somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী বিচার বানচালের চেষ্টা ॥ ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা

২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুদ্ধাপরাধী বিচার বানচালের চেষ্টায় ঢালা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর তারই অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু কার্যক্রম। যেমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অথচ রক্ষণশীল এমন কিছু পত্রিকায় খুবই কৌশলে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। পশ্চিমা কিছু তথাকথিত সংগঠন কর্মী ও আইনজীবীও প্রশ্ন তুলছেন বিচারের জন্য তৈরি আইনানুগ বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে। এমনকি নিয়ম ভঙ্গ করে বিদেশী আইনজীবী চিঠি লিখছেন ট্রাইব্যুনালকে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। অন্যদিকে দেশের ভেতর যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে গাড়ি মার্চ করাচ্ছে দেশের প্রধান বিরোধী দল। এসব জনসভাতে যুদ্ধাপরাধীদের অনুসারীরা যোগ দেবার সুযোগ পাচ্ছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে। মুক্তির দাবি করা হচ্ছে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের। দেশ ও দেশের বাইরের এ তৎপরতা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছে দেশের সচেতন মহল এবং এসব কাজের ভেতর দিয়ে এটা স্পষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের নানামুখী অপপ্রচারে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করছে জামায়াতে ইসলামী। অপপ্রচার চালাতে বেছে নেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে। মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে বিশ্ব জনমত ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াতের প্রায় পুরো সহায়সম্পত্তি খরচ করা হচ্ছে। দি ইকোনমিস্ট ও দি নিউইয়র্ক টাইমসে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য প্রচার করানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখা। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে অপপ্রচার চালাতেই পরিকল্পিতভাবে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে আইনী লড়াইয়ে নামতে এক ব্রিটিশ আইনজীবীকে ভাড়ায় আনা হয়েছিল। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের অংশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর মতো বাংলাদেশের একটি বড় ইসলামিক দলের ৫ শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার পাঁয়তারা চলছে।
প্রায় ৪০ বছর আগের অপরাধের তদন্তও একতরফাভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মাওলানা সাঈদীর পৰে এক ব্রিটিশ আইনজীবী আইনী লড়াইয়ে অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দি ইকোনমিস্ট পত্রিকায় আভাস দেয়া হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বাংলাদেশের একমাত্র বড় ইসলামিক দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষনেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এসব নিছক অপপ্রচার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াতে ইসলামী কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে সারাবিশ্বে অপপ্রচার চালানো জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম মূল এজেন্ডা। এ খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে জামায়াত। মূলত আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে চাপে রাখতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিশ্ববাসীকে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করাতে নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তারই অংশ হিসেবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পৰে আইনী লড়াইয়ে নামতে ব্রিটিশ আইনজীবী কেডম্যানকে আনা হয়েছিল। ওই আইনজীবীকে জামায়াত মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে ঢাকায় এনেছিল। জামায়াতে ইসলামী আগ থেকেই জানত, ব্রিটিশ আইনীজীবী কোনক্রমেই বাংলাদেশের কোন আদালতে আইনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বিদেশী কোন আইনজীবীকে বাংলাদেশের কোন আদালতে আইনী লড়াই করতে হলে কিছু নিয়মকানুন মানতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে অবশ্যই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এৰেত্রে অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে ট্রাইবু্যনাল গঠন করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক মানের।
কিন্তু জামায়াত এ ট্রাইব্যুনলকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল হিসেবে প্রচার করে কৌশলী অবস্থান নেয়। জামায়াতের তরফ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ট্রাইবু্যনালে বিদেশী আইনজীবী থাকতে পারে। বিদেশী আইনজীবীকে কোন দেশের অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে আইনী লড়াই করতে হলে নিয়মকানুন মানতে হয়। জামায়াত তা প্রচার করেনি। অপপ্রচার চালাতে সুবিধা হওয়ার কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের পৰে আইনী লড়াইয়ে নামাতে বিদেশী আইনীজীবীকে ভাড়ায় আনে, যাতে বিদেশী আইনজীবী আইনী লড়াইয়ে অংশ নিতে না পারলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত অপপ্রচার চালাতে সুবিধা হয়। এমনকি ১৯৭৩ সালের আইন আন্তর্জাতিক মানের নয় বলেও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে গঠিত একটি বিতর্কিত ইসলামিক দল। স্বাধীনতার পর থেকেই এ দল নিজেদের পিঠ বাঁচাতে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জামায়াতে ইসলামী ও দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জঙ্গী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের একাধিক পরাক্রমশালী দেশের অন্তত শীর্ষ ৫টি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জামায়াত ও ছাত্রশিবির জঙ্গী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর গ্রেফতারকৃত আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোলস্না ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হত্যা, লুটপাট, অগি্নসংযোগ, ধর্ষণ, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৯
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×