somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টমের জন্য ভালোবাসা (পর্ব-২)

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

.....কারণ আমি যদি ওর মতো বিন্দুমাত্রও আন্দাজ করতে পারতাম যে ওর সঙ্গে এটাই আমার শেষ দেখা তাহলে আমি কখনো ওকে ছেড়ে যেতাম না-কখখনো না।

টমের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে আমি কষ্ট পেতাম ঠিকই-কিন্তু মেনে নিতাম।কিন্তু টমের মৃত্যু ছিল একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র যা আমি আজও মেনে নিতে পারিনি।ঢাকা থেকে ফিরে এসে সব শুনে আমি গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলাম।আমরা যেদিন ঢাকায় আসি সেই দিনই বিকালে কিছু সন্ত্রাসী টমকে ধরে নিয়ে যায় এবং টমকে জবাই করে ভুরিভোজের আয়োজন করে।সেই সন্ত্রাসীরা ছিল এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছেলেএবং তাদের বন্ধু-বান্ধব।আব্বুর কিছু কলিগও এর সঙ্গে জড়িত ছিল।আমাদের পারিবারিক সমৃদ্ধির প্রতি তারা ঈর্ষান্বিত ছিল।তারা চেয়েছিল আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলতে যাতে আমি আসন্ন বৃততি পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করি।তারা ভালো করেই জানতো টম আমার একটা অংশ।কোনোভাবে টমের ক্ষতি করা হলে আমার ওপর তার প্রভাব পড়বে ভয়াবহ।

টম মারা যাবার পর আমি ভীষণভাবে মুষড়ে পড়ি।সাতদিন কোন খাবারই মুখে তুলতে পারিনি।সারাক্ষণ টমের কথা ভাবতাম আর কাঁদতাম।কি স্কুলে,কি বাসায় কোন জায়গাতেই চোখের পানি বাঁধ মানতো না।শুধু মনে হতো আমার জন্য টমকে প্রাণ দিতে হয়েছে,আজো তাই মনে হয়।তবে আমার টিচার আর আব্বু-আম্মুর অক্লান্ত সহযোগিতার কারণে বৃততি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃততি পেয়ে শত্রুদের আশা পূরণ হতে দিইনি।আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমি শত্রুদের জিততে দেবো না।কারণ ওরা জিতলে আমার টম কষ্ট পাবে-আমি তা কিছুতেই হতে দিতে পারি না।

আমার স্কুলে যাবার পথে একটা হোটেল পড়তো।সেখানকার বাবুর্চি ভাইয়ের সঙ্গে আমার বেশ খাতির ছিল।সন্ত্রাসী ছেলেগুলো ওই বাবুর্চি ভাইয়াকে দিয়েই টমের মাংস রান্না করিয়েছিল।উনি অবশ্য জানতেন না যে ছাগলটা আমার।আমি আবার ঘটনাক্রমে ব্যাপারটা জেনে যাই।তারপরও তাকে ক্ষমা করে দিয়ে আগের মতোই আন্তরিক ব্যবহার করতে থাকি।যেদিন তিনি অন্যের কাছ থেকে পুরো ব্যাপারটা শোনেন এবং দেখেন যে সব কিছু জানার পরও আমি তার সাথে আগের মতোই আন্তরিকভাবে কথা বলি সেদিন তিনি ভীষণ অবাক হন।এরপর প্রায় এক মাস উনাকে আমি হোটেলে দেখতে পাইনি।হঠাত একদিন তাকে দেখি রিকশা চালাতে।

আমি অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন,যে হাতে আমি আপনার ছাগলের মাংস রান্না করেছি সে হাত দিয়ে আর কোনদিন কোনো কিছু রান্না করা আমার পক্ষে সম্ভব না।তার এই কথা শুনে সেদিনও আমি চোখের পানি আটকাতে পারিনি।মনে হয়েছিল,সমাজে যারা তথাকথিত উঁচুদরের মানুষ তাদেরই বিবেক বলতে কিছু নেই।আর সমাজের চোখে সামান্য বাবুর্চি ভাইয়ের মতো বিবেকের তাড়না কতোই দুর্লভ! সেদিন আমি বুঝেছি মনুষ্যত্ব আসলে সবার মাঝে থাকে না-সবাই অর্জনও করতে পারে না।

আটটা বছর পার হয়ে গেল-টমকে হারিয়েছি।কিন্তু টমের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আজো আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে।এখনো মনে হয় টমের শেষ মুহূর্তের কথা।অনুভব করি ওর কতোই না কষ্ট হয়েছিল!টম নিশ্চয়ই শেষ মুঞূর্ত পর্যন্ত আমার জন্য অপেক্ষা করেছিল।আশা করেছিল তার বোন যে করেই হোক টম ভাইকে বাঁচাতে আসবে।কিন্তু আমি পারিনি-পারিনি ওকে বাঁচাতে।

আজো রাতের আকাশে হাজারো তারার মাঝে আমি টমকে খুঁজে বেড়াই।আজো ওর কথা মনে করে হাউমাউ করে কাঁদি। মাঝে মাঝে ভাবি-টমেরও কি আমার জন্য কষ্ট হয়? টমও কি ওই দূর আকাশ থেকে আমাকে খুঁজে বেড়ায়??

হয়তো বা হ্যাঁ.......হয়তো বা নয়......।

বি.দ্র.-লেখাটি এ বছর যাযাদি ভালোবাসা সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। ২রা নভেম্বর আমার সেই কষ্টের দিন যেদিন আমি টমকে হারিয়েছিলাম।তাই সবার সাথে আমার কষ্টটুকু ভাগ করে নিতেই লেখাটি ব্লগে পোস্ট করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১২
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×