কোন এক অজানা মোহে! এক অজানা কারণে চলে আসি প্রবাসে। আজ বন্ধুরা যখন ফাইনাল ইয়ারের পরিক্ষা নিয়ে টেনশনে আর আমি কত ফিট বাই কত ফিট কাটবো মারব তার হিসাব নিয়ে ব্যাস্ত। এই মেরে কেটে হয়তো পকেট আর পরিবারের সাস্থ্য ভালো হতে থাকবে কিন্তু আমি কি আমার লালিত স্বপ্নের কাছ থেকে পালিয়ে থাকতে পারব? ক্লাস নাইনে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম মামার মতো আমিও কালো কোট গায়ে তুলব। আর আজ যখন কালো রাতের অন্ধকার দুর হতে থাকে আমি কাটাকাটি আর হিসাব কিতাব শুরু করি। আরেক অন্ধকারে বাসায় ফিরি।
এখন বর্ষা কাল বালিগাওয়ের খাল ভরা পানি। আর আমি ভেনিসে সমুদ্রের পাড়ে নোনা পানিতে সাতার কাটি কিন্তু মন ভরে না। পাই না সেই আনন্দ কোমড়ে গামছা বেধে সাতরে খালের উপাড়ে চলে যাওয়া। ঘোলা পানিতে ডুবাতে ডুবাতে ময়লার দাড়ি গোফ হয়ে যাওয়া। কিংবা শেষ বিকালে বন্ধুরা মিলে নৌকায় করে বৈডা বেয়ে বিলের মাঝে ঘুরে বেড়ানো। বাদাম আর আখের তুড়ি উড়ানো। আবার কখনো বা মাঝারি ট্রলারে করে উত্তাল পদ্মার বুকে ঢেউয়ের ঝাপটায় ভিজে যাওয়া।
জানি আর হবে আমার শুকিয়ে যাওয়া খালের পাড় দিয়ে পূর্নিমা রাতে হেটে বেড়ানো। কিংবা রাতে একটু দেরি করলে মায়ের টেনশনে মাখা কন্ঠ ও শুনতে হবে না। না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলে কেউ ডেকে তুলবে না, খেয়ে ঘুমানোর জন্য। ভোরে যখন বের মায়ের হাতে নাস্তা খেয়েই বের হতাম সে যত সকালেই হোক আর এখন জানি কেউ আমায় নাস্তা করে দেবে না। নিজেই করে খেতে হবে না হলে না খেয়ে থাক। যখন মন প্রচন্ড খারাপ থাকবে পারবো না মাকে জড়িয়ে ধরে মন খুলে কাদতে।
তবে কেন কোন সুন্দরের প্রত্যাশায় আমি আমার জীবনের এত সুন্দর বর্তমানটাকে পর করে দিচ্ছি? সুন্দর সময়ে যখন কোন সুনয়না জীবন সঙ্গী হবে সেকি বুঝবে তাকে আপন করার জন্য আমি আমার কত প্রিয় কে অপ্রিয় করেছি? আমার সন্তান যখন অভাব অনটনের ছায়া থেকে অনেক দূরে সুখে থাকবে তারা কি বুঝবে তাদের জন্ম দাতা নিজের স্বপ্ন বিক্রি করে তাদের জীবন সুন্দর করেছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

