আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিভাবকত্ব নিয়ে যা-ই বলা হোক, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগকেই তাদের অভিভাবক বলে মানছে।
সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের একথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও একই কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন নয়। কিন্তু উভয়পক্ষই আমরা একই নেতা এবং নেত্রীর নামে স্লোগান দেই। আইন যা-ই বলুক, জনগণও বিষয়টি বিশ্বাস করে না যে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের কেউ নয়।
সুতরাং দায়ভার এড়ানোর কোনো সুযোগ নাই।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড একেবারেই ভেঙে পড়েছে। সংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি কার্যকর আছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের চেয়ে জেলা-উপজেলা শাখার নেতাদের বয়স অনেক বেশি। ফলে কেউ কাউকে মানছে না।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিগত দেড় বছরে ছাত্রলীগ থেকে প্রায় পৌনে ৩শ নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার দুগ্র“পে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় যে ১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মিলে করেছেন।
জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ এবং সম্মেলন অনুষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে হওয়ার কথা। কিন্তু তাও তারা জানেন না।
যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের কারণে শেখ হাসিনাকে ছাত্রলীগ ছাড়তে হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আমিনুল হক কবিরকে না জানিয়েই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর সোমবার রাতে কবির এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির মধ্যে মোবাইল ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় পর্যন্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯টি জেলার সম্মেলন হয়েছে।
প্রায় সবগুলোতেই ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদককে অতিথি করা হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



