প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোর গলায় দাবি করছিলেন তার সরকারের প্রথম এক বছরে কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। যদিও মিডিয়ায় তার আগেই মন্ত্রী ও মন্ত্রীর মর্যাদায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততার অনেক অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশের পরও প্রধানমন্ত্রী যখন তার মন্ত্রিসভাকে ক্লিন হিসেবে দাবি অব্যাহত রেখেছিলেন তখনই যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
শুধু তাই নয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকার দলীয় দু’জন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, গোলাম মওলা রনি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন। মন্ত্রী পরে ওই দুই এমপির বিরুদ্ধেই পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত এবং শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠানে ‘মন্ত্রীরা বড় চোর’ বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি নিজ দলীয় টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এখনকার চাঁদাবাজদের চোর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আগে ডাকাতি হতো এখন চুরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতায় পাটমন্ত্রী আরও বলেন, ডিসি অফিসে এমএলএসএস নিয়োগ করবে। আমার জন্য ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল। আমি নেইনি। আমি ঘুষ খাই না, চান্দা খাই। দু’দিন ধরে পুলিশে লোক নিয়োগ চলছে। দুই লাখ টাকা মার্কেট প্রাইস। যারা নিয়োগ পাবে তারা কি টাকা কামাবে না? সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদের টাকা দেয় না। কিন্তু পুলিশ, বিদ্যুত্, টেলিফোন ও ওয়াসার লাইনম্যানদের ঘুষ দিয়ে আনন্দ পায়। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘মন বদল না হলে দিন বদল হবে না।’
গতকাল ঢাকায় শেরাটন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ.ফ.ম. রুহুল হক বলেছেন, সরকার রাজধানীকে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নিলেও তদবিরের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সবাই। ইন্টারন্যাশনাল কংগেগ্রস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক সেমিনার-২০১০ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সবকিছু রাজধানী কেন্দ্রিক হওয়ায় ডাক্তাররা ঢাকায় আসতে চান এটাই স্বাভাবিক। আবার ডাক্তাররা বদলি হবে এটাও স্বাভাবিক। তবে তদবিরের কাছে অনেক কিছুই সম্ভব হয় না।
এদিকে এর আগেও মিডিয়ায় মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এলজিআরডি মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাধিকবার তার মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছেন। মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হচ্ছে স্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দিয়েছেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করা নিয়ে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মোচাইতে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনা টেন্ডারে অপ্রয়োজনীয় কম্প্রেসার স্থাপন নিয়েও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। Click This Link
শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি সোনার খনি। তিনি আরও বলেছিলেন, চাটার দল সব খেয়ে শেষ করে ফেলেঠে। জানিনা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার দলের মন্ত্রীদের দুর্নীতির ব্যাপারে তার পিতার মত কিছু বলতে পারবেন কিনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


