আজব শহর ঢাকা...প্রতিনিয়তই ঘটে নানা ঘটনা...নানা সমস্যার মধ্যে পড়েও চলতে হয় ব্যস্ত মানুষদের...সকালে বের হতেই তুমুল যুদ্ধে অবতীর্ন হয়ে উঠতে হয় বাসে...উঠে ঠাসাঠাসি করে কোন রকম দাড়াতে পারলে মনে হয় এর চেয়ে যুদ্ধ জয় করা আরো সহজ...আজ বিকেলে উত্তরার উদ্দেশ্যে শুক্রাবাদ থেকে যাওয়ার মনবাসনা করলাম...দীর্ঘ এক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পরও কাঙ্খিত বাসটি না পেয়ে দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবলাম...ধৈর্য কাকে বলে বাসের টিকিট কেটে দাড়িয়ে থাকা মানুষদের চেয়ে আর ভাল কে বলতে পারবে...
যা হোক একটু পর উত্তরাগামী একটা স্টাফ বাস আসতেই হুড়মুড় করে সবাই উঠতে লাগলেন...যেভাবেই হোক যেতে হবে গন্তব্যে...নিজ আবাসে...তারপর না হয় একটু শান্তি...বাসে উঠে পাশের সিটের ভদ্রলোকের সাথে আলাপ করার ইচ্ছে জাগলো যদিও ক্লান্তিতে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না বললেই চলে...ভদ্রলোক নিজ থেকেই শুরু করলেন...জানলাম ধানমন্ডিতে চাকুরী করেন...একমাত্র শিশু সন্তান উত্তরায় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত স্কুলে পড়ে তাই উত্তরাতেই বাসা নেয়া...এরপর এই কথা সেই কথা...একটু পর আমাদের সিটের আশেপাশের দাড়িয়ে থাকা কয়েকজনও যোগ দিলেন আমাদের সাথে...দীর্ঘ যানজট উপেক্ষা করে বাস এগুচ্ছে কচ্ছপ গতিতে...আর আমাদেরও নানা বিষয় আলাপ চলতে থাকলো...কিছু সময় কথা বলতেই অচেনা এই মানুষগুলোকে খুব আপন মনে হলো...সবাই যেন একে অপরের কত চেনা...ক্লান্তিময় চেহারাগুলো যেন একে অপরের কত কাছের...কত আপন...এভাবেই একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনের নাম্বার আদানপ্রদান...এভাবেই কখন যে একজনের গন্তব্য চলে এলো কেউ টেরই পায়নি...একজনকে নামতে হবে আর সবাই যেন হঠাৎ চুপ হয়ে গেল...যিনি নামছেন তিনি একটু এগুচ্ছেন আর পেছনে তাকাচ্ছেন...একসময় বাস থেকে নেমে একপাশ থেকে হাত নাড়তে লাগলেন আমাদের উদ্দেশ্যে...সবাই হাত নাড়তে লাগলেন...আড্ডা, আলাপ আর জমলো না...গন্তব্য আসতে একজন একজন নামতে লাগলো...একসময় আমার গন্তব্য আসতেই বাস থেকে নামলাম কিছু দারুন সুখময় স্মৃতি...কিছু দারুন সময়...আর দারুন একটা প্রশান্তি এবং অনুভূতি নিয়ে...ভাবতে বাধ্য হলাম...যান্ত্রিকতায় সবাই এখনও যান্ত্রিক হয়ে যায়নি...ভাবতেই আবারও একরাশ প্রশান্তি ছুঁয়ে গেল মনে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


