somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাসপোর্ট পুলিশ দিবে না কেন, নাকি বাংলাদেশে পরিবর্তন হয়ে গেছে?

০১ লা আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অতি সম্প্রতি একটা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসে গেলাম। সেখানে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন কাজকর্ম সেরে গিয়েছিলাম। পূরন করা ফর্ম নিয়ে, ব্যাংকের জমার রশিদ নিয়ে গিয়েছিলাম। আর্মির লোক ছিল বলেই মনে হয় একটু ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে বলে মনে হল।

যাই হোক, তারা আমার কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হল যে আমি ঠিক ব্যক্তি। এর পরে আমাকে কাগজ নিয়ে কম্পিউটারে এন্ট্রি দিতে পাঠালো। সেখানে এক জায়গায় এন্ট্রি দিলাম, আরেক জায়গায় ছবি তুল্লাম। এর পরে একটা প্রিন্ট আউট দিল, যেখানে পাসপোর্ট দেওয়ার একটা তারিখ লেখা ছিল।

আমি নাচতে নাচতে বাসায় ফেরত আসলাম। ফেরার সময়ে দেখি এক কোনায় লেখা "পুলিশ রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে পাসপোর্ট দেওয়া হবে"।

ভালো কথা। আমার তো কোন সমস্যা নাই। পুলিশ বাসায় আসলে তো ভালো হয়, আমার কাজটা ঠিক মতোই হবে।

দিন যায়, রাত যায়। কিন্তু পুলিশ আর আসে না। ওইদিকে পাসপোর্ট দেওয়ার সময়ও হয়ে যাচ্ছে। আমি একটু টেনশনে পড়লাম। কিন্তু হাজার হলেও বাংলাদেশের পুলিশ তো, আমাকে কেনই বা টেনশনে রাখবে?

তারা আমাকে ফোন করলো। ডিবি ইন্সপেক্টরের পরিচয়ে যে ফোনে বল্লো যে আমি যে বাসার ঠিকানা দিয়েছি তার মালিক কি আমি কিনা? আমি বললাম, মালিক তো আমার বাবা। উনি বললেন যে তা হলে ইলেক্ট্রিক বিলের একটা কপি রেডি রাখতে, উনার লোক এসে তা কালেক্ট করে নিয়ে যাবে।

আমার মাথায় অন্য চিন্তা ঢুকে গেল। যে ডিবি রাতের বেলায় ফোন করে, তদন্ত করতে আসে না, তাকে বাসায় আসতে বলবো না। তাকে বললাম, আমি আপনার অফিসে যেয়ে কাগজ দিয়ে আসবো। উনি রাজি হলেন।

আমি মালিবাগ মোড়ে সেই বিখ্যাত অফিসে গেলাম। সেখানে সারাদিন বসে থাকবার পরে তার দেখা পেলাম। সে খুব ব্যস্ততার ভাব দেখালেও সে আসলেই ব্যস্ত ছিল না। সে ব্যস্ত ছিল অন্যান্য লোকের থেকে টাকা খেতে। আমার কাগজে কোন সমস্যা নাই, এইটা তাকে বেশ ঝামেলায় ফেলে দিল।

যা হোক, বারবার আমাকে "আপনার ফাইল কিন্তু ছেড়ে দিচ্ছি" বলে কি যে বোঝাতে চাইলো, তাই বুঝি নাই। পরে আমার সামনে আমার পাসপোর্টের কাগজগুলো ডেসপ্যাচে পাঠিয়ে দিল। তাও সে নিজে কিছুই লিখলো না। আরেকজন তা লিখে দিল। সেই লেখক মনে হল ডিবি অফিসে কর্মরত পোস্ট অফিসের লোক।

পরে অফিস থেকে বেরিয়ে এসে আমার কাছ থেকে লজ্জা শরমের বালাই না করে টাকা চাইলো। আমি তাকে বললাম যে, আমি আপনার অফিসে এসে কাগজ দিয়ে গেলাম, আবার টাকা কিসের জন্য? সে অনেক ধানাই পানাই কথা বলল। পরে করুণাই হল। ৫০০ টাকা দিলাম।

এর পরের খবর তো বুঝলেনই।

তাই কম্পিউটারে লেখা পাসপোর্ট পেয়ে খুব খুশি লাগলো। পুলিশ ভেরিফিকেশন না থাকলে পুলিশের এক্সট্রা ইনকাম হবে না, আর সহকারি পরিচালকের চাকরি হালাল করার জন্য অপ্রয়োজনীয় ভাবে তাদের সই দেওয়া একটা ভিসার পাতা বরাদ্দ করা হয়েছে।

কে বলে যে বাংলাদেশে পরিবর্তন হচ্ছে না? এইগুলি কি পরিবর্তন না? তা হলে পরিবর্তন বলতে আপনি কি বুঝেন?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:২০
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×