ঠিক এমনই এক বৃস্টির দিনে পৃথিবীতে আমার আগমন।
সেই দিন ছিলো ১৩ কি ১৪ই শ্রাবন।
আমার এক খালা তো আতুর ঘরেই নাম রেখে দিলেন শ্রাবনী।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এই নাম ধরে খালা ছাড়া আর কেউই ডাকে না।
নানার বাড়ী এক অজপাঁড়াগায়ে দাইমার হাতে জন্ম।
আমার মা বাড়ীর বড় মেয়ে তার সন্তান মানে বংশের প্রথম সন্তান, সবার আনন্দ উচ্ছাস তাই একটু বেশী।
গ্রামের আশেরপাশের মহিলারা দেখতে এসে একেক জনের একেক রকম মন্তব্য, কেউ বলছে এত ছোট গ্যাদা..বাচপিনানে।
মায়ের মন সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা শুনে দুরু দুরু কেপে উঠে..কান্না সামলাতে পারেন না।
বাবা শহরে চাকুরী করেন, সন্তানের ভূমিস্ঠের খবরে ছুটে এলেন গ্রামে...
আমাকে কোলে নিয়ে ঘন্টা খানেক নাকি একভাবে মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন...আমার মাঝে তার হারানো মাকে খুঁজে পেতে....
বাবা তার মাকে হারিয়েছেন ২য় শ্রেনীতে পড়ার সময়....
দাদা মারা গিয়েছেন বাবা কলেজে পড়ার সময়...
দাদা, দাদীর আদর কি জিনিস সেটা কখনও আমাদের জানা হয়নি...
মাসখানেক পড়ে আমাকে নিয়ে মা দাদাবাড়ীতে গেলেন চাচা, চাচী আরও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করতে...
দাদাবাড়ী সেই চলনবিলে...পুরো বিল পাড়ি দিয়ে যেতে হ্য়..
যেদিন আমাকে নিয়ে নৌকায় করে যাচ্ছিলেন...হঠাৎ করেই প্রচন্ড ঝড়বৃস্টি শুরু হয়ে যায়....
নৌকা প্রায় উল্টে যাবার দশা...মা তো ভীষন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন....
তার এই ছোট বাচ্চাকে এত পানিতে কিভাবে বাচাবেন....
সেইযাত্রায় করুনাময়ের রহমতে কোনোরকমে রক্ষা পেয়েছিলেন...
তারও কয়েক মাস পরে মা আমাকে সহ বাবার কাছে চলে গেলেন....আস্তে আস্তে আমিও ব্ড় হতে থাকলাম....
নবম শ্রেনীতে মেট্রিকের রেজিস্ট্রেশনের সময় ক্লাসে বসেই ফরম পূরণ করছি...জন্ম তারিখ লেখার সময় ক্লাস আপা বললেন ১৬ বছর না হলে কিন্তু মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়া যাবে না...
কি হিসাব করলাম আল্লাহই জানে...বয়স দেখি ১৬ বছর হয়না....
আপাকে বললাম, আপা বয়স কি এক বছর বাড়িয়ে দিবো...
আপা বললেন গাধা বাড়ায় দিবি কেন যেটা আছে ঐটাই দে...আমিও আমার একদম সত্যিকারের দিন সহ বছর দিলাম...তখন কি জানতাম যে ঐটাই সারাজীবনের সার্টিফায়েড বয়স...বান্ধবীরা দেখি কিভাবে কিভাবে যেনো এক, দুই বছর কমিয়ে দিয়েছে...
যাক আমি আমার আসল জন্মদিন সার্টিফিকেটে পেয়ে খুশি...ব্যাপারটা আমার কাছে ভালোই লাগে...
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


