somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পের সারা গায়ে যন্ত্রনার কীট

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকগুলো দিন পার করে দিলাম। একটা মাত্র গল্প লেখার জন্য এতোগুলো দিন একটু বেশিই। আমি অবশ্য তেমন বড় কোনো গল্পকারও না, যে একবার টেবিলে বসে একটা মাত্র ঘন্টা কাটিয়ে দিয়েই বেশ ভালো একটা গল্প লেখে ফেলবে।

তবুও একটা গল্প লেখার আশায় কলম-খাতা নিয়ে প্রতিদিনই বসছি এখন। প্রতিদিনই কী-বোর্ডে একটু আধটু খট খট আওয়াজ তুলে একটা গল্প দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু হয়ে আর উঠছে না!

মাথায় একটা ভাবনা যেই না ডালপালা মেলতে থাকে, অমনিই দেখা যায় আরো দশটা ভাবনার ঝাক এসে আমাকে এলোমেলো করে দেয়। নতুন করে ভাবনার ঝাককে যেই সাজাতে বসি, অমনি পেকে উঠে নতুন আরো একটা ভাবনার কুন্ডুলী। কী করি... কী করি...!

নিতান্তই সামান্য বেতনে চাকরি করা এক সাধারণ কম্পিউটার অপারেটরকে একটা নিয়ে একটা গল্পের প্লট সাজালাম কদিন আগে। গল্পটাতে অপারেটরই নায়ক। তার নায়িকা নার্সিং কলেজের স্টুডেন্ট। নায়কের ইচ্ছা তার নায়িকা নার্সিং পড়ছে পড়ুক। কিন্তু পড়া শেষে সে সংসারীই হবে। চাকরি বাকরি করার দরকার নেই। কিন্তু নায়িকার মাথায় একটা পুরো রাজ্য। যে রাজ্যটা শুধুমাত্র তারই সাজানোর কথা ছিলো; কিন্তু নায়কের আগমনে সে ভাবে রাজ্যটা দুজন মিলেই সাজাবে।

নায়িকা বাবা মায়ের বড় মেয়ে। আরো দুইটা ছোটবোন তার আছে। ভাই নাই কোনো। নায়িকার বাবার তাই সব ভরসা বড় মেয়েটার উপর। নায়িকার মাও তাই। ছোটবেলা থেকেই নায়িকা বাবা আর মায়ের কথা মতোই নিজের জীবনটা ভেবে ভেবে বড় হয়েছে। তার জীবনটা যে কোনো কারণে অন্য রকমও হতে পারে, নায়িকা তা ভাবেই নি। ভাবার কোনো সুযোগই তার আসেনি। নায়িকার ইচ্ছা সে চাকরি করবে, নায়কের ইচ্ছা বিপরীত।

গল্পের এ পর্যায়ে নিজেকে আবারো নেহাত গাধা একটা গল্পকার মনে হয়। নিজে লেখছি গল্প; নায়ক আর নায়িকা বিপরীত মেরুতে ফেলে কষ্টের একটা গল্পের দরকারটা কী! ধুর...

এই গল্পটা মাঠেই মারা যায়।

নতুন একটা গল্পের প্লট আগেই তৈরি ছিলো।
ধার-ঋণে জর্জরিত একটা পরিবার। তুমুল সংগ্রামে দিন যায় তাদের। ভালো খাবার খেলে তাদের লোনের টাকার ব্যবস্থা করা কষ্ট হয়ে যায়। আবার লোনের টাকা ঠিকঠাক পরিশোধ করতে গেলে তাদের ভালো ইচ্ছারা মরে যায়।

এই গল্পটাতেও বাবা মা বড় ছেলের নির্ভশীল হয়ে পড়ে। বড় ছেলেটা আবার ঠিক ভালো মানুষ না। আমাদের সমাজে কারা ভালো মানুষ, তা আমি ভালোভাবে জানিনা বলে গল্পের এই ছেলেটার চারিত্রিক কোনো বর্ণণা আমি দিতে পারিনা। গল্পের এই চরিত্রটা তাই একটু বিকলাঙ্গ হয়েই থাকে। বিকলাঙ্গ চরিত্রটা গল্পের একটা কিভাবে কিভাবে যেনো বাবার মুখোমুখি একটা অবস্থানে চলে আসে। আবারও নিজের গাধামীতে বোকা হয়ে যাই।

সন্তানকে বাবার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে আমার কি শান্তি!

তবুও এই গল্পটা আমি এগিয়ে নিতে চাই। পৃথিবীর কিছু বাবাদের আমার বলতে মন চায় কিছু কথা। যা তারা নিজেদের অজান্তেই ভুলে ফেলে রাখে। তাদের এই ফেলে রাখায় কী যে হয়ে যায় কোথায় তা তারা জানতেই পারেনা।

হঠাৎ মনে হয়, আমি নিজে তো এখনো বাবা হইনি। বাবাদের মনোজগতের ভাবনারাও আমার ভিতরে নেই; তো আমি কী করে বুঝবো আসলে কী তারা ভাবেন?

ব্যাস, আমার ভাবনার ঝাক উড়ে দূরে চলে যাওয়া পাখির ঝাকের মতো অদৃশ্য হতে থাকে। গল্পগুলোও আর শিড়দাড়া সোজা করে দাঁড়াতে পারেনা। আমার গল্পের সারা গায়ে কোত্থেকে যেনো এসে পড়ে যন্ত্রণার কালচে কীটের দল....
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×