রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিও লেটার প্রদানে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য তার পিএসের মাধ্যমে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ডিও লেটার প্রদানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার অসহায় পরিবারকে দান করবেন বলে আমাদের নিকট হতে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এক মাদরাসা সুপার বলেন, এমপিওভুক্তির ডিও লেটারের জন্য ৩ মাস ঘুরেও তা পায়নি। অবশেষে ৫ হাজার টাকা দিয়ে তা পেয়েছি, নাম না প্রকাশ করার শর্তে। অপরদিকে তানোরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে ওই ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের বিষয়ে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রে জানায়, এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় শিক্ষক কর্মচারীরা বছরের পর বছর ধরে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। তার পরেও ওই শিক্ষক কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে এমপিওভুক্তির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। চাকরির আসায় অর্থ দিয়ে তানোরের বিভিন্ন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কয়েকশ বেকার যুবক জড়িয়ে আছেন। চাকরির আশায় বেকাররা কেউ জমি আবার কেউবা নগদ অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো তৈরিসহ আসবাবপত্র দিয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এমপিওভুক্তি স্থগিত থাকায় এসব বেকাররা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। পাশাপাশি দ্রমূল্যের বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সম্প্রতি এমপিও ছাড়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দালাল চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপিওভুক্তির জন্য মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা দিতে হবে এমন অযুহাতে ওই দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা চাকরি প্রার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চাকরির পদ মর্যাদা ভেদে এই টাকার পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে। তানোরের এমপিওভুক্তির জন্য অপেক্ষমাণ একটি কলেজের প্রভাষক পদে চাকরিপ্রার্থী এক যুবক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, কলেজটি প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এখন এমপিওভুক্তির খরচ বাবদ অধ্যক্ষ আরও ১ লাখ টাকা দাবি করছেন। ওই টাকা না দিলে তাকে বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার হুমকি প্রদান করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যক্ষ বলেন, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আমার কলেজকে এমপিওভুক্তির জন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেছেন আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কোন নেতাকে ধরলে এই ৪ বছরে এমপিও হবে না। আমিই এমপিকে এনেছি, আমি যা বলব তাই হবে। জানা গেছে, তানোরে প্রায় তিন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী বেকার এমন চাঁদাবাজির মুখে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তানোর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫৭টি, মাদরাসা রয়েছে ২৮টি, কলেজ ডিগ্রিসহ ১৪টি, ভোকেশনাল ২টি, স্কুল এ্যান্ড কলেজ ৪টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪৯টি, রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৩টি। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তরের ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হয়নি। এ ব্যাপারে এমপির পিএস কেটুর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, আমি এমপির নিদের্শ নিয়েছি। আপনারা এমপির সাথে কথা বলেন। এমপির সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


