অনেকেই বলছেন, ভারতকে খুশী করার জন্য সরকার এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


