somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারবিহীন বিদ্যুৎ - কল্পনা নয় বাস্তব!!!

০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়্যারলেস রিচার্জিং বা তারবিহীন প্রক্রিয়ায় ল্যাপটপ বা সেলফোনে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ অথবা ব্যাটারি রিচার্জ করার পন্থা উদ্ভাবন নিয়ে প্রযুক্তিবিদরা কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই ৷ চূড়ান্ত সাফল্য এখনো আসেনি ৷তবে তাদের দাবি এ কাজটিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার খুব কাছাকাছি চলে গেছেন তারা ৷ শেষ পর্যন্ত যদি সাফল্য ধরা দেয় তাহলে যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে তারের মাধ্যমে ব্যাটারি রিচার্জের সুযোগ নেই অথবা ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে ওয়্যারলেস রিচার্জিং ব্যবস্থায় ল্যাপটপ, সেলফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে ৷ চার্জার, তার এবং সকেটের আর প্রয়োজন থাকবে না ৷



এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তিবিদরা চোখ বন্ধ করেই দেখতে পাচ্ছেন আগামী দিনের ল্যাপটপ, সেলফোনসহ সব ইলেকট্রনিক যন্ত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে ওয়্যারলেস রিচার্জিং প্রযুক্তিতে ৷ বৈদ্যুতিক সকেটে প্লাগ ঢোকানোর দরকার হবে না ৷ তারা একে বলছেন ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি ।


ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পর সান ফ্রান্সিসকোতে ইন্টেল করপোরেশনের গবেষকরা ২০০৮ এর ২১ আগস্ট এই প্রযুক্তির সাফল্যজনক ব্যবহার দেখিয়েছেন ৷ তারা ওয়্যারলেস প্রক্রিয়ায় ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব জ্বালিয়েছেন যার বিদ্যুৎ উৎস ছিল তিন ফুট দূরে৷ কোনো বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ছিল না ৷ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় তারা ছিল ৷ একদিকে বৈদ্যুতিক বাল্ব, মাঝখানে তিন ফুট ফাঁকা, এর পর বিদ্যুতের উৎস ৷ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেছে ৷ এক্ষেত্রে বিদ্যুতের সিস্টেম লস হয়েছে এক-চতুর্থাংশ ৷



ইন্টেলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জাস্টিন এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন,

ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে তিন ফুট দূরে থাকা ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব জ্বালাতে পারা এ পর্যায়ে নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য ৷ তবে এ গবেষণা আরো এগিয়ে নিতে হবে, যাতে সিস্টেম লস না থাকে । অর্থাৎ তারবিহীন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে পুরো বিদ্যুত্টাই যেনো ব্যবহার করা যায়৷ এতে কেবল ল্যাপটপ এবং সেলফোন ব্যবহারকারীরা যে লাভবান হবেন তা নয়, সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে ৷ তখন তারবিহীন বিশ্বের যে স্বপ্ন প্রযুক্তিবিদরা লালন করছেন তা বাস্তবে রূপ পাবে ৷

ওয়্যারলেস রিচার্জিং বিষয়টি অলৌকিক কিছু নয় ৷

এটি মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের বিষয়৷ এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের কিছু মৌলিক তত্ত্বের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে মাত্র৷ একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ইলেকট্রিক কয়েল একে অপরের কাছ থেকে দূরে থেকেও বিদ্যুৎ পরিবহন অর্থাৎ ট্রান্সমিট করতে পারে৷ তবে একথা সত্য যে ওয়্যারলেস রিচার্জিং ব্যবস্থা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী করার আগে আরো বহু পথ পাড়ি দিতে হবে৷ যদিও রাটনারের বিশ্বাস আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি পৌঁছে যাবে ঘরে ঘরে ৷



জাস্টিন রাটনার বলেছেন,

ল্যাপটপ যাতে ওয়্যারলেস পাওয়ার বা বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পারে সে জন্য তারা ল্যাপটপ সংস্কারের চেষ্টা করছেন ৷ তিনি বলেন, ইন্টেল এ কাজের প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে৷ ভবিষ্যতে তারা এমন ল্যাপটপ তৈরি করবেন যা তারযুক্ত এবং তারবিহীন উভয় প্রযুক্তিতেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাবে৷ তবে এ ব্যাপারে প্রধান যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা হলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ করা ৷ কারণ এটি ব্যাটারির বাইরেও কমপিউটারের অন্যান্য অংশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে ৷

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক মেরিন সোলজাসিক বলেছেন,

তার দল গত বছর একটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকীতে এই ওয়্যারলেস রিচার্জিংয়ের বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায় ৷ তারা বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিতে অনেক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ৷ এর মধ্যে পেসমেকার এবং কৃত্রিম হৃদযন্ত্রে তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনার বিষয়টিও রয়েছে ৷ তারবিহীন বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সিস্টেম লস ৷


অর্থাৎ বিদ্যুৎ ট্রান্সমিট করার সময় এর বড় একটি অংশ হারিয়ে যায় ৷ এটা যাতে না হয় গবেষকরা এখন তা নিয়েই কাজ করছেন ৷ এমআইটির গবেষকরা পুরো প্রযুক্তিটির নাম দিয়েছেন ওয়াইট্রিসিটি ৷ ওয়্যারসে এবং ইলেকট্রিসিটির যুগ্ম অবস্থান এটি ৷ এর আগে তারা চার্জিং কয়েল ব্যবহার করে ৭ ফুট দূর থেকেও বাল্ব জ্বালাতে সক্ষম হয়েছেন৷ অবশ্য দক্ষতার বিবেচনায় এটি ৪০/৪৫ শতাংশ ৷ এর অর্থ বিদ্যুতের একটা বড় অংশই বাল্ব জ্বালানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে না, বরং হারিয়ে যাচ্ছে৷

কিন্তু এখন এ কাজে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন সোলজাসিক৷ তিনি বলেন, ইন্টেল যে ডেমো দেখিয়েছে তার দলের সাফল্য তার চেয়ে বেশি ৷ তবে ইন্টেলের মতো বিশ্বের বৃহৎ কমপিউটার চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যে এমন একটি প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এবং সার্বিক সহায়তা করতে তার জন্য সোলজাসিক সন্তোষ প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, এ ধরনের একটি প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে চাঞ্চল্যকর৷ মানুষ অবশ্যই এ প্রযুক্তি চাইবে ৷ এখন প্রশ্ন হলো, সত্যি এ ধরনের প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ সম্ভব, নাকি নয়? সার্বিক গবেষণা বিশ্লেষণে এ কথাটাই এই মুহূর্তে বলা যায়, দিনকে দিন এই প্রযুক্তিটি কল্পনা থেকে বাস্তবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৷

সান ফ্রান্সিসকোতে ইন্টেল ডেভেলপার ফোরামের গবেষক অ্যালানসন স্যাম্পল তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ব্যবহার প্রদর্শন করেছেন৷ তিনি দেখিয়েছেন তিন ফুট দূর থেকে তারবিহীন প্রক্রিয়ায় কিভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে বাল্ব জ্বালাতে হয়৷ তিনি জানান, এখন তারা কাজ করছেন ল্যাপটপ এবং সেলফোনের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্র কিভাবে রিচার্জ করা যায় তা নিয়ে৷ এ জন্য কয়েলের আকার ছোট করতে হবে, যাতে সেটি ল্যাপটপে বসানো যায়৷ এই ছোট করার কাজ ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে ৷ এটিই মূলত বিদ্যুৎ রিসিভারের কাজ করবে৷ এই কয়েল বসানো থাকবে মনিটর, ছবির ফ্রেম বা টেবিলে ৷ কিংবা এমন কোনো জায়গায় যেখানে থাকলে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র রিচার্জ করতে সুবিধা হয়৷

এন্ডারলে গ্রুপের বিশ্লেষক রব এন্ডারলে বলেছেন,

বিশ্বকে পাল্টে দেয়ার মতো ক্ষমতা রয়েছে এই প্রযুক্তির ৷ আর আমরা ওয়্যারলেস রিচার্জিং প্রযুক্তি বাস্তবে হাতে পাওয়ার খুব কাছাকাছিই অবস্থান করছি ৷

ইন্টেলের আগে এমআইটির গবেষকরাই যে প্রথম ওয়্যারলেস রিচার্জিং নিয়ে কাজ শুরু করেন তা নয় ৷


ঊনবিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী নিকোলা টেসলা প্রথম দূরপাল্ল­ার ওয়্যারলেস এনার্জি ট্রান্সফারের বিষয়টি পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন ৷ কিন্তু অর্থাভাবে তার সে পরীক্ষা আর করা হয়নি৷ অন্যরাও এ বিষয়ে কাজ করেছেন ৷




যুক্তরাজ্যের কোম্পানি স্পাশপাওয়ার তৈরি করেছে ওয়্যারলেস রিচার্জিং প্যাড ৷এই প্যাডের ওপর ল্যাপটপ, সেলফোন, এমপিথ্রি প্লেয়ারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র রাখতেই চার্জ হয়ে যায়৷ এতে ব্যবহার হয়েছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ৷


সূএ:

১. কম্পিউটার জগত

২. wikipedia

৩. Forbes.com
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১:০০
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×