somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র শবে বরাতের যথার্থতা সম্পর্কে কিছু প্রমানাদি ।

২৭ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল আমি পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে একটি পোস্ট দেয়েছিলাম । সেই পোস্টে এক ব্লগার আমাকে পবিত্র শবে বরাতের যথার্থতা সম্পর্কে আরও ভালমত জানার উপদেশ দিয়েছিল । নিচে আমি প্রাপ্ত তথ্য গুলো দিলাম----

১. বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর, তাফসীরে মাযহারী এর ৮ম খন্ডের ৩৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, (সূরা আদ দুখানের ৩ নম্বর আয়াত শরীফ) ليلة مباركة হচ্ছে ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাত। এ রাত্রে সারা বৎসরের কাজ কর্মের ফায়ছালা করা হয় এবং কতজন জীবিত থাকবে ও কতজন মারা যাবে তারও ফায়ছালা করা হয়। অতঃপর এ ফায়ছালার থেকে কোন কিছু বেশি করা হয় না এবং কোন কমতিও করা হয় না। অর্থাৎ কোন প্রকারের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয় না। হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন, হযরত মুহম্মদ ইবনে মাইসারা ইবনে আখফাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, শা’বান মাসে পরবর্তী শা’বান মাস পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়ছালা করে দেয়া হয়। এমনকি লোকেরা যে বিবাহ করবে, সেই বৎসর তার থেকে কত জন সন্তান জন্মগ্রহন করবে তার তালিকা এবং তার মৃত্যুর তালিকাও প্রস্তুত করা হয় ওই বৎসরে অর্ধ শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে।
আবুদ্বহা এর বর্ণনায় এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বলেন, শা’বানের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে আল্লাহ পাক সমস্ত কিছুই ফায়ছালা করেন, আর রমাদ্বানের ক্বদর রাতে (শবে ক্বদরে) সেই ফায়ছালার তালিকা (কপি) বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারীদের কাছে অর্পণ করা হয়।

২. “তাফসীরে মাযহারী” কিতাবের ৮ খন্ডের ৩৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
অনেকেই বলেছেন ليلة مباركة তথা বরকতপুর্ণ রাতই হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত (১৫ই শা’বানের রাত) এবং এ রাতের বুযূর্গী সম্পর্কে হাদীছ শরীফ ও বর্ণিত আছে, হযরত মুহম্মদ ইবনে কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতার মাধ্যমে অথবা উনার চাচার মাধ্যমে। উনার পিতা অথবা চাচা উনার পিতামহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন অর্ধ শা’বানের (১৫ই শা’বান) রাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। তবে ওই সকল লোকদের ক্ষমা করেন না যাদের অন্তরে হিংসা রয়েছে অর্থাৎ হিংসুকদের এবং আল্লাহ পাক-উনার সাথে শরীককারীদের তথা মুশরিকদেরকে ঐ অর্ধ শাবান তথা শবে বরাতে ক্ষমা করেন না।

৩. “তাফসীরে গারায়িব হাশিয়া জামিউল বয়ান” কিতাবের ২৫তম খন্ডের ৮১-৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“মুফাসসিরীনে কিরামগণ উনাদের মধ্য থেকে অনেকেই উল্লেখ করেছেন, অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। যেমন, প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্যান্য আরো অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্ণনা করেছেন যে, লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাত। তারা আরো বলেন, লাইলাতুম মুবারাকাকে লাইলাতুল বরাতও বলা হয়। এবং লাইলাতুছ ছক তথা চেক বা রসিদ কাটার রাত তথা ভাগ্য নির্ধারণের রাতও বলা হয়।
কেননা মহান আল্লাহ পাক এই শবে বরাতে উনার মু’মিন বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়ছালা করে থাকেন এবং হাদীছ শরীফেও বর্ণিত আছে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এই শবে বরাতে একশত রাকায়াত নামায আদায় করবে মহান আল্লাহ পাক তাঁর কাছে একশত জন ফেরেশতা প্রেরণ করবেন। তন্মধ্যে ত্রিশ জন ফেরেশতা তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিতে থাকেন। ত্রিশ জন জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তির জন্য দোয়ায় নিয়োজিত থাকেন। ত্রিশ জন তার থেকে দুনিয়ার বালা-মুছিবত মিটিয়ে দেয়ার জন্য নিয়োজিত থাকেন। আর বাকী দশ জন ফেরেশতা তার থেকে সকল শয়তানের ধোঁকাগুলো তাড়িয়ে দেয়ার জন্য নিয়োজিত থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক আমার উম্মতের উপর এই শবে বরাতে বনী কালব গোত্রের ছাগলসমূহের পশমের সমপরিমাণ রহমত নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ!
এবং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে সমস্ত মুসলমানদেরকে ক্ষমা করে দেন। তবে ওই সমস্ত লোকদেরকে ক্ষমা করেন না যারা গণক, জাদুকর, উপহাসকারী, শরাব পানকারী, পিতামাতার অবাধ্যচারী, ব্যভিচারে অভ্যস্ত ব্যক্তি। অতঃপর ওই রাত্রিতে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল সুপারিশই মহান আল্লাহ পাক কবুল করেন।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, যখন শা’বান মাসের ১৩ তারিখের রাত্রি সমাগত হতো তখন সেই রাত্রিতে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্য আল্লাহ পাক উনার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। মহান আল্লাহ পাক ওই রাতে উনার সমস্ত উম্মত থেকে এক তৃতীয়াংশ উম্মতকে ক্ষমা করে দেন।
অতঃপর ১৪ই শাবানের রাত যখন সমাগত হয় সেই রাতেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ উনার উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার সমস্ত উম্মত থেকে দুই তৃতীয়াংশ উম্মতকে ক্ষমা করে দেন। অতঃপর যখন ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাত সমাগত হয় সেই রাতেও আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক সেই শবে বরাতে আল্লাহ পাক উনার ব্যাপারে বিভ্রান্ত ব্যক্তি ছাড়া সকলকেই ক্ষমা করে দেন। (সুবহানাল্লাহ)
.... অতঃপর তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ লাওহে মাহফুয থেকে নাযিল হওয়া শুরু হয় শবে বরাতে। আর পরিশেষে তা বাস্তবায়ন করা হয় শবে ক্বদরে। (তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৩ খন্ড, ১১২ পৃষ্ঠা)

৪. বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারীর”-এর ১০ম খন্ডে উল্লেখ আছে যে---
“হযরত হাসান ইবনে ফযল রহমতুল্লাহি আলাইহিকে ক্বদরের রাত তথা শবে ক্বদরের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তার জবাবে বলেন, স্থিরকৃত ফায়ছালাকে তার নির্ধারিত সময়ের দিকে পরিচালনা এবং নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বা জারি করার রাতই হচ্ছে ক্বদরের রাত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের আগামী এক বৎসরের যাবতীয় কিছুই ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে নির্ধারণ (বা ফায়ছালা) করেন, আর ক্বদরের রাতে সেই নির্ধারিত বিষয়সমূহকে বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারী ফেরেশতা উাদের হাতে অর্পন করা হয়।
হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পূর্বে স্থিরকৃত যাবতীয় বিষয়গুলোর যথাসময়ে নির্ধারণ এবং যাবতীয় বিষয়ের ফায়ছালা হয়ে থাকে মধ্য শা’বানের তথা ১৫ ই শা’বানের রাতে (শবে বরাতে)। এবং আরো তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত ও জীবিতদের। এই তালিকা থেকে কোন বৃদ্ধিও করা হয় না এবং কোন কমতিও করা হয় না। অর্থাৎ ঐ তালিকার কোন পরিবর্তন করা হয় না। ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এই উক্তির সমর্থনে হযরত বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয় যে, সেখানে হাদীছের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “এক মধ্য শা’বান হতে পরবর্তী বৎসরের মধ্য শা’বান পর্যন্ত মৃত্যুর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি ব্যক্তির বিবাহ এবং সেই বৎসর তার কি সন্তান জন্মলাভ করবে এবং সেই বৎসর কখন মৃত্যুবরণ করবে তার যাবতীয় তালিকাও প্রস্তুত করা হয় এই শবে বরাতে। নাম থাকে তাদেরও যারা ওই সময়ে বিবাহ করার পর ইন্তিকাল করবে।
গ্রন্থকার বলেন, আমি উভয়ের পূর্ণ বা আংশিক সামঞ্জস্যে বলি, সম্ভবত নির্ধারিত বিষয়ের ন্যূনতম পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয় মধ্য শা’বান তথা ১৫ই শা’বান রাতে। আর ক্বদরের রাতে নিশ্চিতরূপে বাস্তবায়ন করার জন্য তালিকা পেশ করা হয় বাস্তবায়নকারী ফেরেশতা উনাদের হাতে। অর্থাৎ শবে বরাতে সমস্ত কিছু ফায়ছালা করা হয়। আর ক্বদর রাতে জারি বা কার্যকরীকরনের জন্য তালিকা কার্যকরী ফেরেশ্তা উনাদের হাতে অর্পন করা হয়।
কেননা এ প্রসঙ্গে হযরত আবুদ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার বর্ণনায় এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, অর্ধ শা’বান রাতে অর্থাৎ শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সকল বিষয়ের ফায়ছালা অর্থাৎ তালিকা প্রস্তুত করেন। আর ক্বদর রাতে তা কার্যকরী করার জন্য ওই তালিকা অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারী ফেরেশতা উনাদের হাতে। এরূপ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন মুফাসসীরকুল শিরোমণি ইমাম হযরত বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, লাইলাতুল ক্বদর (মহিমান্বিত রাত) নামকরন করা হয়েছে তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা অনুসারে। যেমন আল্লাহ পাক তিনি (সূরা আনয়াম ৯১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ) বলেন, তারা আল্লাহ পাক উনাকে যথার্থ তা’যীম তথা সম্মান দেয়নি। অর্থাৎ আল্লাহ পাক তিনি যেমন মহান মর্যাদা ও মর্তবা পাওয়ার অধিকারী সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। (এখানে ক্বদর অর্থ হল মহত্ত্ব বা মর্যাদা)।
কাজেই যারা বলে থাকে سورة القدر এর মধ্যে যে ليلة القدر শব্দগুলো উল্লেখ আছে তার দ্বারা শুধু ভাগ্যরজনীকে বুঝানো হয়েছে অন্য কোন রাত্রিকে ভাগ্যরজনী হিসেবে সাব্যস্ত করা যাবে না। তাদের এরূপ উক্ত মোটেও শুদ্ধ নয়। বরং চরম জিহালতপূর্ণ কথা। অথচ উল্লিখিত তাফসীরের আলোকে জানা গেল যে, ليلة القدر বলতে এখানে স্মানিত ও মহিমান্বিত রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে। যা রমাদ্বান শরীফ-এর শেষের দশদিনের বিজোড় রাত্রিতে নিহিত। তাই সুস্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, সূরা ক্বদরের ليلة القدر লফয দ্বারা ভাগ্যরজনী বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়। বরং মহিমান্বিত বা মর্যাদার রাত) কেন না এই ক্বদর রাতের নেক আ’মল মহান আল্লাহ পাক-উনার কাছে মর্যাদাপূর্ণ।

৫. বিশ্বখ্যাত তাফসীর তাফসীরে মাদিরক-এ ليلة المباركة এ আয়াতাংশের তাফসীরে উল্লেখ আছে-
(লাইলাতুম মুবারাকাহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবেবরাত এবং এই মুবারকময় রাতে সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয়। আয়াত শরীফ-এর يفرق শব্দের অর্থ হচ্ছে يفصل (ইউফাছছালু) তথা ফায়ছালা করা, এবং يكتب (ইউকতাবু) তথা লেখা হয় প্রত্যেক বান্দাদের রিযিক বা জীবিকাসমূহ। তাদের মৃত্যুর সময় সীমাও লেখা হয় এবং সমস্ত বিষয়ের তালিকা লেখা হয় এই মুবারক রাতে তথা শবে বরাতে। আর ক্বদর রাতে তথা মর্যাদাবান রাতে ওই সমস্ত ফায়ছালাকৃত বিষয়গুলো চালু করা হয় তথা কার্যকরী করা হয় যা সামনের এক বৎসর পর্যন্ত চলতে থাকে। (তাফসীরু হাশিয়াতিল খাযিন ৪র্থ খন্ড,পৃঃ ১১২)

৬. এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর, তাফসীরুল খাযিন এর ৪র্থ খন্ডের ১১২ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাত্রিতে উহা অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাতকে (শবে বরাত) উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক অর্ধ শা’বানের রাতে (১৫ই শা’বান রাতে) পৃথিবীর নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই রাতে বনী ক্বলব গোত্রের বকরীর পশমের সংখ্যা পরিমাণ অধিক সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। এই হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি তিনি বর্ণনা করেন।
পরবর্তী আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে ওই মুবারকময় রাতে প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফায়ছালা তথা সিদ্ধান্ত করা হয়।আর ফায়ছালার তথা তালিকা প্রস্তুত করার রাত দ্বারা বুঝানো হয়েছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা ১৫ই শা’বানের রাত (শবে বরাতকে)। আর এই শবে বরাতে আগামী এক বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্যলিপি প্রস্তুত করা হয় এবং জীবিত ও মৃত্যুদের তালিকাও ওই রাতে প্রস্তুত করা হয়। কেননা এ উক্তির সমর্থনে প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘তাফসীরে বাগবী’ এর মধ্যে পূর্ণ সনদের মাধ্যমে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন যে, নিশ্চয়ই হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এক শা’বান তথা মধ্য শা’বান থেকে পরবর্তী মধ্য শা’বান পর্যন্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এবং এমনকি একজন ব্যক্তি কখন বিবাহ করবে তার কি সন্তান হবে, তার সেই বৎসরে কখন মৃত্যুবরণ করবে তার নামের তালিকাও প্রস্তুত করা হয় শবে বরাতে। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, অর্ধ শা’বানের রাতে তথা ১৫ই শা’বানের রাতে (শবে বরাতে) মহান আল্লাহ পাক তিনি যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর ক্বদর রাতে (শবে ক্বদরে) সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তথা কার্যকর করার জন্য তালিকা অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারী ফেরেশতার হাতে। (তাফসীরে মাদারিক)
উল্লেখ্য যে, যদিও কেউ কেউ ليلة مباركة দ্বারা ليلة القدر বুঝে থাকেন মূলত তা নয়, বরং ليلة القدر দ্বারা শবে বরাতের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বা কার্যকরী করার রাতকে বুঝানো হয়েছে।

৭. এ প্রসঙ্গে সূরা ক্বদরের তাফসীরে, বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর, তাফসীরে খাযিন ৪র্থ খন্ডের ৩৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“হযরত হুসাইন ইবনে ফযল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞাসা করা হল ‘লাইলাতুল ক্বদর’-এর অর্থ কি? তিনি উত্তরে বলেন, পূর্বে স্থিরীকৃত সিদ্ধান্তসমূহ নির্ধারিত সময়ের দিকে পরিচালনা করা এবং পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্তের যথার্থ বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে ক্বদর রাতের অর্থ।”
কাজেই উল্লিখিত দলীলের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠল যে, অর্ধ শা’বানের রাত হচ্ছে ليلة التجويز তথা বণ্টনের বা সিদ্ধান্তের রাত। আর লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে ليلة التنفيذ তথা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রাত।

৮. ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাত সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর “তাফসীরুল বাগবী”-এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ১৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“নিশ্চয়ই আমি উহা অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ এক বরকতময় রাত্রিতে নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য অসংখ্য, মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা বলেন, লাইলাইতুম মুবারাকা তথা বরকতপূর্ণ রাত হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত (শবে বরাত) এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়াহিদ মালীহী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আবু মানছুর সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, হযরত আবু জাফর রাইইয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত হুমাইদী ইবনে যানজুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আছবাগ ইবনে ফারজ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেন ইবনে ওহাব, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে হারিছ, অবশ্য যা বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালেক ইবনে আব্দুল মালেক। তিনি ইবনে আবু যিব, তিনি কাসিম ইবনে মুহম্মদ উনার থেকে, তিনি উনার পিতা থেকে কিংবা চাচা থেকে, তিনি হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ ই শা’বানের রাতে (শবে বরাতে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর সমস্ত ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করেন, তবে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা করেন না- যাদের অন্তরে হিংসা রয়েছে এবং যারা আল্লাহ পাক-উনার সাথে শরীক করেছে। অর্থাৎ হিংসুক ও মুশরিক ব্যতীত সবাইকে শবে বরাতে ক্ষমা করে থাকেন।”
অতঃপর পরবর্তী আয়াত শরীফে উল্লেখ করেছেন-
“ওই মুবারক রাতে তথা শবে বরাতে ভাগ্য বণ্টন হয় অর্থাৎ যাবতীয় হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফায়সালা করা হয়।”

৯. এই আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে বাগবী এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ১৪৩ পৃষ্ঠায় একইভাবে শবে বরাতের রাতকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন উল্লেখ আছে-
“হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লাইলাতুম মুবারাকা এবং ফায়ছালার রাত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বান এর (১৫ই-শাবানের) রাত তথা শবে বরাত। আর এই শবে বরাতের রাতে সামনের এক বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্যলিপি প্রস্তুত করা হয়। এবং জীবিত ও মৃত্যুদের ভাগ্য তালিকাও প্রস্তুত করা হয় এই শবে বরাতে। অতঃপর ওই ভাগ্য তালিকা থেকে কোন কম বেশি তথা হেরফের করা হয় না। আর এ প্রসঙ্গে (সনদসহ) হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়াহিদ মুলাইহি রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আবু মানছুর আস সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন হযরত হুমাইদী ইবনে যানজুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ছলেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেন, হযরত আল লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেন হযরত আক্বিল রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনে শিহাব থেকে। তিনি বলেন, আমার কাছে হযরত উসমান ইবনে মুহম্মদ ইবনে মুগীরাহ ইবনে আখনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক অর্ধ শা’বান থেকে পরবর্তী অর্ধ শা’বান পর্যন্ত সমস্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি লোকেরা সেই বৎসর কখন বিবাহ করবে এবং তার কি সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সেই বৎসর কোন সময়ে ওই সন্তানের মৃত্যু হবে সে তালিকাও প্রস্তুত করা হয় অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে।”
কেননা এ অর্ধশা’বানে তথা ১৫ই শা’বানের রাত সম্পর্কে হযরত আবুদ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত প্রস্তুত করেন তথা ভাগ্যের তালিকা প্রস্তুত করেন। আর ক্বদরের রাতে তথা শবে ক্বদরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য ভাগ্য লিপি অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারীদের (ফেরেশতা উনাদের) হাতে।
ইহা ছাড়া আরো উল্লেখ্য যে, লাইলাতুল ক্বদর দ্বারা যে (ليلة التنفيذ) লাইলাতুত তানফীয তথা পূর্ব সিদ্ধান্ত বা ভাগ্য বাস্তবায়ন করার রাতকে বুঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমেও প্রমাণিত হয় যে, পূর্ব সিদ্ধান্তের রাতই হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত। (তাফসীরে বাগবী, (সূরা ক্বদর), হাশিয়ায়ে খাযেন ৭/২৭৪ পৃষ্ঠা)

১০. এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে নাযমুদ দুরার” কিতাবের ৭ম খন্ডের ৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা ১৫ই শা’বানের রাত।”

১১. উক্ত তাফসীরে ৭ম খন্ডের ৬৪ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- হযরত আবু দ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। আর ক্বদরের রাতে তথা শবে ক্বদরে সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকরী তথা বাস্তবায়ন করার জন্য তালিকা পেশ করেন বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের হাতে। হযরত ইমাম কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পূর্ব সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার জন্য বাস্তবায়নকারী ফেরেশতা উনাদের হাতে যেই রাত্রিতে তালিকা পেশ করা হয়, সেই রাত্রিটি হচ্ছে রমাদ্বান মাসের ২৭ তারিখের রাত।

১২. এ প্রসঙ্গে তাফসীর জগতের সুবিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে কুরতুবী”-এর ৮ম খন্ডের ১৬তম জুযের ১২৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাতকে বুঝানো হয়েছে। এই ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের চারটি নাম রয়েছে, যেমন ১. লাইলাতুম মুবারাকা বা বরকতপূর্ণ রাত ২. লাইলাতুল বারায়াত তথা মুক্তি বা ভাগ্যের রাত ৩. লাইলাতুছ ছক্কি বা ক্ষমা স্বীকৃতিদানের রাত ৪. লাইলাতুল ক্বদর বা ভাগ্য রজনী। আর শবে বরাতকে বরকতের সঙ্গে এই জন্য সম্বন্ধ করা হয়েছে যেহেতু আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে বান্দাদের প্রতি বরকত, কল্যাণ, এবং পুণ্যময় দানের জন্য দুনিয়ায় কুদরতীভাবে নেমে আসেন অর্থাৎ খাছ রহমত নাযিল করেন।

১৩. উক্ত কিতাবের ১২৬ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা এখানে অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাতকে অর্থাৎ শবে বরাতকে বুঝানো হয়েছে।”


সূরা আদ দুখান-এর ليلة مباركة এর পরবর্তী আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে-
“সেই মুবারক রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয়।”

১৪. এখানে فيها তথা মুবারকপূর্ণ রাতের ব্যাখ্যায় সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর “তাফসীরে কুরতুবী”-এর ১৬তম খন্ডের ১২৬/১২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, ফায়ছালার রাতই হচ্ছে- অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ই শা’বানের রাত্রি। এই শবে বরাতে সামনে এক বৎসরে যাবতীয় কিছুর ফায়ছালা করা হয় এবং তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত ও জীবিতদের। এমনকি হজ্জ পালনকারীদের তালিকাও করা হয় সেই অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে। ওই রাত্রিতে যার যার ভাগ্যে যা কিছু লেখা হয় তা থেকে কোন কমতিও করা হয়না এবং কোন কিছু বেশিও করা হয় না।
হযরত উসমান ইবনে মুহম্মদ ইবনে মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক শা’বান হতে পরবর্তী শা’বান পর্যন্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এক অর্ধ শা’বান থেকে পরবর্তী অর্ধ শা’বান পর্যন্ত মৃতদের ভাগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এবং ওই রাত্রিতে এটাও লেখা হয় ব্যক্তির বিবাহ কখন হবে এবং সেই বৎসর তার কি সন্তান হবে এবং সেই বৎসর কখন মৃত্যুবরণ করবে তার তালিকাও প্রস্তুত করা হয় শবে বরাতে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, যখন অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাত তোমাদের কাছে সমাগত হয়, তখন তোমরা ওই ১৫ই শা’বানের রাত্রিতে ইবাদত বন্দেগী করে রাত্রি জাগরণ করিও এবং উহার দিবা বেলায় রোযা রাখিও। কেননা মহান আল্লাহ পাক ওই ১৫ই শা’বানের রাত্রির সূচনালগ্নে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সাথে সাথেই পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, হে পৃথিবীবাসী! তোমাদের মধ্যে এমন কে আছ? ক্ষমা প্রার্থী, আমার কাছে ক্ষমা চাও (আজ) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব। কে আছো রোগী? আমার কাছে দরখাস্ত কর আমি রোগ মোচন করে দিব। কে আছো রিযিক তালাশী? আমার কাছে রিযিক চাও, আজ আমি তাকে প্রচুর পরিমাণে রিযিক দিয়ে দিব। সাবধান! সাবধান! এইভাবেই মহান আল্লাহ পাক বান্দাদেরকে ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন। হযরত ইমাম ছালাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এভাবে বর্ণনা করেন এবং ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানার সমার্থবোধক হিসেবে হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেন।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করে বলেন, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক অর্ধ শাবান তথা ১৫ই শা’বানের রাত্রে অর্থাৎ শবে বরাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। অতপর বনী কলব গোত্রেয় ছাগলের লোম পরিমাণ অধিক সংখ্যক গুনাহগার ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে থাকেন।
আর উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম-উনার এই বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা অনেক লম্বা হাদীছ শরীফ যেটা “কিতাবুল উর্বস্তু গ্রন্থকার উল্লেখ করেন। আর তিনি নির্ভরযোগ্য মত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নিশ্চয়ই যেই রাত্রিতে সমস্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয়ে থাকে সেই রাত্রিই হচ্ছে অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাত। আর অবশ্যই ওই রাতকেই লাইলাতুল বরাত বা বরাতের রাত তথা ভাগ্য রজনী বলা হয়।

১৫. এ প্রসঙ্গে সূরা ক্বদরের তাফসীরে ‘তাফসীরে কুরতুবী’-এর ২০তম জুযে ১৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাত্রিতে অর্থাৎ শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্য তালিকা প্রস্তুত করেন। আর ক্বদরের রাত্রিতে ওই ভাগ্যতালিকা পেশ করেন বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের হাতে।কাজেই উক্ত আলোচনা থেকে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠলো যে, শবে বরাত বান্দাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় আর শবে ক্বদরে সেই ভাগ্যতালিকা জারি বা কার্যকরী করা হয়।

১৬. এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত তাফসীর ‘তাফসীরে লুবাব’-এর ১৭তম খন্ডের ৩১০-৩১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“ওই মুবারক তথা বরকতপূর্ণ রাত্রিতে অর্থাৎ শবে বরাতে প্রত্যেক হিক্বমতপূর্ণ যাবতীয় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয়। বিখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লাইলাতুম মুবারকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাত। এই শবে বরাতে আগামী এক বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্যতালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত ও জীবিতদের। ওই তালিকা থেকে কোন কম বেশি করা হয়না অর্থাৎ কোনরূপ পরিবর্তন হয় না।
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এক শা’বান তথা ১৫ই শাবান থেকে পরবর্তী ১৫ই শা’বান পর্যন্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি লোকেরা ওই বৎসরে বিবাহ করবে তার থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সেই বৎসর কখন মৃত্যুবরণ করবে তার তালিকাও ওই শবে বরাতে প্রস্তুত করা হয়।
প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের ফায়ছালা করে থাকেন। আর শবে ক্বদরে ওই নির্ধারিত ফায়ছালার বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের হাতে সেই তালিকা পেশ করেন।
আর এটাও বর্ণিত আছে যে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ শবে বরাতে লাওহে মাহফুয থেকে অবতীর্ণ করা শুরু করেন এবং শবে ক্বদরে তা শেষ করেন।”

১৭. এ প্রসঙ্গে সুবিখ্যাত তাফসীর ‘তাফসীরে গারায়িবুল কুরআন ওয়া রাগায়িবুল কুরআন, হাশিয়ায়ে জামিউল বয়ান’-এর ৩০তম জুযের ১৩৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন শরীফ যে রাতে অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয় তা হচ্ছে বরাতের রাত। তথা শবে বরাতে।” (তাফসীর তাবারী, ৩০ খন্ড)

১৮. বিশ্বখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে কুরতুবী”-এর ১৬তম খন্ডের ১২৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“লাওহে মাহফূয-এর প্রত্যেকটি বিষয়ের অনুলিপি বা ভাগ্যলিপি লেখা শুরু হয় শবে বরাতের রাত্রে এবং শেষ হয় শবে ক্বদরের রাত্রে।”

১৯. এ প্রসঙ্গে তাফসীর জগতের সুবিখ্যাত এবং সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর, ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’-এর ৪র্থ খন্ডের ২১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“যারা বলে থাকেন লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা উদ্দেশ্য অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত। তারা দলীল হিসেবে পেশ করেন যেমন, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফখানা। তাছাড়াও আরো হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে। যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ছলেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি হযরত আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হযরত উসমান ইবনে মুহম্মদ ইবনে মুগীরা ইবনে আখনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক শা’বান থেকে পরবর্তী শা’বান পর্যন্ত অর্থাৎ ১৫ই শা’বান হতে পরবর্তী ১৫ই শা’বান পর্যন্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং এমনকি ব্যক্তির বিবাহ সেই বৎসর তার কি সন্তান জন্মলাভ করবে এবং সেই বৎসর কখন মৃত্যুবরণ করবে তার যাবতীয় তালিকা প্রস্তুত করা এই শবে বরাতে।” (অনুরূপভাবে তাফসীরে জালালাইন শরীফ-এর ৪১০ পৃষ্ঠায় ২২ নম্বর হাশিয়ায় উল্লেখ আছে।)

২০. “তাফসীরে আবী সুয়ূদ”-এর ৮ম খন্ডের ৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“মুফাসসিরীনে কিরামগণের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, লাইলাতুল মুবারাকা অর্থ হচ্ছে লাইলাতুল বরাত তথা বরাতের রাত। উক্ত রাত্রিতে কুরআন শরীফ ও অন্যান্য সবকিছু অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। অথবা ওই রাত্রিতে একই সাথে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করা হয়।”

২১. উক্ত কিতাবের ৫৮ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-
“মুফাসসিরীনে কিরামগণ উনাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, লাওহে মাহফুয থেকে যা কিছু নাযিল হয় তার সবকিছুই লিপিবদ্ধ শুরু করা হয় শবে বরাতে। আর সেই ভাগ্যলিপি সম্পাদন তথা কার্যকরী করার জন্য পেশ করা হয় শবে ক্বদরে।”

২২. এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত “তাফসীরে তাবারী”-এর ২৫তম খন্ডের ৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“মুফাস্সিরীনে কিরামগণের অনেকেই উল্লেখ করেছেন যে, লাইলাতুল মুবারকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ই শা’বানের রাত।”

২৩. “তাফসীরে তাবারী” কিতাবের ২৫তম খন্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
“ওই রাতেই সমস্ত হিক্বমতপূর্ণ বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয়।”
এই আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়-
“মুফাসসিরীনগণের একটি দল বলেন, যেই রাত্রিতে সমস্ত বিষয়ের ফায়ছালা করা হয় সেই ভাগ্য বা ফায়ছালার রাতই হচ্ছে অর্ধ শা’বান তথা ১৫ই শা’বানের রাত অর্থাৎ শবে বরাত। তারা দলীল হিসেবে নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফগুলো পেশ করে বলেন, যেমন হযরত ইমাম জারীর তাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করেছেন হযরত ফযল ইবনে ছিবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত হাসান ইবনে উরফাহ রহমতুল্ল
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×