somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতালের দিনে!! আমার আজকে সকালে অফিসে আসার রোমাঞ্চকর কাহিনী !!

১৪ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘোসল করে খেয়ে নিলাম। প্রতিদিনের মতন সেই বাস ধরার জন্য স্ট্রাগল করা ধাক্কা-ধাক্কি করে পাশের প্রতিদ্বন্দী কে হারিয়ে বাসে যাওয়া। কিন্তু আজকের দিন টা একটু ভিন্ন, কারন আজকে হরতাল। বাসা থেকে বের হয়েই পরলাম এক বিড়ম্বনায়, আশে পাশে কোনো রিকশা নাই। অগ্যতা হেটেই মেইন রোডে পৌছে গেলাম, আশা ছিলো কোনো গাড়ি-বাস পাবো। রাস্তা দেখেই মাথায় হাত। বানের পানির মতন রিকশার স্রোত যাচ্ছে। কোনো গাড়িই নাই। আমি অবাক, গত কয়েক মাস আগের হরতালেও অহরহ গাড়ি চলেছে। আজকে কি হলো। ভাবতে ভাবতে হঠাত সাই করে গ্রামীনের গাড়ী চলে আসলেও, আমার থেকে ২০ ফুট দূরে গিয়ে থামলো । আমিও দৌড়ে ধরার চেস্টা করলাম, কাজ হলো না। বড়জোর ২ থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে একজন কে নামিয়ে দিয়েই উড়াধুরা টান শুরু করলো। ধ্যাত বিরক্ত হয়ে গেলাম। মাঝে মনে হলো ছোট ভাইকে ফোন করে বলি তার হোন্ডায় করে যেন আমাকে অফিসে দিয়ে আসে, আমার ভাইয়ের হোন্ডার নাম হাঙ্ক,এই বছর কিনেছে । একটু পিছনে এসেই আমি টাস্কি!! একটি সুন্দরী মেয়ে রাস্তার উপরে ফুট পাতে দাঁড়িয়ে আছে। সাথে আরো চার রুপসী বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আরো আছে শত শত নারী পুরুষ গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায়।আরো ২০ মিনিট রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলাম । অগত্যা কিছু উপায় না পেয়ে রিকশা ডাকলাম। মনে মনে ঠিক করলাম যা ভাড়া চায় তা দিয়েই যাবো। কিন্তু রিকশা পেতেও অনেক সমস্যা হলো। হাজার হাজার রিকশা যাচ্ছে, কোনোটাই খালী নাই। শেষে একটা খালী পেলাম সবাই কে ডিফিট করে আমিই রিকশা ভাড়ার সর্বোচ্চ দর দাতা হিসেবে রিকশায় বসলাম। খেয়াল করলাম মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে আছে, মনে হচ্ছে আমার সাথে যেতে ইচ্ছুক। প্রচন্ড ইচ্ছা করছিলো তকে ডাকি, কিন্তু পরক্ষনে মনে হলো যদি প্রত্যাখ্যান করে তাহলে এতো লোকের সামনে প্রেস্টিজ পাংচার। ঝুকি নেয়ার সাহস হলো না। অগ্যতা রিকশা ওয়ালা কে বললাম, ভাইগ্না টান। রিকশা টানা শুরু করলো।

এবার শুরু হলো আরো ভালো লাগা কাহিনী। রাস্তায় কোনো মটোর বিহাইকেল নেই। একেবারে গ্রীন ঢাকা। হর্নের আওয়াজ নেই। হাজার হাজার রিকশা নিরবে সাই সাই করে এগিয়ে চলছে। কোনো ট্রাফিক জ্যাম নেই। ওফ কি মজা। আমার রিকশার সে কি স্পিড ওয়াও।সকল রিকশাকে ওভার টেক করে অত্যান্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। মনে হচ্ছিলো রিকশা যেন পাকা রাস্তার উপরে বাতাসের সাথে সুইং করছে ঠিক যেন শোয়েব আক্তারের ফাস্ট বল পিচে গিয়ে সুইং করেন । ওভার টেক করার সময় অনান্য রিকশায় বসা সুন্দরী নারীদের দিকেও চোখ যাচ্ছিলো। ইচ্ছা করছিলো হাই হ্যাল্লো বলি, কিন্তু ইভ টিজিং এর ভয়ে কিছু বলার সাহস হলো না, শুধু চোখের দেখাতেই শান্তি, মনে মনে আফসোস করলাম ইস কেন যে আমার গার্লফ্রেন্ড নাই।বাড্ডা লিঙ্ক রোডে এসেই সাই করে গুলশান ১ এর দিকে কড়ড়ড়া বাক। রিকশা থেকে পল্টি খেয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিলো। ব্যালেন্স সামলে নিলাম। ওহহহ গুলশান লেকের উপর দিয়ে রাস্তা , সেটার উপর দিয়ে সাই সাই করে ছুটে যাচ্ছে আমার রিকশা, দারুন ফিলিংস, নৌকা ভ্রমন ও ফেইল। খোলা লেকের হাওয়া আমার গায়ে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিলো ।লেকপার হয়েই গুলশান ১২৬ নং রোড দিয়ে আমার দ্রুত গামী মানব চালিত বাহন ঢুকে পড়লো। নিরিবিলি এলাকা। রিকশা ওয়ালা কে বললাম ভাইগ্না একটু থামা , একটা সিগারেট ধরাইয়া নেই। রিকশা থেকে নেমেই ১০০টাকা নোট বের করে দোকানদার কে দিয়ে বললাম ভাই চারটা বেনসন লাইট দেন। সিগারেট ধরিয়ে ৭৬ টাকা ফেরত নিয়ে আবার রিকশায় বসলাম। আবার ধাই ধাই করে টান। মোবাইল বের করে নেট ইউজ করতে লাগলাম। ১২৩ নাম্বার রোড ক্রস করে সাউথ ইস্ট ব্যাংক এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গন্ডগোল দেখা গেলো। রিকশা আবার ঘুরিয়ে ১২১ নাম্বারের ভিতর দিয়ে ছুটে চললো। ।রিকশা ১১০, ১০৮, ৯৬ নাম্বার রোডের ভিতর দিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটে চলতে লাগলো ।মনের সুখে নেট ব্রাউজ করতে লাগলাম। হঠাত কড়ড়া ব্রেক, কখন যে গুলশান দুই নাম্বার সার্কেলে চলে এসেছি টের পাইনি। সম্বিত ফিরে পেলাম রিকশা নামক দ্রুত গতির বাহনের চালকের ডাকে। “ঐ মামা চইল্লা আইছি “। আরররে সত্যই তো দুইনাম্বারে পৌছে গেছি। আমার স্বপ্নময় একটি ভ্রমনের সমাপ্তি টেনে ভাড়া পরিশোধ করে অফিসের দিকে পা বাড়ালাম।
২০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×