রাস্তার হকার রাই আসল মানুষ। মানুষ বলছি এই কারনে কারন তারা দামী বাড়ী -গাড়ীর মালিক নয়। কিন্তু আপনি যদি ফুটপাত দিয়ে হাটার সময় হার্ট আটাক করেন বা স্ট্রোক করেন, বা দুর্ঘটনায় পড়েন, আহত হন, রক্তাক্ত হন, এই হকার রাই আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তারা আপনাকে পানি খাওয়াবে, যতো টুকু সম্ভব সেবা করবে। সি এন জি ঠিক করে বাসা পর্যন্ত পৌছানোর ব্যাবস্থা করবে। এই ঘটনা গুলো আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা।কোনো দামী গাড়ির মালিক রাস্তায় ব্রেক করে গাড়ী থামিয়ে আপনাকে যাহায্য করতে আসবে না। রাস্তায় কোনো মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেলেও এই হকাররাই প্রতিবাদে সরব হয়।তারাই পুলিশকে খবর দেয় প্রথমেই। হকারদের অবদান কোনো অংশেই কম নয় আমাদের অর্থনীতিতে। স্বল্প মুল্যে পন্য ফুটপাতে বিক্রয় করছে, আর সেখান থেকে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। শতকরা কয় জন যায় বসুন্ধরা সিটিতে? আর এরা আছে বলেই পন্য মুল্যে ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। দামী মার্কেটের ব্যাবসায়ীদের একচেটিয়া ব্যাবসার বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এই হকারেরা। আপনি কি ভাবে জানবেন এই সকল শ্রমজীবি মানুষের স্ট্রাগল করা লাইফ।
কারন আপনি বা আপনারা আপনাদের গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে বসুন্ধরার ফুড কোর্টে গিয়ে যে বার্গারটি খান সেই একটি বার্গারের টাকা দিয়ে একজন হকার পরিবারের দুই দিনের খাবার খরচ হয়ে যাবে। আপনাদের দামী গাড়ীর জ্বালানীর একদিনের টাকা দিয়ে সেই হকার পরিবারের একমাসের রান্নার জ্বালানী খরচ হয়ে যাবে। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে সেই সকল সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের যারা আমাদের দেশকে চুষে খাচ্ছে।
কে এফ সি অথবা বি এফ সি ফার্স্ট ফুডের খাবার মেনুতে চিকেন নাগেটস যেখানে ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে , সেইখানে সেই পরিমান(৩০০-৪০০গ্রাম) মাংস একজন হকার থেকে পাবেন মাত্র ৪০-৫০ টাকায়। ক্যাটস আইয়ের শার্ট ১২০০ টাকা হলেও একজন হকারের কাছে সেইম কোয়ালিটির শার্ট পাবেন ১০০ টাকায়। বিদেশী ব্যাংক গুলা যেখানে ঋনের পরে ঋন দিয়ে আমাদের স্থানীয় শিল্পকে আস্টে-পৃষ্ঠে বেধে ফেলছে সেখানে হকার রা সামান্য পুজি নিয়ে স্বাধীন ভাবে ব্যাবসা করে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই বহুজাতিক কোম্পানি গুলো ভালো চোখে দেখবে না এই সকল হকার দের ।আজকে ধরুন ঢাকা শহর থেকে সমস্ত হকার হটাৎ গায়েব হয়ে গেলো। চিন্তা করুন কেমন যাবে ঢাকা শহরবাসীর আগামীকাল? পত্রিকা থেকে শুরু করে সকল সহজ লভ্য পন্যে দুর্লভ হয়ে যাবে।
সময় স্থান কাল আর গোত্র ভেদে হকাররাই মেজরিটি যারা আমাদের ডমেস্টিক ইকোনোমির প্রান কে বাচিয়ে রেখেছে। তাদের অবদান আমাদের জিডিপিতে অনেক।
এই বাংলাদেশ শুধু ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের নয়। রাস্তাদিয়ে চলাচলকারী ভারী যানবাহন মালিকের নয়। এর বাইরেও আরো মানুষ্য সম্প্রদয় রয়েছে। এই দেশ সকলের সকলের বেচে থাকার অধিকার আছে তা সে সোনার চামচ নিয়ে হোক আর স্ট্রাগল করেই হোক। বিশ্বের সমস্ত হকারের প্রতি রইলো আমার লাল সালাম।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


