পরীক্ষা চলছে..... চিরায়ত নিয়ম অনুসারে আমি মোটাও হয়েছি। ভয়ে ওজন মাপিনি এতদিন।আজ সাহস করে বাথরুম স্কেলটা বের করে দাঁড়ালাম তাতে..... বাব্বাহ.... যা দেখলাম তাতে চক্ষু একেবারে চড়কগাছ নয় সরাসরি শেওড়াগাছে উঠল!!!
যাক কি আর করা এতদিনের অর্জিত পাপ(?) ঝরাতে উঠোনময় দৌড়ালাম.... মইয়ে উঠে কসরত করলাম....ছাদে উঠলাম। আর এই ছাদে ওঠাটাই কাল হল। চোখ পড়ল কাঁঠাল গাছের দিকে। চারিদিকে তাকালাম।এখন আষাঢ় মাসের ১১..চলছে মনে হয়।আষাঢ়ে জাত না হলে কাঁচা আম কাঁঠাল কোন কিছুই গাছে থাকার কথা না। কিন্তু আমাদের গাছে ছিল।আম না..... শুধু কাঁঠাল!! সিডর এসে অবস্হা সত্যিই খারাপ করে দিয়েছে। এবার সজনেগুলোর বোঁটা পচেছিল কচি থাকতেই..... এতগুলো আম গাছের মধ্যে ১টাতে মাত্র ২টো আম এসেছে..।
তো যাই হোক গুটি গুটি পায়ে ছাদের শেওলা পড়া পথ বেয়ে কাঁঠাল গাছে উঠলাম।মা দেখে হৈ চৈ বাধিয়ে দিলেন... এই রে তো পরীক্ষা ....... হ্যানা ত্যানা,....... হাবিজাবি.......। আমি কথায় কান না দিয়ে বললাম," মা বঁটি টা নিয়ে আস, কাঁঠালটা পেঁকে গন্ধ বের হচ্ছে.....।" মা ও দেখলাম গুটি গুটি পায়ে ,হৈ চৈ থামিয়ে বঁটি নিয়ে হাজির!! বলে রাখা ভাল এই গাছের কাঁঠাল জগদ্বিখ্যাত, এমন মিষ্টি, এমন ইয়াম্মি......
গুনে গুনে তিনটে কাঁঠাল পেড়ে ঘরে এলাম।ভাবলাম,খুব কাজের কাজ করেছি......। ঘাম ঝরে ওজনও কমল আর মাকে কাঁঠালও পেড়ে দিলাম।
হঠাৎ মা কাঁঠালের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে হাজির।
এমন কাঁঠাল, না করি কি করে???
মা যতটা পারলেন বিচি ছাড়িয়ে গিলিয়ে দিলেন আর আমিও দেদারসে মায়ের সাথে খেয়ে যাচ্ছি.......!!!
হঠাৎ মনে পড়ল....... আমি না ওজন কমাতে চাইছি!!!
মাথায় হাত।!!! যা ঝরিয়েছি মা তার ৫গুন কাঁঠাল ভরে দিয়েছেন!!
কি আর করা...... শেষ পর্যন্ত বলতেই হল......"জয়তু জাতীয় ফল"..... "জয়তু কাঁঠাল....."
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


