এবারের ঈদে আপু পাঞ্জাবী পাজামা পাঠিয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম দুলাভাই পাঠিয়েছে। পরে আম্মা বলল আপু নাকি নিজে গিয়ে কিনেছে দুটোই। শুনেই চিমশি খেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আপুর পাঠানো কাপড় চোপড় সব সময় পরীক্ষা মূলক হয়ে থাকে। ভোর বেলাতেই আম্মা প্যাকেটটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে গেল। গত কাল ব্যস্ততার জন্য খুলে দেখার সময় পাইনি। হাতে নিয়ে ওটার দিকে কিছুক্ষণ শংকিত চোখে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ভয়ে ভয়ে প্যাকেটটা খুললাম। যা ভেবেছিলাম তাই। ভাল পাঞ্জাবী পাঠিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পাজামা পাঠিয়েছে চোস পাজামা, নিচের দিকে জমে থাকে। চুড়িদার পাজামা যাকে বলে সহজ ভাষায়। সেটা আবার সুতি-পলেস্টার টাইপের! ইলাস্টিসিটি নেই বললেই চলে। শুকনো মুখে পাজামাটা একটু নেড়ে চেড়ে আগের জায়গায় রেখে দিলাম। গোসল সেরে এসে আম্মাকে মিনমিন করে বললাম, “আম্মা, আমার পুরনো পাজামাটা একটু বার করে দিবে?”
আম্মা অবাক হয়ে তাকালো, “কেন? শিমু যেটা পাঠিয়েছে ওটা খারাপ কি?”
“মেয়েদের মত চুড়িদার পাজামা। দেখলেই মনে হয় পরার সাথে সাথে ফাটিয়ে ফেলবো।”
“তোকে তো আবার লোহার পাজামা কিনে দিতে হয়, না হলে ফাটিয়ে ফেলিস........ শিমুরটা পরে দেখেছিস নাকি না পরেই এ কথা বলছিস?” সামান্য বিরক্ত গলায় বলল মা।
“না..... পরিনি। পরলে তো ছিঁড়ে টিড়ে যাবে।” ইতস্তত গলায় বললাম, “তার চেয়ে কাল বাড়ি গেলে কাউকে না হয় দিয়ে দিও পাজামাটা।”
“গাধার মত কথা বলিস না! না পরেই এত প্যান প্যান করিস ক্যান?” ধমক দিল, “ঈদের দিন তোর বোনটা এত শখ করে একটা পাঞ্জাবী পাজামা পাঠালো- আর নবাব সাহেব সেটা পরবেন না! সামনে থেকে যা!”
“মা, পুরনো পাজামাটা বের করে দিতে কতক্ষণ লাগবে আর? দাও না।” দূর্বল গলায় বললাম। আম্মা চটপটি রান্নার পেতলের চামচটা ঘটাং করে মিট-সেভের গায়ে বাড়ি মেরে আমাকে ভাগিয়ে দিলেন।
আমি আমার রুমে চলে আসার পথে আব্বার সঙ্গে দেখা হল। এক নজর আপাদ মস্তক তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, “কিরে? দেবদাসের মত দাড়ি গোঁফ ক্যান? বাসায় কি সেভিং কিটসের অভাব পরেছে? আর চুলে নাপিতের কাঁচি শেষ কবে লেগেছিল? দেখে তো মনে হচ্ছে আমাজানের জঙ্গল।”
আমি গালে হাত বুলালাম উদাস উদাস মুখে, “খেয়াল করি নাই। এখন কি আর ক্যান্ট পাবলিকে পড়ি নাকি যে প্রত্যেক শনিবার এসেম্বলি হবে আর চুল দাঁড়ি, ড্রেস ইন্সপেক্সন হবে। মনে থাকে না।”
“ঈদের নামাযে যাবি নাকি এই ভাবে? যা হাতে সময় কম, সেভ করে রেডি হয়ে নে। জামাত আজকে আগে হবে।” তাগদা দিলেন।
কি আর করা। গিয়ে আবার মুখ মন্ডল পরিচর্যা করতে হল। রুমে ফিরে এলাম। এক ফাঁকে আব্বা উঁকি মেরে গেলেন, “হুম, এখন মানুষের বাচ্চা মনে হচ্ছে। এতক্ষন হনুমানের বাচ্চা মনে হচ্ছিল।”
আম্মা পুরনো পাজামাটা রেখে যায়নি। দেখলাম বিছানার ওপর নতুন পাঞ্জাবী পাজামাই পড়ে আছে। অগত্যা বাধ্য হয়েই পাজামাটা পরতে হল। পরার পর মনে হল বসার সঙ্গে সঙ্গে ফেটে চৌ-চির হয়ে যাবে, কিন্তু চেয়ারে বসার পর দেখলাম নাহ, বসা যাচ্ছে। অসুবিধা হচ্ছে না। মাথায় সবে টুপিটা লাগিয়েছি আব্বা ডাক দিলেন, “কিরে? তোর হল? রেডি হতে দেখি তোর বোনের থেকেও বেশি সময় নিচ্ছিস!”
আমি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম রুম থেকে, “নাও, রেডি আমি।”
আব্বা এক নজর আমাকে দেখে গম্ভীর মুখে ভাংতি টাকা দিলেন কত গুলো, “মসজিদে আর ফকির পেলে দিয়ে দিস।” বলেই হাটা লাগালেন। আমি আমার নতুন বাটার দামী সেন্ডেল গুলো পায়ে দিয়ে তাঁর পিছু নিলাম। বাসা থেকে বেরিয়েই দেখি বাহিরে মিষ্টি কাঁচা সোনা রোদে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। হাল্কা কুয়াশা ভাসছে সবখানে। ছোট ছোট বাচ্চা কাচ্চা নতুন জামা পরে পিস্তল হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বড়রা জায়নামায হাতে ছোটদের নিয়ে মসজিদে যাচ্ছে। দেখে বুকটা জুড়িয়ে গেল! আল্লাহ মনে হয় নিজ হাতে ডিজাইন করে ফেরস্তাদের বলে দিয়েছেন এই ডিজাইন অনুযায়ি আজকের দিনের আবহাওয়া থাকবে। কুয়াশা থাকবে কোথায় কোথায় সেটাও বলে দিয়েছেন ডিজাইনে। তাই এখানে সেখানে ছেঁড়া ছেঁড়া কুয়াশা। এমনকি মাঠের কোথায় কোন বাচ্চা পিস্তলে খেলনা বারুদের গুলি ফুটাবে সেটাও বলে দিয়েছেন- অসাধারণ সাউন্ড সিস্টেম! আমি মসজিদে যেতে যেতে মুগ্ধ হয়ে চারপাশের বিচিত্র এই মফস্যল শহরটা দেখতে থাকি।
মসজিদে যতক্ষণে পৌছালাম প্রায় ন’টা বেজে গেছে। এখানে খোলা মাঠে জামাত হয় না। মসজিদেই ঈদের নামায পড়তে হয়। এক ঘন্টা আগেই গিয়ে হাজির হলাম। বেশি আগে চলে এসেছি। মসজিদ প্রায় ফাঁকা। প্রধান ঈমাম সাহেব এখনো আসেননি। মোয়াজ্জ্বেন সাহেব হাদিস পড়ে শোনাচ্ছেন। বসে আছি, ধীরে ধীরে সময় শামুকের গতিতে এগুচ্ছে। আস্তে আস্তে লোক জন আসা শুরু করেছে একজন দু’জন করে। আব্বার সঙ্গে বসে থাকতে থাকতে পায়ে ঝিম ধরতে শুরু করল। ডান পা’টা অবশ অবশ লাগছে। টাইট পাজামার কারণে ব্লাড সার্কুলেশন বন্ধ হয়ে গেছে। তারওপর ঘুমে ঢুলছি। বারবার হাই তুলছি। আগের দিন প্রায় আঠারো ঘন্টা ঘুমিয়েছিলাম। তাও এত ঘুম কোত্থেকে এসে চাপল বুঝতে পারলাম না। আমার ছোটবেলার গবেষণা মতে মসজিদে যখন মানুষ বেশি হয়ে যায়, তখন ভেন্টিলেশন সিস্টেম দূর্বল হয়ে পরে। এ কারণে এত মানুষের নিঃশ্বাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হতে পারে না মসজিদ থেকে। যার কারণে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বেশির ভাগ মুসল্লিদের নাকে ঢুকে। ফলে তারা প্রাথমিক ভাবে তন্দ্রা অনুভব করেন, এবং অক্সিজেনের জন্য ঘন ঘন হাই তোলা শুরু করেন। আমিও অক্সিজেনের জন্য হাই তুলছি। যার ফলে প্রধান ঈমাম সাহেব কখন এলেন, আর কখন বয়ান করা শুরু করলেন টেরই পাইনি। যতক্ষণে জামাত শুরু হল ততক্ষণে আমার বালিশ নিয়ে শুয়ে পড়া বাকি। (আমার মতে পৃথিবী শেষ্ঠ ঘুমের স্থান হল মসজিদের ফ্লোর। তবলিগের অভিগ্যতা থেকেই বলছি-আমার লাইফে মনে হয় এত শান্তির ঘুম আমি আর কোথাও ঘুমাইনি।) যা হোক, নামাযের জন্য উঠে দাঁড়ালাম। দাঁড়াতে গিয়ে দেখলাম ডান পা'টার কোনো সাড়া পাচ্ছিনা! ওটার অস্তিত্ব যেন নাই হয়ে গেছে! মাটিতে ফেলতেই পারছি না। ভর রাখা তো দূরের কথা। বকের মত এক পায়ে ভর করে নামায পড়া শুরু করলাম। এবং সিজদায় দিয়ে দিনের প্রথম দূর্ঘটনার সম্মুখিন হলাম। আপুর কিনে দেয়া এত সাধের পাজামার বিশেষ বিশেষ স্থান ফাটিয়ে ফেললাম প্রথম সিজদাতে গিয়েই! ভাগ্য ভাল পাঞ্জাবীটা আলখেল্লা টাইপের ডার্ক কালারের ছিল। কোনো মতে সম্ভ্রম রক্ষা হল। কিন্তু প্রতি সিজদাতেই পাজামা ফেটে খান খান হতে লাগল এভাবে। তারপর নামায এক সময় শেষ হল। নামায শেষে ঈমাম সাহেব খোতবা পড়া শুরু করলেন। মনোযোগ দিয়ে সেটা শোনার চেষ্টা করতে থাকলাম। কিন্তু পাজামার এহেন হত দরিদ্র ভার্সনের কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে লাটিমের মত। মোনাযাত শুরু হল এক পর্যায়ে। আমি আবার অনুভব করলাম ডান পায়ের অস্তিস্ব হারিয়ে যাচ্ছে শরীর থেকে। পাজামা ফেটে চৌ-চির হওয়ার পরেও যদি ব্লাড সার্কুলেশন ঠিক না হয়- কি করা যায় তখন। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম এর পর থেকে লুঙ্গি পরে ঈদের জামাতে আসবো। এতো গুরুত্ব পূর্ণ একটা নামাযে যদি মনোযোগই না দিতে পারলাম- মুসলমান হওয়াই বৃথা। যা হোক, মোনাজাত শেষ হল অনন্ত কাল পর। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে দেখি ল্যাংচাতে হচ্ছে বাম পায়ে ভর করে! বকের মত এক পায়ে দাঁড়িয়ে আব্বার সঙ্গে কোলাকুলি করলাম। তারপর শুকনো মুখে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম পায়ের অবস্থা ঠিক হওয়ার জন্য। আব্বা গেল ঈমাম সাহেবের সঙ্গে কোলাকুলি করতে। আমি বিচিত্র ভঙ্গিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। স্কুলে থাকতে শেষ বার এরকম এক পায়ে দাঁড়িয়ে থেকেছিলাম বাড়ির কাজ না আনার জন্য। এক পায়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে লাগলাম কি কি পাপ করেছি গত কয়দিনে- যে আল্লাহ তাঁর ঘরে এনে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন! পাপের হিসাব করতে গিয়ে দেখলাম মোটামুটি জাহান্নামের ভিসা পাওয়ার মত বহু কাজ করে ফেলেছি। দেখি, কোরবানীর সময় গরুর সামনে থাকতে হবে। প্রথম রক্ত বিন্দু মাটিতে পরার আগেই নাকি উপস্থিত সকলের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু পাপের পরিমান হিসাব করলে এক গরুতে হবে না আমার। এলাকার সব গরু গুলোর কোরবানীর সময় হাজির থাকতে হবে- তাতে যদি পাপ মোচন হয়।
দাঁরিয়ে দাঁড়িয়ে এটা সেটা ভাবছিলাম। লোকজন আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে আর বিচিত্র দৃষ্টিতে তাকচ্ছে। সেই দৃষ্টিতে বিস্ময় ও বিরক্তির একটা মিশ্রন। এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি বলেই মনে হয় এভাবে তাকাচ্ছে। একপাশে তাকিয়ে দেখলাম এক পাগল মসজিদে ঢুকে পশ্চিম মুখে না দাঁড়িয়ে উত্তর মুখো হয়ে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছে। যতটা জানি ঈদের নামাযের পর কুরবানীর আগ পর্যন্ত নফল নামায পড়া নিষেধ। কিন্তু যে মানুষ মসজিদের ভেতরে কেবলা কোন দিকে সেটাই জানে না, তার এত সব নিয়ম জানার দরকার আছে বলে মনে হয় না।
আব্বা যখন এলো ততক্ষণে ডান পায়ে সাড়া পাচ্ছি ভাল ভাবেই। হাটতে লাগলাম। গেটের কাছে এসে দিনের দ্বিতীয় দূর্ঘটনার মুখে পড়লাম। সেন্ডেল নিতে গিয়ে দেখি কেউ একজন আমার ডান পায়ের সেন্ডেল নিয়ে গেছে। বাম পায়েরটা রেখে গেছে! সেন্ডেল চুরি যাওয়ার ঘটনা আমার জীবনে নতুন না, কিন্তু এক পাটি সেন্ডেল চুরি যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। আমি মোটামুটি হত বুদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। নতুন কেনা বাটার সেন্ডেল। বারো শো টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। এখনো পর্যন্ত চাকরী বাকরী করি না, সেই হিসেবে আমার সেন্ডেলের দাম আমার থেকেও বেশি। সেই দামী সেন্ডেলের এক পাটি কে নিল? আব্বার গুলো বহাল তবিয়তে আছে। আমি এদিক ওদিক ঘুরে এলাম বাকি জোড়াটার জন্য। পেলাম না। বাম পায়ের জোড়াটা আমার দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে। আমি আব্বার দিকে তাকালাম। আব্বা বেশ অবাক হল, “এক পাটি সেন্ডেল নিয়ে কি করবে চোর? খোঁড়া চোর নাকি?”
“সেটা চোরকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।” হতাশ গলায় বললাম। একে একে সব মুসল্লীরা চলে যাচ্ছে। আমি অপেক্ষা করছি সবার চলে যাওয়ার। এর আগে যতবার সেন্ডেল হারিয়েছি- ততবারই সবাই চলে যাওয়ার পর চোরের রেখে যাওয়া ছেঁড়া, পুরনো সেন্ডেল জোড়া পেয়েছি। তারা অন্যের কষ্ট বোঝে। তাই নিজের পুরনো জুতো রেখে যায়। কিন্তু আমাদের এই নতুন চোর আমার জন্য অবশিষ্ট কোনো সেন্ডেল জোড়া রেখে যায়নি। আমি তবু অপেক্ষা করতে লাগলাম, হয়ত চোর কিংবা সেই ভদ্রলোক বাকি এক পাটি ফিরিয়ে দিয়ে যাবেন। আব্বা ফকিরদের ভাংতি টাকা দিতে লাগল সেই ফাকে। কিন্তু সেন্ডেলের ফিরে আসা আর হল না। একেবারেই গেছে ওটা।
আমি হতাশ মুখে আব্বার দিকে তাকালাম আধ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর, “কি করবো? এই এক পাটি পায়ে দিয়ে বাসায় যাবো?”
আব্বা হাসলেন হঠাৎ, “ফেলে দিয়ে যা। চোর এক পাটি নিয়ে কি করবে? তারচেয়ে দুটো পেলে বেচারার কাজে লাগবে। এখন দেরি না করে চল। কোরবানীর সময় হয়ে গেছে। সারাদিন এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি?”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। সেন্ডেলের বাম পায়েরটা মসজিদের সিঁড়িতে রেখে খালি পায়েই হাটা লাগালাম শত ছিন্ন পাজামা পরে। মহাত্মা গান্ধী নাকি ভারত বর্ষ ঘোরার সময় একবার ট্রেনে ঊঠতে গিয়ে এক পাটি খড়ম ফেলে দিয়েছিলেন ভূল করে। পরে বাকি পাটি খড়মটাও ছুড়ে ফেলে দেন ট্রেন থেক। যে পাবে তার কাজে আসবে। এক পাটি নিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে দুটোই না হয় থাকল। নিজেকে মহাত্মা গান্ধী বলে মনে হতে লাগল বাসায় ফেরার পথে। আধুনিক মহাত্মা গান্ধী, যিনি শর্ট ধুতির বদলে ছেঁড়া ফাটা চুড়িদার পাজামা পরেন!
(ঈদ মোবারাক সবাইকে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


