বাবা, মায়ের শখের কিছু কিছু জিনিস সন্তানদের মধ্যেও চলে আসে অনেক ক্ষেত্রে অবচেতনভাবেই। ধীরে ধীরে সেটা প্রকাশ হতে থাকে।
ছোটবেলায় দেখতাম মা যেখানেই যান, কোনো ফুলের গাছের দোকানেই হোক আর পরিচিত কারো বাসায়ই হোক, সেখানে যদি তার পছন্দের ফুলের গাছ দেখতে পান..সেটা কিনে হোক আর চেয়ে হোক নিয়ে এসে বাসায় লাগিয়ে দিবেন। বাবাও কম যান না, কৃষিবীদ হওয়ায় তিনিও নানারকমের ফল গাছের কাটিং, কলম করে লাগান।
বাসার সামনে বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকার ফলে, মা লাগান নানান রকম ফুলের গাছ আর বাবা লাগিয়েছিলেন হরেক রকম ফলের গাছ। এমন কোনো ফল ছিলোনা যে ঐ ছোট্ট বাগানটায় ছিলো না। লেবু থেকে শুরু করে ডালিম, জামরুল, নারিকেল, বরই, কাঠাল সবই ছিলো। আমগাছও লাগিয়ে ছিলেন, কিন্তু আম গাছটা কেনো যেনো বাঁচলো না। শেযে এমন অবস্থা যে পুরো বাসাটাই গাছপালা দিয়ে ঢেকে গেলো। কেউ হয়তো বাসাটা চেনে কিন্তু জানেননাযে আমাদের বাসা। ঠিকানা দেবার পরে বলে, ও চিনিতো...ঐ জঙ্গলে ঘেরা বাসাটা!!
এই গাছপ্রীতি আমার মধ্যেও ঢুকে গেছে...দেশে থাকতে আমার খুব সুন্দর কিছু ক্যাকটাস ছিলো ফুল সহ...আরও ছোট ছোট কিছু গাছ ছিলো পছন্দের..ওগুলো আমার ঘরের জানালায় থাকতো। দেশ ছেড়ে চলে আসার সময় ওদের জন্য বেশ কস্টও পেয়েছিলাম।
ভিনদেশে এসেও সেই প্রীতি একটুও কমেনি বরং বলা যায় আরও বেড়ে গেছে। যেখানে নিজেদের বাসস্থান কবুতরের ঘরের সাথে কোনো তফাৎ নেই, সেখানে অন্য কিছুর আর স্থান কোথায়। তারপরেও কয়েকটা অরনামেন্টাল প্ল্যান্ট ঠিকই কিছুটা জায়গা দখল করে নিল। কোথায় ওদেরকে স্থান দেই...ভাবতে ভাবতে শেষমেষ জুতার র্যাকের উপরে কিছুটা ফাঁকা জায়গা ছিলো, ওখানেই ওদের স্থান হলো। সারাদিন কাজ শেষে ফিরে, ক্লান্তিতে আর বাসার কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করে না। তবুও টুকটাক এটা সেটা করতে করতে ওদের কাছে যাই। একটু পানি দেই, হাত দিয়ে স্পর্শ করি..মরা পাতা গুলোকে ফেলে দেই...কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকি..দেখি কেমন একটু একটু করে প্রতিদিন বেড়ে উঠছে। ধীরে ধীরে ক্লান্তি কিছুটা কমে আসে।
এই এক চিলতে সবুজ কোনই আমাকে ফিরিয়ে দেয় কিছুটা সজীবতা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


