somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগে সিনিয়র-জুনিয়র আজাইরা কনসেপ্ট

২৯ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মধ্যে দেখি কোন ব্লগার যদি কোন লেখা লেখে কিংবা কারো পোষ্টে কমেন্ট দেয় যা অন্যের মন মত হয় নাই, ঐ ব্লগারের ১৪ গুষ্টি উদ্ধার কইর্র্যা ফেলানো হয়। ব্লগে কত দিন হইল আইছো, ৩ মাস ব্লগে আইস্যাই ফালাইতাছো, নয়া পাগলা, আমি আইজ সাড়ে দুই বছর ধইর‌্যা লেখতাছি ইত্যাদি আজাইরা নাবালকসুলভ কমেন্ট করে। তাদের এইসব আজাইর‌্যা প্যাচাল যে নতুন ব্লগারদের কতটা পিছিয়ে দেয়, সামুর উপরে অধিকারবোধ কতটা কমিয়ে দেয়, কত সৃষ্টিশীলতার অপচয় ঘটে সেটা ঐ আবালদের মাথায় ধরে না।

আবার এমনও দেখা যায় যে, অমুক ভাই কিংবা তমুক আপা সিনিয়র ব্লগার হিসেবে চিহ্নিত হন এবং কারো ব্লগে কমেন্ট করলে সেই ব্লগার বর্তাইয়া যান। বুঝতে পারি না এই সিনিয়ারিটি কি বয়সের নাকি অন্যান্য কিছু?

যদি মনে করি পাকা হাতের লেখকদের সিনিয়র বলা হয়, তা কিন্তু গ্রহনযোগ্য না। যেকোন লেখা লেখকের সন্তানতুল্য। লেখার কাচা-পাকা ভাব খুবই আপেক্ষিক বেয়াপার। সুতরাং আমার মেয়ে কালো হইলে তার জামাই জুটবো না এইটা কি গ্রহনযোগ্য কথা হইলো?

তবে কি যারা বেশী দিন ধরে লেখতেছেন তারা সিনিয়র? আইজ যদি কবিগুরু বেঁচে থাকতেন আর আমার পরে ব্লগ লিখতে শুরু করতেন তাহইলে কি পারস্পরিক তুলনায় তিনি জুনিয়র ব্লগার আর আমি সিনিয়র ব্লগার খেতাব পাইতাম?

আবার যদি বয়সের কথা বলা হইয়া থাকে তাইলে তো বলতে হয় ব্লগ হলো নিজের ভাবনা, কর্ম, সৃষ্টিগুলোকে অন্যের সাথে শেয়ার করা, কখনো বিদগ্ধ পাঠকের আয়নায় নিজের কাজগুলোকে যাচাই করে নেয়ার অনন্য এক প্রযুক্তিগত প্লাটফর্ম। এইটা কাউরে কদমবুসি করনের জায়গা না।

উদাহরন - ১ঃ একবার কবি ও গীতিকার দেহলবি-র সাথে কথা হইতেছিল। বলছিলাম বড় ভাই হিসাবে ছোট ভাইয়ের লেখা গানগুলোর দিকে একটু নজর রাইখেন। তিনি বলছিলেন সৃষ্টিশীলতার জগতে সিনিয়ার-জুনিয়ার কোন ব্যাপার নাই। যদি থাকতো তবে সব বুড়ারাই কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী কিংবা চিত্রকর হইয়া বইস্যা থাকতেন। তরুণরা শুধু অপগন্ডই থাকতো। সুতরাং কাম চালাইয়া যাও, ভাল কাম করলে এমনিতেই প্রকাশিত হইবা, না হইলে আমারে দিয়াও কোন কাজ হইবো না। হের তাৎক্ষণিক চিন্তাপ্রসুত কমেন্টে খুব শরম পাইছিলাম। সেই থেকে আইজ পর্যন্ত এ লাইনে আর কাউরেই বড়ভাই বানাই নাই। আমার সৃষ্টির জগতে আমিই বড়ভাই।

উদাহরন - ২ঃ আমাগো লগের এক পইসাওয়ালার পোলা এলাকার বড়ভাইগো লগে ঘুরতো । হে আমাগো সামনে বড়ভাইগো লগে বিড়ি সিগারেট এমনকি গাঞ্জা-ফেন্সিও টানতো আর টেরাইয়া টেরাইয়া চাইয়া চোখ দিয়া বুঝাইতো দেখ আমি কি জিনিস! কাগো লগে গাঞ্জা টানি! বড়ভাইরাও মাগনা সাপ্লাই পাওনের আশায় হেরে ভাজ দিয়া চলতো। আইজ পয়সার অভাবে বড়ভাইরা গাঞ্জা-ফেন্সি ছাইড়া আধবুড়া হইছে, আগের সেই তেজ নাই আর ঐ পোলা নেশা খাইয়া ক্লীব লিঙ্গ হইছে। সস্তা সিনিয়র-জুনিয়রগিরিও ছুটছে।

কি উদ্দেশ্যে এই পাওয়ার স্ট্রাকচার তৈরী করা হইতাছে তা পরিস্কার না। ব্লগে রাজনীতি করবো ? ভোটে দাড়াইবো? বছরের সেরা ব্লগার নির্বাচিত হইবো? সামুতে নতুন কোন বিষয় আইবো যা ইর্ন্টানালি হেরা খবর লইছে? কে জানে কোনটা?

সিনিয়র-জুনিয়রের আজাইরা এই কনসেপ্ট ব্লগারদের মইধ্যে একপ্রকার বৈষম্য তৈয়ার করে। যেকোন বৈষম্যই পরিত্যাজ্য। হায়রে বাঙগালী সমাজের বৈষম্যমূলক আচরন! একবিংশ শতকের আধুনিকতম প্রযুক্তি ইন্টারনেটরেও ছাড়লি না!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৪৯
৪৫টি মন্তব্য ৪৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×