somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমা চাহিয়া পিতার নিকট পত্র ( অপ্রকাশিত )

০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রদ্ধেয় আব্বাজান, ২১ই মাঘ, ১৪৭১৭ বঙ্গাব্দ
আমার সালাম নিবেন। আশা করি ভাল আছেন। প্রত্যহ পাশের পড়ার ঘরে আপনার দৃপ্ত পদচারনা শুনিয়া বুঝিতে পারি আপনি কুশলেই আছেন। আম্মার কাছে শুনিলাম আপনি নাকি আমার আয়ুষ্কাল নিয়া জ্যোতিষ শাস্ত্র ঘাটিতেছেন। শুনিয়া ভাল লাগিল। আপনার দেওয়া ঔষধ গুলো আমি নিয়মিত খাইতেছি, যদিও মাঝে মাঝে ভূলিয়া যাই। কিন্তু আপনি আমাকে আগের মত ডাটের সহিত কড়া গলায় ঔষধ খাওয়া কথা এখন আর মনে করাইয়া দেন না। মাঝে মাঝে সে কথা ভাবিয়া কষ্ট লাগে, কিন্তু মুখ ফুটিয়া কিছু বলিতে পারিনা। আপনি কি লক্ষ করিয়াছেন আমার চুল অনেক বড় হইয়া গিয়াছে? নাকি দেখিয়াও না দেখার ভান করেন? ঠিক মত যে দাঁড়ি কামাই না ইদানীং, সেটাও কি লক্ষ করেন নাই? আমার চুল দাঁড়ির এহেন অবস্থা পর্যবেক্ষন করিয়াও আপনি কিছুই বলিতেছেন না আমাকে, ডাঁটিতাছেন না। আমার কষ্ট লাগে। আগে যখন কম্পিউটার চালাইতাম, আপনি আসিয়া দেখিতেন ছেলেটা কি করিতেছে কম্পিউটারে। কিম্বা যখন লেখা লেখি করিতাম আপনি পিছনে আসিয়া নীরবে আমার লেখা দেখিতেন। আমার অনুপস্থিতিতে আমার অর্ধ অসমাপ্ত পান্ডুলিপি গুলো লুকাইয়া পড়িতেন, বাসায় ফিরিয়া যাহাতে আমি আপনার হাতের স্পর্শ পাইতাম। আমার গুছাইয়া রাখা লেখা গুলার পৃষ্ঠা নাম্বার ওলট পালট করিয়া ফেলিতেন ভূল করিয়া- আমি টের পাইতাম। কিন্তু কিছু বলিতাম না। কিন্তু এখন যখন ঘরে ফিরিয়া আসি, আমি বড় উতসুক নয়নে দেখি আমার লেখা গুলি আমার অবর্তমানে কেউ উল্টাইয়া দেখিয়াছে কি না? হতাশ হই। না, কেউ ছুইয়েও দেখে নাই। বড় কষ্ট লাগে তখন। আব্বা আপনি কি জানেন আগে আপনি বাসায় ফিরিলে কিম্বা বাহিরে গেলে আম্মাই দরজা খুলিত, কিন্তু এখন আমি খুলি কেন? আপনার জন্য। যাতে একটিবার আপনি আমাকে ডাকিয়া বলেন "পুত্তর, দরোজা খানা লাগাইয়া দেও, ঠান্ডা বাতাস ঢুকিবে ঘরে"। আপনি কি লক্ষ করিয়া দেখিয়াছেন এখন আমি অনেক রাত অবধি জাগিয়া বই পড়ি নয়তো কম্পিউটার টিপাই? যাতে আপনি একটিবার আমকে ডাঁটিয়া বলেন 'চোখের ক্ষতি হইবে! শুইয়া পরো!' আব্বা আমার পড়াশোনাতে মন বসে না এখন। আগে আপনি আমাকে ধমক দিয়া পড়িতে বলিতেন, এখন কেন বলেন না? আমার ক্ষুদ্র এই জীবনে আপনার ধমক আর ডাঁটের যে অভ্যাস আমাকে ফালাইয়া দিয়াছেন, তাহা এই জনমে যাইবার নয়। সন্তান হইয়া জন্মাইয়াছি বিধায় অন্যায় কিম্বা অবাধ্যতা উভয়ই করা সম্ভব আমার দ্বারা, আপনি তাহা মমতা ভরে না হোক, শাসন ভরে শুধরাইয়া দিবেন- ক্ষমা করিবেন, এমনটাই ত হয় সবখানে। তাই বলিয়া অধম সন্তানের উপর এমন রাগ করিয়া কথা বন্ধ করিয়া দিলেন কেন যাহাতে আমি ভেতরে ভেতরে নরক যন্ত্রণা অনুভব করি? আব্বা আমি তো মহা মানব হইয়া জন্মাই নাই, অতি তুচ্ছ এক মানব হইয়া জন্মাইয়াছিলাম, তাহা হইলে শাস্তিটা এত ভয়ানক কেন? আব্বা আমি অতি সামান্য সাহস লইয়া জন্মাইয়াছিলাম, দুই পা হাটিয়া আপনার ঘরে গিয়া আপনার পা জড়াইয়া ধরিয়া করুন সুরে যে ক্ষমা চাহিব সে সাহস পর্যন্ত আমার নাই। কিন্তু আপনি কি কিছুই বোঝেন না? প্রত্যেক রাতে যখন আপনি ঘুমায় থাকেন, আমি অন্ধকারে আসিয়া আপনার বিছানার পায়ের দিকে আসিয়া মাটিতে বসিয়া থাকি? কখনও কি খেয়াল করিয়া দেখিয়াছেন আপনার বিছানার পায়ের দিকটায় প্রত্যেক দিন ফোটা ফোটা পানি জমিয়া থাকে ভোর বেলায়? আব্বা আপনি আর কত দিন চুপ করিয়া থাকিবেন বলিতে পারেন? আমার ভেতরে বোবা কান্নায় প্রত্যহ একটা করিয়া লাশ নামিতেছে কবরে....... আব্বা আমি আপনাকে আম্মার থেকিয়া কয়েক চিমটি কম ভালবাসি, কিন্তু তাহা কোনো অংশেই কম নয় আম্মার থেকিয়া। আপনার ছেলের হৃদপিন্ডে প্রত্যেক দিন একটা করিয়া শেল বিধিতেছে আপনার মৃণ্ময়তার কারণে। এই অধম সন্তান কে ক্ষমা করিয়া দিন আব্বা। আমি বাক শক্তিহীন শিশু হইয়া জন্মাইয়াছিলাম আপনাদের দুইজনের কাছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাক রুদ্ধই থাকিয়া যাইব।

আপনার শারীরিক স্বুস্থতা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করিতেছি মহান আল্লাহ পাকের দরবারে। ভাল থাকিবেন, আমার ঘরে আপনার পদ ধূলির প্রত্যাশায় রইলাম আমি।

শ্রদ্ধাস্পদেষু
আপনার পুত্র
( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক )
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×