প্রিয় ভাইয়েরা আসসালামু আলাইকুম।
পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সামুতে আস্তিক নাস্তিক সঙ্ঘাত অনেক পুরোনো। আজকে সন্ধ্যায় এই বিষয় নিয়ে কয়েকটা পোস্ট এসেছে। নাস্তিকদের লাশ নিয়ে কি করা হবে? আসলে এই বিতর্ক অনেক পুরোনো। অনেক আস্তিক ভাই বিভতস সব পরিকল্পনার কথা বলেছেন- “কেউ বলেছেন নাস্তিক দের লাশ কেটে টয়লেটের কমডে ফ্লাশ করে দিতে”, কেউ বলেছেন লাশ রাস্তার মোড়ে টাঙ্গিয়ে রাখতে, কেউ বলেছেন কুত্তা দিয়ে খাওয়াতে। আমি নিজেও লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার জন্য বলেছি। আমার কমেন্টের জন্য আমি দুঃখিত। এই জন্য সকল নাস্তিকদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
প্রিয় ভাইয়েরা,
মহান ধর্ম ইসলাম এসেছিলো আইয়্যেমে জাহিলিয়া যুগ থেকে মানুষ কে মুক্তি দেয়ার জন্য। যেখানে মানুষকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। হত্যা, মদ জুয়া সব মিলিয়ে যখন এই পৃথিবী ছিলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর মানুষকে সেই অভিশাপ থেকে মুক্ত দেয়ার জন্যই মহান ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিলো। ইসলামের সু-শীতল ছায়া তলে এসেই মানুষ পেয়েছিলো শান্তি আর নিরাপত্তা। একজন অমুসলিম সম্রাট যদি মুসলমান বাহিনীর হাতে পরাজিত হতো তবুও তিনি নিশ্চিত থাকতেন মুসলিম সৈন্য দের কাছে তিনি নিরাপদ। তাকে কোনো ভাবেই শারিরীক নির্যাতন করা হবে না। মধ্যযুগে মুসলমানরা পৃথিবীর অর্ধেক শাসন করেছিলো, স্পেন থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত ছিলো মুসলিমদের করায়ত্তে। মুসলিমদের উন্নত আর সুমিস্ট ব্যাবহার সমগ্র পৃথিবীর মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলো।
আজকে ইসলামি রাস্ট্রের নাম শুনলেই মানুষ ভয় পায়। ভেসে উঠে তালেবানী শাসন ব্যাবস্থা। আর এই কারনেই অনেকেই ইসলাম ফোবিয়াতে ভুগছে। আর এর জন্য কোনো নাস্তিক বা অমুসলিম দায়ী নয়, খোদ আস্তিক মুসলিম রাই দায়ী। একজন নাস্তিক বা অমুসলিম আমার পবিত্র ধর্মের যতোটুকু ক্ষতি করতে পারে তার চাইতে অনেক অনেক বেশী ক্ষতি করতে পারে একজন নির্বোধ আস্তিক ভাই। একজন আস্তিক ভাইয়ের অন্ধ বিশ্বাস আর জঙ্গী মানসিকতা অন্যদের কে আমাদের ধর্মের প্রতি বীতশ্রুদ্ধ করে তুলতে পারে। গোড়া আস্তিক মুসলিমদের দোষেই গ্রানাডাতে পরাজয় হয়েছিলো, সমস্ত ইউরোপ থেকে তারা বিতাড়িত হয়েছিলো।ইসলাম কতোটা মহান আর কতো উদার তা আপনি ভালো ভাবে বুঝে শুনে জেনে নিন-ইতিহাস ঘাটুন।
উপমহাদেশে ইসলামের আগমন তলোয়ারের মাধ্যমে হয়নি। হযরত শাহজালাল, শাহপরান, খান জাহান আলী, মাহী সাওয়ারী ইত্যাদি সুফি আর আওলিয়াদের মাধ্যমে হয়েছে। উনাদের সুমিস্ট আচরন আর বন্ধু বৎসল ব্যাবহার তখন স্থানীয় মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলো। তারা কি পরিমান ত্যাগ আর পরিশ্রম করেছে তা এখনো ভাবতেই অবাক লাগে। আর এই স্থানীয় মানুষেরাই তাদের ধর্মকে রক্ষার জন্য অস্ত্র ধারন করেছিলো। সমস্ত ভারতবর্ষ মুসলমানদের করায়ত্তে এসেছিলো।
আস্তিকেরা একটি নিদির্স্ট ভিন্ন বিশ্বাসের উপরে আছে। তাকে সেই রকমই থাকতে দিন। আমাদের নবীজীর(সঃ) কাছে দুই জন কাফির এসে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলো আকাশের চাদ কে দুই ভাগ করে দেখাতে যদি সে সত্যিই আল্লাহর রাসুল হয়ে থাকে। উনি(রাসুলস(স)) তা-ই করে দেখিয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা তামাশা করে নবীজি কে যাদুকর আখ্যায়িত করে চলে গেলেন। আমাদের প্রিয় নবী সে জন্য কোনো অভিশাপ বা বদ দোয়া করেন নি ।নাস্তিক দের ক্ষেত্রেও ব্যাপার টা তা-ই ঘটেছে। আপনি যদি তাদের কেও কোনো মুজেজা দেখান না কেন, তারা তার বিশ্বাসেই অনড়।
প্রিয় ভাইয়েরা,
আমাদের প্রিয় নবীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ইসলাম প্রচার করা, মানুষকে দাওয়াত দেয়া, তাকে কাছে টানা,ভালোবাসা। নবীজী চলে যাওয়ার পরে ইসলাম প্রচার কাজে নিয়োজিত ছিলেন সাহাবাগন। এর পরে সুফি, আউলিয়া, দরবেশগন। তারা কখনোই এমন কাজ করেন নি যাতে মানুষেরা দূরে সরে যায়, ভয় পায়। তাহলে তাদের ইসলাম প্রচারের কাজ ভেস্তে যেতো। কিন্তু এখন আমরা আস্তিকেরা কি করছি? মানুষ কে হুমকি দিচ্ছি, নাস্তিকের লাশের দাফন নিয়ে নির্মম উল্লাস করছি। এতে কি লাভ হচ্ছে? বরং অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তারা আমাদের কে ঘৃনা করছে, আর এটা দিনকে দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। যা হচ্ছে আসলেই তা আমাদের নবীর উম্মত হিসেবে দ্বায়িত্ত্বের বরখেলাপ।
প্রিয় ভাইয়েরা,
আপনি যখন জন্ম গ্রহন করেছেন তখন কি আল্লাহর আর নবীজির নাম সাহাবাদের নাম মনে নিয়ে জন্মে ছিলেন? নাকি জন্মের পরেই তার দীক্ষা লাভ করেছিলেন? যে ব্যাক্তি নাস্তিক হয়েছে সে কেন নাস্তিক হয়েছে? ভেবে দেখেছেন কি? কারন সে তার মনের অনেক অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর পায়নি। তার মনে যে জানার ইচ্ছার যে চাহিদা আছে আমরা তা পুরন করতে পারিনি বলেই সে একজন নাস্তিক। আর এর দায় আমাদের আস্তিক ভাইদের উপরেই বর্তায়। আমরাই ব্যার্থ হয়েছি তাদের কে অজানার জ্ঞান পুরন করতে।
সামুতে অনেক নাস্তিক ব্লগার আছেন যারা গোড়া আস্তিক ভাইদের চাইতেও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেছেন, অনেক কিছুই জানেন। যেমনঃ নাস্তিকের ধর্মকথা, পারভেজ আলম। নাস্তিক ব্লগার হিসেবে এই দুইজন কে আমি শ্রদ্ধার চোখেই দেখি কারন তারা জানতে চান আর জেনেই সমালোচনা করেন। গালী গালাজ এড়িয়ে চলেন ।এই পৃথিবীতে অনেক অনেক জ্ঞানী ব্যাক্তি ছিলেন যারা অনেক অনেক পড়াশুনার পরে নাস্তিক হয়েছেন, আবার অনেক বাঘা বাঘা নাস্তিকেরাও ইসলাম ধর্মে ফিরে এসেছেন। তওবা করেছেন, আল্লহার কাছে মাফ চেয়েছেন।
প্রিয় ভাইয়েরা,
কোনো নাস্তিকের লাশই শকুন-কুকুর খায়নি। সকল লাশেরই কোনো না কোনো ব্যাবস্থা হয়েছে। হুমায়ুন আজাদের লাশ মুসলিম রীতিতে তার পরিবার কবর দিয়েছে। সঞ্জীব চৌধুরীর লাশ ঢাকা মেডিকেলে দান করেদেয়া হয়েছে। কবি শামসুর রাহমানের লাশ মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। একটা না একটা ব্যাবস্থা হয়ে যাচ্ছেই।
আপনি যদি বলেন লাশ কেটে টয়লেটে ফ্লাশ করে দিবেন, কুত্তা দিয়ে খাওয়াবেন এটাতে আমাদের মুখ উজ্জ্বল হয় না। বরং খারাপ ধারনাই তৈরি করে দিচ্ছি। আসুন এমন কিছু করি যাতে আমার ধর্মকে কেউ খারাপ ভাবে না দেখে। আরো সহনশীল হই। ইসলামের মহান আলো-উদারতা-দীক্ষা সকলের মাঝেই ছড়িয়ে দেই।
আমার কথা শেষ। সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



