ফিৎরা নিয়ে ফাতরামি
এইবারে দেশে কি শুরু হয়েছে আমি ঠিক ক্লিয়ার না।
ফিৎরা নিয়ে আমাদের হুজুররা এইবারে এমন দ্বিধা বিভক্ত কেন?
প্রথমে একটা ফিৎরার হার বলা হল, জন প্রতি ১০০ ( একশত ) টাকা মাত্র। পরের দিনই সারা দেশে শোরগোল পড়ে গেল। কি হয়েছে, কি হয়েছে? আরে না, ফিৎরা এক লাফে একশ’ টাকা হয়ে গেছে!
মনে হল যেন ফিৎরাদাতাদের এই বার ফিৎরা নিতে দ্বারে দ্বারে যেতে বাধ্য করছে সরকার।
গত শুক্রবারে মসজিদে জু’মার খুৎবার আগে মৌলানা সাহেব বয়ান করে বললেন পৃথিবীর কোন দেশেই চালের মূল্য ধরে ফিৎরা দেওয়া হয় না। অথচ ‘আমাদের সময়’-এর সর্বনিম্ন ফিৎরা ৪৫ ( পয়তাল্লিশ ) টাকা নির্ধারন করার খবরের নীচেই ছিল সৌদি আরবসহ অনেক মুসলমান দেশেই চালের মূল্যকে ভিত্তি ধরে ফিৎরা নির্ধারন করা হয়।
ফিৎরা হিসাবে খুব সম্ভবত ওই জনপদের লোকের প্রধান খাদ্যকে আমলে নিতে হয়। আরব দেশে গম বা আটাই ছিল প্রধান খাদ্য। তাই গম বা আটার মূল্যকে ভিত্তি ধরে ফিৎরা নির্ধারন করা হয়েছে। বৃটিশদের সময়ে দেওবন্দি মৌলানারা আর তথাকথিত ইসলামের ধ্বজাধারীরা গম আর আটাকে ভিত্তি ধরে ফিৎরার হার নির্ধারন করে এসেছে এতকাল। কেননা তাদের অঞ্চলে আটাই ছিল মূল খাদ্য। কিন্তু ভেতো বাঙ্গালী মৌলানারা দেওবন্দে পড়াশুনা করে ভেবেছে ওই গম বা আটাই ফিৎরার ভিত্তি হতে হবে। তাদের মাথা ওয়াশ দিয়ে সাদা করে তাতে আরব দেশের এক অলীক স্বপ্নের কাহিনী ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
যাই হোক, এর পর থেকে আমাদের বড় মৌলানারা যারা বেশি ইসলাম ইসলাম করে থাকেন, তারা দেশ স্বাধীন হবার পরে অনেক বড় ‘হুজুর’ হয়ে গেলেন। তারা এতকাল ধরে গমের মূল্যকে ভিত্তি ধরে ফিৎরার হার নির্ধারন করে আসছিলেন। কিন্তু চাল আমাদের প্রধান খাদ্য হওয়া সত্বেও তাকে ভিত্তি ধরে এতকাল ফিৎরার হার নির্ধারন করা হয় নাই।
এই বারে চালের মূল্যকে ভিত্তি ধরে ফিৎরার হার নির্ধারন করায় অনেক মৌলানাই রাগান্বিত হয়েছেন, কূপিত হয়েছেন। তাদের কথা হল গমের মূল্যের ভিত্তিতেই ফিৎরা দিতে হবে। না হলে মনেহয় অ-ধর্ম হবে, অনাচাআর হবে।
শেষ কথাঃ
নিশ্চয় ইসলাম কঠোর ধর্ম বিধান আরোপ করে না, আর আমাদের মৌলানাদের মত কোন স্থির ও নিশ্চল বিধানের পক্ষে কথা বলে না। ইসলাম ধর্ম পালনকারীদের সুবিধাই দেয়, অসুবিধা সৃষ্টি করলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হবে কি করে?
তাই আমাদের সামান্য বুদ্ধি দিয়ে আসুন বিচার করি এইবারে ফিৎরা আসলে কত হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


