somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাভ ইস নাথিং জাস্ট মিসিং ০৩

১১ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কতোটা দিন আর হবে! ৩০ থেকে ৪০। কিংবা তারচেয়ে দুই অথবা এক দিন কম বেশি। এতেই বুকের গভীর ভিতরে বিরহের ক্ষত সৃষ্টি হয়ে গেছে। আসলে কিছু একটা ভুল হচ্ছে বোধহয়। বিরহ তো সেই প্রথম দিনেই ক্ষত বসিয়ে দিয়েছিলো! আজ এখন সেটা আর ক্ষত নেই; হয়ে গেছে তারচেয়েও বড় কিছু। তারচেয়ে যন্ত্রণার কিছু।

ঠোটের ভাজে প্রতিদিনই রোদের ছায়া পড়ে। ক্লান্ত দুপুরগুলো আমাকে একটু অবসরও দিতে পারেনা। অলস বিকেলগুলোও ভুলের প্রতিশোধ নেবার অদম্য হিংসেয় আমার পথ আগলে রাখে। তোমার কাছাকাছি তাই যাওয়া হয়না আমার। হাস্যোজ্জল আমার সামনে তোমার চোখও আমাকে কাছাকাছি পাওয়ার তীব্র আনন্দে চিকচিক করে উঠেনা। বিরহের দিনগুলো লেজে ঝুলিয়ে নিয়ে আসে আরো আরো দিন। দিনেরা তাই ফুরোয়না। বিরহের অদৃশ্য অনলে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হৃদয়ের পাটাতন। লুকিয়ে রাখা কান্নারা অবারিত ধারায় চোখের তীর ডিঙিয়ে যায়। গন্ডদেশে দাগ পড়ে কালো...

সবুজ ঘাসের গালিচায় তোমাকে নিয়ে কোনোদিন বসতে পারিনি। তাই বলে ভুলেও ভাবিনি- হেমন্তের এই শরীরজ্বলা রোদও ঠিক তোমার স্মৃতির শীতলতা বহন করে থাকবে। সবুজ মায়া টান রোদের ভিতরেও যে আছে, থাকতে পারে; তা জেনে গেলাম। আসলে তুমি আছো বলে প্রতিদিনই জীবনটাকে নতুন নতুন রুপে পাই। নতুন করে সব কিছুর মানে সাজাই।

আমার অগোছালো বিছানা তুমি প্রথম দিনেই গুছিয়েছিলে। তারপর আর কোনোদিন আমার বিছানার ভাজ ভাঙ্গেনি। কিন্তু এখন তুমি সাময়িকের জন্য হলেও দূরে। বিছানা তাই ভাজ খুজে পায়না। অগোছালো হয়ে থাকতেই ভালো লাগে হয়তো। অবশ্য, তুমি না থাকলে তো বিছানার অন্য কোনো রুপ হওয়ার কথাও না। কেবলই অগোছালো...

তুমি না থাকার দিনগুলোতে ঘুমেরাও বহুদিন পরে বোহেমিয়ান। রাত বাড়তে থাকলেই দলে দলে ঘুমেরা যায় পাড়া দেখতে। কোনোটা যায় নিশাচর পাখির ডানায় চড়ে শহর ঘুরতে। কোনোটা আবার জানলার গ্রীলে ঝুলে থাকে, দেখে ঘুমহীন আমি কিভাবে হাতরিয়ে খুজে মরি তোমাকে। তোমার ছোয়ার আশায় কিভাবে আকুল থাকি সারাটা রাত।

তোমার হাতের রান্না খুব একটা ভালোনা। কিন্তু তারপরও কেনো জানিনা- সেই রান্না এতোদিন খাইনা বলে পেটে চড় জমে গেছে! বেশি লবণ দিয়ে ফেলা তরকারী কতো দিন খাইনা। আসলে ভালোবাসা হয়তো এমনই- অদ্ভুত সব কারণে পিছনে বসিয়ে রাখে!

তোমাকে ভুলে থেকে থেকে দিনগুলো পার করে দেবার মতো হাজার উপকরণ ছিলো আমার। কিন্তু এখন সেই তারাই তোমাকে ধারণ করে বাঁচে! তুমি ছাড়া তারা আমার চেয়েও বেশি করে অচল-নিথর! কী করবো বলো... কিছুই তো ভালো লাগেনা। সব ভালো লাগারা দ্বিতীয় জীবন লাভ করে এগিয়ে গেছে। আমি তোমাতেই সব মিলিয়ে দিয়ে একা বসে আছি। ভালো লাগেনা।

সত্যিই কিছু ভালো লাগেনা...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:০৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×