somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমায় ভালবাসি..ঘটনা ১

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিহানের এমন একটা অনুভূতি চলে এসেছে যার সাথে জীবনের প্রথম ১৮ টা বছর কোন সখ্যই ছিল না। কেমন একটা অনুভূতিহীন জগৎ তার সামনে, ভাবতে চায়, বড় হওয়ার স্বপ্ন তো একদিন তার মনেও ছিল। কিন্তু কখন তার হৃদয় গহীনে একটা চাপা ঝড় বয়ে গেল। সব কিছুই এখন মূল্যহীন তার কাছে।
চড়ের জন্য যতটা না ব্যথা রিহান পেল তার চাইতে প্রচণ্ড শব্দে অপেক্ষাকৃত নীরব গলিটা সচকিত হয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ পর সে শান্ত স্বরে জিজ্ঞাসা করলো, "এটা কি ধরণের হলো?"
"আমি যেটা করেছি সেটাই ঠিক আছে।" সামিয়ার রাগত স্বরে জবাব।
রিহান অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে চুপচাপ। সামিয়া একটু দূরে সরে গেল তার কাছ থেকে। রিহান মুখ ফিরিয়ে আবার ওর দিকে তাকালো। জানে কাদো কাদো একটা ভাব করলেও আসলে সে তার সামনে কখনোই কাদবে না। কি করবে বুঝতে পারছিল না। বললো,"চলো, তোমার বাসায় যেতে হবে। নয়তো অনেক বেশী দেরী হয়ে যাবে, আসো, হাটো।"

নীরবে হাটতে থাকে দুজন। সামিয়ার জিজ্ঞাসা, "তোমার অভিনয় দেখলে রাগে গা জ্বলে যায়। মরতে যখন গিয়েছিলে তখন আমার কথা মনে তো পরে নি। আর এখন আসছো বাসায় পৌছানোর সিরিয়াসনেস দেখাতে?"
"দেখো, আমি মোটেও বাসায় যাবার জন্য এই কথা বলিনি। কারণ যতক্ষণ আমি তোমার সামনে এখন থাকবো ততক্ষণ তোমার রাগ শুধু বাড়তেই থাকবে।"
"বাড়বে না, পিছনে ঘুরো, একটু পরে বাসায় যাবো।"

কোন প্রতিবাদ করে না রিহান।কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার কোন ক্ষোভও সে বুঝতে পারে না। সে আশ্চর্য হয়ে যায় তার ভাবলেশহীনতা দেখে। এই তো এই গলির মুখে আসার আগেও তো সে সামিয়াকে চুমু দিয়েছে।

"তুমি কেন এমন করো সবসময়? কেন এতটা পাগলামি করতে গিয়েছিলে?"কান্নামিশ্রিত কণ্ঠ সামিয়ার।
"দেখো, এমন দিন মানুষের জীবনে বারবার তো আসে না। আমার তখনকার অনুভূতি আমি যদি এখনো ইচ্ছা করি তবুও তো সেভাবে চিন্তা করতে পারবনা। আমার কিচ্ছু মনে হয়নি সেদিন। শুধু এটা জানি যে আমি তখন শূণ্য কিছু একটা ছিলাম।"
আর তেমন কোন কথা হয়না।
"কিছু বলছো না কেন? কিছু কি বলার নাই?" সামিয়া জিজ্ঞেস করে।
"আমি কি বলতে পারি? দেখো তুমি জানো যে ছোটবেলা থেকে আমি কখনো টেনশন নিতে পারি না। এটা আমি শিখিনি। আমি যা কিছু করেছি, যা কিছু আমি জীবনে পেয়েছি তার কোনটাই আমার টেনশন থেকে পাইনি। কিন্তু জীবনের অনেক বড় একটা ব্যাপারে যদি আমার উপর এভাবে পাথরচাপা দিয়ে রাখে সেখানে আমার কি ই বা করার থাকে।"

সামিয়া এখন একটু কি যেন চিন্তা করে।
"দেখো, আমি তোমাকে শুধু আমার বাবা মা কি চায় সেটা বলেছি। এবং আমি জানি তোমার জন্য এটা কোন ব্যাপার হতে পারে না। আমি তাই চাচ্ছি যাতে আমি আমার ভালাবাসা কে নিজের মতো করে তুলে সবার সামনে তুলে ধরতে পারি। এর বেশী তো আমি আর কিছুই চাইনি।"

"আমি জানি না সেসব কিছু আর জানতেও চাই না। শুধু একটা বিষয় আমি তোমকে বলতে পারি যে আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে তোমার আমার সম্পর্কটা অনেকটা কন্ডিশন নির্ভর হয়ে গেছে। আর এমনটা আমি কখনোই চাই না। তোমাকে একটা কথা বলি, বুয়েটে পড়ার ইচ্ছা আমার নিজেরই আছে। তাই বলে তোমার বাবা মা বুয়েটে পড়া ছেলে তোমার জন্য চায় এটা যদি হয়েই থাকে তোমার উচিত ছিল না আমার সাথে কিছূ করার। এতটুকুই তোমাকে আমি বলতে পারি তুমি গিয়ে এখন একটা বুয়েট ছেলেকে ভালবাসতে শুরু কর।" একটানা কথাটা শেষ করে রিহান।

নিশ্চুপ হয়ে যায় সামিয়া। "কিন্তু এটা তো আমি জানতাম না যে বিয়ে নিয়ে আমার বাবা মা কি চিন্তা করে। তুমিতো জানো যে বাসায় এটা জানাজানি হবার পরেই সবকিছু আমি জানতে পেরেছি। আমার এখানে কি করণীয় তুমি বলো?"
"কিন্তু যদি এমন হতো যে আমি এমন একটা ছাত্র হতাম যে বুয়েটে পরীক্ষাই দিতে পারবে না। তখন তুমি কি করতে?"
"কিন্তু সেরকম কিছুতো হয়নি তাইনা? হয়তোবা সবকিছুই ঠিক হয়ে ছিল আগে থেকে। এখন তো সব মিলেই গেছে। শুধু তুমি এটা করতে পারলে সবার সামনে কোন সমস্যাই থাকবে না, আমি তখন সবার চোখে আঙুল দিয়ে বলে দিতে পারব, বাবা মা আমাকে নিয়ে যা ভাবতো সেগুলো কতটা ভুল ছিল তখন তাদের কে আমি বোঝাতে পারব। আর এই কথা বলছো? তোমাকে আমি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতাম তখন। এখনকার সময় এ এটা কিছুই না। হয়তো আমাদের জীবনটা অতটা ভাল থাকবে না কিন্তু তোমাকে ছাড়া কিছূ কল্পনা করা আমার জন্য সম্ভব না। প্লিজ তুমি একটু বুঝতে চেষ্টা করো।"

রিহান আর কিছু বলে না। তবে আগামিকাল কি ঘটবে সেটা সে জানত না।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×