somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেডিকেল কলেজের প্রথম দিন……

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকক্ষন ধরে আমি ওকে লক্ষ্য করছিলাম। নারীদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের বর্ণনা আমি কখনই দিতে পারি না, সে চেষ্টাও তাই করবো না। মেডিকেল কলেজে প্রথম দিন এসে আমার এই সহপাঠিনীকে দেখে আগামী পাঁচটা বছর খুব কম সময় মনে হচ্ছিল। কিভাবে কথা বলা শুরু করা যায় চিন্তা করছিলাম। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! হঠাৎ দেখি সে আমার দিকেই এগিয়ে আসছে!! আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছিলাম কিনা বুঝতে পারছিলাম না!!!

আমার মেডিকেল কলেজের প্রথম দিন। ভর্তি হয়েছিলাম জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। আমার বাবা-মা দুজনেই তখন দেশের বাইরে। সকালবেলা যখন আমার ছোট বোন আর খালার সাথে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন হতে এগারসিন্দুর ট্রেনে উঠে বসি তখনও ভাবিনি এত সুন্দর ক্যাম্পাসে আসবো। দুপুর একটায় বাজিতপুরে নেমে যখন কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকলাম, আমার মনটা জুড়িয়ে গেলো। আমি যেন এক সবুজের সমারোহের মধ্যে চলে আসলাম।

আমার ক্যাম্পাস, আমার ভালোবাসা

অফিসে ঢুকতে গিয়েই দেখি আরো কয়েকজনের মতো সে-ও অপেক্ষা করছে। আমার মন তখন বাক-বাকুম করছিল কি না জানি না, শুধু মনে আছি সম্বিত ফিরে পেলাম ওর কথায়, “আমি শিফা, তুমি?” আমার নামটা মনে হয় ঠিকঠাকমতোও বলতে পারিনি তখন, চোখের সামনে রঙ্গিলার ঊর্মিলাই ভাসছিল।

অফিসের কাজ শেষ করে হোস্টেলে আসলাম। আমার প্রথম হোস্টেল জীবন, প্রথম রুম নম্বর ১০৮ আর প্রথম রুমমেট ফয়েজ। ফয়েজ-সেও ঢাকা থেকে আসা, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা ( অবশ্যই শিফার মতো নয়)। আমার বোন আর খালাকে বিকালের ট্রেনে বিদায় দিয়ে যখন রুমে আসি, ফয়েজের প্রথম কথাই ছিলো আমার কাজিনের সাথে আমার সম্পর্ক কত দিনের। অনেক কষ্টে বোঝাতে পারলাম সে আমার আদরের আপন ছোট বোন (পরে জানতে পারলাম প্রথম ছয় মাস ফয়েজ আমার কথা বিশ্বাসই করেনি)।

আছরের নামাযের কিছু আগে আমাদের রুমে এক কিম্ভুতকিমাকার ছেলে ঢুকলো, তার কথাবার্তার কিছুই ঠিকমতো বুঝতে পারলাম না, খুব ছটফটে, সে বাংলাই ঠিকমতো বলতে পারছিল না। খুব ভয় পেয়ে গেলাম, ভাবলাম সব সিনিয়র ভাইরা যদি এরকম হয়, তাহলে খবরই আছে। হঠাৎ করে সে বলল, চল নামায পড়তে যাই। বড় ভাইয়ের কথা, ফেলা বড় দায়, তাও আবার প্রথম দিন?

হোস্টেলের মসজিদে নামায পড়তে গিয়ে দেখি সেই বড় ভাই নেই। নামায শেষ করে যেই বের হবো-শুনলাম আজ গ্রাস্তের দিন, অতএব চরম ক্লান্তি সত্ত্বেও মাগরিব পর্যন্ত মসজিদে থাকতে হলো। মনে মনে সেই বড় ভাইয়ের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছিলাম।

রাতে একব্যাচ সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের সবাইকে তাঁদের একজনের রুমে ডাকলো, আমাদের সাথে নাকি পরিচিত হবে। সেখানে গিয়ে দেখি, বিকালের সেই বড় ভাই দাঁড়িয়ে বলছে, “ আমি আশিক, আমেরিকা থেকে এসেছি”(আমেরিকান-বাংলাদেশী, ফরেন কোটায় পড়তে এসেছিলো)। আমি পারলে তখন ওকে কাগজের টুকরার মতো ছিঁড়ে ফেলি।

আমাদের পরিচয়ের পালা শেষ হবার পর একজন ভাইয়া বললো, “তোমাদের সাথে আমার এক বান্ধবী ভর্তি হয়েছে, এক বছর ড্রপ দিয়ে”। আমরা সবাই বুঝতে পারলাম-এটা একটা সতর্কবার্তা, যাতে সেই মেয়েটার কাছে কেউ প্রেমপত্র না দেয়।

আমাদের অনেকেই একটু নড়াচড়া করে ঠিকমতো বসলো। আর আমার মাথায় আশিককে কিভাবে শায়েস্তা করবো সে চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। হঠাৎ করে শুনতে পেলাম ভাইয়া মেয়েটার নাম বলছে, “শিফা”!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩১
২০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×