নির্বাসিতের আপনজন। পর্ব-১৯(ঘ)।
০১ লা মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
(আগের অংশটুকুর জন্য পর্ব-১৯(ক) পড়ুন)
বাবা ল্যাব দেখতে আগ্রহী হলেন না মোটেও। "ওসব আমি কিই আর বুঝবো। তার চেয়ে চলো তোমার এ্যাডভাইসারের কাছে যাই।"
কি আর করা? নিয়ে গেলাম তাকে গুরুর কাছে। দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। তারপর কেবল আমরা চেয়ারে একটু বসেছি, অমনি বাবা গুরুকে প্রশ্ন করলেন,"তা আমার ছেলেটা কাজকর্ম কেমন করছে? পরীক্ষাগুলোর রেজালট ভাল হচ্ছে তো?"
আমি সে প্রশ্নে মনে মনে প্রমাদ গুনি। কেননা আমি তখন সবে বছর খানেক তার ল্যাবে কাজ শুরু করেছি। অভিজ্ঞজন মাত্রেই জানেন, গবেষনার প্রথম বছরে কাজ তেমন কিছুই হয়না। টেস্টটিউব নাড়াচাড়া করা আর যন্ত্রপাতির সাথে চিন-পরিচয় হওয়া, এইটুকুই। আর আমি এর মধ্যে যা দু একটা এক্সপেরিমেন্টের অপচেষ্টা করেছি, তার কোনটারই ফল ভাল হয়নি। অতএব প্রাপ্তির খাতায় বিরাট শূন্য।
বাবার প্রশ্ন শুনে আমার ব্রিটিশ গুরু হাসেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটি কুটিল হাসি হেসে বললেন,"তুমি তাহলে বাইরে যাও। তোমাকে নিয়েই যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন সেটাতো আর তোমার সামনে করা যায়না। আর যাওয়ার সময় দরজাটা ভাল করে বন্ধ করে দিয়ে যেও।"
ঘরের বাইরে এসে মনে মনে ব্যাটাচ্ছেলেকে ঝেড়ে গালি দিলাম মিনিট পাঁচেক ধরে। ও যে আমার কি গুনকীর্তন করবে, তাতো ভালই বুঝতে পারছি। আর আমার পিতাজীও আমার সাফাই গাইবেন না, সেটাতো আমি ভাল করেই জানি।
মিনিট পনেরো পরে দরজা খুললো। বাবার মুখ গম্ভীর। "চলো, বাড়ী যাই এবার।"
গাড়ীতে বসে কৌতুহল আর চেপে রাখতে পারিনা। বাবাকে জিজ্ঞেস করি,"কি বললো প্রফেসর আমার নামে?"
বাবা উত্তর দিলেন,"হুম্ম্।"
সেই "হুম্ম্" এর ব্যাখ্যা চাইবার সাহস হোলনা আমার। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বাবা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন,"পড়াশুনাটা মন দিয়ে করো। আর প্রফেসরের কথা মেনে চলো।"
বাবা এর দুদিন পরই চলে গেলেন। আমেরিকার এই কর্মহীন জীবন তার আর ভাল লাগছিলনা।
তারপর অনেক দিন কেটে গেছে। আস্তে আস্তে গবেষণা এগোয়। টুকটুক করে জমা হয় ডেটা। থিসিস লেখার কাজ চলছে পাশাপাশি। থিসিস ডিফেনস করার কয়েকদিন আগে গুরুজী ডেকে পাঠালেন তার ঘরে। থিসিসের ফাইনাল কারেকশনটি আমার হাতে দিলেন। তারপর বললেন,"বসো-কথা আছে।"
বসলাম। আমাকে কি চাপ দিয়ে আরো কিছু কাজ করাবে নাকি?
"তোমার বাবা কেমন আছেন?"
"ভালই। এইতো কয়েকদিন আগেই ফোনে কথা হয়েছে।" (এটি ডাহা মিথ্যে কথা, কথা বলেছি মায়ের সাথে।)
গুরু একটু আনমনা হয়ে গেলেন।"ইন্টারেস্টিং ম্যান ইজ ইওর ড্যাড। তার কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। তুমি কি জানো-সেদিন আমাদের মধ্যে কি কথা হয়েছিল?"
"না।"
"উনি আমাকে বলেছিলেন যে তোমাদের কালচারে নাকি বাবা-মায়ের পরেই শিক্ষকের স্থান। উনি বলেছিলেন যেহেতু উনারা কেউ এখানে নেই, তাই তাদের অবর্তমানে আমিই যেন তোমার পিতামাতার দায়িত্বটি পালন করি। উনার মতে তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম গাধা, তাই আমার প্রধান কর্তব্য হচ্ছে তোমাকে সদুপদেশ দেওয়া, আর তোমাকে ঠিকমতো গাইড করা। তা না হলে নাকি তোমার পি এইচ ডি নাকি জীবনেও শেষ হবে না। আশাকরি আমি সে কাজে ব্যর্থ হইনি। এখন তুমি আমার ল্যাব ছেড়ে পাড়ি জমাবে অন্য কোন এক ল্যাবে। আমার দায়িত্ব তাই শেষ হোল। উনাকে তুমি আমার শুভকামনা দিও।"
আমি কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকি। বাবার স্নেহময় হাতের ছোঁয়া যেন আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে গেল। সাত সমুদ্দুর তের নদী পাড়ি দিয়ে অতি গোপনে তিনি এই আমেরিকাতে আমার জন্যে রক্ষাকবচ বপন করে গেছেন। আমি তার কিছুই টের পাইনি।
আর দশটা জিনিসের মতোই তিনি এবারও তার মায়াময় হূদয়স্পন্দনটিকে আবৃত করে রেখেছিলেন তার চিরাচরিত কঠিন মোড়কে। যেন কেউ জানতে না পারে। যেন কেউ টের না পায়।
তারপর কেটে যায় আরো অনেকগুলো বছর। আস্তে আস্তে দেশের সাথে যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে। ভিন্ন দেশ থিতু হয়ে বসি।
মাঝে মাঝে মায়ের সাথে কথা হয় ফোনে। অতি কৌশলে এমন সময়ে ফোন করি যখন বাবা বাড়ীতে থাকেন না। তারপরও দু এক সময়ে হঠাৎ তার গলা ভেসে টেলিফোনের তারে। সে আওয়াজে মেরুদন্ড দিয়ে বয়ে যায় ভয়ের শীতল স্রোত। কোন কথা না বলে আস্তে ফোন নামিয়ে রাখি।
একদিন দেশ থেকে ছোটভাই মিনারের (পর্ব-১২) ফোন আসে।
"দাদা- বাবার শরীর ভালনা।"
"কেন? কি হয়েছে?"
"ডাক্তার বলছেন কিডনীর সমস্যা। বেশ সিরিয়াস। ওষুধে কাজ হবে না। ডায়ালিসিস করতে হবে নাকি।"
"তাই নাকি?"
"হ্যাঁ।"
কাজের মধ্যে ডুবে থাকার কারণে ঠিকমতো খোঁজখবর নেওয়া হয়না। আবার মিনারের ফোন আসে। বাবার অবস্থার অবনতি হয়েছে অনেক। রক্তে ক্রিয়াটিনিন আর এ্যামোনিয়ার পরিমান বেড়েছে আশংকাজনক ভাবে। তার ফল হিসেবে বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফোন রেখে চুপ করে বসে থাকি। কেন জানিনে মনে হয়, বাবা যেন ডাকছেন আমাকে।"কতকাল দেখিনি তোকে। কেমন আছিস জানতে বড্ড ইচ্ছে করছে।"
নাড়িতে টান পড়ে আমার। সে ডাক অগ্রাহ্য করতে পারিনে।
দেশে ফিরে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকা বাবাকে দেখে চমকে উঠি। বুকের মধ্যে একটা জোর ধাক্কা খাই। এ আমি কাকে দেখছি? এইই কি আমাদের পরিচিত দোর্দন্ডপ্রতাপ মানুষটি? ছেলেবেলায় পড়া "মহাভারত" এর ভীষ্মের মতো মনে হয় তাকে। যেন শরশয্যায় শুয়ে আছেন। প্রতীক্ষা করছেন দক্ষিনায়নের।
ডাক্তারেরা যা বললেন, সাদা বাংলায় তার অর্থ হচ্ছে যে বাবার দুটো কিডনীই প্র্যাকটিকালি অকেজো হয়ে গেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে কাজের মোহে ডুবে থাকা এই মানুষটি সবচেয়ে বেশী অগ্রাহ্য করেছিলেন তার নিজের শরীরটিকেই। বাদ বাকী জীবনটা তাকে ডায়ালিসিস এর সাহায্য নিয়েই চলতে হবে।
সেই দিনগুলোর কথা এখনো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আমি সারাটা দিন ক্লিনিকে বাবার বিছানার পাশে বসে থাকি। তাকিয়ে থাকি তার দিকে। ইতিমধ্যে বার কয়েক ডায়ালিসিস করা হয়েছে। তাতে তার অবস্থার আহামরি কোন উন্নতি হয়নি।
বাবা কি জানেন যে আমি এসেছি? তিনি কি টের পাচ্ছেন যে তার গাধা সন্তানটি তার শিয়রের পাশে বসে আছে? মাত্র অল্প ক’দিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছি। একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেনসে পেপার পড়তে হবে ফিরে গিয়েই। তাই বেশীদিন থাকতে পারবোনা। আমি কি বাবার সাথে কথা বলতে পারবো? তিনি কি সুস্থ হয়ে উঠবেন?
ঈশ্বর-তুমি আমার বাবার জ্ঞান ফিরিয়ে দাও।
আমার কোন প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনা। ছোট ভাই বোনেরা মুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। "দাদা-কি হবে? বাবা ভাল হবে তো?"
তাদের প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারিনা। যতটুকু বিজ্ঞান শিখেছি, তার আলকে মনে হয় বাবার অবস্থা খুব ভাল না।
যেদিন চলে আসবো, তার আগের দিন দুপুর বেলা। ক্লিনিকে আর কেউ নেই। শুধু আমি একা বসে আছি বাবার বিছানার পাশে। তখন বাবাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। শুধু সেই যন্ত্রটির মৃদু শব্দ ছাড়া আর সব কিছু নিঃশব্দ। পর্দাগুলো টেনে দেওয়া হয়েছে বলে ঘরের ভিতরটিতে অতি অল্প আলো। আমি একদৃষ্টিতে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।
এমন সময় আমাকে অবাক করে দিয়ে বাবা চোখ মেললেন। বড় বড় চোখে তাকালেন আমার দিকে।
আমি বাবার উপর ঝুঁকে পড়ে ডাকলাম,"বাবা-বাবা।"
বাবা মাথা নেড়ে সাড়া দিলেন যেন।
"তুমি কি আমাকে চিনতে পারছো?"
"হুঁ।"
"বলোতো আমি তোমার কে হই?"
"ছেলে।"
আনন্দে, উত্তেজনায় আমার চোখে জল আসে। আমি বাবার হাতটি জড়িয়ে ধরি। বাবা কি আমার হাতের স্পর্শ টের পান? তা না হলে তার মুখে কেন আমি এক চিলতে হাসি দেখতে পেলাম?
সেদিন স্বল্পালোকিত ঘরটিতে একটি অহংকারী, মূর্খ এবং অযোগ্য সন্তান তার বাবার কাছে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করেছিল। সব ভয়, রাগ, অভিমান ভুলে ছেলেটি সেদিন সূর্য্যপ্রতিম মানুষটির খুব কাছটিতে চলে এসেছিল। সেদিন ছেলেটি বুঝতে পেরেছিল, এতদিন ধরে তারা সবাই একটি বিরাট ভুল করে এসেছে। মানুষটির কাছে এলে তারা একটি অতি কোমল হূদয়কে দেখতে পেতো।
কতক্ষন ধরে চলেছিল এই কথোপকথন? তার হিসেব রাখেনি কেউ। এক পল, নাকি সহস্র শতাব্দী?
পরদিন খুব ভোরে প্লেনে ওঠার আগে মিনারের সাথে ফোনে কথা হোল।
"মিনার, বাবা এখন কেমন?"
"ভালই দাদা। তুমি চিন্তা করোনা। ভালভাবে যাও। পৌঁছে একটা ফোন দিও।"
অতি শয়তান ভাইটি সেদিন দক্ষতার সাথে আমার কাছে একটি বড় সত্যকে গোপন করেছিল। বাবা তার আধা ঘন্টা আগে মারা গেছেন। কান্নাকে বুকের মধ্যে সে লুকিয়ে রেখেছিল যেন আমি চলে যেতে পারি। কনফারেনসে আমার যে পেপার পড়তে হবে।
চিরটা কাল ওরা এই কাজটিই করে এসেছে। আমি শুধু স্বার্থপরের মতো নিয়েই গেছি। কোনদিন কিছু দেবার সুযোগ পাইনি।
কিছুকাল আগের কথা। এখানে মানে আমেরিকাতে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখছিলাম তার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা ভিডিও। হঠাৎ করে একজনকে দেখে চমকে উঠি। কে এই লোকটি? আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছে? কে এই লোকটি যার ভুরু জোড়া কুঁচকে আছে? কে এই লোকটি যার কথা বলার সময়ে চোখ জোড়া নেচে উঠছে?
বন্ধুটি আমার অখন্ড মনোযোগ দেখে ঠাট্টা করলো,"কি ব্যাপার নিজের চেহারা দেখে একদম মোহিত হয়ে গেলেন মনে হচ্ছে।"
এই লোকটি আমি? আশ্চর্য্য! বড়ই আশ্চর্য্যের ব্যাপার।
সেদিন সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি পা টিপে টিপে ক্লোজেট থেকে বাবার পুরনো শালটি বের করি। তারপর সেটিকে গায়ে জড়িয়ে বাথরুমের আয়নার সামনে দাঁড়াই। সামনের দিকে তাকিয়ে আবার আশ্চর্য্য হই।
আয়নার ওপাশে দাঁড়িয়ে ও কে? কুঞ্চিত ভুরু, মাথায় পাতলা হয়ে আসা চুল, কে ওই মানুষটি? মহামতি হিটলার?
জীবনের একটি দীর্ঘ সময় ধরে আমায় পালাতে চেয়েছি বাবার কাছ থেকে। রহস্যময় বিধাতা আজ সেই বাবাকে আমার মুখের উপর বসিয়ে দিলেন। দীর্ঘ দৌড় শেষে আমি দেখতে পেলাম যে আমি শেষমেশ আমার উৎসেই ফিরে এসেছি। আয়নাতে জনাব হিটলার একটু মুচকি হাসেন। "আমিই কি তাহলে জিতলাম?"
আশ্চর্য্যের ব্যাপারটি হচ্ছে এই যে হেরে গিয়ে আমার বিন্দুমাত্র রাগ হয়না। আমার ভিতরটাতে খেলা করে একঝাঁক সোনালী আনন্দ। আমি আয়নার মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলি,"থ্যাংক ইউ, বাবা। আই এ্যাম গ্ল্যাড দ্যাট ইউ কেইম ব্যাক। ওয়েলকাম টু ইওর নিউ হোম।"
বাথরুমের আলো নিভিয়ে দিয়ে আমি বিছানায় ফিরে যাই। আজ আমি বড় সুখী একজন মানুষ, বড় তৃপ্ত একজন মানুষ। বাবা আমার সাথেই আছেন। মহামতি হিটলার এখন আমার ভিতরেই বসবাস করেন।
মনে পড়ে প্রিয় কবিতার একটি পংক্তি।
"যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।"
কি ভয়ানক সত্যি কথা!
শেষ পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অমিত বলেছেন:
এখন পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ পর্ব
লেখক বলেছেন: আর হিটলারের ছবি দেখতে হবেনা।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
"যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।"একটা কথাই বলব, অসম্ভব ভাল লাগল।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
অমিত বলেছেন: এখন পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ পর্ব
লেখক বলেছেন: আশাকরি আমি আপনার বেশী মন খারাপ করিয়ে দেইনি।
লেখক বলেছেন: থ্যাংক ইউ, পিচ্চি!
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
"বলোতো আমি তোমার কে হই?"
"ছেলে।"
-------
পুরোটাতেই কেঁপেছি ! এ দুটো লাইনে আমার কাঁপন থমকে গেছিল !! যেন সত্যতম স্বীকৃতি ।
অমোঘ নিয়তি, সবারই বাবা মা একদিন থাকবে না । খুব বিষণ্ণ হলাম ।
লেখক বলেছেন: "অমোঘ নিয়তি, সবারই বাবা মা একদিন থাকবে না"। আপনার সাথে একমত হবেন সবাই। কিন্তু যখন তাঁরা আমাদের মাঝে থাকেন, তখন আমরা কি তাঁদের মূল্যটি বুঝতে পারি?
লেখক বলেছেন: লিখতে ইচ্ছে হয় বলে মাঝেমাঝে কিবোর্ড ঠোকাঠুকি করি। বই-টই যদি কোনদিন হয়, তো হবে।
লেখক বলেছেন: আপনাদের মন্তব্যগুলোই তো আমাকে ঠেলছে লেখার জন্য। আমি ভয়ানক আলসে টাইপের লোক।
রাশেদ বলেছেন:
কিছু বলার নাই।
নীল েঢউ বলেছেন:
বিবর্তনবাদী বলেছেন: অমিত বলেছেন: এখন পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ পর্ব
লেখক বলেছেন: আপনাকে, বিবর্তনবাদীকে এবং অমিতকে ধন্যবাদ।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
অসাধারন।এত ভালো লাগল বলার মত না।
আপনার লেখা পড়ে আমি কম্পিউটারের স্ক্রীনে আমার বাবাকে দেখতে পাচ্ছিলাম।
আপনার লেখা পড়ে বাবাকে নিয়ে লিখতে উৎসাহিত হচ্ছি। দেখি এখন একটু ব্যস্ততায় আছি সামনে সময় করে লিখব।
অনেক ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
টংকেশ্বরী বলেছেন:
নাটকীয়তায় ভরপুর চমৎকার একটি episode. ভালো লেগেছে খুব।
লেখক বলেছেন: শুনে ভাল লাগলো।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
সবগুলো পড়িনি। যতগুলো পড়েছি খুব ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: দেখি এখন আর কি নিয়ে লেখা যায়।
একজন বলেছেন:
চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলামনা...গত পর্বে বোকার মত প্রশ্ন করার জন্য নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছ..
লেখক বলেছেন: ছি-ছি- নিজেকে অপরাধী ভাবছেন কেন? আপনিও আর আগে থেকে জানতেন না যে কি হবে।
লেখক বলেছেন: থ্যাংক ইউ। জেনে ভাল লাগছে।
লেখক বলেছেন: আমার অনুভূতির অংশীদার হওয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।
রেফাত বলেছেন:
নির্বাসিত দাদা,অনবদ্য লিখা। আমার একদিন পুরোপুরি মাটি করে দিলেন। কই যে হারিয়ে গেল মনটা। এই তো বেশিদিন আগে নয়। বাবাকে নিয়ে গিয়েছিলাম ব্যংকক। চেক আপ করে ডাক্তার বলল করতে হবে বাইপাস। আমার ডাক্তার বাবা কিছুতেই ওখানে বাইপাস করতে রাজী হলেন না। বললেন আমরা ডাক্তারেরা যদি এইসব অপারেশন বিদেশে করাই তাইলে সাধারণ মানুষ ভরসা পাবে কেমনে? এইসব এখন রুটিন অপারেশন। ঠিক হলো দেশেই সার্জারী হবে। আব্বুর ছাত্রই সার্জারী করবেন। হাসিখুশী মানুষ। অপারেশন এর আগের দিন আব্বু চাইলেন আমি যাতে উনার সাথে থাকি। সকালে ওটি তে নেয়ার সময় মাথায় হাত রেখে দিলেন কিন্তু এক অদ্ভুত কারনে চোখে চোখে তকালেন না। আমি তাকাতেই চোখ নামিয়ে নিলেন। হাসিখুশী ডাক্তার সাহেব বললেন নিশ্চিন্ত থাকো ভাই। ২ ঘন্টা এর মামলা। সেই ডাক্তার ১২ ঘন্টা পর আমার হাত টি ধরে বললেন ভাই আমি স্যরি। স্যারের জন্য আমার আর কিছুই করার নেই। বলে উনিও কেদে ফেলেন।
এক শূন্যতা আমাকে গ্রাস করেছিল।
নির্বাসিত দা। আজ ২ বছর পর আবার সেই শূন্যতা পুরো মাত্রায় অনুভব করলাম। তাই এই লম্বা কিচ্ছা ফেদে বসলাম। সত্যি অনবদ্য লিখা। অন্তর ছুয়ে যায়।
লেখক বলেছেন: আপনার বাবার মৃত্যুর কথায় আমিও দুঃখ পেলাম।
আমার লেখাতে আমি যে কথাটি বলতে চেয়েছি তা হোল যে বাবা-মায়েরা মারা গেলেও তারা কি একেবারেই চলে যান? আসলে বোধহয় তা নয়। তাঁরা রয়ে যান আমাদের ভেতর, আমাদের চলনে ও বলনে, আমাদের মুল্যবোধে, আমাদের নীতিমালায়, আমাদের জীবনযাত্রায়।
আমি আজকাল বাবাকে খুব বেশী মিস করিনা। তিনি আমার ভেতরেই আছেন, এটা বেশ ভাল ভাবেই টের পাই।
আপনিও তেমনি আপনার বাবার (এবং মায়ের) সবকিছুরই উত্তরাধিকারী। চিন্তা করলে আপনিও আপনার ভেতরে পেয়ে যাবেন আপনার বাবাকে।
আপনার জীবন শুভ হোক। লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
অসাধারণ লেখা ... অসাধারণ ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, বাদশা ভাই।
অরণ্য প্রভা বলেছেন:
‡jv †jLv Avkv KiwQ|
লেখক বলেছেন: ঠিক বুঝলাম না।
নাহরিন জফির বলেছেন:
যখনি আপনার লেখা পড়ি.....সেই অনুভূতি প্রকাশ করব কিভাবে?ক্ষমা করে দেবেন আমাকে নিশ্চয়....নিজের একান্ত কষ্ট জানাতে মন্তব্য বড্ড লম্বা হয়ে গেল।আমার আব্বু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত।কেজি ক্লাসে পড়া আমি ,আমার ছোট ভাই '৮৭ এর ১৬ অক্টোবর কি ভীষণ অপেক্ষায় ছিলাম আব্বুর আসার.....কিন্তু ঝড়ের মতো ফোন এল,আম্মুকে যেতে হবে ঢাকা মেডিকেলে....সকালে ফোন.....বিকেলে আম্মুকে আব্বুর শেষ প্রশ্ন.....আমার মেয়ে কোথায়?
আব্বুর বুকে এত্ত ভালবাসা ছিল বলেই কি হৃৎপিন্ড বড্ড তাড়াতাড়ি ছুটি নিল?
আজ ভাইয়ার হাঁটায়,কথা বলায় যেন আব্বুকে দেখতে পাই....D.U. campus এ যখন কেউ বলেন তুমি Sir এর মেয়ে না?.....মনে হয় ...তাই তো....আব্বু আছে.....সবসময়...
আশীর্বাদ করবেন যেন আব্বু-আম্মুর স্বপ্ন সফল করতে পারি।
আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধাণ্জলী।
লেখক বলেছেন: মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যে বাস্তবের বাবা-মায়ের চেয়ে অন্তরের বাবা-মায়েরা অনেক বেশী শক্তিশালী। কামনা করি আপনি আপনার বাবা-মায়ের স্বপ্নের চেয়েও বড় হন।
লেখাটি পড়ে আপনার ভাল লেগেছে এটা জেনে সুখী হ'লাম। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রাশেদ বলেছেন:
অসাধারন সিরিজ ছিলো এইটা। বেস্ট পর্ব।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, রাশেদ। এই পর্বটি লিখবার সময় আমি নিজেও যথেষ্ট আবেগকাতর হয়ে পড়েছিলাম। তার কিছুটাও যদি লেখাতে তুলে আনতে পেরে থাকি তাহলেই আমি সার্থক।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

















