একবিংশ শতাব্দির নতুনতম আবিস্কার। বিশ্ব সভ্যতার নতুন দিগন্ত যেখান থেকে প্রবল প্রতিপত্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে। অথবা হয়েই গেছে। দিনবদলের বর্তমান সরকারের ব্যাপক সদইচ্ছা এবং কর্মতৎপর মানসিকার জল-জ্যান্ত প্রমান হয়ে যা বিশ্ব দরবারে ইতোমধ্যেই নিজের একটা দারুণ অবস্থাণ তৈরী করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে লেখতে গেলে, কলম হয়তো ফুরাবে না; তবে কী বোর্ড চাপতে চাপতে আংগুল ঠিকই ব্যথা হয়ে যাবে।
যা হোক,
কী মনে করে কী ভুলে যেনো আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের ওয়েব সাইটটাতে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই... মনে হলো জীবন আজ সার্থক! এক জীবনে আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার! স্রষ্টা যদি এই এখনই আমাকে তার ডাকে সাড়া দিতে বলেন; আমি প্রস্তুত।
০২
একটি দেশের প্রধান সরকারী ওয়েব সাইটের নাম হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ কতোটা মানানসই সে বিতর্ক না হয় না-ই করলাম, কিন্তু সাইটটির ডিজাইন এবং দু একটা ফিচার নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
প্রথমেই বলে রাখি, সাইটটিতে বাংলা এবং ইংরেজি দুটি ভাষাই রয়েছে। ডিফল্ট বাংলা থাকা উচিৎ হলেও আশ্চর্যজনকভাবে তা নয়; ডিফল্ট হলো ইংরেজি। হয়তো আন্তর্জাতিকে অংগনের কথা চিন্তা করে এটা করা হয়েছে। যাক সে কথা, প্রত্যেকটি ওয়েব সাইটেরই একটি বিশেষ ট্যাগ থাকে। যেটি সাইট ব্রাউজ করার সময় এড্রেসবারে মাউস রাখলে দেখা যায়। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের ওয়েব সাইটের সেই ট্যাগের কথাটি হলো- digital Bangladesh, Service at your doorsteps!
মানে কী? আমরা জাতি হিসেবেই কি তবে সার্ভার (!) হয়ে গেলাম? এটার ভালো বাংলা তো “চাকর” ছাড়া কিছু আসেনা!
সাইটের হোমপেজের বা পাশে হাইলাইটস ক্যাটেগরিস নামে একটি মেন্যুতে যেই সাবমেন্যুগুলো আছে, তার প্রথমটাও আমাদের সারা পৃথিবীর সার্ভার (!) হিসেবে প্রমাণ করতে পারে। সেটা কী জানেন? সার্ভিস ডেলিভারি! সেটাতে ক্লিক করে দেখেন কী আসে! এই আমাদের জাতীয় সার্ভিস!
তার নীচে কানেক্টেভিটি দেখে আপনি কী বুঝবেন? জানিনা; ইচ্ছে করলে আপনার ভাবনার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। আগে ভাবেন কী হতে পারে, তারপর দেখুন...!
বা পাশে আমাদের এই বিশ্ব-চাকর হওয়ার জায়গাটা থেকে আরো একটু নীচে আসুন। সার্চ বা খোঁজ করার অপশন রাখা হয়েছে। সেখানে কোন অদ্ভুদ কারণে যেনো সার্চ লেখা বাটনের নীচের খালি ঘরে সার্চের বাংলা “অনুসন্ধান” লেখা হয়েছে। কেউ যদি শুধু এতোটুকু দেখে ভাবে যে, ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ বাংলায় লেখে দিলে ডিজিটাল উপায়ে তার বাংলা প্রতিশব্দ এখানে পাওয়া যায়! ডিজিটাল বলে কথা...!
তার একটু নীচে আসুন। সার্ভিসেস (ই গভার্নেন্স)। তার নীচের প্রতিবেদন গুলো দেখুন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিংক আছে। সেই সাথে ভালো করে দেখুন- ডিজিটাল বাংলাদেশ কী ও কেনো? নামে একটি লিংক আছে।
প্রশ্নের ধরণটা নিয়ে কিছু বলতে চাইনা। এটাও বলতে চাইনা যে, ওই লিংকে ক্লিক করলে আসলে আমরা কোথায় যাবো...! নিজেই দেখে নিন... এটা কিন্তু ভুল না!
০৩
বা পাশের যা দেখাচ্ছিলাম একেবারে নীচ পর্যন্ত বাকি কী কী আছে দেখে নিন।
এবার চলুন ডান পাশে যাই। হোম, আমাদের সম্মন্ধে (!) সহ আরো কিছু মেন্যু আছে। একটা ব্লগ নামে! চলেন, ওখানে জাতীয়ভাবেও কিছুদিন ব্লগিং করি। হয়তো বলতেও পারবো- আমরা সরকারী ব্লগার। বলতে বলতে শার্টের কলারটা না হয় একটু নাড়াও দিবো..
তারপরে কী এটা!? গল্প.... ? মানে কী? গল্পও করা যাবে..?
গল্পের নীচের রিসরসেস এ কী আছে, তা ভালো করে দেখা হয়নি। কেউ চাইলে দেখতে পারেন। ক্লিকান ভাই বা বোন...!
ইচ্ছা করলে আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগও করতে পারেন। এটা অবশ্য ভালো একটা উদ্যোগ। ফেসবুকের ফেইক আইডি থেকেও তো উত্তর আসে মাঝে মাঝে! যদি দুই মাস আগে এমন সরাকারী একটা সাইটে একটা প্রশ্ন করে এখন পর্যন্ত অধম লেখক কোনো সদুত্তর পায়নি। উত্তর-ই পায়নি...
০৪
সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল।
ইন্ডিয়া
পাকিস্তান
নেপাল
শ্রীলংকা
সরকারী ওয়েবসাইট নিয়ে আরো লেখার আগ্রহ তৈরী হলো... সবাই কী বলেন। আর শুনেন, এটা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কেউ আবার পুলিশ লেলিয়ে দিবে কিনা! সম্ভাবনা থাকলে জানায়েন... ভয় লাগে! র্যাব আছে যে!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



