সিনিয়রদের উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ঘোষণা করায় দলে নবীন-প্রবীণের মধ্যে লড়াই অনেকটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফের ভারপ্রাপ্ত আমির ও সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে দলের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছয় মাসের বেশি কারাগারে থাকলে আমিরের পদ হারাবেন। ছয় মাসের বেশি মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি দলের আমিরের পদে থাকবেন না। দলটির গঠনতন্ত্রের ১৫(৬) ধারা অনুযায়ী 'আমিরে জামায়াত যদি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তা হলে তিনি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পরামর্শে নায়েবে আমিরদের মধ্য থেকে একজনকে ওই সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ করবেন।'
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির হয়েছেন দলের নায়েবে আমির মকবুল আহমাদ। বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত আমিরের নাম ঘোষণা করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের নাম। জানা গেছে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত করে গেছেন দলের আমির।
এদিকে সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফকে ডিঙিয়ে মকবুল আহমাদকে ভারপ্রাপ্ত আমির করায় দলটির মধ্যে নবীন-প্রবীণের লড়াই অনেকটা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ মুক্তিযুদ্ধের সময় দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর তাঁবেদার গভর্নর ডা. মালেকের মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন। স্বাধীনতার পর দালাল আইনে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। দুই বছর জেলও খাটেন তিনি। পরে দালাল আইন বাতিল হলে মুক্তি পান। সেই তুলনায় স্বচ্ছ মকবুল আহমাদ। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নেই। সেই সব কারণেই আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফকে টপকে দলের ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ করা হয় মকবুল আহমাদকে।
ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হতে পারেননি দলের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই তাকে বাদ দিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল করা হচ্ছে। আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা আজহারুল ইসলামের থেকে সিনিয়র হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকেও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত আমির ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল কে হবেন তা দলের আমির মাওলানা নিজামী গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ঠিক করে গেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


