
অনেক দিন ধরে কিছু লেখিনা। লেখতে পারিনা আসলে। মাথার ভিতর অদ্ভুদ সব চিন্তা খেলা করে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও চিন্তাগুলোকে অক্ষর বানিয়ে লেখে ফেলতে পারিনা।
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই কোনো একটা অনলাইন নিউজ সার্ভিসে পড়লাম- বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির লোভ দেখিয়ে ছাত্রি ধর্ষণ। আরো একটা চোখে পড়লো- অভয়নগরে মক্তব শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ।
মেজাজটা বিগড়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগেনাই। দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং নৈতিকতার এই অবস্থা কেনো? গতকাল একটা নিউজ পড়লাম- ঢাকা-চাঁদপুর রুটে বিআরটিসির বাস চালু করায় অন্যান্ন বাসের সমিতির পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ এতে তাদের ক্ষতি হবে। এরা এতো সাহস কোত্থেকে পায়??? দেশটা কি মগের মুল্লুক!
যোগাযোগ মন্ত্রী যে, নির্লজ্জ বেহায়ার মতো সারাদিন দাঁত বের করে হাসা ছাড়া আর কিছুই পারেনা। তা আমরা সহ মোটামুটি সারা পৃথিবীই এখন জানে। কানাডা প্রবাসী এক বন্ধুর কথাবার্তায় তা-ই মনে হলো। তবে, আমাদের জাতির আপা- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী করেন?? কোন কিসের কাজে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়া গেলেন? কী হবে ওই সম্মেলন শেষে? পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা যাবে? নাকি শেয়ার বাজারে সব হারানো লোকেরা সব ফিরে পাবে? ইংল্যান্ডের রাণীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার বিলাসিতা করার সময় কি আমাদের আছে?
হুজুগে বাঙ্গাল আমরা। তাই আসলে আমাদের ভাগ্য কিছুতেই বদলায় না। লিমনের পা খেয়ে ফেলে রাষ্ট্রের বৈধ সন্ত্রাসীরা। আমরা কয়েক দিন লাফাই- তারপর ঘুম। পরিমল হারামজাদারা নৈতিকতাকে উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে ধর্ষণ করে। আমাদের জাতির আপার বান্ধবী তাকে প্রশ্রয় দেন। আমরা এ অন্যায় না মেনে আবার লাফাই। এবং তারপর যোগাযোগ মন্ত্রীর নির্লজ্জ চালচলনে আমরা মুখ ঘুরিয়ে সব ভুলে যাই। অর্থমন্ত্রী নামের এক সিরিয়াস জোকারের জোক দেখতে দেখতে আমাদের চোখ ব্যথা হয়ে যায়- তবুও আমরা আবারও তার নতুন জোকের আশায় থাকি। কিন্তু- পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি হলে...
মিশরে কী হলো? লিবিয়ায় কী হলো?
প্রধানমন্ত্রীকে খুব বলতে ইচ্ছা করে-
নির্বাচনের আগে আপনার মুখ থেকে কী ধরণের কথা বের হয়েছে। আর এখন আপনি কী করে বেরাচ্ছেন? আপনার মন্ত্রীর দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও আপনি কিভাবে অন্যদের দোষ দিয়ে আমাদের লজ্জা দেন? আমাদের লজ্জা করে, আপনার কেনো করেনা? লজ্জা তো একটা সাধারণ ভিক্ষুকেরও থাকে, আপনার কি নাই? বিশ্বাস করেন- আপনাকে দেখলেই আমার লজ্জা করে এখন। যোদ্ধাপরাধীদের বিচার করেই ছাড়বেন, বলে ভোট নিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েই দিবেন, বলে ভোট নিয়েছেন... কিন্তু কই, বাপ হত্যার বিচার করেই আপনি ভিডিউ গেমস খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। নাকি আরো একবার যোদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দিবেন বলে ক্ষমতায় আসার বন্দোবস্ত করে রেখেছেন? তিন বছরে ক্ষমতা শেষ হয়ে আসলেও তো আমাদের নাগালে থ্রী-জি আনতে পারলেন না। নাকি আবারও আগামী নির্বাচনের আগে... ধুর! আপনার কি এতে লজ্জা করে? আমাদের করে...
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে এসব বলে কী হবে? আমরা জনগণই তো তাকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেছি বেশি। আমাদেরই উচিৎ এইসব জানোয়ারদের দেশ ছেড়ে বের করে দেওয়া।
প্রথমে শুনলাম- নো তিস্তা, নো ট্রানজিট। কিন্তু এখন দেখি মনোমহোন ইন্ডিয়া যাওয়ার আগেই সীমান্তে ভারতে ট্রাক হাজির। এতো তাড়াতাড়ি কোনো চুক্তি তো বাস্তবায়ন হতে দেখি নাই আগে। এখন মনে হয়- জামাত-শিবিরই ভালো। ওরা দেশের কোনো ক্ষতিই করবেনা। ভারতের কাছে দেশ তুলে দেবার স্পর্ধা কেবল এই জারজ সরকারেরই আছে।
বেশ এলোমেলো ও অগোছালো হয়ে যাচ্ছে লেখাটা।
কী আর বলবো!
৫২’তে আমরা আগুন হয়ে গিয়েছিলাম। ৭১’ এ বারুদ হয়েছিলাম। এই ২০১১ তেও যে কিছু হয়ে উঠতে পারবো, তা নিশ্চিত। আমাদের ক্ষোভ জমা হচ্ছে একটু একটু করে, কিন্তু বিক্ষোভ কিন্তু ধুপ করে জ্বলে উঠবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




