সর্বদাবেলায়েত লিখিত একটি পোস্ট চোখে পড়লো। তিনি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। লেখাটি পড়ে মনে পড়লো নিজের ছাত্রজীবনের কথা, মনে পড়লো বন্ধুদের কথা, মনে পড়লো শিক্ষকদের কথা। আনমনা হয়ে গিয়েছিলাম সেদিনের কথা ভাবতে ভাবতে। সামনে রাখা সাদা কাগজে আঁকিবুকি কাটতে কাটতে মনে হোল, আচ্ছা আমিও দু কলম লিখে ফেলি না কেন? পরের মুহুর্তে আবার নিজেই হেসে ফেলেছিলাম। কেন লিখবো? কি লাভ? কে পড়বে? কেন পড়বে? আমি একজন আম-পাবলিক, আমার জীবনের কথা বা আমার আশপাশের মানুষের কথা শোনার সময় কোথায় অন্যলোকের?
পরক্ষণেই আর একটা চিন্তা মাথায় এলো। অনেক কিছুই আজকাল ভুলে যাচ্ছি। লিখে রাখলে জিনিসটা থাকলো। আমিই না হয় একসময় পড়বো, যখন মাথার মধ্যে আর কোন কিছুই থাকবে না। বেভুল মানুষের মতই নিজের লেখা পড়ে হয়তো ভাববো, আহা কে এই মানুষটি?
সেই নিয়তেই কি-বোর্ডের সামনে বসেছিলাম। ভেবেছিলাম টুকিটাকি কিছু স্মৃতিকে ধরে রাখি অল্প কিছু কথায়। কিন্তু লিখতে বসে দেখলাম অল্প কথায় সবার কাহিনী বলা যাচ্ছেনা। অগত্যা, কাহিনীর কলেবর বেড়ে গেল (যাকগে-আমাকে তো আর কাগজ-কালি কিনতে হচ্ছেনা)। কিন্তু ঝামেলা বাঁধলো অন্য জায়গায়।
খেয়াল করলাম যে কিছু কিছু ব্লগার আমার লেখালেখিকে তাদের নিয়মিত পড়ার তালিকায় রেখেছেন, এবং তারা আমাকে আরো উৎসাহ দিচ্ছেন আরো লেখার জন্য, এবং আরো দ্রুত লেখার জন্য। আমি এসেছিলাম মৃদুমন্দ পায়চারী করার গতিতে, তারা চাইলেন আমি যেন একই সাথে দ্রুত গতির স্প্রিন্টার এবং দীর্ঘ সময়ের ম্যারাথন রানার হই। এ আমি কিসের মধ্যে পড়লাম?
আপনারা যদি জানতে চান কারা আমাকে নিয়মিত চাপের মধ্যে রেখেছিল, তবে বলি এরা হচ্ছেন মেহরাব শাহরিয়ার, ফারহান দাউদ, মুকুল, রাশেদ, বিবর্তনবাদী, অ্যামাটার, নরাধম, মোস্তফা মনির সৌরভ, ভাইটামিন বদি, মেন্টাল, লাল দরজা, রাগ ইমন, অলৌকিক হাসান, খোলাচিঠি, আলী, সাধারণ, বিহংগ, ৃৃমম, রাতুল, পজিটিভ, শফিউল আলম ইমন, মিরাজ, ফাহমিদুল হক, হাসিব, আবদুর রাজ্জাক শিপন, অমিত, আদনান, কালবেলা, না বলা কথা, নাদান, জ্বিনের বাদশা এবং আরো অনেকে।
এনারা প্রথমে দিলেন উৎসাহ, পরে মৃদু অনুরোধ, তারপর দাবী, এবং এমনকি দু একজন আন্দোলন করবারও হুমকি দিয়েছিলেন। লেখা চাই, আরো লেখা চাই, আরো দ্রুত লেখা চাই।
আমি ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। বেশী বেশী টাইপ করার দরুন হাতের আঙ্গুলে ব্যথা করা শুরু করলো। যাই হোক- একদিন শেষ হোল সব কিছু। শেষ পর্বটি লিখে ফেললাম।
তারপর গোটা সিরিজটির দিকে তাকিয়ে তো আমার চোখ চড়কগাছ। কুড়ি পর্ব লিখে ফেলেছি আমি! কখন করলাম এত কিছু? আমি যে আলসে মানুষ, বাথরুমে টয়লেট পেপারের রোল বদলাতেই সাতদিন লাগে আমার। আমি কিভাবে এতগুলো পর্ব লিখে ফেললাম? এটা নিশ্চয়ই কোন ষড়যন্ত্র, কেউ আমাকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিয়েছে।
কারা সেই দুর্বৃত্ত? কারা আমার অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে আমাকে দিয়ে লিখিয়েছে এই সব? এদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া দরকার। আসামীদের তালিকা উপরে রয়েছে। এদের নামে অভিযোগ গুরুতর। অভিযোগের প্রাথমিক খসড়া তালিকা নিচে দেওয়া হোল।
(ক) এরা "নির্বাসিত" নামের একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে এবং তার লেখাকে ভালবেসেছে।
(খ) সেই ভালবাসার দাবীতে তারা ছলে-বলে-কৌশলে নির্বাসিতকে এইসব ছাইপাঁশ লিখতে বাধ্য করেছে।
(গ) এদের দাবী মানতে গিয়ে নির্বাসিতের বহুপুরানো 'অলস' এবং 'গুড ফর নাথিং' সুনামগুলি আজ বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
(ঘ) এদের দাবীর জন্যে নির্বাসিতকে কাজকাম বাদ দিয়ে বসে বসে পুরনো দিনের ঘটনা চিন্তা করতে হয়েছে।
(ঙ) লেখা পোস্ট করতে দেরী হলে এরা বিভিন্ন ভাবে চেঁচামেচি করেছে।
(চ) সিরিজটি শেষ হবার পরে তারা বই আকারে সিরিজটি প্রকাশ করার জন্য নতুন বায়না ধরেছে।
(ছ) সিরিজটি শেষ হবার পরে তারা নতুন সিরিজ লেখার জন্য আবদার জুড়েছে।
এদের আশু বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এদের মত এত ভালবাসাময় মানুষ সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



